ডেভিলস ব্রেথ বা শয়তানে নিঃশ্বাস
প্রতিদিন অহরহ ঘটে চলেছে কিছু ঘটনা। ‘ডেভিলস ব্রেথ ’ চক্রের সদস্যেরা মানুষকে সম্মোহন করে সবকিছু নিয়ে যাচ্ছে; কেউ’ অথবা আপনি কারো কথামত সবকিছু তার হাতে তুলে দিচ্ছেন কোনরকম প্রতিবাদ না করেই।
এটি হেলুসিনেটিক ড্রাগ। যা নাক বা মুখের কাছে নিলেই স্বেচ্ছায় সব কিছু বিলিয়ে দেন ভুক্তভোগীরা। এটি মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। এর প্রভাব এতটাই ভয়ংকর যে, কোনো ব্যক্তিকে সেকেন্ডেই নিজের নিয়ন্ত্রণে অনায়াসেই আনা যায়। তাতে অন্যের আদেশ পালন করতে বাধ্য করানোই হয়। ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি কাছাকাছি গেলেই নিশ্বাসে ওটি টেনে নিয়ে যাবে। এই কাগজে কি লেখা আছে, আপনি কি পড়ে আমাকে জানাতে পারবেন?। এরকম নানাভাবে ও নানা কৌশলে এটি প্রয়োগ করা হয়। যেমন, হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে, ঘ্রাণের মাধ্যমে, খাবারের সঙ্গে, চিরকুটের মাধ্যমে, কোমল পানীয় এর সঙ্গে, বাতাসে ফুঁ দিয়ে করা যায়। এটা হাতে ঘষে দিলে বা মুখে ফুঁ মাইরা দিলে ভিক্টিম ঐ ব্যক্তির কথামতো চলতে শুরু করেন।
দক্ষিণ আমেরিকার বহু অপরাধের জন্য দায়ী এই ডেভিলস ব্রেথ, বা স্কোপোলামিন। বেশ কয়েকবছর আগে প্যারিসে রাস্তার ডাকাতিতে এর ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল।ডেভিলস ব্রেথ মূলত কলম্বিয়ার একটি গুল্মজাত উদ্ভিদ “বোরাচেরো”-র ফুল থেকে প্রাপ্ত। এই উদ্ভিদের বীজ থেকে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় “বুরানডাঙ্গা” নামের এক যৌগ তৈরি হয়,। প্রাচীন আমলে দক্ষিণ আমেরিকার আদিবাসীরা এটি তাদের আধ্যাত্মিক আচার-অনুষ্ঠানে ব্যবহার করত। দক্ষিণ আমেরিকার কলম্বিয়া ও ইকুয়েডরে এটি ব্যবহার করে ডাকাতি, খুন এবং ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কলম্বিয়ার বোগোটায় প্রায় অর্ধেক জরুরি চিকিৎসা সংক্রান্ত কেস হল বুরানডাঙ্গা বিষক্রিয়ার জন্য।
উৎপত্তি ল্যাটিন আমেরিকার কলম্বিয়ায় তবে ইকুয়েডর ও ভেনিজুয়েলাতেও এই মাদকটির যথেষ্ট বিস্তার রয়েছে।
ড্রাগটি দেখতে হুবহু কোকেন পাউডারের মতই সাদা
মাত্র ১ গ্রাম স্কোপোলামিন দিয়ে প্রায় এক ডজনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা সম্ভব!
প্রতিরোধ:
অপরিচিত বা নতুন পরিচিতদের দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা। সম্ভব হলে বড় দলের সঙ্গে ভ্রমণ করা এবং অজানা ব্যক্তির সঙ্গে একা কোথাও না যাওয়া।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন