এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

রবিবার, ৪ মে, ২০২৫

স্যার প্রফুল্ল চন্দ্র রায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ঘুরে অনেক ডিগ্রি অর্জন করে ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন

 “আমি ক্লাসে এত করিয়া ছাত্রদের পড়াইলাম, যে পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপরে পড়িয়া চন্দ্রগ্রহণ হয় । তাহারা তা পড়িল, লিখিল, নম্বর পাইল, পাস করিল । কিন্ত মজার ব্যাপার হইল যখন আবার সত্যি সত্যি চন্দ্রগ্রহণ হইল তখন চন্দ্রকে রাহু গ্রাস করিয়াছে বলিয়া তাহারা ঢোল, করতাল, শঙ্খ লইয়া রাস্তায় বাহির হইয়া পড়িল । ইহা এক আশ্চর্য ভারতবর্ষ ।”


আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় একজন প্রখ্যাত বাঙালি রসায়নবিদ, শিক্ষক, দার্শনিক, কবি, বিজ্ঞান লেখক, ‘বেঙ্গল কেমিক্যালস’র প্রতিষ্ঠাতা, ‘মার্কারি নাইট্রেট’র আবিষ্কারক, দেশি শিল্পায়ন উদ্যোক্তা ও অধ্যাপক ৷ আচার্য স্যার প্রফুল্ল চন্দ্র রায় পি সি রায় নামেই সমাধিক পরিচিত(CIE, FNI, FRASB, FIAS, FCS) ৷


স্যার প্রফুল্ল চন্দ্র রায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ঘুরে অনেক ডিগ্রি অর্জন করে ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন । দেশে ফিরে প্রেসিডেন্সী কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন । প্রায় ২৪ বছর তিনি এই কলেজে অধ্যাপনা করেছিলেন । অধ্যাপনাকালে তার প্রিয় বিষয় রসায়ন নিয়ে তিনি নিত্য নতুন অনেক গবেষণাও চালিয়ে যান । তাঁর উদ্যোগে তাঁর নিজস্ব গবেষণাগার থেকেই ‘বেঙ্গল কেমিক্যাল’ কারখানা সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীকালে ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে তা কলকাতার মানিকতলায় ৪৫ একর জমিতে স্থানান্তরিত করা হয় । তখন এর নতুন নাম রাখা হয় ‘বেঙ্গল কেমিক্যাল এন্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস লিমিটেড’ ৷


নিজের বাসভবনে দেশীয় ভেষজ নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে তিনি তার গবেষণাকর্ম আরম্ভ করেন । তাঁর এই গবেষণাস্থল থেকেই পরবর্তীকালে বেঙ্গল কেমিক্যাল কারখানার সৃষ্টি হয় যা ভারতবর্ষের শিল্পায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে । তাই বলা যায় বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে ভারতীয় উপমহাদেশের শিল্পায়নে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য ।


১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি মারকিউরাস নাইট্রাইট (HgNO2) আবিষ্কার করেন যা বিশ্বব্যাপী আলোড়নের সৃষ্টি করে । এটি তাঁর অন্যতম প্রধান আবিষ্কার । তিনি তাঁর সমগ্র জীবনে মোট ১২টি যৌগিক লবণ এবং ৫টি থায়োএস্টার আবিষ্কার করেন ।


 আচার্য দেবের দেশপ্রেম তাকে ইউরোপে থেকে ফিরিয়ে এনেছিল । দেশে এসেও তিনি তার সেই স্বদেশপ্রীতির পরিচয় দিয়েছেন । তিনি ক্লাসে বাংলায় লেকচার দিতেন । বাংলা ভাষা তাঁর অস্তিত্বের সাথে মিশে ছিল । তার বাচনভঙ্গী ছিল অসাধারণ যার দ্বারা তিনি ছাত্রদের মন জয় করে নিতেন খুব সহজেই । তিনি সকল ক্ষেত্রেই ছিলেন উদারপন্থী ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ ।


আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় খুলনা জেলার রাড়ুলি-কাটিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন, ২রা আগস্ট ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে এবং তিনি প্রয়াণবরণ করেন ১৬ই জুন, ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে, কলকাতায় ৷


এই কিংবদন্তি বিজ্ঞানী ও মনীষী ব্যক্তিত্বের প্রতি জানাই অশেষ শ্রদ্ধা ও সম্মান ৷


ছবি: ২৫ জানুয়ারি, ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে বেঙ্গল কেমিক্যাল এন্ড ফারমাসিউটিক্যাল ল্যবে কর্মরত আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ৷


সৌজন্যে: রকি/ বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র


#bdcs #AcharyaPRAFULLAChandraRoy #1930s #oldphotograph #itihaserkhojegiridhar #giridhardey #বাংলাদেশের_দুষ্প্রাপ্য_ছবি_সমগ্র #ইতিহাসেরখোঁজেগিরিধর

কোন মন্তব্য নেই:

কশাইদের প্রতারণার শিকার ভোক্তাগণ,,,,,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 আমাদের দেশে মাংসের দোকানগুলোতে গেলে দেখবেন কসাই মাংস কাটছে আর সেই মাংস থরথর করে নড়ছে। সাধারণ ক্রেতারা মনে করে, মাংস নড়ছে মানেই এটা একদম টাট...