বেকার সমস্যার কথা আসলেই অনেকে শিক্ষার্থীদের বেশি করে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করবার কথা বলেন। কিন্তু কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিতদের কর্মসংস্থানের কি পরিস্থিতি, কারিগরি শিক্ষিতদের আয় ও কর্মপরিবেশ কেমন সে বিষয়ে কয়জন খোজ রাখেন সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে।
আজকে বণিক বার্তায় এ বিষয়ে একটা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। রিপোর্টে কিছু কেস স্টাডি ও পরিসংখ্যান আছে, যেগুলো সবার জানা দরকার।
উদাহরণ স্বরূপ রবিউল ইসলামের কথাই ধরা যাক। রবিউল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছেন ২০২০ সালে। এরপর তিনটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। প্রথমটিতে বেতন ছিল মাত্র সাড়ে ৮ হাজার টাকা। তাও আবার চাকরির তিন মাসের মাথায় কোনো ধরনের নোটিস ছাড়াই ছাঁটাই হন। এরপর আরো একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন ১২ হাজার টাকায়। সেখানে আবার বেতনের তুলনায় কাজের চাপ ছিল অনেক বেশি। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা তারই সহকর্মীরা একই পদে পেতেন প্রায় তিন গুণ বেতন। সেই কষ্টে চাকরি ছেড়ে দিয়ে রবিউল এখন ব্যবসা শুরু করেছেন।
আরেক তরুণ শাহরিয়ার আহমেদ সরকারি একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ২০২২ সালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং করেন। তিনিও এরপর মোট তিনটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। বর্তমানে যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন সেখানে বেতন পান কেবল ১৫ হাজার টাকা। শাহরিয়ার আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেছেন, ‘আমরা চাকরি পাচ্ছি না, বিষয়টি এমন নয়। কিন্তু যে কাজ পাচ্ছি তা মানসম্মত নয়। আমার অনেক সহপাঠী চাকরি না করে গ্রামের বাড়িতে বসে আছে, কারণ যে বেতনে তারা চাকরি পাচ্ছে তা দিয়ে ঢাকায় থাকাই সম্ভব নয়। আমার পরিবার গ্রামে থাকে। ঢাকায় নিজের খরচ চালিয়ে তাদের তেমন সহযোগিতা করতে পারি না।’
এ বিষয়ে পরিসংখ্যানও বেশ হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরে। জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) ২০২১ সালে জমা দেয়া এক গবেষণা প্রতিবেদন অনুসারে, ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের মধ্যে ৫৪ শতাংশ কর্মজীবী, ৪ শতাংশ উদ্যোক্তা, ৩৮ শতাংশ বেকার ও ৪ শতাংশ কাজে আগ্রহী নয়।
যারা কাজ করছেন, তাদের আয়ের কি অবস্থা? ঐ গবেষণা অনুসারে, ৪৪ শতাংশের মাসিক আয় ১০-১৫ হাজার টাকার মধ্যে এবং ৪৩ শতাংশের আয় ১০ হাজার টাকার কম। মাত্র ১৩ শতাংশের মাসিক আয় ১৫ হাজারের ওপর।
প্রায় একই চিত্র উঠে এসেছে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) জরিপেও। ব্যানবেইসের ওই জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীর ডিগ্রি নিয়ে চাকরিতে প্রবেশ করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭১ শতাংশ বেতন পাচ্ছে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে।
আসলে যারা বিভিন্ন দেশি বিদেশী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তাদের একটা উল্ল্যেখযোগ অংশকে কাজ করতে হয় অস্থায়ী ভিত্তিতে, আউটসোর্সিং মডেলে যাদের চাকুরির কোন নিশ্চয়তা থাকে না, নির্দিষ্ট কর্মঘন্টা থাকে না, কাজের পরিবেশও জঘন্য।
সরকারের উচিত বিভিন্ন দেশি বিদেশী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কারিগরী জনবলের প্রকৃত পরিস্থিতি কি তার খোজ নেওয়া এবং যথাযথ আইন, নীতিমালা ও তাদরকির মাধ্যমে তাদের মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের অধিকার নিশ্চিত করা। মর্যাদাপূর্ণ কারিগরি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না করে কারিগরি শিক্ষার বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা চরম দায়ীত্বহীনতা।
©
---------------------------------------------------------------------
📢 আপনার নিজস্ব নিউজ পোর্টাল অথবা পত্রিকার ই-পেপার তৈরি করতে চান? 🌐
ওয়েব নিউজ ডিজাইন - আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিউজ পোর্টাল, ই-পেপার এবং অফিসিয়াল ওয়েবসাইট তৈরি ও পরিচালনার সেবা প্রদান করি। এছাড়াও, আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের জন্য সেরা ডিজাইন সেবা পেতে আজই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন!
যোগাযোগ
📞 ০১৯১৫৩৪৪৪১৮ [WhatsApp, Imo], ঢাকা।
🌐 webnewsdesign.com
📧 faroque.computer@gmail.com]
---------------------------------------------------------------------
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন