“বাবায় কইছে, আমারে বাল্যশিক্ষা বই কিন্না দিবে’-
ঐতিহাসিক সেই গানের কথা আজ অনেকেই হয়ত ভুলে গেছেন। এখন অধিকাংশ বাবা বাল্যকালেই তার সন্তানের হাতে বইয়ের পরিবর্তে তুলে দিচ্ছেন মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য ডিভাইস। তাই হারিয়ে গেছে বাল্যশিক্ষা ও আদর্শলিপি বইয়ের প্রচলন। ফলে বর্তমান প্রজন্ম শিশুকালের একসময়ে বহু পরিচিত বইয়ের নাম আজ ভুলে গেছে।
আমার বা আমাদের শৈশবে বর্নমালায় হাতেখড়ি এই বাল্যশিক্ষায়।ছোট্র এই বইটির কয়েকটি পৃষ্টাতেই গড়েছিলো শিক্ষা জীবনের বুনিয়াদ।আমাদের শেকর ঐ বাল্যশিক্ষাতে হলে আমরা সেই শৈশবের শিক্ষাটুকুও ধারন করতে পারিনি।একটা বাল্যশিক্ষার শিক্ষাটুকু একটা মানুষকে সারাজীবন আলোকিত রাখতে পারে।হিতোপদেশ গুলো আজো মনে পড়ে, কিন্ত বাস্তব জীবনে প্রতিফলন প্রতিপালন করা সম্ভব হয়নি।যদি হতো তবে আজকের সমাজের নৈতিক অবক্ষয় এভাবে দেখতে হতোনা।
আমরা আমাদের নৈতিক অবক্ষয় ঠেকাতে আবারো ফিরতে চাই রামসুন্দর বসাক প্রনীত সেই বাল্যশিক্ষায়।যে বাল্যশিক্ষায় মিশে আছে মানব জীবনের অমিয় শিক্ষা।
১৮৭৭ সালে প্রথম প্রকাশ হয়ে যে আলো জ্বলে উঠেছিলো প্রায় দেড়শত বছর পরও সে আলো এতটুকু ম্লান হয়নি।
বইটির প্রতিটি পৃষ্ঠা প্রতিটি বাক্য বা অক্ষরে মিশে আছে বাবা মায়ের স্মৃতি। কুপি বাতির আলোতে চট বিছিয়ে বাবা আঙ্গুলে ধরে ধরে অ আ শেখানো,পাশে বসে মায়ের হাত পাখার বাতাস, সব মনে পড়ে।বিছানায় শুয়েও মা পড়াতেন অ-অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করো।
নৈতিকতার মূল ভীত রচিত হয়েছিলো।
নিকলী পরিক্রমা
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন