এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

লেবু গাছের ফুল ঝরে পড়ার কারণ ও সমাধান।,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 লেবু গাছের ফুল ঝরে পড়ার কারণ ও সমাধান। 


বাংলাদেশে লেবু বেশ জনপ্রিয় সাইট্রাস জাতীয় একটি ফল। লেবু গাছ আপনি বাগানে বা বারান্দায় বা ছাদে টবে চাষ  করতে পারেন। লেবুর ফুল কয়েকটি কারণে ঝরে যেতে পারে। 


গাছের অপরিপক্কতা: 


লেবু গাছর ফুল ঝরে যেতে পারে তার একটি কারণ হল যদি এটি গাছ খুব ছোট। সাধারণত, বীজ হতে জন্মানো গাছে ফল আসতে শুরু করতে প্রায়  বছর সময় লাগে। আর কলমের চারা হলে ২-১ বছরের মধ্যে ফুল চলে আসে। কলমের চারা প্রথম ২-১ বছর ফুল / ফল না নেওয়াই ভালো।  এর মধ্যে গাছ সম্পূর্ণরূপে বিকশিত হতে পারবে। 


মাটিতে পুষ্টির ঘাটতি: 


লেবু গাছের ফুল ঝরে পড়ার আরেকটি কারণ হল এর পুষ্টির ঘাটতি। সাধারণত লেবুগাছ অল্প যত্নে ভাল ফলন দেয়ার জন্য বিখ্যাত, কিন্তু  ফুল ফল থাকা অবস্থায় মাটিতে  পটাশিয়ামের অভাব হলে লেবু গাছের ফুল ঝরে যায়। তাই আপনি যদি লেবু গাছে প্রচুর ফলন পেতে চান তবে বসন্তের শুরুতে পটাশিয়াম সার দেয়ার ব্যবস্থা করুন। 


পানি সেচের তারতম্য: 


লেবু গাছ এমন একটি গাছ যাতে প্রচুর পরিমাণে পানি সেচ  দেওয়া লাগে না আবার খুব কম পানি সেচ দিলেও হবেনা। পানি সেচ দিতে হবে মেপে মেপে। 

কারন গাছে পানি বেশি দিলে বা গাছের গোড়ার মাটি স্যাতস্যাতে হলে লেবুগাছ নিজের ফুল ঝরিয়ে দিতে পারে। আবার গাছে পানি কম দিলে বা গাছে পানির অভাব হলেও গাছ নিজে বাঁচার জন্য ফুল ঝড়িয়ে দেয়। 


আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে: 


আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে লেবু গাছের সম্পর্ক খুবই সংবেনশীল। তাই হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনের কারনে লেবু গাছের ফুল ঝরে যেতে পারে। লেবুগাছ রোদে সবচেয়ে ভাল হয়। তাই লেবুগাছ দিনে কমপক্ষ ৭-৮ ঘন্টা রোদ লাগে এমন স্থানে রাখতে হয়। যেহেতু রোদে সবচেয়ে স্বাস্থকর ফুল হয়, তাই ছায়ায় রাখলে আপনার গাছের ফুল ঝরে যেতে পারে। 


পরাগায়নের অভাবে: 


পরাগায়ন সাধারণত মৌমাছি ও অন্যান্য পরাগায়নকারী পোকামাকড় দ্বারা বাহিত হয়। কিন্তু আপনার এলাকায় যদি পোকামাকড়ের সংখ্যা কম থাকে এবং যদি পরাগায়নের কোন সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে আপনাকে এটি নিজে হাতে পরাগায়ন করতে হবে। 


কোনো রোগ বা পোকার আক্রমণে: 


লেবু গাছের রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ হলে ফুল ঝরে যেতে পারে। তাই রোগ ও পোকা মাকড়ের আক্রমণ থেকে গাছ রক্ষা করতে হবে।



এন্ড্রোমেডা গ্যালাক্সির বিশালতা,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 এন্ড্রোমেডা গ্যালাক্সির বিশালতা 🌀


আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সীর নিকটতম প্রতিবেশী এন্ড্রোমেডার একটি ক্লোজ-আপ চিত্র, যেখানে চিত্রের প্রতিটি বিন্দু একটি তারা বা সূর্য। 


হাবল স্পেস টেলিস্কোপ দ্বারা তোলা ছবি এন্ড্রোমেডা গ্যালাক্সির সবচেয়ে বড় এবং তীক্ষ্ণতম ছবি। সম্পূর্ণ চিত্রটিতে 1.5 বিলিয়ন পিক্সেল রয়েছে এবং এটি 600 টিরও বেশি এইচডি টেলিভিশন পর্দায় বিস্তৃত হবে।


জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা অনুমান করেন যে এন্ড্রোমেডা গ্যালাক্সিতে প্রায় এক ট্রিলিয়ন তারা রয়েছে, যা আমাদের নিজস্ব মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সী থেকে অন্তত দ্বিগুণ।


সৌজন্যঃ ESA/হাবল ইমেজ।


ফেইসবুক থেকে নেওয়া 


সকাল ০৭ টার সংবাদ  তারিখ : ২৮-০২-২০২৪,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 সকাল ০৭ টার সংবাদ 

তারিখ : ২৮-০২-২০২৪ 


আজকের শিরোনাম:


জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ।


রপ্তানি পণ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান।


আন্দোলনে ব্যর্থতা ও হেরে যাওয়ার ভয়ে কোনো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি - মন্তব্য আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের।


অ্যাম্বাসেডরস আউটরিচ প্রোগ্রাম এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অগ্রগতি সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পারছেন বিদেশি কূটনীতিকরা - বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।


আগামী পাঁচ বছরে ৬০ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের - জাতীয় সংসদে তথ্য প্রকাশ।


দক্ষিণ গাজায় রাফাহ শহরে ইসরাইল স্থল হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্য শান্তির জন্য তা হবে বিপর্যয়কর - মিসরের হুঁশিয়ারি।


আজ ঢাকায় বিপিএল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে ফরচুন বরিশালের মুখোমুখি হবে রংপুর রাইডার্স।

ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

কুকুর কামড়ালেই জলাতঙ্ক হয় না!,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 কুকুর কামড়ালেই জলাতঙ্ক হয় না!


কুকুর নিয়ে অদ্ভুত সব কথা প্রচলিত আছে। এরমধ্যে কোনটা সবচেয়ে অহেতুক অথবা বড় ভুল, সেটা নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা হতে পারে। এক বন্ধুর কাছে শুনেছিলাম, তার দাদি নাকি বলত, খাওয়া দাওয়া করে আড়মোড়া ভাঙলে সেই খাবার কুকুরের পেটে চলে যায়! এটা হলে অবশ্য ভালোই হতো। পথের কুকুরদের না খেয়ে থাকতে হতো না। আমরা যে অলস জাতি, তবে কুকুর নিয়ে ভুল ছড়ানোতে বলা যায় আমরা নিরলস। পুরো মেডিক্যাল সায়েন্সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রচলিত হয়েছে, কুকুর কামড়ালে নাকি পেটে বাচ্চা হয়! বলেন কেমনটা লাগে? আরেক কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত আরও এক ধাপ এগিয়ে কবিতা লিখলেন, ‘কুকুরের কাজ কুকুর করেছে, কামড় দিয়েছে পায়…’


সেসময়কার মানুষের কবিকে জিজ্ঞেস করা উচিত ছিল, ‘আপনারে কে বলছে যে কুকুরের কাজ কামড়ানো?’ 


কুকুর নিয়ে আরেকটি গুজব হলো, মানুষ দেখিবামাত্রই কুকুর কামড় বসিয়ে দিবে। আর কুকুরের কামড় মানেই নাভির নিচে ১৪টি ইনজেকশন। আর ইনজেকশন না দিলে হবে জলাতঙ্ক। সবই এখন ভুল ধারণা। কোনো একসময় কুকুর কামড়ালে হয়তো ১৪টা ইনজেকশনের প্রয়োজন হতো, কিন্তু কুকুর কখনও দেখামাত্রই কামড় দেয় না। মানুষ যেভাবে কামড় দেয় রাগে-ক্ষোভে-মাথা গরম করে, কুকুরের কামড়টাও সেরকম স্বাভাবিক ব্যাপার। আরও ঠিকঠাক করে বললে, তাদেরকে অকারণে মারলে, তাড়া করলে, ভয় দেখালে বা নানাভাবে উত্যক্ত করলে তারা আত্মরক্ষায় কামড় বা আঁচড় দিতে পারে।


তবে কুকুরের লালা গায়ে লাগলে বা আঁচড়-কামড় খেলেই আতঙ্কের কিছু নেই। কারণ সব কুকুরের শরীরে জলাতঙ্কের র‍্যাবিস ভাইরাস থাকে না। শুধুমাত্র র‍্যাবিস আক্রান্ত কুকুর কামড় দিলেই জলাতঙ্ক হতে পারে। ঢাকায় গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত প্রাণীদের ভ্যাকসিনেশন করার ফলে র‍্যাবিস ভাইরাসে আক্রান্ত কুকুরের সংখ্যা অনেক কমে এসেছে। কর্তৃপক্ষ যদি আরেকটু সচেতন হয় তবে এটাকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব। সারাবছর ঢাকা বা ঢাকার বাইরে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার যেসব ঘটনা ঘটেছে তা শুধুমাত্র ঠিকমতো প্রাণীদের ভ্যাকসিনেটেড না করার কারণে হয়েছে। 


মনে রাখবেন, কুকুর কামড়ালে প্রথমেই যে কাজটা করতে হবে তা হলো সাথে সাথে ক্ষারযুক্ত সাবান দিয়ে ১৫ মিনিট ক্ষতস্থান ধুয়ে ফেলতে হবে। ক্ষতস্থান সাথে সাথে ধুয়ে ফেললে ৯০ শতাংশ জীবাণু মরে যায় এবং সংক্রমণের শঙ্কা ৭০-৮০ ভাগ কমে যায়। তারপর নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে সময়মতো জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা নিতে হবে। কামড়ের পরপরই টিকা নিয়ে নিলে মৃত্যু ও জলাতঙ্ক রোধ করা যায়। 


আমাদের দেশে এমনিতেই রাস্তার প্রাণীদের সাথে বিরূপ আচরণ করা হয়। যেকোনো অজুহাতে রাস্তার কুকুর-বিড়ালদের মারা হয়। এমন অবস্থায় অযথা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিয়ো ভাইরাল করে ভুল তথ্য প্রচার করা থেকে আমাদের সকলের বিরত থাকা উচিত। জলাতঙ্ক একটি ভয়াবহ রোগ। তাই এই রোগ সম্পর্কে আতঙ্ক না ছড়িয়ে সঠিক তথ্যের মাধ্যমে জনসচেতনতা ছড়াতে হবে।

Sheero Choudhury


ফেইসবুক থেকে নেওয়া 


গল্প "সুখ" ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 সুখ~~❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️

শ্বশুর মশাই নিজের বাটি থেকে টুক করে একটা মাংসের টুকরো বৌমার পাতে দিয়ে দিলেন। বৌমা অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়ে বলে, 'এ কি করলেন বাবা? আপনিই খান। সারাদিন আপনার যা পরিশ্রম'! মাংসের টুকরোটি ফেরত দেওয়ার জন্য সে জেদাজেদি করতে থাকে। 

শ্বশুর মশাই অর্ধেন্দু বিশ্বাস তৃপ্ত মনে বৌমাকে বলেন, 'মা, আজ আমি খুব খুশি হয়েছি'।

বৌমা লিপা কৌতুহলী হয়ে জানতে চায়, 'কেন বাবা? কি হয়েছে'?'

অর্ধেন্দু বাবুর একটি বই বাঁধাইয়ের দোকান রয়েছে। বই বাঁধাইয়ে খুব নাম-ডাক তাঁর। অঢেল কাজ। বাড়ির সঙ্গেই দোকান। বাড়ির মধ্যেই রয়েছে আরও দুটি রুম। সংকীর্ণ জায়গা। বাড়ির চতুর্দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ডাঁই করা বই। একটি রুমে থাকেন লিপার শ্বশুর ও শাশুড়ী। আরেকটি রুমে লিপা ও তাঁর স্বামী। এছাড়াও রয়েছে এক অবিবাহিত ননদ। ননদটি কখনো বাবা মায়ের রুমে, কখনো সিঁড়ির নিচে থাকে। রাস্তার ধারের রুমটায় সারাদিন বই বাঁধাইয়ের কাজ করেন অর্ধেন্দু বাবু। ছেলেও হাত লাগান কাজে। লিপার বয়স অল্প। উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পর সদ্য বিয়ে হয়েছে। শ্বশুর মশাইয়ের অনুপ্রেরণায় পড়াশোনা চালিয়ে যায় লিপা। কলেজে ভর্তি হয়েছে ম্যাথেমেটিক্স অনার্স নিয়ে।  পড়াশোনা সেরে লিপা আজ শ্বশুর মশাইয়ের বই সেলাইয়ের কাজে হাত লাগিয়েছিল। কাজের ফাঁকে ফাঁকে পছন্দের বই গুলো একটু একটু করে পড়েও নিচ্ছিল। সেই দেখে শ্বশুর মশাই আজ খুব খুশি। সেই সূত্র ধরে শ্বশুর মশাই বৌমার প্রশ্নের জবাবে বলেন, 'আজ আমি খুব খুশি। নতুন বিয়ে হয়েছে। এইটুকু একটা মেয়ে! সব জড়তা ছেড়ে আজ তুমি বই বাঁধাইয়ের কাজ করলে। তোমারই সংসার। এইভাবেই সংসারটাকে আগলে রেখো মা'।

এতক্ষণ শাশুড়ী মা চুপ করে ছিল। তিনি এবার অভিমানী সুরে বললেন, 'আমি কেউ নই বুঝি! এতো বছর রেঁধে বেড়ে খাওয়ালাম যে!'

শ্বশুর মশাই খুনসুটি করে বললেন, 'হুম, তাই উনি শুধু রান্না ঘরটাই চেনেন, বই বাঁধাই ঘরটা চিনতেই পারলেন না'!

সবাই হা হা করে হেসে উঠলো। খাওয়া শেষে সকলের বিছানা রেডি করে দিয়ে লিপা গেল ননদের কাছে। তাঁর কয়েকটা ম্যাথের প্রবলেম সলভ করে দিয়ে লিপা বললো, 'চল, এখন একটু লুডো খেলি'।

ননদ তো আনন্দে এক পায়ে খাড়া। লুডোর আসরে একে একে যোগ দিল লিপার শ্বশুর ও স্বামী। ওদিকে লিপার শাশুড়ী এক কোনে বসে ঘনঘন হাই তুলছে।

লিপার শ্বশুর মশাই শাশুড়ীকে বললেন, 'ওগো শুনছো! ঘুমিয়ে পড়ো যাও! আগামীকাল ভোর ভোর উঠতে হবে'।

লিপা কৌতুহলী হয়ে জানতে চায়, 'কেন? ভোরে উঠবে কেন'?

শশুর মশাই বললেন, 'একটা সারপ্রাইজ আছে'।

সবাই চুপ। সবাই ভাবছে, কি সারপ্রাইজ! লিপা জিদ ধরলো, 'আর টেনশন নিতে পারছি না। বলেই দাও না বাবা'।

শশুর মশাই বললেন, 'আগামীকাল সকাল সকাল  আমরা সবাই মিলে মহিষাদল রথের মেলা যাবো'।

আনন্দে নেচে উঠলো লিপা। ননদ গিয়ে জড়িয়ে ধরলো বৌদিকে। লিপা আনন্দে বললো, 'বাবা, আমি ফুচকা খাবো'। 

শ্বশুর মশাই আবেগ প্রবন হয়ে বললেন, 'আচ্ছা, আচ্ছা মা! যা খাবে তাই খাওয়াবো'।

এরপর প্রত্যেকেই দ্রুত বিছানায় চলে গেলো।


এরপর মাঝে কেটে গেল দশটা বছর। শ্বশুর মশাই মারা গেছেন ইতিমধ্যে। যুগের পরিবর্তনে ডিজিটাল মিডিয়ার আগ্রাসনে ছাপা বইয়ের জনপ্রিয়তাও কমেছে। ফলে বই বাঁধাইয়ের দোকানটাও বন্ধ হয়ে গেল। বছর পাঁচেক হল লিপা একটি হাইস্কুলে চাকরি পেয়েছে। লিপার একটি সন্তানও হয়েছে। স্বামী একটা ছোট কোম্পানিতে কাজ করে এখন। ননদ বিয়ে করে চলে গেছে। শাশুড়ী মাতা আধ্যাত্মিক জগতে নিজেকে বন্দী করেছেন। সেই ছোট্ট একতলা বাড়িটা আজ আরও আধুনিক হয়েছে। সেটি এখন তিনতলা। ফ্লোরে মার্বেল দেওয়া। বাথরুম, কিচেন সবই আধুনিক। 

এক গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় লিপা বাড়ির তিনতলায় একটি ঘরে এ সি চালিয়ে একাকী বসে আছে। এমনিতেই সময় কাটছে না লিপার। তার উপর একটু আগেই একটা ছোট বিষয় নিয়ে স্বামীর সাথে প্রবল ঝগড়া হয়েছে। স্বামী রাগ করে বেরিয়ে গেছেন বাজারে। ছেলে এক তলার একটি রুমে পড়াশোনা করছে। শাশুড়ী মাতা একটি অন্ধকার ঘরে ধ্যান করছেন। লিপার হঠাৎ চোখ পড়লো দেওয়ালে টাঙানো শ্বশুর মশাইয়ের ফটোটার দিকে। পরম যত্নে ফটোটা নামালেন লিপা। তাঁর চোখে জল। ফটোটা ভালো করে মুছে বিড়বিড় করে রুদ্ধ কন্ঠে লিপা বললো, 'বাবা, আগে ছোট ঘর ছিল। অনেক মানুষ ছিল। থাকার জায়গা ছিল না। কিন্ত অনেক আনন্দ ছিল। জীবনে সুখ ছিল। আর আজ অনেক বড় ঘর হয়েছে। মানুষের সংখ্যা কমে গেছে। থাকার জায়গারও অভাব নেই। কিন্তু আজ আর আনন্দ নেই। জীবনে সুখ নেই'।


সুখ 

 রূপেশ কুমার সামন্ত🌹🌹🌹




সবাই একটু মনোযোগ দিয়ে পড়বেন,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 সবাই একটু মনোযোগ দিয়ে পড়বেন,,,,, 


সংসারী ছেলে মা কে ডেকে বলছে,,,

--- মা একটা কথা বলি?আমার একটা অনুরোধ রাখবে?

--- তুই চাইলে আমি কি না করতে পারি? বল তোর সব কথা আমি রাখবো।


--- "তোমার বৌমা বলছিলো...তোমার তো বয়স হয়েছে।এখন তো তোমার শরীরের একটু বিশ্রাম প্রয়োজন।আর এই বাড়িটা তো খুব একটা ভালো না।ছোট ঘুপচি.......!!তোমার কাশিটাও বেড়ে গেছে।আরো তো ডায়াবেটিস আছেই, হার্টের সমস্যা, হাড়ের সমস্যা আরো কতো কি!"


--- "হ্যাঁ রে... মনে হয় আর বেশিদিন....!

--- " আহ... থামো তো মা।তোমার সব সময় দেখা শোনার জন্য কাউকে রাখতে হবে।

আচ্ছা আমাকে তাহলে গ্রামের বাড়িতে...।

--- না না ওই যে বৃদ্ধাশ্রমের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চে ভর্তি করালে কেমন হয়?এটাই বলছিলো তোমার বৌমা।ওখানে অনেকে থাকবে তোমার মতোই।তাদের সাথে গল্প করতে পারবে আর এ বাড়ীতে তো কেউই নাই, আমি ব্যাবসায় দৌড়াচ্ছি,তোমার বৌমা অফিসে আর মিঠু তো সারাদিনই স্কুলে।ওখানে তুমি আরামেই থাকবে মা।মা এটাই আমার.... মানে আমাদের অনুরোধ ছিলো।"


--- "আচ্ছা তুই চাইলে তাই হবে"।

--- "থ্যাংকস মা......।

--- আচ্ছা কালকে বিকেলেই কিন্তু তাহলে ওখানে যাচ্ছো। তোমার ব্যাগ গুছিয়ে রাখবে।"


পরের দিন,

অস্বস্তিকরজ্যামে আটকে আছে মা-ছেলে।নীরবতা ভাঙলেন মা.......!


--- "বাবা ওখানে আমাকে দেখতে যাবি তো ?পারলে একটা ফোন কিনে দিস আমাকে..."?

--- " হা হা হা ...মা তুমি ফোন দিয়ে কি করবে ?আহা... ওখানে ফোন আছে তো......"।


কিছুক্ষন পরে একটা পাঁচতলা বাড়ীর সামনে এসে গাড়ি থামালো।

আবার বেশ কিছুক্ষন নিরব থেকে এবার ছেলে বলে উঠলো...।


--- "নামো মা..... এটাই তো ওই বৃদ্ধাশ্রম মা।দেখেছো!বলেছিলাম না তোমার পছন্দ হবে।

তোমার জন্য দোতালার দক্ষিনের ঘরটা বুকিং করে রেখেছি।"


টিং ডং টিং ডং(দরজা খুললো)

"হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ ! !

হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ 'মা' ! ! !"

'

'

'

দরজা খুলতেই চমকে গেলেন মা।আরে ওই তো তার একমাত্র নাতি আর বৌমা বিশাল একটা কেক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।এতো বেলুন আগে কখনো দেখেননি।এতো আয়োজন করে কখনো কেউ তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছাও জানায় নি।আরে ওই তো তার দুই মেয়ে আর তাদের জামাই দাঁড়িয়ে।ওদেরও ডেকে এনেছে তার পাগল ছেলেটা।


" হ্যাপি বার্থ ডে মা"

মাঃ "তুই অনেক বড় হয়ে গেছিস (কান্নাভেজা কন্ঠে)

কিন্তু এটা কার ঘর?"


--- " বাড়ির ফলকে নাম দেখোনি!বাবার নামে রেখেছি।মা পুরো বাড়িটাই আমাদের।এবার তুমি আরামে থাকতে পারবে মা।


--- "তুই না ! !এমন কি কেউ করে?(কান্না ভেজা চোখে জোরে জোরে মাথা নাড়ছেন।

আনন্দে কথা বলতে পারছেন না)


পার্টি শেষে ঘুমাতে যাবে এমন সময় পেছন থেকে মায়ের ডাক।হাতের ব্যাগটা আঁতিপাঁতি খুঁজে একটা কৌটা বের করে ছেলের হাতে ধরিয়ে দিলেন।


--- " নে এটার আর দরকার হবে না।(ইঁদুরের বিষ)

চিন্তা করেছিলাম যদি বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসিস তাহলে সেদিনই খেয়ে নেবো।"


--- "ধুর মা কি যে বলো !এটায় তো সেসব আমি কাল রাতেই পাল্টে তোমার ক্যালসিয়ামের ওষুধ ভরে রেখেছি।তুমি ঘুমাও।"


মার আজ আর কিছুই চাওয়ার নেই।আর কিছু না হোক তার ছেলেকে অন্তত মানুষ করতে পেরেছে সে।যাক আজকের ঘুমটা সত্যিই আরামের হবে,ঘুমের ঔষুধ খেতে হবে না ।।


প্রত্যেক সন্তানই যেন মা-বাবাকে এভাবেই ভালোবাসে এবং মা-বাবার শেষ বয়সে যেন তাদেরকে বৃদ্ধাশ্রমে না পাঠায়। 


 বাবা মায়ের  জন্য বৃদ্ধাশ্রম নয়,,,

নিজের কলিজায় জায়গা দিয়ে রাখো.......

সংগৃহীত  পোষ্ট❤️❤️❤️❤️❤️❤️



টমাস ফুলার,,,,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 টমাস ফুলার


আমেরিকার ইতিহাস অকল্পনীয় হিংস্রতার ইতিহাস, কালো মানুষের বিরুদ্ধে সাদাদের নির্মম দাসত্বের ইতিহাস, নেটিভ আমেরিকান (রেড ইন্ডিয়ান)-দেরকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মেরে শেষ করে তাদের জমি, তাদের দেশ দখলের ইতিহাস। 


১৭২৪ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে তাকে বিক্রি করে দেয়া হয় দাস হিসেবে, তার নাম টমাস ফুলার। তাকে ভার্জিনিয়ার ক্যালকুলেটর বা অসাধারণ গণিতবিদ বলা হতো। যেমন, তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল দেড় বছরে কতগুলো সেকেন্ড হবে। দুই মিনিটের ভেতর তিনি মনে মনে অংক করে বলে দিয়েছিলেন ৪৭,৩০৪,০০০। তখন তারা তাকে প্রশ্ন করল, একজন মানুষ যদি ৭০ বছর, ১৭ দিন, ১২ ঘন্টা বেঁচে থাকে, তাহলে সে সর্বমোট কত সেকেন্ড বেঁচে থাকল। দেড় মিনিটের ভেতরে তিনি মানসাংক করে বলে দিলেন, ২,২১০,৫০০, ৮০০। 


বেশ ক'জন পণ্ডিত যারা তার অংক যাচাই করছিলেন, তাদের একজন লাফিয়ে উঠলেন, খুব খুশি হয়ে যে অবশেষে টমাসের অংকে ভুল ধরা গেছে। উত্তেজনায় কাঁপতে কাঁপতে তিনি বললেন, টমাসের উত্তর ঠিক নয়, সে বেশি সেকেন্ড বলেছে, আসলে মোট সেকেন্ড কম হবে। টমাস খুব ঠাণ্ডা মাথায় ভদ্রতা বজায় রেখে জবাব দিলেন, "দেখুন, ও সম্মানিত প্রভু, আপনি তো লিপ ইয়ার হিসেবের ভেতরে ধরেন নাই। লোকটা যদি এত দিন বেঁচে থাকে, তাহলে যতগুলো লিপ ইয়ার হয়, আমি সেই হিসেবও করে ফেলেছি। এবার আরো ভালো করে যাচাই করে দেখুন। দেখবেন আমার উত্তর একেবারেই সঠিক।"


ফেইসবুক থেকে নেওয়া 


ছবিতে যেটি দেখছেন সেটি হচ্ছে টাকা ! এখনো ব্যবহার হয় এটির.... ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ছবিতে যেটি দেখছেন সেটি হচ্ছে টাকা ! এখনো ব্যবহার হয় এটির.... 


আমাদের পৃথিবীতে মুদ্রার ইতিহাস খুবই বিচিত্র ! মুদ্রার ইতিহাসে তিনটি ধাপ পেরিয়ে আজকে আমরা কাগজের মুদ্রা ব্যবহার করছি ! খুব প্রাচীনকালে বা ইতিহাসের প্রথম দিকের কথা যদি বলি তখন মানুষ বিনিময় প্রথার মাধ্যমে নিজের চাহিদা পূরণ করতো ‌। তবে এতেও মানুষের চাহিদা সম্পন্নরূপে পূরণ না হওয়ায় মুদ্রার আবির্ভাব হয়।


তখনকার সময়ে মুদ্রা বা টাকা ছিল বিভিন্ন ধরনের পাথর, শামুকের খোলস ইত্যাদি ইত্যাদি । ছবিতে যেটি দেখছেন এটিও একটি মুদ্রা বা টাকা ! 


সব থেকে অবাক করার বিষয় হচ্ছে এই মুদ্রাটি এখনো ব্যবহার হয় ! সভ্যতার শুরুর দিকে বা প্রাচীনকালে এই ধরনের মুদ্রার প্রচলন ছিল। তবে এখনো এই ধরনের মুদ্রার ব্যবহার সত্যিই অবিশ্বাস্য ! 


ছবির মুদ্রাটি দেখুন, এই মুদ্রাটিই আস্ত একটি মানুষ থেকে বড় ! প্রশান্ত মহাসাগরে একটি দ্বীপে ব্যবহার হয় এই ধরনের মুদ্রা ! সাগরের মাঝখানে একটি আদিবাসী গোষ্ঠী বলতে পারেন তাদের যারা আজও সেই ইতিহাসের প্রথম দিকে রয়েছে । 


প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপটির নাম Yap ! এই পাথরটি বা টাকাটির ওজন একটি মোটরসাইকেল থেকেও বেশি ! সেখানকার লোকেরা এই পাথরটিকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নাড়াতে পারে না । যেহেতু এটি একটি মুদ্রা তাই সেখানকার মানুষেরা আমাদের মতই এর ব্যবহার করে তবে এটির স্থান পরিবর্তন করানো যায় না বলে এটি সর্বদা একই স্থানে থাকে । অর্থাৎ যিনি প্রথমে এর মালিক ছিলেন তার কাছেই থাকে শুধু প্রতিবার গ্রামবাসীরা এটা জানে যে বর্তমানে এটি কোন ব্যক্তির মালিকানা ভুক্ত ! 


আমি জানতে চাই ~



চমৎকার একটি ঘটনা,,,,,,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 চমৎকার একটি ঘটনা 


জিবরাইল (আ:) আল্লাহ তায়ালাকে একদিন জিজ্ঞেসা করলেন, আল্লাহ আপনি সবচেয়ে বেশি খুশি হন কিসে?


আল্লাহ তায়ালা জানিয়ে দিলেন আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হই তখন, যখন আমার বান্দা আমাকে সিজদা করে। অতঃপর জিবরাইল (আ:) আল্লাহ কে সিজদা করলেন ৩০ হাজার বছর ধরে। জিবরাইল (আ:) মনে মনে খেয়াল করলেন আমার থেকে এত বড় দামি সিজদা দুনিয়ায় আর কেউ করতে পারবে না আল্লাহ তায়ালা নিশ্চয়ই আমার প্রতি খুশি হবেন। 


জিবরাইল (আ:) আল্লাহ তায়ালার দিকে মতাজ্জির হয়ে রইলেন।  কিন্তু আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে কোন সংবাদ জানানো হলো না। 


জিবরাইল (আ:) আল্লাহ তায়ালা কে জিজ্ঞেসা করলেন, "হে আমার রব, আমি যে এত বড় সিজদা করলাম আপনি কি আমার সিজদার প্রতি খুশি হন নাই? 


আল্লাহ তায়ালা জানিয়ে দিলেন, "আমি তোমার প্রশ্নের জবাব দেবো, তার আগে তুমি একটু আমার আরশে আজিমের দিকে তাকাও।"


জিবরাইল (আ:) তাকিয়ে দেখলেন আল্লাহর কুদরতি নূর দ্বারা লিখা রয়েছে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ"।


জিবরাইল (আ:) আল্লাহ তায়ালা কে জিজ্ঞেসা করলেন, "হে আল্লাহ, আমার সিজদার সঙ্গে ওই কালেমার কি সম্পর্ক?


আল্লাহ তায়ালা বললেন, "ও জিবরাইল আমি আল্লাহ এই দুনিয়া তৈরি করব। ওই দুনিয়ায় মানবজাতি ও জ্বীন জাতির হেদায়েতের জন্য লক্ষাধিক নবী ও রাসুল কে পাঠাব। 


 সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ট নবী হযরত মুহাম্মদ (স:) কে পাঠাব। ওই নবীর উম্মতের উপর আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করব আর প্রতি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে ১৭ টা রাকাত আমার জন্য ফরজ করব। প্রত্যেক টা রাকাতের মধ্যে দুটি করে সিজদা হবে আর প্রত্যেকটা সিজদার মধ্যে তিনবার করে "সুবহানা রাব্বিয়াল আলা" পাঠ করবে। 


জিবরাইল তুমি জেনে রাখো আমার ওই মাহাবুব নবীর উম্মত যখন সিজদায় গিয়ে "সুবহানা রাব্বিয়াল আলা" বলে আমাকে ডাক দিবে। জিবরাইল তুমি ৩০ হাজার বছর সিজদা করে যে নেকি পেয়েছো। আমি আল্লাহ আমার বান্দার আমল নামায় তার থেকে ৪০ হাজার গুন বেশি নেকি লিখে দিব।


সুবহানাল্লাহ্ 


ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

নকশী কাঁথার মাঠ-১৩ __জসীম উদ্‌দীন,,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 নকশী কাঁথার মাঠ-১৩

__জসীম উদ্‌দীন

একটি বছর হইয়াছে সেই রূপাই গিয়াছে চলি,

দিনে দিনে নব আশা লয়ে সাজুরে গিয়াছে ছলি |

কাইজায় যারা গিয়াছিল গাঁয়, তারা ফিরিয়াছে বাড়ী,

শহরের জজ, মামলা হইতে সবারে দিয়াছে ছাড়ি |

স্বামীর বাড়ীতে একা মেয়ে সাজু কি করে থাকিতে পারে,

তাহার মায়ের নিকটে সকলে আনিয়া রাখিল তারে |

একটি বছর কেটেছে সাজুর একটি যুগের মত,

প্রতিদিন আসি, বুকখানি তার করিয়াছে শুধু ক্ষত |


ও-গাঁয়ে রূপার ভাঙা ঘরখানি মেঘ ও বাতাসে হায়,

খুঁটি ভেঙে আজ হামাগুড়ি দিয়ে পড়েছে পথের গায় |

প্রতি পলে পলে খসিয়া পড়িছে তাহার চালের ছানি,

তারও চেয়ে আজি জীর্ণ শীর্ণ সাজুর হৃদয়খানি |

রাত দিন দুটি ভাই বোন যেন দুখেরই বাজায় বীণ |

কৃষাণীর মেয়ে, এতটুকু বুক, এতটুকু তার প্রাণ,

কি করিয়া সহে দুনিয়া জুড়িয়া অসহ দুখের দান!

কেন বিধি তারে এত দুখ দিল, কেন, কেন, হায় কেন,

মনের-মতন কাঁদায় তাহারে “পথের কাঙালী” হেন ?

সোঁতের শেহলা ভাসে সোঁতে সোঁতে, সোঁতে সোঁতে ভাসে পানা,

দুখের সাগরে ভাসিছে তেমনি সাজুর হৃদয়খানা |

কোন্ জালুয়ার মাছ সে খেয়েছে নাহি দিয়ে তায় কড়ি,

তারি অভিশাপ ফিরেছে কি তার সকল পরাণ ভরি !

কাহার গাছের জালি কুমড়া সে ছিঁড়েছিল নিজ হাতে,

তাহারি ছোঁয়া কি লাগিয়াছে আজ তার জীবনের পাতে !

তোর দেশে বুঝি দয়া মায়া নাই, হা-রে নিদারুণ বিধি

কোন্ প্রাণে তুই কেড়ে নিয়ে গেলি তার আঁচলের নিধি |

নয়ন হইতে উড়ে গেছে হায় তার নয়নের তোতা,

যে ব্যাথারে সাজু বহিতে পারে না, আজ তা রাখিবে কোথা ?

এমনি করিয়া কাঁদিয়া সাজুর সারাটি দিবস কাটে,

আমেনে কভু একা চেয়ে রয় দীঘল গাঁয়ের বাটে |

কাঁদিয়া কাঁদিয়া সকাল যে কাটে—দুপুর কাটিয়া যায়,

সন্ধ্যার কোলে দীপ নিবু-নিবু সোনালী মেঘের নায়ে |

তবু ত আসে না ! বুকখানি সাজু নখে নখে আজ ধরে,

পারে যদি তবে ছিঁড়িয়া ফেলায় সন্ধ্যার কাল গোরে |

মেয়ের এমন দশা দেখে মার সুখ নাই কোন মনে,

রূপারে তোমরা দেখেছ কি কেউ, শুধায় সে জনে জনে |

গাঁয়ের সবাই অন্ধ হয়েছে, এত লোক হাটে যায়,

কোন দিন কিগো রূপাই তাদের চক্ষে পড়ে নি হায় !

খুব ভাল করে খোঁজে যেন তারে, বুড়ী ভাবে মনে মনে,

রূপাই কোথাও পলাইয়া আছে হয়ত হাটের কোণে |

ভাদ্র মাসেতে পাটের বেপারে কেউ কেউ যায় গাঁরষ

নানা দেশে তারা নাও বেয়ে যায় পদ্মানদীর পার |

জনে জনে বুড়ী বলে দেয়, “দেখ, যখন যখানে যাও,

রূপার তোমরা তালাস লইও, খোদার কছম খাও |”

বর্ষার শেষে আনন্দে তারা ফিরে আসে নায়ে নায়ে,

বুড়ী ডেকে কয়, “রূপারে তোমরা দেখ নাই কোন গাঁয়ে !”

বুড়ীর কথার উত্তর দিতে তারা নাহি পায় ভাষা,

কি করিয়া কহে, আর আসিবে না যে পাখি ছেড়েছে বাসা |

চৈত্র মাসেতে পশ্চিম হতে জন খাটিবার তরে,

মাথাল মাথায় বিদেশী চাষীরা সারা গাঁও ফেলে ভরে |

সাজুর মায়ে যে ডাকিয়া তাদের বসায় বাড়ির কাছে,

তামাক খাইতে হুঁকো এনে দ্যায়, জিজ্ঞাসা করে পাছে ;

“তোমরা কি কেউ রূপাই বলিয়া দেখেছ কোথাও কারে,

নিটল তাহার গঠন গাঠন, কথা কয় ভারে ভারে |”

এমনি করিয়া বলে বুড়ী কথা, তাহারা চাহিয়া রয়,—

রুপারে যে তারা দেখে নাই কোথা, কেমন করিয়া কয় !

যে গাছ ভেঙেছে ঝড়িয়া বাতাসে কেমন করিয়া হায়,

তারি ডালগুলো ভেঙে যাবে তারা কঠোর কুঠার-ঘায় ?

কেউ কেউ বলে, “তাহারি মতন দেখেছিন একজনে,

আমাদের সেই ছোট গাঁয় পথে চলে যেতে আনমনে |”

“আচ্ছা তাহারে সুধাও নি কেহ, কখন আসিবে বাড়ী,

পরদেশে সে যে কোম্ প্রাণে রয় আমার সাজুরে ছাড়ি ?”

গাঙে-পড়া-লোক যেমন করে তৃণটি আঁকড়ি ধরে,

তেমনি করিয়া চেয়ে রয় বুড়ী তাদের মুখের পরে |

মিথ্যা করেই তারা বলে, “সে যে আসিবে ভাদ্র মাসে,

খবর দিয়েছে, বুড়ী যেন আর কাঁদে না তাহার আশে |”

এত যে বেদনা তবু তারি মাঝে একটু আশার কথা,

মুহুর্তে যেন মুছাইয়া দেয় কত বরষের ব্যথা |

মেয়েরে ডাকিয়া বার বার কহে, “ভাবিস না মাগো আর,

বিদেশী চাষীরা কয়ে গেল মোর—খবর পেয়েছে তার |”

মেয়ে শুধু দুটি ভাষা-ভরা আঁখি ফিরাল মায়ের পানে ;

কত ব্যথা তার কমিল ইহাতে সেই তাহা আজ জানে |

গণিতে গণিতে শ্রাবণ কাটিল, আসিল ভাদ্র মাস,

বিরহী নারীর নয়নের জলে ভিজিল বুকের বাস |

আজকে আসিবে কালকে আসিবে, হায় নিদারুণ আশা,

ভোরের পাখির মতন শুধুই ভোরে ছেড়ে যায় বাসা |

আজকে কত না কথা লয়ে যেন বাজিছে বুকের বীনে,

সেই যে প্রথম দেখিল রূপারে বদনা-বিয়ের দিনে |

তারপর সেই হাট-ফেরা পথে তারে দেখিবার তরে,

ছল করে সাজু দাঁড়ায়ে থাকিত গাঁয়ের পথের পরে |

নানা ছুতো ধরি কত উপহার তারে যে দিত আনি,

সেই সব কথা আজ তার মনে করিতেছে কানাকানি |

সারা নদী ভরি জাল ফেলে জেলে যেমনি করিয়া টানে,

কখন উঠায়, কখন নামায়, যত লয় তার প্রাণে ;

তেমনি সে তার অতীতেরে আজি জালে জালে জড়াইয়া টানে,

যদি কোন কথা আজিকার দিনে কয়ে যায় নব-মানে |

আর যেন তার কোন কাজ নাই, অতীত আঁধার গাঙে,

ডুবারুর মত ডুবিয়া ডুবিয়া মানক মুকুতা মাঙে |

এতটুকু মান, এতটুকু স্নেহ, এতটুকু হাসি খেলা,

তারি সাথে সাজু ভাসাইতে চায় কত না সুখের ভেলা !

হায় অভাগিনী ! সে ত নাহি জানে আগে যারা ছিল ফুল,

তারাই আজিকে ভুজঙ্গ হয়ে দহিছে প্রাণের মূল |

যে বাঁশী শুনিয়া ঘুমাইত সাজু, আজি তার কথা স্মরি,

দহন নাগের গলা জড়াইয়া একা জাগে বিভাবরী |


মনে পড়ে আজ সেই শেষ দিনে রূপার বিদায় বাণী—

“মোর কথা যদি মনে পড়ে তবে পরিও সিঁদুরখানি |”

আরও মনে পড়ে, “দীন দুঃখীর যে ছাড়া ভরসা নাই,

সেই আল্লার চরণে আজিকে তোমারে সঁপিয়া যাই |

হায় হায় পতি, তুমি ত জান না কি নিঠুর তার মন ;

সাজুর বেদনা সকলেই শোনে, শোনে না সে একজন |

গাছের পাতারা ঝড়ে পরে পথে, পশুপাখি কাঁদে বনে,

পাড়া প্রতিবেশী নিতি নিতি এসে কেঁদে যায় তারি সনে |

হায় রে বধির, তোর কানে আজ যায় না সাজুর কথা ;

কোথা গেলে সাজু জুড়াইবে এই বুক ভরা ব্যথা |

হায় হায় পতি, তুমি ত ছাড়িয়া রয়েছ দূরের দেশে,

আমার জীবন কি করে কাটিবে কয়ে যাও কাছে এসে !

দেখে যাও তুমি দেখে যাও পতি তোমার লাই-এর লতা,

পাতাগুলি তার উনিয়া পড়েছে লয়ে কি দারুণ ব্যথা |

হালের খেতেতে মন টিকিত না আধা কাজ ফেলি বাকি,

আমারে দেখিতে বাড়ি যে আসিতে করি কতরূপ ফাঁকি |

সেই মোরে ছেড়ে কি করে কাটাও দীর্ঘ বরষ মাস,

বলিতে বলিতে ব্যথার দহনে থেমে আসে যেন শ্বাস |


নক্সী-কাঁথাটি বিছাইয়া সাজু সারারাত আঁকে ছবি,

ও যেন তাহার গোপন ব্যথার বিরহিয়া এক কবি |

অনেক সুখের দুঃখের স্মৃতি ওরি বুকে আছে লেখা,

তার জীবনের ইতিহাসখানি কহিছে রেখায় রেখা |

এই কাঁথা যবে আরম্ভ করে তখন সে একদিন,

কৃষাণীর ঘরে আদরিনী মেয়ে সারা গায়ে সুখ-চিন |

স্বামী বসে তার বাঁশী বাজায়েছে, সিলাই করেছে সেজে ;

গুন গুন করে গান কভু রাঙা ঠোঁটেতে উঠেছে বেজে |

সেই কাঁথা আজো মেলিয়াছে সাজু যদিও সেদিন নাই,

সোনার স্বপন আজিকে তাহার পুড়িয়া হয়েছে ছাই |


খুব ধরে ধরে আঁকিল যে সাজু রূপার বিদায় ছবি,

খানিক যাইয়া ফিরে ফিরে আসা, আঁকিল সে তার সবি |

আঁকিল কাঁথায়—আলু থালু বেশে চাহিয়া কৃষাণ-নারী,

দেখিছে তাহার স্বামী তারে যায় জনমের মত ছাড়ি |

আঁকিতে আঁকিতে চোখে জল আসে, চাহনি যে যায় ধুয়ে,

বুকে কর হানি, কাঁথার উপরে পড়িল যে সাজু শুয়ে |

এমনি করিয়া বহুদিন যায়, মানুষে যত না সহে,

তার চেয়ে সাজু অসহ্য ব্যথা আপনার বুকে বহে |

তারপর শেষে এমনি হইল, বেদনার ঘায়ে ঘায়ে,

এমন সোনার তনুখানি তার ভাঙিল ঝরিয়া-বায়ে |

কি যে দারুণ রোগেতে ধরিল, উঠিতে পারে না আর ;

শিয়রে বসিয়া দুঃখিনী জননী মুছিল নয়ন-ধার |

হায় অভাগীর একটি মানিক ! খোদা তুমি ফিরে চাও,

এরে যদি নিবে তার আগে তুমি মায়েরে লইয়া যাও !

ফিরে চাও তুমি আল্লা রসুল ! রহমান তব নাম,

দুনিয়ায় আর কহিবে না কেহ তারে যদি হও বাম !


মেয়ে কয়, “মাগো ! তোমার বেদনা আমি সব জানি,

তার চেয়ে যেগো অসহ্য ব্যথা ভাঙে মোর বুকখানি !

সোনা মা আমার ! চক্ষু মুছিয়া কথা শোন, খাও মাথা,

ঘরের মেঝেয় মেলে ধর দেখি আমার নক্সী-কাঁথা !

একটু আমারে ধর দেখি মাগো, সূঁচ সুতা দাও হাতে,

শেষ ছবি খানা এঁকে দেখি যদি কোন সুখ হয় তাতে |”

পাণ্ডুর হাতে সূঁচ লয়ে সাজু আঁকে খুব ধীরে ধীরে,

আঁকিয়া আঁকিয়া আঁখিজল মুছে দেখে কত ফিরে ফিরে |

কাঁথার উপরে আঁকিল যে সাজু তাহার কবরখানি,

তারি কাছে এক গেঁয়ো রাখালের ছবিখানি দিল টানি ;

রাত আন্ধার কবরের পাশে বসি বিরহী বেশে,

অঝোরে বাজায় বাঁশের বাঁশীটি বুক যায় জলে ভেসে |

মনের মতন আঁকি এই ছবি দেখে বার বার করি,

দুটি পোড়া চোখ বারবার শুধু অশ্রুতে উঠে ভরি |

দেখিয়া দেখিয়া ক্লান্ত হইয়া কহিল মায়েরে ডাকি,

“সোনা মা আমার! সত্যিই যদি তোরে দিয়ে যাই ফাঁকি ;

এই কাঁথাখানি বিছাইয়া দিও আমার কবর পরে,

ভোরের শিশির কাঁদিয়া কাঁদিয়া এরি বুকে যাবে ঝরে !

সে যদি গো আর ফিরে আসে কভু, তার নয়নের জল,

জানি জানি মোর কবরের মাটি ভিজাইবে অবিরল |

হয়ত আমার কবরের ঘুম ভেঙে যাবে মাগো তাতে,

হয়ত তাহারে কাঁদাইতে আমি জাগিব অনেক রাতে |

এ ব্যথা সে মাগো কেমনে সহিবে, বোলো তারে ভালো করে,

তার আঁখি জল ফেলে যেন এই নক্সী-কাঁথার পরে |

মোর যত ব্যথা, মোর যত কাঁদা এরি বুকে লিখে যাই,

আমি গেলে মোর কবরের গায়ে এরে মেলে দিও তাই !

মোর ব্যথা সাথে তার ব্যথাখানি দেখে যেন মিল করে,

জনমের মত সব কাঁদা আমি লিখে গেনু কাঁথা ভরে |”

বলিতে বলিতে আর যে পারে না, জড়াইয়া আসে কথা,

অচেতন হয়ে পড়িল যে সাজু লয়ে কি দারুণ ব্যথা |


কানের কাছেতে মুখ লয়ে মাতা ডাক ছাড়ি কেঁদে কয়,

“সাজু সাজু ! তুই মোরে ছেড়ে যাবি এই তোর মনে লয় ?”

“আল্লা রসুল ! আল্লা রসুল !” বুড়ী বলে হাত তুলে,

“দীন দুঃখীর শেষ কান্না এ, আজিকে যেয়ো না ভুলে !”

দুই হাতে বুড়ী জড়াইতে চায় আঁধার রাতের কালি,

উতলা বাতাস ধীরে ধীরে বয়ে যায়, সব খালি ! সব খালি !!

“সোনা সাজুরে, মুখ তুলে চাও, বলে যাও আজ মোরে,

তোমারে ছাড়িয়া কি করে যে দিন কাটিবে একেলা ঘরে !”


দুখিনী মায়ের কান্নায় আজি খোদার আরশ কাঁপে,

রাতের আঁধার জড়াজড়ি করে উতল হাওয়ার দাপে।


ফেইসবুক থেকে নেওয়া 


বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...