এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শুক্রবার, ৮ মার্চ, ২০২৪

সেদিনের এক সিদ্ধান্তে আমার জীবনে শুরু হলো টাকা জমানো,,,, ইসলাম ও জীবন ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 সেদিনের এক সিদ্ধান্তে আমার জীবনে শুরু হলো টাকা জমানো


বিয়ের ৪ বছর পেরিয়ে গেছে। তানহাকে খুব সাধারণভাবে বিয়ে করে বাড়িতে এনেছিলাম। এতোদিন পেরিয়ে গেলেও তাকে এখনও কোন দামী উপহার দিতে পারিনি। কিন্তু গতকাল রাতে বদলে গেছে পুরো দৃশ্যপট। ২ বছর আগে নেয়া এক সিদ্ধান্তে আজ একটি বড় উপহার দিতে পেরেছি আমার স্ত্রী’কে।


শুক্রবারের সন্ধ্যা। পুরো শহরে ছুটির আমেজ। নিতান্ত মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে তানহাকে সেদিন রঙিন ঢাকা শহর ঘুরিয়ে দেখালাম। বড় বড় শপিংমলে ঘুরলাম, মুখরোচক খাবার খেলাম দুজন। শেষে বাসায় ফেরার আগে তাকে নিয়ে ঢুকলাম একটি জুয়েলারির দোকানে। তানহা তো অবাক! আমাকে জিজ্ঞেস করলো, “এখানে কেন?”


তানহাঃ এখানে এনেছ কেন?

আমিঃ আজ আমার খুশির দিন, তাই।

তানহাঃ খুশির দিন বলে তো অনেক ঘুরলাম, খেলাম। এখানে কী কাজ?

আমিঃ তোমার জন্য একটা উপহার আছে।

তানহাঃ আমার আবার উপহার! ইনকাম তো বাড়েনি তোমার। তাহলে কীভাবে?

আমিঃ আরে সে গল্প যেতে যেতে বলবো। এখন কি নিবে সেটা বলো। 

তানহাঃ তোমার চোখে যেটা আমাকে মানায় সেটা কিনে দাও।


সব দেখেশুনে একটা ‘নাকফুল’ কিনে দিলাম তানহাকে। খুব অবাক হল সে। রিকশায় করে দুজন ফিরছি। তানহা জিজ্ঞেস করলো টাকা কোথায় পেয়েছি। আমি বললাম পুরো কাহিনীটা।


আমার অনলাইন ব্যবসায় বেশিরভাগ পেমেন্টই আসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে। দীর্ঘদিন ধরে আমি আমার আগের একাউন্ট থেকে ক্যাশআউট করলে প্রতি হাজারে ১৮.৫০ টাকা কাটতো। আমার এই খরচ দেখে শৈশবের বন্ধু জোবায়ের আমাকে বেকুব বলেছিল। আর চিনিয়েছিলো নগদকে। যে নগদে ক্যাশ আউট চার্জ হাজারে মাত্র ১২.৫০ টাকা। যেখানে প্রতি হাজার লেনদেনে আমার সেভ হয় ৬.৫০ টাকা। এভাবে দুই বছর ধরে আমার ব্যবসার বাড়তি লাভের টাকা দিয়ে আজ তানহাকে নাকফুলটি কিনে দিয়েছি। এই গল্প যখন ওকে বলছি, ও আমার কাঁধে মাথা রেখে বাহুটা শক্ত করে ধরে আছে। এখন খুব বোধদয় হচ্ছে, যদি আরও আগে থেকে নগদে লেনদেন করতাম, তাহলে আজ ওকে আরও দামি কোন উপহার দিতে পারতাম। তবে আফসোস নেই আর। বরং ২ বছরের মধ্যে যে উপহার দিয়েছি তাতেই আমি নগদের প্রতি কৃতজ্ঞ। ধন্যবাদ নগদ, তোমার কম ক্যাশআউট চার্জের কারনেই, আমি টাকা বাঁচিয়ে তানহাকে আজ একটি দামী উপহার দিতে পেরেছি।



চল্লিশ বছর পর জীবনের প্রথম প্রেম আবার ঝড় তুলল মৈত্রেয়ীর জীবনে,,,,,,,,,,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া ।

 চল্লিশ বছর পর জীবনের প্রথম প্রেম আবার ঝড় তুলল মৈত্রেয়ীর জীবনে।


××××××××××××××××××××××××××××××


"মির্চা, মির্চা আই হ্যাভ টোল্ড মাই মাদার দ্যাট ইউ হ্যাভ কিসড মাই ফোরহেড'"

নহন্যতে উপন্যাসে মৈত্রেয়ী দেবীর এই উক্তি টি অবশ্যই পাঠকদের মনে আছে? মির্চা এলিয়াদ আর মৈত্রেয়ী দেবীর প্রেম কি শুধুই প্রেম ছিল নাকি সেই সাথে কিছু শরীরের ভালবাসাও ছিল।"লা নুই ব্যাঙ্গলী" তে মির্চা এলিয়াদ কি  মৈত্রেয়ী দেবী ও তার সাথে ভালবাসার কথা লিখতে যেয়ে কি কোন কল্পনার আশ্রয় নিয়েছিলেন?"লা নুই ব্যাঙ্গলী"প্রকাশের বহু বছর পর মৈত্রেয়ী দেবী তাদের ভালবাসার গল্প নিয়ে লিখেছিলেন ন হন্যতে।


মৈত্রেয়ী দেবীর জন্ম ১৯১৪ সালের ১লা সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জেলায়।তার বাবা সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত একজন দার্শনিক এবং তৎকালীন বাংলার অন্যতম শিক্ষাবিদ, গবেষক। সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত ছিলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টরেট।আর মৈত্রেয়ী দেবীর মায়ের নাম ছিল হিমানী মাধুরী রায়। যদিও তার শৈশব কাটে বরিশালে, পরে পিতার কর্মক্ষেত্রের সুবাদে কৈশোরেই সপরিবারে চলে আসেন কলকাতার ভবানীপুরে।

চয় ভাই বোনের মধ্যে সবার বড় মৈত্রেয়ী দেবী ছিল মায়ের  সবচেয়ে কাছের।

 

মৈত্রেয়ী এক দিকে ছিলেন ভীষণ সুন্দরী অন্যদিকে বয়সের তুলনায় তার বুদ্ধি, স্বভাব, গাম্ভীর্য ও বিদ্যানুরাগ তাকে তার সমসাময়িক অন্য কিশোরীদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছিল। জীবনের এই ব্রাহ্মমুহূর্তে সংস্পর্শে আসেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। সারাজীবন তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে গুরুর মতো শ্রদ্ধা করেছেন  ভালবেসেছেন। কবি গুরুর কাছেও মৈত্রেয়ী দেবী ছিলেন স্নেহধন্যা। 


জীবন চলছিল জীবনের নিয়মে কিন্তু ১৯২৮ সালের একটা ঘটনা তার সারা জীবন কে উথাল পাতাল করে দিয়েছিল। এই বছরে ভারতে  সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্তের অধীনে ভারতীয় দর্শন সম্পর্কে গবেষণা করার উদ্দেশে কলকাতায় আসে ২১ বছরের রোমানিয়ান শ্বেতাঙ্গ যুবক মির্চা এলিয়াদ। মূলত সে এসেছিল (১৯২৮-৩২) 'নোয়েল এন্ড নোয়েল' কোম্পানির প্রতিনিধি হয়ে ২৫০ টাকা মাসিক বেতনে সে ভারতে চাকুরী করতে। সাথে উদ্দেশ্য ভারতীয় দর্শন নিয়ে গবেষণা করা। তার থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল মৈত্রেয়ী দেবীদের ভবানীপুরের বাড়িতেই। মৈত্রেয়ী দেবী তখন ১৪ বছরের কিশোরী। 


মির্চা এলিয়াদ অনেক আগে থেকেই ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি অনুরক্ত ছিলেন। কলকাতায় এসে সেই অনুরাগ এক অব্যক্ত ভালোবাসায় পরিণত হলো। মির্চা ভারতবর্ষ সম্পর্কে বিশেষ করে বাংলাকে এক কথায় ভালোবেসে ফেললো। এবং বুঝেছিল বাংলাকে আরও গভীর ভাবে জানতে হলে বাংলা ভাষা শেখা প্রয়োজন। এই ভাবনা থেকেই তার আর  মৈত্রেয়ী দেবীর বন্ধুত্বের সূত্রপাত। সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত ছিলেন প্রগতিশীল এবং উদারমনা। তার নিজের ইচ্ছা ছিল মির্চার সঙ্গে বন্ধুত্ব হলে মৈত্রেয়ী দেবী শিখবেন রোমানিয়ান জানবেন সেদেশের সাহিত্য ও দর্শন সম্পর্কে।


মির্চা ও মৈত্রেয়ীর ভাষা, ধর্ম, জাতি, সংস্কৃতি সবই আলাদা। তারা দুজন কথা বলতেন ইংরেজিতে। প্রায়ই শব্দ খুঁজে না পেয়ে মৈত্রেয়ী দেবীকে ডিকশনারি ঘাঁটতে হতো। তবুও এই সমস্ত বাধাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে মির্চা এলিয়াদ ও মৈত্রেয়ী দেবী পরস্পরের কাছে এলেন। কবিতা, দর্শন, গানের আদান-প্রদানের ভেতর অনেকটা অজান্তেই, তারা করে ফেললেন হৃদয়ের দেয়া নেয়া।


একদিন হঠাৎ মৈত্রেয়ী দেবীদের বাড়ির লাইব্রেরির ঘরে বসে মির্চা এলিয়াদ মৈত্রেয়ী দেবীকে জানিয়ে দিলেন তার প্রতি তার ভালোবাসার কথা, সাথে এও জানালেন - “আমাকে বিয়ে করবে?’’


সহজ সরল মির্চা এলিয়াদ ধরে নিয়েছিল,  তার অধ্যাপক সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্তের কাছে মৈত্রেয়ী দেবীকে প্রার্থনা করলেই তিনি পেয়ে যাবেন, কারণ ছাত্র হিসেবে মির্চা এলিয়াদকে নিয়ে গর্ব ছিল মৈত্রেয়ী দেবীর বাবার। কিন্তু রক্ষণশীল হিন্দু পরিবারের গোঁড়ামি সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না মির্চার।


এর মধ্যেই মৈত্রেয়ী দেবীর বোন চিত্রিতা দেবী অসুস্থ হয়ে পড়লেন। মৈত্রেয়ী দেবী প্রায় প্রতিদিন চিত্রিতাকে নিয়ে বিকেলবেলা ঘুরতে বেরোন। সাথে থাকে মির্চা। কিন্তু সদ্য কিশোরী চিত্রিতার চোখে মৈত্রেয়ী দেবী আর মির্চা এলিয়াদের সম্পর্ক যেন অদ্ভুত ঠেকল । বাড়ি ফিরে তার মাকে বলে দিল সমস্ত ঘটনা। 


মৈত্রেয়ী দেবীর ব্যক্তিত্বময়ী মা চিৎকার চেঁচামেচির রাস্তায় গেলেন না। রাত্রে মৈত্রেয়ী দেবীর কাছে জানতে চাইলেন, -  “তুমি কি মির্চাকে বিয়ে করতে চাও?”

মৈত্রেয়ী কান্না জর্জরিত কণ্ঠে তার মাকে বলেছিল, “হ্যাঁ, চাই, আমি ওকে ভালোবাসি।” 


কিন্তু নিয়তি যেন অন্যকথা লিখে রেখেছিল। 

পরদিন সকালেই সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত যে ভালোবাসা আর সম্মান নিয়ে মির্চাকে এ বাড়িতে এনেছিলেন, ঠিক ততটাই অসম্মান আর ঘৃণা নিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিলেন।


যাওয়ার সময় বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে মির্চা একবার শেষ দেখা পেয়েছিল মৈত্রেয়ীর। মৈত্রেয়ীর দিকে তাকিয়ে দু'হাত জোর করে ‘নমস্কার’ জানিয়েছিল সে। মৈত্রেয়ীর দু'চোখ ভেঙে তখন জল গড়িয়ে পড়ছে। সেটাই ছিল মির্চা ও মৈত্রেয়ীর এক প্রকার শেষ দেখা।সেটা ছিল ১৯৩০ সালের এক সকাল। 


সেই সময় মৈত্রেয়ী দেবী  আবার শরণাপন্ন হলেন রবীন্দ্রনাথের। আবার পড়াশুনায় মন বসল। সঙ্গে যুক্ত হল ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের উদ্দীপনা।একি সাথে

আশ্রয় নিলেন রবীন্দ্রনাথের কবিতা আর অতুল প্রসাদের গানে। ১৯৩২ সালে অতুলপ্রসাদের কথায় ও সুরে "মধুকালে এল হোলি" গান মৈত্রেয়ী দেবির গলায় এইচ এম ভি থেকে রেকর্ড হয়ে বেরলো। 


 ১৯৩৪ সালে বাবার পছন্দের পাত্রের সাথে বিয়ে হয়ে গেল কালিম্পংয়ে কাছে মংপুর বিখ্যাত সিঙ্কোনা প্যান্টের চিফ কেমিস্ট ডাঃ মনমোহন সেনের সাথে। তখন ডাঃ মনমোহন চৌত্রিশ আর মৈত্রেয়ী দেবী কুড়িতে। 

১৯৩৬ সালে মৈত্রেয়ী দেবী দর্শনশাস্ত্রে স্নাতক হলেন যোগমায়া দেবী কলেজ থেকে।


তারপর পাকাপাকি ভাবে মংপুতে। স্বামী ছিলেন বয়সে অনেক বড় তবুও ভালোবাসা কোনও বাঁধা হল না। মানুষ হিসেবে মৈত্রেয়ীর স্বামী এত সহজ সরল ও বন্ধুত্বপূর্ণ ছিলেন যে, মৈত্রেয়ী জীবনকে আবার ভালোবাসতে শিখে গেলেন। মৈত্রেয়ী দেবী জীবনকে নতুন ভাবে আবিষ্কার করলেন। 


মৈত্রেয়ী দেবী ততদিনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আরও নতুন ভাবে চিনেছেন। তার আর তার স্বামীর আমন্ত্রণে ১৯৩৮ থেকে ১৯৪০ এই দুই বছরে কবি চারবার মংপু থেকে ঘুরে গেছেন। যার স্মৃতি থেকে তিনি পরবর্তীকালে লিখেছে “মংপুতে রবীন্দ্রনাথ” (১৯৪২)। 


ওদিকে মির্চা এলিয়াদ সেই ঘটনার কিছুদিন পর ভারতবর্ষ ত্যাগ করে ফিরে গেলেন দেশে। এবং আরও বেশী করে গবেষণা, লেখাপড়ার মধ্যেই নিজেকে সঁপে দিলেন। কিন্তু মৈত্রেয়ীর সাথে সম্পর্কের যে দুঃখজনক পরিণতি মির্চার হয়েছিল, সেই গভীর বেদনা আর ক্ষতকে একা বয়ে নিতে পারছিলেন না বলেই হয়তো, ১৯৩৩ সালে কলকাতা থেকে যাওয়ার তিন বছর পর  রোমান ভাষায় লিখে ফেললেন কালজয়ী উপন্যাস “লা নুই বেঙ্গলি” যা বাংলা করলে দাঁড়ায় “বাংলার রাত”।


এই একটি উপন্যাস মির্চা এলিয়াদকে তার দেশে ঔপন্যাসিক হিসেবে রাতারাতি বিখ্যাত করে দিল। এটি ছিল সেই সময়ের রোমানিয়ান ভাষায় লেখা বেস্ট সেলার। “লা নুই বেঙ্গলী” কখনই আত্মজীবনী ছিল না। মির্চা এলিয়াদ তাতে মিশিয়েছিলেন কল্পনার আবেশ। আর সেই কল্পনার অনেকটা জুড়েই ছিল দুজনের শারীরিক ভালোবাসাা। সে দেশের সংস্কৃতিতে সেটা হয়তো কিছুই নয় কিন্তু ভারতবর্ষের চোখে সেটা অশ্লীল ছাড়া আর কিছু নয়।


মজার ব্যপার হল হলো, মির্চা এলিয়াদ যে মৈত্রেয়ী দেবীকে তার উপন্যাসে স্বপ্নের নায়িকা বানিয়েছে, সেই খবর মৈত্রেয়ী দেবী জানতেন না। যখন জানলেন তখন তার বয়স প্রায় ষাটের কোটায়। তিনি তখন বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধ নিয়ে দিকে দিকে বক্তৃতা দিয়ে বেড়াচ্ছেন। তখন তার  ছেলে ও মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে ও তাদের নিজেদের সন্তান আছে।

 

মৈত্রেয়ী পড়লেন “না লুই বেঙ্গলী” আবিস্কার করলেন কিভাবে তার পবিত্র প্রেমকে উপন্যাসে নায়িকা হিসেবে তার নাম রেখে দুজনের সম্পর্ককে যেভাবে উপস্থাপিত করা হয়েছে সেটা অশ্লীলতার এক চরম নিদর্শন। 


চল্লিশ বছর পর জীবনের প্রথম প্রেম আবার ঝড় তুলল মৈত্রেয়ীর জীবনে। পুরনো প্রেম নিয়ে এলো নতুন করে কষ্ট নিয়ে। এরই মধ্যে মৈত্রেয়ী দেবীর সুযোগ এলো শিকাগো সফরের। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হল রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য। মির্চা এলিয়াদ তখন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের অধ্যাপক।


 মৈত্রেয়ী দেবী তার স্বামীকে জানালেন সেকথা।তিনি সাহস জোগালেন মির্চার সাথে দেখা করার। লোকলজ্জার ভয় তুচ্ছ করে মৈত্রেয়ী তার স্বামীর অনুমতি নিয়েই দেখা করতে গেলেন জীবনের প্রথম ভালোবাসার সাথে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল লাইব্রেরির এক কোনে দীর্ঘ চল্লিশ বছর পর আবার দেখা হল মির্চা আর মৈত্রেয়ীর।


শিকাগো থেকে ফিরে “লা নুই বেঙ্গলি”র সমস্ত অসত্য ঘটনার উত্তরে ও একইসাথে নিজের মনের গভীরে এত বছর ধরে গোপন করে রাখা এই ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে মৈত্রেয়ী লিখে ফেললেন বাংলা ভাষার সর্বকালের শ্রেষ্ট এক উপন্যাস “ন হন্যতে”।


১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হল “ন হন্যতে”। আবার জীবনে ঝড় উঠল মৈত্রেয়ী দেবীর এতদিনের সাজানো গোছানো জীবনে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার সঞ্চার হল। সেসময়ের রক্ষণশীল সমাজে একজন বিবাহিত বৃদ্ধ নারীর তার অল্প বয়েসের প্রেমের পুঙ্খানুপুঙ্খ ঘটনা লেখাকে কোনোভাবেই ভালো চোখে দেখা হতো না। কিন্তু মৈত্রেয়ী দেবী তার ইচ্ছে ও সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। ‘ন হন্যতে’ এর অর্থ, যার মৃত্যু নেই। প্রেম ও আত্মার অবিনশ্বরতাকে এক করে মৈত্রেয়ী তার ও মির্চার ভালোবাসার সত্যকে নির্ভীকভাবে মানুষের সামনে তুলে আনেন। এই সত্যভাষণ তাঁকে এনে দেয় সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৭৬)। বলা হল আকাদেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত একালের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। ১৯৭৭ সালে পেলেন পদ্মশ্রী।


শিকাগোতে মির্চা এলিয়াদের সাথে দেখা হওয়ার পর মৈত্রেয়ী দেবী তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কেন ওরকম মিথ্যে লিখেছিলেন তার ব্যাপারে। উত্তরে মির্চা বলেছিলেন, ভেতর ভেতর নিদারুণ কষ্টে গুমরে মরছিলেন তিনি; কল্পনার কাছে আশ্রয় নেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ-ই অবশিষ্ট ছিল না তার।  

তিনি মৈত্রেয়ী দেবীকে কথাও দিয়েছিলেন, মৈত্রেয়ী দেবীর জীবনকালে এই বই কোনোদিন ইংরেজিতে প্রকাশ করা হবে না। ১৯৯০ সালের  ৪ ফেব্রুয়ারী মৈত্রেয়ী দেবী মারা যান তার ৪ বছর পর ১৯৯৪ সালে “ন হন্যতে” ও “লা নুই বেঙ্গলি” দুটো বই ই একসাথে শিকাগো প্রেস থেকে ইংরেজিতে প্রকাশ করা হয় “ন হন্যতের” ইংরেজী অনুবাদের নাম ছিল “ইট ডাজ নট ডাই”।


মৈত্রেয়ী দেবী আর মির্চা এলিয়াদের ভালবাসার ভালোবাসা  আজ সাহিত্যের ভান্ডারে স্থায়ী ভাবে জায়গা করে নিয়েছে।


সূত্র: দিনা নার্গিস।❤️❤️❤️❤️❤️



বৃহস্পতিবার, ৭ মার্চ, ২০২৪

হিউম্যান সাইকোলজি'র একটা পরীক্ষা নিই:-,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 আসুন-হিউম্যান সাইকোলজি'র একটা পরীক্ষা নিই:-


এখানে থামুন..!!


আপনাকে কিছু অনুমান করতে বলবো..!!


অনুমানগুলো মনে মনে রেখে আমার অনুমানের সাথে মিলিয়ে নিবেন। পোস্টের নিচের দিকে যাবেন না। এটা একটা গেইম-ধারাবাহিকভাবে পোস্টটা পড়ুন..!!


আপনাকে বলছি..


 ১। খুব দ্রুত যেকোন একটা ফার্নিচারের নাম ভাবুন যেকোন, যা মনে আসে তাই..!!


২। খুব দ্রুত যেকোন একটা ফুলের নাম ভাবুন..!!


৩। খুব দ্রুত যেকোন একটা রঙের নাম ভাবুন..!!


৪। খুব দ্রুত ১ থেকে ১০ পর্যন্ত যেকোন একটা সংখ্যা ভাবুন..!!

.

.

.

.

.**

.

.........

......

.......

......

....

..

....

.

.

এই জিজ্ঞাসাগুলোতে মানুষ যা অনুমান করে...


১। ৯০% মানুষ ফার্নিচার হিসেবে আগে চেয়ার/সোফা বা যেখানে বসা যায়  টাইপ কিছু ভাবে-যেখানে বসা যায়..!!


২। ৯০% মানুষ ফুলের প্রসঙ্গ আসলেই গোলাপ চিন্তা

করে।


৩। রঙের প্রসঙ্গ আসলে ৯০% মানুষ লাল রঙ চিন্তা

করে।


৪।(১-১০) পর্যন্ত কোন নাম্বার মনে করতে বললে ৯০% মানুষ ৭ (সাত) চিন্তা করে। এটাই হিউম্যান সাইকোল্যজি..!!


কয়টা মিলছে জানাবেন!!!🙂


(আমার ১ আর ৪ মিলেনি)

সংগৃহীতঃ রুমানা চৌধুরী❤️❤️❤️

ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

সমুদ্র বা নদী ভাঙ্গন  রোধ করার জন্য  যেই জিও কাপড় ব্যবহার করা হয় সেই জিও কাপড় দিয়েই আমরা তৈরি করেছি এই AIR-pot বা জিও ব্যাগ গুলো।,,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 সমুদ্র বা নদী ভাঙ্গন  রোধ করার জন্য  যেই জিও কাপড় ব্যবহার করা হয় সেই জিও কাপড় দিয়েই আমরা তৈরি করেছি এই AIR-pot বা জিও ব্যাগ গুলো।

বাজারে নিম্নমানের যেই টব অথবা ড্রাম গুলো পাওয়া যায় সেগুলোর তুলনায় এগুলো ২ গুন বেশি টেকসই এবং ২০-২৫ বছর আনায়েসে ব্যাবহার করতে পারবেন।

মাটি যেহেতু সব সময় ভেজা থাকে তাই বাজারে সাধারন যেই জিও ব্যাগ গুলো পাওয়া যায় এগুলো ব্যাবহারের ফলে আপনার ছাদ ড্যামেজ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাই আমাদের তৈরি  AIR-POT বা জিও ব্যাগ গুলোর তলা উন্নত মানের প্লাস্টিক ব্যাবহার করে water proof করে দেয়া হয় এবং পানি নিস্কাশনের জন্য ফুটো করে স্টিলের আইলট লাগিয়ে দেওয়া হয় যার ফলে পানি নির্দিষ্ট যায়গা দিয়ে বের হয়ে যায় এবং আপনার ছাদও ডেমেজ হয় না।

☘️ আমাদের তৈরি AIR-POT গুলো গ্রে কালার হয়ে থাকে তাই অতিরিক্ত তাপেও ব্যাগ গরম হয় না, যার ফলে মাটির ময়েশ্চার ঠিক থাকে এবং মাটিতে দেয়া সার নষ্ট  হয়ে যায় না।

☘️কাপড়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে অক্সিজেন সরবারহ হয় এবং অতিরিক্ত পানিটাও ব্যালেন্স হয়ে বের হয়ে যায়।।যার কারণে উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ হয় এবং মশা জন্মানোর কোন ভয় থাকে না।

☘️ব্যাগের দুই পাশে সরাসরি মোটা ফেব্রিক্স হাতল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে,যা টেনে ছেঁড়া একেবারেই অসম্ভব। শুধুমাত্র কাটা ছাড়া এর হাতল ছিঁড়বে না।

জিও ব্যাগের দাম 


উচ্চতা  ১০  ইঞ্চি রাউন্ড  ৩০ ইঞ্চি ৩ গ্যালন ৯০ টাকা


উচ্চতা  ১২ ইঞ্চি রাউন্ড  ৩৬ ইঞ্চি ৫ গ্যালন ১৩০  টাকা


উচ্চতা ১৫  ইঞ্চি রাউন্ড  ৫২ ইঞ্চি ১৫ গ্যালন ২০০  টাকা


উচ্চতা  ২০  ইঞ্চি রাউন্ড  ৬০ ইঞ্চি ৩০ গ্যালন ২৮০ টাকা


উচ্চতা  ২০  ইঞ্চি রাউন্ড ৭২ ইঞ্চি ৪০ গ্যালন ৩৫০ টাকা


তো দেরি না করে এখুনি অর্ডার করুন

 আমরা ঢাকা সহো পুরো বাংলাদেশে হোমডেলিভারি দিয়ে থাকি

ঢাকাতে ডেলিভারি চার্জ ৬০ টাকা ঢাকার বাইরে ১৫০ টাকা যেটা বিকাশে অগ্রিম পে করতে হবে। 

জিও ব্যাগ কিনতে কল করুন 01706941427


গঙ্গার নীচে সুড়ঙ্গ তৈরি করে ট্রেন চালানোর ভাবনা তা কিন্তু হয়েছিল অনেক আগেই। সেই ১৯২১ সালে ব্রিটিশ আমলে।,,,,,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 গঙ্গার নীচে সুড়ঙ্গ তৈরি করে ট্রেন চালানোর ভাবনা তা কিন্তু হয়েছিল অনেক আগেই। সেই ১৯২১ সালে ব্রিটিশ আমলে।

লন্ডনের টেমসের মতো গঙ্গার নীচে কলকাতা-হাওড়াকে জুড়বেন ভেবেছিলেন ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ার লন্ডনের থেমস টানেল।


 ১৯৮৪ সালের ২৪ অক্টোবর। ভারতে প্রথম পাতালরেল গড়গড় করে চাকা গড়িয়েছিল। প্রথম গন্তব্যটা ছিল কলকাতার এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন থেকে ভবানীপুর (অধুনা নেতাজি ভবন স্টেশন) পর্যন্ত। তার আগে ট্রায়াল হয়েছিল জুন মাসে। আম বাঙালি তখন মেট্রোকে বলত পাতালরেল। মাটির নীচে পাতালপথে হু হু করে ছুটছে ট্রেন, তা ছিল বেশ শিহরণ জাগানো ব্যাপার। ৪০ বছর কেটে গেছে। মেট্রো এখন অনেক প্রসারিত। উত্তর-দক্ষিণের পরে পূর্ব-পশ্চিমকে জোড়ার কাজও শুরু হয়ে গেছে। হাওড়া ময়দান থেকে কলকাতার এসপ্ল্যানেড অবধি গঙ্গার নীচ দিয়ে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো চালু হয়ে গেছে হইহই করে। এই যে গঙ্গার নীচে সুড়ঙ্গ তৈরি করে ট্রেন চালানোর ভাবনা তা কিন্তু হয়েছিল অনেক আগেই। সেই ১৯২১ সালে ব্রিটিশ আমলে। যে ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ার প্রথম তা ভেবেছিলেন তাঁর জন্ম আবার বাংলার বুকেই, খাস বীরভূমে।


