কোনোদিন ঘন জঙ্গলের মধ্যে ঘুরতে ঘুরতে এরকম জিনিস দেখতে পেলে একবারের জন্য হলেও একটু থমকে দাঁড়াবেন।গাছের জগতের একটা অমীমাংসিত রহস্য এই "ক্রাউন সাইনেস"।
এই ক্ষেত্রে জঙ্গলের একটা গাছ অন্য গাছকে স্পর্শ করতে চায় না। তাই একজনের ক্যানোপি অন্যজনের থেকে একটু দূরে থাকে। নিচে থেকে দেখলে মনে হয় যেন কেউ নিপুণভাবে প্রুনিং করে একটা গাছ থেকে পাশের গাছটি থেকে আলাদা করে রেখেছে।
এই জিনিসটির জগতের কাছে তুলে ধরেন একজন অস্ট্রেলিয়ান বনবিদ নাম M.R.Jacobs, সালটা ১৯৫৫। বেশ কিছু গাছ এইরকম বিহেভিয়ার দেখায় যেমন ইউক্যালিপটাস, পাইন... কোনোদিন লাভা বেড়াতে গেলে পাইনের জঙ্গলে খুঁজে দেখবেন ।
কতোদিন বেড়াতে যাইনি... জঙ্গল আমার খুব প্রিয় জায়গা। গভীর জঙ্গলে এক সুগভীর শান্তি আছে। জানি না আপনাদেরও এরকম মনে হয় কিনা ...তবে খুব গভীর জঙ্গলে ঢুকলে হঠাৎ করেই কেমন যেন মনটা শান্ত হয়ে আসে ...
কোনো একটা গিরগিটির শুকনো পাতার ওপর দিয়ে সরসর করে চলে যাওয়া...নাম না জানা পাখির হঠাৎ করে ডেকে ওঠা....সে এক অন্য দুনিয়া।
কদিন ধরেই মনটা অশান্ত হয়ে আছে।মন খারাপ এর দিনে খুব জঙ্গলে যেতে ইচ্ছা করে ।
ঠিক সন্ধ্যা নামার মুখে কোনোদিন যদি গভীর জঙ্গলে যান দেখবেন পৃথিবীটা কী সুন্দর । অনেকে বলবেন যদি বাঘে খেয়ে নেয় বা যদি সাপে কামড় দেয়....কিন্তু সন্ধ্যে নামার মুখে জঙ্গল এতো সুন্দর হয়ে যায় যে মনে হয় একদিন তো মরতেই হবে.. বাঘে খেলে খাক না..ক্ষতি নেই।
প্রতিটা মানুষেরও কোনো না কোনোদিন এই ক্রাউন সিকনেস আসে... সেই দিনগুলো কাউকে স্পর্শ করতে ইচ্ছা হয় না।
যাইহোক যেটা বলছিলাম ... গাছের এই ক্রাউন সাইনেস এর রহস্য আজও অমীমাংসিত। অনেক বলেন গাছ গুলো যাতে সবাই ভালো করে আলো পায় তাই এরকম বিহেভিয়ার দেখায়...কেউ বলে যাতে পোকামাকড় কম হয় তাই এরকম হয়। কিন্তু কীভাবে একটা গাছ পাশের গাছটার সাথে কমিউনিকেট করে সেটার রহস্য আজও আছে।
অনেকে বলেন গাছ পাতার সাহায্যে কেমিকাল সিগন্যাল পাঠায়। কিন্তু কীভাবে পাঠায় সেটা অজানা । সব মিলিয়ে এটা একটা রহস্য....
একটা জঙ্গলের আনাচে কানাচে এরকম হাজারো রহস্য থাকে। কতো রকমের গাছ...আমার আবার বুনো গাছের ওপর ছোটবেলা থেকেই টান... নরমাল গাছের থেকে বোধহয় বুনো গাছ বেশি ভালো চিনি।
কোনোদিন যদি আমার সাথে জঙ্গলে যান, হয় অতিষ্ঠ হয়ে যাবেন নয়তো আমাকে খুব ভালবেসে ফেলবেন। জঙ্গলে গেলেই আমি বিশাল বড়ো একটা গাছ হয়ে যাই....
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন