আপনাদের যাদের বাসায় রোদ ও নেই মাটি ও নেই তাদের জন্য নিয়ে এলাম মেথি শাক।
ঘরের মধ্যে শুধু পানিতে হবে।
মেথি শাক কেবল খেতেই সুস্বাদু নয়, পুষ্টিগুণের দিক থেকেও অনন্য এই ভেষজ। মেথি শাক ভাজি কিংবা ভর্তা ভাতের সঙ্গে খেতে পারেন। খুব সহজে এই শাক চাষ করতে পারেন বাসায়ই। এমনি মাটিও প্রয়োজন নেই মেথি শাক চাষে! ছাঁকনির মধ্যেই জন্মাবে মেথি গাছ। জেনে নিন কীভাবে ঘরে চাষ করবেন মেথি শাক।
মেথির বীজ সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন পানি ছেঁকে একটি ছড়ানো পাত্রে ভেজা বীজগুলো ছড়িয়ে দিন। একটি মোটা কাপড় ভিজিয়ে ঢেকে দিন পাত্রটি। উপরেও খানিকটা পানি স্প্রে করে দিন উপরে। এভাবে রেখে দিন একদিন। পরদিন কাপড় উঠিয়ে দেখুন বীজ থেকে বের হয়েছে শিকড়। এবার একটি প্লাস্টিকের ছাঁকনি নিন। ছাঁকনির নেট একটু বড় হবে। অঙ্কুরোদগম হওয়া বীজগুলো ছাঁকনিতে ঢেলে পানিসহ একটি বাটির উপর বসিয়ে দিন। এমনভাবে রাখতে হবে যেন পানি ছাঁকনির উপরে না ওঠে। ভেজা কাপড় দিয়ে ঢেকে দিন ছাঁকনি। পরদিন কাপড় তুলে দেখুন ছাঁকনির নিচ দিয়ে শিকড় বেরিয়ে গেছে। আবারো ঢেকে পানি ছিটিয়ে দিন। তিন দিন এভাবে রাখুন। মাঝে মাঝে কাপড়ের ওপর পানি স্প্রে করতে হবে। তিন দিন পর দেখবেন সবুজ গাছে পূর্ণ হয়ে গেছে পুরো ছাঁকনি। প্রতিদিন সকালে কিছু সময়ের জন্য রোদে দিন মেথি গাছ। এতে দ্রুত বাড়বে গাছ। ৮ থেকে ১০ দিন পর মেথি শাক প্রস্তুত হয়ে যাবে খাওয়ার জন্য। আপনি চাইলে মটি/কোকোপিট এ মেথি বীজ লাগিয়েও মেথি শাক চাষ করতে পারেন।
শরীর সুস্থ রাখতে খাবারের তালিকায় রাখতে হবে শাক-সবজি। এই তালিকায় অনেক শাক-সবজির ভেষজ রয়েছে যা খেলে সুস্থ থাকা যায়। তেমনি একটি উপাদান হচ্ছে মেথি। মেথি প্রাকৃতিক উপাদান যা শরীর সুস্থ রাখে। মেথির গুণাগুণ সম্পর্কে আমরা অনেক জানলেও এর পাতার গুণ সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি না। মেথি শাকের গুণাগুণ-
☘️ওজন কমায়: মেথি শাক মানেই হাই ফাইবার। সঙ্গে আরও অনেক পুষ্টি। বেশি ফাইবার থাকায় অনেকক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে এমনিতেই খাওয়ার পরিমাণ কমে যায়। ফলে ওজনও ঝরে।
☘️কোলেস্টেরল: কোলেস্টেরলের ক্রমাগত বাড়ার কারণে বিভিন্ন সমস্যা হয়ে থাকে। এই শাক খুব সহজেই কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
☘️সুগার কমায়: শুধু কোলেস্টেরল নয়, রক্তে চিনির মাত্রাও বাড়তে দেয় না এই শাক। যারা ডায়াবেটিসে ভোগেন তারা এই শাক খেলে উপকার পাবেন।
☘️ত্বক ভালো রাখে: এই শাকে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ত্বকের নীচে জমে থাকা ফ্রি-মেডিক্যাল কমিয়ে ত্বকে আনে বাড়তি জেল্লা। সেই সঙ্গে অন্য ভিটামিন ত্বকের অনেক সমস্যা কমায়। খাওয়ার পাশাপাশি এই শাকের পেস্ট মুখে মাখলেও অনেক উপকার পাবেন।
☘️হজমশক্তি বাড়ায়: হজমশক্তি বাড়ায় এই শাক। নিয়মিত পেট পরিষ্কার হওয়ায় খিদে বাড়ে। বদহজম, অম্বলও কমে এই শাকের গুণে।
😀ইউরিন ক্লিয়ার: ফাইবার, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, ভিটামিনে ভরপুর এই শাক খেলে ইউরিন ক্লিয়ার হয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন