⛔বোজা দরজা, খোলা ভয়⛔
(গল্পটি পাঠিয়েছেন ✍️ রাজা গিলগামেশ ✍️ — ছদ্মনাম)
১৮ এপ্রিল, ২০২৫। রাত ২:৫৩।
সব ছিলো স্বাভাবিক—রুমে একা, কাত হয়ে শুয়ে এনিমে দেখা, ছোট ভাই সেদিন মামার সঙ্গে ঘুমাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎই রুমটা ভারি হয়ে ওঠে। না, সেটা বোঝা ভারী নয়, যেন বাতাসের ভেতরেই ঢুকে এসেছে অদৃশ্য কোনো অস্তিত্ব। নিঃশ্বাস নিতেও কেমন যেন কষ্ট হচ্ছিল, আর ঘরের মধ্যে এক ধরনের নেগেটিভ অনুভূতির সৃষ্টি হচ্ছিল।
এরপর যা ঘটলো, তা কল্পনারও বাইরে।
চোখ বন্ধ হয়ে আসে, কিন্তু ইচ্ছা করেও খোলা যায় না। মনে হচ্ছে—গভীর এক গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছি। শরীর অবশ, হাত নাড়াতে পারছি না। অথচ মন জেগে আছে, আমি জানি আমি জেগে।
আর তখনই শুরু হয় এক তীব্র শব্দ—কানের ভিতর ঘুরতে থাকা এক ধরনের "ভো-ভো" শব্দ, যা আস্তে আস্তে আমার সমস্ত অনুভূতি গ্রাস করে নিচ্ছিল।
ভয়ে-আতঙ্কে আমি কেবল মনে মনে শুরু করলাম সূরা পাঠ। আল্লাহর নাম নিতে নিতে অনুভব করলাম, সেই ভার, সেই শীতল ভয় যেন একটু একটু করে কমে যাচ্ছে। সজোরে রুকইয়া আয়াত চালিয়ে দিলাম মোবাইলে। সেদিন রাতটা বেঁচে গেলাম... অল্পের জন্য।
কিন্তু ভয় এখানেই শেষ নয়।
১৯ এপ্রিল। আমি আমার অতি প্রিয় রুবিক্স কিউব নিয়ে ব্যস্ত। নানা ধরনের কিউব আমার সংগ্রহে—লোকাল থেকে স্পিড কিউব, দামি থেকে অদলবদলযোগ্য কিউব।
রুমে একা বসে, টিস্যু দিয়ে পরিষ্কার করছিলাম কিউবটা। হঠাৎ খেয়াল করলাম, কিউবের একটি কর্নার... উধাও!
না, নিচে নেই, খাটের কোণায় নেই, জানালার পাশে নেই—পুরো ঘর তন্ন তন্ন করে খুঁজেও সেটা পাওয়া গেল না।
আর এই কিউব? এই কিউব তো আমি নিজের হাতেই খুলে রেখেছিলাম! কেউ ছিল না রুমে, কেউ ঢোকেওনি, জানিও না কেউ ঢোকার কথা।
কিন্তু কর্নারটা নেই।
ডিরেক্ট উধাও।
সেদিনের পর থেকে আমার রুম, আমার আপন জায়গা—আমার জন্য আতঙ্কের নাম। এখন আমি আর সেখানে থাকি না।
একজন হুজুর এসে রুকইয়া পড়ে পানি ছিটিয়েছেন পুরো ঘরে। কিন্তু মনটা এখনো অস্থির। এখনো মাঝরাতে সেই ভারী নিশ্বাস, ছায়ার মতো হাঁটা-চলা আর হারিয়ে যাওয়া জিনিসগুলো আমার ঘুম কেড়ে নেয়।
ঘরের দরজাটা বোজা।
তবু ভয় ঢুকে পড়ে—কখনো শব্দ হয়ে, কখনো অন্ধকার হয়ে...
আর কখনো, কোনো হারিয়ে যাওয়া কর্নারের মতো নিঃশব্দে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন