স্বাধীন ভারতে বাংলার ইতিহাসে একমাত্র রঞ্জিজয়ী অধিনায়ক হয়ে রয়ে গেলেন। এখনও পর্যন্ত।তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য যখন তিনি উইকেটের পিছনে গ্লাভস হাতে দাঁড়াতেন তখন তাঁর হয়ে গলা ফাটানোর জন্য কোনও জাতীয় নির্বাচকের নাম সম্বরণ ব্যানার্জি ছিল না। যদি সৈয়দ কিরমানিকে বাদ রাখা যায় সংশয়াতীত ভাবে সেই সময় দেশের সেরা উইকেটরক্ষক বাংলার সম্বরণ ব্যানার্জি। একজন দক্ষ উইকেটরক্ষকের যেসব গুণ থাকার কথা সব ছিল তাঁর
মনঃসংযোগ, ফিটনেস, ‘বল সেন্স’ ও অনুমানক্ষমতা। সম্বরণ ব্যানার্জির মধ্যে এই চারটি গুণের প্রতিটিই ছিল। ধারাবাহিকতাই ছিল তাঁর আসল অস্ত্র।
১৯৮১ সালে ভারতীয় দলে প্রায় সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন। সেই সময়ে উইকেটের পিছনে সেরা ছিলেন সম্বরণ। কিন্তু জাতীয় দলের দরজা খোলেনি। দাত্তু ফাডকরদের নির্বাচক কমিটির কাছে উপেক্ষাই পেয়েছেন। অথচ সম্বরণ ব্যানার্জির পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন অযোগ্য কিছু উইকেটরক্ষক।
জাতীয় দলে না খেলার যন্ত্রনা সম্বরণ ব্যানার্জি পুষিয়ে নিয়েছিলেন পূর্বাঞ্চল থেকে জাতীয় নির্বাচক হওয়ার পরে। যে কায়দায় সৌরভ গাঙ্গুলি কে ভারতীয় দলে ঢুকিয়েছেন সেই ইতিহাস সর্বজনবিদিত। গুণ্ডাপা বিশ্বনাথ হেসেছিলেন যখন সম্বরণ সৌরভকে ১৯৯৬ ইংল্যান্ডগামী দলে ঢোকাতে অলরাউন্ডারের তাস বের করেন। পূর্বাঞ্চল থেকে কাকে না তিনি সুযোগ করে দিয়েছেন। সৌরভ থেকে সাবা করিম,প্রশান্ত বৈদ্য,উৎপল চ্যাটার্জি। দেবাশিস মোহান্তি জীবনে ভারতীয় দলে সুযোগ পেতেন না যদি সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় নির্বচক না হতেন। নিশ্চিত ভাবে একটা সময় গিয়েছে যখন বাংলা তথা পূর্বাঞ্চলের প্রতিশ্রুতিবান ক্রিকেটারের নাম শুনলে জাতীয় নির্বাচকরা আড়ালে আবডালে হাসাহাসি করতেন।
যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বাংলার অনেক ক্রিকেটারের জন্য কোনওদিন জাতীয় দলের দরজা খোলেনি।
সম্বরণ ব্যানার্জি একমাত্র নির্বাচক যিনি সংশয়াতীত ভাবে পূর্বাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করা শ্রেষ্ঠ জাতীয় নির্বাচক যাঁকে যোগ্য মনে করেছেন তাঁকে ভারতীয় দলে খেলার সুযোগ করে দিয়েছেন। অবশ্য সৌরভ গাঙ্গুলি যেমন সম্বরণ ব্যানার্জির সৌজন্যে ভারতীয় দলে ঢুকে নিজের যোগ্যতায় অধিনায়ক হয়েছেন। একদিনের ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যতম সেরা ওপেনার ছিলেন। টেস্ট ক্রিকেট খেলেছেন দাপটে। কিন্তু সৌরভের উত্তরসূরী হিসেবে সেভাবে কেউ উঠতে পারলেন না। মনোজ তিওয়ারির মধ্যে যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিল একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভারতের হয়ে সেঞ্চুরি করেও ভবিষ্যতে সুযোগ পাননি। যেমন উৎপল চ্যাটার্জি যেকোনও দিনে বেঙ্কটাপতি রাজুর চেয়ে একশো গুণ ভাল স্পিনার কিন্তু তাঁর হয়ে কোনও আজাহারউদ্দিন ছিলেন না। ঋদ্ধিমান ঢাকা পড়লেন মহেন্দ্র সিং ধোনির ছায়ায়। সেভাবে সুযোগ পেলেন না যেটুকু পেয়েছেন প্রমাণ করে দিয়েছেন তিনি ছিলেন বিশ্বসেরা উইকেটরক্ষক।
১৯৮৯/৯০ মরশুমে যেবার বাংলা শেষ রঞ্জি ট্রফি জিতেছিল সেই দলের অধিনায়ক সম্বরণ ব্যানার্জি ।
স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর বাংলার প্রথম ও একমাত্র রঞ্জি ট্রফি জয়ে ম্যাচ জেতানো অপরাজিত ৫২রানের ইনিংস খেলেছিলেন অরুণলাল। এখনকার ডার্কওয়াথ-লুইস সিস্টেম যেমন অনেকের মাথায় ঢোকেনা,তেমন 'কোশেন্ট'-এর বৃষ্টিবিঘ্নিত রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে বাংলা হারিয়ে দিয়েছিল তখনকার ক্রিকেটে পাওয়ার হাউজ দিল্লিকে৷ ফাইনালে দিল্লির ২৭৮ রানের জবাবে বাংলার স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ২১৬, অরুণলাল অপরাজিত ৫২ ৷ সেই সময় ভারতীয় দলের অন্যতম সেরা পেসার মনোজ প্রভাকর,কীর্তি আজাদ,অতুল ওয়ালসন সমৃদ্ধ দিল্লিকে হারিয়ে বাংলাকে দীর্ঘদিন পর রঞ্জি জয়ের মধুর স্বাদ পাইয়ে দিয়েছিলেন সম্বরন বন্দ্যোপাধ্যায়,অরুণ লাল,অশোক মালত্রোহা,সৌরভ গাঙ্গুলি,দত্তাত্রেয় মুখোপাধ্যায়,রাজীব শেঠ,উৎপল চ্যাটার্জি,শরদিন্দু মুখার্জি৷ ক্রিকেটার সম্বরণ ব্যানার্জি চমৎকার ক্রিকেট বিশ্লেষক। আসলে ক্রিকেট খেলাটা তিনি খুব ভাল বোঝেন। সমসাময়িক সময়ের ভারতীয় কিংবা বাংলা দলের কেন জাতীয় স্তরের প্রতিশ্রুতিবান সব খেলোয়াড়ের খবর তাঁর নখদর্পণে।
ক্রিকেট তাঁর জীবনের সব কিছু হলেও কলকাতার প্রাণের জিনিস ফুটবল। ছোটবেলায় ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ দেখার জন্য কত বার মাঠে ছুটে গিয়েছেন ।উত্তর কলকাতা টানত নাটকের জন্য। শোভাবাজারের রংমহলে বহু বার গিয়েছেন নাটক দেখার নেশায়। সম্বরণের কলমে অতীত থেকে বর্তমান দিনের ক্রিকেট, ক্রিকেটারদের কথা উঠে আসে। কিন্তু বাংলার রঞ্জি জয়ী অধিনায়ক,এক সময়ে সফল জাতীয় নির্বাচক, দেশের অন্যতম সেরা উইকেটরক্ষক সম্বরণ ব্যানার্জির কথা কিন্তু কারও কলমে উঠে আসতে দেখা যায় না! নাকি আমাদের দেখার ভুল!
কলমে ✍🏻 অরুণাভ সেন।।
© ধ্রুবতারাদের খোঁজে
#SambaranBanerjee
#nationalselector
#RanjiTrophy
#EdenGardens
#Bengal
#BengalCricketTeam
#BCCI
#SouravGanguly
#IndianCricketTeam
#dhrubotaraderkhonje
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন