বিয়ের সময় আর বাচ্চার চেষ্টা—দুটো এক জিনিস নয়।
আজকাল একটা বড় ভুল খুব সহজেই হয়ে যায়।
অনেকে বলেন—
“বিয়ে হয়েছে ৫ বছর, এখনও বাচ্চা নেই।”
শুনতে মনে হয় যেন ৫ বছর ধরে বাচ্চার চেষ্টা চলছে।
কিন্তু একটু খুঁটিয়ে দেখলে বাস্তবটা অনেক সময় আলাদা।
হয়তো—
বিয়ে হয়েছে ৫ বছর
ডাক্তার দেখিয়েছেন ২ মাস
আর বাচ্চার জন্য চেষ্টা করছেন মাত্র ১ মাস
তাহলে কি সত্যিই আপনি ৫ বছর ধরে চেষ্টা করছেন?
না।
এই পার্থক্যটা বোঝা খুব জরুরি।
কারণ এই ভুল ধারণা থেকেই শুরু হয়
অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা, অপ্রয়োজনীয় ওষুধ, এমনকি অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা।
অনেক সময় দেখা যায়—
এক মাসও ঠিকভাবে চেষ্টা শুরু হয়নি,
এর মধ্যেই শুরু হয়ে গেছে—
• Semen test
• AMH test
• HSG (tube test)
• Letrozole বা ovulation induction
এমনকি কখনও কখনও দ্রুত কথা ওঠে
IVF বা ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি পর্যন্ত।
অবশ্যই কিছু দম্পতির ক্ষেত্রে এসব চিকিৎসা দরকার হয়।
কিন্তু সবার ক্ষেত্রে নয়।
মনে রাখবেন—
বেশ কিছু টেস্টেরই সীমাবদ্ধতা আছে।
Semen test একদিনের রিপোর্টে সবসময় সত্যিকারের ছবি ধরা পড়ে না।
AMH test ডিম্বাশয়ের রিজার্ভের একটা আন্দাজ দেয়,
কিন্তু এটা বলে না আপনি মা হতে পারবেন কি পারবেন না।
HSG টেস্টে কখনও কখনও টিউব ব্লক দেখালেও পরে দেখা যায় আসলে ব্লক ছিল না।
আর অকারণে Letrozole খেলে হতে পারে—
• একাধিক ডিম তৈরি
• একাধিক গর্ভধারণের ঝুঁকি
• ডিম্বাশয়ে অস্বস্তি বা সিস্ট
• অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ
তাই একটা বিষয় মনে রাখা খুব জরুরি—
বিয়ে হয়েছে কতদিন
আর
বাচ্চার জন্য চেষ্টা করছেন কতদিন
—এই দুটো এক নয়।
সাধারণভাবে
৬–১২ মাস নিয়মিত চেষ্টা করার পর যদি বাচ্চা না আসে, তখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যুক্তিযুক্ত।
তবে যদি বয়স ৪০ এর বেশি হয়, তখন এতদিন অপেক্ষা করা ঠিক নয়—তাড়াতাড়ি পরামর্শ নেওয়া দরকার।
অকারণে নিজেকে “Infertility patient” ভাববেন না।
আর তাড়াহুড়ো করে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসার ফাঁদে পড়বেন না।
অনেক সময়
সময়, ধৈর্য আর সঠিক তথ্যই সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন