ভারতে বর্ণপ্রথার এক করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে ১৯৪৭ সালে মার্গারেট-বোর্ক হোয়াইটের তোলা এই ছবিতে। এখানে দেখা যাচ্ছে একজন উঁচু বর্ণের জমিদার বেশ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ও কোনো রকম শারীরিক স্পর্শ যাতে না হয় তা নিশ্চিত করে পাতায় মুড়িয়ে মজুরি দিচ্ছেন তার জন্য কাজ করা নিম্ন বর্ণের শ্রমিকদের বেতন দিচ্ছেন।
ভারতের বর্ণপ্রথা একটি সামাজিক স্তরবিন্যাস পদ্ধতি, যা সমাজকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করে। এই প্রথা মূলত দুটি ধারণার ওপর ভিত্তি করে গঠিত: 'বর্ণ' ও 'জাতি'।
বর্ণ ও জাতি: পার্থক্য ও সংজ্ঞা
• বর্ণ: 'বর্ণ' শব্দের আক্ষরিক অর্থ 'প্রকার', 'শ্রেণি' বা 'রঙ'। প্রাচীন ভারতে সমাজকে চারটি প্রধান বর্ণে বিভক্ত করা হয়েছিল:
• ব্রাহ্মণ: পুরোহিত ও শিক্ষাবিদ
• ক্ষত্রিয়: যোদ্ধা ও শাসক
• বৈশ্য: ব্যবসায়ী ও কৃষক
• শূদ্র: শ্রমিক ও সেবক
• জাতি: 'জাতি' শব্দের অর্থ 'জন্ম'। এটি সমাজের আরও সূক্ষ্ম বিভাজন নির্দেশ করে, যেখানে পেশা, অঞ্চল ও অন্যান্য সামাজিক বিষয়ের ভিত্তিতে হাজারো উপগোষ্ঠী রয়েছে।
বর্ণপ্রথার বৈশিষ্ট্য
বর্ণপ্রথার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
• জন্মগত সদস্যপদ: একজন ব্যক্তি যে বর্ণে জন্মগ্রহণ করেন, সাধারণত সেই বর্ণের সদস্যপদ বহন করেন।
• এন্ডোগ্যামি: প্রত্যেক বর্ণের মধ্যে বিবাহ সম্পন্ন হয়; অন্য বর্ণের সঙ্গে বিবাহ সাধারণত নিষিদ্ধ।
• পেশাগত নির্ধারণ: প্রত্যেক বর্ণের নির্দিষ্ট পেশা বা কাজ নির্ধারিত থাকে, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসে।
• সামাজিক পৃথকীকরণ: বিভিন্ন বর্ণের মধ্যে খাদ্য গ্রহণ, সামাজিক মেলামেশা ও বসবাসের ক্ষেত্রে পৃথকীকরণ বজায় থাকে।
বর্ণপ্রথার উদ্ভব
ঐতিহাসিকদের মতে, আর্যদের ভারতে আগমনের পর ঋগ্বৈদিক যুগে বর্ণপ্রথার সূচনা হয়। প্রথমে এই প্রথা পেশা ও কর্মের ভিত্তিতে ছিল, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এটি জন্মভিত্তিক হয়ে ওঠে।
আধুনিক ভারতে বর্ণপ্রথা
ভারতীয় সংবিধান বর্ণভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ করেছে। তবে, সমাজে এখনও বর্ণপ্রথার প্রভাব দেখা যায়। সরকার তফসিলি জাতি ও উপজাতির জন্য সংরক্ষণ নীতি গ্রহণ করেছে, যাতে তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি নিশ্চিত হয়।
বর্ণপ্রথা ভারতের সমাজে গভীর প্রোথিত একটি প্রথা, যা সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়েছে, তবে এর প্রভাব এখনও বিদ্যমান।
#সংগৃহীত
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন