একটা বিষয় খেয়াল করে দেখেন, হোমিওপ্যাথি পড়ার সময় পড়েছেন এলোপ্যাথি থিওরি ভুল, আর এখন এলোপ্যাথি টেস্ট দেখে বলছি হোমিওপ্যাথি তে চিকিৎসা নাই।
যেমন -
আঁচিল - এলোপ্যাথি সূত্র হল, কোন অনাকাংখিত বৃদ্ধি মানেই ক্যান্সার, তাদের সূত্র অনুসারে হলেও এলপ্যাথি একে ক্যান্সার হিসেবে মানতে নারাজ বরং একে তোয়াক্কাই করে না। কিন্তু হোমিওপ্যাথিতে একে ক্যান্সার হিসেবেই গণ্য করা হয়। এবং হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকগণ গণহারে আঁচিল নির্মূল করছেন অত্যন্ত সফলতার সাথে।
টিউমার - এলোপ্যাথিতে বায়োপসি করে - বিনাইন , ম্যালিগনেন্ট নির্ধারণ করে । ননক্যান্সার হলে অপারেশন আর ক্যান্সার হলে অপারেশন ও ক্যামোথেরাপি। এছাড়া অন্য কোন চিকিৎসা নাই। সেখানে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকগণ গণহারে সফলতার সাথে টিউমারর নির্মূল করে চলছেন।
ক্যান্সার - যখন বায়োপসিতে ক্যান্সার সনাক্ত হয়, অপারেশন এবং ক্যামোথেরাপি ছাড়া অন্য কোন চিকিৎসা নাই । সেখানেও অনেক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক রোগিদের চিকিৎসা দিয়ে ক্যামোথেরাপি ছাড়াই রোগি সুস্থ জীবন যাপন করছেন। যেখানে চিকিতসাই নাই, সেখানে ক্যান্সার দূর হল কিনা সেটা বড় কথা নয়, এখানে রোগী ভালো থাকাই সুস্থতা।
--------------------
আমার অভিজ্ঞতা -
সাধারণত বয়সজনিত কারণে বা বিশেষ কোন কারণে রোগিকে ক্যামোথেরাপি দেয়া সম্ভব না হলে, বাতিল রোগীর তালিকায় ফেলা হয়। তখন রোগিরা একটু হোমিও খেতে আসে। আবার অনেকে আশেপাশে খোঁজ নিয়ে দেখে যে ক্যামোথেরাপির রোগী বেশী দিন বাঁচে না , তাই হোমিও খেতে আসে। আবার কেউ কেউ খরচ সংকটে হোমিও খেতে আসে।
আগের কথা বাদ, শুধুমাত্র গত কয়েক মাসে আমি ২৫ জন ক্যান্সার রোগী দেখেছি , এর মধ্যে আছে,
ফুসফুস ক্যান্সার,
ভোকাল কর্ড ক্যান্সার,
পাকস্থলী ক্যান্সার,
কোলন ক্যান্সার,
লিভার ক্যান্সার
ওভারী ক্যান্সার,
জরায়ু ক্যান্সার,
স্তন ক্যান্সার,
ব্রেন ক্যান্সার,
ইত্যাদি,
এদের মধ্যে সবগুলো রোগী সুস্থ জীবন যাপন করছেন।
শুধুমাত্র গত কয়েক মাসে টিউমার রোগী দেখেছি ৯৪ জন,
সবগুলো টিউমার আরোগ্য লাভ করেছে বা আরোগ্যের পথে আছেন।
আমার সাভার চেম্বারের একজন রোগী জরায়ু ক্যান্সার অপারেশন এর পরে পোস্ট অপারেটিভ কমপ্লিকেশন এর পর ক্যালসিফিকেশন হয়েছে, কেন হয়েছে, এটা লিখতে গেলে অনেক বড় পোস্ট হবে পরে একসময় লিখব। রোগির চিকিৎসা চলছে।
গতবছর, ২ জন ক্যান্সার রোগী - শেষ সময় এসে কিছুটা উপশম হয়েছিল। একাধিক অপারেশন করে ফেইল হয়ে হোমিও তে এসেছিল।
*** এই গরমের মধ্যেও Cold Allergy এর রোগী দেখেছি ১৫০ জন, গত কয়েক মাসে। এদের মধ্যে আছেন, MBBS চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্য।
-------------------
আমার বক্তব্য, হল, এভাবে অনেক চিকিৎসক সফলতা পাচ্ছেন। কেন ? কারণ, তারা একে ক্যান্সার হিসেবে ভয় না পেয়ে হোমিওপ্যাথির দর্শন অনুসারে চিকিৎসা দিচ্ছেন এবং রোগিরা উপায় না পেয়ে ধৈর্য্য ধরে ঔষধ খেয়ে যাচ্ছেন এই ভেবে যে, মরে তো যাবই, মরার আগে একটু খেয়ে দেখি।
তাহলে কি দাড়াল ?
যেই চিকিৎসা এলপ্যাথিতে নাই, সেটা হোমিওপ্যাথিতে সফলতা আছে।
এই রকম, দূরারোগ্য জ্বর, এজমা, কোল্ড এলার্জি, ব্রেইন স্ট্রোক, ইত্যাদিতে এলোপ্যাথিতে সাময়িক উপশম ছাড়া আরোগ্যের চিকিৎসা নাই, সেখানে আমি সফলতার সাথে চিকিৎসা দিচ্ছি।
দিনে ৪-৫ বার নেবুলাইজার দিতে হয়, ২ টা ইনহেলার নিতে হয়, এমন যত কষ্টকর এজমা , কোল্ড এলার্জি, টনসিল, সাইনাস, মাইগ্রেন, পলিপ, কানের ইনফেকসন ৬-১০ মাসে সম্পূর্ণ সুস্থ হচ্ছে, তাও আবার সারাজীবনের জন্য।
তাহলে, বর্তমানে, কিডনি রোগিদের জন্য হোমিওপ্যাথির দর্শন বাদ দিয়ে এলোপ্যাথি টেস্ট রিপোর্ট দেখেই আমরা বলছি, হোমিওপ্যাথিতে এর চিকিৎসা নাই। কেন ? কারণ, এখানে হোমিওপ্যাথির দর্শন বাদ দিয়ে এলোপ্যাথির চশমা দিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই বিষয়গুলো নিয়ে আমি আমার ওয়েবসাইটে লিখার পর , আলহামদুলিল্লাহ, সাধারণ মানুষ কে সঠিক তথ্য বুঝাতে এবং চিকিৎসা দিয়ে আরোগ্য করতে সক্ষম হচ্ছি। এমন অনেক বিষয় আমি যখন আরো ৬-৭ বছর আগে লিখেছি, তখন আমার পোস্টে নেগেটিভ কমেন্ট করলেও এখন অনেক চিকিৎসক এর প্রোফাইলে সেগুলো স্থান পাচ্ছে যে আপনারা সফল হচ্ছেন, এবং আমার ওয়েবসাইটে দেয়া থিওরি মোতাবেক আপনারা পোস্ট করছেন। এককালে গালি দিলেও এখন আপনারা নিজেরাই এই থিওরি মোতাবেক রেজাল্ট পাচ্ছেন, এটাই আমার সার্থকতা।
আল্লাহ যদি হায়াতে বাঁচিয়ে রাখে, আশাকরি, আগামী কয়েকবছর পরেই দেখব, কেউ না কেউ আমার কিডনি থিওরি মোতাবেক সফলতা পাচ্ছেন। আমি মরে গেলেও আমার থিওরি যদি মানুষের কল্যানে লাগে তাতেই অনেক।
পরিশেষে, অনেকেই উলটাপালটা কমেন্ট করবেন যে, আমি আবার কোন দেশের বিজ্ঞানী যে আমার থিওরি।
উত্তর - আমি কোন বিজ্ঞানী নই। আমার দীর্ঘদিনের লেখাপড়া ও রোগী পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা অভিজ্ঞতা থেকে যা অর্জন করেছি চিকিৎসা দর্শন সেটাই আমি আমার ওয়েবসাইটে লিখেছি। না আমার কোন জার্নাল নাই। জার্নালে লিখার যোগ্যতাও নাই।
একটা প্রমাণ দেই, সাম্প্রতিক সময়ে - কোল্ড এলার্জি বিষয়ক যে লিখাগুলো হোমিওপাথি চিকিৎসকদের প্রোফাইলে আছে, এই তথ্য টি বাংলা বা ইংরেজী কোন মেডিকেল বইতে নাই। এই চিকিৎসক হয় আমার কন্টেন্ট কপি করেছেন, অথবা তিনি যদি অন্য কোন শিক্ষক থেকে জেনে থাকেন, তাহলে সেই শিক্ষক, আমার কন্টেন্ট কপি করেছেন।
আমার চেম্বারে আগত রোগিরাই আমাকে বলেন যে, ওয়েবসাইটের তথ্য অবিকল বা কিঞ্চিত পরিবর্তন করে অনেক প্রোফাইলে দেখে রোগীরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন যে এই লিখা আসলে কার ? কিন্তু পোস্টে সময় দেখা যায় বলেই, তারা পরে বুঝতে পারেন যে, ওয়েব সাইটে আগে লিখা হয়েছে। এই লিখাগুলো ওয়েবসাইটে ২০১৩ -২০১৮ সালের মধ্যে লিখা হয়েছে।
=============
সামারি ঃ
পোস্টের সামারি হল,
আমরা যখন হোমিওপ্যাথি লেখাপড়া করি তখন বলা হয়, এলোপ্যাথি থিওরী ভুল এবং হোমিওপ্যাথি থিওরী অনুসারে চিকিৎসা শিখানো হয়। কিন্তু আমরা চেম্বার দেয়ার পর, হোমিওপ্যাথি থিওরী ভুলে গিয়ে এলোপ্যাথি টেস্ট রিপোর্ট দেখে বলতে থাকি যে, হোমিওপ্যাথি তে চিকিৎসা নাই।
কারণ, আপনি হোমিওপ্যাথি দর্শন ভুলে এলোপ্যাথি দর্শন এ আছেন। তাই চোখ থেকে এলোপ্যাথি চশমা খুলে হোমিওপ্যাথির চশমা পড়তে হবে।
তাই আমি বলতে চাই,
এলোপ্যাথি রিপোর্ট ভয় না করে যেভাবে টিউমার আচিল এর চিকিৎসা দিচ্ছেন হোমিওপ্যাথি দর্শন অনুসারে, ঠিক সেইভাবে অন্যান্য রোগীর চিকিৎসা করুন। আপনি অবশ্যই সফল হবেন।
জ্বরের রোগী এলোপ্যাথি খেয়ে জ্বর থাকে না কিন্তু নেতিয়ে যায়। আর জ্বরের রোগী হোমিও খেলে জ্বর নিয়েও দাড়িয়ে থাকে।
=================
নোটঃ ক্লাসে টিচার পড়ানোর সময় দেখবেন কিছু ছাত্র হাসি তামাসা করে কারণ, ওরা ক্লাসের টপিক বা গুরুত্ব কিছুই বুঝে না, তেমনি পোস্টেও এমন কিছু পাঠক থাকবে যারা না বুঝেই হাহা রিয়েক্ট দিবে। এগুলাই স্বাভাবিক। হাতের সব আঙ্গুল সমান না। অনেকে চিকিৎসক হলেও এখনো আচরণের বাচ্চামি দূর হয় নাই, ইমম্যাচিউর :)
===================
ডিসক্লেইমার:
সম্পূর্ণ পোস্টে কোথাও দাবি করা হয় নাই যে, আমি ক্যান্সার ভালো করেছি। সুস্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, ক্যামোথেরাপি দেয়ার মত শারীরিক বা আর্থিক অবস্থা নাই, এমন বাতিল রোগীদের, হোমিওপ্যাথির মাধ্যমে কিছুটা উপশম দেয়াই সুস্থতা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন