নোবেল পুরস্কার ২০২৫: ফিজিওলজি বা মেডিসিন
শরীরকে নিজের আক্রমণ থেকে বাঁচানোর সুরক্ষা ব্যবস্থা আবিষ্কার
২০২৫ সালের চিকিৎসাশাস্ত্র বা শারীরবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মেরি ই. ব্রাঙ্কো, ফ্রেড র্যামসডেল এবং শিমন সাকাগুচি মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ভারসাম্য রক্ষা (Self-Tolerance) সংক্রান্ত মৌলিক আবিষ্কারের জন্য এই সম্মাননা পান। একেকজন আলাদা ল্যাব, আলাদা দেশে কাজ করেছেন। কিন্তু তিনজনের গবেষণা মিলিয়ে আমাদের শরীর সম্পর্কে এক গভীর সত্য ধরা দিয়েছে।
ইমিউন সিস্টেম শুধু যুদ্ধ করতে জানে না, সে জানে কখন থামতে হবে, কাকে আঘাত না করে ছাড় দিতে হবে। আর সেই “ছাড় দেওয়ার বুদ্ধি”টাই হল পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স।
.
শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে ইমিউন সিস্টেম
মানুষের ইমিউন সিস্টেমকে আপনি চাইলে শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে কল্পনা করতে পারেন। বাইরে থেকে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, প্যারাসাইট ঢুকলে সৈন্যরা (টি-সেল, বি-সেল ইত্যাদি) ধেয়ে যায় আক্রমণ করতে। কিন্তু শহরের ভেতরের মানুষ, নিজের দোকান-–বাড়ি, অফিস-আদালত—এসবকে আক্রমণ করলে তো চলবে না।
তাই প্রয়োজন শুধু অস্ত্রধারী বাহিনী নয়। দরকার রেফারি, ট্রাফিক পুলিশ আর শান্তিরক্ষীও—যারা ঠিক করবে কোথায় “স্টপ”, কোথায় “স্লো”, আর কোথায় “ওকে, যেতে দাও”। পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স আসলে এই “শান্তি রক্ষা” ও “সীমা টেনে দেওয়ার” বৈজ্ঞানিক ভাষা।
.
রেগুলেটরি টি সেল: শরীরের ভেতরের শান্তিবাহিনী
এখানেই আসছে রেগুলেটরি টি সেল, সংক্ষেপে Treg (Regulatory T cell)। এরা এমন কিছু টি-সেল, যাদের কাজ লড়াই করা নয়। বরং অন্য টি-সেলদের নিয়ন্ত্রণে রাখা—অনেকটা রেফারি বা শান্তিবাহিনীর মত।
কোনো টি-সেল যদি ভুল করে নিজের শরীরের টিস্যুকে শত্রু ভেবে আক্রমণ করতে যায়, Treg গিয়ে তাকে থামায়। তারা সংকেত কমিয়ে দেয়, বা পুরো প্রতিক্রিয়াটাই “ডাউন” করে দেয়। শিমন সাকাগুচির বড় অবদান হল, এই গোপন শান্তিবাহিনীকে তিনি প্রথম স্পষ্ট করে দেখিয়েছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন, ইমিউন সিস্টেমের ভেতরে সত্যিই এমন এক আলাদা “ব্রেক সিস্টেম” আছে।
.
সাকাগুচির ইঁদুর-পরীক্ষা: ব্রেক তুলে নিলে কী হয়
সাকাগুচি ১৯৯০-এর দশকে ইঁদুর নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখলেন, সব টি-সেল সমান নয়। কিছু টি-সেলের গায়ে বিশেষ এক মার্কার থাকে—CD25। এগুলিকে আলাদা করে পরীক্ষা করে তিনি এক অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার করলেন।
যে ইঁদুরের শরীর থেকে এই CD25-যুক্ত টি-সেলগুলি সরিয়ে দেওয়া হয়, কিছুদিনের মধ্যেই সে ভয়ঙ্কর অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত হয়। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে প্রদাহ দেখা দেয়, টিস্যু নষ্ট হয়ে যায়। এক কথায়, ইমিউন সিস্টেম নিজের শরীরের ওপরই আক্রমণ চালাতে শুরু করে।
আবার, যদি এই বিশেষ কোষগুলি ফেরত দেওয়া হয়, তখন রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। এখান থেকেই প্রমাণ হল, CD25-সমৃদ্ধ এই টি-সেলগুলিরই একটা অংশ হল Regulatory T cell। এরা না থাকলে ইমিউন সিস্টেম নিজের ও পরের পার্থক্যটাই হারিয়ে ফেলে।
নতুন প্রশ্ন সামনে এলো, Treg তৈরি হয় কীভাবে?
কিন্তু শুধু জানা গেল যে Treg আছে, এতে পূর্ণ ছবি পাওয়া গেল না। প্রশ্ন থেকে গেল—এই বিশেষ “শান্তিবাহিনী” তৈরি হয় কীভাবে? কোন জিন বা মলিকুলার প্রোগ্রাম ঠিক করে যে, একটা টি-সেল লড়াই করবে, নাকি লড়াই থামানোর দায়িত্ব নেবে?
এখানেই বিশাল ভূমিকা রাখেন মেরি ই. ব্রাঙ্কো এবং ফ্রেড র্যামসডেল।
.
Scurfy মাউস: এক অদ্ভুত ইঁদুর থেকে বড় আবিষ্কার
তারা কাজ শুরু করলেন এক অদ্ভুত ইঁদুর নিয়ে, যার নাম scurfy mouse। এই ইঁদুর খুব অল্প বয়সেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। সারা শরীরে প্রচণ্ড প্রদাহ হয়, অঙ্গগুলি ফেইল করতে থাকে। সব মিলিয়ে দেখতে এক ভয়ংকর অটোইমিউন সিন্ড্রোমের মত।
আগেই জানা ছিল, সমস্যাটা X ক্রোমোজোমের কোনো জিনে। কিন্তু ঠিক কোনটায়, তা কেউ জানত না। ব্রাঙ্কো ও র্যামসডেল ধৈর্য ধরে সেই X ক্রোমোজোমের অঞ্চল ধরে ধরে স্ক্যান করতে থাকলেন।
তখনকার প্রযুক্তি দিয়ে পুরো ক্রোমোজোম ঘেঁটে কোনো নির্দিষ্ট মিউটেশন বের করা মানে সত্যিই খড়ের গাদায় সূচ খোঁজার মত কাজ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা পেলেন এক নতুন ট্রান্সক্রিপশন ফ্যাক্টর জিন, যার নাম রাখলেন FOXP3।
.
FOXP3: ব্রেক না থাকলে ইমিউন সিস্টেমের উন্মত্ত দৌড়
দেখা গেল, scurfy ইঁদুরের এই FOXP3 জিনে গুরুতর ত্রুটি আছে। এই ত্রুটি থাকলেই ইঁদুরের ইমিউন সিস্টেম যেন লাগামহীন ঘোড়ার মত সবকিছুতে আক্রমণ চালিয়ে যায়। পুরো শরীর জুড়ে অটোইমিউন ঝড় শুরু হয়।
এর পাশাপাশি তারা মানুষের একটি বিরল ও ভয়ঙ্কর রোগের দিকে তাকালেন—IPEX syndrome (Immune dysregulation, Polyendocrinopathy, Enteropathy, X-linked)। সাধারণত ছোট ছেলে শিশুদের এই রোগ হয়, কারণ জিনটি X ক্রোমোজোমে থাকে।
এই শিশুদের মধ্যে একসাথে একাধিক গ্রন্থির রোগ দেখা যায়। অন্ত্রের মারাত্মক প্রদাহ হয়, ডায়াবেটিস হয়, থাইরয়েডের সমস্যা দেখা দেয়। সবকিছু মিলিয়ে শরীরের ইমিউন সিস্টেম যেন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।
বিভিন্ন দেশের হাসপাতাল থেকে IPEX রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে যখন FOXP3 জিন পরীক্ষা করা হল, দেখা গেল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই FOXP3-এ মারাত্মক মিউটেশন রয়েছে। অর্থাৎ, ইঁদুর আর মানুষের, দু’ক্ষেত্রেই একই গল্প। FOXP3 নষ্ট মানেই রেগুলেটরি টি সেল ঠিকমত গড়ে উঠতে পারে না। আর তার ফল ভয়াবহ অটোইমিউন ব্যর্থতা।
.
FOXP3: Treg-এর “মাস্টার কন্ট্রোল জিন”
এরপরের কয়েক বছরের মধ্যে আরও গবেষণা প্রমাণ করল, FOXP3 আসলে Treg-এর “মাস্টার কন্ট্রোল জিন”। কোনো টি-সেলে FOXP3 সঠিকভাবে কাজ করলে সেই কোষ রেগুলেটরি চরিত্র ধারণ করে।
মানে, সে অন্য কোষকে থামাতে শেখে, শান্ত রাখতে শেখে। ইমিউন প্রতিক্রিয়াকে অতিরিক্ত হয়ে যেতে না দিতে শেখে। আর FOXP3 নষ্ট হলে ঠিক বিপরীত ঘটে।
তখন Treg গঠন ব্যাহত হয়। ইমিউন সিস্টেম নিজের শরীরের বিরুদ্ধে অকারণে যুদ্ধ শুরু করে। শিমন সাকাগুচি যে রেগুলেটরি টি সেলের ধারণা দিয়েছিলেন, ব্রাঙ্কো ও র্যামসডেল সেই ধারণার মলিকুলার ভিত এনে দিলেন। তারা দেখালেন, এই শান্তিবাহিনীর কমান্ডার জিন হল FOXP3।
.
