বন্দে আলী মিয়া
(১৫ ডিসেম্বর ১৯০৬ - ১৭ জুন ১৯৭৯)
"আমাদের ছোটো গাঁয়ে ছোটো ছোটো ঘর
থাকি সেথা সবে মিলে নাহি কেহ পর।
পাড়ার সকল ছেলে মোরা ভাই ভাই
একসাথে খেলি আর পাঠশালে তাই।
হিংসা ও মারামারি কভু নাহি করি
পিতামাতা গুরুজনে সদা মোরা ডরি।"
'আমাদের গ্রাম' কবিতার প্রথম কয়েক লাইন। এই কবিতাটি আমরা অনেকেই ছোটোবেলায় পড়েছি। কবিতাটির রচয়িতা কবি বন্দে আলী মিয়া। এই কবিকে আমরা প্রায় ভুলেই গেছি। বন্দে আলী পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম মুন্সী উমেদ আলী। তিনি ছিলেন পাবনা জজকোর্টের একজন কর্মচারী। বন্দে আলী ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, শিশু সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও চিত্রকর।
পাবনার মজুমদার একাডেমী থেকে ১৯২৩ সালে তিনি ম্যাট্রিক পাস করেন। তারপর তিনি কলকাতায় গিয়ে ভর্তি হলেন কলকাতা আর্ট একাডেমীতে। সেখান থেকে প্রথম বিভাগে তিনি উত্তীর্ণ হন। ১৯২৫ সালে 'ইসলাম দর্শন' পত্রিকায় শুরু করলেন সাংবাদিকতা। ১৯২৯ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন।
দেশ ভাগে তিনি খুবই দুঃখ পেয়েছিলেন। তাঁর অনেক লেখার মধ্যেই তাঁর এই বেদনা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি দেশ ভাগের আগেই ১৯৪৬ সালে তিনি প্রথমে ঢাকা বেতার কেন্দ্রে এবং পরে রাজশাহী বেতার কেন্দ্রে চাকরি করেন। সেখানে তিনি ছিলেন 'গল্পদাদু'। তিনি কলকাতার অনেক রেকর্ড কোম্পানির হয়ে পালাগান ও নাটিকা রেকর্ড করেন যেগুলো খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল।
'বসন্ত জাগ্রত দ্বারে' (১৯৩১) তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা। ১৯৩২ সালে তাঁর 'ময়নামতীর চর' কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এরপরই রবীন্দ্রনাথ লিখলেন, 'বাংলা সাহিত্যে তুমি আপন বিশেষ স্থানটি অধিকার করতে পেরেছ বলে আমি মনে করি।' তাঁর প্রায় সব কবিতাই ছিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত।
১৯৫৭ সালে তিনি প্রাইড অব পারফরম্যান্স পুরস্কার পান। ১৯৬২ সালে তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার পান ও ১৯৬৫ সালে তিনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭৮ সালে রাজশাহীর উত্তরা সাহিত্য মজলিস পুরস্কার পান। তাঁকে মরণোত্তর একুশে পুরস্কারও দেওয়া হয়েছিল। তা সত্বেও এ কথা বলাই যায় তাঁর প্রতিভার যথার্থ মূল্যায়ন আমরা করতে পারিনি।
১৯৭৯ সালের ১৭ জুন রাজশাহীতে তাঁর মৃত্যু হয়।
ছবি ও তথ্য: উইকিপিডিয়া এবং প্রথম আলো পত্রিকার সৌজন্যে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন