এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বুধবার, ৬ মার্চ, ২০২৪

আধুনিক পদ্ধতিতে কাঁকরোল চাষ।,,,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 আধুনিক পদ্ধতিতে কাঁকরোল চাষ।


কাঁকরোল ( Teasel gourd ) এক ধরনের কুমড়া গোত্রীয়

লতানো প্রকৃতির গুল্ম জাতীয় গাছ। কাঁকরোল মূলত গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে বাংলাদেশে চাষ হয়ে থাকে। এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, ভিটামিন-বি, শ্বেতসার ও খনিজ পদার্থ ক্যারোটিন আছে। এই সবজির বাজার মূল্যও তুলনামূলক বেশি।


কাঁকরোলের ক্ষেত্রে স্ত্রী ও পুরুষ ফুল পৃথক গাছে জন্মে থাকে অর্থাৎ স্ত্রী ও পুরুষ গাছ আলাদা। গাছ দেখে সাধারাণত চেনা যায় না কোনটি স্ত্রী ও কোনটি পুরুষ গাছ। ফুল ফোটার পর ফুল দেখে চিনতে হয়। স্ত্রী ফুলের ক্ষেত্রে ফুল মাইকের মতো ফুটে। ফুলের পাপড়ির রং ঘিয়া থেকে সাদাট এবং মাঝখানে খয়েরি রঙের হয়ে থাকে। পুরুষ ফুলের বোটার ওপরে কোনো ফুলের গঠন বা ডিম্বাশয় থাকে না, স্ত্রী ফুলে তা থাকে।


কাঁকরোলের জাত:


বাংলাদেশে স্থানীয় জাতের বেশ কিছু কাঁকরোল চাষ করা হয়। জাতগুলোর মধ্যে – আসামি, মণিপুরি, মুকুন্দপুরি, মধুপুরি আলমী, টেম্পু, সবুজ টেম্পু ইত্যাদি অন্যতম।


আসামিঃ

এই জাতের কাঁকরোলের ফলগুলো গোলাকার, খাটো এবং খেতে সুস্বাদু।


মণিপুরিঃ

এই জাতের কাঁকরোলের ফল দেখতে একটু লম্বাটে ও চিকন। তবে ফলন অন্যান্য জাতের তুলনায় বেশি হয়ে থাকে।


মাটি:


কাঁকরোল চাষের করার জন্য দোঁআশ ও এটেল দোআঁশ মাটি উত্তম। তবে জৈব সার প্রয়োগ করে অন্য মাটিতেও কাঁকরোল চাষ করা যেতে পারে।


বপনের সময়ঃ আমাদের দেশে এপ্রিল থেকে মধ্য জুন সময় পর্যন্ত কাঁকরোলের বীজ (মোথা) বপনের উত্তম সময়।


চারা তৈরি:


বীজ থেকে কাঁকরোলের চারা তৈরি করা যায়। কিন্তু তা না করাই ভালো। কেননা বীজ থেকে মাত্র ৫০% চারা গজাতে পারে। তাছাড়া বীজ থেকে গজানো চারার বেশির ভাগ গাছই পুরুষ গাছ হয়ে থাকে। এছাড়াও বীজ থেকে গজানো গাছের ফলন কম হয় এবং জাতের গুনাগুণ ঠিক থাকে না। সেজন্য কন্দ বা মোথা থেকে কাঁকরোলের চারা তৈরি বা বংশবিস্তার করা হয়। গাছের আগা কেটে বালি বা মাটির মধ্যে ছায়া জায়গায় পুঁতে দিলে ১০-১৫ দিনের মধ্যে চারা হয়। কাটিং এর গোড়ায় রুটিং হরমোন লাগিয়ে দিলে দ্রুত শিকড় গজায়। তবে এতো ঝামেলা না করে জমিতে মাদা তৈরি করে সরাসরি কন্দমুল লাগানো উত্তম।


জমিতে বেড বা মাদা তৈরী এবং কন্দমুল রোপণ:


বেড তৈরির ক্ষেত্রে প্রস্থ নিতে হবে ২ মিটার ও জমির দৈঘ্য অনুযায়ী লম্বা করতে হবে। দুই বেডের মাঝে নালার প্রস্থ ও গভীরতা হবে যথাক্রমে ৩০ সেমি এবং ২০ সেমি। প্রতিটি বেডে ২ টি করে সারি রাখতে হবে। বেডে সারি থেকে সারির দূরত্ব হবে ২ মিটার। প্রতিটি সারিতে ৬০x৬০x৬০ সেমি আকারের গর্ত মাদা তৈরী করে নিতে হবে।


মাদায় ৪-৬ সেমি গভীরে কন্দমুল পুঁততে হবে। তারপর মাটি দিয়ে মাদা ঢেকে তার ওপর খড় বিছিয়ে দিতে হবে যাতে মাদার মাটি শুকিয়ে না যায়। প্রয়োজনে ২/১ দিন পর পর ঝাঁঝরি দিয়ে মাদায় সেচ দিতে হবে। রস না থাকলে কন্দ গজাবে ন আর বেশি রস থাকলে কন্দ পচে যাবে। মোথা লাগানোর সময় পুরুষ ও স্ত্রী মোথার অনুপাত ঠিক রেখে লাগাতে হবে। সেজন্য ৯ টি স্ত্রী মোথা লাগানোর পর ১ টি পুরুষ মোথা লাগাতে হবে। পুরুষ গাছে স্ত্রী গাছের তুলনায় দেরিতে ফুল আসে। তাই স্ত্রী গাছের মোথা লাগানোর ১৫-২০ দিন আগে পুরুষ গাছের মোথা লাগাতে হবে।


রোপণ দূরত্ব:


সারি থেকে সারির দূরত্ব হবে ২ মিটার ও গাছ থেকে গাছের দূরত্ব হবে ২ মিটার। আবার মাদা থেকে মাদার দূরত্ব হবে ২.৫ মিটার।


সার ব্যবস্থাপনা:


সারের নাম শতক প্রতি সার


পঁচা গোবর ৯৬০ গ্রাম


ইউরিয়া ৮০০ গ্রাম


টি এস পি ৮০০ গ্রাম


এম ও পি ৪০০ গ্রাম


জিপসাম ৪০০ গ্রাম


প্রয়োগ পদ্ধতি:


* গোবর সার জমির তৈরির সময় ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিন। 


* সম্পূর্ণ টিএসপি, অর্ধেক এমওপি এবং সম্পূর্ণ জিপসাম চারা লাগানোর ১৫ দিন আগে মাদার মাটির সাথে মিশিয়ে দিন।


* ইউরিয়া ও বাকি অর্ধেক এমওপি সার সমান ৩ ভাগে মোথা লাগানোর ২০, ৪০ এবং ৬০ দিন মাদার মাটির সাথে মিশিয়ে দিন। ডিএপি প্রয়োগ করলে টিএসপি সার প্রয়োগ করবেন না। প্রতি কেজি ডিএপি সার প্রয়োগে ৪০০ গ্রাম ইউরিয়া কম দিন।


* মাটি অধিক অম্লীয় হলে হেক্টরপ্রতি ৮০-১০০ কেজি ডলোচুন শেষ চাষের সময় প্রয়োগ করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিন। মাটির উর্বরতা বা মাটি পরীক্ষা করে সার দিলে মাত্রা সে অনুপাতে কম বেশি করুন।


পরিচর্যা:


কাঁকরোলের গাছ ১০ -১৫ সেন্টিমিটার লম্বা হলে এর গোড়ায়  বাশেঁর কুঞ্চি বা কাটি পুঁতে দিতে হবে। এছাড়া গাছ ৫০ সেন্টিমিটার লম্বা হলে মজবুত করে মাচা তৈরি করে দিতে হবে।


পরাগায়নঃষ:


 কাকরোলে প্রাকৃতিকভাবে পরাগায়ন খুব কম হয়। তাই ভালো ফলনের জন্য কাকরোল ফুলের কৃত্রিম পরাগায়ন করতে হয়। ফুলের কৃত্রিম পরাগায়ন পদ্ধতি নিম্নরূপ-


সকাল ৬ টার দিকে সদ্য ফোটা পুরুষ ফুল বোটাসহ কেটে নিয়ে সতেজ রাখার জন্য ফুলগুলোর বোটা পানির ভেতর ডুবিয়ে ছায়াযুক্ত স্থানে রেখে দিতে হবে।

এরপর পুরুষ ফুলের পুংকেশর ঠিক রেখে পাঁপড়িগুলো ছিঁড়ে ফেলতে হবে। এতে কৃত্রিম পরাগায়নের কাজ সহজ হবে।

তারপর স্ত্রীফুলের গর্ভমুন্ডের ওপর পুরুষ ফুলের পুংকেশর বা পরাগধানির রেণু বা হলদে গুড়া খুব আস্তে আস্তে ২-৩ বার স্পর্শ করাতে হবে। এই কাজটি স্ত্রী ফুল ফোটার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই করতে হবে। এর ফলে গর্ভমুণ্ডে রেনু আটকে যাবে ও পরাগায়ন হবে। সাবধনতা অবলম্বন করলে ১ টি পুরুষ ফুল দিয়ে ৬-৭ টি স্ত্রী ফুলে কৃত্রিম পরাগায়ন সম্ভব।


রোগবালাই ও পোকামকড় দমন:


কাঁকরোল ক্ষেতে জাবপোকা, মাছিপোকা ও বিছাপোকা গাছের পাতা, ফুল ও ফল নষ্ট করে ফেলে। এছাড়া কচি কাণ্ডের রস শুষে নেয়।


এসব পোকার আক্রমণ হলে প্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে।


তবে চারা ঢলে পড়া,পাউডারি মিলডিউ ও মোজাইক হলে কচি গাছের গোড়া পচে যায়।  চারা ঢলে পড়া বোগের ক্ষেত্রে আক্রান্ত গাছ তুলে পুতে বা পুড়িয়ে ফেলতে হবে।


প্রথম ২টি ছত্রাকজনিত এবং শেষেরটি ভাইরাসজনিত রোগ।


সতর্কতাঃ 


বালাইনাশক/কীটনাশক ব্যবহারের আগে বোতল বা প্যাকেটের গায়ের লেবেল ভালো করে পড়ুন এবং নির্দেশাবলি মেনে চলুন। ব্যবহারের সময় নিরাপত্তা পোষাক পরিধান করুন। ব্যবহারের সময় ধূমপান এবং পানাহার করা যাবেনা। 


ফলনঃ জাতভেদে শতক প্রতি ফলন ৯৫ -১০০কেজি।


সংগ্রহঃ কচি অবস্থায় সংগ্রহ করা উচিত। ফুল ফোটার ১০-১২ দিন পর কাঁকরোল সংগ্রহের উপযোগী হয়। কাঁকরোল এমন পর্যায়ে সংগ্রহ করা উচিত যখন ফলটি পূর্ণ আকার প্রাপ্ত হয়েছে কিন্তু পরিপক্ক হয়নি।



কোন মন্তব্য নেই:

নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---

 নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস --- পরীর খাটটি বাংলাদেশের জাদুঘরে দেখে থাকলেও ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না। নাটোরের মহারানী ভব...