সেদিনের এক সিদ্ধান্তে আমার জীবনে শুরু হলো টাকা জমানো
বিয়ের ৪ বছর পেরিয়ে গেছে। তানহাকে খুব সাধারণভাবে বিয়ে করে বাড়িতে এনেছিলাম। এতোদিন পেরিয়ে গেলেও তাকে এখনও কোন দামী উপহার দিতে পারিনি। কিন্তু গতকাল রাতে বদলে গেছে পুরো দৃশ্যপট। ২ বছর আগে নেয়া এক সিদ্ধান্তে আজ একটি বড় উপহার দিতে পেরেছি আমার স্ত্রী’কে।
শুক্রবারের সন্ধ্যা। পুরো শহরে ছুটির আমেজ। নিতান্ত মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে তানহাকে সেদিন রঙিন ঢাকা শহর ঘুরিয়ে দেখালাম। বড় বড় শপিংমলে ঘুরলাম, মুখরোচক খাবার খেলাম দুজন। শেষে বাসায় ফেরার আগে তাকে নিয়ে ঢুকলাম একটি জুয়েলারির দোকানে। তানহা তো অবাক! আমাকে জিজ্ঞেস করলো, “এখানে কেন?”
তানহাঃ এখানে এনেছ কেন?
আমিঃ আজ আমার খুশির দিন, তাই।
তানহাঃ খুশির দিন বলে তো অনেক ঘুরলাম, খেলাম। এখানে কী কাজ?
আমিঃ তোমার জন্য একটা উপহার আছে।
তানহাঃ আমার আবার উপহার! ইনকাম তো বাড়েনি তোমার। তাহলে কীভাবে?
আমিঃ আরে সে গল্প যেতে যেতে বলবো। এখন কি নিবে সেটা বলো।
তানহাঃ তোমার চোখে যেটা আমাকে মানায় সেটা কিনে দাও।
সব দেখেশুনে একটা ‘নাকফুল’ কিনে দিলাম তানহাকে। খুব অবাক হল সে। রিকশায় করে দুজন ফিরছি। তানহা জিজ্ঞেস করলো টাকা কোথায় পেয়েছি। আমি বললাম পুরো কাহিনীটা।
আমার অনলাইন ব্যবসায় বেশিরভাগ পেমেন্টই আসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে। দীর্ঘদিন ধরে আমি আমার আগের একাউন্ট থেকে ক্যাশআউট করলে প্রতি হাজারে ১৮.৫০ টাকা কাটতো। আমার এই খরচ দেখে শৈশবের বন্ধু জোবায়ের আমাকে বেকুব বলেছিল। আর চিনিয়েছিলো নগদকে। যে নগদে ক্যাশ আউট চার্জ হাজারে মাত্র ১২.৫০ টাকা। যেখানে প্রতি হাজার লেনদেনে আমার সেভ হয় ৬.৫০ টাকা। এভাবে দুই বছর ধরে আমার ব্যবসার বাড়তি লাভের টাকা দিয়ে আজ তানহাকে নাকফুলটি কিনে দিয়েছি। এই গল্প যখন ওকে বলছি, ও আমার কাঁধে মাথা রেখে বাহুটা শক্ত করে ধরে আছে। এখন খুব বোধদয় হচ্ছে, যদি আরও আগে থেকে নগদে লেনদেন করতাম, তাহলে আজ ওকে আরও দামি কোন উপহার দিতে পারতাম। তবে আফসোস নেই আর। বরং ২ বছরের মধ্যে যে উপহার দিয়েছি তাতেই আমি নগদের প্রতি কৃতজ্ঞ। ধন্যবাদ নগদ, তোমার কম ক্যাশআউট চার্জের কারনেই, আমি টাকা বাঁচিয়ে তানহাকে আজ একটি দামী উপহার দিতে পেরেছি।
![]() |

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন