পেহেলগাঁও এর যে স্থানে জঙ্গি আক্রমণ হলো সেখানে কোনো নেট ওয়ার্ক নেই,বিদ্যুৎ নেই,বসতি নেই।এই মাঠে শীতের সময় বরফ পরে।জায়গাটি যেমন অপূর্ব সুন্দর ঠিক তেমন নির্জন।সাধারণত পেহেলগাঁও এ পর্যটক ঘুরতে এলে এই মাঠে অনেকেই আসেন আবার অনেকেই আসেন না।এই মাঠে পৌঁছতে হলে সকাল বেলায় আপনাকে ঘোড়ার পিঠে চড়ে আসতে হবে।বিকল্প কোনো রাস্তা নেই।পাহাড়ের উচু নিচু,জল, ঝর্ণা, বড় বড় পাইন গাছের মধ্যে দিয়ে আপনাকে পৌঁছতে হবে।অর্থাৎ গতকালের জঙ্গি হামলার পর সেনা কেউ হয় হ্যালিকম্পটার নয়তো ঘোড়া করে পৌঁছতে হয়েছে।কোনো কাঁচা বা পাকা রাস্তা নেই।পাহাড়ের খাড়া ঢাল বেয়ে উপরে উঠতে হয় এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড় তারপর পৌঁছতে হয় এই সুন্দর মাঠে।মুহত এই স্থানে নেই কোনো ঘর, বাড়ি,বাজার।সম্পূর্ণ নিরিবিলি পরিবেশ।স্থানীয় কিছু বাসিন্দা ঘোড়ার পিঠে করে কিছু খাদ্য সামগ্রী নিয়ে এই স্থানে দোকান দিয়েছে।তাও হাতে গোনা
10/15 টি যার মধ্যে 4/5 টি ছাড়া বাকি দোকান বন্ধ থাকে।এই সব দোকানে আপনি চা,বিস্কুট, মোমো,চাউমিন,জল,কোল্ড ড্রিঙ্কস থেকে ছোটো খাটো কিছু খাবার জিনিস পাবেন।দোকানদার সকালে দোকান খুলে আবার বিবেক বিকেল দোকান বন্ধ করে পেহেলগাঁও এ নিচে নেমে আসে।
আমি আগেই বলেছি এই স্থানে ফোনে নেট ওয়ার্ক নেই, বিদ্যুৎ নেই,বসতি নেই।সুতরাং রাতে এই স্থান বা এই মাঠটি সম্পূর্ণ নির্জন বা অন্ধকার থাকে ।
এতো কিছু বলার একটাই কারণ এই স্থানটি শুধুমাত্র পর্যটকদের জন্য।জঙ্গিরা ধরে নিন পাকিস্থান থেকে এসেছে,ওদের পক্ষে এই স্থান, রাস্তা ঘাট চিনিয়ে দিতে হলে লোকাল লোক এর সাপোর্ট লাগবেই।গোটা জম্মু কাশ্মীরে সারা বছর রাস্তাঘাট থেকে গুরুত্বপুর্ন স্থানে সেনা বাহিনী, পুলিশ পাহারা দেয়।কাশ্মিরের অলিগলিতে সেনা বাহিনী থাকে।স্থানীয় পুলিশ সিভিল ড্রেসে পাবলিকপ্লেসে মিশে থাকে।ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনীর একটা বিশাল ফাঁক হয়ে গেলো গত কালের জঙ্গি হামলার।জঙ্গিরা তো ধরা পরবেই আজ হোক বা কাল।শুধু জঙ্গিরা কেন তাদের যারা সাহায্য করেছে তারাও ধরা পরবে।স্থানীয় লোক ছাড়া এই ফাঁকা স্থানে জঙ্গি হামলা হলো কারণ তারা তাদের নোংরা বর্বরোচিত হামলা করে পালিয়ে যেতে অনেকটাই সময় পাবে।কাশ্মীরের অন্য স্থানে আক্রমণ করলে ওরা বেছে বেছে হিন্দুদের মারতে পারতো না।ওদের উদ্দেশ্য একটাই ছিল হিন্দুদের হত্যা করা।ওদের উদ্দেশ্য যদি অন্য কিছু থাকতো তাহলে ওরা ধরনের আক্রমণ করত,এতে সাধারণ কাশ্মীরি থেকে হিন্দু মুসলিম অনেকেই মারা যেতো কিন্তু ওরা তা করেনি।এবার আসি জঙ্গিদের কে সাহায্য করলো সেই প্রসঙ্গে,আমার ধারণা স্থানীয় ঘোড়া ছুটিয়ে যারা নিয়ে যায় টুরিস্টদের তাদের মধ্যে কেউ জড়িত থাকতে পারে।কারণ তারা বন্দুক সঙ্গে নিয়ে গেছে।যাত্রীদের ব্যাগ থেকে সারা বডি যেখানে চেকিং হয় সেখানে বন্দুক নিয়ে যাওয়া সম্ভব না।হাজার হাজার ঘোড়া গোটা এলাকায়।জঙ্গিরা আগে থেকেই কোনো কোনো ঘোড়ার পিঠে বন্ধুক লুকিয়ে গেছে এবং ওদের সাহায্য করেছে স্থানীয় লোক অথবা ঘোড়ার চালক (এটা আমার ধারণা মাত্র) স্থানীয় কিছু বড়লোক ঘোড়া কিনে আর কিছু স্থানীয় গরীব মানুষ 300/400 টাকার বিনিময়ে ঘোড়ার মালিকদের থেকে ঘোড়া সারা দিনের জন্য ভাড়া নেয়।সব খুঁজে বের হবে আগামীদিনে।
বর্তমানে জঙ্গিরা ভারতকে আক্রমণ করেছে।ওরা যে উদ্দেশ্য নিয়ে আক্রমণ করেছে সেটা সফল।ওরা হিন্দুদের মেরে গোটা দেশে বুঝিয়ে দিলো।ওরা জানে হিন্দুদের মারলে গোটা দেশে হিন্দু মুসলিম ডাঙ্গা লেগে যাবে।হিন্দু মুসলিম ভুলে সবাইকে একটাই কথা বলবো সবাই শান্ত থাকুন।গুজবে কান দিবেন না।অল্প জেনে বা সত্যি মিথ্যে না জেনে ভুলভাল পোস্ট করবেন না।এই একটি দেশের অভ্যন্তরীন বিপর্যয় ।।
নিহত সকল পর্যটকদের আত্মার শান্তি কামনা করি এবং পরিবারের সকল সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই ।।
জয় হিন্দ ।।
(সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত প্রকাশ করলাম,কারণ এতগুলো প্রাণ চলে গেলো,গতকাল থেকে ছটফট করছি,চোখের সামনে সব কেমন যেন শূন্য হয়ে যাচ্ছে,আমার নিজের অভিজ্ঞতা ও কল্পনা থেকে লিখেছি দুই এক কথা।কেউ ব্যক্তিগত ভাবে নিবেন না।সকলে ভালো ও সুস্থ থাকুন।সবাই মিলেমিশে থাকুন।গুজবে কান দিবেন না, জাত ধর্ম রাজনীতি নিয়ে আমার পোস্টে কমেন্ট করবেন না)
Collected from Facebook
সংগৃহীত
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন