📜 ইতিহাস জানা সবার জন্য জরুরি, বিশেষ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। তাই নিজের ওয়ালে জমা রাখলাম।
ইহুদি ও ইসলাম ধর্ম—দু’টিরই মূল উৎস এক। উভয়ের জাতির পিতা হযরত ইবরাহীম (আঃ)।
🔸 ইবরাহীম (আঃ) এর দুই পুত্র:
১. ইসহাক (আঃ) – যাঁর বংশধরদের বলা হয় বনি ইসরাঈল,
২. ইসমাইল (আঃ) – যাঁর বংশধরদের মধ্য থেকে এসেছেন শেষ নবী, হযরত মুহাম্মদ (সঃ)।
🔹 বনি ইসরাঈলের উৎপত্তি:
ইসহাক (আঃ) এর ছেলে ইয়াকুব (আঃ)—তাঁর আরেক নাম ইসরাঈল।
ইয়াকুব (আঃ) এর ১২ পুত্রের একজন ছিল ইয়াহুদা, যার বংশ থেকেই ইহুদি জাতি বেশি বিস্তার লাভ করে।
তবে মনে রাখতে হবে, ইহুদি ধর্ম আর ইহুদি বংশ এক নয়।
ইহুদা—যিনি নিজের ভাই ইউসুফ (আঃ) কে হত্যার উদ্দেশ্যে কূপে ফেলে দিয়েছিল!
এই ঘটনার পর ইয়াকুব (আঃ) ও তাঁর পরিবার কেনান (বর্তমান ফিলিস্তিন) এ চলে যান, পরে দুর্ভিক্ষের কারণে মিশরে চলে যেতে হয়।
🔸 ইউসুফ (আঃ) তখন মিশরের রাজা।
তাঁর ভাইয়েরা মিশরে গিয়ে ক্ষমতা ও প্রভাব অর্জন করে।
কিন্তু কালের প্রবাহে ফারাওরা ক্ষমতায় আসে এবং বনি ইসরাঈলদের উপর নির্মম অত্যাচার শুরু হয়।
🔹 আল্লাহ তখন পাঠান হযরত মূসা (আঃ) কে,
যিনি ফেরাউনকে হারিয়ে বনি ইসরাঈলকে মুক্তি দেন এবং তাওরাত প্রদান করেন।
কিন্তু পরবর্তীতে তারা আবার আল্লাহর আদেশ অমান্য করে গরু পূজা, অনাচার এবং তাওরাতের বিকৃতি শুরু করে।
তাদের কিছু ধর্মব্যবসায়ী তাওরাত বিকৃত করে লিখে যে, "কেনান ভূমি ইহুদিদের জন্য প্রতিশ্রুত ভূমি" – এটাই "জেকব ল্যাডার ড্রিম"।
🔸 এই ধৃষ্টতা ও অবাধ্যতার ফলে তারা আল্লাহর গজব ও শাস্তির মুখোমুখি হয়ঃ
ব্যবিলনীয় সাম্রাজ্য দ্বারা গণহত্যা,
রোমান সাম্রাজ্য থেকে বিতাড়ন,
আরব দেশ থেকেও হিজরত,
উমার (রা.) ফিলিস্তিন বিজয় করেন এবং আল-আকসা মুসলিমদের অধিকারে আসে।
🔹 ইহুদিরা যেখানে আশ্রয় পেয়েছে, সেখানেই কৌশলে জমি, সম্পদ ও প্রভাব দখল করেছে।
তাদের ব্যবসায়িক কৌশল অনেক উন্নত হলেও, মিথ্যা, ধোঁকা ও কু-নীতি তাদের বহির্বিশ্বে ঘৃণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তবুও তারা শিক্ষা ও অর্থনীতিতে এগিয়ে যায়—কারণ তারা বুঝে যায়, "ক্ষমতা পেতে হলে শিক্ষা ও অর্থ লাগবেই।"
🔸 ১৮৯৭ সালে থিওডোর হার্জেল শুরু করেন জিওনিজম আন্দোলন,
যার লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিনে আবার ইহুদি রাষ্ট্র গঠন।
এই আন্দোলনের মূল পৃষ্ঠপোষক ছিল ইউরোপ ও ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ।
🔹 প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেনকে সাহায্য করে ইহুদি গবেষক চাইম ওয়াইজম্যান,
এর পুরস্কার হিসেবে সে দাবি করে “ফিলিস্তিন আমাদের প্রমিজ ল্যান্ড”।
এরপর ব্রিটেন ব্যালফোর ঘোষণা দেয়—ফিলিস্তিনে ইহুদিদের রাষ্ট্র গঠনের অনুমোদন।
🔸 ফিলিস্তিন তখন ছিল উসমানী খিলাফতের অধীনে,
তাদের পতনের পর ব্রিটেন ফিলিস্তিনে ইহুদি অভিবাসন সহজ করে দেয়।
প্রথমে তারা ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে ভাড়া নেয়, তারপর জমি কিনে বসতি স্থাপন করে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে ইহুদিরা সন্ত্রাসী হামলা শুরু করে এবং ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে।
এর মাত্র ৬ মিনিট পরেই আমেরিকা স্বীকৃতি দেয়!
নবগঠিত রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয় চাইম ওয়াইজম্যান।
---
💔 আজ সেই রাষ্ট্র ইসরায়েলই ফিলিস্তিন, বিশেষ করে গাজা উপত্যকাকে ধ্বংস করে চলেছে।
আর মুসলিম বিশ্বের নেতারা চুপচাপ দর্শকের ভূমিকায় বসে আছেন!
📌 ইতিহাস শুধু বইয়ের বিষয় নয়—এটি আমাদের ভবিষ্যতের আয়না।
এই ইতিহাসের শিক্ষা হলো: শিক্ষা, ঐক্য, ধর্মভীতি ও আত্মমর্যাদা হারালে—পরিণতি হয় ভয়াবহ।
---
🕊️ দয়া করে এই পোস্ট শেয়ার করুন,
যাতে নতুন প্রজন্ম ইতিহাস জানতে পারে এবং নিজেদের অধিকার, দায়িত্ব ও চেতনা সম্পর্কে সচেতন হয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন