এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬

প্রসঙ্গ : ইতেকাফ ও লাইলাতুল কদর

 "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম "


প্রসঙ্গ : ইতেকাফ ও লাইলাতুল কদর ।


 ইতেকাফ এক অনুপম ইবাদত। পৃথিবীর সকল ঝামেলা থেকে নিজেকে মুক্ত করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এ ইবাদতের গুরুত্ব অপরিসীম। ইতেকাফকারী ব্যক্তির পুরো সময় ইবাদতের মধ্যে গণ্য হয়ে থাকে। এ সময় একজন প্রকৃত ইতেকাফকারী আল্লাহর ঘরে ইবাদতে মশগুল থাকার মাধ্যমে নিজের অসহায়ত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে থাকেন।তিনি আল্লাহর ঘরের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার একস্থায়ী অনুপ্রেরণা লাভ করেন।এ অনুপ্রেরণা তাকে যাবতীয় অপরাধ ও অপকর্ম থেকে নির্লিপ্ত থাকতে উদ্বুদ্ধ করে।

ইতেকাফ আরবি শব্দ।এর অর্থ অবস্থান করা,কোন বস্তুর উপর স্থায়ীভাবে থাকা।শরীয়তের পরিভাষায় আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রত্যাশায় সোওয়াবের নিয়তে দুনিয়ার সকল কার্যক্রম থেকে অবসর গ্রহণ করে,ইবাদতের  মানষে নিয়তের সাথে মসজিদে অবস্থান করাকে ইতেকাফ বলে।


 ইতেকাফের গুরুত্ব:


 মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন,"আর আমি ইব্রাহিম ও ইসমাইলকে অঙ্গীকারবদ্ধ করলাম যে তোমরা উভয়ে আমার কাবা গৃহ কে তাওয়াফকারী ইতিকাফকারী রুকু ও সেজদা কারীদের জন্য পবিত্র রাখো "সূরা বাকারা ১২৫।

বান্দা যখন নিজেকে ইতেকাফের নিয়তে মসজিদে আটকে রাখে তখন সে অপরাধ থেকে বিরত থাকার সুযোগ লাভ করে এবং অসংখ্য সোয়াবের অধিকারী হয়।আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, "রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রমজানের ১০ দশ দিন এতেকাফ করতেন।কিন্তু এক বছর তিনি এতেকাফ করেননি সফরে ছিলেন। পরবর্তী বছর 20 দিন ইতেকাফ করেছেন।" ( আবু দাউদ শরীফ )আবু সাঈদ খুদরি রাযিআল্লাহু তা'আলা থেকে বর্ণিত,"রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম তুর্কি তাবুতে রমজানের প্রথম দশ দিন ইতেকাফ করেছেন এরপর দ্বিতীয় দশদিন। ওএরপর মাথা বের করে বললেন আমি এ কদরের রাতের অনুসন্ধানে প্রথম ১০ দিন ইতেকাফ করেছি এরপর দ্বিতীয় দশ দিনও।,তার স্বপ্নে একজন ফেরেশতা এসে আমাকে বললেন যে",এ রাতটি রমজানের শেষ দশকে। কাজেই যে আমার সঙ্গে এতেকাফ করেছে সে যেন শেষ দশ দিন ও এতেকাফ করে।আমাকে এ রাত দেখানো হয়েছিল এবং সেটি ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে।আমি স্বপ্নে দেখেছি যে এরাতের,সকালে ফজরের সালাতে আমি পানি ও কাদামাটিতে সিজদা করেছি। তোমরা এ,রাতের অনুসন্ধান করবে শেষ১০  বেজোড় রাত গুলোইl বনানীকারী বলেন, ছাদ থেকে ওই রাতে বৃষ্টি হয়েছিল তখন মসজিদের ছাদ গাছের ডালা দ্বারা নির্মিত ছাপার মত ছিল। এতে মসজিদের ছাদ থেকে পানি টপকিয়ে পড়ছিল বর্ণনাকারী সাহাবী বলেন ২১ তারিখ সকালে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের  কপাল মোবারক এ আমি নিজ চোখে কাদামাটি চিহ্ন দেখেছি l


অতএব আলোচনা শেষে প্রতিীয়মান হলো যে রমজানের শেষ দশকে শবে কদর নিহিত। ইতেকাফ ইবাদতকে শানিত করার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত lকাজেই ইবাদত বিনষ্ট হয় এমন কোন কাজ ইতেকাফের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় lআবার চুপচাপ বসে থাকাও কাঙ্ক্ষিত নয়। এ সময় বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত হাদীস অধ্যায়ন,আলোচনা,মাসলা মাসায়েল অধ্যায়ন ও জিকিরের মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করা উচিত। গোটা উম্মার প্রধান ব্যক্তির মূলত ইতেকাফ করা উচিত। এটা মূলত নেতৃবৃন্দের আমল,কেননা নেতারা ইতেকাফ করলে সমাজে দারুন প্রভাব পড়ে। সরকার প্রধান থেকে শুরু করে একদম তৃণমূল পর্যায়ে নেতারা যদি রমজান মাসে ইতেকাফ করতে পারেন তাহলে রাষ্ট্র ও সমাজের দারুন প্রভাব পড়তে পারে যেটা রাসূল (সা) ইসলামের সুন্নত থেকে প্রমাণিত।


 ইতেকাফে, যা অবশ্যই বর্জন করলে কার্যকর,আত্মশুদ্ধি হয় যেমন মিথ্যা বলা, গীবত করা,কানাকানি,ফিসফিসানি , মেজাজের ভারসাম্যহীনতা একঘেয়েমি সহ সকল গুনাহের কাজ ত্যাগ করতে হবেl অশ্লীল,অনর্থক পার্থিব,কথাবার্তা বর্জন করতে হবে। ইন্টারনেট ও সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার বন্ধ রাখা,ফেসবুক, টুইটারে,  ঢু নামারা মোবাইল ফোনে গল্প গুজব না করা,whatsapp ও মেসেঞ্জারে চ্যাটিং থেকে বিরত থাক। এগুলো যথা নিয়মে মানতে পারলেই গুনাহ মাফের এ মোক্ষম সুযোগে আল্লাহর ভালোবাসার সেতু বন্ধন নির্মাণ করতে যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে l

আল্লাহ তায়ালা আমাদের যথাযথভাবে ইতেকাফ পরিপালনের মানসিকতা দান করুন l

আমিন!ছুম্মা আমীন!

নিবেদনে,,,,মীর আকরাম আলী l

ইস ইতিহাস বিভাগ 

নাজির আহমেদ কলেজ মাগুরা 

২১ রমজান বুধবার l ১৪৪৭ হিজরী ১১ই মার্চ ২০২৬ l

কোন মন্তব্য নেই:

নামাজের জন্য মনস্তাত্ত্বিক ও মানসিক প্রস্তুতি

 🤍(বিসমিল্লাহির রহ্‌মানির রহী-ম)🤍 ☔(নামাজের জন্য মনস্তাত্ত্বিক ও মানসিক প্রস্তুতি)☔ 📖 নামাজে মনোযোগী হওয়ার সামর্থ্যকে আরও বাড়ানো         ...