জৈব তরল সারের সুবিধা হলো এটা পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী, এবং সার তৈরি ও প্রয়োগ পদ্ধতি সহজ এবং প্রয়োগের সঙ্গে সঙ্গে গাছ বা ফসলের গ্রহণ উপযোগী হয়। তরল জৈব সারের হরমোন থাকে যা বায়োস্টিমুলেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং ফসলকে পোকামাকড় ও রোগ থেকে আগলে রাখে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, তরল জৈব সার থেকে যেমন ফসল সব মেক্রো খাদ্যোপাদান পাচ্ছে সঙ্গে অধিকাংশ মাইক্রো খাদ্যোপাদানগুলোও পাচ্ছে। ফলে ফসলের ফলনের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুষ্টিমান ও স্বাদ বৃদ্ধি পায়। উন্নত বিশ্বে তরল জৈব সার (লিকুইড অর্গানিক ফার্টিলাইজার) প্লান্ট টি নামে অবিহিত করা হয়ে থাকে।
দ্বিতীয় পর্বে আমরা আরও চারটি জৈব তরল সার তৈরি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব।
* বাগানের আগাছা দিয়ে তরল সার - বাগানের আগাছা এবং পানি ১:৩ হারে মিশাতে হবে। প্রতিদিন এই মিশ্রণটি দুই বেলা ১টা লাঠি দিয়ে নেড়েচেড়ে দিতে হবে। ১০ দিন পর এই মিশ্রণ এর সাথে আরো ১০ গুণ পানি মিশিয়ে মাটিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
* শাকসবজি এবং ফলের বর্জিতাংশ দিয়ে তরল সার - শাকসবজি, ব্যবহৃত চা পাতা এবং ফলের বর্জিতাংশ এবং পানি ১:৩ হারে মিশাতে হবে। প্রতিদিন এই মিশ্রণটি দুই বেলা ১টা লাঠি দিয়ে নেড়েচেড়ে দিতে হবে। মিশ্রণটি বাদামি রং ধারণ এবং গন্ধ কম হলে ব্যবহারের উপযোগী হবে, তখন এই মিশ্রণ এর সাথে আরো ১০ গুণ পানি মিশিয়ে মাটিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
* মাছের বর্জিতাংশ দিয়ে তরল সার - মাছের বোর্জিতাংশ এবং পানি ১:৩ হারে মিশাতে হবে। প্রতিদিন এই মিশ্রণটি দুই বেলা ১টা লাঠি দিয়ে নেড়েচেড়ে দিতে হবে। মিশ্রণটি বাদামি রং ধারণ এবং গন্ধ কম হলে ব্যবহারের উপযোগী হবে, তখন এই মিশ্রণ এর সাথে আরো ১০ গুণ পানি মিশিয়ে মাটিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
* ঘৃতকুমারী (এলোভেরা) এর তরল সার - ঘৃতকুমারী এবং পানি ১:৩ হারে মিশাতে হবে। প্রতিদিন এই মিশ্রণটি দুই বেলা ১টা লাঠি দিয়ে নেড়েচেড়ে দিতে হবে। মিশ্রণটি বাদামি রং ধারণ এবং গন্ধ কম হলে ব্যবহারের উপযোগী হবে, তখন এই মিশ্রণ এর সাথে আরো ৫ গুণ পানি মিশিয়ে মাটিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
এছাড়াও চাল ও ডাল ধোয়া পানি ও জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়, সে ক্ষেত্রে ২-৩ দিন পর পর এ পানি
টবে ব্যবহার করা যায়।
![]() |

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন