এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বৃহস্পতিবার, ৭ মার্চ, ২০২৪

করলা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সবজি

 করলা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সবজি। স্বাদে তিক্ত হলেও বাংলাদেশের সকলের নিকট এটি প্রিয় সবজি হিসেবে পরিচিত। ১০০ গ্রাম ভক্ষণ যোগ্য করলায় ১.৫-২.০ ভাগ আমিষ, ২০-২৩ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১.৮-২.০ মিলিগ্রাম লৌহ এবং ৮৮.৯৬ মিলিগ্রাম খাদ্যপ্রাণ সি আছে। 

 উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় করলা ভাল জন্মে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে পরাগায়ন বিঘ্নিত হতে পারে। সব রকম মাটিতেই করলার চাষ করা যেতে পারে। জৈব সার সমৃদ্ধ দো-আঁশ বেলে দো-আঁশ মাটিতে ভাল জন্মে। 

 

জীবন কাল  

মোট জীবনকাল প্রায় চার থেকে সারে চার মাস। তবে জাত ও আবহাওয়াভেদে কোন কোন সময় কম বেশী হতে পারে। 


উৎপাদন মৌসুম

ফেব্র্বয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে যে কোন সময় করলার বীজ বোনা যেতে পারে। কেউ কেউ জানুয়ারী মাসেও বীজ বুনে থাকেন কিন্তু এ সময় তাপমাত্রা কম থাকায় গাছ দ্র্বত বাড়তে পারে না, ফলে আগাম ফসল উৎপাদনে তেমন সুবিধা হয় না। 


বীজের হার

করলা ও উচ্ছের জন্য হেক্টর প্রতি যথাক্রমে ৬-৭.৫ও ৩-৩.৫ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। 


জমি তৈরী ও বপন পদ্ধতি 

উচ্ছে ও করলার বীজ সরাসরি মাদায় (৪০x৪০x৪০ সেমি) বোনা যেতে পারে। এৰেত্রে প্রতি মাদায় কমপক্ষে ২টি বীজ বপন অথবা পলিব্যাগে উৎপাদিত ১৫-২০ দিন বয়সের চারা রোপণ করতে হবে। উচ্ছের ক্ষেত্রে সারিতে ১.০ মিটার এবং করলার জন্য ১.৫ মিটার দূরত্বের মাদা তৈরী করতে হবে। মাদা বীজ বুনতে বা চারা রোপণ করতে হলে অন্তত: ১০ দিন আগে মাদা নির্ধারিত সার প্রয়োগ করে তৈরী করে নিতে হবে।          

 

ফসল সংগ্রহ ও ফলন

চারা গজানোর ৪৫-৪৫ দিন পর উচ্ছের গাছ ফল দিতে থাকে। করলার বেলায় প্রায় ২ মাস লেগে যায়।

স্ত্রীফুলের পরাগায়নের ১৫-২০ দিনের মধ্যে ফল খাওয়ার উপযুক্ত হয়।

ফল আহরণ একবার শুরু হলে তা দুমাস পর্যন্ত অব্যাহত থাকে ফলন। উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে উচ্ছে ও করলার হেক্টর প্রতি ফলন যথাক্রমে ৭-১০ টন (৩০-৪০ কেজি/শতাংশ) এবং ২০-২৫ টন (৮০-১০০ কেজি/শতাংশ) পাওয়া যায়।

©® দেশবাংলা এগ্রো



টমেটো ফল ধরলে করনীয়:

 টমেটো ফল ধরলে করনীয়:


উপরের দিকের কয়েকটা পাতা রেখে 

নিচের দিকের সব পাতা ও সাকার কেটে ফেলতে হবে তাইলে ফলের সাইজ বড় হবে এবং ফলন বাড়বে।


এক চিমটি পান খাবার চুন পানিতে গুলে গোড়ার মাটিতে দিয়ে দিবেন  তাইলে টমেটো নিচ কালো হয়ে পঁচবে না।


কাটা সাকার(শাখা কান্ড) পানিতে ভিজিয়ে রেখে শিকড় গজিয়ে আবার চারা তৈরি করতে পারেন।


হ্যাপি গার্ডেনিং 


ছবি সংগৃহীত



কাকেইবো: টাকা জমানোর জাপানি কৌশল (১ম পর্ব),,,, city alo ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 কাকেইবো: টাকা জমানোর জাপানি কৌশল

(১ম পর্ব)


টাকাপয়সা সামলানো জটিল কাজই মনে হয় আমাদের বেশিরভাগের কাছে। কেউ কেউ এ বিষয়ে সারাজীবনও সংগ্রাম করে যান। এর একটা কারণ, বেশিরভাগ সময়ই আমরা কাজটা করি কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি ছাড়াই। 


অর্থাৎ, আপনার কাছে যদি এর কোনো কার্যকর কৌশল থাকে, মানি ম্যানেজমেন্ট অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। এই কাজকে সহজ করে তোলার অনেক উপায় আছে। তার মধ্যে একটি হল, জাপানি ‘কাকেইবো’ পদ্ধতি। 


জাপানিরা জীবনে শৃঙ্খলা আনতে নানান কৌশল অবলম্বন করে। এরকম কিছু কৌশলের কথা আমরা শুনে থাকবে। যেমন গত কয়েক বছরে আমরা ‘ওয়াবি-সাবি’ নামের জাপানি ধারণার কথা শুনেছি, যেটা শেখায় দৈনন্দিন জীবনের অপূর্ণতাকে মেনে নিতে। 


এই তালিকায় নতুন সংযোজন হিসেবে দেখে নিতে পারেন টাকা সঞ্চয়ের জাপানি কৌশল কাকেইবো। টাকা পয়সা সামাল দেওয়া বা গুছিয়ে তুলতে হিমশিম খেলে কাকেইবো আপনাকে সহজ পথ দেখাতে পারে। 

.


# কাকেইবো কী? 


জাপানি ভাষায় কাকেইবো (Kakeibo) এর অর্থ ‘পরিবারের আর্থিক হিসাব’। এই ধারণাটি তৈরি করেছিলেন জাপানের প্রথম নারী সাংবাদিক হানি মোতোকো, ১৯০৪ সালে। মোতোকোর বানানো এই ধারণাটি পাঠকদের অনেক পছন্দ হয়েছিল। এই পাঠকদের একটা বড় অংশ ছিলেন গৃহিণীরা, পরিবারের বাজেট বানানো যাদের দায়িত্ব ছিল। 


লেখক ফুমিকো চিবা ২০১৮ সালে যখন ‘কাকেইবো: দ্য জাপানিজ আর্ট অফ সেভিং মানি’ লেখেন, তখন এই ধারণাটি বাদবাকি বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।  


চিবা ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সঞ্চয়ের ব্যাপারে জাপানি সমাজে প্রচলিত প্রথাগত ধ্যানধারণা ও বিশ্বাস তুলে ধরে। জাপানি সমাজে টাকার সাথে উৎসবের বেশ ভাল সম্পর্ক আছে। বাচ্চারা ছুটির উপহার হিসেবে টাকা পায়। পছন্দের জিনিস কেনার জন্য এই টাকা জমিয়ে রাখার শিক্ষা দেওয়া হয় তাদের। ছোটবেলা থেকেই টাকাপয়সাকে গুরুত্ব দিতে শেখে তারা। 


বড়দের কাছেও টাকার গুরুত্ব কোনো অংশে কম না। অন্যান্য দেশের তুলনায়, জাপানে নগদ টাকার ব্যবহার বেশি। 


কাকেইবো পদ্ধতিতে একটা ডায়েরিতে সব রকমের আয় ও ব্যয়ের হিসাব লিখতে হয়, যাতে করে কোথায় অপ্রয়োজনীয় টাকা খরচ হচ্ছে তা দেখা যায়। বাজেটিং-এর অন্যান্য উপায়ের তুলনায় এই পদ্ধতি অনেকটা অভিনব। এটা আপনাকে টাকা খরচের আগে ভাবতে বাধ্য করে, কেন এই ক্ষেত্রে খরচ করছেন। 


এই পদ্ধতিতে সচেতনভাবে খরচের দিকে মনোযোগ দেয়া হয়, ফলে অপ্রয়োজনে খরচের পরিমাণ কমে। এখানে ধীরেসুস্থে নিজের ব্যয়ের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র না কিনে পছন্দের ও প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার দিকে গুরুত্ব দেয়া হয় বেশি। 


কাকেইবো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যা টাকাপয়সার সাথে আপনার সম্পর্ক কী তা ভাবতে উৎসাহ দেয়, কিছু কেনার আগে তা কেন কিনছেন, বুঝতে সাহায্য করে। 


তাহলে কাকেইবো কীভাবে কাজ করে?

.


১. একটি হিসাবের খাতা খুলুন


আমাদের হাতের কাছেই কাগজ-কলম থাকে। কাকেইবোর উৎপত্তি বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে, তাই হাতে লেখাকেই এই পদ্ধতিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বুলেট জার্নালেও কাজ হবে, তবে যেকোনো ধরনের খাতা বা ডায়েরি ব্যবহার করলেই চলবে। 

.


২. মাসিক আয় হিসাব করুন, পূর্ব নির্ধারিত খরচ বাদ দিন 


এই ধাপে ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেন। পরিবারের হিসাব করার সময় পরিবারের সদস্যদের সাহায্য নিতে পারেন। কারণ অনেককিছুই আমাদের মনে থাকে না, তখন পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য পেলে হিসাব পরিপূর্ণভাবে করা যাবে।

.


৩. প্রতি মাসে সঞ্চয়ের একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করুন 


বাসা ভাড়া ও বাজার খরচের পর যে টাকা বাকি থাকবে, তা থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সঞ্চয় করার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। 

.


৪. ব্যয়গুলিকে ক্যাটেগরিতে ভাগ করুন 


কাকেইবো ৪ ধরনের ব্যয় নির্ধারণ করে:


• প্রয়োজন: এখানে বাড়িভাড়া, বাজার খরচ, যাতায়াতের খরচ বা ঋণের কিস্তির মত বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত। 

• চাহিদা: পছন্দের কিছু, যার আসলে তেমন প্রয়োজন নেই তা যাবে এই শ্রেণিতে। যেমন, বাইরে খাওয়া, শখের কাজ, বিনোদন ইত্যাদি। 

• সংস্কৃতি: সাংস্কৃতিক কাজে যেকোনো ধরনের ব্যয়, যেমন: বই, জাদুঘর বা কনসার্টের টিকেট, অনলাইন স্ট্রিমিং সার্ভিস ইত্যাদি এই খাতের অন্তর্ভুক্ত। 

• অপ্রত্যাশিত: মেডিকেল বিল বা বাড়ি রিপেয়ারের খরচ ইত্যাদি এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। 

.


৫. যা কিনছেন সবই আলাদা ক্যাটেগরির অন্তর্ভুক্ত করুন 


যখন যা কিনছেন, সবই উপযুক্ত ক্যাটেগরির নিচে লিখে ফেলুন। কত টাকা দিয়ে কিনেছেন তাও লিখুন। অনেকে মনে করেন, বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে সব ধরনের ব্যয় ভাগ করে নেওয়াটা কাকেইবোর সবচেয়ে কার্যকর দিক। 


কোনো কিছুকে ক্যাটেগরি অনুযায়ী আলাদা করতে গেলে তা নিয়ে কিছুক্ষণ ভাবতে হয়, যা হয়ত এমনিতে করা হত না। তাছাড়া চাহিদাকে প্রয়োজন থেকে আলাদা করতে অনেকেই হিমশিম খান। কোন ক্যাটেগরিতে টাকা বেশি খরচ হচ্ছে, তা যখন চোখের সামনে দেখতে পাবেন, তখন অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো সহজ হয়ে যাবে। 

.


৬. প্রতি সপ্তাহে বা মাসে ৪টি প্রশ্নের উত্তর দিন 


প্রতি মাসের শেষে নিজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করুন। মাসের শুরুতে নির্ধারণ করা লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছেন কিনা দেখুন। 


এতে করে কোন বিষয়গুলির দিকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে তা বুঝতে পারবেন। লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারলেও চেষ্টা করার জন্য নিজেকে বাহবা দিন। কোন দিকগুলিতে পরিবর্তন আনতে হবে তা বুঝতে নিজেকে এই প্রশ্নগুলি করুন। 


• এখন আমার কাছে কত টাকা আছে? 

• আমি কত টাকা সঞ্চয় করতে চাই? 

• এই মাসে কত টাকা ব্যয় করেছি? 

• কীভাবে আরও ভাল করা যায়? 


এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে হয়ত আপনার চোখে ধরা পড়ল, প্রতি মাসে বাইরের খাবারের পেছনে অপ্রয়োজনীয় অনেক টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে!

.


নিজের অগ্রগতি প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করলে কোথায় নগদ টাকা বেশি খরচ হচ্ছে তা সহজেই বুঝতে পারবেন, ফলে কোনো পরিবর্তন আনা দরকার হলে তা করতে পারবেন। 

.


শেষ প্রশ্নটি ছিল, “কীভাবে আরও ভাল করা যায়?” এই প্রশ্নটি একটি উন্মুক্ত প্রশ্ন। নিজের ব্যয়ের অভ্যাস পর্যালোচনা করে এই প্রশ্নটির উত্তর দিন। 


আরো ভাল করা বা উন্নতি করার অর্থ এই না যে, ব্যয় কমানোর উপায় খুঁজে বের করতে হবে। বরং পছন্দের জিনিসের পেছনে বেশি টাকা খরচও আরো ভাল করার উদাহরণ হতে পারে। অথবা পছন্দের কিছু কিনতে বেশি সঞ্চয় যদি করেন সেটাও এক ধরনের অগ্রগতি। 


একই ভাবে, অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রে বেশি টাকা ব্যয় না করাটা আরো ভাল করার উদাহরণ। কিংবা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির প্রস্তুতি হিসেবে কিছু টাকা জমিয়ে রাখাকেও অগ্রগতি হিসাবে দেখতে পারেন। 


এই পদ্ধতিতে টাকা কোথায় যাচ্ছে তার একটা পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। যদি টাকা সঞ্চয় করা আপনার লক্ষ্য হয়, তাহলে বাজেটের কোন খাতগুলির জন্য তা সম্ভব হচ্ছে না তা বুঝতে পারবেন। 


তারপর, যা কিছু কিনছেন, সব লিখে রাখুন। বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে কষ্টসাধ্য বলে মনে হতে পারে, তবে এই কাজটিকে সহজ করার জন্য নানারকম অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। এমনকি এক্সেল শিটও ব্যবহার করতে পারেন। প্রতিদিন অন্তত একবার ব্যয়ের হিসাব লিখে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে আপনার কাজ একদম সহজ হয়ে যাবে। তাছাড়া সহজেই নিজের ব্যয়ের ধরনও বুঝতে পারবেন। 


এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হল সঞ্চয় বাড়ানো। জাপানি কাকেইবোর হিসাবের খাতায় ‘সেভিংস পিগ’ ও ‘এক্সপেন্স উলফ’ এর লড়াই এর চিত্র আছে। নিজের হিসাবের খাতায়ও সৃজনশীল কোনো ছবি এঁকে নিতে পারেন, যা দেখে সঞ্চয়ের আগ্রহ বাড়বে। 


২য় পর্ব: https://tinyurl.com/3xnk2phv


কাকেইবো  টাকা  বাজেট



ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

লাখ টাকার বাগান খায়  এক টাকার ছাগলে,  এই কথাটা আসলেই সত্যি,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 লাখ টাকার বাগান খায় 

এক টাকার ছাগলে, 

এই কথাটা আসলেই সত্যি, 

আপনার সারাজীবনের কষ্টে অর্জিত টাকা জলে যাওয়ার জন্য, আপনার ভুল ডিসিশনই যথেষ্ট,

একটা ছবি দিলাম,

মনে করেন আপনি ইঞ্জিনিয়ার সাহেব থেকে ড্রয়িং আনলেন, টাকা কম হোক বা বেশি হোক,

,

,

,

পরবর্তী কাজ শুরু করলেন, 

১. লে আউট দিলেন, ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে চেক দিলেন না, এখানে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়,

২. ফুটিং ঢালাই দিচ্ছেন,  ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে চেক দিলেন  না,এখানে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়,

৩. সর্ট কলাম ঢালাই দিচ্ছেন, ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে চেক দিলেন  না,এখানে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়,

৪. গ্রেডবীম ঢালাই দিচ্ছেন, ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে চেক দিলেন  না,এখানে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়,

৫. কলাম, ছাদ,সিঁড়ি, ঢালাই দিচ্ছেন, ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে চেক দিলেন  না,এখানে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়,

আচ্ছা মনে করেন, আপনি আপনার ছেলেকে একটা বড় ডাক্তার দেখালেন, ডাক্তার আপনাকে প্রেসক্রিপশন দিলো, কয়েকটি ওসুধ, আর ইনজেকশন, 

আপনি ওসুধ গুলো নিলেন, সবই ভালো ওসুধ,  ইনজেকশন ও ভালো, 

আপনি ওসুধ গুলো হয়তো পড়ে, ছেলেকে খাওয়ালেন, 

আর ইনজেকশন টা কি আপনি নিজেই দিবেন,নাকি ডাক্তার বা নার্স এর সহযোগিতা নিবেন?

যদি নিজেই দেয়ার চেষ্টা করেন, হয়তো ইনজেকশন টা রগে না পড়ে মাংসের মধ্যে পুস করে দিলেন। 

এতে কি সমস্যা হতে পারে আপনার হয়তো ধারোনাই নাই, 

রুগীর রোগ আরো বেড়ে যেয়ে মৃত্যুর শয্যায়  চলে যেতে পারে,,,,

এইবার আসেন আসল কথায়,,,, 

ইঞ্জিনিয়ার সাহেব আপনার স্থাপনায় কলাম,বীম,ফুটিং ইত্যাদি এইসবে আপনাকে ১:১.৫:৩ ঢালাই দিতে বললো, 

আপনি নিজের মতো করে বা সিরিয়াস ডিগ্রিধারী সর্বোচ্চ লেভেলের মারাত্মক এম.এমসি করা সুদক্ষ কন্ট্রাক্টর/ জনাব মিস্তিরি সাহেবের পরামর্শে হযবরল করে ১:২.৫:৫ ঢালাই দিয়ে দিলেন, 

ক্লাইন্ট সাহেব আপনি সঠিক অনুপাত এবং সঠিক রড বাইন্ডিং, সঠিক ল্যাপিং,সঠিক ক্লিয়ার কাভারিং না দেয়ার কারনে, আপনার যে বিল্ডিংয়ের কি পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে, আপনি যদি জানতেন, তাহলে হয়তো মিস্তিরি কে আপনি নিজেই বেস ঢালাই দিয়ে দিতেন,  

না হয় নিজেই বেস ঢালাই হয়ে যেতেন। 

আপনার সারাজীবনের রক্তের ঝরা টাকা, নিমেষেই জলে চলে যাবে,  

আপনার ভুল ডিসিশনে

আপনার প্রতিবেশি মানুষের কান কথায় 

আপনার পরিচিত অদক্ষ মিস্তিরি সাহেবের পরামর্শে

বিল্ডিং কঠিন বস্তুুর কাজ, করে ফেললে, চেঞ্জ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

::::


ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

কল্পিত স্বর্ণদ্বীপের সন্ধান পেলেন সুমাত্রার জেলেরা?,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🔺কল্পিত স্বর্ণদ্বীপের সন্ধান পেলেন সুমাত্রার জেলেরা?

"গত পাঁচবছর ধরে অবিশ্বাস্য সব মূল্যবান জিনিসপত্র উঠে আসছে। বিভিন্ন যুগের মুদ্রা, স্বর্ণ, বুদ্ধমূর্তি, রত্নপাথর সবই আছে। রূপকথা ভেবে সিনবাদের যত কাহিনী পড়েছেন, এসব দেখার পর সেগুলো সত্যি মনে হবে।"

১৪ শতকের কাছাকাছি সময় থেকেই বিলুপ্ত হতে থাকে সুমাত্রার ঐতিহাসিক শ্রীবিজয়া সাম্রাজ্য। ভিনদেশীদের কাছে শ্রীবিজয়া ছিল স্বর্ণদ্বীপ। স্বর্ণের সন্ধানে বহু অভিযাত্রী এদেশে পাড়ি জমালেও শেষ পর্যন্ত নিরাশ হন। সাম্রাজ্যের সঙ্গেই ধীরে ধীরে মলিন হতে থাকে স্বর্ণদ্বীপের উপাখ্যান।


তবে, কয়েক শতাব্দী পর মাছ ধরতে গিয়ে যেন সেই স্বর্ণদ্বীপেরই সন্ধান পেয়েছেন স্থানীয় জেলেরা। ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় পালেমবাঙের কাছে জলের নিচে সমুদ্র তলদেশে মিলছে পুরাকীর্তির সন্ধান। আর সেগুলো উদ্ধারে রাতের বেলা যথাযথ ব্যবস্থা ছাড়া ঝুঁকি নিয়েই ডুবুরি হিসেবে অভিযানে নামেন জেলেরা।


জেলেদের পাওয়া নিদর্শনগুলোর মধ্যে রয়েছে অষ্টম শতাব্দীর রত্নখচিত বুদ্ধমূর্তি থেকে শুরু করে রাজকীয় মহামূল্যবান সব গহনা।


ব্রিটিশ সামুদ্রিক প্রত্নতত্ত্ববিদ ড. সিন কিংসলে বলেন, "গত পাঁচবছর ধরে অবিশ্বাস্য সব মূল্যবান জিনিসপত্র উঠে আসছে। বিভিন্ন যুগের মুদ্রা, স্বর্ণ, বুদ্ধমূর্তি, রত্নপাথর সবই আছে। রূপকথা ভেবে সিনবাদের যত কাহিনী পড়েছেন, এসব দেখার পর তা সত্যি মনে হবে।"


শ্রীবিজয়া এক 'জলজ নগরী' ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আধুনিক নৌকাবাসীদের মতোই শ্রীবিজয়ার মানুষ নদীর ওপর বসতি গড়েছিল। প্রাচীন গ্রন্থানুসারে, যখন এই সভ্যতার শেষ হয়, তখন তাদের কাঠের বাড়ি, প্রাসাদ, মন্দির এবং সরঞ্জামাদি সব ডুবে যায়।


সুমাত্রার আধুনিক দ্বীপবাসীরাই শ্রীবিজয়ার রহস্য উন্মোচিত করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


সে সময় স্থল ও জলপথে চীন, আরব ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যকার প্রধান বাণিজ্যপথ ছিল সিল্ক রোড। সমুদ্রে সিল্ক রোডের প্রধান জলপথগুলো নিয়ন্ত্রণ করত শ্রীবিজয়া।


কিংসলে বলেন, "অষ্টম শতাব্দীতে যখন পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে অন্ধকার যুগ শুরু হয়, তখন দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার মানচিত্রে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী একটি সাম্রাজ্যের আবির্ভাব ঘটে। ৩০০ বছরের বেশি সময় ধরে শ্রীবিজয়ার শাসকরা মধ্যপ্রাচ্য ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যপথ নিয়ন্ত্রণ করে। শ্রীবিজয়া আন্তর্জাতিক উৎপাদন ব্যবস্থার প্রধান সংযোগস্থলে পরিণত হয়। এখানকার বিত্তবান সম্রাটরা কিংবদন্তীতে পরিণত হন।"


অর্থবিত্ত ক্ষমতায় সমৃদ্ধ এই সাম্রাজ্যের পতন কীভাবে ঘটল তা আজও পরিষ্কারভাবে জানা যায় না। কিংসলের ধারণা পম্পেইয়ের মতো ইন্দোনেশিয়ার আগ্নেয়গিরিতেই ধ্বংস হয়েছিল এই সাম্রাজ্য। উত্তাল নদীও যে পুরো শহরকে গ্রাস করে থাকতে পারে, সেই সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।


তবে, আনুষ্ঠানিক প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান শুরু না হলে এই প্রশ্নগুলোও হারিয়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন। জেলেরা এখন যেসব পুরাকীর্তি নিদর্শন উদ্ধার করছে তা প্রত্নতত্ত্ববিদরা কিনে নেন। শেষ পর্যন্ত তা অ্যান্টিক ব্যবসায়ীদের হাতে পৌঁছায়। অন্যদিকে, জেলেরাও ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে সমুদ্রে ডুবুরি অভিযান চা্লায়।


কিংসলে বলেন, "পৃথিবী থেকে তারা হারিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক অ্যান্টিক বাজারে হারিয়ে গেছে তাদের পুরাকীর্তি নিদর্শন। শ্রীবিজয়ার উত্থান ও হারিয়ে যাওয়ার গল্পগুলো নতুন করে বলার আগেই আবারও বিলীন হতে চলেছে।"


সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


https://arkeonews.net/sumatran-fishing-crews-may-have-found-the-legendary-gold-island-in-the-mud-of-the-indonesian-river/?fbclid=IwAR01grrJPyJbXt3S-ZGUyH3rsExrcpYUn0UaUPNZlmNhzXsOUaRehyVm3Z4


TBS বাংলা


Stay Curious SIS 

Siddiqui's International School


ফেইসবুক থেকে নেওয়া 


সকাল ০৭ টার সংবাদ  তারিখ : ০৭-০৩-২০২৪,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 সকাল ০৭ টার সংবাদ 

তারিখ : ০৭-০৩-২০২৪ 


আজকের শিরোনাম:


আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ - বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ভাষণ স্মরণে নানা কর্মসূচিতে পালিত হচ্ছে দিনটি।


রমজানকে সামনে রেখে খাদ্য মজুদ ও জাল টাকার বিরুদ্ধে অভিযান আরো জোরদারে র‌্যাবের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ।


জনগণের কাছে গিয়ে তাদের জন্য কাজ করতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি শেখ হাসিনার আহ্বান।


বৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান।


দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকদের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের নির্দেশনা ভূমিমন্ত্রীর।


ইউক্রেনে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত লুহানস্ক শহরে হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত।


সিলেটে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৮ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে সমতা আনলো বাংলাদেশ।

ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

মাঠের আল, ধানক্ষেতের ধারে ধারে  জন্মানো, বর্ষাশেষে নজরে আসা বর্ষজীবী এই গাছটি আমাদের খুব‌ই পরিচিত।,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 মাঠের আল, ধানক্ষেতের ধারে ধারে  জন্মানো, বর্ষাশেষে নজরে আসা বর্ষজীবী এই গাছটি আমাদের খুব‌ই পরিচিত। শীতে, সবুজ ফাঁপা নলাকৃতি কাণ্ডের গোড়ার দিকে  ফুল ও ফল ধরে। ধূসর-বাদামী রঙের বীজাধারে, অনেকটা নটেবীজের মতো অসংখ্য বীজদানা জন্মায়।      

     দানাগুলো ভাজলে নাকছাবির মতো খৈ হয়, যা খুব‌ই পুষ্টিকর। পেটখারাপ, বিবমিষা সারাতে ও  স্নায়ু সতেজ করাসহ সমগ্ৰ গাছের‌ই বহু ভেষজগুণ‌ আছে, যা একসময় লোকায়তভাবে ব্যবহৃত হতো। এর বীজ অত্যন্ত বলদায়ক ও পুষ্টিবিধানকারী। গাছটির নাম চেঁচড়া/চিঁচড়া/চেঁচকো/ পটপটি ইত্যাদি। বৈজ্ঞানিক নাম – Schoenoplectiella articulata.

     আসুন, আপনাদের কাছ থেকে অঞ্চলভেদে চেঁচড়ার বিভিন্ন নাম, উপকারিতা ও ব্যবহারবিধি জানার চেষ্টা করি। সমৃদ্ধ হোক এই সামান্য প্রতিবেদন।

                    সৌরেন্দুশেখর বিশ্বাস

                         ০৫/০৩/২০২৪



ফেইসবুক থেকে নেওয়া 


কি মর্মান্তিক!!,,,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 কি মর্মান্তিক!!


হারিয়ে যাওয়া কয়েকটি খাতা! আর তাতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। সময় নষ্ট না করে বিশেষ দলও তৈরি করে ফেলেছিল কলকাতা পুলিশ। তন্নতন্ন করে খুঁজে শেষপর্যন্ত কলেজস্ট্রীট বই পাড়ায় পুরোনো বইয়ের দোকান থেকে উদ্ধার হয়েছিল কয়েকটি খাতা। তাও সবকটা না। বইয়ের দোকানদারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পৌঁছে গেছিল বইপাড়ারই এক মুদি দোকানে। সেখানে দেখা গেল হারানো খাতার পৃষ্ঠা ছিঁড়ে তৈরী ঠোঙায় জিরে, সরষে বিক্রি করছেন ঐ দোকানদার। তিনি জানালেন সাত কিলো ওজনের কাগজপত্র তিনি কিনেছিলেন সাড়ে বারো টাকায়। শেষপর্যন্ত যেটুকু অক্ষত ছিল উদ্ধার হল। যিনি খাতা হারানোর অভিযোগ করে ছিলেন, হারানো জিনিষ উদ্ধারের খুশিতে পুলিশকর্তাকে নিজের বাবার লেখা একটি বই উপহার দিয়েছিলেন। বইয়ের নাম রুপসী_বাংলা। কবির নাম জীবনানন্দ_দাশ। বইয়ের উপরে লেখা ছিল ‘কৃতজ্ঞতার সাথে মঞ্জুশ্রী দাশ’। ১০ই সেপ্টেম্বর ১৯৮০। 


শহরের প্রাণঘাতী ট্রামলাইনে তাঁর পথ চলা থেমেছিল, কিন্তু আবহমানের শব্দস্রোত থামেনি। ছড়িয়ে পড়েছে দুই বাংলার বিস্তীর্ণ চরাচরে।


“সব পাখি ঘরে আসে — সব নদী”

আসেন না জীবনানন্দ। 

বিনম্র শ্রদ্ধা 🙏


ফেইসবুক থেকে নেওয়া 


রবীন্দ্রনাথ ও মৃণালিনীর সন্তান ছিলেন পাঁচ জন,,,,,,,ফেইসবুক থেক নেওয়া

 ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর (২৪ অগ্রহায়ণ, ১২৯০ বঙ্গাব্দ) ঠাকুরবাড়ির অধস্তন কর্মচারী বেণীমাধব রায়চৌধুরীর কন্যা ভবতারিণীর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের বিবাহ সম্পন্ন হয়।বিবাহিত জীবনে ভবতারিণীর নামকরণ হয়েছিল মৃণালিনী দেবী (১৮৭৩–১৯০২ )।


 রবীন্দ্রনাথ ও মৃণালিনীর সন্তান ছিলেন পাঁচ জন: 

মাধুরীলতা (১৮৮৬–১৯১৮),

রথীন্দ্রনাথ (১৮৮৮–১৯৬১), 

রেণুকা (১৮৯১–১৯০৩), 

মীরা (১৮৯৪–১৯৬৯) এবং

 শমীন্দ্রনাথ (১৮৯৬–১৯০৭)।

দুঃখজনক ঘটনা হলো এঁদের মধ্যে অতি অল্প বয়সেই রেণুকা ও শমীন্দ্রনাথের মৃত্যু ঘটে।


ছবি: 

স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ, ১৮৮৩



এনহেদুয়ান্না: বিশ্বের প্রাচীনতম লেখক?,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 এনহেদুয়ান্না: বিশ্বের প্রাচীনতম লেখক?


খ্রীষ্টের জন্মের দুই হাজার তিনশ বছর আগে মেসোপটেমিয়ায় বসবাস করতেন কবি এনহেদুয়ান্না। তাকে পৃথিবীর প্রাচীনতম কবি মনে করা হয়। অলঙ্কারশাস্ত্র ও আত্মজীবনী প্রচলনের কৃতিত্বও দেয়া হয় তাকে। তিনি ছিলেন আক্কাদিয়ান রাজা সারগনের কন্যা। 


তার কবিতার পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে খ্রীষ্টপূর্ব ১৮ শতাব্দীর, অর্থাৎ প্রাচীন ব্যাবিলনীয় যুগের পাঠশালা থেকে। সময়ের এই পার্থক্যের কারণে এই কবিতাগুলি আসলেই তার লেখা কিনা এ নিয়ে সন্দেহ আছে অনেক গবেষকের। 


প্রায় ৫ হাজার বছর আগে, মেসোপটেমিয়ার সুমের অঞ্চলের বাসিন্দারা কুনিফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন। কুনিফর্ম পৃথিবীর প্রাচীনতম লিখন পদ্ধতি, এর প্রচলন ছিল মধ্যপ্রাচ্যে। কুনিফর্মের আবির্ভাবের প্রায় এক হাজার বছর পর এনহেদুয়ান্না নামের একজন নারী লেখক এই পদ্ধতিকে নতুনভাবে ব্যবহার করতে শুরু করেন। 


তার অনন্য লেখনী উত্তম পুরুষে (আমি আমি করে) লেখালেখির প্রাচীনতম উদাহরণ। ধারণা করা হয়, নিজের লেখকত্ব দাবি করা প্রথম লেখক তিনি। সব ধরনের ইতিহাসে প্রথম লেখক হিসেবে নাম আসে মেসোপটেমিয়ার কবি, রাজকন্যা ও ধর্মযাজিকা এনহেদুয়ান্নার। 


১৯২৭ সালের আগে আধুনিক সভ্যতাগুলির কাছে এনহেদুয়ান্না ছিল এক অজানা নাম। ১৯২৭ সালে প্রত্নতত্ত্ববিদ স্যার লিওনার্ড উলি তার নামযুক্ত বেশ কিছু বস্তু খনন করেন। সুমেরীয় ভাষায় তার নামের অর্থ ‘স্বর্গের গহণা’’। চন্দ্রদেবী নান্না-সুয়েনের প্রধান পুরোহিত এনহেদুয়ান্না ৪২টি স্তোত্র ও ৩টি কবিতা লেখেন। 


গবেষকরা কয়েক যুগ পর তার লেখনীর স্বীকৃতি দেন, যদিও অনেকে এখনও তার লেখকত্বের ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেন। গবেষকদের যারা বিশ্বাস করেন কবিতাগুলির লেখক তিনি, তাদের মতে এই লেখনীগুলির মধ্যে তার ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন ঘটেছে। যেগুলি তার মৃত্যুর বহু বছর পরও প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি। 


এনহেদুয়ান্নার জন্ম মেসোপটেমিয়ায় (বর্তমান ইরাক), খ্রিস্টপূর্ব ২৩ শতাব্দীতে। তিনি রাজা সারগনের কন্যা ছিলেন। রাজা সারগন ছিলেন আক্কাদিয়ান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা, এই রাজ্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুমেরীয় প্রজাদেরকে একজন শাসকের নেতৃত্বে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছিল। অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন সারগন বিশ্বের প্রথম সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ধর্মযাজিকা হওয়ার পাশাপাশি, রাজকন্যা হিসেবে রাজনৈতিক ক্ষমতাও ছিল এনহেদুয়ান্নার।


বিশেষ করে, আক্কাদের উত্তর মেসোপটেমিয়ান অঞ্চলকে একত্রিত করায় এনহেদুয়ান্নার ভূমিকা অনস্বীকার্য। এই উত্তরাঞ্চলেই তার বাবা সারগন প্রথম ক্ষমতায় আসেন, পরবর্তীতে দক্ষিণাঞ্চলের সুমেরীয় শহরগুলি দখল করে নেন। 


সুমেরীয় দেবী ইনানার সাথে আক্কাদিয়ান দেবী ইশতারের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার অনুষ্ঠানের সমন্বয় ঘটানোর মাধ্যমে তিনি মানুষের হৃদয় জয় করে নেন, যাতে অনেক বড় ভূমিকা রাখেন এনহেদুয়ান্না। পুরো সাম্রাজ্যে একটি সাধারণ ধর্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে সাহায্য করেন তিনি। তার স্তোত্র ও কবিতায়ও এই সমন্বয়ের বিষয়টি দেখা যায়। 


এনহেদুয়ান্না দক্ষিণ মেসোপটেমিয়ার ৪২টি মন্দিরের জন্য স্তোত্র লেখেন, এগুলির প্রত্যেকটিতে তিনি দেবীর নানারকম গুণাবলির কথা তুলে ধরেন ভক্তদের কাছে। তার মৃত্যুর কয়েকশ বছর পরেও মন্দিরগুলিতে এই স্তোত্র পাঠ করা হত।


প্রাচীন ব্যাবিলনিয়ান লিপিগুলির মধ্যে ৫টি কবিতা এনহেদুয়ান্নার লেখা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এই কবিতাগুলির মধ্যে আছে: ইনানার উচ্ছ্বাস, ইনানার স্তোত্র, মন্দিরের স্তোত্র ও ২টি আংশিক কবিতা। কয়েকজন আধুনিক গবেষকের মতে, এনহেদুয়ান্না ‘ইনানা’ ও ‘এবিহ’ নামের দুটি কবিতাও লিখেছেন। 


‘দ্য এক্সলটেশন’ এ ইনানাকে যুদ্ধের দেবী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, এনহেদুয়ান্না তার নিজের দুর্দশার বর্ণনা দেন সেখানে। 


এরপরে শুরু হয় এনহেদুয়ান্নার সংগ্রামের জীবন। বিদ্রোহী রাজা লুগাল-আনে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেন ও তাকে নির্বাসনে পাঠান। এনহেদুয়ান্না ইনানার কাছে সাহায্য চেয়ে প্রার্থনা করার চেষ্টা করেন, কিন্তু কোনো ভাষা খুঁজে পান না। তার প্রশংসনীয় বাকপটুতা হারিয়ে যায়। এই কবিতার পরিণতির মুহূর্তে রাত্রিকালীন এক আচার অনুষ্ঠানের সময় দেবী ইনানার ঐন্দ্রজালিক দর্শন পান এনহেদুয়ান্না। তিনি তার কাব্যিক ক্ষমতা ফিরে পান ও এই স্তোত্র রচনা করেন। 


‘দ্য হাইম’ সুমেরীয় ভাষায় দেবী ইনানাকে উদযাপনের মৌলিক স্তোত্র। এর ভাষা ‘এক্সলটেশন’ এর তুলনায় অনেক সাহসী। এই স্তোত্রে, ইনানাকে মহাবিশ্বের নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়, দেবলোকের অন্যান্য দেবদেবীর তুলনায় বেশি শক্তিশালী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই স্তোত্রে ইনানার সব ধরনের গুণাবলি ও ক্ষমতার কথা উল্লেখ করা হয়।


‘দ্য টেম্পল হাইম’ সুমেরের বিভিন্ন মন্দিরকে উৎসর্গ করা মোট ৪২টি স্তোত্রের সংগ্রহ। এসব স্তোত্রে মন্দিরের নানা দেবদেবীদের উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছে, মন্দিরগুলি যে শহরে অবস্থিত সেসব শহরকে উৎসর্গ করে লেখা হয়েছে। একসাথে মিলে এই স্তোত্রগুলি সুমেরীয় সভ্যতার এক কাব্যিক চিত্র তুলে ধরে। 


দুটি আংশিক কবিতায় এনহেদুয়ান্নার নাম আছে, তবে এর একটি এতটাই বিচ্ছিন্ন যে তেমন কিছু বোঝা যায় না। আরেকটি দেবতা নানাকে উদ্দেশ্য করে লেখা, এনহেদুয়ান্না নিজে যার প্রধান পুরোহিত ছিলেন। এই কবিতায় তার মন্দিরের মহিমা ও তার খাবার প্রস্তুতির বর্ণনা পাওয়া যায়। 


সারগন এনহেদুয়ান্নাকে চন্দ্রদেবতা নানার প্রধান পুরোহিত হিসেবে নিয়োগ দেন। তার মন্দির ছিল সুমেরের উর শহরে।


তিনি লেখেন:


সে আমাকে কাঁটার ওপর হাঁটতে বাধ্য করেছে

সে আমার পবিত্র কর্মস্থলের রাজমুকুট ছিনিয়ে নিয়েছে 

সে আমাকে একটি ছুরি দিয়ে বলেছে, “তোমার জন্য এটাই ঠিক আছে।”


এটি তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে লেখা।


‘দ্য এক্সলটেশন অফ ইনানা’য় এনহেদুয়ান্না লেখেন, তিনি প্রধান পুরোহিতের পদ ফিরে পেয়েছেন, এর কৃতিত্ব দেন ইনানাকে। এই কবিতায় তিনি নিজের সৃজনশীল প্রক্রিয়ারও বর্ণনা দেন: 


‘আমি জন্ম দিয়েছি, 

হে মহিমান্বিত নারী, (এই গানটি) তোমার জন্য। 

(মধ্য) রাতে আমি এটি আবৃত্তি করেছি 

আশা করি দুপুরে গায়কেরা তোমার উদ্দেশ্যে এটি আবার গাইবে!’ 


‘টেম্পল হাইম’ এর লেখকত্ব দাবি করেন এনহেদুয়ান্না। তিনি লেখেন, 


‘এই শীলালিপিটির সমন্বয়ক এনহেদুয়ান্না। প্রভু, এখানে যা সৃষ্টি করা হয়েছে, তা আগে কেউ কখনও করে নি।’ 


বিশ্লেষক ও এনহেদুয়ান্নার অনুবাদক বেটি ডি শং মিডোর তার বই ‘প্রিন্সেস, প্রিস্টেস, পোয়েট’ এ লেখেন, “এসব স্তোত্রে আমরা একজন প্রতিভাধর কবির কণ্ঠস্বর শুনতে পাই। তিনি অকপটে দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন দিক, সতর্কতা ও দেবদেবীদের প্রকৃতি ও তাদের মন্দিরের কথা তুলে ধরেছেন। তার চারপাশে সক্রিয়, আকর্ষণীয় ও অনিয়ন্ত্রিত ঐশ্বরিক সত্তার কথা তুলে ধরেছেন।” 


এই কবিতাগুলি থেকে এনহেদুয়ান্নার গাণিতিক জ্ঞানের পরিচয়ও পাওয়া যায়। ঐতিহাসিকদের মতে, গণিতের সূচনা হয়েছিল মেসোপটেমিয়ায়, সেদিক বিবেচনায় এটি খুব একটা বিস্ময়কর না। কুনিফর্ম ও অন্যান্য প্রাচীন লেখার সূচনাও মেসোপটেমিয়ান সভ্যতায়ই হয়েছিল। লেখা ও গণনার পদ্ধতি সম্ভবত মেসোপটেমিয়ার সক্রিয় কৃষি ও টেক্সটাইল নির্ভর অর্থনীতির কারণেই আবিষ্কৃত হয়েছিল। কারণ, কৃষক ও বণিকরা কী কী পণ্য উৎপাদিত হয়েছে তা গণনা করতেন, কী কেনাবেচা হচ্ছে তা রেকর্ড করতেন। 


আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩৪০০ অব্দে শুরু হওয়া এই সময়কালে মেসোপটেমিয়ার শহর অঞ্চলের ব্যাপক বৃদ্ধি হয়েছে, সারা দেশ ও অঞ্চলে পণ্য উৎপাদন ও বাণিজ্যের প্রচলন হয়েছে। বাণিজ্যের প্রসার হওয়া মানে প্রচুর কর্মীর প্রয়োজন হত, যাদের অনেকেই ছিলেন নারী। সাধারণ গৃহস্থালির কাজ ও ধর্মীয় দায়িত্বের বাইরে গিয়ে নারীরা এই দায়িত্ব পালন করতেন। তারা নানারকম বাণিজ্যের সাথে যুক্ত ছিলেন। যেমন সিরামিকস, কাপড় বোনা, বেকিং, পশুপালন, নানারকম পানীয় বানানো ও কারুশিল্প ইত্যাদি। 

 

২০২২ সালের অক্টোবর মাসে, ‘দ্য মরগান লাইব্রেরি ও মিউজিয়াম’ এ এই যুগান্তকারী নারীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনীর নাম ছিল, “যে নারী লিখতেন: এনহেদুয়ান্না ও মেসোপটেমিয়ার নারীরা, সময়কাল খ্রিস্টপূর্ব ৩৪০০-২০০০ অব্দ।” এখানে প্রাচীন ভাস্কর্য, ত্রাণ ও কুনিফর্ম শিলালিপির মাধ্যমে নারীদের ধর্মীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। এই অভিজ্ঞতাগুলির সাথে সমসাময়িক নারীরাও অনেক মিল খুঁজে পাবেন। 


এর আগে, প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার নারীদের জীবন নিয়ে বড় কোনো প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়নি। এই প্রদর্শনীর চিত্রকর্মগুলি এসেছে লন্ডন, বার্লিন, প্যারিস ও অন্যান্য জায়গা থেকে। এসব চিত্রকর্ম থেকে তাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। 


এসব ছবিতে নারীদের পশুপালন, মাটির তৈজসপত্র তৈরি, তাঁতের কাজ করতে দেখা গেছে। এছাড়া মন্দিরে নারীদের উপস্থিতি, পুরুষ সেবকদের দিকনির্দেশনা দিতে দেখা গেছে। একটি ছবিতে দেখা গেছে একজন লোক তার জমি তার কন্যার হাতে তুলে দিচ্ছেন। 


এই প্রদর্শনীতে এনহেদুয়ান্নার ডিস্ক; তার ভৃত্যদের সিলিন্ডারের সিল ও ‘দ্য এক্সলটেশন অফ ইনানা’ লেখা একটি শিলালিপি দেখা যায়। এই শিলালিপিতে আরও কিছু সূক্ষ্ম খোদাই দেখা গেছে। এগুলি সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত পাওয়া না গেলেও ধারণা করা হয় এগুলি এনহেদুয়ান্নার ছবি, যেখানে দেবদেবীদের ঐশ্বরিক পরিবেশের আভাস পাওয়া যায়। 


এই মূর্তি, ভাস্কর্য ও অন্যান্য চিত্রকর্মগুলি নারীরা মন্দিরে দান করতেন, তাদের নাম খোদাই করা ছিল এসবে। এ ধরনের রীতিনীতি থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই এনহেদুয়ান্না নিজের পরিচয় তুলে ধরেছেন। ‘দ্য এক্সলটেশন’ দেবীকে উৎসর্গ করে লেখা একটি কবিতা। 


বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে এসে, গবেষকদের মধ্যে এনহেদুয়ান্নার লেখালেখির ব্যাপারে নানারকম মত দেখা গেছে, “সেই পুরোহিতই কি এসব লিখেছেন?” লেখালেখি শুরুটা হয়েছিল একজন নারীর হাত ধরে, গ্রীসের স্বর্ণালি যুগ শুরুরও দুই হাজার বছর আগে, এমন ধারণাটি অনেকের কাছেই অতিরঞ্জিত বলে মনে হয়। 


যদি এনহেদুয়ান্না এই লেখাগুলি লিখে থাকেন, তাহলে লেখালেখির সূচনা তার হাত ধরেই হয়েছে বলতে হবে। এছাড়া অলঙ্কারশাস্ত্র ও আত্মজীবনীরও আবির্ভাব হয় তার হাত ধরে। তিনি হোমারেরও ১৫০০ বছর আগে, স্যাফোর ১৭০০ বছর আগে ও অ্যারিস্টটলের ২০০০ বছর আগে পৃথিবীতে ছিলেন। সাধারণত অলঙ্কারশাস্ত্রের সূচনার কৃতিত্ব দেয়া হয় অ্যারিস্টটলকে।


এনহেদুয়ান্নার কবিতার বিষয়বস্তু অনেক সমৃদ্ধ। ধর্মপালন থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত প্রতিফলন, রাজনৈতিক মন্তব্য ও পৌরাণিক নানা ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় তার লেখায়। এছাড়াও তার লেখা থেকে প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ধারণা পাওয়া যায়। 


যতই বিতর্ক থাকুক, আমাদের স্বীকার করে নিতেই হয়, বর্তমান যুগের লেখকদের জন্য এনহেদুয়ান্না সৃজনশীল শক্তির একজন পুরোধা। 


 ইতিহাস  নারী  এনহেদুয়ান্না

ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

সকাল ০৭টার বাংলা সংবাদ তারিখ:২৩-০৫-২০২৬ খ্রি:।

 সকাল ০৭টার বাংলা সংবাদ তারিখ:২৩-০৫-২০২৬ খ্রি:। আজকের শিরোনাম: দিনব্যাপী সফরে আজ ময়মনসিংহ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান - যোগ দেবেন খাল ...