কলা খেলে শিশুর ঠান্ডা লাগে – কতটা সত্য?
অনেক অভিভাবক মনে করেন কলা খাওয়ার ফলে শিশু ঠান্ডা বা সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়, কিন্তু এটির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি খুবই কম। তবে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এটি কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। আসুন বিস্তারিত দেখি –
কলার প্রকৃতি ও শিশুর শরীরের প্রভাব
• কলা একটি ঠান্ডা প্রকৃতির ফল (According to Ayurveda and traditional beliefs)।
• কলা খেলে শরীর কিছুটা শীতল অনুভব করতে পারে, বিশেষ করে রাতে খেলে বা ঠান্ডা আবহাওয়ায়।
• এটি শ্লেষ্মা উৎপাদন বাড়াতে পারে, তাই যদি শিশুর আগে থেকেই সর্দি থাকে, তবে শ্লেষ্মা কিছুটা বাড়তে পারে।
কলা সরাসরি ঠান্ডা বা সর্দি-কাশি সৃষ্টি করে না কারণ –
* কলায় প্রচুর পটাশিয়াম, ফাইবার ও ভিটামিন সি থাকে, যা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
* কলার কোনো প্রমাণিত রাসায়নিক উপাদান নেই, যা ঠান্ডা বা ইনফ্লুয়েঞ্জা সৃষ্টি করতে পারে।
* বিশ্বের অনেক দেশে কলা বাচ্চাদের আদর্শ খাবার হিসেবে গণ্য করা হয়।
কখন শিশুকে কলা খাওয়ানো এড়িয়ে চলা ভালো?
• যদি শিশুর আগে থেকেই ঠান্ডা, কাশি বা শ্বাসকষ্ট থাকে, তবে কলা খেলে শ্লেষ্মা সামান্য বাড়তে পারে।
• রাতে বেশি পরিমাণে কলা না খাওয়ানো ভালো, কারণ এটি হালকা শীতল অনুভূতি দিতে পারে।
• ঠান্ডা পরিবেশে খুব ঠান্ডা কলা বা ফ্রিজের কলা খাওয়ানো এড়িয়ে চলুন, কারণ এটি গলায় অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
•
শিশুকে কখন কলা খাওয়ানো যাবে?
* দিনের বেলায় বা সকালের নাস্তায় খাওয়ানো ভালো।
* গরম দুধ বা গরম খাবারের সাথে দিলে ঠান্ডা অনুভূতি কম হবে।
* কলা গরমকালে শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
কোন বয়সের শিশুকে কখন কলা খাওয়ানো উচিত?
* ৬ মাসের পর থেকে কলা খাওয়ানো যায় (ম্যাশ করে বা পেস্ট বানিয়ে)।
* ১ বছরের পর ছোট ছোট টুকরো করে খাওয়ানো নিরাপদ।
* স্কুলগামী শিশুর জন্য পারফেক্ট স্ন্যাকস।
কলার পুষ্টিগুণ ও উপাদানের তালিকা (প্রতি ১০০ গ্রাম কলায়)
পুষ্টি উপাদান- পরিমাণ- উপকারিতা
শক্তি (ক্যালরি) ৮৯ ক্যালোরি দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে
প্রোটিন ১.১ গ্রাম পেশি গঠনে সাহায্য করে
চর্বি (Fat) ০.৩ গ্রাম খুবই কম, তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে উপকারী
কার্বোহাইড্রেট ২২.৮ গ্রাম তাৎক্ষণিক শক্তির ভালো উৎস
ফাইবার ২.৬ গ্রাম হজমে সহায়ক, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে
চিনি (Natural Sugar) ১২.২ গ্রাম প্রাকৃতিক মিষ্টতা, রিফাইন্ড সুগারের বিকল্প
ভিটামিন সি ৮.৭ মি.গ্রা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
ভিটামিন বি৬ ০.৪ মি.গ্রা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়, হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে
ফোলেট (Vitamin B9) ২০ মাইক্রোগ্রাম কোষ বিভাজনে সহায়ক, গর্ভবতী নারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
পটাশিয়াম (K) ৩৫৮ মি.গ্রা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী
ক্যালসিয়াম (Ca) ৫ মি.গ্রা হাড় ও দাঁতের গঠনে সহায়ক
ম্যাগনেসিয়াম (Mg) ২৭ মি.গ্রা পেশি ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রম সঠিক রাখতে সাহায্য করে
ফসফরাস (P) ২২ মি.গ্রা হাড় ও দাঁতের জন্য প্রয়োজনীয়
আয়রন (Fe) ০.৩ মি.গ্রা রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়ক
জিংক (Zn) ০.১৫ মি.গ্রা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
সোডিয়াম (Na) ১ মি.গ্রা শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালেন্স বজায় রাখে
*************
Collected
ডা. হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া
নবজাতক শিশু বিশেষজ্ঞ
এমবিবিএস (ঢাকা মেডিকেল কলেজ)
বিসিএস (হেলথ)
এমডি, নিওনেটোলজি (বিএসএমএমইউ)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন