টবের চারা লাগানোর পদ্ধতি
টব বাছাই ও সার মাটি নিয়ে আমরা জানলেও টবের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পাকা করা উচিত। টবের তলায় ছিদ্রের ওপর একটি খোলাকুমচি (হাঁড়িভাঙা) উপুড় করে রেখে কাঁকর দিয়ে
ঢেকে দিতে হবে। কাঁকর স্তরের উপর ২ সেন্টিমিটার পুরু বালির স্তর দিলে টবের বাড়তি পানি সহজে চুইয়ে ছিদ্র দিয়ে বের হয়ে যাবে। বাইরে থেকে ছিদ্রটি যাতে বন্ধ না হয়ে যায় সেদিকে
লক্ষ্য রাখতে হবে। টবটি মাটির উপর না রেখে ইট বা সিমেন্টের চাতালের উপর রাখা উচিত।
চারা লাগানোর আগে টবে সারমাটি ভালো করে ভরতে হবে। মাটি যেন আর্দ্র ও ঝুরঝুরে অবস্থায় থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রথম পর্যায়ে যে পরিমাণ মাটি ভরতে হবে তা নির্ভর
করবে চারার ও শিকড় সংলগ্ন মাটির বলের আকারের ওপর। বলা বাহুল্য চারাটি লাগানো হবে টবের মুখবৃত্তের কেন্দ্রে। ছোট চারা লাগাতে হলে টবের পুরোটাই সারমাটি দিয়ে ভর্তি করে
চারার শিকড় সংলগ্ন মাটির পরিমাণ অনুযায়ী টবের মাটির একটি গর্ত করতে হবে। ওই গর্তের মধ্যে চারাটিকে খাড়াভাবে রেখে গোড়ায় সার মাটি দিয়ে ধীরে ধীরে চেপে দিতে হবে যেন
মাটির মধ্যে কোনো ফাঁক ফোকড় না থাকে। এভাবে টবের মাটি চেপে দেওয়ার পর টবের ওপর দিকে কিছুটা জায়গা খালি হবে। আন্ত: পরিচর্যার সুবিধার্থে ওই জায়গাটুকু সারমাটি দিয়ে
পুরণ করা যাবে না। চারা পাল্টানোর পরপরই টবকে হালকা ছায়ায় রাখতে হবে। টবকে কড়া রোদে রাখা যাবে না। চারা টবের মাটিতে শিকড় না দেওয়া পর্যন্ত টবকে হালকা ছায়ায় রাখা
উচিত।
টব পাল্টানো:
সাধারণত কচি চারা সরাসরি বড় টবে না লাগিয়ে প্রথমে ৫-৮ সে.মি টবে লাগিয়ে বেশ শক্ত করে নেওয়া হয়। টবের মধ্যে চারার শিকড় যখন জালের মতো হয়ে যায় তখন তা পরীক্ষা
করতে হলে চারাসহ টটি উলটে ডান হাতের দুটি আঙুলের ফাঁকের মধ্যে ধরে টবের মুড়িটি কোনও শক্ত জিনিসের ওপর ঠুকে দিলে মাটির বলসহ চারাটি টব থেকে বেরিয়ে আসবে।
এভাবে টবের শিকড় পরীক্ষা করা যায়।
বীজতলায় চারা লাগানোঃ
বীজতলা থেকে চারা তুলে সরাসরি লাগাতে হলে তা খুব সাবধানে করা উচিত। লাগানোর সময় মাটির জো যেন ঠিক থাকে অর্থাৎ অল্প আর্দ্র অবস্থায় থাকা উচিত। লক্ষ্য রাখা দরকার,
কচি চারার শিকড় যেন যতখানি সম্ভব কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চারা কতখানি গভীর করে বসাতে হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। বীজতলায় বা গামলা টবে চারার গোড়া মাটির যে লেভেল-এ
ছিল টবে সাধারণত তার কিছুটা নিচে লাগাতে হবে। তা না হলে চারা কিছুটা হেলে পড়তে পারে। গভীরতা বেশি হলেও অন্য বিপদ দেখা দিতে পারে অর্থাৎ গোড়া পচে যাওয়ার সম্ভাবনা
থাকে। কচি চারার শিকড় মাটি না ধরা পর্যন্ত কড়া রোদের তাপে নেতিয়ে পড়তে পারে। কাজেই দিন কয়েক হালকা ছায়ায় রেখে শক্ত করে নিতে হবে।
![]() |
ফেইসবুক থেকে নেওয়া

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন