গান শুনে রিহানাকে ৭৪ কোটি দিয়েছেন মুকেশ আম্বানি, ১০০ টাকায় দেশবাসীকে ক্যান্সারের ওষুধ দিতে চলেছেন রতন টাটা
অকৃতদার। তাই সন্তান নেই। সুতরাং, পরিবারে বিয়ের আসর বসে না। তবে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে প্রায়ই ‘গেট টুগেদার’ হয়। রথী-মহারথীদের উপস্থিতিতে মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা রাখতে হয়। কিন্তু কোনওদিন শুনেছেন, বিখ্যাত কোনও শিল্পীর কয়েকটি গান শুনে কোটি কোটি টাকা দিয়েছেন শিল্পপতি রতন টাটা? না, শোনা যায় না। তা হলে কি তিনি কিপটে? আসলে রতন টাটার দর্শন সম্পূর্ণ আলাদা। অন্য কোনও শিল্পপতিদের সঙ্গে তাঁর দর্শন মেলে না। চাইলেই গান শুনতে ডেকে এনে রিহানাদের মতো শিল্পীদের কোটি কোটি টাকা দিতে পারেন। কিন্তু তিনি এমন ‘মোচ্ছব’ করেননি কোনওদিন। এখন দেশের মানুষকে মাত্র ১০০ টাকায় ক্যান্সারের ওষুধ দিতে চলেছেন তিনি। টাটা মেমোরিয়াল আবিষ্কার করে ফেলেছে ক্যান্সারের ওষুধ। এবার বাজারে আসার অপেক্ষা। এখানেই তিনি অন্য শিল্পপতিদের থেকে আলাদা। অনন্য।
শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির ছেলের বিয়েতে ‘মহোৎসব’ হচ্ছে গুজরাটের জামনগরে। অতিথিদের মনোরঞ্জনের জন্য হলিউড থেকে গান গাইতে এসেছেন শিল্পী রিহানা। তিনি এক রাতের পারফরম্যান্সের পারিশ্রমিক পেয়েছেন ৭৪ কোটি টাকা। মুকেশ-পুত্রের বিয়ের অন্যান্য খরচের কথা আলোচনা না করাই ভাল। বেশি ভাবলে আমাদের মতো ‘নুন আনতে পান্তা ফুরনো’ অবস্থাপন্নদের মাথা খারাপ হয়ে যাবে। মুকেশ আম্বানি দেশের এক নম্বর শিল্পপতি। তাই তাঁর সবকিছুই এক নম্বর হওয়ার মতো। প্রায়ই সমস্ত ক্ষেত্রের ‘হুজ হু’-দের নিয়ে তাঁকে বিভিন্ন আসর বসাতে দেখা যায়।
নিজের টাকা। সেই টাকা মুকেশ আম্বানি কীভাবে খরচ করবেন সেটা একান্তই তাঁর নিজস্ব ব্যাপার। টাকা পুড়িয়ে যদি তিনি শীতে ওম নেন তাও কিছু বলার নেই। নিজের টাকা থেকে রিহানাকে ৭৭ কোটি টাকা পারিশ্রমিক দিয়েছেন।‘টিপস’ হিসেবে আরও কয়েক কোটি দিতে পারতেন। কারও কিছু বলার নেই। তাও কিছু কথা বলছি। কারণ, মুকেশ আম্বানি যে দেশের মানুষ, সেই দেশে এখনও ৩০ শতাংশ মানুষ একবেলা ভাল করে পেটপুরে খেতে পায় না। কখনও শুনেছেন, দেশের গরিব মানুষের জন্য কিছু করেছেন মুকেশ আম্বানি?
মুকেশ আম্বানির পরিবারের এই ‘মোচ্ছব’ নিয়ে লিখছি বলে অনেকেই হয়তো বলবেন চোখ টাটাচ্ছে। হয়তো বলবেন, নিজের টাকা নিয়ে তিনি কী করবেন, তা নিয়ে আমাদের ভাবার দরকার কী। ঠিক কথা। ভাবার কোনও কারণ নেই। ধনী হওয়ার জন্য মুকেশ আম্বানির হাতে কি আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ আছে? আমার-আপনার মতো গরিবগুরবো-র টাকায় ধনী হচ্ছেন মুকেশ আম্বানি। জিও ফোন ব্যবহার করেন? নির্দিষ্ট টাকা দিলেও যথাযথ পরিষেবা পান? আপনার কাছ থেকে কিন্তু টাকা নেওয়া কম করেন না মুকেশ আম্বানি। তাই এত কিছু বলা। আর কোনও কারণ নেই।
রাজার ধন নিয়ে রাজা কী করবেন প্রজাদের ভেবে লাভ কী!
সংগৃহীত
কথায় গাঁথা সুরের মেলা
![]() |

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন