👉 গাভী কেন বার বার গরম হয় এই বিষয়ে আজকে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ!
আপনারা জানেন, যখন কোনো গাভী সঠিক সময়ে অর্থাৎ (১৮-২১ দিন) গরম হয় ও কোনো প্রকার অসুস্থতার লক্ষণ থাকে না এবং কমপক্ষে ২ বার প্রজনন করানোর পরেও গর্ভধারণে ব্যর্থ হয় তখন তাকে বার বার গরম হওয়া গাভী বলে।
মাঠ পর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি যে ৩ বার প্রজনন করানোর পরেও গর্ভধারণে ব্যর্থ হওয়া গাভীর হার প্রায় ১০.০১%। বাণিজ্যিক ডেইরি ফার্মে চারটি প্রধান সমস্যার মধ্যে বার বার গরম হওয়া একটি অন্যতম সমস্যা। এতে করে বাছুর প্রদানের সংখ্যা কমে যায়। বার বার প্রজনন করানো ও চিকিৎসা করানোর খরচ বেড়ে যায়। অনেক সময় উন্নত মানের গাভী অকালে বাতিল করতে হয়, ফলে খামারি মানসিক চাপে পড়েন ও অর্থনৈতিকভাবে খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন।
কি কি কারণে গাভী বার বার গরম হয়
১। বাস্তবপক্ষে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভুল সময়ে প্রজনন করানোর ফলে হয়ে থাকে
২। গাভীতে প্রজনন তন্ত্রের বার্সা ও ডিম্বনালির জটিলতা ও জরায়ু সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে
৩। লুটিয়াল গ্রন্থির কার্যকারিতা তাড়াতাড়ি বন্ধ হলে বা স্বাভাবিক বা নিয়মিত ঋতুচক্রের মতো করপাছ লুটিয়াম স্বল্পস্থায়ী হলে এমন হতে পারে
৪। ডিম দেরিতে নিঃসরিত হলে এবং প্রজননে বীজের মান ভালো না হলে।
৫। পূর্বেই ভ্রƒণ মারা গেলে বা দুর্বল/নিম্নমানের ভ্রƒণ সৃষ্টি হলে
৬। জরায়ুর পরিবেশ ভালো না থাকলে
৭। Precocious puberty ও Luteolyse হলে, এই জটিল বিষয়টি ভালোভাবে জানতে একজন ভেটেরিনারি ডাক্তারের সাথে আলোচনা করবেন
৮। জরায়ু সংক্রমণ হলে সাধারণত ষাঁড় দ্বারা মিলনের সময়, অস্বাস্থ্যকর কৃত্রিম প্রজনন ও প্রসবের সময় ও পরে জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়ে থাকে
৯। এছাড়াও কিছু বিষয় বার বার গরম হওয়াকে প্রভাবিত করে যেমন-ওলান প্রদাহ রোগ, বার বার গরম হওয়ার হার বৃদ্ধি করে ও উৎপাদন কমিয়ে দেয়। গাভীর দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর। বাচ্চা প্রদানের সংখ্যার ওপর। জটিল প্রসবের ঘটনা ইত্যাদি
১০। প্রথম প্রজনন করানোর আগে চিকিৎসা দেয়া, যেটা মাঠ পর্যায়ে অনেক হাতুড়ে পল্লী চিকিৎসক করে থাকেন। এটা করা কখনো নয়।
প্রতিরোধ
১. সঠিক সময়ে প্রজনন করতে হবে। গরম হওয়ার ১৫ ঘণ্টা পরে ও ১৮ ঘণ্টার মধ্যে
২. গাভী গরম হলে গাভীর Progesterone level খুব কমে যায় এবং estrogen level বেড়ে যায়। সেক্ষেত্রে Progesteron এর মাত্রা নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা দেয়া যায়
৩. ভেটেরিনারি ডাক্তারের পরামর্শে প্রয়োজনে ২ বার প্রজনন করানো যেতে পারে
৪. প্রজনন করানোর পর কমপক্ষে ৩০ সেকেন্ড গাভীর ক্লাইটোরিসে ম্যাসেজ দিতে হবে
৫. প্রজননকারীকে সতর্কতার সাথে গর্ভে বাচ্চা আছে কিনা তা দেখে নিয়ে তারপর প্রজনন করতে হবে
৬. প্রজনন করানোর সময় গাভীকে কোনো প্রকার ধকল দেয়া যাবে না যেমন- মাজায় পিটানো, সিমেন স্ত্রা গাভীর নাকে চেপে ধরে রাখা, অনেক দূর হেঁটে নিয়ে যাওয়া, খাদ্য পরিবর্তন করা/ না দেওয়া
৭. গাভিকে সকল প্রকার পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য দিতে হবে
৮. ভালো বীজ ও দক্ষ প্রজননকারী দ্বারা প্রজনন করাতে হবে
৯. প্রজনন করানোর পর গাভীকে ঠাণ্ডা জায়গায় রাখতে হবে
চিকিৎসা
১. প্রাথমিকভাবে গাভীর গরম হওয়ার সময় রেকর্ড করে বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে গাভীটি কাছাকাছি সময়ে গরম হচ্ছে অথবা দেরিতে গরম হচ্ছে কিনা?
২. যদি ৩ বার প্রজনন করানোর পরও গর্ভধারণ না করলে আবার প্রজনন করানোর আগে ভালোভাবে ভেটেরিনারি ডাক্তার কে দিয়ে গাভিকে পরীক্ষা করে ভেটেরিনারি ডাক্তারকে দিয়ে ও এসিআই সিমেন দ্বারা এআই (কৃত্রিম প্রজনন) করাতে হতে। কারণ এসিআই সিমেনের গর্ভধারণ হার বাংলাদেশের মধ্যে সর্বাধিক।
৩. প্রজনন করানোর সময় গাভীকে ভেটেরিনারি ডাক্তারের পরামর্শে হরমোনাল ড্রাগ ( Inj. Godorel -Synthetic GnRH 50 mcg) অথবা প্রজনন করানোর ২১ দিন আগে থেকে Ferti Boost খাওয়ানো যেতে পারে।
৪। জরায়ুতে গরম হওয়ার সময় ৮ম ঘণ্টা ও ১৪তম ঘণ্টায় Eagle Long PS ( Penicillin G) প্রয়োগ করা যেতে পারে।
গবাদি পশু সম্বন্ধে যেকোনো পরামর্শ নিতে যোগাযোগ করুন।
জিনিয়া ডেইরি ফার্ম
01830180230 ইমো হোয়াটসঅ্যাপ
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন