কথাগুলো আসলে আমার না
মানুষ সব কী দলে দলে বোকা! চাঁদে যাওয়া তো দূরের কথা, পৃথিবী ছেড়েই কেউ বের হতেই তো পারেনি। কারণ পৃথিবীর চারদিকে আছে এক বিশা,,,,,ল "আগুনের দেয়াল" যাকে বলে ভ্যান অ্যালেন রেডিয়েশন বেল্ট। এই তেজস্ক্রিয়তা পার হলে মানুষ সাথে সাথেই কয়লা হয়ে যাওয়ার কথা। অথচ নাসা বলছে তাঁরা নাকি দিব্যি পার হয়ে গেছে! কী চমৎকার ভণ্ডামি, তাই না? এভাবেই নাসা জন্মের পর থেকে গোটা পৃথিবীর মানুষকে বস করে রেখেছে। এই দেয়াল অতিক্রম করতে "তাঁর অনুমতি ছাড়া" (বিশেষ) কেউই পারবে না।
আর পতাকার কথা তো বাদই দিলাম। যেখানে বাতাস নেই, সেখানে পতাকা ওড়ে কীভাবে রে ভাই? নির্ঘাত স্টুডিওতে ফ্যান ছেড়ে শুটিং করা হয়েছে। আর এই সহজ সত্যটা বোঝার মতো বুদ্ধিও কি আমাদের বেশিরভাগ মানুষের নেই? আমরা কি এতটাই অন্ধ যে নাসার সিজিআই (CGI) মুভিকে সত্যি বলে বিশ্বাস করছি? নাসার পুজারি এরা। এরা অভিশপ্ত। এরা না,,,,,,,,,।
কথাগুলো আসলে আমার না, বরং কমেন্ট বক্সে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার কন্সপিরেসি থিওরিস্টদের প্রিয় কিছু যুক্তি। এবার চলুন আবেগ সরিয়ে রেখে বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিষয়টি দেখি, প্রকৃত ঘটনা কী দেখি-
বাস্তবে, এই বেল্টটি আছে এবং এটি তেজস্ক্রিয় কণা দিয়ে তৈরি ঠিকই, কিন্তু এটি কোনো নিরেট দেয়াল নয়, যেমনটি ছবিতে দেখছেন। অ্যাপোলো মিশনের মহাকাশচারীরা এই বেল্টের সবচেয়ে পাতলা অংশ দিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পার হয়ে গিয়েছিলেন। তাদের ওপর যে পরিমাণ তেজস্ক্রিয়তা পড়েছিল, তা একটি সাধারণ এক্স-রে বা ডেন্টাল এক্স-রের চেয়ে খুব বেশি কিছু ছিল না।
আধুনিক সেন্সর এবং শিল্ডিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই বাধা অতিক্রম করা এখন বিজ্ঞানের কাছে ডালভাত। এতটাই হালকা ব্যপার, যেটাকে বিরোধ গোষ্ঠী অতিরঞ্জিত করে ভয় তৈরির চেষ্টা করে বিষয়ের দিকে টানতে চেয়েছে। আর এই - "ভয়"ই হলো অন্ধত্বের আসল হাতিয়ার। বিষয়টি বুঝতে আপনাকে বেশি কিছু জানতে হবে না। "ভয় দেখাচ্ছে কী এই কথাটা?" ওদের যেকোন " বিশেষ উদ্ধৃতির শেষে প্রশ্নটি নিজের কাছে নিজেই করুন। প্রমাণ পেয়ে যাবেন (আমি ভালো বা খারাপ বলিনি)।
চাঁদে বাতাস নেই, তাই পতাকা ওড়ারও কথা নয়। কিন্তু আপনি যদি ঐ ভিডিওগুলো ভালো করে দেখেন, পতাকাটি আসলে উড়ছিল না, বরং কাঁপছিল। মহাকাশচারীরা যখন পতাকাটি চাঁদের মাটিতে পুঁতছিলেন, তখন তাদের হাতের স্পর্শে পতাকাটিতে একটি কম্পন (Momentum) তৈরি হয়েছিল। যেহেতু সেখানে বাতাসের বাধা নেই, তাই সেই কম্পনটি থামতে বেশ সময় নিয়েছিল। এছাড়া পতাকার ওপরের অংশে একটি অনুভূমিক রড বা শিক লাগানো ছিল যাতে সেটি ঝুলে না পড়ে টানটান থাকে। আর সেই শিকের মতো একটি শিক বাড়িতে বসে লিঠির আগায় অনুভূমিক ঝুলিয়ে পরীক্ষা করুন। ঠিক যেমন মিশনের পতাকের যেই স্থানে হাত ছিল সেখানে। আমার কথা সঠিক ভাবার দরকার নেই। পরীক্ষার সুযোগ নিন।
অনেকে বলেন, ছবিতে ছায়া কেন বাঁকা? স্টুডিওতে নিশ্চয়ই অনেকগুলো লাইট ছিল! কিন্তু সত্যি হলো, চাঁদের বন্ধুর ভূপ্রকৃতি, ঢালু পাহাড় এবং দিগন্তের অবস্থানের কারণে আলোর প্রতিফলন বিভিন্ন কোণে হতে পারে। এটি বিজ্ঞানের একটি সাধারণ আলোকবিদ্যার (Optics) বিষয়।
ষড়যন্ত্র তত্ত্ব শুনতে রোমাঞ্চকর লাগে, কিন্তু বিজ্ঞান চলে তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। মহাকাশ গবেষণা কোনো লুকোচুরি খেলা নয়, এটি হাজার হাজার বিজ্ঞানীর মেধা এবং কোটি কোটি মানুষের পরিশ্রমের ফসল। আজ আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে সাধারণ মানুষও মহাকাশে যাচ্ছে, ব্যক্তিগত টেলিস্কোপ দিয়েও চাঁদে মানুষের পাঠানো ল্যান্ডারের ধ্বংসাবশেষ দেখা সম্ভব। (এই লাইন আবার খেয়াল করুন)।
ষড়যন্ত্র যত বড় হয়, সেটি গোপন রাখা তত অসম্ভব। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. ডেভিড রবার্ট গ্রাইমস একটি গাণিতিক সূত্র বের করেছিলেন যে, কোনো গোপন ঘটনা কতদিন গোপন থাকবে তা নির্ভর করে কতজন মানুষ সেটি জানে তার ওপর। অ্যাপোলো মিশনের ক্ষেত্রে প্রায় ৪,১১,০০০ মানুষ সরাসরি জড়িত ছিল। যদি এটি মিথ্যা হতো, তবে ৩.৭ বছরের মধ্যেই কেউ না কেউ ফাঁস করে দিত। কেউ দিল না? 50 বছরেও না? এতোই খাঁটি ষড়যন্ত্র?
ভুল তথ্য ছড়ানো সহজ, কিন্তু সত্য জানার জন্য প্রয়োজন ধৈর্য আর বিজ্ঞানমনস্কতা। ভালো থাকুন, এবং যুক্তিতে থাকুন।
-BIGYANtothyo
World Vision (বিশ্ব দর্শন)
#ArtemisII #MoonMission #sciencefacts #Apollo11 #spacescience
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন