এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

মঙ্গলবার, ৪ মার্চ, ২০২৫

ঘটনাটি বলতে গেলে আজ থেকে প্রায় ১৫-১৭ বছর আগের। তখন আমার বয়স হবে বড়জোর ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে। ০,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ঘটনাটি বলতে গেলে আজ থেকে প্রায় ১৫-১৭ বছর আগের। তখন আমার বয়স হবে বড়জোর ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে। আমি তখন গ্রাম্য জীবনের অধীনে ছিলাম, যেখানে ডিজিটালের কোনো ছোঁয়া ছিল না। আশপাশের দু-চারটি গ্রামেও তেমন কোনো আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছায়নি, শুধু একমাত্র মোটা ডিস্কযুক্ত সিস্টেমওয়ালা টেলিভিশন ছাড়া। 


সারাদিন নিজের কিছু সমবয়সী বন্ধু-বান্ধবদের সাথে ঘুরাঘুরি আর মায়ের হাতের খাবার খাওয়া—এই ছিল তখনকার জীবনের প্রথম লক্ষণ। বয়স ছিল অল্প, তাই বড় ভাইয়েরা মজার তালে তালে আমাদের চেলাদের মতোই রাখতেন। যেমন কাজ করাতেন, ঠিক তেমনই রক্ষাও করতেন। 


আমাদের গ্রামটি ছিল খুবই খোলামেলা। এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ির দূরত্ব ছিল বেশ অনেকটা। সময়ের তালে তালে তা এখন একটু কাছাকাছি হয়ে গেছে। প্রত্যেক বাড়ির ঠিক সামনে-পিছনে বিশাল বিশাল চাষের জমি ছিল, যেখানে ১২ মাসই কিছু না কিছু চাষ হতো। 


আবার এইসব ক্ষেতের মধ্য দিয়েই ছিল অন্য জায়গা বা গ্রামের যাওয়ার রাস্তা। নারীরা বোরখার দুই পাশ দু'হাতে ধরে হাঁটতেন, যেন কাদামাটিতে লেগে না যায়। আমার মতো ছেলেমেয়েরা প্রায়ই ক্ষেতের বিভিন্ন জিনিস চুরি করত আর গ্যাং বানিয়ে রান্নাবান্না করত।


গ্রামটি বেশ খোলামেলা হওয়ায় মাঝে মাঝেই কিছু ভুতুড়ে ঘটনার কথা শোনা যেত। গ্রামের বিভিন্ন পুকুরপাড়ে মাঝে মাঝে কিছু সাদা কাপড় পরা বয়স্কদের দেখা যেত। তারা পুকুরে ওজু সম্পাদন করে পুকুরের পানিতেই হাঁটতে হাঁটতে ধীরে ধীরে বাতাসে মিলিয়ে যেত। এই ধরনের ঘটনা বেশিরভাগই দেখতেন বাড়ির নতুন বউরা। 


প্রায় প্রতিদিনই আমাদের গ্রামের ক্ষেতের রাস্তা দিয়ে নতুন বউ নিয়ে পালকি যেত। বেশিরভাগ সময়ে পালকি দেখা যেত শীতকালে। মাঝে মাঝে এলাকার লোকজন নতুন বউকে দেখতে চাইলে পালকিবাহকরা দেখাতো, আবার কখনো দেখাতো না।


তো, একদিন তীব্র শীতের ভোরবেলার কথা। আমি এবং আমার এক বড় ভাই ক্ষেতের মধ্যে ঘুরছিলাম। ভাই ক্ষেতে কী যেন এক ধরনের পোকার ওষুধ ছিটিয়ে দিচ্ছিলেন, আর আমি সেই ওষুধের বালতি হাতে নিয়ে তার সঙ্গে সঙ্গে ঘুরছিলাম। 


হঠাৎ, দূর কোথাও থেকে কিছু লোকের পালকির গান গাওয়ার শব্দ ভেসে আসতে লাগল। আমরা দুজন সেদিকে তাকিয়ে থাকলাম। কিছু মুহূর্তের মধ্যেই চারজন পালকিবাহক কুয়াশা ভেদ করে একটি পালকি কাঁধে নিয়ে আসতে লাগল।


হঠাৎ, পালকিবাহকরা কাদামাটিতে পিছলে পড়ে গেল ক্ষেতের অপর পাশে। ভাই আর আমি তাড়াহুড়ো করে তাদের সাহায্য করতে ছুটে গেলাম। ভাই পালকি ধরতেই, চারজনের মধ্যে একজন হঠাৎ গর্জন করে উঠে আমাদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করল,


"তোরা ভালো করলিনা! তোরা ভালো করলিনা!"


তার সঙ্গে সঙ্গে অন্যরাও একই কথা বলতে লাগল। একসময় তাদের সঙ্গে ভাইও যেন দণ্ডে লেগে গেল...


তাদের মধ্যে গ্রাম্যভাষায় তর্কবিতর্ক হচ্ছিল, আর আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তা দেখছিলাম। হঠাৎ, আমি একটি জিনিস লক্ষ্য করি। পালকির নতুন বউ জমিতে পড়ে আছে। আমি তাড়াহুড়ো করে নতুন বউয়ের কাছে গিয়ে তাকে মুড়িয়ে দেখতেই একটা চিৎকার করে ফেলি।


আমি দেখি, একটি অর্ধ-খাওয়া লা*শ, যার শরীরের প্রতিটি অঙ্গ যেন কেউ ছিঁড়ে খেয়ে ফেলেছে, চোখ দুটি বড় বড় করে খোলা, আর বউয়ের সাজ পড়েছিল।


আমার চিৎকার শুনে ভাই তাড়াতাড়ি আমার দিকে দৌড় দিয়ে আসে। ভাইও একি দৃশ্য দেখে কিছু একটা বুঝতে পেরে আমাকে কোলে তুলে দৌড়াতে শুরু করেন বাড়ির দিকে। পিছন থেকে বিভিন্ন আওয়াজে কেউ আমাদের থামানোর চেষ্টা করছিল, বারবার।


অনেক বছর পরে আমি ভাই থেকে জানতে পারি যে সেই বউটা বেশ কিছুদিন আগে আ*ত্মহ*ত্যা করেছিল। বউকে তার সাজানো রূপেই কবর দেওয়া হয়েছিল। আর সেই পালকিবাহকরা ছিল নরখাদক।

কোন মন্তব্য নেই:

নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---

 নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস --- পরীর খাটটি বাংলাদেশের জাদুঘরে দেখে থাকলেও ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না। নাটোরের মহারানী ভব...