এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

রবিবার, ৪ মে, ২০২৫

এথেন্সের গলিতে হারিয়ে গেলো চাঁদপুরের রুনা

 এথেন্সের গলিতে হারিয়ে গেলো চাঁদপুরের রুনা 


গ্রীসের রাজধানী এথেন্স। সূর্যের কোমল আলো শহরের প্রাচীন স্থাপত্যের দেয়ালে দেয়ালে খেলা করে। দিনের ব্যস্ততায় শ্রমজীবী মানুষ ছুটছে আপন লক্ষ্যের দিকে। কেউ যাচ্ছেন নির্মাণ কাজে, কেউবা আবার দোকানে অথবা ক্লিনিং কোম্পানিতে। পরিশ্রমের ঘামে ভেজা এ শহরের অলিগলিতে হাজারো স্বপ্ন নিয়ে বাস করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তাদেরই একজন ছিলেন রুনা আক্তার। বয়স ছত্রিশ। জন্মস্থান চাঁদপুরের সবুজ ঘেরা নদী ও খাল-বিল ঘেরা এক গ্রামে। জীবন-সংগ্রামে ভাগ্যের খোঁজে স্বামী রিপন মিয়ার হাত ধরে নারায়ণগঞ্জ থেকে উড়ে এসেছিলেন সুদূর গ্রিসে। স্বপ্ন ছিল, বিদেশের মাটিতে নিজের একটি শান্তিময় জীবন গড়ে তোলার। কিন্তু জীবন তার জন্য যে গল্প লিখেছিল, তা ছিল ভিন্ন। 


গ্রিসের মাটিতে বহু দেশের মানুষের সমাগম, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতির মিলনস্থল এটি। এখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি শক্তিশালী কমিউনিটি রয়েছে। নির্মাণকাজ থেকে শুরু করে ক্লিনিং সার্ভিস, রেস্তোরাঁ ব্যবসাসহ নানান কাজে নিজেদের শ্রম ও মেধার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন তারা। বিদেশ বিভুঁইয়ের প্রতিদিনের কঠোর পরিশ্রমের মধ্যেও তারা নিজেদের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ আঁকড়ে ধরে রাখেন। সেই প্রবাসী জীবনেই যুক্ত হয়েছিলেন রুনা আক্তার।


এথেন্সের কিপসেলি এলাকার তেনেদু স্ট্রিট। রুনা এখানকার একটি ক্লিনিং কোম্পানিতে কাজ করতেন। জীবন চলছিল কষ্টের মধ্যেও সুন্দর। একই কোম্পানিতে কাজ করতেন ৪০ বছর বয়সী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সেলিম আহমেদ ওরফে শান্ত। একই কাজে যুক্ত থাকায় ধীরে ধীরে দুজনের পরিচয় ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয়। একপর্যায়ে তাদের মাঝে গড়ে ওঠে গভীর এক প্রেমের সম্পর্ক। 


রুনার স্বামী রিপন তখন দীর্ঘদিন ধরে বেকার, তাদের পরিবার আর্থিক সংকটে ভুগছিল। এমন সময় সহকর্মী শান্তকে তাদের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়। গত কয়েক মাসে শান্ত'র কাছ থেকে প্রায় বিশ হাজার ইউরো ধার নেন রুনা ও রিপন দম্পতি। শান্ত অর্থনৈতিক সাহায্য দিতে গিয়ে কখনো ভাবেনি তার এই আবেগ একদিন রক্তাক্ত পরিণতিতে গিয়ে শেষ হবে।


রুনা শান্তকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি শীঘ্রই স্বামী রিপনের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ করবেন এবং শান্ত'র সঙ্গেই জীবন শুরু করবেন। কিন্তু দিন যেতে যেতে রুনা তার সিদ্ধান্ত পাল্টে ফেলেন। তিনি বুঝতে পারেন শান্ত'র সঙ্গে সম্পর্ক ভুল। রিপনের সঙ্গে নতুনভাবে জীবন শুরু করার চেষ্টা করেন রুনা। 


ধীরে ধীরে শান্ত'র সঙ্গে যোগাযোগ এড়িয়ে যেতে থাকেন রুনা। এই প্রত্যাখ্যান শান্তর জন্য ছিল অসহনীয়। রাগ, ক্ষোভ ও হতাশায় শান্ত নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেন না। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করায় ক্ষুব্ধ শান্ত প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। 


২০২২ সালের ২৮ আগস্ট। সূর্যের শেষ আলো তখনো এথেন্সের কিপসেলি এলাকার তেনেদু স্ট্রিটের দালানগুলোর দেয়ালে কমলা রঙের মায়াবী ছবি আঁকছিল। প্রাচীন ইতিহাসের শহর এথেন্সে প্রতিদিনের মতো আজও ব্যস্ত জীবনের মাঝ থেকে কিছুটা শান্তির আশায় মানুষজন ঘরে ফেরার জন্য প্রস্তুতি নেয়। এদিকে শান্তর মন অশান্ত হয়ে গিয়েছিলো। শান্ত রুনার বাসার সামনে গিয়ে তাকে ফোনে নিচে নামতে বলেন। জরুরি কিছু কথা বলার কথা শুনে রুনা বাসার নিচে নেমে আসেন।


রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শান্ত'র চোখে ছিল অসংখ্য প্রশ্ন। প্রথমেই শান্ত জানতে চান, রুনা তার স্বামী রিপনকে আসলেই ছেড়ে দিতে চান কি না। রুনা সেদিন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি কখনোই রিপনকে ছাড়বেন না। শান্তকে তাদের জীবন থেকে দূরে সরে যেতে বলেন। এই কথায় শান্ত তার দেওয়া কুড়ি হাজার ইউরো ফেরত চাইলে রুনা সাফ জানিয়ে দেন, তিনি কোনো টাকা ফেরত দিতে পারবেন না। 


তীব্র বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে শান্ত তার কোমরে লুকিয়ে রাখা ধারালো ছুরি বের করে (রুনাকে শায়েস্তা করার জন্য শান্ত এথেন্সের ওমোনিয়া স্কয়ারের কাছের এক দোকান থেকে আগেই তীক্ষ্ণ এ ছুরিটি কিনে আনেন)। এক নিমিষেই তিনি ছুরিটি বসিয়ে দেন রুনার পেটে। রক্তে ভেসে যায় তেনেদু স্ট্রিটের পিচঢালা রাস্তা। স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান রুনা।


পুলিশ গ্রেপ্তার করে শান্তকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শান্ত নিজেই খুনের কথা স্বীকার করেন। এই ঘটনায় হতবিহ্বল হয়ে পড়ে পুরো বাংলাদেশ কমিউনিটি। নেমে আসে বিষাদের ছায়া। কমিউনিটির নেতারা এগিয়ে এসে রুনার মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। বিশেষ করে তার কিশোরী মেয়ে মনিফা আকুল হয়ে অপেক্ষায় থাকে শেষবারের মতো তার মায়ের মুখটি দেখার জন্যে। অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২২ অক্টোবর রুনার মরদেহ পৌঁছে তার নিজ বাড়ি চাঁদপুরে।


আজও এথেন্সের তেনেদু স্ট্রিটে সন্ধ্যা নামলে রুনার কথা মনে করেন অনেকে। প্রবাসের কঠোর জীবনের মাঝে ভালোবাসা, ভুল বোঝাবুঝি আর ট্র্যাজেডির এক মর্মান্তিক অধ্যায় হিসেবে রচনা হলো রুনা নামে মেয়েটির গল্প।

কোন মন্তব্য নেই:

কশাইদের প্রতারণার শিকার ভোক্তাগণ,,,,,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 আমাদের দেশে মাংসের দোকানগুলোতে গেলে দেখবেন কসাই মাংস কাটছে আর সেই মাংস থরথর করে নড়ছে। সাধারণ ক্রেতারা মনে করে, মাংস নড়ছে মানেই এটা একদম টাট...