ভারতে তখন ব্রিটিশ শাসন। গঙ্গার নীচে সুড়ঙ্গ বানিয়ে মেট্রো চালুর ভাবনা ছিল ব্রিটিশদেরই। কলকাতা আর হাওড়াকে গঙ্গার নীচে দিয়ে জুড়বেন ভেবেছিলেন তৎকালীন এক ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ার। গঙ্গার এপার আর ওপারকে একই সূত্রে গাঁথতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ারের নাম ছিল স্যার হার্লে ডালরিম্পল-হে। তাঁর নাম বেশি কেউ জানে না। স্যার হার্লে ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত হলেও জন্ম বাংলার বীরভূমে। সেই ১৯২১ সালেই প্রথম গঙ্গার নীচে দিয়ে টিউব রেল চালানোর ভাবনা এসেছিল তাঁর মাথায়। ১৯৮৪ সালের ২৪ অক্টোবর প্রথম মেট্রো রেল চলে কলকাতায়।


লন্ডনে টেমস নদীর নীচ দিয়ে তখন দিব্যি ট্রেন চলে। নদীর নীচ দিয়ে টানেল বানানোর কৌশল তখন আয়ত্ত করে ফেলেছে ব্রিটিশরা। সেই কৌশলেই গঙ্গার নীচে দিয়ে কলকাতা আর হাওড়াকে জুড়ে ফেলার কথা ভাবেন স্যার হার্লে। ডিজাইনও এঁকে ফেলেন হার্লে। হুগলি নদীর নীচে দিয়ে ১০.৫ কিলোমিটার (৬.৫ মাইল) পাতালপথে মেট্রো চালানোর নকশা করেন স্যার


ফেইসবুক থেকে নেওয়া 
হার্লে। ১০টা স্টেশন বানানোর ভাবনা ছিল তাঁর। কলকাতার সঙ্গে জুড়ত যমজ শহর হাওড়া। যেমন ভাবা তেমনি কাজ। শুরু হয় মাটি পরীক্ষা।


১৯২৮ সাল। গঙ্গার নীচে দিয়ে মেট্রো চালানোর প্রকল্প বন্ধ করে দেন স্যার হার্লে। পরবর্তীতে তাঁর বই ‘ক্যালকাটা টিউব রেলওয়েজ’-এ তিনি লিখেছিলেন, লন্ডনের টেমস নদীর নীচে মেট্রোর সুড়ঙ্গ তৈরিতে যা খরচ পড়েছিল, হুগলি নদীর নীচে টানেল বানাতে হলে তার খরচ পড়ত প্রায় ৬ গুণ। পলিমাটি পরীক্ষা করে তিনি দেখেছিলেন সেখানে টানেল বানানো বেশ কঠিন। নরম কাদামাটিতে টানেল বানাতে গেলে তার খরচও হত বিস্তর। পয়সাকড়ির অভাবে টানেল বানানোর কাজ বন্ধ করে দেন তিনি।


কিন্তু ওই যে কথায় বলে না, মন থেকে কিছু চাইলে এবং পরিশ্রম করলে সে ফল একদিন ঠিকই পাওয়া যায়। তাই হয়েছিল স্যার হার্লের ক্ষেত্রেও। টিউব রেল বানানোর প্রকল্প বন্ধ হওয়ার পর পরই সিইএসসি (সিটি ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি) স্যার হার্লেকে হুগলি নদীর নীচে টানেল বানানোর প্রস্তাব দেয়। কলকাতা ও হাওড়ার মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখার জন্য টানেল বানানো খুব জরুরি হয়ে পড়ে সেই সময়। মোটা মোটা কেবিলের তার গঙ্গার নীচের টানেল পথেই নিয়ে যাওয়ার কথা ভেবেছিল সিইএসসি। সেই জন্যই সুড়ঙ্গ খুঁড়তে হত। সিইএসসি প্রস্তাবে রাজি হয়ে টানেল তৈরির কাজ শুরু করেন স্যার হার্লে। সে কাজ শেষ হয় ১৯৩১ সালে। সেই প্রথম কলকাতায় গঙ্গার নীচ দিয়ে টানেল তৈরি হয়। মেট্রো রেলের জন্য না হলেও গঙ্গার নীচের টানেল জুড়ে দেয় দুই যমজ শহরকে।

Copy from fb


প্লাস্টিক বা টবের চেয়ে কম দামে কোন অগ্রিম পেমেন্ট ছাড়া অর্ডার করতে পারবেন এবং প্রডাক্ট খুলে চেক করে টাকা দিতে পারবেন।,,,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌴প্লাস্টিক বা টবের চেয়ে কম দামে কোন অগ্রিম পেমেন্ট ছাড়া অর্ডার করতে পারবেন এবং প্রডাক্ট খুলে চেক করে টাকা দিতে পারবেন।🌴


অর্ডার করতে মেসেজ করুনঃ m.me/GeoTreePlant

বা WhatsApp: 01753-884207


🌿 জিও ব্যাগ আনুমানিক ১৫-২০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়ে থাকে। কারণ এটি নদীর ও সমুদ্র পাড়ে বাধ দেয়ার কাজে ব্যবহার করা হয় যা পানি নিস্কাশন ও ভাল ও অধিক চাপ সহনশীল।


🌴জিও গার্ডেনিং ব্যাগ এর দাম:

২ গ্যালন ৭.৭ কেজি মাটি ধারণ করে  দাম ৬৫ টাকা

৩ গ্যালন ১২ কেজি মাটি ধারণ করে দাম ৯৫ টাকা

৫ গ্যালন ২০ কেজি মাটি ধারণ করে দাম ১১৫ টাকা

১০ গ্যালন ৪০ কেজি মাটি ধারণ করে দাম ১৫০ টাকা 

১৫ গ্যালন ৬০ কেজি মাটি ধারণ করে দাম ১৭০ টাকা

২৫ গ্যালন ১০৫ কেজি মাটি ধারণ করে দাম ২৫০ টাকা


🌴গ্যালন =  (ব্যাস × লম্বা মাপ)  গাছের ধরণ       

         ২               ৮  × ৭        ফুল গাছ                      

         ৩            ১০  × ৮       মরিচ, টমেটো, ক্যাপসিকাম, বেগুন                                                                                  

         ৫             ১২  × ১০      মরিচ, টমেটো, ক্যাপসিকাম, বেগুন 

        ১০            ১৬  × ১২       ড্রাগন ফল, লেবু 

        ১৫            ১৮  × ১৪       ড্রাগন ফল, লেবু 

        ২৫            ২১ × ১৬  (বড় ড্রাম সাইজ) - আম, কমলা, মাল্টা, বড় ধরণের গাছ।


🌿 সমুদ্র ও নদীর পাড়ে ভাঙ্গন রোধ করার জন্য যে ফেব্রিকের বড় বড় বস্তা বানিয়ে তাতে বালিভর্তি করে বাধ দেওয়া হয় সেই ফেব্রিক দিয়ে জিও ব্যাগ বানানো হয়। এই ফেব্রিক হাজার টন বালি ধরে রাখতে সক্ষম এবং এটি পচে না।


🍁-এতে গাছ প্লাস্টিকের টব বা ড্রাম এর তুলনাই অনেক দ্রুত বাড়ে আর প্লাস্টিকের টব বা ড্রাম এর তুলনাই অনেক টেকসই-🍁


জিও ব্যাগের কিছু উপকারিতা :

১. এতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা খুবই ভালো হয়।  ড্রামে ছিদ্র করতে হয় তার উপর টবের টুকরা দিতে হয়, তার উপর বালি দিতে হয়। তারপরেও অনেক সময় পানি বেশি হয়ে গেলে ড্রামের গাছের শিকড় পচে যায়। জিও ব্যাগে এগুলোর কোন ঝামেলা নেই। সরাসরি মাটি দিয়ে গাছ লাগিয়ে ফেলুন। পানি বেশি হলেও শিকড় পচে যাওয়ার সম্ভাবনা নাই।


২. জিও ব্যাগের ভেতর দিয়ে বাতাস চলাচল করে। ড্রামের ভেতর দিয়ে বাতাস চলাচল করতে পারে না।


৩. ব্যবহার করার পরেও জিও ব্যাগ ভাঁজ করে রেখে দেওয়া যায়। দশটি জিও ব্যাগ ভাঁজ করে রাখলে খুব অল্প জায়গা নিবে। কিন্তু ড্রাম ভাঁজ করা যাবে না।

অর্ডার করতে আপনার ঠিকানা আর ফোন নাম্বার মেসেজ এ দিয়ে সাহায্য করুন 


আমাদের সাথে যোগাযোগ নাম্বার

01753884207


হামলা-মামলা, জবর-দখল আর মারপিট কিনবেন নাকি  জমি কিনবেন?"" ০ফৈইসবুক থেকে নেওয়া

 "" হামলা-মামলা, জবর-দখল আর মারপিট কিনবেন নাকি  জমি কিনবেন?""

তাই-

জমি কেনার আগে অবশ্যই আপনাকে কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে বিক্রেতার মালিকানা এবং জমির বিভিন্ন দলিল ভালোভাবে যাচাই বাছাই করতে হবে; তা না হলে পড়তে পারেন বিপদে, এমনকি প্রতারিতও হতে পারেন। জমির দলিলপত্র যাচাই না করে জমি কেনা উচিত নয়।


কী কী যাচাই করতে হবে:

✅যার কাছ থেকে জমি কিনবেন তার কাছ থেকে ঐ জমি সংক্রান্ত সকল কাগজপত্রের ফটোকপি চেয়ে নিন, যেমন- সি.এস খতিয়ান, আর.এস খতিয়ান, বি.এস/ঢাকা সিটি জরীপের খতিয়ানসহ সর্বশেষ পর্যন্ত যে সকল বেচাকেনা হয়েছে সেগুলোর বায়া দলিল, নামজরী খতিয়ান এবং হাল সনের খাজনার দাখিলাসহ সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র।

✅এ কাগজগুলো দিয়ে মালিকানা স্বত্ত্ব পরিক্ষা করে দেখতে হবে। যেমন- সি.এস খতিয়ান, এস.এ খতিয়ান, আর.এস/বি.এস খতিয়ান ও ঢাকা সিটি জরীপের খতিয়ান পাশাপাশি মিলিয়ে দেখতে হবে জেলা, মৌজা, থানা, দাগ নম্বর ইত্যাদি মিলে কিনা। যদি না মিলে তবে ঐ মৌজার সি.এস নকশা,আর.এস./বি.এস ও ঢাকা সিটি জরীপের নকশা জোগাড় করে তাদের তুলনা করে দেখতে হবে সি.এস দাগ ভেঙে কয়টি আর.এস. দাগ বা সিটি জরীপের দাগ সৃষ্টি হয়েছে এবং সেগুলো কি কি। এরপর ভূমি রেকর্ড রুম হতে ঐ খতিয়ানগুলোর সই মুহুরী নকল নিয়ে মালিকের নাম নিশ্চিত করতে হবে। যদি সি.এস খতিয়ানে মালিকের নামের সহিত এস.এ বা আর.এস খতিয়ানের মিল না পাওয়া যায় তবে দেখতে হবে সি.এস এর মালিক জমিটি কি করলেন। তিনি যদি বিক্রি, দান, হেবা, এওয়াজ বা কোনরূপ হস্তান্তর করে থাকেন তবে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে তল্লাশি দিতে হবে এবং হস্তান্তর দলিলের সই মুহুরী নকল বের করতে হবে। একইভাবে পরবর্তী সকল খতিয়ানের মালিকানার ক্ষেত্রে তা পরিক্ষা করতে হবে। কিভাবে হস্তান্তরিত হয়ে রেকর্ড প্রস্তুত হয়েছে।

✅ জরিপের মাধ্যমে প্রণীত রেকর্ড অর্থাৎ খতিয়ান ও নকশা যাচাই করতে হবে।

✅ জমির তফসিল অর্থাৎ জমির মৌজা, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর উক্ত দাগে জমির মোট পরিমাণ জানতে হবে।

✅ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সিএস; এসএ; আরএস পর্চা দেখাতে হবে।

✅ বিক্রেতা ক্রয়সূত্রে ভূমির মালিক হয়ে থাকলে তার ক্রয় দলিল বা বায়া দলিল রেকর্ডের সঙ্গে মিল করে বিক্রেতার মালিকানা নিশ্চিত হতে হবে।

✅ বিক্রেতা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হলে সর্বশেষ জরিপের খতিয়ান বিক্রেতা বা তিনি যার মাধ্যমে প্রাপ্ত তার নামে অস্তিত্ব (যোগসূত্র) মিলিয়ে দেখতে হবে। ওয়ারিশি জমি কিনতে চাইলে, ঐ সম্পত্তিতে মোট কতজন ওয়ারিশ আছে তা খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।

প্রয়োজন হলে জমি ক্রয়ের পূর্বই জমির  মধ্যে আপনি ক্রয় সূত্রে এই জমির মালিক এমন সাইনবোর্ড লাগালেও জমির প্রকৃত অবস্থা বুঝতে পারবেন।

ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

চিকিৎসায় নতুন ইতিহাস গড়ল ভারত,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 চিকিৎসায় নতুন ইতিহাস গড়ল ভারত। প্রথমবারের মতো হাত প্রতিস্থাপন করেছেন দেশটির চিকিৎসকেরা। দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার দীর্ঘ অপারেশনে এ অসাধ্য সাধন করেছেন তারা। বুধবার (০৬ মার্চ) ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি দুর্ঘটনায় দুই হাত হারানো এক ব্যক্তির শরীরে নারীর হাত প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। রাজধানী নয়াদিল্লির একদল চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এ কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। কেবল তাই নয়, ওই নারীর অঙ্গদানের মাধ্যমে প্রাণ ফিরে পেয়েছে চারজন মানুষ।


৪৫ বছর বয়সী ওই পুরুষের মাধ্যমে দিল্লিতে প্রথমবারের মতো সফলভাবে হাত প্রতিস্থাপিত হয়েছে। আগামীকাল তাকে দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হবে। তিনি ২০২০ সালে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিজের দুহাত হারিয়েছিলেন।


এনডিটিভি জানিয়েছে, অঙ্গদানকারী ওই নারীর নাম মিনা মেহতা। তিনি দক্ষিণ দিল্লির একটি স্বনামধন্য স্কুলের সাবেক প্রশাসনিক প্রধান ছিলেন। চিকিৎসকরা তাকে ব্রেইন ডেথ ঘোষণা করেন। মৃত্যুর আগে তিনি অঙ্গদান করে গিয়েছিলেন।


মেহতার এ অঙ্গদানের ফলে চারজনের জীবনে আলো ফিরেছে। এরমধ্যে তার কিডনি লিভার ও কর্নিয়া অন্য তিনজনের দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া তার হাত অন্যের শরীরে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে ইতিহাস গড়েছেন চিকিৎসকেরা।


চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাত প্রতিস্থাপনের জন্য ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অপারেশন করেছেন। এ সময়ে দাতা ও গ্রহীতার দুজনের হাতের প্রতিটি ধমনী পেশী, টেন্ডন ও স্নায়ুকে জোড়া লাগানো হয়েছে। দাতার থেকে নেওয়া হাত প্রতিস্থাপনকারীর শরীরে মিলেও গেছে। নতুন দুই হাত দিয়ে এখন সব কাজই করতে পারবেন তিনি।


সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা ওই ব্যক্তি পেশায় চিত্রশিল্পী ছিলেন। ট্রেন দুর্ঘটনায় আরও কোনোদিন রঙ ‍তুলি ধরতে পারবেন না এমন ভেবে অবসাদে চলে যাচ্ছিলেন তিনি। তবে অঙ্গদানের মাধ্যমে জীবন তাকে নতুন সুযোগ দিয়েছে। চিকিৎসকদের দক্ষতায় নতুন করে দুই হাত ফিরে পেয়েছেন তিনি। ফলে আবারও ফিরতে পারবেন রঙতুলির জগতে।


Source:- ndtv



কাজী নজরুলের আলোচিত পাঁচমিশালী প্রেমের ঘটনা!,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

কাজী নজরুলের আলোচিত পাঁচমিশালী প্রেমের ঘটনা! 


কবি পরিচয়ের বাইরে কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন আপাদমস্তক একজন প্রেমিক পুরুষ। যার আকর্ষণীয় চেহারা, বিপুল জনপ্রিয়তা, খেয়ালী চরিত্রের জন্য খুব সহজেই নারীরা আকৃষ্ট হতেন। নজরুলের প্রেম ও প্রেমিকাদের নিয়ে কথা বলতে গেলে যাদের নাম অনায়াসে চলে আসে, তারা হলেন- নূরুন্নেছা, নার্গিস, প্রমিলা, প্রতিভা সোম ও ফজিলাতুননেসা। এখানে তাদের সঙ্গে কবির প্রেমের গল্প সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা হলো।


০১। নূরুন্নেছা

প্রথম জীবনে নজরুল চুরুলিয়া লজিং থেকে পড়াশোনা করতেন। সেখানে এক ধনীর আদুরে কন্যা নূরুন্নেছার প্রেমে পড়েন তিনি। সেটিই ছিল তাঁর প্রথম প্রেম। কিন্তু নূরুন্নেছা প্রত্যাখান করে কবির আবেদন। একবুক জ্বালা নিয়ে কবি চলে গেলেন গেলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে। 


০২। নার্গিস

এরপর যে মেয়েটি নজরুলের জীবনে আলোড়ন তুলেছিল তার নাম নার্গিস। অবশ্য তার নাম ছিল সৈয়দা খাতুন। কবি ভালোবেসে তার নাম দিয়েছিল নার্গিস। তার সঙ্গে কবির আলোচনার সূত্রপাত ঘটেছিল কবির বাঁশি বাজানো নিয়ে। এক রাতে কবি খাঁ বাড়ির দিঘির ঘাটে বসে বাঁশি বাজাচ্ছিলেন, সেই বাঁশির সুরে মুগ্ধ হন নার্গিস। খাঁ বাড়ির মুরব্বিরা নার্গিসের বর হিসেবে নজরুলকে পছন্দ করতেন না। নজরুলকে তারা বাউণ্ডুলে হিসেবেই দেখেছিলেন। কিন্তু গ্র্যাজুয়েট আলী আকবরের জন্য প্রতিবাদ করতেন না। এক পর্যায়ে খোদ নজরুলই বিয়ের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। একদিন নার্গিস নজরুলের কাছে এসে বললেন, ‘গত রাতে আপনি বাঁশি বাজিয়েছিলেন? আমি শুনেছি।’ এভাবেই প্রেমের সূত্রপাত। আলী আকবর খান নজরুল-নার্গিসের বিয়ের আয়োজন করলেন জাঁকজমকের সঙ্গে। বিয়ের দিন ধার্য করা হয়েছিল ৩ আষাঢ় ১৩২৮ সন। তবে কবিকে শর্ত দেওয়া হলো- ঘরজামাই থাকতে হবে। এটি শুনে নজরুল বিয়ের আসর ছেড়ে সরাসরি কুমিল্লা চলে গেলেন। কবির জন্য নার্গিস দীর্ঘ ১৬ বছর অপেক্ষা করেছিল। 


০৩। প্রমীলা দেবী

প্রমীলা সেনগুপ্তা। ডাক নাম দোলন। কবির একমাত্র সহধর্মিণী। এবং ৩য় প্রেমিকা। কবি ও প্রমীলা দেবীর বিয়ে নিয়ে কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। কারণ প্রমীলা দেবী ছিলেন হিন্দু আর কবি ছিলেন মুসলমান। কোন ধর্ম মতে বিয়ে হবে এ নিয়ে। তাদের বিয়েতে, সিভিল ম্যারেজ আইন অনুযায়ী বর-কনে উভয়কে এক স্বীকৃতি এই বলে দিতে হয় যে, আমি কোনও ধর্ম মানি না। কিন্তু কবি তা মানেনি। কবি বলেন, আমি মুসলমান আর মুসলমানী রক্ত আমার শিরায় শিরায় ধমনীতে ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে, এ আমি অস্বীকার করতে পারবো না। পরে মুসলিম আইনে কবি ও প্রমীলা দেবীর বিয়ে হয়। 


০৪। প্রতিভা সোম

এরপর কবির জীবনে এলো প্রতিভা সোম নামে এক নারী। কবি প্রতিভাকে গান শেখাতেন। কিন্তু প্রতিভা সোম প্রেম করে বুদ্ধদেব বসুকে বিয়ে করেন। প্রতিভা বসুকে নিয়ে রটিত নজরুলের প্রেম সক্রান্ত কথাগুলো পুরোপুরি মিথ্যে। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, তাদের ভিতর স্যার-ছাত্রীর সম্পর্ক ছিল। নজরুল মিশুক প্রকৃতির ছিলেন, তাই তাঁকে নিয়ে অনেক বদনাম করা হতো। 


০৫। ফজিলাতুননেসা

১৯২৮ সালে কাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় দফা ঢাকা সফরের সময় ফজিলাতুন্নেসার সঙ্গে পরিচয় ঘটে। ফজিলাতুন্নেসা তখন ঢাকার দেওয়ান বাজারস্থ হাসিনা মঞ্জিলে থাকতেন। কাজী মোতাহার হোসেনের কাছ থেকে ফজিলাতুন্নেসা জানতে পারেন নজরুল হাত দেখে ভাগ্য বলতে পারেন এবং ফজিলাতুন্নেসারও তার হাত নজরুলকে দেখাবার ইচ্ছে হয়। এভাবে ফজিলাতুন্নেসা ও তার বোন সফীকুননেসার সঙ্গে নজরুলের পরিচয় ঘটে ফজিলাতুন্নেসার বাসায়। কাজী মোতাহার হোসেনের লেখা থেকে জানা যায়, সেই দিন রাতেই নজরুল ফজিলাতুন্নেসার ঘরে যান এবং প্রেম নিবেদন করেন। ফজিলাতুন্নেসা নজরুলের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।


তথ্যসংগ্রহ:

’জনপ্রিয় লেখকদের অদ্ভুত কাণ্ডকাহিনি’ বইটি থেকে



বিভূতিভূষণের করুণ মৃত্যু,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 বিভূতিভূষণের করুণ মৃত্যু


অরণ্য আর প্রকৃতি ভালোবাসতেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আর ভালোবাসতেন বলেই  ‘পথের পাঁচালী’ ‘আরণ্যক’ ‘চাঁদের পাহাড়’-এর মতো প্রকৃতিঘেঁষা কালজয়ী উপন্যাসগুলো বেরিয়েছিল। 


অরণ্য-প্রকৃতিকে ভালোবাসতেন বলেই প্রায়ই বন-পাহাড়ের টানে বেরিয়ে পড়তেন। একবার ঘটল অঘটন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে অঘটন।


পাহাড়ে পূর্ণিমার চাঁদ উঁকি দিয়েছে। সেই রুপালি আগুন ঝরা রাতে তিন পথিক এগিয়ে চলেছে গাঢ় অন্ধকার ঠেলে। পুর্ণিমার উছলে পড়া আলো ওঁদের হাতছানি দেয়, ঘরছাড়া করে। চারপাশে সুনসান নীরবতা।


তক্ষক কিংবা ঝিঝিরা রাতের জয়গান করে। জোনাকির দল জ্বল-নেভে সেই শাল-মহুয়ার বনে। রাতজাগা পাখিরা ডানা ঝাপটায়। কখনো কলজে কাঁপানো তীক্ষ্ণ চিৎকারে কেঁপে ওঠে বন।


কখন যে বিভূভূষণে পেছনে ফেলে অন্য দুজন এগিয়ে গেছেন, তারা খেয়ালই করেননি।  হঠাৎ এক আর্তচিৎকারে থেমে যান তাঁরা। বুঝতে পারেন, বিপদে পড়েছেন বিভূতিভূষণ। পিছন দিকে ঘোরেন সঙ্গীকে খুঁজতে। বেশি দূর যেতে হয় না।


পাহাড়ী ঢালে বসে পড়েছেন বিভূতি। জোসনার ম্লান আলোতেও স্পষ্ট দেখতে পেলেন তাঁর আতঙ্কিত চেহারা। সঙ্গীদের উপস্থিতিও লোকটা ভয় দূর করতে পারে না। ভয়ার্ত কণ্ঠে বার বার বলছেন, ‘এ আমি কী দেখলাম, এ আমি কী দেখলাম!’ সঙ্গী দূজন তাঁকে ধাতস্ত হওয়ার সুযোগ দিলনে। এক সময় অনেকটাই সুস্থ বোধ করলেন ভদ্রলোক। বললেন তাঁর ভয় পাওয়ার কারণ। অবিশ্বাস্য  সে গল্প। সঙ্গীরা বোঝা আর না বোঝার দোলচালে। 


বনপথের সৌন্দর্যে আনমনা পিছিয়ে পড়েন খানিকটা লোকটা বিভূতি। ভাবেন, জোর পায়ে হেঁটে ধরবেন সঙ্গীদের। তখনই দেখতে পান একটা শবযাত্রা। একদল লোক খাটিয়া কাঁধে নিয়ে এগিয়ে চলেছে শশ্মানের দিকে। ক্ষণিকের জন্য থেমে যায় দল। কাঁধ থেকে নামায় খাটিয়া। বিভূতিভূষণ ততক্ষণে পৌঁছে গেছেন শবযাত্রীদের খুব কাছে। তাঁর ইচ্ছে হলো, মৃত লোকটার মুখ দেখবার। মৃতের মুখের কাপড় সরিয়ে দেখলেন। সর্বনাশ, এ কাকে দেখছেন! নিজের লাশ খাটিয়ায়! চোখ কচলে দেখলেন কোনো ভুল হচ্ছে কিনা। কিন্তু হুবহু নিজের চেহারা। আত্মসম্বরণ করতে পারলেন না বিভূতি। ভয় জমে গেলন স্রেফ। শিরদাঁড়া বেয়ে চলেছে ভয়ের শীতল স্রোত। গগণবিদারী একটা চিৎকার দিলেন। ভদ্রলোকের সঙ্গী দুজন যতক্ষণ চলে এসেছেন কাছে, ততক্ষণে শবযাত্রীরা সরে পড়েছে ওখান থেকে।


এ ঘটনার পর কখোনা সুস্থ্য হতে পারেননি ভদ্রলোক। মৃত্যুভয় তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায় প্রতিনিয়ত। ধরেই নেন ওপারের ডাক এসে গেছে। এজন্যই দেখেছেন নিজের লাশ। মাসখানেকের মধ্যেই মারা যান বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলা সাহিত্য অকালে হারায় কালজয়ী এক কথাসাহিত্যিককে।


অথচ বিভূতিভূষণ ছিলেন আপদমস্তক শিক্ষিত, বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ ছিলেন। সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা যেমন করেছেন, ভূগোল, মহাকাশচর্চা কিংবা বিজ্ঞানআন্দোলনেও তিন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। অজপাড়াগাঁয়ে নিজের স্কুলে তাঁরই উদ্যোগে আয়োজিত হত বিজ্ঞান উৎসবের। তা না হলে, আচার্য প্রফুল্ল রায়ের মতো বিজ্ঞানীর সাহচর্য তিনি পেতেন না। সেই মানুষটাই কখোনো কখোন অদ্ভুত সব কাজকর্ম করতেন, যা একজন লেখকের চরিত্রের সঙ্গে বেমানান। 


পথের পাঁচালী লিখে রাতারাতি বিখ্যাত হয়েছিলেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এরই সিক্যুয়াল ছিল অপারজিত। পথের পাঁচালির নায়ক অপু অপরাজিত উপন্যাসে সম্পূর্ণ এক অন্য মানুষ। পরিণত, কুসংস্কারমুক্ত, যুক্তিবাদী। কিন্তু এর বিভুতিভূষণ পুরোপুরি যুক্তিবাদী কিংবা কুংসংস্কারমুক্ত ছিলেন না। তিনি তন্ত্রমন্ত্র মানতেন, প্রেতচর্চা করতেন, প্ল্যানচেট করে আত্মা নামানোর দাবি করেছেন। এজন্য চাকরিও চলে গিয়েছিল তাঁর।


বিভূতিভূষণের মধ্যে তন্ত্রচর্চার বিষয়টা প্রথম ধরা পড়ে, তাঁর প্রথম স্ত্রী গৌরীর মৃত্যুর পর। মাত্র কয়েক মাসের সংসার ছিল। তারপর হঠাৎ করেই টাইফয়েডে মারা যান গৌরী। বিষণ্ণ হয়ে পড়েন বিভুতিভূষণ। এর আগে-পরে বাবা, দুইবোন ও মায়ের মৃত্যু—একের পর এক স্বজন হারানোর বেদনা সইতে হয় তাঁকে। কাপালিক-তান্ত্রিকদের খপ্পরে পড়ে, তাদের দর্শনে আকৃষ্ট হন। নিজেও জড়িয়ে পড়েন প্রেত চর্চায়।


সূত্র: পথের কবি/কিশলয় ঠাকুর

সংগৃহীত।



বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...