অটোইমিউন রোগ: যখন ব্রেক কাজ করে না
এই আবিষ্কারের বাস্তব প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্ট হয় অটোইমিউন রোগ, ক্যান্সার আর অর্গান ট্রান্সপ্লান্ট-এর মত জায়গায়। যেমন ধরুন, টাইপ-১ ডায়াবেটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, লুপাস বা মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের মত রোগ।
এই ধরনের রোগে আমরা দেখি, রোগীর শরীরে Treg-এর সংখ্যা বা কার্যকারিতা অনেক সময় কম থাকে। ফলে যে টি-সেলগুলি আক্রমণ থেকে বিরত থাকার কথা, তারা আর থামে না। তারা নিজের অর্গান-টিস্যুকেই ধ্বংস করতে থাকে।
এখন গবেষকরা চেষ্টা করছেন—কীভাবে আবার Treg বাড়ানো যায়। কীভাবে FOXP3-এর কার্যকারিতা বাড়িয়ে ইমিউন সিস্টেমকে নিজের শরীরের প্রতি “সহনশীলতা” শেখানো যায়।
কোথাও কম ডোজ IL-2 দিয়ে Treg বাড়ানোর ট্রায়াল চলছে। কোথাও রোগীর নিজের Treg কোষ ল্যাবে বাড়িয়ে আবার শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে—যাকে “Treg সেল থেরাপি” বলা যায়।
.
ক্যান্সার: যখন শান্তিবাহিনী ভুল পক্ষকে বাঁচায়
ক্যান্সারের ক্ষেত্রে আবার ছবি ঠিক উল্টা। অনেক টিউমারের ভেতরে খুব বেশি সংখ্যায় Treg জড়ো হয়। এখানে এই শান্তিরক্ষী বাহিনী আসলে শরীরের বদলে টিউমারকেই রক্ষা করে।
টিউমারের আশেপাশে Treg এত বেশি হয়ে যায় যে, ইমিউন সিস্টেমের যে আক্রমণকারী টি-সেলগুলি ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে পারত, তারা আর কাজ করতে পারে না। টিউমার একধরনের “ইমিউন সুরক্ষা-প্রাচীর” তৈরি করে। সেখানে Treg-ই হয়ে যায় তার নিরাপত্তারক্ষী।
তাই এখন অনেক ক্যান্সার ইমিউনোথেরাপিতে গবেষকরা নতুন উপায় খুঁজছেন। কীভাবে নির্দিষ্টভাবে টিউমারের আশেপাশের Treg কমিয়ে বা দুর্বল করে আক্রমণকারী টি-সেলদের আবার সক্রিয় করা যায়, সেটাই তাদের মূল লক্ষ্য। যাতে ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে তাদের প্রাকৃতিক যুদ্ধটা পুনরায় শুরু হয়।
.
অর্গান ট্রান্সপ্লান্ট: ইমিউন সিস্টেমকে “মানিয়ে নিতে” শেখানো
অর্গান ট্রান্সপ্লান্টের গল্পও এই আবিষ্কারের আলোয় নতুন করে দেখা যায়। অন্যের কিডনি, লিভার বা হার্ট শরীরে বসালে ইমিউন সিস্টেম এগুলিকে প্রথমে একদম “বিদেশি শত্রু” হিসাবে দেখে। স্বাভাবিকভাবেই সে আক্রমণ করতে চায়।
এই আক্রমণ ঠেকাতে রোগীকে সারাজীবন ইমিউনো-সাপ্রেসিভ ওষুধ খেতে হয়। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক—সংক্রমণ, ক্যান্সার, এমনকি অর্গান ফেইলিওর পর্যন্ত।
কিন্তু যদি টার্গেটেড Treg দিয়ে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করা যায়, যেখানে শুধু ওই ট্রান্সপ্লান্টেড অর্গানের বিরুদ্ধে ইমিউন প্রতিক্রিয়াটা শান্ত হয়ে যায়, তাহলে সুবিধা হয়। বাকি শরীরের প্রতিরোধশক্তি তখন মোটামুটি ভাল থাকে।
তাহলে ট্রান্সপ্লান্ট রোগীদের জীবন অনেক নিরাপদ আর স্বাভাবিক হতে পারে। তাই আজকে CAR-Treg-এর মত কনসেপ্ট নিয়ে কাজ হচ্ছে। সেখানে বিশেষভাবে ডিজাইন করা Treg নির্দিষ্ট অর্গান বা টিস্যুকে চিনে সেখানেই গিয়ে ইমিউন প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখবে।
.
সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু: Regulatory T cell এবং FOXP3
এই সবকিছুর ভিত্তি, শেষ পর্যন্ত এসে দাঁড়ায় ঐ দুটো শব্দে—Regulatory T cell আর FOXP3। শিমন সাকাগুচি দেখালেন, এমন এক আলাদা টি-সেল গোষ্ঠী আছে, যারা ইমিউন সিস্টেমের ভেতরে শান্তি রক্ষা করে।
মেরি ব্রাঙ্কো ও ফ্রেড র্যামসডেল দেখালেন, এই শান্তিবাহিনী গড়ে ওঠার চাবিকাঠি একটি নির্দিষ্ট জিন—FOXP3। তিনজনের গবেষণার ফল মিলিয়ে এখন আমরা জানি, ইমিউন সিস্টেমের ভেতরে শুধু “আক্রমণ বাহিনী”ই নেই। খুব সংগঠিত এক “ব্রেক সিস্টেম”ও আছে। আর সেটাকে বদলাতে পারলে ভবিষ্যতের চিকিৎসায় বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হয়।
.
তিন নোবেলজয়ী: ল্যাবের ভেতরের মানুষগুলি
তিন বিজ্ঞানীর ব্যক্তিগত পথও কম আকর্ষণীয় নয়। মেরি ই. ব্রাঙ্কো যুক্তরাষ্ট্রে জন্মেছেন। তিনি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে।
সিয়াটলের ইনস্টিটিউট ফর সিস্টেমস বায়োলজিতে কাজ করতে করতে scurfy ইঁদুরের FOXP3-ত্রুটি খুঁজে বের করা প্রকল্পের অন্যতম মূল চালিকাশক্তি হয়েছেন। তার কাজ দেখিয়েছে, একটি মাত্র জিনের সমস্যা পুরো ইমিউন সিস্টেমের ভারসাম্য উল্টে দিতে পারে। আজ বিরল জেনেটিক রোগ থেকে শুরু করে সাধারণ অটোইমিউন রোগ বোঝার ক্ষেত্রেও এই ধারণা প্রভাব ফেলছে।
ফ্রেড র্যামসডেল একদিকে একাডেমিক গবেষক, অন্যদিকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল বায়োটেকের সেতুবন্ধনকারী। তিনি শুধু FOXP3 আবিষ্কারে নন, পরের ধাপেও গুরুত্বপূর্ণ।
এই জ্ঞানকে ভিত্তি করে Treg-ভিত্তিক সেল থেরাপি আর নতুন ধরনের ইমিউনো-মডুলেটরি চিকিৎসার দিকে গবেষণা এগিয়ে নেওয়ার কাজও তিনি করে চলেছেন।
আর শিমন সাকাগুচি, জাপানের ইমিউনোলজি জগতের এক কিংবদন্তি। তিনি দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে Treg-এর ভূমিকা ও গঠন নিয়ে কাজ করছেন। FOXP3-এর সঙ্গে এর সম্পর্ক আর বিভিন্ন রোগে Treg-এর ভারসাম্য ভাঙার প্রভাব নিয়েও তিনি ধারাবাহিকভাবে গবেষণা করে গেছেন।
.
লড়াই নয়, ভারসাম্যই ভবিষ্যৎ
এই সব কারণে নোবেল কমিটি যখন বলল—তাদের আবিষ্কার দেখিয়েছে কীভাবে আমাদের ইমিউন সিস্টেম “নিজেকে নিজে নিয়ন্ত্রণে রাখে”—তা শুধু বৈজ্ঞানিক ভাষণ ছিল না। আমাদের স্বাস্থ্যের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এক বড় আশার কথাও ছিল।
আজ আমরা হয়ত সাধারণ রোগী হিসেবে FOXP3 বা Treg-এর নাম জানি না। কিন্তু অটোইমিউন রোগের নতুন চিকিৎসা, ক্যান্সার ইমিউনোথেরাপির দক্ষতা, কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় অর্গান ট্রান্সপ্লান্টের স্বপ্ন—এসবের সাথে নীরবে কাজ করে যাচ্ছে এই আবিষ্কার।
একসময় ইমিউনোলজি মানে ছিল, কীভাবে আক্রমণ বাড়ানো যায়। এখন, ব্রাঙ্কো, র্যামসডেল আর সাকাগুচির কাজের পর, আমরা নতুন করে বুঝতে পারছি—সত্যিকারের উন্নত ইমিউন সিস্টেম মানে শুধু শক্তিশালী “লড়াই করার ক্ষমতা” নয়। বরং গভীর “নিজেকে থামিয়ে রাখার ক্ষমতা”ও।
এই ভারসাম্য বোঝার মধ্যেই লুকিয়ে আছে আগামী দিনের অনেক চিকিৎসা বিপ্লবের বীজ।
#নোবেল #মেডিসিন #আবিষ্কার
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন