এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বৃহস্পতিবার, ৮ মে, ২০২৫

শক্তি সঞ্চয়ের নতুন দিগন্ত: ফিনল্যান্ডের স্যান্ড ব্যাটারি

 শক্তি সঞ্চয়ের নতুন দিগন্ত: ফিনল্যান্ডের স্যান্ড ব্যাটারি


কল্পনা করুন—আপনার বাড়ির পাশে পড়ে থাকা সাধারণ বালি একদিন বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাবে, আর কনকনে শীতের রাতে আপনার ঘর রাখবে গরম? অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে? অথচ ফিনল্যান্ডের একদল ইঞ্জিনিয়ার এই অসম্ভবকেই সম্ভব করেছেন!


তারা উদ্ভাবন করেছেন "স্যান্ড ব্যাটারি" বা বালির ব্যাটারি—শক্তি সঞ্চয়ের এক আশ্চর্য প্রযুক্তি, যা ভবিষ্যতের শক্তি সমস্যার সমাধান এনে দিতে পারে। চলুন, সহজ ভাষায় বুঝে নিই—এই অভিনব প্রযুক্তি আসলে কী, কীভাবে কাজ করে।

.


স্যান্ড ব্যাটারি কী?


প্রথমেই বলা দরকার, এটা কিন্তু আপনার মোবাইল বা রিমোটের ব্যাটারির মত নয়। ওগুলি রাসায়নিক শক্তি জমিয়ে রাখে আর সরাসরি বিদ্যুৎ দেয়। স্যান্ড ব্যাটারি একটু ভিন্ন ধরনের। এটি মূলত একটা বিশাল আকারের "থার্মাল স্টোরেজ"  বা তাপ শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থা। যেখানে রাসায়নিক নয়, জমা থাকে তাপ।


সহজ কথায়, এটি এক ধরনের বড়, ভালভাবে ইনসুলেটেড বা তাপরোধী স্টিলের ট্যাঙ্ক, যার ভেতর ভরা থাকে প্রচুর সাধারণ বালি। উজ্জ্বল রোদ বা প্রচণ্ড বাতাসের সময় সৌর প্যানেল বা উইন্ড টারবাইন থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বালিকে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উত্তপ্ত করা সম্ভব হয়।


এখানে বালি একপ্রকার "তাপীয় ব্যাটারি" হিসাবে কাজ করে—যেমন রাসায়নিক ব্যাটারিতে ইলেকট্রন জমা থাকে, এখানে জমা থাকে তাপ। উত্তপ্ত বালি মাসের পর মাস তাপশক্তি ধরে রাখতে পারে, যা পরে ব্যবহার করা হয় পানি গরম করতে বা ঘরবাড়ি উষ্ণ রাখতে।

.


যেভাবে শুরু হল


এই প্রযুক্তির পেছনে রয়েছে ফিনল্যান্ডের স্টার্টআপ কোম্পানি "পোলার নাইট অ্যানার্জি" (Polar Night Energy)। ফিনল্যান্ডে শীতকালে তাপমাত্রা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও নিচে নেমে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ঘর গরম রাখার জন্য প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়। আবার, নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস, বিশেষ করে উইন্ড পাওয়ার, সব সময় সমানভাবে শক্তি দিতে পারে না। কখনও বাতাস বেশি, কখনও কম। ফলে উদ্বৃত্ত শক্তি ধরে রাখার সস্তা ও কার্যকর উপায়ের অভাব ছিল।


এই বাস্তব সমস্যা থেকেই স্যান্ড ব্যাটারির ধারণা জন্ম নেয়। ২০২২ সালে পোলার নাইট অ্যানার্জি কানকানপা  শহরে "ভাতাজানকোস্কি" নামের একটি পাওয়ার কোম্পানির সঙ্গে মিলে পৃথিবীর প্রথম বাণিজ্যিক স্যান্ড ব্যাটারি চালু করে।


এই প্ল্যান্টটি এলাকার "ডিস্ট্রিক্ট হিটিং" নেটওয়ার্কে তাপ সরবরাহ করে—অর্থাৎ এলাকার বাড়িঘর, স্কুল, অফিস ইত্যাদি উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে। বর্তমানে জার্মানির কিছু ছোট শহরেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, বিশেষ করে কমিউনিটি হিটিং প্রকল্পের জন্য—যেখানে আবহাওয়া ঠাণ্ডা এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ছে।

.


কাজের পদ্ধতি 


বালি ব্যাটারির কাজ করার পদ্ধতি বেশ মজার এবং তুলনামূলকভাবে সরল। প্রথমে, যখন সস্তায় বা উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যায় (বিশেষ করে সৌর বা বায়ু বিদ্যুৎ), তখন সেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করে রেজিস্ট্যান্স হিটারের (এক ধরনের বৈদ্যুতিক হিটার) মাধ্যমে বাতাস গরম করা হয়। এরপর সেই গরম বাতাস পাইপের মাধ্যমে ট্যাঙ্কভর্তি বালির মধ্যে চালনা করা হয়। গরম বাতাসের সংস্পর্শে বালি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হতে থাকে এবং তাপশক্তি শোষণ করে নেয়। 


ট্যাঙ্কটি এত ভালভাবে ইনসুলেট করা থাকে যে ভেতরের তাপ সহজে বাইরে বেরিয়ে আসে না, ফলে মাসের পর মাস ধরে তাপ জমা থাকতে পারে। পরে যখন প্রয়োজন হয়, তখন ঠাণ্ডা বাতাস সেই উত্তপ্ত বালির মধ্য দিয়ে চালানো হয়। তখন বাতাস গরম হয়ে ওঠে এবং সেই গরম বাতাস হিট এক্সচেঞ্জারের মাধ্যমে পানি গরম করতে ব্যবহৃত হয়। এই গরম পানি পাঠানো হয় ডিস্ট্রিক্ট হিটিং নেটওয়ার্কে অথবা ব্যবহৃত হয় শিল্প কারখানার বিভিন্ন প্রক্রিয়ায়।


মূলত, এখানে বিদ্যুৎ সরাসরি জমিয়ে না রেখে, তা প্রথমে তাপে রূপান্তর করে জমিয়ে রাখা হয়—কারণ তাপশক্তি সঞ্চয় করা অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও সহজ, বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদে।

.


বর্তমান অবস্থা


ফিনল্যান্ডের কানকানপা শহরের প্ল্যান্টটি সফলভাবে কাজ করছে এবং এটি প্রমাণ করেছে যে এই প্রযুক্তি বাস্তবে কার্যকর। এটি প্রায় ৮ মেগাওয়াট-আওয়ার তাপশক্তি সঞ্চয় করতে পারে, যা দিয়ে বেশ কিছু বাড়িঘর কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত গরম রাখা সম্ভব। পোলার নাইট অ্যানার্জি এখন বৃহত্তর স্কেলে, ২০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট-আওয়ারের মত বিশাল স্যান্ড ব্যাটারি তৈরির পরিকল্পনা করছে। 


শুধু ফিনল্যান্ড নয়—কানাডা, জার্মানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গবেষণা সংস্থাও এখন এই প্রযুক্তির ওপর গবেষণা শুরু করেছে। ভবিষ্যতে, বড় বড় ডেটা সেন্টারগুলিতেও স্যান্ড ব্যাটারি ব্যবহার করা হতে পারে, যাতে সার্ভারের জন্য প্রয়োজনীয় ঠাণ্ডা বা গরম তাপমাত্রা সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

.


স্যান্ড ব্যাটারির সুবিধা 


স্যান্ড ব্যাটারির বেশ কিছু দারুণ সুবিধা রয়েছে, যা একে ভবিষ্যতের শক্তি সঞ্চয় প্রযুক্তির জন্য বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এর প্রধান উপাদান হল সাধারণ বালি—যা সারা পৃথিবীতে প্রচুর পরিমাণে মেলে এবং তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত সস্তা। তাই স্যান্ড ব্যাটারির উৎপাদন খরচ অনেক কম।


এছাড়া এর দীর্ঘস্থায়ী ক্ষমতাও উল্লেখযোগ্য। রাসায়নিক ব্যাটারির মত বার বার ব্যবহারে কার্যক্ষমতা কমে আসে না—বরং বালি হাজার হাজার বার উত্তপ্ত ও ঠাণ্ডা হতে পারে, কার্যক্ষমতার কোনো বড় ধরনের ক্ষতি ছাড়াই। ফলে এটি দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই সমাধান।


নিরাপত্তার দিক থেকেও স্যান্ড ব্যাটারি এগিয়ে। এতে বিস্ফোরণ বা আগুন লাগার ঝুঁকি অত্যন্ত কম, তাই এটি অধিকতর রিস্ক-ফ্রি প্রযুক্তি হিসাবে বিবেচিত। 


শুধু তাই নয়, এটি দীর্ঘ সময় ধরে তাপ সঞ্চয় করতে সক্ষম। ফলে গ্রীষ্মকালে উৎপন্ন অতিরিক্ত সৌরশক্তি শীতকালে ব্যবহার করা সম্ভব, যা মৌসুমভিত্তিক শক্তি চাহিদা মেটাতে বিশেষভাবে কার্যকর।


সবচেয়ে বড় কথা, স্যান্ড ব্যাটারির ব্যবহার বহুমুখী। এটি শুধু ডিস্ট্রিক্ট হিটিং নেটওয়ার্কে নয়—খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, টেক্সটাইল শিল্প, কেমিক্যাল উৎপাদন ইত্যাদি ক্ষেত্রেও কাজে লাগানো যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা পড়ে এবং রাসায়নিক ব্যাটারির কার্যক্ষমতা দ্রুত কমে আসে, সেখানে স্যান্ড ব্যাটারি আরও বেশি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসাবে কাজ করতে পারে।

.


চ্যালেঞ্জ বা সীমাবদ্ধতা


অবশ্য, সব প্রযুক্তির মত স্যান্ড ব্যাটারিরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একটি প্রধান সীমাবদ্ধতা হল সঞ্চিত তাপকে আবার বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে এর তুলনামূলক কম দক্ষতা। যদিও তাপ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, এই প্রক্রিয়ায় বেশ খানিকটা শক্তি নষ্ট হয়। তাই এটি সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহের চেয়ে তাপ সরবরাহের জন্যই বর্তমানে বেশি কার্যকর। আরেকটি বিষয় হল এর আকার—স্যান্ড ব্যাটারি বেশ বড় আকারের হতে পারে, ফলে এটি স্থাপনের জন্য তুলনামূলক বেশি জায়গার প্রয়োজন হয়। 


এছাড়া, এর কার্যকারিতা অনেকাংশে অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল। যদি কাছাকাছি কোনো ডিস্ট্রিক্ট হিটিং নেটওয়ার্ক বা বড় শিল্প কারখানা থাকে যেখানে উৎপন্ন তাপ সরাসরি ব্যবহার করা যায়, তবেই এটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়।


আধুনিক শহরগুলিতে যেখানে জমি কম এবং শক্তির চাহিদা বেশি, সেখানে স্যান্ড ব্যাটারি স্থাপনের জন্য দক্ষ পরিকল্পনা প্রয়োজন হবে।

.


ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা


স্যান্ড ব্যাটারির ভবিষ্যৎ খুবই আশাব্যঞ্জক। গবেষকরা এখন আরও বড় ট্যাঙ্ক নির্মাণ, উন্নত ইনসুলেশন এবং তাপ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দক্ষতা বাড়ানোর কাজ করছেন। বিশেষ করে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে—যেখানে দিনে প্রচুর সৌর শক্তি মেলে কিন্তু রাতে দ্রুত ঠাণ্ডা পড়ে—স্যান্ড ব্যাটারি সস্তা ও নির্ভরযোগ্য শক্তি সঞ্চয়ের জন্য অসাধারণ সমাধান হতে পারে।


বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মত এলাকায়, যেখানে শীতকালে তাপমাত্রা কমে যায়, সেখানে দিনে সোলার ফার্মের বাড়তি বিদ্যুৎ বালিতে জমিয়ে রাতের জন্য ঘর গরম রাখা সম্ভব হবে।


স্যান্ড ব্যাটারি হয়ত এখনও আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে ওঠেনি, কিন্তু নবায়নযোগ্য শক্তির যুগে এটি এক যুগান্তকারী সমাধান হতে চলেছে।


#বালি #ব্যাটারি #শক্তি

বাংলার প্রাচীন জনপদ,,,

 বাংলার প্রাচীন জনপদ

প্রাচীনকালে এই বাংলা অঞ্চল বর্তমানের মতো এরকম বৃহৎ অঞ্চল ছিল না। প্রাচীন বাংলা অঞ্চল অনেকগুলো ছোট ছোট জনপদ নিয়ে গঠিত হয়েছিল। এই অংশে আলোচনা করব বাংলার সেসব প্রাচীন জনপদ নিয়ে। প্রাচীন বাংলার জনপদগুলো হলো:

বরেন্দ্র,পুন্ড্র,গৌড়,রাঢ়,বঙ্গ,কামরূপ,হরিকেল,সমতট,চন্দ্রদ্বীপ


এখন চলুন, বিস্তারিতভাবে এসব জনপদ নিয়ে জেনে নেয়া যাওয়া যাক।

১. বরেন্দ্র

বরেন্দ্র অঞ্চল হলো পুণ্ড্রবর্ধনের কেন্দ্রস্থল। এটি বর্তমানের বগুড়া, দিনাজপুর, রাজশাহী ও পাবনা (সম্ভবত) অঞ্চল জুরে বিস্তৃত ছিল। মধ্যযুগের মুসলিম ঐতিহাসিকেরা বরেন্দ্র অঞ্চলকে বরিন্দ নামে অবিহিত করতেন। পাল রাজারা একে তাদের পিতৃভূমি হিসেবে অভিহিত করতেন। সেন রাজাদের শিলালিপিতে বরেন্দ্র অঞ্চলের বর্ণনা পাওয়া যায়।


২. পুণ্ড্র

বাংলা অঞ্চলে পুণ্ড্র জনপদ হচ্ছে সর্বাধিক প্রাচীনতম জনপদ। খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের দিকে এই অঞ্চলের উল্লেখ পাওয়া যায়। তখন এ অঞ্চলের পুন্দনগলের উল্লেখ পাওয়া যায়। এ পুন্দনগল ছিল সে সময়কার পুণ্ড্রের রাজধানী যা বর্তমান সময়ে বগুড়ার মহাস্থানগড়।  এ জনপদের সমৃদ্ধি বাড়ার ফলে এটি পঞ্চম-ষষ্ঠ শতকের দিকে পুণ্ড্রবর্ধনে রূপান্তর হয়। তখন এ অঞ্চলের অন্তর্গত ছিল: বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলা।


ধারণা করা হয় যে, রাজমহল-গঙ্গা-ভাগীরথী থেকে শুরু করে করতোয়া পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের পুরোটাই পুণ্ড্রবর্ধনের অঙ্গীভূত ছিল। পরবর্তীতে এ অঞ্চলের সীমানা আরও বৃদ্ধি পায়।

৩. গৌড়

গৌড় জনপদও অনেক প্রাচীন একটি জনপদ। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে এই অঞ্চলে উৎপন্ন অনেক শিল্প ও কৃষিজাত পণ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়। এর থেকে ধারণা করা যায় যে, গৌড় অঞ্চল কৃষি ও শিল্পে বেশ অগ্রগতি করেছিল। এ অঞ্চলের ইতিহাসের খোঁজ তৃতীয় থেকে চতুর্থ শতকে এর নাগরিকদের উপাদান থেকে পাওয়া যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে মুর্শিদাবাদের বীরভূম অঞ্চলই গৌড় অঞ্চল ছিল। এরপর এটি সম্প্রসারিত হয় মালদহ ও বর্ধমানের সংযুক্তির পর।


সপ্তম শতকে শশাঙ্ক রাজার শাসনামলে মুর্শিদাবাদ জেলার রাঙামাটি অঞ্চলটি ছিল এ জনপদের রাজধানী। বর্তমান সময়ে আমরা যে অংশকে পশ্চিমবঙ্গ ধরি অর্থাৎ মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বর্ধমান- এ অঞ্চলগুলো মিলিয়েই ছিল গৌড়ের রাজ্য। তবে, ইতিহাসে গৌড় বলতে কখনও কখনও সমগ্র বাংলাদেশকেও বোঝানো হতো।


৪. রাঢ় 

রাঢ় নামক জনপদের সন্ধান পাওয়া যায় আচারাঙ্গ সুত্র নামের এক প্রাচীন জৈন পুথিতে। এ জনপদের ইতিহাস অনেক প্রাচীন। জানা যায়, খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে মহাবীর তার কয়েকজন অনুসারীকে সাথে নিয়ে এ জনপদে আসেন। তাদের আগমনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ধর্ম প্রচার। তখন এ জনপদে রাস্তাঘাট তেমন উন্নত ছিল না। এ অঞ্চলের লোকজন ছিল নিষ্ঠুর প্রকৃতির। তারা সেসব জৈন ধর্ম প্রচারকদের প্রতি কুকুর লেলিয়ে দেয়। রাঢ় অঞ্চলের দুটি বিভাগ ছিল। সেগুলো হলো:

বজ্রভূমি

সুন্ধভূমি

৫. বঙ্গ

বঙ্গ খুবই প্রাচীন জনপদের একটি। অনেক পুরনো দুটি পুথিতে বঙ্গের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেখানে বঙ্গ অঞ্চলকে মগধ ও কলিঙ্গ জনপদের পাশের জনপদ বলে অভিহিত করা হয়েছিল। পাশাপাশি, মহাভারত থেকে জানা যায় যে, বঙ্গ অঞ্চলটি পুণ্ড্র, তাম্রলিপি ও সুন্ধ জনপদের আশেপাশে ছিল। পরবর্তীতে নানান নথি থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, গঙ্গা-ভাগীরথীর তীরেই বঙ্গের অবস্থান ছিল।


একাদশ শতকের দিকে বঙ্গের দুটি বিভাগ ছিল বলে ধারণা করা হয়। বিভাগ দুটির একটি হলো বঙ্গের উত্তরাঞ্চল নিয়ে গঠিত এবং অন্যটি বঙ্গের দক্ষিণাঞ্চল নিয়ে গঠিত। আবার, কেশবসেন ও বিস্বরূপসেনের আমলেও বঙ্গের দুটি বিভাগ ছিল। সেগুলো হলো:

বিক্রমপুর

নাব্যমণ্ডল

বিক্রমপুর অঞ্চল বর্তমান সময়কার বিক্রমপুর পরগনা, যা কিনা মুন্সিগঞ্জ জেলার অন্তর্গত এবং সাথে ছিল ইদিলপুর পরগনার কিছু অংশ। অন্যদিকে, বাখরগঞ্জ জেলা এবং আরও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্র পর্যন্ত অংশ নিয়ে ছিল নাব্যমণ্ডল।


৬. কামরূপ

কামরূপ বাংলার প্রাচীন জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি, আসামের বৃহত্তর গোয়ালপাড়া জেলা, বৃহত্তর কামরূপ জেলা নিয়ে গঠিত। কালিকাপুরাণ থেকে জানা যায়, এটির অবস্থান করতোয়া নদীর পূর্বে এবং এ অঞ্চলটি পূর্বদিকে দিক্কারবাসিনী দ্বারা ঘেরা ছিল, যা বর্তমান দিকরাই নদী নামে পরিচিত।


চতুর্থ শতকে সমুদ্র গুপ্তের একাহাবাদ স্তম্ভলিপিতে কামরূপের নামের খোঁজ পাওয়া যায়। জানা যায়, এক সময় কামরূপ অঞ্চলে বর্তমান ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা, ভুটান, রংপুর ও কুচবিহারের কিছু অঞ্চল যুক্ত ছিল।


৭. হরিকেল

হরিকেল হলো বাংলা অঞ্চলের পূর্ব সীমানার একটি জনপদ। এ অঞ্চলটি তৎকালীন চন্দ্রদ্বীপ বা বাখরগঞ্জ অঞ্চলের সংলগ্ন ছিল। জানা যায় যে, সপ্তম-অষ্টম শতক থেকে দশম-একাদশ শতক পর্যন্ত হরিকেল ছিল একটি স্বতন্ত্র রাজ্য। কিন্তু একটা সময় ত্রৈলোক্যচন্দ্র চন্দ্রদ্বীপ দখল করে। চন্দ্রদ্বীপ দখলের পর হরিকেল বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।


৮. সমতট

সমতটের উল্লেখ পাওয়া যায় প্রাচীন আমলের পুথি থেকে। চতুর্থ ও ষষ্ঠ শতকের পুথিতে সমতট নামের একটি জনপদের খোঁজ পাওয়া যায়। তখনকার সময়ে ত্রিপুরা অঞ্চল পুরোটাই সমতটের অঙ্গীভূত ছিল। জানা যায়, এ অঞ্চলের সীমানা চব্বিশ পরগনা থেকে ত্রিপুরা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।


৯. চন্দ্রদ্বীপ

চন্দ্রদ্বীপের ইতিহাস থেকে জানা যায়, এটি ছিল মধ্যযুগের একটি নামকরা অঞ্চল। আইন-ই-আকবরী গ্রন্থের মাধ্যমে জানা যায়, গ্রন্থে উল্লিখিত বাকলা পরগনার বাকলা-ই, যা কিনা বর্তমানে বাখরগঞ্জ নামে পরিচিত, হলো সেই চন্দ্রদ্বীপ অঞ্চল।

ক্যাপুয়ার অ্যাম্ফিথিয়েটার হল একটি প্রাচীন রোমান কাঠামো যা ইতালির সান্তা মারিয়া ক্যাপুয়া ভেটেরেতে অবস্থিত এবং এটি রোমান কলোসিয়ামের পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম অ্যাম্ফিথিয়েটার।

 ক্যাপুয়ার অ্যাম্ফিথিয়েটার হল একটি প্রাচীন রোমান কাঠামো যা ইতালির সান্তা মারিয়া ক্যাপুয়া ভেটেরেতে অবস্থিত এবং এটি রোমান কলোসিয়ামের পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম অ্যাম্ফিথিয়েটার। এটির ধারণক্ষমতা ছিল 60,000 জন।  এটি খ্রিস্টপূর্ব ১ম শতাব্দীতে, অগাস্টাসের রাজত্বের কাছাকাছি সময়ে নির্মিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়। শহরটি তার গ্ল্যাডিয়েটর স্কুলগুলির জন্য বিখ্যাত ছিল এবং এই অ্যাম্ফিথিয়েটার গ্ল্যাডিয়েটর মারামারি, বন্য প্রাণীর শো এবং পাবলিক ইভেন্টের আয়োজন করত। এটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে কারণ স্পার্টাকাস 73 খ্রিস্টপূর্বাব্দে এখানে একটি গ্ল্যাডিয়েটর স্কুল থেকে পালিয়ে গিয়ে বিদ্রোহ শুরু করেছিলেন। রোমান সাম্রাজ্যের পতনের সাথে ধ্বংসস্তূপে পড়ে যাওয়া কাঠামোটি মধ্যযুগে আংশিকভাবে পরিত্যক্ত হয়েছিল। আজ, এটি একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হিসাবে সুরক্ষিত, এবং ভূগর্ভস্থ কক্ষ এবং এরিনা বিভাগ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত।


#প্রত্নতত্ত্ব #দুর্গ #ইতিহাসের_অধ্যায় #মোঘল_সাম্রাজ্যে #তারিখহিন্দ #ইতিহাসনামা #historyfacts #history #ইতিহাস #নবাব 


ফেসবুক পেইজ: https://www.facebook.com/hasnat.shohag

পেঁপে গাছে জিংক-বোরন-ম্যাগনেসিয়ামের সঠিক অনুপাত' 🌟 বছরে কত গ্রাম দিলে ফলন হবে বেশি?

 পেঁপে গাছে জিংক-বোরন-ম্যাগনেসিয়ামের সঠিক অনুপাত' 🌟 বছরে কত গ্রাম দিলে ফলন হবে বেশি?


পেঁপে গাছের স্বাস্থ্য ও ফলন বৃদ্ধিতে জিংক বোরন , এবং ম্যাগনেসিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পরিমাণ জানা না থাকলে ক্ষতিও হতে পারে! চলুন জেনে নিই বছরে কতটুকু এবং কীভাবে প্রয়োগ করবেন:


🚨 সতর্কতা 

অতিরিক্ত ব্যবহার গাছের ক্ষতি করতে পারে, বিশেষ করে বোরন বিষাক্ততা ঘটায়।  


📲শাহী পেঁপে ও তাল বেগুন চারার জন্য কল করুন

মোবাইল-০১৩২৩০৬৬৯০৯


#জিংক 

কার্যকারিতা পাতা হলুদ হওয়া, গাছের বৃদ্ধি।  

জিংক সালফেট

পরিমাণ প্রতি গাছে ১ বছরে  

মাটিতে প্রয়োগ ৫-১০ গ্রাম ২-৩ বার ভাগ করে।  

স্প্রে ০.৫-১ গ্রাম/লিটার পানি, ৩-৪ বার ফুল ও ফল ধারণের আগে।  


#বোরন 

কার্যকারিতা ফল ফাটা, বিকৃত ফল রোধ।  

বোরাক্স বা বোরিক অ্যাসিড।  

পরিমাণ প্রতি গাছে বছরে

মাটিতে প্রয়োগ ২-৪ গ্রাম ২ বার ভাগ করে।  

স্প্রে০.৫ গ্রাম/লিটার পানি, ২ বার ফুল আসার সময় ও ফল ধারণের পর।  


#ম্যাগনেসিয়াম 

কার্যকারিতাপাতা হলুদ ক্লোরোসিস দূর করা।  

পরিমাণ প্রতি গাছে বছরে 

মাটিতে প্রয়োগ ১০০-২০০ গ্রাম ৪ বার ভাগ করে, প্রতি ৩ মাসে ৫০ গ্রাম।  

 স্প্রে ৫ গ্রাম/লিটার পানি, মাসে ১ বার হলুদ পাতা দেখা গেলে।


🕒 সময়সূচি

জিংক ও বোরন  ফুল ফোটার আগে ও ফল ধারণের সময়।  

ম্যাগনেসিয়াম বর্ষা বা সেচের পর মাটিতে প্রয়োগ করুন।  

   

বোরন বিষাক্ততা এড়াতে পরিমাণের বেশি কখনোই দেবেন না।  

স্প্রে সকাল বা বিকালে করুন, রোদে নয়।  


#papaya_fertilizer #papaya_2x_growth #papaya_zink #papaya

বৃটিশদের তৈরি চট্টগ্রামের মানচিত্র

 চট্টগ্রামের ইতিহাসকে কেন্দ্র করে এই পুরাতন মানচিত্রটি এক অনন্য ঐতিহাসিক দলিল। এটি শুধু ভৌগোলিক সীমারেখা নয়, বরং সময়ের গায়ে লেখা এক গল্প, যেখানে চট্টগ্রামের সমৃদ্ধ অতীত, উপকূলভিত্তিক জীবনধারা, এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে তার সম্পর্ক স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। মানচিত্রটি মূলত ঔপনিবেশিক যুগে ইংরেজ কর্তৃক তৈরি—সম্ভবত ১৮শ বা ১৯শ শতকে। এই মানচিত্রে চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাচীন নাম ও অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে, যা আজকের আধুনিক নামগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে স্পষ্ট হয় কিভাবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শহরের রূপান্তর ঘটেছে।


প্রথমেই চোখে পড়ে "ISLAMABAD" নামটি—যেটি বর্তমান কক্সবাজার জেলার দক্ষিণাংশে অবস্থিত একটি প্রাচীন জনপদের নির্দেশ করে। এটি ছিল আরাকানদের শাসনকালে চট্টগ্রামের দক্ষিণ সীমান্তবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। মানচিত্রে এর আশপাশে দেখা যাচ্ছে “PUTTURAH” (সম্ভবত পটিয়া) ও “CUDDURBAZAR” (সম্ভবত বর্তমান চন্দনাইশ বা চকরিয়ার কোনো বাজার অঞ্চল)। এগুলো তখন চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও বসতি অঞ্চল ছিল।


মানচিত্রের পশ্চিম অংশে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত "SUNDEEP I." ও "COMAREE I." দ্বীপগুলো, যা যথাক্রমে সন্দ্বীপ ও কুমিরা। সন্দ্বীপ ছিল একটি বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত সমৃদ্ধ দ্বীপ, যেখান থেকে চাল, লবণ, মাছসহ বিভিন্ন পণ্য পাঠানো হতো উপকূলীয় বাংলায় এবং বাইরের জাহাজে। আর দক্ষিণে রয়েছে "MASCULL I." (মহেশখালী) ও "KUTTUPDEA I." (কুতুবদিয়া)—যেগুলো আজও বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় ভূখণ্ডে জীবন্ত বাস্তবতা।


চট্টগ্রামের পূর্ব অংশে "HIGH MOUNTAINS" ও “WOODY HILLS” বলে যে এলাকা চিহ্নিত, তা বর্তমান পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের অংশ। এই অঞ্চলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী যেমন চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা বসবাস করত। তাদের স্বাধীন জীবনধারা, নিজস্ব শাসনব্যবস্থা, এবং পাহাড়-নদী নির্ভর সংস্কৃতি চট্টগ্রামের মূল ভূখণ্ডের জীবনধারার সঙ্গে এক অপূর্ব বৈচিত্র্য তৈরি করেছিল।


মানচিত্রে "TULKUDDER" নামটি আজকের কুতুবদিয়া বা চকরিয়ার দক্ষিণাংশের কোনো অংশ হতে পারে। এর আশপাশে থাকা নদ-নদী এবং "SUNKAR R." (সম্ভবত সাঙ্গু নদী) নির্দেশ করছে চট্টগ্রামের নদীবিধৌত উপকূলীয় অঞ্চলের গুরুত্ব, যা প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একদম অপরিহার্য ছিল।


উত্তরের দিকে দেখা যায় “WOOD CHEERAH” অঞ্চলটি—সম্ভবত বর্তমান রাউজান-রাঙ্গুনিয়া এলাকায় অবস্থিত কোনো প্রাচীন জনপদের ইঙ্গিত। এখানে চিহ্নিত রয়েছে “Wuddigong”, “Lungchungya”, “Kopara” ইত্যাদি নাম, যেগুলো বিভিন্ন পাহাড়ি বা উপত্যকাভিত্তিক বসতিগুলোর পূর্ব রূপ।


মানচিত্রটি স্পষ্ট করে দেয় যে, চট্টগ্রাম ছিল এক বহুস্তরবিশিষ্ট জনপদ। উপকূল, পাহাড়, দ্বীপ, নদী এবং বন্দর—all in one place। মানচিত্রে ব্যবহৃত নামগুলোর মধ্যে কিছু ব্রিটিশরা স্থানীয় উচ্চারণ অনুযায়ী লিখেছে, যেমন—“Comaree” (কুমিরা), “Barnacool” (বরকল?), “Edgemy” (এদগারগুড়ি বা অনুরূপ)। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, কীভাবে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ভাষা তখনকার বিদেশি মানচিত্রকারদের নজরে এসেছিল এবং তারা তাদের নিজস্ব ভাষায় তা লিপিবদ্ধ করেছে।


চট্টগ্রামের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ১৬৬৬ সালে মুঘল সেনাপতি শাইস্তা খাঁ আরাকানদের পরাজিত করে অঞ্চলটি মুঘল সাম্রাজ্যে অন্তর্ভুক্ত করেন। এরপর ১৭৬০ সালে ব্রিটিশরা নবাব মীর কাশিমের কাছ থেকে এই অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং তখন থেকেই চট্টগ্রামের ভূপ্রকৃতি ও প্রশাসনিক গঠন নিয়ে নানা গবেষণা ও মানচিত্র তৈরি শুরু হয়।


এই মানচিত্রটি আমাদের সামনে তুলে ধরে সেই চট্টগ্রামকে—যেখানে প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, বাণিজ্যিক কেন্দ্রীয়তা, বহুজাতিক জনগোষ্ঠীর সহাবস্থান এবং রাজনৈতিক সংঘাত সব মিলিয়ে এক জটিল কিন্তু আকর্ষণীয় ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।


চট্টগ্রাম মানে শুধু একটি শহর নয়—এটি হলো পূর্ববাংলার দরজা, পাহাড় আর সাগরের মিলনস্থল, সংস্কৃতি আর অর্থনীতির মোহনা। আর এই মানচিত্র সেই ইতিহাসের নিরব সাক্ষী—যার প্রতিটি রেখা, প্রতিটি নাম যেন ইতিহাসের বুক চিরে উঠে আসা এক চিরন্তন চিহ্ন।

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর আক্রমণ কেন হয়েছিল? কেন তাকে একেবারে ধুলিস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছিল?  বখতিয়ার খলজিকে চিকিৎসা করে সুস্থ করার পরিণামে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ রূপে ধ্বংস হয়েছিল। 

 নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর আক্রমণ কেন হয়েছিল? কেন তাকে একেবারে ধুলিস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছিল? 


বখতিয়ার খলজিকে চিকিৎসা করে সুস্থ করার পরিণামে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ রূপে ধ্বংস হয়েছিল। 


নালন্দার পরিচয় :

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় কোন রাজার দূর্গ ছিল না, কোনো খাজানা (কর) সংগ্রহ করে রাখার জায়গা ছিল না। ছিল শিক্ষার প্রচার প্রসার করার এক ইউনিভার্সিটি নালন্দা স্থাপনা পঞ্চম শতাব্দীতে হয় বলে মনে করা হয়, এটি ছিল বিশ্বের সবথেকে পুরনো ইউনিভার্সিটির মধ্যে একটি। বর্তমানে বিহারে এটি অবস্থিত। সংস্কৃতির তিন শব্দ -' না' ' আলম ' এবং ' দা ' থেকে নালন্দা হয়েছে। যার অর্থ হলো স্তব্ধ না হওয়া জ্ঞানের প্রবাহ।


সারাবিশ্ব থেকে বিশেষ করে জাপান চীন রাশিয়া ইন্দোনেশিয়া পার্শিয়া তুর্কী শ্রীলঙ্কা থেকে অধ্যায়ন করতে প্রচুর বিদ্যার্থীরা আসতো নালন্দা তে। ১০০০০ সন্ন্যাসী এবং ১৫১০ জন আচার্য ছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য বিদ্যার্থীদের কোনো টাকা দিতে হতো না। হর্ষবর্ধন বসুবন্দু ধর্মপাল নাগার্জুন পদ্মসম্ভব হিউয়েন সাঙ এর মত লোক পড়াশোনা করেছেন এই নালন্দাতে। শোনা যায় আর্যভট্টও একসময় এই ইউনির্ভাসিটিতর প্রধান ছিলেন। এভাবেই ৮০০ বছর ধরে সারা বিশ্বকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে চলেছিল নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়। যদিও নালন্দা আক্রমণ একবার নয় তিন তিনবার হয়েছিল। 

বখতিয়ার খলজি কেন সম্পূর্ণ রূপে ধ্বংস করেছিলেন? খিলজি একবার প্রচুর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, অনেক চিকিৎসা পরও কোন উন্নতি হচ্ছে না দেখে একজন পরামর্শ দেন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান আচার্য রাহুল শ্রীভদ্র এর চিকিৎসা করতে পারেন। উনার থেকে একবার চিকিৎসা করে দেখা যেতে পারে। 


বখতিয়ার খলজির কোন অমুসলিমের থেকে চিকিৎসা করার ইচ্ছে ছিল না ( বর্তমানে আমরা দেখতে পাই)  তাই প্রথমে এই প্রস্তাব এড়িয়ে যান। কিন্তু পরবর্তীতে স্বাস্থ্যের উন্নতি না হওয়ায় ডাক পড়ে রাহুল শ্রীভদ্ররের। 


রাহুল শ্রীভদ্র খিলজির কাছে গিয়ে উনার শরীরের পর্যবেক্ষণ করার পর খিলজী শর্ত রাখেন উনি রাহুল শ্রীভদ্ররের দেওয়া কোন ওষুধ খাবেন না। এভাবে উনি রাহুল শ্রীভদ্র কে তাচ্ছিল্য করতে চান এবং হি n du দেরও ছোট দেখাতে চেয়েছিলেন।


রাহুল শ্রীভদ্র উনার শর্তে রাজি হয়েছিলেন এবং কুরআনের কয়েকটি পৃষ্ঠা তাকে প্রতিদিন পড়তে বলেন। খিলজি প্রতিদিন তাই করতে থাকেন, কিছু দিন মধ্যেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যান। 

রাহুল শ্রীভদ্র কোরআনের ওই পাতা গুলির মধ্যে ওষুধ মিশিয়ে দেয়,  যা প্রতিদিন পড়বার সময় খিলজির নাক অবধি পৌঁছে যেত।


করেকদিনের মধ্যেই খিলজি এ বিষয়টি জানতে পারেন, তখন তার মনে প্রবল হিংসা হয় এবং তিনি চিন্তা করতে থাকেন এই  ' কাফেরদের ' কাছে কিভাবে মুসলিম হাকিমের থেকেও বেশি জ্ঞান হলো?  ঠিক এর পরই উনি প্রতিজ্ঞা করেন জ্ঞানের ভান্ডার নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ রূপে ধ্বংস করার। 


রাহুল শ্রীভদ্র সমেত হাজারো বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের জ্ঞানের ভান্ডার ছিল এখানকার লাইব্রেরি। আসলে তখন নালন্দার ছিল বিশ্বের সবথেকে বড় গ্রন্থগার, যার নাম ছিল ধর্মগঞ্জ। এখানে প্রায় ৯০ লক্ষ বই ছিল। এই সমস্ত কিছু জেনেই খিলজি নালন্দার উপর আক্রমণ করেন। 

কয়েক হাজার বৌদ্ধ সন্ন্যাসী কে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়, অনেক বিদয়ার্থীদের জীবন্ত জ্বালানো হয়েছিল এবং এরপরেই নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। ইতিহাসবিদ মিনহাজ সিরাজ তার বই তাবাকাত-ই-নাসারীতে লিখেছেন  এই লাইব্রেরির সব সম্পূর্ণভাবে জ্বলতে সময় লেগেছিল তিন মাস। এর থেকেই বুঝতে পারেন কত বড় ছিল -এই লাইব্রেরি সংগ্রহশালা। যার মধ্যে বেশিরভাগ বইছিল আরিজিনাল, যার কোন কপি অন্য জায়গায় ছিল না। 


খিলজী শুধু নালন্দাকেই ধ্বংস করেননি, করেছিলেন ভারতবর্ষের জ্ঞানের ভান্ডারকে। যা আজো চলে বর্তমান যুগে শিক্ষা ব্যবস্থা কে ধ্বংস করার জন্য সেই খিলজির বংশধরেরা। 

এর জন্য আমি মনে করি একজন ভুল মানুষকে চিকিৎসার ফল হিসেবে নালন্দাকে ধ্বংস হতে হয়েছে। সেই বংশধরেরা বর্তমানেও বিরাজমান 

-

বি.দ্রঃ সংগৃহীত

ক্যান্সার_চিকিৎসায়_নতুন_দিগন্ত

 #ক্যান্সার_চিকিৎসায়_নতুন_দিগন্ত 


লেখা আর ছবি যদি আপনাদের পছন্দ হয় তাহলে রসায়ন এর সাথে থাকবেন। চলুন তাহলে এ সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেই......


বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এমন একটি বৈপ্লবিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন করেছেন যা ক্যান্সার চিকিৎসার পদ্ধতিকে আমূল পরিবর্তন করে দিতে পারে। তারা ডিএনএ-ভিত্তিক ন্যানোরোবট তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন, যা ক্যান্সার কোষকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্য করে ধ্বংস করতে পারে, অথচ শরীরের সুস্থ টিস্যুর কোনো ক্ষতি করে না। এই আবিষ্কার ক্যান্সার চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। ডিএনএ হলো এমন একটি অণু যা সহজে ভাঁজ করে বিভিন্ন কাঠামো তৈরি করা যায়। গবেষকরা এই বৈশিষ্ট্য কাজে লাগিয়ে এমন ক্ষুদ্র রোবট তৈরি করেছেন, যা রক্তপ্রবাহে চলাফেরা করতে পারে এবং কেবলমাত্র ক্যান্সার কোষের উপস্থিতি শনাক্ত করে এর প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।


এই ন্যানোরোবটগুলোর গঠন এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে তারা শরীরে ভ্রমণ করে নির্দিষ্ট ধরনের প্রোটিন বা রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে ক্যান্সার কোষ চিনে ফেলতে পারে। একবার লক্ষ্য শনাক্ত হলে, রোবটটি সক্রিয় হয়ে যায় এবং এর ভেতরে থাকা ওষুধ ক্যান্সার কোষের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেয়, কোষটিকে ধ্বংস করে দেয়। এই প্রক্রিয়াটি এতটাই নিখুঁত যে পাশের সুস্থ কোষগুলো কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। এটি ক্যান্সার চিকিৎসার প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর এবং নিরাপদ। কেমোথেরাপির মতো চিকিৎসায় অনেক সময় ভালো কোষও আক্রান্ত হয়, যার ফলে নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, যেমন দুর্বলতা, চুল পড়া, বমি ইত্যাদি। কিন্তু এই ডিএনএ ন্যানোরোবট ব্যবহারে এসব ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে।


গবেষণার প্রাথমিক ধাপে এই ন্যানোরোবটগুলো পরীক্ষামূলকভাবে প্রাণীর শরীরে প্রয়োগ করা হয়েছে এবং ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক হয়েছে। দেখা গেছে, এটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে ক্যান্সার কোষকে টার্গেট করে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে কার্যকর প্রতিক্রিয়া দেখাতে সক্ষম। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এটি মানুষের শরীরেও নিরাপদভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। বর্তমানে এই প্রযুক্তি নিয়ে আরও গভীর গবেষণা চলছে যাতে এটি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা যায়।


এই উদ্ভাবনের মাধ্যমে চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। কেবল ক্যান্সার নয়, ভবিষ্যতে এই ধরনের ন্যানোরোবট ব্যবহার করে অন্যান্য রোগ যেমন ভাইরাস সংক্রমণ, প্রদাহ বা জিনগত রোগের চিকিৎসাও করা যেতে পারে। এটি এমন একটি প্রযুক্তি যা রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা — দুই ক্ষেত্রেই ব্যবহারযোগ্য। তদুপরি, ন্যানোরোবট প্রযুক্তি ব্যবহারে ওষুধের মাত্রা কমিয়ে আনা যায়, ফলে খরচ কমে এবং রোগীর উপর চাপও হ্রাস পায়।


সব মিলিয়ে ডিএনএ-ভিত্তিক ন্যানোরোবট একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার, যা আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিকে আরও উন্নত, সুনির্দিষ্ট এবং মানবদেহের সঙ্গে আরও উপযোগী করে তুলবে। এই প্রযুক্তি একদিন ক্যান্সারের মতো জটিল রোগকেও একটি নিয়ন্ত্রিত ও নির্ভরযোগ্যভাবে চিকিৎসাযোগ্য পদ্ধতিতে পরিণত করতে পারে।


অসংখ্য ধন্যবাদ লেখাটি পড়ার জন্য! 


#cancertreatment #robots #chemotherapy #medicine #clinicaltrials #research

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া অপার সম্ভাবনাময় ফসল ঢেমশি।

 কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া অপার সম্ভাবনাময় ফসল ঢেমশি। যার চাষ আবার নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে শুরু হয়েছে। তুলনামূলক কম খরচ ও সময়ে ফলন দেওয়ায় ঢেমশি নতুন করে আশা জাগাচ্ছে। এরই মধ্যে বিলুপ্তপ্রায় এ ফসলের চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি বিভাগ।


নব্বইয়ের দশক বা তারও আগে এ অঞ্চলে ঢেমশি চাষ হতো। চলতি বছর উপজেলার বিলমাড়িয়া পদ্মার চরে ৩০ শতক জমিতে ঢেমশি চাষ হচ্ছে। জমিতে ফুল ফুটেছে। কিছু ফুলে ফসল ধরেছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে ঢেমশি ফল ঘরে তোলা যাবে। ঢেমশির বৈজ্ঞানিক নাম ‘ফ্যাগোপাইরাম এস্কুলেন্টাম’। এটি এমন একটি উদ্ভিদ, যা শস্যদানা সদৃশ বীজের জন্য চাষ করা হয়। দেখতে অনেকটা সরিষা দানার মতো। ইংরেজিতে ‘বাকহুইট’ বা ‘কমন বাকহুইট’ নামে পরিচিত।


ঢেমশির চাল বা আটা খেলে ডায়াবেটিক, ব্লাড প্রেসার, অ্যাজমা, হার্টের রোগের ঝুঁকি কমে বা নিরাময় করে।দুর্ভাগ্য হলেও সত্য, বহু আগে আমাদের দেশে এর চাষাবাদ হলেও কালের বিবর্তনে তা হারিয়ে যেতে বসেছে। হারিয়ে যাওয়ার কারণ হলো উচ্চ মূল্যের ফসলের আর্বিভাব, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, সর্বোপরি কৃষকের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া। পৃথিবীর উন্নত দেশ চীন, জাপান, আমেরিকাসহ নানা দেশে ঢেমশির কদর অনেক বেশি। সেসব দেশে চাষাবাদ, প্রসেসিংসহ নানা পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছে সরকার।


ঢেমশির চাল এবং আটায় আছে অতিমাত্রায় প্রোটিন, মিনারেল এবং ফাইবার। যা আমাদের জন্য উত্তম খাদ্য। আরও আছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, জিংক, ভিটামিন (বি১, বি২, বি৩, বি৬, বি১২) ও সেলেনিয়ামসহ নানা পুষ্টিকর উপাদান।


তথ্যসূত্র : প্রথম আলো। 

(অনুমতি ছাড়া রিপোস্ট করবেন না)

#ঢেমশি #ঢেমশির_চাল

#বাংলার_তথ্যপট(বাংলার তথ্যপট সম্পর্কে জানুন কমেন্টে)

ভালো পুরুষদের খুঁজে পাওয়া কঠিন নয় - তাদের প্রলুব্ধ করা কঠিন

 “ভালো পুরুষদের খুঁজে পাওয়া কঠিন নয় - তাদের প্রলুব্ধ করা কঠিন”


একটি সাধারণ ভুল ধারণা রয়েছে যে ভালো পুরুষরা খুব বিরল এবং যেন অদৃশ্য হয়ে গেছে। কিন্তু সত্যটা হলো – ভালো পুরুষদের খুঁজে পাওয়া কঠিন নয়। তারা কেবল এমন জিনিসে প্রভাবিত হয় না যা কেবল বাইরের মোহ তৈরি করে।


একজন গভীর চিন্তার মানুষ তার পছন্দ নির্ধারণ করেন সাময়িক আকর্ষণের উপর নয়। তিনি গভীরতা, চরিত্র এবং তার মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির সাথে মানানসই কাউকে খুঁজে নেন। যদি একজন সত্যিকারের ভালো পুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আপনি সংগ্রাম করেন, তবে হয়তো আপনার পদ্ধতি বদলানোর সময় এসেছে।


যা কাজ করে না:

 • আকর্ষণীয় ও উন্মুক্ত পোশাক: এগুলো হয়তো অনেকের নজর কাড়ে, কিন্তু ভালো পুরুষ কেবল বাইরের চেহারা নয়, বরং গভীর সংযোগ খোঁজেন।

 • সোশ্যাল মিডিয়ার নাটক: অতিরঞ্জিত পোস্ট বা বেছে নেওয়া সেলফি হয়তো লাইক পায়, কিন্তু সত্যিকারের সম্মান বা আগ্রহ জাগাতে ব্যর্থ।

 • উপকরণবাদিতা বনাম অর্থ: বিলাসবহুল জিনিস বা ব্র্যান্ড পছন্দ প্রদর্শন একজন মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষকে মুগ্ধ করে না।


যা কাজ করে:

 1. চরিত্র বনাম চেহারা: একজন ভালো পুরুষ খেয়াল করেন আপনি অন্যদের সাথে কেমন আচরণ করেন, আপনার বিনয় এবং সহানুভূতি। একটি সহানুভূতিশীল মন দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে।

 2. মেধা বনাম সৌন্দর্য: মেধা মানে কেবল ডিগ্রি বা শব্দভাণ্ডার নয়; এটি কৌতূহল, প্রজ্ঞা এবং অর্থবহ কথোপকথন করার ক্ষমতা। তার মনকে প্রভাবিত করুন, তার প্রশংসা পাবেন।

 3. মূল্যবোধ বনাম ভোগবাদ: গভীর মানসিকতার একজন পুরুষ এমন নারীকেই পছন্দ করেন যার স্পষ্ট মূল্যবোধ ও লক্ষ্য আছে। তাকে আপনার বিকাশের প্রতি ভালোবাসা, আপনার বিশ্বাসের প্রতি অঙ্গীকার, বা আপনার জীবনের কোনো মহৎ উদ্দেশ্য দেখান।

 4. স্থিতিশীলতা বনাম বিশৃঙ্খলা: নাটক ছাড়া স্থিতিশীলতা ভালো পুরুষদের কাছে আকর্ষণীয়। তারা এমন কাউকে খোঁজেন যে জীবনের চ্যালেঞ্জগুলোকে শান্তভাবে মোকাবিলা করতে পারে, না যে অপ্রয়োজনীয় বিশৃঙ্খলা তৈরি করে।

 5. আত্মবিশ্বাস বনাম সাদৃশ্য: নিজেকে নির্দ্বিধায় উপস্থাপন করুন। একজন ভালো পুরুষ এমন নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল যে নিজের মূল্য জানে এবং প্রয়োজনে একা থাকার সাহস রাখে।


ভালো পুরুষকে আকৃষ্ট করার গোপন রহস্য:


একজন ভালো পুরুষ চান না আপনি নিজেকে পাল্টান; তিনি চান আপনি আপনার আসল রূপে থাকুন – সৎ, সাহসী এবং স্বকীয়তায় পরিপূর্ণ।


তিনি পরিপূর্ণতা খুঁজছেন না; বরং এমন কাউকে খুঁজছেন যিনি তার যাত্রাকে পরিপূরক করবেন, যার মূল্যবোধ ও লক্ষ্য তার সাথে মিলে যায়। তিনি লক্ষ্য করবেন আপনার নীরব শক্তি, অন্যদের সাথে আপনার আচরণ এবং জীবনের উত্থান-পতন কিভাবে আপনি সামাল দেন।


তাই, যদি আপনি একটি অর্থপূর্ণ সম্পর্কের জন্য আগ্রহী হন, তাহলে ক্ষণস্থায়ী বাহ্যিক গুণাবলীর চেয়ে আপনার অন্তর্নিহিত গুণাবলী গড়ে তোলার উপর বেশি মনোযোগ দিন। আপনার কাজ, মেধা এবং মূল্যবোধ পোশাক বা সোশ্যাল মিডিয়ার চেয়ে জোরালোভাবে কথা বলুক।


সৌন্দর্যের চেয়ে কৌশলী হন। কারণ যখন একজন ভালো পুরুষ আপনাকে একবার লক্ষ্য করবে, তখন তিনি আপনার প্রতিটি দিক – ভিতর এবং বাইরের – গভীরভাবে মূল্যায়ন করবেন।

সংগৃহীত।

পেয়ারার মিলিবাগ/ছাতরা পোকা।

 ফসলঃ- পেয়ারা


পোকার নামঃ- পেয়ারার মিলিবাগ/ছাতরা পোকা।


পোকার স্থানীয় নামঃ- ছাতরা পোকা


পোকা চেনার উপায় : দুধের মত সাদা বর্ণের এবং মোম জাতীয় পাউডার দ্বারা নরম দেহ আবৃত থাকে।


ক্ষতির ধরণঃ- এরা কচি ফল, পাতা ও ডালের রস চুষে নেয়, ফলে গাছ দুর্বল হয়। পোকার আক্রমণে পাতা, ফল ও ডালে সাদা সাদা তুলার মত দেখা যায়। অনেক সময় পিঁপড়া দেখা যায়। এর আক্রমণে অনেক সময় পাতা ঝরে যায় এবং ডাল মরে যায়।


আক্রমণের পর্যায়ঃ- বাড়ন্ত পর্যায়, চারা, পূর্ণ বয়স্ক।


ফসলের যে অংশে আক্রমণ করেঃ- কাণ্ড , পাতা , ডগা


পোকার যেসব স্তর ক্ষতি করেঃ- লার্ভা , পূর্ণ বয়স্ক


ব্যবস্থাপনাঃ-

আক্রমণ বেশি হলে ইমিডাক্লোরোপ্রিড জাতীয় কীটনাশক (যেমন এডমায়ার অথবা টিডো ৭-১০ মিলিলিটার / ২মুখ) ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রতি ৫ শতকে স্প্রে করতে হবে ১০ দিন পরপর ২/৩ বার। কীটনাশক স্প্রে করায় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।


বালাইনাশক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন


বালাইনাশক ব্যবহারে সতর্কতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন


পূর্ব-প্রস্তুতিঃ-

নিয়মিত বাগান পরিদর্শন করুন।


অন্যান্যঃ-

সাবানযুক্ত পানি স্প্রে করা যায় অথবা আধাভাঙ্গা নিমবীজের পানি (১ লিটার পানিতে ৫০ গ্রাম নিমবীজ ভেঙ্গে ১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে ছেঁকে নিতে হবে) আক্রান্ত গাছে ১০ দিন পর পর ৩ বার স্প্রে করলে পোকা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এছাড়াও তামাকের গুড়া (১০গ্রাম), সাবানের গুঁড়া (৫গ্রাম) ও নিমের পাতার রস  প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। আক্রান্ত অংশ পোকাসহ তুলে ধ্বংস করতে হবে। খুব জোরে পানি স্প্রে করেও প্রাথমিক অবস্থায় এ পোকা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।


তথ্যের উৎসঃ-

সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন ফসলের ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমন, কীটতত্ত্ব বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ২০১৭।


ফসলের বালাই ব্যবস্থাপনা, মোঃ হাসানুর রহমান, দ্বিতীয় সংস্করণ, জানুয়ারী ২০১৩।


পেয়ারা চাষের উন্নত কলাকৌশল, ড. এম. এ. রহিম ও ড. মোঃ শামসুল আলম মিঠু, ২০১০, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

সকাল ০৭টার বাংলা সংবাদ তারিখ:১২-০৫-২০২৬ খ্রি:।

 সকাল ০৭টার বাংলা সংবাদ তারিখ:১২-০৫-২০২৬ খ্রি:। আজকের শিরোনাম: রাজনৈতিক পরিচয় নয় অপরাধীদের অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করতে পুলিশ বাহিনীকে নির্দে...