এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

সোমবার, ১২ মে, ২০২৫

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স আজ ১০০ বছর। আর রবীন্দ্রনাথ বেঁচে থাকলে আজ তাঁর বয়স হতো ঠিক ১৬০ বছর। 

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স আজ ১০০ বছর। আর রবীন্দ্রনাথ বেঁচে থাকলে আজ তাঁর বয়স হতো ঠিক ১৬০ বছর। 


ঢাবির চেয়ে ৬০ বছরের বড় এই রবি ঠাকুর নাকি কোনওদিন চান নি যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হোক। এখনও ঢাবির আকাশে বাতাসে প্রতিধ্বনিত হয় যে রবীন্দ্রনাথ নাকি বলেছিলেন, 'পূর্ববাংলার চাষা ভুষারা আবার পড়াশোনা কী করবে? তারা হালচাষ করুক।' যদিও এ নিয়ে কোন তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না। 

তবে এ নিয়ে প্রমাণ পাওয়া যায় যে রবি ঠাকুর নওগাঁ আর কুষ্টিয়াতে পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের পড়াশোনার জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন, স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন, নিজের ছেলেকে অন্য কিছু না পড়িয়ে আমেরিকাতে কৃষি পড়িয়ে কুষ্টিয়ার লোকজনের উন্নতি করাতে চেয়েছেন। সমবায় কৃষি আর পূর্ববঙ্গের শিক্ষার উদ্যোগ নিয়েছেন। 

যে মানুষটা নিজের বউ এর গহনা বিক্রি করে পূর্ব বাংলায় স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন তিনি আর যাই করুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করবেন না।


কেউ কোনো প্রমাণ না দিয়েই বলে বেড়াচ্ছেন যে, ১৯১২ সালের ২৮ মার্চ কলকাতায় গড়ের মাঠে এক বিরাট জনসভা হয়। সেই জনসভায় সভাপতি হিসেবে রবি ঠাকুর নাকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন।


এটা সত্য যে কলকাতায় ২৮ মার্চ এ রকম একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু তাতে রবীন্দ্রনাথ উপস্থিতই ছিলেন না। সেদিন তিনি কলকাতাতেই ছিলেন না। ১৯১২ সালের ১৯ মার্চ 'সিটি অব প্যারিস' জাহাজে করে রবীন্দ্রনাথের লন্ডন যাবার কথা ছিল। তাঁর সফরসঙ্গী ডাক্তার দ্বিজেন্দ্রনাথ জাহাজে উঠে পড়েছিলেন। কবির মালপত্রও তোলা হয়ে গিয়েছিল; কিন্তু হঠাৎ সেদিন সকালে রবীন্দ্রনাথ অসুস্থ হয়ে যান। পরে চেন্নাই থেকে তাঁর মালপত্র আবার কলকাতায় ফিরিয়ে আনা হয়। কলকাতায় কয়েক দিন বিশ্রাম করে ২৪ তারিখ কুষ্টিয়ার শিলাইদহে চলে আসেন। ২৮ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিলের মধ্যে সেখানে বসে ১৮টি গান ও কবিতা রচনা করেন, যেগুলো পরে 'গীতিমাল্য' (১৯১৪) গ্রন্থে সংকলিত হয়। 


গীতিমাল্য-এর ৪ নম্বর কবিতা হচ্ছে ‘স্থিরনয়নে তাকিয়ে আছি’। এই কবিতার পান্ডুলিপিসহ সকল সংস্করণেই রচনাকাল আর রচনাস্থান দেওয়া আছে। শিলাইদহে ১৫ চৈত্র ১৩১৮ সাল তারিখে (২৮ মার্চ ১৯১২) এই কবিতা লেখা হয়।  (দলিল: https://www.tagoreweb.in/Verses/gitimalya-63/sthir-noyone-takiye-achhi-3369)


২৮ মার্চ তিনি এই কবিতা কুষ্টিয়ায় বসে লিখলে কলকাতায় বক্তৃতা করবেন কীভাবে! তাছাড়া ডেইলি স্টেটসম্যান পত্রিকা তখন কলকাতার দৈনিক প্রথম আলো। ১৯১২ সালের ২৯ মার্চ তারিখের স্টেটসম্যানে এই সভার কথা ছাপা হয়েছিল। স্টেটসম্যানের সাংবাদিকেরা গড়ের মাঠের এই জনসভার নিউজ করবেন আর সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম লিখতে ভুলে যাবেন তা হতে পারে না।


রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতা করেছেন এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। তবে রবীন্দ্রনাথের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেমের সম্পর্কের নানান প্রমাণ পাওয়া যায়।


১৯২৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঢাকা সফরে আসেন। আহসান মঞ্জিলে এসে উঠেন। মানে তখন উনি ঢাকার নবাবের মেহমান। সেবার উনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবর্ধনা গ্রহণ করেন। নবাব সলিমুল্লাহ সেই ১৯০৪ সাল থেকে সংগ্রাম করছেন ঢাবির প্রতিষ্ঠার জন্য। সেই সংগ্রামের বিরোধিতা যদি রবি ঠাকুর করেন, তবে মাত্র ৫ বছরের ব্যবধানে ঢাবি তাকে সংবর্ধনা দিতো না। আর ঢাকার নবাব হাবিবুল্লাহ নিজের বাবার সংগ্রাম ভুলে গিয়ে রবি বাবুকে সম্মান করে বাড়িতে আমন্ত্রণ জানাতেন না। আজ ১০০ বছর পরে যে বিষয় আমরা ভুলতে পারি না, মাত্র ৫ বছরের ব্যবধানে নবাব হাবিবুল্লাহ আর সমগ্র ঢাবি সেকথা ভুলে যাবে - এটা মানা কষ্টকর। 


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকায় আসেন মোট দুইবার। ১৮৯৮ সালে প্রথমবার, আর দ্বিতীয়বার ১৯২৬ সালে। দ্বিতীয়বার ঢাকায় আসার পর রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৯২৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঢাকায় আসেন ঢাকার নবাব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ আমন্ত্রণে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রনাথকে আনতে মূল ভূমিকা পালন করেন জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদার। তবে রবীন্দ্রনাথ কার বাসায় উঠবেন — এ নিয়ে ঢাকার জনগণ ও রমেশচন্দ্র মজুমদারের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। বিতর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ঘটনা রবীন্দ্রনাথের কানেও গড়ায়। রবীন্দ্রনাথ খানিকটা বিব্রত হয়ে রমেশচন্দ্র মজুমদারকে চিঠি লেখেন -


কল্যাণীয়েষু,

ঢাকার জনসাধারণের পক্ষ থেকে আজ আমাকে নিমন্ত্রণ করার জন্য দূত এসেছিলেন। তাঁদের বিশেষ অনুরোধে নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই যাত্রা করতে প্রস্তুত হয়েছি। ৬ই তারিখে রাত্রে রওনা হয়ে গোয়ালন্দ থেকে তাঁদেরই জলযানে ভেসে পড়ব। ১০ই তারিখ পর্যন্ত তাদের আতিথ্য ভোগ করে ওই কর্তব্য অন্তে তোমার আশ্রয়ে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিমন্ত্রণ পালন করব। নইলে আমাকে দীর্ঘকাল ঢাকায় থাকতে হয়। আমার সময় নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিঃস্থিত ঢাকার লোকের নিমন্ত্রণ কোনো মতেই উপেক্ষা করা উচিত বোধ করি নে। তাই দুই নিমন্ত্রণ ক্ষেত্রে আমার সময়কে বিভক্ত করে দিলুম। যে কয়দিন তোমাদের দেব স্থির করেছিলুম, সে কয়দিন সম্পূর্ণই রইল।

ইতি 

শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

১৬ই মাঘ, ১৩৩২


শেষ পর্যন্ত রমেশচন্দ্র মজুমদারের মৃদু আপত্তি সত্ত্বেও রবীন্দ্রনাথের ইচ্ছানুযায়ী মুসলমান নবাব বাড়ি আহসান মঞ্জিলেই আতিথেয়তার ব্যবস্থা হয়। আহসান মঞ্জিল, নর্থব্রুক হল, সদরঘাটে নবাব হাবিবুল্লাহ ও ঢাকার জনগণের বিভিন্ন সংবর্ধনা শেষে রবীন্দ্রনাথ ১০ ফেব্রুয়ারি রমেশচন্দ্রের বাড়িতে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের আতিথ্য গ্রহণ করেন। এ সময় রবীন্দ্রনাথ কার্জন হলে দুটো বক্তৃতা দেন। ১০ তারিখ সন্ধ্যায় উপস্থাপন করেন প্রথম বক্তৃতা: ‘The Rule of the Giant’। আর ১৩ তারিখে আধুনিক সভ্যতা নিয়ে দ্বিতীয় বক্তৃতা করেন। 


কার্জন হলের এই সংবর্ধনা দেবার আগেই ১০ তারিখ বিকালে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ছাত্ররা রবীন্দ্রনাথকে সংবর্ধনা জানান। সংবর্ধনার উত্তরে রবি বলেন, ‘এই সভাগৃহে প্রবেশ করার পর থেকে এ পর্যন্ত আমার ওপর পুষ্পবৃষ্টি হচ্ছে। প্রাচীন শাস্ত্রে পড়েছি কৃতী ব্যক্তির উপর পুষ্পবৃষ্টি হয়। এ পুষ্পবৃষ্টি যদি তারই প্রমাণ করে তবে আমি আজ আনন্দিত।’ 


১৩ তারিখ সন্ধ্যায় জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থীরা তাকে অভিনন্দন জানান। জগন্নাথ হলের ছাত্ররা তাদের হলের বার্ষিক পত্রিকার জন্য একটি কবিতার আবদারও করেন। ছাত্রদের অনুরোধে তাদের বাসন্তিকা পত্রিকার জন্য ‘বাসন্তিকা’ শিরোনামে রবীন্দ্রনাথ একটা গীতিকবিতা লিখে পাঠিয়ে দেন। এটা সেই কবিতা -


এই কথাটি মনে রেখো,

তোমাদের এই হাসি খেলায়

আমি যে গান গেয়েছিলেম

জীর্ণ পাতা ঝরার বেলায়।

শুকনো ঘাসে শূন্য বলে, আপন মনে.

আদরে অবহেলায়

আমি যে গান গেয়েছিলাম

জীর্ণ পাতা ঝরার বেলায়/...


১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু অসুস্থতার কারণে রবীন্দ্রনাথ সমাবর্তনে আসতে পারেননি। তাঁর অনুপস্থিতিতেই এই উপাধি দেওয়া হয়। ওই সমাবর্তনেই স্যার জগদীশচন্দ্র বসু, স্যার প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কেও সম্মানসূচক ডি লিট দেওয়া হয়। 


দেশভাগের পর পাকিস্তান আমলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রচর্চা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। ধর্মকে ব্যবহার করে রবীন্দ্রনাথ এর বিরুদ্ধে কীভাবে আর কতভাবে এদেশের মুসলমান সমাজকে ক্ষ্যাপানো যায় তার অন্তহীন একটা চেষ্টা শুরু হয়। রবীন্দ্রসংগীত হারাম বলে আর ইসলামের বিরোধী বলে ফতোয়া দেওয়া হয় সরকারি মহল থেকে। সেই চেষ্টা যে আজও অনেকাংশেই সফল তা সহজেই অনুমেয়। সেসময়ই গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয় যে রবি ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘৃণা করতেন। আর প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন। আজও যে কুসংস্কার নিয়ে আমরা বেঁচে আছি।


যাইহোক, আনন্দের ব্যাপার হচ্ছে ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রবীন্দ্র ভবন নির্মাণ কাজে হাত দিয়েছে। কিন্তু এই আনন্দ মাটি হয়ে গেছে জগন্নাথ হলের কারণে। 


প্রথমত জগন্নাথ হলের সম্পূর্ণ ধারণাটাই বিচ্ছিরি। একটি প্রগতিশীল বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মের ভিত্তিতে কেন ছাত্রদের আলাদা করে দেওয়া হয়েছে - তা বুঝতে পারি না। আগেকার দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেরা মেয়েদের সাথে কথা বলতে পারতো না। এই কালা কানুন একসময় ছিল। সেসব বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কিন্তু জগন্নাথ হলে মুসলিমরা থাকবে না; আর সলিমুল্লাহ হলে হিন্দুরা থাকবে না - এই কালা কানুনগুলো রয়েই গেছে।


দ্বিতীয়ত, জগন্নাথ হলে বরাবরই হিন্দু চরিত্রদের স্থান দেওয়া হয়েছে। যেমন: স্বামী বিবেকানন্দ, গোবিন্দ্র চন্দ্র দেব প্রমুখ। একটি হিন্দু ছাত্র হলে হিন্দু দার্শনিকের ভাস্কর্য স্থাপন সমস্যা না। কিন্তু যে মানুষটি হিন্দু না, তাকে ধরে এনে হিন্দুদের হলে বসিয়ে দিলে সমস্যার সৃষ্টি হয়। তার উপর হিন্দুয়ানির সিল পড়ে যায়। রবীন্দ্রভবন জগন্নাথ হলের ভিতরে প্রতিষ্ঠা করায় রবীন্দ্রনাথের গায়েও হিন্দুয়ানির সিল পড়ে যাবে। কোন মুসলিম ছাত্র এই হলে বসবাস করতে পারবে না। কেবলমাত্র তার ধর্মবিশ্বাসের কারণে রবীন্দ্রভবনে বাস করতে পারবে না। কেন? 

রবীন্দ্রনাথ কি শুধুই হিন্দুদের?


এদেশের শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষের ধারণা যে রবি ঠাকুর হিন্দু ছিলেন। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছেন এমন অনেকেও জানেন না যে - উনি ব্রাহ্ম ছিলেন। আর ব্রাহ্মধর্ম আলাদা একটা ধর্ম।


রবীন্দ্রনাথের ১৬০ তম জন্মদিনের এই উজ্জ্বল দিনে আমাদের অনেকটা দায়িত্ব আছে রবীন্দ্রনাথ বিষয়ক ভুল ধারণাগুলো দূর করার। বিদ্বেষগুলো ভেঙে দেওয়ার। আর কেউ স্বীকার করি বা না করি - সারা বাঙলাদেশের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপরই এই দায় সবচেয়ে বেশি।


[ছবিঃ নির্মানাধীন রবীন্দ্র ভবন, জগন্নাথ হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়]

[ছবিঃ প্রথম কমেন্ট - চেয়ারে বসা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। দাঁড়িয়ে আছেন, মথুরেন্দ্রনাথ নন্দী, মুহম্মদ আবদুল হাই। নিচে বসা আই এন চৌধুরী, আহমদ হোসেন, বিশ্বরঞ্জন ভাদুড়ী, কলকাতা, ১৯৩৮ সাল]


৭ই মে ২০২১ তারিখে লেখা 

(ঈষৎ পরিমার্জিত)

 বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না

 বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না। কারণ, বই পড়ে আপনি যে জ্ঞান অর্জন করবেন, তা আপনাকে জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে আরও সমৃদ্ধ করবে। এসব কথা সবারই জানা। তবে আরও খুশির খবর হচ্ছে, বর্তমান ডিজিটাল পৃথিবীতে বই পড়ে শুধু জ্ঞান অর্জনই নয়, অর্থ উপার্জনও সম্ভব। বই পড়া অনেকেরই প্রিয় নেশা। এই নেশাই যদি কারোর পেশা হয়ে যায়, তাহলে কী চমৎকার হবে ব্যাপারটা, তাই না? জেনে নেওয়া যাক বই পড়ে অর্থ উপার্জনের কয়েকটি উপায়।


১। বই-বিষয়ক ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি:

ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম কিংবা টিকটক— যে মাধ্যমেই আপনি ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করতে চান না কেন, আপনাকে এক বা একাধিক ‘নিশ’, অর্থাৎ বিষয়বস্তু নির্বাচন করতে হবে। কন্টেন্ট নির্মাতা হিসেবে কাজ করতে গিয়ে শুরুতে অনেকে ভেবেই পান না, কী নিশ নির্বাচন করা যায়। আপনি বই পড়তে ভালোবাসেন? তাহলে আপনার ঝামেলা এখানে অর্ধেকই কমে গেল। নিশ হিসেবে আপনি বইপত্রকেই বেছে নিতে পারেন অনায়াসে। নিজের সংগ্রহে থাকা প্রিয় বইগুলো নিয়েই শুরু করুন ভিডিও তৈরি। নির্দিষ্ট কোনো একটি বই সম্পর্কে তথ্য দিন। যেমন বইটি কার লেখা, কবে, কোন প্রকাশনী থেকে বেরিয়েছে, দাম কত ইত্যাদি। এরপর বইটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে আলোচনা করুন, বইটি সম্পর্কে আপনার ভালো লাগা, মন্দ লাগা নিয়ে কথা বলুন। এভাবেই বিভিন্ন বই নিয়ে আপনি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের উপযোগী ছোট-বড় কন্টেন্ট তৈরি করতে পারেন। শুধু যে ভিডিও মনিটাইজ করার মাধ্যমেই ভিডিও থেকে অর্থ উপার্জন করা যায়, তা নয়। পেইড প্রোমোশন, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমেও ভিডিও থেকে অর্থ উপার্জন সম্ভব।


২। অ্যাফিলিয়েট লিংক শেয়ার করা:

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের প্রচলিত পদ্ধতিগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট লিংক শেয়ার করা। অ্যাফিলিয়েট লিংক শেয়ার করে আয় করার পদ্ধতিটি এ রকম—ধরুন, অনলাইনে কোনো একটি ওয়েবসাইটে একটি পণ্য বিক্রি হচ্ছে। আপনি সেই পণ্য নিয়ে ফেসবুকে কিছু লিখলেন এবং সেই পণ্যের একটি অ্যাফিলিয়েট লিংক জেনারেট করে আপনার লেখাটির নিচেই পেস্ট করে লেখাটি পোস্ট করলেন। আপনার পোস্ট করা লিংকে ক্লিক করে যতবার কেউ পণ্যটি কিনবে, ততবার আপনি কমিশন পাবেন। বর্তমানে দেশে-বিদেশে বই বিক্রির বিভিন্ন ওয়েবসাইটের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম আছে। এসব ওয়েবসাইটে অ্যাফিলিয়েট অ্যাকাউন্ট খুলে আপনিও লিংক জেনারেট করা শুরু করতে পারেন। ফেসবুক তো ব্যবহার করা হয়ই। অ্যাফিলিয়েট লিংকগুলো আপনার ফেসবুকে পোস্ট করুন। বইগুলো সম্পর্কে গুছিয়ে লিখুন, যাতে বইটি কিনতে আপনার ফেসবুক ফ্রেন্ড-ফলোয়াররা আগ্রহী হন। শুধু ফেসবুক নয়, এক্স, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউব—সব প্ল্যাটফর্মের কন্টেন্টের সঙ্গেই অ্যাফিলিয়েট লিংক পোস্ট করা সম্ভব।


৩। ব্লগ লেখা:

ওয়ার্ডপ্রেস বা উইবলি ব্যবহার করে আপনি বিনা মূল্যেই আপনার ব্লগ সাইট তৈরি করতে পারেন এবং বই–বিষয়ক ব্লগ প্রকাশ করতে পারেন। বইয়ের অ্যাফিলিয়েট লিংক শেয়ার করে অর্থ আয়ের একটি ভালো মাধ্যম ব্লগ সাইটগুলো। যেসব বই সম্পর্কে লিখবেন, সেসবের অ্যাফিলিয়েট লিংকগুলোও ব্লগের নিচে পেস্ট করে দেবেন। এ ছাড়া ব্লগের পাঠকসংখ্যা বাড়লে সাইটে বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমেও আয় করা সম্ভব। তবে সেটি ফ্রি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সম্ভব হবে না।


৪। পেইড রিভিউ লেখা:

আজকাল দেশ-বিদেশের লেখকেরা রিভিউ লেখার জন্য লেখক খোঁজেন। লেখকেরা ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে অহরহ বুক রিভিউয়ার চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থাও তাদের প্রকাশিত বইয়ের রিভিউ লেখানোর জন্য রিভিউয়ার নিয়োগ দেয়। কাজেই আপনার যদি পড়ার অভ্যাস থাকে এবং লেখার হাতও ভালো হয়, তাহলে বুক রিভিউয়ার হিসেবে আপনি কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন।


৫। প্রচ্ছদ ও অলংকরণ:

এ কাজ করতে হলে শুধু পড়ার অভ্যাস থাকলেই চলবে না, আপনার বই নকশার দক্ষতাও থাকতে হবে। বইয়ের প্রচ্ছদ আঁকতে বা ডিজাইন করতে হলে বইটি অবশ্যই ভালোভাবে আগে পড়া প্রয়োজন। আর অলংকরণের কাজ করতে হলে তো বইয়ের বিষয়বস্তুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিটি পাতার জন্যই আলাদাভাবে ছবি আঁকতে হয়, অর্থাৎ এই পেশায় আসতে হলে ভালো আঁকতেও হবে, পড়তেও ভালোবাসতে হবে। তাই আপনার আঁকাআঁকিতে দক্ষতা থাকলে এবং বই পড়ার অভ্যাস থাকলে প্রচ্ছদ ও অলংকরণ শিল্পী হিসেবে কাজ করতে পারেন।


৬। পডকাস্ট:

আপনি যদি ভালোভাবে বই পড়তে ও বিশ্লেষণ করতে পারেন, তবে আপনার সেই বিশ্লেষণকে অডিও ফরম্যাটে রেকর্ড করে পডকাস্ট আকারে প্রকাশ করতে পারেন। এতে আপনি শুধুমাত্র শ্রোতাদের একটি নির্ভরযোগ্য বই-সারাংশ উপহার দেন না, বরং নিজেকে একজন বই বিশেষজ্ঞ হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।


৭। অডিও বুক তৈরি:

আজকাল অডিও বুকেরও বেশ চাহিদা আছে। লেখকেরা অডিও বুক বিক্রি করেও অর্থ উপার্জন করেন। লেখকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে অডিও বুক তৈরি করে আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারেন। এ কাজের জন্য অবশ্যই আপনার একটি ভালো মানের সাউন্ড সিস্টেম প্রয়োজন হবে। আপনাকে মাইক্রোফোনের সামনে সুন্দরভাবে বইগুলো পাঠ করতে করতে রেকর্ড করতে হবে। পড়তে গেলে ভুলভাল হতেই পারে। তাই অডিও বুক তৈরি করতে হলে অডিও এডিটিংয়েও আপনার দক্ষতা থাকা প্রয়োজন।


৮। বই অনুবাদ করা :

আপনি যদি একাধিক ভাষায় পারদর্শী হন, তাহলে বই অনুবাদ করে বিক্রি করেও আয় করতে পারেন। আপনাকে যে শুধু কোনো প্রকাশনী থেকেই বই বের করতে হবে, তা নয়। আজকাল অ্যামাজন কেডিপির মতো প্ল্যাটফর্মে লেখকেরা স্বাধীনভাবে, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ই–বুক প্রকাশ করেন এবং বই বিক্রি বাবদ অর্থ আয় করেন।


৯। প্রুফ রিডিং:

পড়ার অভ্যাস ও ভাষাগত দক্ষতা—দুটিই যদি আপনার থাকে, তাহলে প্রুফ রিডার হিসেবে কাজ করতে পারেন। প্রুফ রিডিং, অর্থাৎ পাণ্ডুলিপির ভুলত্রুটি সংশোধন করা হতে পারে আপনার ফুলটাইম পেশা কিংবা বাড়তি আয়ের একটি মাধ্যম। প্রুফ রিডার হিসেবে আপনি বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থায় চাকরি পেতে পারেন, ফ্রিল্যান্সার হিসেবেও কাজ করতে পারেন। আপওয়ার্ক, ফাইভারের মতো ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রুফ রিডারদের চাহিদা আছে। প্রুফ রিডিং শেখা খুব একটা কঠিন নয়, তবে এ ক্ষেত্রে আপনার ভাষাগত দক্ষতা খুবই জরুরি। শুদ্ধ বানান, বিরাম চিহ্নসহ ব্যাকরণগত দিকগুলো সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।


©️Zishan vai

৩,০০০ বছরেরও বেশি সময় আগে, মরুভূমির কেন্দ্রস্থলে, পারস্যরা এক অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়েছিল

 ৩,০০০ বছরেরও বেশি সময় আগে, মরুভূমির কেন্দ্রস্থলে, পারস্যরা এক অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়েছিল


পৃথিবীর সবচেয়ে কঠোর, শুষ্কতম স্থানে, প্রাচীন পারস্য প্রকৌশলীরা জীবন-মৃত্যুর সমস্যার একটি উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে এসেছিলেন: মরুভূমিতে কীভাবে জল আনা যায়। উত্তর ছিল কানাত - ভূগর্ভস্থ টানেলের একটি অসাধারণ ব্যবস্থা যা কেবলমাত্র মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ব্যবহার করে দূরবর্তী পাহাড়ি ঝর্ণা থেকে শুষ্ক ভূখণ্ড জুড়ে শহর, খামার এবং গ্রামে জল পরিবহন করত। কোনও পাম্প নেই, কোনও যন্ত্রপাতি নেই - কেবল চতুর প্রকৌশল, সহজ সরঞ্জাম এবং দৃঢ় সংকল্প।


এই মৃদু ঢালু টানেলগুলি, কিছু ৫০ কিলোমিটারেরও বেশি বিস্তৃত, নিঃশব্দে পোড়া মাটির নীচে মিষ্টি জল প্রবাহিত করত। ফলাফল? সবুজ মরূদ্যানগুলি জীবন্ত হয়ে ওঠে যেখানে একসময় কেবল অনুর্বর বালি ছিল।


ইয়াজদ, নিশাপুর এবং গোনাবাদের মতো শহরগুলি এই ভূগর্ভস্থ জীবনরেখার চারপাশে বেড়ে ওঠে, পারস্য সাম্রাজ্যে বাণিজ্য, সংস্কৃতি এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রাণবন্ত কেন্দ্র হয়ে ওঠে।  কানাতগুলি বাগানে জল সরবরাহ করত, ফসল সেচ দিত, পাবলিক স্নানাগার সরবরাহ করত এবং এমনকি নগর নকশার প্রাচীনতম কিছু উদাহরণ গঠনে সহায়তা করত।


ইরানের গোনাবাদে এখনও প্রাচীনতম কার্যকর কানাতগুলির মধ্যে একটি বিদ্যমান। ২,৭০০ বছরেরও বেশি পুরানো, এটি ৩০০ মিটার গভীর একটি কূপ থেকে জল টেনে আনে - এবং এটি আজও প্রবাহিত হচ্ছে। এটি রোমের চেয়েও প্রাচীন এবং এখনও তার কাজ করছে।


ইউনেস্কো ইরানের কানাতগুলিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করেছে, কেবল তাদের অবিশ্বাস্য ইতিহাসের জন্য নয়, বরং টেকসই জল ব্যবস্থাপনার একটি চিরন্তন উদাহরণ হিসেবে। ক্রমবর্ধমান জল ঘাটতির মুখোমুখি বিশ্বে, এই প্রাচীন ব্যবস্থাগুলি আমাদের ভবিষ্যতের জন্য মূল্যবান শিক্ষা নিতে পারে।


আরো বিস্তারিত জানতে নিচের লিংকের ক্লিক করে দেখতে পারেন সঠিক তথ্য পেয়ে যাবেন 

https://www.facebook.com/share/p/18fKwGMQEM/


History Hunters

রবিবার, ১১ মে, ২০২৫

তেলাপোকা দূর করার টিপস। 

 তেলাপোকা দূর করার টিপস। 


১)তেজপাতাঃ তেজপাতার গন্ধ তেলাপোকা সহ্য করতে পারে না। ফলে যেখানে তেজপাতা থাকে সেখানে তেলাপোকা থাকে না। তাই তেলাপোকার আনাগোনা যেখানে বেশি সেখানে তেজপাতা ছিঁড়ে ফেলে রাখুন। বাড়ি থেকে তেলাপোকা সদলবলে দূর হবে।


(২) পানি আর অ্যামোনিয়ার মিশ্রণঃ তেলাপোকা তাড়ানোয় অত্যন্ত উপযোগী। এক বালতি পানিতে ২ কাপ অ্যামোনিয়া গুলে নিন। এই পানি দিয়ে রান্নাঘর ধুয়ে নিন। অ্যামোনিয়ার গন্ধে তেলাপোকা পালাবে।


(৩) গায়ে মাখার সাবান ও পানি মিশিয়ে মিশ্রণঃ তৈরি করুন। ঘরের কোনায় কোনায় এই পানি স্প্রে করে দিন। ব্যস তেলাপোকা বধ।


(৪) ময়দা ও বোরিক অ্যাসিডঃ মেখে একটা ডো তৈরি করে নিন। এর ছোট ছোট লেচি কেটে ঘরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে রাখুন। এই লেচিতে মুখ দিলেই মরবে তেলাপোকা।


(৫) গোলমরিচ, পেঁয়াজ, রসুনঃ এই তিন উপকরণ একসঙ্গে পেস্ট বানিয়ে নিন। এবার এক লিটার পানিতে এই মিশ্রণটি দিয়ে ভালো করে গুলে নিন। ঘরের আনাচে কানাচেতে এই পানি স্প্রে করলেই নিশ্চিহ্ন হবে তেলাপোকার বংশ।


(৬)শশাঃ একটি টিনের কৌটায় কাটা শশা ভরে মুখ খুলে রেখে দিন। তেলাপোকা চলে যাবে। তবে দিনের পর দিন রাখবেন না। তাতে মাছির উপদ্রব শুরু হবে।


(৭)পানিঃ ঘরের কোণে কাঁচের জারে অর্ধেক পানি ভরে রেখে দিন। তেলাপোকা খালি ভেবে এর ভিতরে ঢুকলেই পানিতে আটকা পড়বে। আর উড়তে পারবে না।


#foryoupageシforyou #everyoneシ゚ #viralchallenge #viralphotochallenge #trend Proshanti A #collected

ধনী হতে গেলে কি মানতে হবে। শোনো, ভাইয়েরা! ধনীরা লুকিয়ে রেখেছে গোপন রহস্য—কিন্তু আমি তা ফাঁস করে দেবো।

