নিষিদ্ধ কালো চাল ব্ল্যাক রাইস বা ফরবিডেন রাইস
গাঢ় বেগুনি-কালো রঙ, হালকা মিষ্টি স্বাদ আর চিবানো যায় এমন টেক্সচার থাকার জন্য ব্ল্যাক রাইস অন্য সব চালের থেকে আলাদা। শুধু চেহারায় না, পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতার দিক থেকেও এটি অনন্য খাবার।
ব্ল্যাক রাইস আসলে এক ধরনের হেরিটেজ রাইস যা হাজার হাজার বছর ধরে এশিয়ার খাদ্যতালিকায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটা অন্যান্য সাদা, লাল কিংবা বাদামি চালের মতো এত বেশি পরিমাণে উৎপাদিত হয় না। তুলনামূলক কম উৎপাদন হওয়ায় এর কদর ও মূল্য বেশি।
ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসাশাস্ত্রে ব্ল্যাক রাইসের ব্যবহার অনেক আগে থেকেই রয়েছে। তবে প্রাচীন কালে এটি শুধুমাত্র সম্রাট ও অভিজাত শ্রেণি খেতে পারত। বিশ্বাস করা হতো, এই চাল দীর্ঘায়ু, শক্তি ও সুস্থতা এনে দেয়। সাধারণ মানুষের জন্য তা ছিল নিষিদ্ধ। সেখান থেকেই এর নাম হয়েছে Forbidden Rice বা ‘নিষিদ্ধ চাল’।
বর্তমানে অবশ্য এটি বিশ্বব্যাপী সবার জন্য সহজলভ্য।
ব্ল্যাক রাইসের দানায় থাকা অ্যান্থোসায়ানিন (Anthocyanin) নামের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রঞ্জক এর চেহারায় কালচে বেগুনি রঙ এনে দেয়। এই একই রঞ্জকই বেগুন, আঙুর, ব্লুবেরি ইত্যাদিকেও রঙিন করে। অ্যান্থোসায়ানিন দেহের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- ব্ল্যাক রাইস ভিটামিন ই, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, প্রোটিন, ফাইবার ও আয়রনের ভালো উৎস।
- ১০০ গ্রাম রান্না করা ব্ল্যাক রাইসে থাকে প্রায় ২.৪ মি.গ্রা. আয়রন। যা সাদা চালের তুলনায় ১০ গুণ বেশি! এতে প্রায় ৮.৮৯ গ্রাম প্রোটিন রয়েছে, যেখানে একই পরিমাণ সাদা চালে মাত্র ৬.৯৪ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়।
এছাড়াও এতে আছে অ্যামিনো অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্যাটি অ্যাসিড।
- ব্ল্যাক রাইসে থাকা ক্যারোটিনয়েডস চোখের রেটিনার কোষকে সুরক্ষা দেয়। এগুলো অতিবেগুনি (UV) রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সাহায্য করে এবং ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে। পাশাপাশি ভিটামিন ই চোখ, ত্বক ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্যও উপকারী।
- ব্ল্যাক রাইসের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটো-কেমিক্যালস দেহকে ইনসুলিনের প্রতি সংবেদনশীল করে তোলে। এতে শরীরের গ্লুকোজ ব্যবহারের ক্ষমতা বাড়ে, রক্তে শর্করা ধীরে শোষিত হয় এবং রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
- ব্ল্যাক রাইস প্রাকৃতিকভাবেই গ্লুটেন-ফ্রি। চালের বাইরের স্তরে থাকা অ্যান্থোসায়ানিন হৃদরোগ প্রতিরোধ, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নয়ন এবং ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
ব্ল্যাক রাইস রান্নার আগে ৩০–৬০ মিনিট ভিজিয়ে রাখা ভালো। রান্নায় এটি সাধারণত অন্যান্য চালের তুলনায় একটু বেশি সময় নেয়।
এটি শুধু ভাত হিসেবেই না, বরং সুপ, মিষ্টান্ন হিসেবেও খাওয়া যায়।
ক্যাপ্টেন গ্রিন
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন