ইবলিস যখন হযরত আদম (আ.)-কে সেজদা করতে অস্বীকার করেছিল, তখন তো কোনো শয়তান ছিল না। তবে তাকে কুপ্ররোচনা দিল কে?
আমরা অনেক সময় ইবাদত করি, জিকির করি, তবুও গুনাহে লিপ্ত হই। আমরা শয়তানকে দোষ দিই, কিন্তু পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, "শয়তানের কৌশল আসলে অত্যন্ত দুর্বল।" (সূরা নিসা: ৭৬)
তাহলে আসল শক্তিশালী শত্রু কে? সে হলো আমাদের ‘নফস’। এটি মানুষের ভেতরে থাকা এক টাইমবোমার মতো। ইবলিস যখন অহংকারবশত সেজদা করেনি, তখন তার নিজের নফসই তাকে ধোঁকা দিয়েছিল।
কুরআনের বহু আয়াতে নফসের ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছে:
"মানুষের নফস তাকে যে কুপ্ররোচনা দেয়, সে সম্পর্কে আমি অবগত।" (সূরা ক্বফ: আয়াত ১৬)
"যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করে এবং নফসকে কুপ্রবৃত্তি থেকে বিরত রাখে, জান্নাতই হবে তার ঠিকানা।" (সূরা নাযিয়াত: আয়াত ৪০-৪১)
"নিশ্চয়ই নফস মন্দ কাজের নির্দেশ দিয়ে থাকে।" (সূরা ইউসুফ: আয়াত ৫৩)
প্রাচীন যুগের লাত, উজ্জা বা মানাত নামক মূর্তিরা ধ্বংস হয়ে গেলেও একটি 'নকল উপাস্য' আজও মানুষের ভেতরে রয়ে গেছে। তা হলো মানুষের 'হাওয়া' বা কুপ্রবৃত্তি।
আল্লাহ বলেন, "তুমি কি তাকে দেখেছ, যে তার নফসের প্রবৃত্তিকে উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে?" (সূরা জাসিয়া: ২৩)
হাবিল-কাবিলের ঘটনায়ও দেখা যায়, কাবিলকে তার নফসই নিজের ভাইকে হত্যা করতে প্ররোচিত করেছিল। শয়তান কেবল মানুষকে ভুলিয়ে দেয়, কিন্তু নফস মানুষকে সরাসরি মন্দের দিকে টানে।
আমরা যখন আল্লাহর জিকির থেকে গাফেল হই, তখন হৃদয়ে এক ধরনের আবরণ পড়ে যায়। এটি মানুষকে চরম হতাশা ও বিষণ্নতায় ডুবিয়ে দেয়।
আল্লাহ বলেন, "কখনো না, বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের হৃদয়ে মরিচা (আবরণ) ধরিয়ে দিয়েছে।" (সূরা মুতাফফিফিন: ১৪)
মনে রাখবেন, আপনার সবচেয়ে বড় যুদ্ধটা শয়তানের সাথে নয়, বরং নিজের 'নফস' বা কুপ্রবৃত্তির সাথে। শয়তান শুধু আপনাকে ভুলিয়ে দেয়, কিন্তু নফস আপনাকে গুনাহ করতে বাধ্য করে। তাই নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন, তবেই আপনি প্রকৃত সফল হতে পারবেন।
© Salman Farsi
আরবি থেকে অনূদিত
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন