এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৫

চিনি আর সাদা ময়দাকে বলা হয় 'সাদা বিষ'।

 চিনি আর সাদা ময়দাকে বলা হয় 'সাদা বিষ'। বাসায় ময়দা বাদ দিয়েছি বহুদিন, ২০১৯ থেকেই বাসায় লাল আটা আনা হয়। লাল আটা দিয়ে কাপকেক বানিয়েও দেখেছি, স্বাদ একই। আর কোকো পাউডার দিলে তো কথাই নাই, চেহারাও দারুণ হয়ে যায়। বুঝাই যায় না, লাল আটা দিয়ে বানানো। 


এবার চিনি। রঙ চায়ে চিনি খাই না ২০০৩ থেকে, কালেভদ্রে দুধচা খেলেও তাতে সামান্য দিই। তো, বাচ্চারা শিখেছে আলহামদুলিল্লাহ দেখে দেখে। রঙ চায়ে চিনি খায়ই না। ওদের বাবা দেখেও শিখেন নাই, আস্তে আস্তে কমাতে থাকলাম। শুরুতে এক চা চামচ খেতেন, তিন চার বছর ধরে এমন মাত্রায় কমানো হল যে নিজেই না করলেন, চিনি দিলেই নাকি বরং খারাপ লাগে। কিন্তু চিনি মহাশয় তো রান্নাঘরে থাকেনই, কীভাবে কীভাবে খরচও হয়। মূল খরচ হত সকালের সেমাই বানাতে। সকালের হুড়াহুড়ির সময়ে রুটি খাওয়া ঝামেলার, বাচ্চারা সেমাইয়ে মুড়ি দিয়ে খেয়ে স্কুলে যেতো। আর ওদের বাবা রুটি দিয়ে সেমাই খেতেন। উনিই ২০২০এ বললেন, শুধু দুধটাই খাই, সেমাই টেমাই বাদ। শুরুতে বাচ্চাদের একটু চিনি দিতাম এক মগ দুধে, আস্তে আস্তে কমাতে কমাতে সেটা শূণ্য করে ফেলা গেছে। ব্যাস। 


কিন্তু মেহমান আসলে কী করব? একটা মিষ্টি কিছু ত করতেই হয়। নিজেরা মিষ্টি নাস্তা খাই না, বানাই না, কাপকেক কালেভদ্রে। পাশেই ছিলো তখন খিলগাঁও বাজার, খাঁটি খেজুর গুড় পাওয়া যায়। আস্তে আস্তে গুড়ের ব্যবহার করতে থাকলাম। পায়েশ এবং আচার, এই দুই চিনির মূল কাস্টোমারকে গুড় দিয়ে বেশি মজা করা যায়। পরিমাণেও লাগে অল্প। আস্তে আস্তে মাসে এক কেজি চিনি হলে চলছিলো। 


২০২৩ শুরু হল নতুন বাসায় এসে। আগের রান্নাঘরে প্যানট্রি তো বটেই, আস্ত ফ্রিজই ছিলো। এখানে এসে প্যানট্রিকেও রান্নাঘরের বাইরে জায়গা দিতে হচ্ছিলো। এ সুযোগে চিনির বয়ম এক ধাক্কায় রান্নাঘর থেকেই আউট করে দিলাম। ফলাফল। ২০২৪ এ আমাদের চারজনের বাসায় চিনি (আখের চিনি, লাল চিনি বলে যেটাকে) লেগেছে মাত্র এক কেজি, সাথে গুড় চার কেজি। গুড়ের অর্ধেকটা গেছে আচার বানাতে। খাওয়া হয়, দেওয়াও হয়, আচার একটু বেশিই করি। ২৪এর শুরুতে খোলা চিনির প্যাকেট এতোদিন ছিলো। আজকে আর এক প্যাকেট খুললাম, দেখি ২৫ যায় কি না। 


সালগুলো দিলাম ইচ্ছে করেই। এম্নিতে আমি সংখ্যা দিয়ে স্মরণ রাখি বেশি। এক স্টাডি সার্কেলে এক প্রফেসর একবার বলেছিলেন, ইউ আর গুড উইথ নাম্বারস!যা হোক, সময়কাল লিখার কারণ হল, সময় নিয়ে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনলে সে পরিবর্তন টেকসই হয় বেশি। ক্রেভিং, শো অফ, সেলিব্রেশন, ইত্যাদির মোহ কাটিয়ে উঠতে গেলে মাথাকে একটু সময় দিয়ে বুঝানোই ভালো। 


আর দুইটা অভ্যাস বদলানো নিয়ে লিখবো ইনশা আল্লাহ। রান্নার তেলের ব্যবহার, আর হাড়িপাতিল। 

#নীলজোসনার_রান্নাঘর (বহুদিন পর এই হ্যাশট্যাগে লিখে যারপরনাই ভালো লাগছে। আলহামদুলিল্লাহ!)

কোন মন্তব্য নেই:

নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---

 নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস --- পরীর খাটটি বাংলাদেশের জাদুঘরে দেখে থাকলেও ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না। নাটোরের মহারানী ভব...