এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

সোমবার, ১১ মার্চ, ২০২৪

দিন-রাত চুলোচুলি করা দুই সতীনের মাঝে মা/ রা গেল ছোট সতীন একদিন,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 দিন-রাত চুলোচুলি করা দুই সতীনের মাঝে মা/ রা গেল ছোট সতীন একদিন।

মা/ রা যাবার আগে তার তিন বছরের ছেলেকে বড় সতীনের হাতে তুলে দিয়ে বলল,'আমারে মাফ কইরা দিয়েন। আমার পোলাডারে আপনের হাতে দিয়া গেলাম। আইজ থেইক্কা আপনেই ওর মা।'


বড় সতীনের ঘরে দুই সন্তান। আড়াই বছরের এক ছেলে। পাঁচ বছরের এক মেয়ে।

এখন তার তিন সন্তান হল।

ছোট সতীন মারা যাবার পরে তার কোল থেকে নেমে গেল আড়াই বছরের ছেলে। সেখানে প্রতিস্থাপিত হল সতীনের তিন বছরের সন্তান।

সে এটাকে কোলে কোলে রাখে। মুখে তুলে খাওয়ায়। কোথাও গেলে নিজের ছেলেকে হাঁটিয়ে নিয়ে যায় কিন্তু সতীনের ছেলেকে নেয় কোলে তুলে। 


এভাবেই আস্তে আস্তে বড় হল সে। কিন্তু সৎমা তাকে কোনও কাজ করতে দেয় না। নিজের ছেলেমেয়েদের দিয়ে কাজ করায়। কিন্তু তাকে দেয় মুখে তুলে খাইয়ে। এক গ্লাস পানিও ঢেলে খেতে দেয় না। পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয় -স্বজন সবাই প্রশংসা করে সৎমায়ের।

'তুমি তো অনেক ভালা মানুষ। মা মরা পোলাডারে কত্ত আদর কর। এরেই তুমি আরও বেশি ভালবাস। কে কইব তুমি অরে প্যাডে ধরনাই।'


'ভুল ভাবতাছেন আপনেরা।' মুখ খুলল বড় বউ। 'আমি শোধ নিতাছি। অর মায়ে আমার স্বামী কাইড়া নিছিল। আমারে পাঁচটা বচ্ছর জ্বালাইছে। আমি সেই শোধ নিতাছি এই পোলারে দিয়া। আমার পোলা মাইয়া জীবনে চলতে শিখব। কিন্তু অরে আমি আদর দিয়া পঙ্গু বানাইয়া দিতাছি। অয় জীবনে চলতে গিয়া পদে পদে আছাড় খাইয়া পড়ব। উইঠ্যা দাঁড়াইতে পারব না।' বলে মুচকি হাসে বড় বউ।


যে মা কলেজ পড়ুয়া ছেলের জিন্সের প্যান্ট ধুয়ে দেন, বিছানা তুলে দেন ভার্সিটি পড়ুয়া মেয়ের। আমার ছেলে/মেয়ে আমাকে ছাড়া চলতেই পারে না বলে গল্প করেন যে মা। আপনি এক বেলা বাসায় না থাকলে আপনার ছেলেমেয়ে এক মুঠো চাল সেদ্ধ করে খেতে জানে না বলে গর্ব করেন যে মা। আপনারা আদতে কিন্তু মা না। 

সৎমা।


আপনি নিজে খুব ক্ষতিকারক আপনার সন্তানের জন্য। 

এটাও ব্যাড প্যারেন্টিং।


Courtesy: মাসুমা মাইমুর

➤➤ মূল লেখকের ফেইসবুকের  কমেন্হাট দেওয়া হলো

➤➤ড্ডি কখনো গোস্ত হয় সত্য মা কখনো মা হয় না 🤣😁

আর হ্যা 🗣️ লেখক গানজা একটু বেশিই খাইছে 😁



মেসোপটেমিয়া: সভ্যতার সূচনা,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 মেসোপটেমিয়া: সভ্যতার সূচনা

সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা: ইরাক, ইরান, সিরিয়া, তুরস্ক ও কুয়েতের কিছু অংশ জুড়ে অবস্থিত মেসোপটেমিয়া সভ্যতা, ৫০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রতিষ্ঠিত, বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতাগুলোর মধ্যে অন্যতম।


নামকরণ: "মেসোপটেমিয়া" শব্দটি গ্রীক ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ "দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি"। এই নামটি টাইগ্রিস (দাজলা) ও ইউফ্রেটিস (ফোরাত) নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের বর্ণনা করে, যেখানে এই সভ্যতা বিকশিত হয়েছিল।


সেচ নির্ভর: টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর পলিমাটিতে উর্বর জমি তৈরি করেছিল, যা কৃষিকাজের জন্য উপযোগী। এই সভ্যতা সেচ ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল ছিল, যা তাদের উন্নত কৃষিক্ষেত্র গড়ে তুলতে সহায়তা করেছিল।


প্রধান পর্যায়: মেসোপটেমিয়া সভ্যতার ইতিহাস ৪ টি প্রধান পর্যায়ে বিভক্ত:


১. সুমেরীয় (খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০০ - ২০০০): সুমেরীয়রা ছিল এই অঞ্চলের প্রথম বাসিন্দা। তারা চিত্রলিপি, সাহিত্য, আইন, স্থাপত্য, জ্যোতির্বিদ্যা ও গণিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করেছিল।


২. ব্যাবিলনীয় (খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ - ৫৩৯): হ্যামুরাবির বিখ্যাত আইনসংহিতা এই যুগের উল্লেখযোগ্য দিক। ব্যাবিলন সভ্যতা ঝুলন্ত উদ্যান, জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত ও সাহিত্যের জন্য বিখ্যাত ছিল।


৩. এসিরিয় (খ্রিস্টপূর্ব ৯১১ - ৬১২): এসিরিয়রা শক্তিশালী সামরিক শক্তি ছিল। তারা ধাতুবিদ্যা, স্থাপত্য ও ভাস্কর্যশিল্পে উন্নতি লাভ করেছিল।


৪. ক্যালডিয় (খ্রিস্টপূর্ব ৬২৬ - ৫৩৯): নববলনীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী ব্যাবিলন এই যুগে একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ছিল। জ্যোতির্বিদ্যা ও গণিতে ক্যালডিয়দের উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল।


উত্তরাধিকার: মেসোপটেমিয়া সভ্যতা বিশ্ব সভ্যতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আইন, সাহিত্য, স্থাপত্য, জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত ও কৃষিক্ষেত্রে তাদের অবদান আধুনিক বিশ্বকে সমৃদ্ধ করেছে।


উল্লেখযোগ্য বিষয়:

মেসোপটেমিয়াতে চাকা, লেখন ব্যবস্থা, জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত ও আইনের ধারণার উদ্ভাবন হয়েছিল।

এই সভ্যতায় বিশ্বের প্রথম লাইব্রেরি, স্কুল ও হাসপাতাল স্থাপিত হয়েছিল



মাংসাশী উদ্ভিদ: মল্লিকা ঝাঁঝি,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 মাংসাশী উদ্ভিদ: মল্লিকা ঝাঁঝি

.


ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান ও আফ্রিকাতে এ উদ্ভিদটি পাওয়া যায়। আকারে ছোট, শিকড়হীন এ উদ্ভিদটি পুকুর বা জলাশয়ের উপরে ভাসতে দেখা যায়। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম মল্লিকা ঝাঁঝি পাওয়া যায় ১৯৭৪ সালে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার অন্তর্গত একটি বিল থেকে। দূর্লভ বলা চলে।


এ উদ্ভিদটি সম্পূর্ণ ৪-১২ ইঞ্চি (১০-৩০ সে.মি.) লম্বা হয়। বসন্তকালে এতে ছোট্ট সাদা ফুল ফোটে। উদ্ভিদটির শিকার ধরার ফাঁদ জলের নিচে থাকে। প্রত্যেকটি উদ্ভিদের কতগুলো স্বচ্ছ পাতাসহ একটি সরু কান্ড থাকে। কান্ডের চারদিকে ৮টি পাতা চাকা স্পোকের মত সাজানো থাকে বলে উদ্ভিদটিকে ওয়াটারহুইল বলা হয়।


এ উদ্ভিদের পাতাগুলোই ফাঁদ হিসেবে কাজ করে। পাতাগুলো আকারে বেশ ছোট, দৈর্ঘ্যে মাত্র এক ইঞ্চির চার ভাগের এক ভাগ (৬ মিলিমিটার)। আকারে খুব ছোট এদের শিকারগুলোও খুব ছোট হয়ে থাকে। এতে ধরা পড়ে উকুনের মত ছোট্ট এক ধরনের জলজ প্রাণী। প্ল্যাঙ্কটন নামে পরিচিত আণীবীক্ষণিক জলজ প্রাণীকুল আর জলজ প্রাণীদের লার্ভা। ওয়াটার হুইলের পাতাগুলো কাজ করে জলের নিচের ভেনাস ফাইট্র্যাপের মত। এদের পাতা দুটি খন্ডে বিভক্ত। এখানে সারিবদ্ধভাবে শুঙ্গ সাজানো থাকে। আর খন্ডগুলোর মধ্যে থাকে ট্রিগার হেয়ার। একটি পোকা ফাঁদে প্রবেশ করলে পাতার খন্ড দুটি এক সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। ওয়াটারহুইল তখন শিকারকে পরিপাক করে ফেলে এবং পরবর্তী শিকার ধরার জন্য ফাঁদ আবারো প্রস্তুত হয়ে যায়।


তথ্যসূত্র: গুগল এবং Iftiker Mahamud 

ছবি: Bappy Khan  

স্থান: ভাওয়াল বনাঞ্চলের গভীরের এক বিল।



আপনি কি জানেন কার নামঅনুসারে চট্টগ্রামের ও আরনিজাম রোডের নামকরণ করা হয়েছিল,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 চট্টগ্রামের "ও আর নিজাম রোড" আমরা সকলে কম বেশি চিনি তাই তো ??

আপনি কি জানেন- কার নাম অনুসারে এই রোডের নাম "ও আর নিজাম রোড হয়েছিল"?

চলুন জেনে নেয়া যাক-----

ও আর নিজাম রোড ওবায়দুর রহমান নিজামের (১৯০২-১৯৭০) নামে, যিনি "ও আর নিজাম" নামে পরিচিত। তিনি প্রায় ১৫ বছর চট্টগ্রাম সিটির মেয়র ছিলেন। এ সময় এই পদটি নির্বাচিত একটি পদ চট্টগ্রাম পৌরসভার "ভাইস চেয়ারম্যান" হিসাবে ডাকা হত। রাস্তাটি জাকির হোসেন রোড থেকে শুরু হয়ে পাঁচলাইশ থানায় শেষ হয়৷ এটি প্রধানত দোকান, ক্লিনিক এবং আবাসিক ভবন হোস্ট করে৷ এটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভবন যেমন মসজিদ এবং বিদ্যালয়ের কাছাকাছি যায় |


ও.আর নিজাম ১৯০৩ সালে চট্টগ্রামে জন্ম গ্রহন করেন৷ চট্টগ্রাম পৌর উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম কলেজে পড়ালেখা শেষ করে তিনি উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের জন্য যুক্তরাজ্যের গ্লাসগোতে গমন করেন। ১ম বিশ্ব যুদ্ধের পর জীবনের তাগিদে ও.আর নিজাম তার পরিবারের সাথে রেঙ্গুন(মায়ানমার)চলে যান সেখান থেকে তিনি সিংঙ্গাপুর যান।

তিনি নিজের কর্মদক্ষতা দিয়ে সারাওয়াক রাজ্যে(বর্তমান মালয়েশিয়ার একটি প্রদেশ) বোর্নিও কোম্পানি লিমিটেড এর পরিচালক হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি সারাওয়াকের পক্ষে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধের পর জাপান সারাওয়াক দখল করে নিলে ও.আর নিজাম গ্রেফতার হয়ে কারা অন্তরিন থাকেন। জেল থেকে মুক্তি দিয়ে দখলদার জাপানীরা তাকে সারাওয়াকের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। অন্যের অধীনে না থেকে তিনি নিজ দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন ৷ ৷

১৯৪৮ সালে নিজ দেশে ফিরে তিনি চট্টগ্রামে গ্রাহাম ট্রেডিং

কোম্পানির ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করেন। তিনি চট্টগ্রামের উন্নয়নে সেই থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি টার্নার গ্রাহামস, রবিনসন ফুডস এর চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি পাকিস্তান সংবিধান প্রণয়ন কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৯ সালে প্রথম বাঙালি উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ইস্টার্ন মার্কেন্টাইল ব্যাংক (বর্তমান পূবালী ব্যাংক)। চট্টগ্রামের টেরীবাজার থেকে শুরু করে কিছুদিন পর আগ্রাবাদ সাত্তার চেম্বারে প্রধান কার্যালয় করা হয়। ও.আর নিজাম ১৯৬০ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চট্টগ্রাম পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তার প্রতিষ্ঠিত ইস্টার্ন মার্কেন্টাইল ব্যাংক রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আসে নাম দেয়া হয় "পূবালী ব্যাংক" । ১৯৮৩সালে বেসরকারি মালিকানায় ছেড়ে দেয়া হয় এই ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ। সেই থেকে ঐতিহ্যের পথ বেয়ে অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে আজ অবদি পূবালী ব্যাংক মানুষের আস্থায় ১৯৫৯ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ৬০বছর অতিক্রম করেছে।


তথ্য সূত্র: O.R. Nizam Memorial Trust



বিরিয়ানি রান্নারপ্রয়োজনীয় টিপস

 🍁প্রয়োজনীয় টিপস 🍁


১: আলুর চপ তৈরিতে ময়দার ব্যাটারে আতপ চালের গুঁড়া মিশিয়ে নিলে চপ বেশি মুচমুচে হয়


২: ডিপ ফ্রিজে আদা রসুন বাটা সংরক্ষণ করে রাখতে চাইলে সামান্য লবন ও সয়াবিন তেল মিশিয়ে রাখলে আদা রসুন বাটা শক্ত হয়ে থাকেনা তাই যখন ইচ্ছে সাথে সাথে নিয়ে রান্নায় ব্যবহার করতে পারেন 


৩: লেয়ার মুরগির মাংস রান্নার সময় জয়ফল গুঁড়া মিশিয়ে নিলে  মাংশ তাড়াতাড়ি নরম হয়ে যাবে 


৫: প্রেশার কুকারে মাংস রান্না করলে মাংসের স্বাদ কিছুটা কমে যায় তাই মাংস রান্নার জন্য মশলা  প্রথমে  কষিয়ে নিয়ে তারপর মাংস দেওয়ার পর  কুকারের ঢাকনা দিয়ে  রান্না করুন 

মাংসের স্বাদ অটুট থাকবে 


৬: মাংস নরম করতে কাঁচা পেঁপে বাটা ব্যবহার করলে মাংসে তেল ঝাল বেশি দিতে হয় তাই  পেঁপের পরিবর্তে জয়ফন গুড়া করে দিলে মাংস নরম হওয়ার পাশাপাশি সুঘ্রাণ ও স্বাদও হয় বেশি 


৭: হাঁসের মাংস রান্না করার আগে মাংস গুলো কুসুম গরম পানিতে সামান্য লবন মিশিয়ে ৩০মি: ভিজিয়ে রাখুন 

৩০মি: পর মাংস গুলো লবন পানি থেকে তুলে ভালোভাবে ধুয়ে নিন 

এতে হাঁসের নিজস্ব একটা গন্ধ আছে তা  দূর হবে এই গন্ধটা যারা পছন্দ করেন না তাদের উপকারে আসবে


৮: আমরা স্যান্ডুউইচ তৈরির সময় পাউরুটির চারপাশের ব্রাউন অংশ টুকু কেটে ফেলে দিয়ে থাকি 

এই ব্রাউন অংশ টুকু ফেলে নাদিয়ে রোদে শুকিয়ে গুড়া করে ব্রেডক্রাম তৈরি করে নিতে পারি 


৯:  চড়া দামে বাজার থেকে এলাচ গুড়া কিনে না এনে ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন এলাচ গুড়া

 এলাচ ব্লেন্ডারে গুড়া করে চালনি দিয়ে চেলে গুড়া ঝারে সংরক্ষণ করে রাখুন আর প্রয়োজনে ব্যাবহার করুন 


১০: যে মাছের উগ্র গন্ধ ভালো লাগে না  তা রান্নার সময় লেবুপাতা দিয়ে রান্না করলে সুঘ্রাণ ছড়াবে 


বি: দ্র: মাছ চুলা থেকে নামানোর ৪-৫ মি: আগে লেবুপাতা  দিতে হবে এর বেশি আগে দিলে রান্না তিতা হয়ে যাবে


১১: বিরিয়ানি রান্নায় স্টার মশলা/Star anise ব্যবহার করলে বিরিয়ানি বেশি সুস্বাদু হয়


ছিলেন গার্মেন্টসকর্মী, পরে মহাকাশ পাড়ি জমান—কে তিনি?,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 # ***ছিলেন গার্মেন্টসকর্মী, পরে মহাকাশ পাড়ি জমান—কে তিনি?***


একজন ট্রাক চালকের মেয়ের স্বপ্ন আর কতই বা বড় হবে! তার ওপর মা যদি হন গার্মেন্টস কর্মী, স্বপ্নটা তখন স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে একটা কাজ জুটিয়ে খাওয়া-পরার নিশ্চয়তার গণ্ডিতেই বাঁধা থাকে। তা সেই মেয়ে তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র দেশের নাগরিক কিংবা ইউরোপের ঝাঁ চকচকে কোনো শহরের বাসিন্দাই হোন কেন, এ অবস্থা থেকে মহাকাশ জয়ের স্বপ্নটা তাই আকাশ-কুশুমই হতে পারে। হাড়-জিরজিরে পরিবারের স্কুল-পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা কখনো-কখনো বিমানের পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখেন বটে, সেটাও অতিবাসানার কাতারেই পড়ে। কিন্তু কিছু মানুষ তো ব্যতিক্রম থাকেনই, আকাশ-কুশুম স্বপ্নটাকেই তাঁরা স্রেফ অধ্যাবসায় আর কঠোর পরিশ্রমের জোরেই বাস্তবে পরিণত করে নিজেরা পৃথিবীর অমর ইতিহাসগাথার অংশ হয়ে যান।


রুশ মহাকাশচারী ভেলেন্তিনা তেরেসকোভাও তেমনি অমর ইতিহাসগাথার অংশ হয়ে গেছেন পৃথিবীর প্রথম নারী মহাকাশচারী বনে গিয়ে। অথচ তাঁর জীবনের গল্পটাও হতে পারত আর দশটা হত-দরিদ্র মেয়ের মতো।


ভেলেন্তিনার জন্ম ১৯৩৭ সালে ৬ মার্চ বলশয় মাসলেনিনকভ গ্রামে। বাবা ট্রাক চালক, মা গার্মেন্টে ছোট্ট চাকরি করেন।


কিন্তু দুবছর বয়সেই বাবাকে হারান রুশ-ফিনিশ যুদ্ধে। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গ্রাম ছাড়েন। চলে আসেন ইয়ারোস্লাভ এলাকায়। সেখানেই স্কুলে ভর্তি হন।


কিন্তু স্কুলে পড়ার সঙ্গতি তাঁর ছিল না। মা গার্মেন্টেসে চাকরি করেন, তাই তেরেসকোভাও চাকরি খুঁজতে থাকেন।


প্রথমে একটা টায়ার তৈরির কারখানায় কাজ জুটিয়ে নেন। পরে মায়ের মতো তিনিও চলে যান গার্মেন্টেসে। দিনে চাকরি আর রাতে স্কুল।


এভাবেই অতি কষ্টে তেরেসকোভার লেখাপড়ার পাঠ চলে। ছাত্রাবস্থায় বুকের ভেতর একটা স্বপ্ন বুনন করে চলেন—একদিন তিনি পাইলট হবেন, প্যারাশুট নিয়ে লাফ দিয়ে পড়বেন বিমান থেকে।


লেখাপড়া অসমাপ্ত রেখেই তেরেসকোভা স্বপ্ন পূরণের পথে অনেকটাই এগিয়ে যান। বন্ধুর পরামর্শে ভর্তি হন এক স্কাই ডাইভিং ক্লাবে। সেই ক্লাবের ব্যানারে আঞ্চলিক স্কাই ডাইভিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। প্রথমবারেই বাজিমাত! সবাইকে পেছনে ফেলে সেই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন তেরেসকোভা।  কিন্তু মায়ের এগুলো পছন্দ নয়। তিনি ভাবতেন, আর দশটা মেয়ের মতো ভেলেন্তিনাও মেয়েদের কাজ করুক। রুশ-মার্কিন স্নায়ুযুদ্ধ তখন তুঙ্গে। জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে—সবর্ত্রই চলছে তাঁদের পেশী প্রদশর্নের প্রতিযোগিতা। দূর মহাকাশই বা কূরুক্ষেত্র হবে না কেন?


১৯৬১ সালে এসে যুক্তরাষ্ট্রকে মোক্ষমভাবে টেক্কা দেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন। ইতিহাসের প্রথম মানুষ হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেন রুশ নভোচারী ইউরি গ্যাগারিন। সোভিয়েতের এই জয় কিন্তু মার্কিনিদের দমাতে পারেনি, তার প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্র দেয় ১৯৬৯ সালে নীল আর্মস্ট্রংদের চাঁদের অবতরণের মধ্য দিয়ে। গ্যাগারিনের মহাশূন্য ভ্রমণের পর সোভিয়েতের ভাবনায় তখন নতুন কিছু উঁকি দিচ্ছে। তাঁরা এবার একজন নারীকে মহাশূন্যে পাঠাতে চান। কিন্তু কার ভাগ্যে ছিঁড়বে সেই দুর্লভ মর্যাদার শিঁকে। রুশ মহাকাশবিজ্ঞানীরা আবেদন চাইলেন দেশের নারীকূলের মধ্য থেকে। নির্বাচক দলের প্রধান ইউরি গ্যাগারিন স্বয়ং। হাজার চিঠি আসে রুশ নারীদের কাছ থেকে। তাদের মধ্য থেকে সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে তাদের ডাকা স্বাক্ষাৎকারোর জন্য। এঁদের মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয় পাঁচজনকে। কিন্তু মাত্র একজনকে পাঠানো হবে মহাকাশে।


ভাইভা থেকে নির্বাচিত পাঁচ জনকে মস্কোয় নিয়ে যাওয়া হলো। চলল দীর্ঘ এক বছরের প্রশিক্ষণ। শেষমেষ পাওয়া গেল আসল জনকে। স্বল্প-শিক্ষিতা ভেলেন্তিনা নির্বাচিত হলেন মহাকাশ ভ্রমণের জন্য। ১৯৬৩ সালের ১৬ জুন ভস্কত ৬ মহাকাশে প্রথমবারের মতো উঠল নারীর জয়-পতকা।


মহাশূন্যে প্রায় ৭২ ঘণ্টার সফর ছিল তেরেসকোভার। এর মধ্যে তিনি ৪৮ বার পৃথিবী প্রদিক্ষণ করেন। মাঝে তাঁর নভোযানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পড়তে বেঁচে যায়। ১৯ জুন পৃথিবীতে অবতরণ করেন তেরেসকোভা।


মহাকাশ জয়ের পর তেরেসকোভা আত্মন্নোয়নে মনযোগ দেন। আবার শুরু করেন অসমাপ্ত লেখাপড়া। ডিপ্লোমা ও ডক্টটেরট ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৩ সালে বিয়ে করেন নভোচর আন্দ্রিয়ান নিকোলায়েভকে। পরে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। সোভিয়েতের পতন হয়েছে ঠিক হয়েছে ঠিকই কিন্তু তেরেসকোভার রাজনৈতিক পরিচয় মুছে যায়নি আজও। ২০১৬ সালে তিনি রুশ ফেডারেল সরকারের সংসদের নিম্নকক্ষের সদস্য নির্বাচিত হন। একই পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন আগেও। ভেলেন্তিনা তেরেসকোভার বয়স এখন ৮৬ বছর। এই সাহসী নারীর স্বপ্ন কিন্তু ফুরায়নি এখনো। তিনি এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন মঙ্গলজয়ের। এ শতাব্দীর ত্রিশের দিকে মঙ্গলে মানুষ পাঠাতে চায় মার্কিন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা। মঙ্গলযাত্রীরো আর কখনো পৃথিবীতে ফিরবে না জেনেও সম্প্রতি তেরেসকোভা সেই অভিযানের অংশ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সূত্র : দ্য গার্ডিয়য়ান

ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

নোবেলের সেই দিন...ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 নোবেলের সেই দিন...


পুরস্কারের চিঠি হাতে পেয়ে রবিঠাকুর মেটাতে চেয়েছিলেন আশ্রমের নালা সারাইয়ের খরচ!


সে দিন খুব হাওয়ার রাত।


খোয়াইজুড়ে রাস পূর্ণিমার গোল হলুদ চাঁদ উঠেছে।


চাঁদের আলোয় ভেসে যাচ্ছে পারুল বন।


জোব্বার পকেট থেকে টেলিগ্রামের কাগজটা বের করলেন কবি।


ভাঁজ খুলে বার দু’য়েক পড়লেন। চেয়ে রইলেন দূর বনপথে। চোখে উদাস করা চাহনি।


তারপর উদাসীন ভাবে নোবেল প্রাপ্তির টেলিগ্রামটা সচিবের দিকে এগিয়ে বললেন, ‘‘নিন, নেপালবাবু। এই আপনার ড্রেন তৈরির টাকা!’’


রবিঠাকুরের কথা শুনে নির্বাক আশ্রম-সচিব নেপালচন্দ্র রায়!


দু’চোখের কোণ ভিজে এল তাঁর!


নোবেল কমিটির কাছে কবির ঠিকানাই ছিল না!


শেষে সুইডিশ অ্যাকাডেমি ‘গীতাঞ্জলি’-র প্রকাশক ম্যাকমিলান কোম্পানির কাছ থেকে ঠিকানা নেয়। ১৪ নভেম্বর, শুক্রবার লন্ডন থেকে কেবলগ্রাম পাঠায় ৬ নং দ্বারকানাথ ঠাকুর লেনের ঠিকানায়।


কমিটি লেখে, “SWEDISH ACADEMY AWARDED YOU NOBEL PRIZE LITERATURE PLEASE WIRE ACCEPTATION SWEDISH MINISTER.”


১৫-র মধ্যরাতে জোড়াসাঁকোয় নোবেলের কেবলগ্রাম এল, ঘুমোতে পারেননি কবির ছোট জামাই নগেন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়। সারা রাত্তির বাইরে আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকেছেন, কখন আলো ফুটবে।


ঘড়িতে যখন সবে সকাল ৭-১০, নগেন্দ্রনাথ দৌড়ে গেলেন ডাকঘরে। তড়িঘড়ি টেলিগ্রাম করে শ্বশুরকে জানালেন তাঁর নোবেল প্রাপ্তির খবর!


কিন্তু জামাই নগেন্দ্রর ওই টেলিগ্রাম নয়, সেদিন কবি তাঁর তিন সুহৃদের টেলিগ্রামে নিজের নোবেল প্রাপ্তির খবর প্রথম জেনেছিলেন!


কবির নোবেল প্রাপ্তির খবর কলকাতায় প্রথম ছাপে ইংরেজি সান্ধ্য দৈনিক পত্রিকা ‘এম্পায়ার’।


১৩ তারিখ নোবেল-পুরস্কার কমিটি কবির নাম ঘোষণা করার পর, স্টকহোমের রয়টার প্রতিনিধি খবরটি প্রথম ‘ব্রেক’ করেন।


নিউইর্য়ক ইভনিং পোস্টে সে খবর প্রকাশিত হয়। এদেশে রয়টারের খবর এল পরের দিন, ১৪ নভেম্বর সকাল ৯টায়। ততক্ষণে সেদিনের কাগজ ছাপা হয়ে বেশিরভাগ বিক্রিও হয়ে গিয়েছে! সে দিনের ‘এম্পায়ার’ দেখেই শোরগোল পড়ে সন্ধেরাতের শহরে।


শোরগোলের কথা জানিয়েছেন রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের মেয়ে সীতা দেবী।


তিনি সে দিন কলেজ থেকে ফিরছিলেন।


‘পুণ্যস্মৃতি’-র পাতায় লিখছেন, ‘‘কলেজ হইতে ফিরিবামাত্র শুনিলাম যে রবীন্দ্রনাথ Nobel Prize পাইয়াছেন। কলিকাতা শহরে মহা হৈ চৈ বাধিয়া গেল। শুনিলাম কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত সর্বপ্রথম কবিকে এই খবর টেলিগ্রামে জানাইতে গিয়াছিলেন, কিন্তু তিনি নিজে টেলিগ্রাম লিখিতে জানিতেন না, অন্য কাহাকেও দিয়া লিখাইতে গিয়া দেরি হইয়া গেল, তাঁহার আগেই আর-একজন টেলিগ্রাম পাঠাইয়া দিলেন।’’


রাজপথে সে দিন কাগজের হকররা ছোটাছুটি করে হুলুস্থূল কাণ্ড বাঁধায়।  জোড়াসাঁকো থেকে গড়ের মাঠ, হাটেবাজারে শুধু রবির জয়গাথা।


সে দিনের কথা পাওয়া যায় চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতিতেও।


চারু লিখছেন, ‘‘আমি প্রবাসী-আপিসে প্রুফের মধ্যে নিমগ্ন হয়ে আছি, বেলা তখন তিনটে হবে...।’’


প্রেসের ভিতর সত্যেন্দ্র ঢুকেই চিৎকার করে চারুকে বললেন, ‘‘আমি তোমায় মারব।’’


বেগতিক দেখে প্রুফ সরিয়ে সত্যেন্দ্রর উল্লাস দেখেন চারু।


হেসে জিজ্ঞাসা করেন, ‘কী এমন সুখবর যে আমায় মারতে ইচ্ছে করছে?’


‘‘আন্দাজ করো!’’


সত্যেন্দ্রর হাতে একতাড়া ‘এম্পায়ার’ কাগজ দেখে চিৎকার করে ওঠেন চারু! ‘‘রবি-বাবু নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন!’’


আনন্দের চোটে সত্যেন্দ্র কথার খেই হারিয়ে কাগজটা টেবিলে মেলে ধরলেন।


চারুচন্দ্র লিখছেন, ‘‘আমি বললাম, ‘রবিবাবুকে টেলিগ্রাম করেছ?’ সত্যেন্দ্র বললেন, ‘আমি নগেন গাঙ্গুলির কাছে এসপ্লানেডে শুনেই কাগজ কিনে নিয়ে তোমাকে খবর দিতে ছুটে এসেছি। টেলিগ্রাম তো আমি করতে জানি না - তুমি যা হয় করো।’ তখন আমরা দুজনে কান্তিক প্রেসে গিয়ে মণিলালকে খবর দিল‌াম। আর তিনজনের নামে রবি-বাবুকে টেলিগ্রাম করলাম আমাদের সানন্দ প্রণাম জানিয়ে - Nobel Prize, our pranams। আমাদের টেলিগ্রামটা নগেনবাবুর টেলিগ্রামের পরে রবি-বাবুর কাছে পৌঁছেছিল, তাতে সত্যেন্দ্র ক্ষুণ্ণ হয়ে বলেছিলেন, ‘টেলিগ্রাম করতে জানলে আমিই আগে খবর দিতে পারতুম!’’’


সত্যিটা সত্যেন্দ্র তখনও জানতেন না, তাঁদের টেলিগ্রামই কবির হাতে পৌঁছয় প্রথম।


‘রবিজীবনী’-র লেখক প্রশান্তকুমার পাল লিখছেন, ‘‘১৪ নভেম্বর রাত্রি ৭-৪৪ মিনিট পর্যন্ত বোলপুরে পৌঁছনো এরূপ টেলিগ্রামের সংখ্যা ৭টি, তার মধ্যে চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়-কথিত নগেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের টেলিগ্রাম বা রবীন্দ্রনাথ-কথিত বিলেতের প্রকাশকের কেবলগ্রাম কোনোটিই নেই। তবে ‘সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত’ ফাইলে মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ও চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের একত্রে পাঠানো টেলিগ্রামটি পাওয়া যায়।’’


