এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শুক্রবার, ৪ নভেম্বর, ২০২২

সিরাত চর্চা

সিরাত_চর্চা পড়ে দেখতে পারেন। ইনশাআল্লাহ ভাল লাগবে


নবুয়াতের একেবারে শুরুর দিকের কথা। তখনও মক্কায় ইসলামের তেমন নাম-ডাক ছড়ায় নি। মুষ্টিমেয় লোক মাত্র ইসলামে প্রবেশ করেছে। কিন্তু, ততোদিনে নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শত্রুদের চোখের কাটায় পরিণত হয়ে গেছেন ঠিক-ই।


একদিন, ইরাশ গোত্রের একলোক তার একটা উট নিয়ে মক্কায় আসেন সওদার উদ্দেশ্যে। উটটা বিক্রি করার জন্যে তিনি বাজারে বাজারে ঘুরে ক্রেতা খুঁজতে লাগলেন। আবু জাহেল বাজারের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় উটটি দেখে এবং পছন্দ করে ফেলে। যখন জানতে পারে যে, এই উট বিক্রি হবে, তখন উটটি কিনে নেওয়ার জন্য আবু জাহেল ইরাশ গোত্রের ওই লোকের কাছে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করে। আবু জাহেল সম্প্রদায়ের সম্মানিত এবং প্রতাপশালী ব্যক্তি। ইরাশ গোত্রের ওই ব্যক্তিও তাকে চিনতে পারেন, এবং তার কাছে নিজের উট বেচতে পারাটাকে সম্মানের মনে করেন। এরপর, তাদের মধ্যে দরাদরি হয় এবং একটা নির্ধারিত মূল্যে আবু জাহেল উটটি কিনে নেয়। কিন্তু আবু জাহেল ইরাশ গোত্রের লোকটিকে বললো, ‘শোনো, আমার সাথে তো পর্যাপ্ত টাকা নেই এখন। এক কাজ করো, উটটি আমি আজ নিয়েই যাই বরং। তোমাকে উটের দাম আগামিকাল দিয়ে দেওয়া হবে, কি বলো?’


সম্মানিত এক গোত্রের এতো সম্মানিত এবং প্রতাপশালী এক নেতা যখন এভাবে আবদার করে, তখন জগতের যেকেউ তা নির্ধিদ্বায়, নিঃসংকোচে মেনে নেবে। ইরাশ গোত্রের ওই লোকটাও মেনে নিলেন। বললেন, ‘কোন সমস্যা নেই। আমি আজকেই মক্কা ছাড়ছিনা। আরো কয়েকদিন আমি এখানে অবস্থান করবো। উটের দামটা আপনি আমাকে পরেই নাহয় বুঝিয়ে দিবেন। আপনি এই উট নিয়ে যান দয়া করে’।


আবু জাহেল উটটিকে নিয়ে আসলো ঠিক-ই, কিন্তু সে বুঝতে পারলো যে, এই সওদাগর নিতান্তই আলাভোলা এবং নির্বোধ। তারউপর গরিব। সুতরাং, একে সহজেই ঠকানো যাবে। উটের দামটা না দিলে, কিংবা উট ক্রয়ের ব্যাপারটা পুরোপুরি অস্বীকার করে চেপে গেলেও এই বোকাটার ক্ষমতা নেই কিছু করার।


আবু জাহেল তা-ই করলো। পরেরদিন উটের মালিক যখন আবু জাহেলের কাছে উটের দামটা চাইতে আসলেন, তখন তো আবু জাহেলের আকাশ থেকে পড়ার মতোন অবস্থা। চেহারায় নিষ্পাপ এবং গাম্ভীর্যতার একটা ছাপ জিইয়ে রেখে আবু জাহেল বললো, ‘তুমি কে বলো তো? তোমাকে তো আগে কখনো এদিকটায় দেখিনি। আর, কিসের দাম তুমি চাইছো আমার কাছে?’


আবু জাহেলের কথা শুনে হতবাক হয়ে গেলেন উটের মালিক। বংশীয় মর্যাদা আর পতিপত্তির দিকে চেয়ে, অগাধ বিশ্বাস করে নিজের একমাত্র উটটি বাকিতে যার হাতে তুলে দিয়েছিলো, সেই ভদ্রলোকটাই নাকি ব্যাপারটাকে অস্বীকারের পাঁয়তারা করছে। তিনি বললেন, ‘দেখুন, গতকাল বাজারে আপনি আমার উটটি কিনতে চাইলে আমি আপনার কাছে বেচতে রাজি হই। কিন্তু, আপনার সাথে টাকা না থাকায় আপনি আমাকে পরে শোধ করার ওয়াদা করেন। আজ আপনি সবটা কিভাবে অস্বীকার করে যাচ্ছেন?’


আবু জাহেল ক্ষিপ্ত গলায় বললো, ‘দূর হও এখান থেকে! তুমি আমার নামে অপবাদ দিতে এসেছো কোন সাহসে? তুমি চেনো আমি কে?’


উটের মালিক আবু জাহেলকে চেনে। এই তল্লাটের ক্ষমতাধর, প্রতাপশালী একজন নেতা। এবং, লোকটা নিজেকেও খুব ভালো মতোন চিনে। গরিব আর অসহায় এক বিদেশি যে পেটের দায়ে নিজের উটখানা ভালো দামে বেচতে এসেছিলো এই দূরের দেশে। এই তল্লাটের নেতাই যখন তার সাথে প্রবঞ্চনার আশ্রয় নিলো, তখন চোখের জল ফেলা ছাড়া আর উপায় কি?


কিন্তু, এতোদূরে এসে, এভাবে একেবারে খালি হাতে ফেরত যেতে কেমন যেন মন সাঁয় দেয়না তার। লোকটা কুরাইশদের একটা সভায় এসে বললেন, ‘কুরাইশগণ! আপনাদের কেউ কি আবুল হাকামের কাছ থেকে আমার পাওনা টাকা আদায় করে দিতে পারবেন?’ দেখুন, আমি একজন বিদেশি। একটি উট ছিলো, তা আপনাদের তল্লাটে বেচতে এসেছিলাম। আমাকে দূর্বল এবং অসহায় পেয়ে আবুল হাকাম ইবনে হিশাম আমার পাওনা টাকা দিতে অস্বীকার করছে। দয়া করে, কেউ কি আমাকে আমার পাওনা টাকা আদায়ে সাহায্য করতে পারেন?’


যে জটলার কাছে এসে উটের মালিক এই কড়জোর অনুনয় করছিলো, তার অদূরে, একটা খোলা জায়গায় বসে ছিলেন নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। জটলার লোকেরা নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখিয়ে দিয়ে বললো, ‘ওই যে এক লোক ওখানে বসে আছে, দেখতে পাচ্ছো?’


-‘হ্যাঁ’।


-‘তার কাছে যাও। একমাত্র সে-ই পারবে তোমার পাওনা আদায় করে দিতে’।


আসলে, তারা যে সৎ উদ্দেশ্যে নবিজীকে দেখিয়ে দিয়েছিলো সেদিন, তা কিন্তু নয়। তারা নবিজীকে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেলার জন্যেই এরূপ করেছিলো। মুহাম্মাদ সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু জাহেলের মধ্যে যে একটা বিরোধ চলছে, সেটা তারা খুব ভালোভাবেই জানতো। নবিজীকে দেখিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিলো এই, আবু জাহেলের মুখোমুখি হতে নবিজী সাহস করে কি না, তা যাচাই করা, কিংবা নবিজী যদি সত্যই লোকটাকে নিয়ে আবু জাহেলের কাছে যায়, তাহলে আবু জাহেল আগের চাইতে আরো দ্বিগুণ রেগে যাবে। সর্বোপরি, নবিজীকে বিব্রতকর বিপদের মুখোমুখি করিয়ে দেওয়াই তাদের মোক্ষম উদ্দেশ্য ছিলো।


কিন্তু, উটওয়ালা সরল ওই লোক তো আর এতো দুরভিসন্ধি সম্পর্কে জানেন না। তিনি তাদের কথা মতো, নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর বান্দা! আমি অমুক জায়গা থেকে এখানে সওদা করতে এসেছি। এই তল্লাটের আবুল হাকাম ইবনে হিশামের কাছে আমি আমার একমাত্র উটটি বেচে দিয়েছিলাম, কিন্তু আমার পাওনা টাকা দিতে লোকটা এখন অস্বীকার করছে। আমি ওই জটলার লোকগুলোর কাছে অনুনয় করে বলেছিলাম আমার পাওনা টাকা আদায়ে আমাকে একটু সাহায্য করার জন্যে। তারা সকলে আপনাকেই দেখিয়ে দিয়েছে। তারা বললো, আপনিই এর উপযুক্ত ব্যক্তি। আপনি কি আমাকে কোনোভাবে সাহায্য করতে পারেন?’


সবটা শুনে নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আমার সাথে আসুন’।


লোকটাকে সাথে নিয়ে নবিজী ঠিক ঠিক আবু জাহেলের গৃহে উপস্থিত হলো। ঘরের দরোজায় কড়া নাড়তে ভেতর থেকে আবু জাহেল বললো, ‘কে কড়া নাড়ছে?’


নবিজী উত্তরে বললেন, ‘আমি মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব’।


-‘কি চাই?’


-‘একটু দরকার আছে। বাইরে এসো’।


আবু জাহেল দরোজা খুললো, এবং তার চেহারা খুব অস্বাভাবিক হয়ে উঠলো সাথে সাথে। বাঘের মুখে পড়লে বনের বনেদি হরিণের যে অবস্থা হয়, ঠিক সেরকম। ভয়ার্ত চেহারা তার, যেন গলা শুকিয়ে একেবারে কাঠ হয়ে গেলো। কোনোভাবে নিজেকে সামলে নিয়ে বললো, ‘কি বলতে চাও, বলো?’


নবিজী উটের মালিককে দেখিয়ে বললো, ‘এই লোকটার কাছ থেকে উট কিনে তার দাম দিচ্ছো না কেনো? এক্ষুণি তার দাম পরিশোধ করে দাও’।


আবু জাহেল একদৌঁড়ে ভেতরে ঢুকে পড়লো, এবং খানিক বাদে, হাঁপাতে হাঁপাতে এসে উটের মালিকের হাতে তার ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে, পুনঃরায় ঘরের ভেতর ঢুকে ধপাস করে দরোজা লাগিয়ে দিলো।


উটের মালিক আগের জটলার কাছে ফিরে এলে, তারা বললো, ‘কি হে, কি হলো তোমার পাওনার?’


তিনি হাসিখুশি চেহারায় বললেন, ‘আপনাদের দেখিয়ে দেওয়া লোকটা আমাকে আবুল হাকামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে, আমার পাওনা আদায় করে দিয়েছেন। আল্লাহ যেন তাকে উত্তম প্রতিদান দান করেন’।


উটের মালিকের উত্তর শুনে হতভম্ব হয়ে গেলো জটলার লোকগুলো। তারা ভাবলো, এমন তো হওয়ার কথা ছিলো না! কথা ছিলো, এই উছিলায় মুহাম্মাদ এবং আবু জাহেলের মধ্যে একটা ভীষণ লড়াই বাঁধবে এবং তাতে আবু জাহেল জিতে যাবে। আর, আমরাও নতুন সুযোগ পাবো মুহাম্মাদকে উত্যক্ত করার। কিন্তু তার তো কিছু হলোই না, উল্টো লোকটা নাকি পাওনা টাকা পেয়ে গেছে। ঘটনা কি?’


ঘটনা জানা যায় একটু বাদে। আবু জাহেল যখন তাদের কাছে এলো, তারা বললো, ‘আজ কি হলো তোমার, আবুল হাকাম? এমন তো আগে আর কখনো হতে দেখিনি আমরা। মুহাম্মাদের কথায় তুমি লোকটার পাওনা পরিশোধ করে দিলে?’


আবু জাহেল বললো, ‘নাহ, ঘটনা তোমরা যেমন ভাবছো, তেমন নয়। মুহাম্মাদ আমার দরোজায় কড়া নাড়লে আমি বেরিয়ে আসি। বিশ্বাস করো, বাইরে এসে আমি যে দৃশ্য দেখেছি, তার চাইতে ভয়ঙ্কর, তার চাইতে অদ্ভুত জিনিস আমি আর ইতোপূর্বে কখনোই দেখিনি’।


সবাই বললো, ‘আবুল হাকাম, তুমি কি এমন দেখলে যার ভয় তোমাকে এখনো তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে?’


-‘আমি দেখলাম, মুহাম্মাদের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে একটা বিশাল আকৃতির উট। তার চোয়াল এতো উঁচু যে, তা যেন আকাশ ছুঁতে চাচ্ছে। এতো বিশাল ঘাঁড় আর ভয়ঙ্কর দাঁত বিশিষ্ট কোন উট আমি আগে কখনোই দেখিনি। বিশ্বাস করো, ওই উট এতো বড় হাঁ করে ছিলো যে, আমার মনে হলো, আমি যদি মুহাম্মাদের কথায় উটের মালিককে পাওনা পরিশোধ না করতাম, তাহলে ওই ভয়ঙ্কর উটটা আমাকে একেবারে গিলে খেয়ে ফেলতো’।


মূলত, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া’তায়ালা সেদিন বিশেষ সাহায্যের মাধ্যমে নবিজীকে আবু জাহেলের মুখোমুখি করেছিলেন। অবস্থা এমন করেছিলেন যে, আবু জাহেল ঘরের বাইরে এসেই ভয়ে তটস্থ হয়ে পড়লো, নবিজীকে অপমান করা তো দূরে থাক।


এটা নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা বিশেষ সাহায্য। কিন্তু, এই ঘটনা থেকে আমরা নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটা মহান গুণের সন্ধান পাই। ওই সময়, মক্কায় আবু জাহেলের চাইতে বড় কোন শত্রু নবিজীর ছিলো না। সারাক্ষণ নবিজীর বিরুদ্ধে কোন না কোন শয়তানিতে লিপ্ত ছিলো আবু জাহেল। মাঝে মাঝে, নবিজীকে হত্যা করতেও গিয়েছিলো সে।


এমন এক শত্রুর মুখোমুখি হতে যাওয়াটা যে অনেক সাহসের দাবি রাখে, তা নিঃসন্দেহে। তাও, আত্মরক্ষার জন্য কোনোরকম অস্ত্র ছাড়াই। নিজের জন্যেও নয়, কোন এক বিদেশি, যার পাওনা পরিশোধ করছেনা আবু জাহেল, তার জন্যে। এই যে মানুষের জন্য ঘোরতর শত্রুর মুখোমুখি হওয়া, নিজের জীবন নাশের শংকা আছে জেনেও তার সামনে গিয়ে দাঁড়াতে পারা, এটাই একজন প্রকৃত নেতার গুণ। আর, নেতা হিশেবে কতোই না উত্তম মুহাম্মাদ সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। 

কপি
পেস্ট

কোন মন্তব্য নেই:

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...