মাত্র ৭ দিনে চীনের ৬,০০০ কিলোমিটার রোড ট্রিপ!
ভাবছেন কীভাবে সম্ভব? চলুন শুরু করি চায়না ভ্রমণের ছোট্ট কিন্তু দারুণ অভিজ্ঞতার গল্প—
চীনের সবচেয়ে সুন্দর তিনটি শহর ঘুরেছি মাত্র এক সপ্তাহে:
চায়না ভিসা সহজ!
আজকাল চীনের ভিসা খুব সহজে পাওয়া যায়।
• যদি আপনার কোনো চাইনিজ সেলার থাকে, তাহলে ইনভাইটেশন নিয়ে মাত্র ৮,০০০ টাকায় নিজে নিজেই ভিসা করে নিতে পারবেন।
• ইনভাইটেশন না থাকলে, ভালো কোনো এজেন্সির সাহায্যে ১০-১৫ হাজার টাকায় ট্যুরিস্ট বা বিজনেস ভিসা পাওয়া সম্ভব।
আমার ভ্রমণ প্ল্যান ছিল এমন:
১. গুয়াংজু – ৩ রাত
• চীনের শপিং হাব!
• বায়ি ইউন মার্কেট, ফ্যাব্রিক মার্কেট, ইলেকট্রনিকস সিটি
• দারুন ফুড এবং ট্র্যাডিশনাল চাইনিজ এক্সপেরিয়েন্স
২. বেইজিং – ২ রাত
• ইতিহাস আর সংস্কৃতির শহর
• গ্রেট ওয়াল অব চায়না – এক কথায় অসাধারণ
• ফোরবিডেন সিটি ও তিয়েনআনমেন স্কয়ার
৩. ঝংজিয়াজি – ২ রাত
• প্রকৃতির এক অনন্য স্বর্গ
• ঝংজিয়াজি ন্যাশনাল ফরেস্ট পার্ক – যেটা “অ্যাভাটার মাউন্টেন” নামেও পরিচিত
• গ্লাস ব্রিজ – বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা ও উঁচু কাঁচের সেতু
চায়না ট্রাভেলের জন্য দরকারি কিছু অ্যাপ:
• Baidu Maps / Gaode Maps (গুগল ম্যাপ চলে না)
• WeChat – চায়নার সবকিছুই এই অ্যাপে
• Dianping – খাবার ও রেস্টুরেন্ট খুঁজতে
• Ctrip / Trip.com – টিকিট, হোটেল, বুকিং জন্য
• Translation App – চাইনিজ ভাষা বুঝতে Google
Translate (অফলাইন ভার্সন রাখতে হবে)
চীনা মাটিতে পা রাখার প্রথম ২৪ ঘণ্টার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা!
✈️ রাত ৩টার দিকে পৌঁছালাম গুয়াংজু এয়ারপোর্টে।
ইমিগ্রেশন টার্মিনালে পৌঁছেই দেখি কঠিন জেরা চলছে! দুজনকে সরাসরি সন্দেহ করে নিয়ে গেল ভিতরের রুমে।
আমার কাছে শুধু দুইটা প্রশ্ন—
– কেন এসেছেন?
– কত ডলার এনেছেন?
আমি বললাম: “ঘুরতে এসেছি, আনছি ৩৫০০ ডলার।”
ভদ্রলোক আর কিছু না বলেই সিল দিয়ে দিল—“Welcome to China”!
⸻
রোমিং প্যাকেজ বিপদে ফেলল!
বাংলালিংকের রোমিং একেবারে ফালতু! কাজ করেই না।
এয়ারপোর্টের ওয়াইফাই দিয়ে DiDi অ্যাপ দিয়ে ডেকে নিলাম ট্যাক্সি—১২০ ইয়ানে ৪ জনে পৌঁছালাম Sanyuanli এরিয়ায়।
⸻
হোটেলে ঠাঁই নাই!
সকাল ৬টায় পৌঁছালাম Burman Hotel– কিন্তু রুম ফ্রি না!
বলল ২টার আগে রুম ফাঁকা হলে দিবে, না হলে অপেক্ষা।
ইশ! যদি আগের রাতেই বুক করতাম, তাহলে ঘুমিয়ে সারাদিন ঘুরতে পারতাম!
⸻
সময়টা নষ্ট করিনি!
এই ফাঁকে চলে গেলাম:
Laos, Cambodia, Vietnam এম্বাসি দেখতে – সবই এক বিল্ডিংয়ে: Ellen Garden Hotel।
⸻
সন্ধ্যায় চীনের সৌন্দর্য
রুম পেলাম, ঘুম দিলাম আর সন্ধ্যায় মেট্রো ধরে চলে গেলাম Canton Tower– চারপাশের ভিউ এক কথায় অসাধারণ!
রাত ১০টা পর্যন্ত ক্যান্টন টাওয়ারে কাটিয়ে, ২০ ইয়ানে খেলাম:
রূপচাঁদা ফ্রাই + ভাত + ডাল + সবজি – Radhuni Bangla Restaurant
রাত ১২টা পর্যন্ত মেট্রো চলে – একদম চিন্তার বাইরে!
⸻
পরদিন সকাল:
ঘুম থেকে উঠে রওনা হলাম Dasha Tou Wholesale Electronics Market–
চীনের ইলেকট্রনিক্স পণ্যের জান্নাত! ৪-৫ ঘণ্টা ধরে ঘুরলাম, তারপর খাইলাম চাইনিজ খাবার—জঘন্য স্বাদ!
বাধ্য হয়ে চলে গেলাম Huimin Street Food Market (হুইমিন) – দারুণ হালাল স্ট্রিট ফুড!
শেষ বিকেলে পার্ল নদীর পাড়ে বসে লোকালদের সাথে ফিশিং,
রাতটা শেষ করলাম Lotus Mall-এ কিছু শপিং করে।
পরের পার্ট আসবে শীগ্রই….
নোট: পুরো চায়না সিরিজ দেখে আসতে পারেন আমার ইউটিউব চ্যানেলে Travel With Alomgir থেকে। অনেক অজানা তথ্য পেয়ে যাবেন এবং চায়না ভ্রমণের একটি কমপ্লিট গাইডলাইন পাবেন।
#ChinaTrip #GuangzhouTravel #BeijingGreatWall #Zhangjiajie #RoadTripChina
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন