এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬

সারা বিশ্বে একই দিনে ঈদ করা সম্ভব নয় কেনো? 

 সারা বিশ্বে একই দিনে ঈদ করা সম্ভব নয় কেনো? 


কোরআন-হাদিস ও বিজ্ঞানের আলোকে গবেষণা করেছেন প্রিয় দায়ী মুফতি জুবায়ের বিন আব্দুল কুদ্দুস হাফি.। অসাধারণ গবেষণাটি ছড়িয়ে দেয়ার অনুরোধ। 


কোরআন-সুন্নাহ ও বিজ্ঞানের আলোকে রোজা-ঈদ পালনে বিভ্রান্তির নিরসন


বর্তমানে রোজা-ঈদ পালনের ব্যাপারে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এই বিভ্রান্তি দূর করার জন্য আমরা কোরআন, সুন্নাহ ও বিজ্ঞানের আলোকে একটি নকশা তৈরি করেছি। যা বুঝলে রোজা-ঈদ পালনে সকল বিভ্রান্তি দূর হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।


নকশা বুঝার জন্য আমরা তিনটি বিষয়ে আলোচনা করবো।


এক.রোজা-ঈদ পালনের ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা ও মূলনীতি। 


১.পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা 

فَمَنۡ شَہِدَ مِنۡکُمُ الشَّہۡرَ فَلۡیَصُمۡہُ

অতএব তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ মাস পাবে সে যেন তাতে রোজা পালন করে। (সুরা বাকারা,আয়াত:১৮৫)


২.হাদিস শরিফের নির্দেশনা। যা উক্ত আয়াতের তাফসির হিসাবে গণ্য। 

قال النبي صلى الله عليه وسلم،صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ فَإِنْ غُبِّيَ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوا عِدَّةَ شَعْبَانَ ثَلاَثِينَ

রসুলুল্লাহ সা. বলেন, তোমরা নতুন চাঁদ দেখে রোজা রাখ এবং নতুন চাঁদ দেখে রোজা ছাড়। যদি মেঘ ইত্যাদির কারনে চাঁদ না দেখা যায়, তাহলে শাবান মাসকে ৩০ দিনে পূর্ণ কর। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯০৯


৩.ফিকহের নির্দেশনা

সকল ফকিহগণ চাঁদ দেখে রোজা-ঈদ পালনের কথা বলেছেন। জ্যোতির্বিজ্ঞান বা মুন কনজাংশন কিংবা লুনার ক্যালেন্ডারের উপর ভিত্তি করে কেউ রোজা-ঈদ পালন করার কথা বলেননি।


৪.ইজমার নির্দেশনা

ইসলামের সূচনা কাল থেকে অদ্যবধি সকল মুসলমানগন নিজ নিজ অঞ্চলে চাঁদ দেখেই রোজা-ঈদ পালন করে এসেছেন। বর্তমানে যা শোনা যাচ্ছে সবই নতুন কথা ও নতুন আমল।


৫.সমগ্র পৃথিবীর মানুষ কিভাবে নিজ নিজ অঞ্চলে সঠিক সময়ে চাঁদ দেখে যথাযথ ভাবে রোজা-ঈদ পালন করতে পারেন সেই লক্ষ্যে আমাদের এই নকশাটি তৈরি করা হয়েছে। তাই আসুন প্রথমে আমরা নকশাটি বোঝার চেষ্টা করি।


দুই.নকশা বুঝার জন্য যা প্রয়োজন।

নকশার বৃত্তের প্রতি লক্ষ্য করে দেখুন তার  ভেতরে চারটি ঘর রয়েছে।


 ১ম ঘরে, ২৪ ঘন্টার পৃথিবীতে ২৪টি স্থানের নাম দেশ হিসাবে বসানো হয়েছে। প্রতিটি স্থানের সাথে অপর স্থানের দূরত্ব ঘড়ির কাটায় এক ঘন্টা।


২য় ঘরের নাম্বার (০-১৫-৩০) এগুলোকে দ্রাঘিমা বলে। কোন দেশ মানচিত্রের কত দ্রাঘিমায় অবস্থিত তা দেখানো হয়েছে।


 ৩য় ঘরে, সৌদিতে যখন সন্ধ্যা ৭টা হয়, সমগ্র পৃথিবীতে ঐ মুহূর্তে ঘড়ির কাটায় কতটা বাজে তা দেখানো হয়েছে।


৪র্থ ঘরে, যেহেতু সন্ধ্যা পশ্চিম দিকে গড়াতে থাকে, তাই সৌদির সন্ধ্যাকে প্রথম ধরে তার পশ্চিমের দেশগুলোর সাথে ঘন্টার দূরত্ব দেখানো হয়েছে।


১৮০ দ্রাঘিমা বা মাঝ বরাবর যে রেখা টানা হয়েছে, তাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা বলে। এ রেখা থেকেই পৃথিবীতে নতুন সৌর তারিখ এবং নতুন বারের হিসাব করা হয়। যা নকশায় দেখানো হয়েছে। এর দ্বারা বুঝা যায়, সমগ্র পৃথিবীতে একই সাথে একটি সৌর তারিখ বিদ্যমান থাকে না বরং দুটি তারিখ বিদ্যমান থাকে। সমগ্র পৃথিবীতে একসাথে একটি তারিখ  থাকা অসম্ভব। তাহলে সমগ্র পৃথিবীতে একসাথে একটি চন্দ্র তারিখ থাকা কিভাবে সম্ভব? এটি অবৈজ্ঞানিক এবং অযৌক্তিক কথা ছাড়া আর কিছুই নয়।


ফিৎনা সৃষ্টির সম্ভাব্য এলাকাসমূহ


ওমানের পূর্ব দিক থেকে নাউরু পর্যন্ত অবস্থিত এলাকাসমূহে চাঁদ সংক্রান্ত ফিৎনা সৃষ্টি সম্ভব। কেননা, যখন সৌদিতে সন্ধ্যা ৭টায় চাঁদ দেখা যাবে তখন এ সকল অঞ্চলে রাত বা গভীর রাত থাকবে। কেউ কেউ মনে করবে সৌদিতে চাঁদ উঠেছে, কাল রোজা বা ঈদ। অথচ বিষয়টি এমন নয়। আবার কখনো এ অঞ্চলের কোন কোন দেশে সৌদির আগে চাঁদ দেখা যায়। আবার কখনো সৌদির দুইদিন পরেও চাঁদ দেখা যায়। তখন মানুষের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এবার আসুন! রোজা-ঈদ সংক্রান্ত মাসআলা বোঝার চেষ্টা করি।


তিন. মাসআলা বুঝার জন্য যা প্রয়োজন


১.সব সময় নয়, অধিকাংশ সময় সৌদিতে নতুন চাঁদ আগে দেখা যায়। ইসলামি শরিয়তে আগে রাত পরে দিন আসে। সন্ধ্যা বেলায় নতুন চাঁদ দেখার দ্বারা নতুন তারিখ এবং মাসের হিসাব গণনা করা হয়। তাই সৌদির সন্ধ্যাকে প্রথম হিসাব করে এ নকশা তৈরি করা হয়েছে।


২.যে সন্ধ্যায় সৌদিতে নতুন চাঁদ দেখা যাবে, তার ১ ঘন্টা পর স্বাভাবিকভাবেই মিশর এবং ঐ দ্রাঘিমায় অবস্থিত দেশ সমূহে চাঁদ দেখা যাবে। এভাবে পশ্চিমাঞ্চলের দেশগুলোতে সন্ধ্যা হতে থাকবে এবং চাঁদ দেখা যেতে থাকবে। সৌদির ২১ ঘন্টা পর বাংলাদেশে সন্ধ্যা হবে এবং চাঁদ দেখা যাবে। যা আমরা নকশায় দেখতে পাচ্ছি। বিনা সমস্যায় সকল আমল যথা সময়ে পালন করা যাবে। এটা বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত নিয়ম যা রোজা-ঈদ পালনের ক্ষেত্রে ইসলামের বিধানের উপর আমলের পথকে আরো শক্তিশালী করে দিয়েছে।


৩.রোজা-ঈদ পালনের ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান হচ্ছে চাঁদ দেখা বা নিকটতম এলাকা থেকে চাঁদের সংবাদ পাওয়া। সুতরাং শুধুমাত্র জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবের উপর ভিত্তি করে রোজা-ঈদ পালন করা যাবেনা, বরং নিজ নিজ অঞ্চলে সন্ধ্যা বেলায় চাঁদ দেখে বা নিকটতম এলাকার চাঁদের সংবাদ পেয়ে রোজা-ঈদ পালন করতে হবে।


৪.পক্ষান্তরে যদি শরিয়তের এ বিধানকে উপেক্ষা করে সৌদি বা অন্য কোন দেশের চাঁদের সংবাদকে বিশ্বময় গ্রহণ করা হয়, তাহলে তা বিজ্ঞান বিরোধীও হবে। কেননা, সে সময় কোনো দেশে রাত, কোন দেশে দিন থাকায় চাঁদ দেখা সম্ভব নয় এবং চাঁদের সংবাদ মানাও সম্ভব নয়। তাছাড়া বিশ্বের মুসলমানগণ সাহরী, তারাবী ইত্যাদি বিষয়ে প্রায় ২১ টি এমন সমস্যার সম্মুখীন হবেন যার সমাধান কোন ক্রমেই সম্ভব নয়। বিস্তারিত জানতে আমাদের বইটি সংগ্রহ করুন।


৫.আলহামদুলিল্লাহ! উপরোক্ত আলোচনার দ্বারা একথা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে, যারা নিজ নিজ অঞ্চলে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা-ঈদ পালন করেন তারা কুরআন সুন্নাহে বর্ণিত যথা সময়ে তা পালন করেন। পক্ষান্তরে যারা সৌদির সাথে মিলিয়ে করার দাবি করেন তারা মূলত সৌদিরও একদিন আগে করছেন। এ নকশায় চিন্তা করলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে, ইনশাআল্লাহ।


গুরুত্বপূর্ণ একটি মাসআলা


রোজা-ঈদ পালনের জন্য চাঁদ আকাশে বিদ্যমান থাকা যথেষ্ট নয়; বরং দৃশ্যমান হওয়া আবশ্যক। সুতরাং সৌদিতে চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার পর যদি কোন দেশে চাঁদ না দেখা যায় অথবা নিকটবর্তী এলাকা থেকে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে চাঁদের সংবাদ না পাওয়া যায়, তাহলে তারা বর্ণিত হাদীসের উপর আমল করে মাসকে ৩০ দিনে পূর্ণ করবে।


উপসংহার ও পরিসমাপ্তি

প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা! আমরা যা বলেছি এটাই নববী যুগ থেকে অদ্যবধি চলে আসা রোজা-ঈদ পালনের সঠিক পথ ও পদ্ধতি। এছাড়া বর্তমানে যা শোনা যাচ্ছে সবই নতুন কথা,নতুন পথ ও নতুন মত। যার অধিকাংশই কোরআন সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক। 

তাই আসুন! নতুন পথ ও মতকে বর্জন করে নববী যুগ থেকে চলে আসা মুসলমানদের অনুসৃত পথের ওপর আমল করি। তাহলেই আমরা হেদায়েতের উপর থাকবো এবং ইহকাল ও পরকালে সফলতা লাভ করতে পারব, ইনশাআল্লাহ। অন্যথায় আমরা মারাত্মক ধরনের অনৈক্য এবং পরস্পরে শত্রুতার মধ্যে লিপ্ত হবে। যেমনটা বর্তমানে পরিলক্ষিত হচ্ছে। আল্লাহ তাআলা মুসলমানদেরকে সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করেন, আমিন।


 মুফতি জুবায়ের বিন আব্দুল কুদ্দুছ

সিনিয়র শিক্ষক, জামেয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ ঢাকা 

খতীব, আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ ঢাকা

পরিচালক, দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশ


যে কোনো বিষয়ে জানতে +880 1917-739103

কোন মন্তব্য নেই:

যদি তোমার পকেটে টাকা না থাকে, যদি সব সময় মনে হয় তোমার কাছে যথেষ্ট টাকা নেই, তবে আজকের এই কথাগুলো খুব মন দিয়ে শোনো

 যদি তোমার পকেটে টাকা না থাকে, যদি সব সময় মনে হয় তোমার কাছে যথেষ্ট টাকা নেই, তবে আজকের এই কথাগুলো খুব মন দিয়ে শোনো। এটি তোমার জীবন বদলে দেওয়...