প্রণাম কবিগুরু
** কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
—- দান ( কবিতা )
( দান < বিচিত্রিতা < কবিতা ও গান < রবীন্দ্র-রচনাসমগ্র )
‘বিচিত্রিতা’-কাব্যের ‘দান’-কবিতার ছবিটি সুনয়না দেবীর আঁকা, আবেশময়ী এক নারী প্রস্ফুটিত পুষ্পসহ একটি পল্লবের দিকে মুগ্ধ বিস্ময়ের দৃষ্টিতে চেয়ে আছে । কবির চোখে ধরা পড়েছে এই নারী যেন রাত্রির শেষের তরুনী উষা, চোখে তার নব জাগরণের বিস্ময় ।
রাত্রি শেষে উষা জেগে উঠে দেখে যে তার শয্যায় তারই উদ্দেশে ফুলের ডালি কোন্ প্রেমিক রেখে গেছে । উষার অজ্ঞাতে সুপ্তি ঢাকা রাতে শুভ্র আলোর স্মরণে ফুলকে বাণীময় করেই অর্ঘ্য রেখে গেছে । এই প্রেম নিবেদনের প্রত্যুত্তরে স্তব্ধ মৌনী উষা কিছু বলুক —- কবি তা চান । —-
“ তোমার পাখির গানে
পাঠাও সে-অলক্ষ্যের পানে
প্রতিভাষণের বাণী,
বলো তারে-- হে অজানা, জানি আমি জানি,
তুমি ধন্য, তুমি প্রিয়তম,
নিমেষে নিমেষে তুমি চিরন্তন মম ।”
———- ০ ———-
হে উষা তরুণী,
নিশীথের সিন্ধুতীরে নিঃশব্দের মন্ত্রস্বর শুনি
যেমনি উঠিলে জেগে, দেখিলে তোমার শয্যাশেষে
তোমারি উদ্দেশে
রেখেছে ফুলের ডালি
শিশিরে প্রক্ষালি
কোন্ মহা-অন্ধকারে কে প্রেমিক প্রচ্ছন্ন সুন্দর ।
তোমারে দিয়েছে বর
তোমার অজ্ঞাতে
সুপ্তিঢাকা রাতে,
তব শুভ্র আলোকেরে করিয়া স্মরণ
আগে হতে করেছে বরণ ।
নিজেরে আড়াল করি
বর্ণে গন্ধে ভরি
প্রেমের দিয়েছে পরিচয়
ফুলেরে করিয়া বাণীময় ।
মৌনী তুমি, মুগ্ধ তুমি, স্তব্ধ তুমি, চক্ষু ছলোছলো —-
কথা কও, বলো কিছু বলো,
তোমার পাখির গানে
পাঠাও সে-অলক্ষ্যের পানে
প্রতিভাষণের বাণী,
বলো তারে —- হে অজানা, জানি আমি জানি,
তুমি ধন্য, তুমি প্রিয়তম,
নিমেষে নিমেষে তুমি চিরন্তন মম ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন