এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ, ২০২৫

এবামেকটিন গ্রুপের বালাইনাশক।

 এবামেকটিন গ্রুপের বালাইনাশক।


কৃষিক্ষেত্রে এবামেকটিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বালাইনাশক। যদিও এটি মাকড়নাশক হিসেবে পরিচিত, তবে বিভিন্ন ধরনের পোকা দমনেও এটি খুব কার্যকরী ভূমিকা রাখে। নিচে ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।


এবামেকটিন গ্রুপের কীটনাশক পরিচিতি ও ব্যবহার:


এবামেকটিন মূলত বহুল ব্যবহৃত কীটনাশক, যেটি অ্যারবামেকটিন পরিবারের সদস্য আইভারমেকটিন (উকুননাশক) থেকে পৃথক করা হয়েছে। এবামেকটিন একাধারে Insecticide- কীটনাশক, Acaricide- মাকড়নাশক এবং Newmatiocide- কৃমিনাশক হিসেবে কাজ করে।


কাজের ধরন


এটি স্পর্শক এবং পাকস্থলীয় গুণসম্পন্ন হওয়ায় পোকা-মাকড়ের গায়ে পড়লে পোকা মারা যায় এবং প্রয়োগকৃত গাছ-পালা পোকায় ভক্ষণ করলেও তা মারা যায়।


স্থানীয়ভাবে অনুপ্রবেশ করার ক্ষমতা থাকায় ডগা ও ফলের ভেতরে অবস্থিত পোকাও বাঁচতে পারে না।


এছাড়াও এটি ট্রান্সলেমিনার গুণসম্পন্ন হওয়ায় উপরে স্পে করলে পাতার এপিডার্মিস স্তর ভেদ করে নিচে চলে আসে। নিচে অবস্থানরত মাকড় রস শোষণ করলেও মারা যয়।


এর কার্যকারিতা অন্যান্য সাধারণ কীটনাশকের চেয়ে কিছুটা বেশি দিন স্থায়ী থাকে।


ব্যবহারবিধি


কৃষিক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে। বিভিন্ন পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থেকে গাছকে রক্ষা করার জন্য এটি প্রয়োগ করা হয়। যেমন:


Miticide বা মাকড়নাশক


Miticide বা মাকড়নাশক হিসেবে এটির ব্যবহার সর্বোচ্চ হয়ে থাকে। বিভিন্ন সবজি যেমন- শসা, করলা, ঝিঙা ইত্যাদি সকল কুমড়া জাতীয় ফসল, বেগুন, ঢেড়স, মরিচ, কচু এবং বিভিন্ন ফল গাছ যেমন- পেঁপে, লিচু, নারিকেল, মাল্টা ইত্যাদি সকল প্রকার ফসলে অতি ক্ষুদ্র লাল মাকড় বা মাইট আক্রমণ করে। এই মাকড় ভাইরাসের পেঁপে একটি বাহক এবং এটির আক্রমণে গাছের পাতা প্রথমত নিচের দিকে কুঁকড়ে যায় এবং পরবর্তীতে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গাছ নষ্ট হয়ে যায়। নারিকেলের ত্বক নষ্ট হয়ে যায় এবং ফাটল ধরে। এই মাকড় দমনের জন্য আনুমানিক ৯৫% কৃষক এবামেকটিন ব্যবহার করে থাকেন। গাছকে ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে সুস্থ-স্ববল নীরোগ রাখার জন্য এবামেকটিনের গুরুত্ব বলার অপেক্ষা রাখে না।


এছাড়া ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা, ল্যাদা পোকা, জাব পোকা ও কৃমি নাশক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।


বানিজ্যিক নাম কোম্পানি


টক্সিমাইট ১.৮ ইসি  স্কয়ার


সানমেকটিন ১.৮ ইসি  অটো ক্রপ কেয়ার


একামাইট ১.৮ ইসি এসি আই ক্রপ কেয়ার


লাকাদ ১.৮ ইসি  ইনতেফা


লিকার ১.৮ ইসি করবেল ইন্টারন্যশনাল


সানটেক ১.৮ ইসি Raven Agro C.I


এবোম ১.৮ ইসি ম্যাকডোনাল্ড


অ্যামবুশ ১.৮ ইসি হেকেম বাংলাদেশ


ভার্টিমেক ১.৮ ইসি সিনজেনটা


প্রয়োগ মাত্রা:


সাধারণত সবজির ক্ষেত্রে ১০ লিটার পানিতে ১২ মিলি মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হয়। তবে চা, পাট, বেগুন, বিভিন্ন ফল গাছ ইত্যাদির ক্ষেত্রে ১০ লিটার পানিতে ২০-২৫ মিলি মিশিয়ে স্প্রে করতে হয়।


বিষাক্ততা


এবামেকটিনকে পরিবেশবান্ধব বলা যায়। মৌমাছির জন্য এটি খুব কম বিষাক্ত তবে যদি তারা এটি খেয়ে নেয় অথবা সরাসরি তাদের গায়ে স্প্রে করা হয় বা সংস্পর্শে আসে তাহলে মারা যেতে পারে।

স্প্রে করার ২৪ ঘণ্টা পর এটি মৌমাছির জন্য আর বিষাক্ত হয় না।


ক্রস প্রতিক্রিয়া


অন্যান্য সাধারণ কীটনাশকের সাথে মিশিয়ে স্প্রে করা যায়। তবে এটিকে ছত্রাকনাশকের সাথে মেশাতে নিষেধ করা হয়ে থাকে।

কোন মন্তব্য নেই:

নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---

 নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস --- পরীর খাটটি বাংলাদেশের জাদুঘরে দেখে থাকলেও ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না। নাটোরের মহারানী ভব...