 ধনী হতে গেলে কি মানতে হবে।

শোনো, ভাইয়েরা! ধনীরা লুকিয়ে রেখেছে গোপন রহস্য—কিন্তু আমি তা ফাঁস করে দেবো।


ধনীরা কপালে ভর করে ধনী হয়নি। তারা হঠাৎ করে টাকার ওপর পড়ে যায়নি। তারা এমন একটা খেলা খেলেছে, যা তোমাকে কেউ শেখায়নি। আর তারা তোমাকে সেটা শেখাতেও চায় না—কারণ তুমি একবার নিয়ম শিখে ফেললে, তখনই তুমি হয়ে উঠবে হুমকি।


কিন্তু আমার এই প্রোফাইলটা আমি বানাইনি কোনও দুর্বল লোকের জন্য। এটা শুধুই তাদের জন্য, যারা ভাঙতে চায় শিকল, যারা নিজের জীবন পাল্টাতে চায়। তাই শুনো, শুধু নিজের জন্য নয়—তোমার বন্ধুবান্ধব, ভাইবোনদের জন্যও। এই ৭টা গোপনীয় সত্য যদি তুমি মনপ্রাণ দিয়ে কাজে লাগাও, তাহলে ১২ মাসের মধ্যেই তুমি হয়ে উঠতে পারো একজন মিলিয়নিয়ার। কারণ এটা শুধু স্বপ্ন নয়—এটা তোমার বাঁচার পথ।


1️⃣ ধনীরা কখনো সময়ের বিনিময়ে টাকা নেয় না, তারা “মূল্য” দিয়ে সম্পদ গড়ে। তুমি যখন সকাল-সন্ধ্যা চাকরি করো, তখন তারা এমন সিস্টেম বানায় যা ২৪/৭ কাজ করে—ইনভেস্টমেন্ট, ডিজিটাল অ্যাসেট, বিজনেস। সময় সীমিত, কিন্তু সিস্টেম সীমাহীন। পার্থক্যটা বুঝো।


2️⃣ ঋণ খারাপ নয়—মূর্খতা খারাপ।

ধনীরা “ভালো ঋণ” দিয়ে সাম্রাজ্য বানায়: প্রপার্টি, যন্ত্রপাতি, বিজনেস ক্যাপিটাল। আর তুমি “খারাপ ঋণ” নিয়ে দেখাও: আইফোন, নাইটক্লাব, গাড়ি। ঋণ যদি টাকা না আনে, সেটা দাসত্ব।


3️⃣ ৯-৫ খেতে দেবে—কিন্তু মালিকানা তোমায় মুক্তি দেবে।

তারা চাকরির আয় দিয়ে বিজনেস শুরু করে। তুমি সেই আয় দিয়ে শো-অফ করো। একদিকে গড়ে উঠে সাম্রাজ্য, আরেকদিকে জমে দায়। নিজের কিছু তৈরি করো—যেটুকু থাকে, সেখান থেকেই শুরু করো।


4️⃣ তোমার নেটওয়ার্কই তোমার সম্পদ।

তারা কখনো হতাশ, নেগেটিভ মানুষের সঙ্গে সময় কাটায় না। প্রতিটি বন্ধু দেয় কিছু না কিছু: জ্ঞান, যোগাযোগ, মূলধন। যদি তোমার আশেপাশের লোকেরা তোমায় টানছে না, তারা তোমার শক্তি খাচ্ছে। কেটে ফেলো।


5️⃣ নীরবতা ধনীদের কৌশল।

তারা ঢাকঢোল বাজায় না। তারা ছায়ার মতো চলে, বজ্রের মতো আঘাত হানে। তুমি যখন সোশাল মিডিয়ায় ফেক লাইফ দেখাও, তারা তখন জমি, শেয়ার, ব্যবসা কিনে নিচ্ছে। চুপচাপ কাজ করো, ঝড় তুলে দাও।


6️⃣ ধনীরা প্রতিদিন আর্থিক শিক্ষায় বিনিয়োগ করে।

তারা বই পড়ে, কোর্স করে, মাস্টারমাইন্ডে যায়। আর তুমি? নাটক, ফুটবল, পর্ন দেখো। আজকের দিনে জ্ঞানই নতুন টাকা। শিখো, নইলে গরিব থাকো।


7️⃣ তারা বিক্রি করে। শেষ কথা।

প্রতিটা মিলিয়নিয়ারই বিক্রেতা। কেউ পণ্য বিক্রি করে, কেউ ব্র্যান্ড, কেউ সার্ভিস, কেউ স্কিল। যদি তুমি বিক্রি করতে না পারো, তাহলে কে তোমায় কিনবে।

জীবনের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য জানতে সুপার ফর্মুলাটি পেতে হোয়াটসআ্যপ চ্যানেলে জয়েন হোন। https://whatsapp.com/channel/0029Vb6JtlzIt5rohdhlTy0S


আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে

 "ব্রেইনকে ট্রেইন করে হয়ে উঠুন সবার সেরা" লিংক।

https://t.me/dbsdss


@Shariful Islam Razu 

@Shariful.fans

বস্তুটির নাম— ভ্যানভেরা (vanvera). ১৯-শতকের ইতালিতে তুমুল জনপ্রিয় মেশিন ছিল এটি, বিশেষ করে ভেনিস শহরের সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলোয়।

 বস্তুটির নাম— ভ্যানভেরা (vanvera). ১৯-শতকের ইতালিতে তুমুল জনপ্রিয় মেশিন ছিল এটি, বিশেষ করে ভেনিস শহরের সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলোয়।


ভ্যানভেরা ব্যবহৃত হতো একটি সভ্য-উদ্দেশ্যে— জৈব-বায়ুত্যাগ, খাঁটি বাংলায় 'পাদ'-এর সুললিত শব্দ ও বিমোহিত ঘ্রাণ থেকে পারিপার্শ্বিক পরিবেশকে মুক্ত রাখতে।


এই বস্তুর উৎপত্তি মূলত প্রাচীন মিশর এবং রোমে, প্রায় একইসাথে, সুপ্রাচীন কালে। তখন এর নাম ছিল— প্রাল্লো (prallo). ফেরাউন ও সম্রাটদের দীর্ঘসময় ধরে চলমান উৎসবগুলোয় প্রাল্লো ব্যবহৃত হতো পাদের ধ্বনি ও গন্ধ লুকিয়ে পরিবেশকে স্বচ্ছন্দ রাখার দায়িত্বে।


প্রাল্লোর গঠন ছিল এরকম— ডিম্বাকৃতির সিরামিক বা কাঠের ফাঁপা গোলক, একপ্রান্তে মাউথপিসের মতো অংশ যেটা নিতম্বগুহার মুখে চাপা থাকতো, অপরপ্রান্ত উন্মুক্ত যেখানটা দিয়ে শব্দ ও ঘ্রাণ বেরিয়ে যেতো 'প্রক্রিয়াজাত' হয়ে। প্রক্রিয়াজাত বলতে— বিকট শব্দটি বেরুতো পথপরিক্রমার ফলস্বরূপ দুর্বল-ধ্বনি হয়ে, এবং দুর্গন্ধ বেরুতো সুঘ্রাণ হয়ে, কারণ গোলকটির ভিতরে রাখা হতো সুঘ্রাণযুক্ত ভেষজ লতাপাতা।


মিশর ও রোমের বাইরে প্রাল্লো জনপ্রিয় হতে পারেনি, ফলে একসময় বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিলো বস্তুটি। কিন্তু ১৬-শতকের দিকে এসে, এটি ভ্যানভেরা নাম নিয়ে ব্যবহৃত ও জনপ্রিয় হতে শুরু করলো ভেনিসের সম্ভ্রান্তশ্রেণিতে। ২-ধরণের ভ্যানভেরা ছিল ভেনিসেঃ


একটির নাম— ভ্যানভেরা দা পাসেজ্জিয়ো, যেটা তৈরি হতো লেদার দিয়ে। এটি বহনযোগ্য ভ্যানভেরা। এর একপ্রান্ত নিতম্বদেশের সাথে আরামসে আটকে থাকতো, এবং এটায় একটি নাতিদীর্ঘ টিউব লাগানো ছিল যেটির শেষপ্রান্তে একটি ব্লাডার যুক্ত ছিল পাদবায়ু সংরক্ষিত হওয়ার জন্য। ব্লাডারটায় একটি ছোট্ট ছিদ্র থাকতো, ছিদ্রটিকে খোলা-বাঁধার জন্য ছিল একটি সুতা। সুতায় টান দিয়ে ছিদ্রটি উন্মুক্ত করে পাদটুকু দূরে গিয়ে ফেলে আসা হতো সুযোগ এলেই। এই ভ্যানভেরা স্কার্ট বা প্যান্টের ভিতরে পরা হতো, থিয়েটার বা সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে যাওয়ার সময়।


দ্বিতীয় বায়ুত্যাগী-মেশিনটার নাম ছিল— ভ্যানভেরা দা অ্যালকোভা। অ্যালকোভার টিউবটি ছিল লম্বা এবং এর প্রান্তে ব্লাডার থাকতো না। এটি ঘরে ব্যবহার করা হতো, বহনযোগ্য ছিল না। দীর্ঘ টিউবটির শেষপ্রান্ত জানালা দিয়ে বাইরের দিকে বের করে রাখা হতো ঘ্রাণ চলে যাওয়ার জন্য। এই ভার্সনটি প্রধানত পুরুষেরা ব্যবহার করতেন, বিয়ের প্রথম রাতে টেনশনে-অস্থিরতায় পেদেটেদে দেওয়ার পরে অস্বস্তিকর ঘ্রাণ-শব্দ এড়িয়ে চলার জন্য।


২০-শতকের শুরুর দিক থেকে ভ্যানভেরার ব্যবহার কমে গেলো, সম্ভ্রান্ত-শ্রেণির পোশাকের ধরণ পাল্টে যাওয়ার ফলস্বরূপ; এবং পারফিউমের উন্নতির ফলে। কিন্তু, পাদ-শিল্পের মোহময়তাকে আমরা ছেড়ে থাকতে পারলাম কই!


তথ্যসূত্রঃ উইয়ার্ড, স্ট্রেঞ্জ, এণ্ড ইন্টারেস্টিং থিংস।

© Salahuddin ahmed jewel

চৌকস হওয়ার জাপানি কৌশল

 চৌকস হওয়ার জাপানি কৌশল


জাপান শুধু প্রযুক্তি বা সৌজন্যর দেশ নয় , তাদের সংস্কৃতিতে লুকিয়ে আছে এমন কিছু বুদ্ধিদীপ্ত অনুশীলন , যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ , সুন্দর ও সচেতন করতে পারে । বাড়াতে পারে মনোযোগ ও বুদ্ধিমত্তা । এখানে এমন পাঁচটি জাপানি কৌশল নিয়ে লিখেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন 


শিরিতরি কৌশল:


একদিন বিকেলে রিমি আর ওর ভাই খেলার ছলে শুরু করল শব্দখেলা । রিমি বলল ‘ চাঁদ ’ । ওর ভাই বলল ‘ দুধ ’ । এরপর রিমি বলল “ ধনুক ’ । এইভাবেই চলতে লাগল শব্দের পেছন ধরে নতুন শব্দ বলার খেলা । এটাই জাপানি ‘ শিরিতরি ’ — একটি জনপ্রিয় শব্দখেলা । এতে প্রথম ব্যক্তি একটি শব্দ বলেন এবং পরের ব্যক্তি সেই শব্দের শেষ অক্ষর দিয়ে আরেকটি শব্দ বলেন । এভাবে ঘুরে ঘুরে খেলা চলতে থাকে । যে মনে রাখতে পারে না বা ভুল করে , সে বাদ । আর যে ঠিক ঠিক মনে রেখে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি শব্দ বলতে পারে , সে- ই জয়ী হয় । সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘ অরণ্যের দিনরাত্রি ' সিনেমায় একটি দৃশ্য আছে । সেখানে চরিত্ররা বনে বেড়াতে গিয়ে ‘ শিরিতরি ’ খেলে । এই খেলায় মজা যেমন আছে , তেমনি আছে মনোযোগ আর স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর গুণ । পরিবারের সবাই মিলে সপ্তাহে এক দিন শিরিতরি খেলুন । সময় বেঁধে নিন যে কম সময়ে বেশি শব্দ বলবে , সে জিতবে । ছোটদের ভাষা শেখানোর জন্য এটি এক অসাধারণ কৌশল । কানজি ভিজ্যুয়ালাইজেশন তরুণ ছাত্র অর্ণব জাপানি ভাষা


শিখতে গিয়ে দেখল , অক্ষরগুলো মুখস্থ করতে কষ্ট হচ্ছে । একদিন শিক্ষক তাঁকে বললেন , ' তুমি প্রতিটি কানজি অক্ষরের ভেতর একটা ছবি কল্পনা করো । ” অর্ণব ‘ mori ’ শব্দটির মধ্যে তিনটি গাছ কল্পনা করল । বুঝল , এটা মানে ঘন বন । ‘ hazashi ' মানে দুটি গাছ । অর্থাৎ জঙ্গল । এভাবেই প্রতিটি প্রতীক ছবির রূপে রূপান্তর করে মনে রাখা হয় । এই কৌশলই হলো কানজি ভিজ্যুয়ালাইজেশন ।


মোজিতসুকি:


নতুন বছরে জাপানের একটি গ্রামে উৎসব হচ্ছে । সবাই মিলে তৈরি করছে মোচি - চালের কেক । একজন মুগুর দিয়ে চাল পেষণ করছে , আরেকজন সময়মতো হাত ঢুকিয়ে চালের ভেতর পানি ও ছন্দ দিচ্ছে । একটুও ভুল হলে হতে পারে আঘাত , তাই দুজনের ভেতর গড়ে ওঠে এক অদ্ভুত তালমেল । এটাই হলো মোজিতসুকি । শুধু রান্না নয় , এটি সম্মিলিত মনোযোগ ও ছন্দ শেখায় । দলগত


জাপানিরা ইতিহাস প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঁচিয়ে রাখেন গল্পের ছলে । বাড়ির বয়স্করা ছোটদের পূর্বপুরুষদের গল্প শোনান । তাঁদের ইতিহাস বই , রান্নার বই , নৃতত্ত্বের বই — এ রকম নানা কিছু গল্পের মতো করে বলা বা লেখা হয় ।

কাজের মধ্যে কীভাবে আস্থা ও সময়জ্ঞান তৈরি হয় , এটি তার এক জীবন্ত উদাহরণ ।


জাজেন ফোকাস:


রাফি পড়ার টেবিলে বসে আছে , কিন্তু মন একদমই বসছে না । তখন সে শিখল ‘ জাজেন ’ । প্রতিদিন মাত্র পাঁচ


মিনিট সে চুপচাপ চোখ আধা বন্ধ করে বসে থাকে , শুধু শ্বাস গোনে । প্রথমে অস্থির লাগলেও ধীরে ধীরে রাফি দেখল , মনোযোগ বাড়ছে , অস্থিরতা কমছে । এভাবেই জাজেন বা জেন ধ্যান আমাদের শেখায় নিজেকে সামলানো , মনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া । জাপানিরা ধ্যানকে দৈনন্দিন কাজের অন্তর্ভুক্ত করে ফেলেছে । এই কাজটা নামাজের মাধ্যমেও হয় । তাই নামাজ পড়া বা ইবাদত করা যেতে পারে । অমুসলিম হলে ধ্যান বা ধর্মীয় প্রার্থনা করা যেতে পারে । প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ( যেমন ভোরবেলা বা রাতে ঘুমানোর আগে ) ৫ মিনিট জাজেন করুন ।


কোজিজি:


আকাশ প্রতিদিন সকালে এক কাপ চা বানায় । তিনি সেই চা বানানোতেই তার যত্ন , মনোযোগ , ধৈর্য — সব ঢেলে দেয় । আর এই ছোট ছোট কাজের মধ্য দিয়ে সে খুঁজে পায় শান্তি ও আনন্দ । এটাই হলো কোজিজি ছোট জিনিস , ছোট কাজ , ছোট শব্দ ; যেগুলোর মাঝে লুকিয়ে থাকে বড় উপলব্ধি । জাপানিরা মনে করে , জীবন শুধু বড় সিদ্ধান্তে নয় , ছোট অভ্যাসে তৈরি হয় । জাপানিরা ইতিহাস প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঁচিয়ে রাখেন গল্পের ছলে । বাড়ির বয়স্করা ছোটদের পূর্বপুরুষদের গল্প শোনান । তাঁদের ইতিহাস বই , রান্নার বই , নৃতত্ত্বের বই — এ রকম নানা কিছু গল্পের মতো করে বলা বা লেখা হয় । ইতিহাসের নানা ঘটনা আশ্রয় করে বানিয়ে ফেলা হয় সিনেমাও । ফলে সেগুলো আর বিরক্তিকর লাগে না , বরং ‘ ইন্টারেস্টিং ’ লাগে । আবার মনে রাখাও সহজ হয় ।

-দৈনিক আজকের পত্রিকা 

✍️এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

লেখক: ভাইভা বোর্ডের মুখোমুখি, 

ব্যাংকার'স ভাইভা বোর্ড, 

মুজাহিদ'স ভাইভা সাজেশন, 

ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার,

লেসন ফ্রম বুকস। 


#japan #SmartHacks #japaneseculture

হাছন রাজা: বিলাসিতা থেকে বৈরাগ্যের এক বিস্ময়কর যাত্রা :-

 হাছন রাজা: বিলাসিতা থেকে বৈরাগ্যের এক বিস্ময়কর যাত্রা :-


তিনি ছিলেন বিলাসী জমিদার।

বড় ভাই ও পিতার মৃত্যুতে অল্প বয়সেই ৬ লাখ বিঘা জমির বিশাল সাম্রাজ্যের দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। কিন্তু এত ভূসম্পত্তি পেয়ে তিনি হারিয়ে গেলেন ভোগবিলাসে। নারী-নেশা-নৃত্যগীত—এই ছিল তাঁর জীবনের মূল সুর।


নারীর প্রতি ছিল প্রবল আকর্ষণ। নিজেই লিখেছেন,

“সর্বলোকে বলে হাছন রাজা লম্পটিয়া।”


একদিন দেখা পেলেন এক হিন্দু রমণী—দিলারাম।

রূপে মোহিত হয়ে উপহার দিলেন নিজের গলার সোনার চেইন। প্রেমে পড়ে লিখলেন বিখ্যাত সেই পঙ্‌ক্তি:


“ধর দিলারাম, ধর দিলারাম, ধর দিলারাম, ধর।

হাছন রাজারে বান্ধিয়া রাখ, দিলারাম তোর ঘর!”


কিন্তু পরিবারের আভিজাত্যের খাতিরে মা সেই প্রেমকে মানতে পারলেন না।

দিলারামকে তাড়িয়ে দিলেন।

মায়ের উপর অভিমান করে হাছন রাজা আরও ডুবে গেলেন বাইজি আর মদে।

লখনৌ থেকে আগত অপূর্ব রূপসী বাইজি পিয়ারির প্রেমে পড়লেন।

তার রূপে মাতোয়ারা হয়ে লিখলেন:


“নেশা লাগিল রে। বাঁকা দুই নয়নে নেশা লাগিল রে...”


প্রজারা ধীরে ধীরে জমিদার হাছন থেকে দূরে সরে গেল।

তিনি পরিচিত হলেন এক নিষ্ঠুর, নির্দয় শাসক হিসেবে।


ঠিক তখনই—ঘটল এক অলৌকিক ঘটনা।

ছেলেকে পথভ্রষ্ট দেখে মা এক রাতে বাইজির ছদ্মবেশে ছেলের জলসায় হাজির হলেন।

জমিদার হাছন মায়ের পায়ে পড়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন।


এই লজ্জা, আত্মদহন আর এক আধ্যাত্মিক স্বপ্ন পুরোপুরি বদলে দিল তাঁর জীবন।

প্রেম-ভোগ-নেশা ছেড়ে হাছন রাজা হয়ে উঠলেন এক সাধক, এক বাউল।


সাদামাটা জীবন, স্রষ্টার প্রেমে মগ্ন মন, প্রজাদের প্রতি দরদ।

রচে গেলেন একের পর এক কালজয়ী গান—


“লোকে বলে বলেরে, ঘর বাড়ি ভালা নায় আমার”

“মাটিরো পিঞ্জিরার মাঝে বন্দী হইয়া রে”

“সোনা বন্দে আমারে দেওয়ানা বানাইলো রে”

...আরও অসংখ্য হৃদয়ছোঁয়া গান।


তিনি নিজেই বুঝতে পেরেছিলেন—

“একদিন তোর হইবোরে মরণ”—এ গানেই ফুটে উঠেছে তাঁর অনুশোচনা।


শেষ বয়সে সম্পত্তি বিলিয়ে দরবেশি জীবন বেছে নেন।

প্রতিষ্ঠা করেন স্কুল, মসজিদ, আখড়া—অগণিত জনহিতকর প্রতিষ্ঠান।


জীবনের শেষ প্রান্তে এসে হাছন রাজা বুঝেছিলেন,

কে তাঁকে বাউল বানিয়েছে—তা হয়তো তিনি বলেননি,

কিন্তু আকাশের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন—

"আমি সেই অদৃশ্যের বাঁধা ঘুড়ি!"


হাছন রাজার জীবন গল্প নয়, এক অনন্ত শিক্ষা।

ভোগ থেকে ত্যাগ, মোহ থেকে মোক্ষের যে যাত্রা—

তা আমাদের জন্য এক অনুপ্রেরণা।

অল্প পুঁজিতে যেসব ব্যবসা শুরু করা যায়, তার মধ্যে অনেকগুলো লাভজনক ও টেকসই হতে পারে যদি ঠিকভাবে পরিকল্পনা ও পরিশ্রম করা যায়। 

 অল্প পুঁজিতে যেসব ব্যবসা শুরু করা যায়, তার মধ্যে অনেকগুলো লাভজনক ও টেকসই হতে পারে যদি ঠিকভাবে পরিকল্পনা ও পরিশ্রম করা যায়। 

নিচে কিছু ব্যবসার ধারণা দেওয়া হলো:

১. ফাস্ট ফুড বা স্ট্রিট ফুড ব্যবসা: 


পুঁজি: ৫,০০০–২০,০০০ টাকা

অবস্থান: স্কুল, কলেজ, অফিস এলাকার কাছে।

পপুলার আইটেম: চটপটি, ফুচকা, স্যান্ডউইচ, পুরি, নুডলস ইত্যাদি।


২. ঘরোয়া হস্তশিল্প বা হ্যান্ডমেইড পণ্য: 


