এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৫

দেয়ালের ওপারে ভুতের গল্প ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ⛔দেয়ালের ওপারে⛔

(✍️বাস্তব এই ঘটনাটি পাঠিয়েছেন তানজিনা জাহান রানু, রামপুরা, ঢাকা✍️) 


২০০৬ সাল। এসএসসি পাস করার পর টাঙ্গাইলের একটি নামকরা নারী কলেজে ভর্তি হই। তখন আমার মা-বাবা কেউই জীবিত ছিলেন না। দুই ভাই আলাদা সংসারে, আত্মীয়স্বজনরা যার যার মত ব্যস্ত। একা আমি। ভর্তি হতেই হল বসবাস বাধ্যতামূলক হওয়ায়, কলেজ হোস্টেলেই আমার ঠিকানা হয়।


জানুয়ারি মাস। ঠান্ডা প্রচণ্ড। আমাকে যে রুমে রাখা হয়, সেটা দ্বিতীয় তলার এক বড় হলরুম। প্রায় ২৫-৩০ জন মেয়ে সেখানে থাকে। হোস্টেল ভবনটা ছিল অনেক পুরনো—ব্রিটিশ আমলের জমিদার বাড়ির মত। প্রবেশ দরজা দিয়ে ঢুকলেই সামনে একটা পুকুর, তারপর আরেকটা ভবন। ডান পাশে রান্নাঘর, তারপর উঁচু পাঁচিল। বাঁদিকে খেলার মাঠ। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর দিক ছিল ভবনের পিছনটা।


পেছনে প্রথমে একটা ডোবা, তারপর জঙ্গল। আর সবশেষে প্রায় ১৫ ফুট উঁচু দেয়াল। এতটাই নির্জন ও দুর্গম জায়গা, যে কোনো মানুষ তো দূরের কথা, কুকুর-বিড়ালও সহজে যায় না।


হোস্টেলের প্রতিটি তলার মাঝে বিশাল সিঁড়ি, ছাদ থেকে নিচ পর্যন্ত তাকালেই নিচে সব দেখা যায়। প্রতিটি হলরুমের এক পাশে টয়লেট ও বাথরুম, যা যেতে হলে খোলা বারান্দা ধরে অনেকটা হেঁটে যেতে হয়।


প্রথম দিনেই, রুমের কিছু সিনিয়র অদ্ভুতভাবে সতর্ক করে দিল—

“নির্দিষ্ট সময়ের পর বাইরে যাস না।”

“হুট করে টয়লেট যাস না রাতে।”

“সন্ধ্যার পর বারান্দায় একা দাঁড়াবি না।”


আমি নতুন, কাউকে চিনি না। তাই প্রথম রাতে চুপচাপ শুয়ে পড়ি। বিছানাটা দরজার একদম পাশেই। রাত আনুমানিক ৩টা ৩৬ মিনিট। হঠাৎ দরজায় জোরে ধাক্কা।

টাক টাক টাক!

জানালার কাঁচ কেঁপে উঠল। আমি আঁতকে উঠলাম। শব্দ থামতেই আবার—

টাক টাক টাক!

এবার সঙ্গে ভেসে এলো এক গম্ভীর কান্নার আওয়াজ। মনে হচ্ছিল, কেউ বেদনায় ছটফট করছে। ভয় পেলেও জিজ্ঞাসা করলাম,

– “কে? দরজায় কে?”


কোনো উত্তর নেই। সাহস করে নিচে নামতে যাব, এমন সময় কানের কাছে ফিসফিস করে কেউ বলল,

– “খুলিস না... খুললে আর ফিরতে পারবি না।”


গলা শুকিয়ে গেল। চিৎকার করতে চাইলেও পারলাম না। বিছানায় বসে কাঁপতে লাগলাম। বাকিরা কেউ কিছু টের পেল না। রাতটা কোনো মতে পার করে ভোরে পাশের মেয়েকে সব বললাম। সে আঁকড়ে ধরে বলল,

– “ভাগ্যিস দরজা খুলিস নাই। যেটা তোর পাশে ছিল, সেটা মানুষ না...”


এরপর আমি আর একা ঘুমাই না। ওর সঙ্গেই থাকি। ধীরে ধীরে জানতে পারি, হোস্টেলটির পিছনের দেয়ালের ওদিকে আগে নাকি কবরস্থান ছিল। কেউ কেউ বলে, একবার এক মেয়ে টয়লেটে গিয়ে আর ফেরেনি। পরে ওর মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল ঠিক দেয়ালের ধারে। এরপর থেকেই মাঝরাতে কান্না, দরজায় ধাক্কা, কেউ একজন ফিসফিস করে ডাক দেয়—এসব চলতেই থাকে।


সবচেয়ে ভয়ানক ঘটনা ঘটল আমার দ্বাদশ রাত্রে।


সেই রাতে আমি হালকা জ্বরে ভুগছিলাম। ঘুম ভেঙে দেখি, বাথরুমে যাওয়ার দরকার। ঘড়িতে ৩টা বেজে ২০। সাহস করে উঠে গেলাম, কিন্তু গেটের কাছে গিয়ে দেখি দরজা খোলা। বাতাসে কেমন একটা গন্ধ—পচা গোলাপের মত।


যাই হোক, বাথরুমের দিকে এগোতেই দেখি, বাথরুমের দরজার নিচ দিয়ে ধোঁয়ার মত কিছু একটা বের হচ্ছে। আমি থমকে গেলাম। তারপর স্পষ্ট শুনি—

“তুই এলি... আমি তোকে অনেক দিন ধরেই খুঁজছি...”


আবছা আলোয় দেখি, একটা রক্তমাখা নারী মুখ, চুল এলোমেলো, চোখ নেই—ফাঁকা গহ্বর! সে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে আমার দিকে।


আমি দৌড় দিলাম। কিন্তু পা যেন চলছিল না। গলা শুকিয়ে গেছে। চিৎকার করতে চাচ্ছি, কিন্তু আওয়াজ বের হচ্ছে না।

শেষমেশ দরজায় এসে হুমড়ি খেয়ে পড়ে যাই। কে যেন আমাকে টেনে ভেতরে নিয়ে আসে। তারপর জ্ঞান হারাই।


পরদিন সকালে চোখ খুলে দেখি, সবাই আমার চারপাশে। কেউ একজন বলল,

– “তুই যদি এক মিনিট দেরি করতি, হয়ত আজ তোর মুখ আমরা দেখতেই পারতাম না।”


এরপর থেকে আমাকে আর ওই বাথরুমে যেতে দেওয়া হয়নি। দুই মাস পর হোস্টেল বদলে ফেলি।

তবুও, এখনও মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে, মনে হয়—কেউ দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে।


“খুলিস না... খুললে আর ফিরতে পারবি না।”

শব্দটা যেন ঠিক পাশেই ভেসে আসে...

কোন মন্তব্য নেই:

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...