এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৫

ফেরার দরজা বন্ধ,,,,,,, ভুতের গল্প ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ⛔ ফেরার দরজা বন্ধ ⛔

(✍️বছর: ২০০২ | লোকেশন: সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া থানার একটি দূরবর্তী গ্রাম — খরিয়াডাঙা✍️)


আমি, রাকিব, তখন মাত্র ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়েছি। বড় শহরে প্রথমবার আসা, নতুন পরিবেশ, নতুন বন্ধু — সবকিছুই যেন এক নতুন পৃথিবী। তবে আমার মধ্যে এক অদ্ভুত অভ্যাস ছিল — পুরোনো বাড়ি, পরিত্যক্ত জায়গা কিংবা গ্রাম্য রহস্যে পা না বাড়িয়ে থাকতে পারতাম না। এটা ছোটবেলা থেকেই।


সেবার শীতের ছুটিতে বন্ধু ফয়সাল তার গ্রামের বাড়ি নিয়ে যেতে বলল। সে বলল,

"রাকিব, আমাদের গ্রামে একটা পুরনো বাড়ি আছে — কেউ যায় না। ১৯৮৫ সালে একটা পুরো পরিবার একরাতে নিখোঁজ হয়েছিল। কেউ বুঝতেই পারেনি কী ঘটেছিল। তারপর থেকে ওই বাড়িতে কে যেন রাতে হাঁটে, দরজা খোলে, অথচ সেখানে কেউ থাকে না। গ্রামের লোকজন বলে ওটা নাকি 'ফেরার দরজা বন্ধ' বাড়ি… যেই ঢোকে, আর ফেরে না।"


আমার আগ্রহ জেগে উঠল।

"চল! একবার দেখে আসি!"


গ্রামে পৌঁছে আমি সত্যিই অবাক। শান্ত, নিস্তব্ধ এক জায়গা। অথচ একটা অদৃশ্য চাপ যেন মাথার ওপর চেপে বসে আছে। সেই বাড়িটা গ্রামের এক কোণায় — কাঁটা ঝোপে ঢাকা, লোহার ফটক অর্ধেকটা খোলা, জানালাগুলো সব ভাঙা। আমরা চারজন — আমি, ফয়সাল, রাজু, আর মনির — ঠিক করলাম রাতে ওই বাড়িতে ঢুকব।


আমরা বাড়ির ভেতর ঢুকলাম। বাতাস থমথমে, দেয়ালের ফাটল দিয়ে ঘূর্ণি বাতাস ঢুকছে। হঠাৎ ফয়সাল বলল,

"দ্যাখো, পেছনের দরজাটা খোলা ছিল না তো!"

আমরা দেখলাম, পেছনের দরজা খোলা, অথচ আমরা এসেছিলাম সামনের ফটক দিয়ে। কে খুলল?


আমরা মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে ঘুরতে লাগলাম। বাড়ির ভেতরে পুরনো খাট, চৌকি, আয়না — সবকিছুই যেন সময়ের ফ্রেমে আটকে আছে। হঠাৎ একটা দরজা পেলাম — খুব পুরনো কাঠের তৈরি, কিন্তু স্পষ্টভাবে তাজা রক্তের ছিটে লেগে আছে! দরজার ওপরে লেখা:

“ফেরার দরজা বন্ধ”

তার নিচে লাল কালিতে আঁকা কিছু লেখা — অদ্ভুত ভাষায়, যেন আরবি, উর্দু আর সংস্কৃতের মিশ্রণ।


রাজু দরজাটা ছুঁইল। সাথে সাথে একটা ঠান্ডা শ্বাস যেন ঘাড় বেয়ে শরীরে ঢুকে গেল।


আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, এবার বেরিয়ে যাব। কিন্তু বাইরে গিয়ে দেখি — মনির নেই! সে একসাথেই ছিল!

ডাকাডাকি করে, আলো জ্বালিয়ে খুঁজলাম। কোথাও নেই। আবার ভেতরে ফিরলাম — দরজাটা এবার বন্ধ। “ফেরার দরজা”। তবে এবার নিচে লেখা আছে:

“একজন গেছে, আর তিনজন বাকি”


আমার বুক কেঁপে উঠল। আমরা জোরে দরজা ধাক্কালাম — কিছুতেই খুলছে না। জানালায় তাকিয়ে দেখি, বাইরে আর আলো নেই। মোবাইলে নেটওয়ার্ক নেই। একটা আওয়াজ কানে এল — ঘরজুড়ে কেউ যেন ফিসফিস করে নাম নিচ্ছে,

“রাকিব… ফয়সাল… রাজু…”


রাজু আচমকা মাটিতে বসে পড়ল। ফিসফিস করে বলছে,

"আমার আম্মু এখানে… ও বলছে আমি ছোট ছিলাম যখন… আমায় রেখে গিয়েছিল এই দরজার পেছনে… আমায় ওরা ডাকে রোজ…"


তার চোখ কোটরের বাইরে, শরীর কাঁপছে। সে দাঁড়াল, এবং সেই রক্তমাখা দরজার দিকে এগিয়ে যেতে লাগল। আমরা বাধা দিলাম। কিন্তু সে চিৎকার করে বলল,

"ওরা বলেছে, দরজাটা খুললে আম্মুর মুখ আবার দেখতে পারব!"


একটানে দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে গেল — ঘন অন্ধকার, ঝড়ের মতো বাতাস বেরিয়ে এলো। আমরা দেখতে পেলাম না ভেতরে কী ছিল, কিন্তু রাজুর চিৎকার —

"এই না, এই তো আমার আম্মু… না না!! এটা কেউ না!! ছেড়ে দাও!!"

— তারপর এক মুহূর্তে চুপ।


দরজা আবার বন্ধ। এবার লেখাঃ

“আর দুজন বাকি”


আমি ও ফয়সাল কোনোমতে দরজার উল্টোদিকে পালালাম। তখন ফয়সাল জানাল,

"আমার নানা এক সময় তান্ত্রিক ছিল… এই বাড়িটা তারা বানিয়েছিল এক নিষিদ্ধ সাধনার জন্য। এক সত্তা, যাকে 'মারফত' বলা হত, তার সাথে যোগাযোগ করত। ওই সত্তার নিয়ম — যে একবার তার ডাকে সাড়া দেয়, তার ফেরার দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।"


আমি বললাম,

"তাহলে তুই আমাদের এনে মরতে দিলি?"


সে ফুঁপিয়ে উঠল,

"ওরা আমার বাবাকে নিয়ে গেছে… আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তিনজনকে এনে দিলেই বাবাকে ফেরত পাবে। আমি ভাবিনি ওরা সত্যি আসবে!"


আমি চিৎকার করে উঠলাম,

"তুই আমাদের বিক্রি করছিস!"


আমি দৌড়ে পালাতে চাইলাম, কিন্তু দরজাগুলো যেন হারিয়ে গেল। প্রতিটা রুম শুধু ঘুরে ফিরে একই রুমে এসে থামে। ফয়সাল পেছনে পড়ে গেল। তখন দরজার গায়ে আবার লেখা:

“একজন বাকি”


শেষে আমি একটা কুলুঙ্গির মধ্যে লুকালাম। কান পেতে শুনতে পাচ্ছি — খুব ধীরে ধীরে আমার নাম বলা হচ্ছে…

"রা…কি…ব…"

একটা শীতল আঙুল ঘাড়ে ছুঁয়ে দিল।


"ভাই, আমি তো ওই বাড়ির পাশে থাকি। কাল রাত ১০টার পর তিনটা ছেলে ঢুকছিলাম দেখি। সকালে দেখলাম একটাই ছেলে পড়ে আছে বাড়ির উঠানে — চোখ মুখ হাঁ করে আছে, কথা বলতে পারছে না, শুধু তাকিয়ে আছে। আর মুখ দিয়ে খালি একটা কথাই বারবার বলছে…

‘দরজা… ফেরার… বন্ধ…’"


আমি এখন মানসিক হাসপাতালে আছি। ডাক্তার বলে এই ট্রমা কেটে যাবে। কিন্তু ওরা জানে না, আমি ঘুমাতে পারি না, কারণ ঘুমালেই সেই দরজা দেখি —

‘ফেরার দরজা’


রাকিব যদি মানসিক হাসপাতালে থাকে, তাহলে সে কীভাবে এত বিস্তারিতভাবে পুরো ঘটনা লিখল?


এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে রাকিবের চিকিৎসকের হাতে লেখা একটি চিঠিতে, যা অনেকদিন পর তার মেডিকেল ফাইল থেকে উদ্ধার করা হয়:


চিঠির একাংশ (ডাঃ সায়েমা হক, মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ, সাতক্ষীরা জেলা হাসপাতাল):


> রোগীর নাম: রাকিব হোসেন

ভর্তি: ২০০২ সালের ১৭ জানুয়ারি

বয়স: ২২


রাকিব যখন প্রথম হাসপাতালে আসে, সে সম্পূর্ণ নিশ্চুপ ছিল। তার চোখে ছিল গভীর আতঙ্ক, যেন কোন কিছুকে প্রতিনিয়ত দেখছে যা অন্যেরা দেখতে পায় না। সে কেবল ফিসফিস করে বলত:


“ফেরার দরজা বন্ধ… ফয়সাল, রাজু, মনির…”


তীব্র ট্রমার কারণে আমরা তাকে হাই-ডোজ সেডেটিভে রাখি। তবে অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে—চিকিৎসার দ্বিতীয় সপ্তাহে সে একরাতে হঠাৎ জেগে উঠে, হাসপাতালের পুরনো টাইপরাইটার নিয়ে প্রায় ২০ পাতার একটি কাহিনী টাইপ করে। পরদিন সকালে সে আবার নিশ্চুপ হয়ে যায়, এবং সেই অবস্থা আজ অবধি চলমান।


অবাক করার বিষয়: আমরা বহুবার পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছি — রাকিব টাইপ করা সেই গল্পের কোথাও ভুল বানান, অসংলগ্নতা বা ঘাটতি রাখেনি।


অথচ সে তখনও ওষুধের প্রভাবে বাস্তব চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলেছিল।


প্রশ্ন রয়ে যায়—এই গল্প কে লিখল? রাকিব, নাকি কেউ তার ভিতর দিয়ে লিখিয়ে নিলো?


তার কক্ষে একদিন আমার সহকারী একটি শব্দ শুনেছে—“শেষজনও আসছে…”


আমরা সেই টাইপ করা পাতাগুলো সিল করে রেখেছি। কারণ আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস—এই কাহিনির মধ্যে এমন কিছু আছে, যা আমাদের জগৎ নয়।


বিশেষ দ্রষ্টব্য:-  গল্পে ভুল ত্রুটি হতেই পারে অবশ্যই আপনি আপনার মতামত জানাবেন গল্পটি কেমন হয়েছে...

কোন মন্তব্য নেই:

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...