পুঁজি: ২,০০০–১০,০০০ টাকা

জিনিসপত্র: জামদানি, নকশিকাঁথা, পুঁতির গয়না, হ্যান্ড পেইন্টেড পণ্য।

অনলাইন বা লোকাল মার্কেটে বিক্রয় করা যাবে। 


৩. ফ্রিল্যান্সিং বা ডিজিটাল সার্ভিস:

পুঁজি: একটি কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ।

কাজ: গ্রাফিক ডিজাইন, কনটেন্ট রাইটিং, ভিডিও এডিটিং, ওয়েব ডিজাইন।

প্ল্যাটফর্ম: Fiverr, Upwork, Freelancer


৪. অনলাইন রিসেলিং ব্যবসা:


পুঁজি: ৩,০০০–১৫,০০০ টাকা

পণ্য: পোশাক, কসমেটিক্স, জুতা, ব্যাগ ইত্যাদি

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম পেইজ দিয়ে শুরু করা যায়।


৫. কাচা বাজার পণ্য বা সবজি বিক্রি: 


পুঁজি: ১,০০০–৫,০০০ টাকা

ভ্রাম্যমাণ বা নির্দিষ্ট জায়গায় করা যাবে।

লোকাল কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি কিনে বিক্রি করলে লাভ বেশি হয়। 


৬. প্রিন্টিং ও ফটোকপি সার্ভিস:


পুঁজি: ১০,০০০–২৫,০০০ টাকা (পুরাতন মেশিন কিনলে আরও কমে)

স্কুল/কলেজ/দপ্তর এলাকায় করলে চাহিদা বেশি। 


৭. পোল্ট্রি বা কোয়েল পাখির খামার (ছোট আকারে)


পুঁজি: ৫,০০০–১৫,০০০ টাকা

জায়গা: বাড়ির আঙিনায় বা ছাদে শুরু করা যায়।

নিয়মিত যত্ন নিলে লাভজনক হবে। 

____________________ 

প্রিয় বন্ধু, এগুলোর ভেতর যে ব্যবসা আপনি শুরু করতে আগ্রহী, সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানুন। আমার পরামর্শ চাইলে স্পেসিফিক ডিটেইলস কন্টেন্ট লিখবো, আলাদা আলাদা ব্যবসা সম্পর্কিত। 

আর যারা উচ্চ ডিগ্রীধারী, বেকার বসে আছেন, বড় বেতনের চাকরি না হলে কোনো ধরণের কাজ করবেন না, বা কোটি কোটি টাকার ব্যবসা না হলে শুরু করবেন না, ছোটখাটো কাজ শুরু করতে আত্মসম্মানে লাগছে, তাদের জন্য এই পোস্ট না। আপনারা ইগনোর করুন।

আমি তাদের জন্য লিখেছি যারা ছোটোখাটো কাজ শুরু করে হালাল উপায়ে উপার্জন করতে আগ্রহী। যে কোনো কাজ সংক্রান্ত ব্যাপারে আমি সার্বিক পরামর্শ দিতে আগ্রহী, যতটুকু আমার পড়াশোনা, জ্ঞান, বিশ্লেষণ এবং অভিজ্ঞতা আছে।।

নায়ক মান্নার সকল নায়িকা।

 নায়ক মান্নার সকল নায়িকা।


১। ফারজানা ববি (পাগলী)

২। শেলী কাদের (ফুলশয্যা)

৩। নিপা মোনালিসা (তওবা)

৪। রেহেনা জলি (নিষ্পাপ)

৫। রোজিনা (আজ তোমার কাল আমার)

৭। নাসরিন (টাকা পয়সা)

৮। অঞ্জু (যন্ত্রনা)

৯। সুনেত্রা (জাদরেল বউ)

১০। দিলারা (অগ্নি পুরুষ)

১১। রানী (ছোট বউ)

১২। অরুনা বিশ্বাস (গরিবের বউ)

১৩। চম্পা (কাশেম মালার প্রেম)

১৪। কবিতা (অগ্নি তুফান)

১৫। সুচরিতা (দাঙ্গা)

১৬। নূতন‌ (নাগিনী সাপিনী)

১৭। লিলি (নাগিনী সাপিনী)

১৮। জিন্নাত (রূপের রানী গানের রাজা)

১৯। অঞ্জলী (আলো আমার আলো)

২০। বনশ্রী (মহাভূমিকম্প)

২১। শাহনাজ (আন্দোলন) 

২২। রেবেকা (আন্দোলন)

২৩। তৃষ্ণা (শেষ সংগ্রাম)

২৪। শিল্পী (রাজপথের রাজা)

২৫। সাথী (সাক্ষী প্রমাণ)

২৬। দিতি (আজকের সন্ত্রাসী)

২৭। শাবনুর (চিরঋণী)

২৮। সন্ধ্যা (গুন্ডা পুলিশ)

২৯। শাবনাজ (দেশদ্রোহী)

৩০। মৌসুমী (লুটতরাজ)

৩১। শানু (হাতিয়ার)

৩২। একা (তেজী)

৩৩। ঋতুপর্ণা (দেশ দরদী)

৩৪। পপি (কে আমার বাবা)

৩৫। শাবজান (গণধোলাই)

৩৬। মুনমুন (রাজা)

৩৭। ময়ূরী (রাজা)

৩৮। সূচিত্রা (নাজায়েজ)

৩৯। অন্তরা (নাজায়েজ)

৪০। তামান্না (আমার প্রতিজ্ঞা)

৪১। আফরিন (কিলার)

৪২। সিমলা (ভেজা বিড়াল)

৪৩। কেয়া (রংবাজ বাদশা)

৪৪। মহিমা (ঈমানদার মাস্তান)

৪৫। পূর্ণিমা (সুলতান)

৪৬। শাহনূর (শেষ যুদ্ধ)

৪৭। পলি (ফায়ার)

৪৮। নিশি (আলীবাবা) 

৪৯। রচনা ব্যানার্জি (ভাইয়া)

৫০। সুজানা (বাদশা কেন চাকর)

৫১। জুমেলিয়া (টপ সম্রাট)

৫২। শিনা (রুস্তম)

৫৩। বৈশাখী (আব্বাস দারোয়ান)

৫৪। মৌমিতা (আব্বাস দারোয়ান)

৫৫। সুমনা সোমা (রাজধানী)

৫৬। সুমি (তেজী পুরুষ)

৫৭। নেহা (আমাদের সন্তান)

৫৮। শাকিবা (বাঁচাও দেশ)

৫৯। নদী (এক রোখা)

৬০। জনা (আমি একাই একশ)

৬১। নূপুর (মাথা নষ্ট)

৬২। নিপুন (রিক্সাওয়ালার প্রেম)

৬৩। অপু বিশ্বাস (মেশিনম্যান)

৬৪। স্বাগতা (শত্রু শত্রু খেলা)

৬৫। রেসি (অবুঝ শিশু)

৬৬। অহনা (চাকরের প্রেম)

৬৭। আন্না (জীবন নিয়ে যুদ্ধ) 


বিঃদ্রঃ - কেউ বাদ পড়লে অথবা অতিরিক্ত নাম থাকলে বলতে পারেন, কারেকশন যোগ্য।


#MMahim #Manna

ন্যানো-স্কেলে কোয়ান্টাম সুপারপজিশন: সোডিয়াম কণার 'একই সঙ্গে দুই জায়গায়' থাকার নতুন প্রমাণ,,,মুস্তাকীম ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ন্যানো-স্কেলে কোয়ান্টাম সুপারপজিশন: সোডিয়াম কণার 'একই সঙ্গে দুই জায়গায়' থাকার নতুন প্রমাণ ~ কোয়ান্টাম জগতের সবচেয়ে বিস্ময়কর ধার...