কলকাতায় ৪টে ১০ নাগাদ এই টেলিগ্রামটি জমা পড়ে। বোলপুর ডাকঘরে পৌঁছয় ঠিক তেত্রিশ মিনিট পর। কবির আমন্ত্রণে সে দিনই বেলা সাড়ে ১১টায় শান্তিনিকেতনে এসেছিলেন বাঁকুড়ার ওয়েসলিয়ান কলেজের অধীন হাই স্কুলের অধ্যক্ষ পাদ্রী এডওয়ার্ড জন টমসন। পাদ্রীসাহেব বাংলা জানতেন। তাঁকে কবি বাংলাতেই চিঠি লিখে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সাহেব লিখছেন, “About 4.30, I had tea. He came in suddenly and said, ‘Mr. Thomson, will you excuse me for a few hours? I have to go somewhere.”


অতিথি টমসনের কাছ থেকে সময় নিয়ে কোথায় গেলেন রবীন্দ্রনাথ?


বনবিহারে।


রেল লাইনের পুব পাড় ধরে মোটর গাড়িতে চড়ে জোব্বা উড়িয়ে চললেন পারুলবনের দিকে।


সঙ্গে কয়েকজন বিদেশি অতিথি, এস্রাজ নিয়ে গানের ভাণ্ডারী দিনুঠাকুর, ছেলে রথি আর সচিব নেপালচন্দ্র।


পথেই দেখা হল, বোলপুরের ডাক পিয়োনের সঙ্গে। কবি তাঁকে দেখে গাড়ি থামাতে বলে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘‘কোনও সংবাদ আছে?’’


‘‘আজ্ঞে। কলকাতা থেকে তার আছে আপনার।’’


এর পর টেলিগ্রাম হাতে পেয়েও কবি তখনই খুললেন না। সকলের দেরি হবে ভেবে জোব্বার পকেটে রেখে দিলেন কাগজখানা। কিন্তু সকলের কৌতূহল থামে না। এখন টেলিগ্রাম!


সবার অনুরোধে চাঁদের আবছা আলোয় বনপথেই টেলিগ্রাম খুললেন কবি।


প্রথমে বিশ্বাস হয়নি!


তিন প্রিয় মানুষ পাঠানো সু-সংবাদ পড়ে বলেন, ‘‘উঁহু, সম্ভবত টেলিগ্রামের ভাষায় ভুল আছে বুঝলে!’’


সকলের উৎসুক চোখ কবির মুখের দিকে!


ফের পড়লেন তিনি।


তার পর নেপালবাবুর দিকে এগিয়ে দিলেন কাগজখানা। রথীন্দ্র দেখলেন কাগজে লেখা, ‘‘নোবেল প্রাইজ কনফারড অন ইউ, আওয়ার কনগ্র্যাচুলেশনস।’’


এক আকাশ চাঁদের সে রাতে আশ্রামের চতুর্দিকে কেবল রবিরব। পুজোর ছুটির পর সবে খুলেছে রবিবাবুর ‘গানের স্কুল।’


বাড়ি থেকে ফিরে ছুটির হোম-টাস্ক নিয়ে মনখারাপ ছোটদের। তারই মাঝে সন্ধেরাতের হাওয়ায় রটল কবির নোবেল প্রাপ্তির খবর।


সে সময় প্রমথনাথ বিশী শান্তিনিকেতনের ছাত্র। ‘রবীন্দ্রনাথ ও শান্তিনিকেতন’-এ তিনি লিখছেন, ‘‘শীতের প্রারম্ভে নূতন-ওঠা বেগুনভাজা পরিবেশিত হইয়াছে... সহসা অজিতকুমার চক্রবর্তী রান্নাঘরে ঢুকিয়া চীৎকার করিয়া বলিলেন, ‘গুরুদেব নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন’।’’


প্রাক্তনীর স্মৃতির পথে ফিরে দেখি, আশ্রমের অধ্যাপক অজিত চক্রবর্তীর চলাফেরা প্রায় নৃত্যের তালে পরিণত হয়েছে। চঞ্চল হয়ে উঠেছেন ‘গম্ভীরপ্রকৃতির লোক, চলাফেরায় সংযত’ ক্ষিতিমোহন সেন। বিদ্যালয়ের সর্বাধ্যক্ষ জগদানন্দ রায় এসে যখন তিন-চার দিনের ছুটি ঘোষণা করলেন, তখন ছাত্ররা বুঝতে পারল, ‘ব্যাপার কিছু গুরুতর!’


প্রমথ লিখছেন, ‘‘কোথায় গেল ক্লাসের নিয়মিত ঘণ্টা, কোথায় গেল অধ্যাপকদের গম্ভীর চালচলন, স্নানাহারের সময়ও গোলমাল হইয়া গেল!’’


সেই রাতে গৌরপ্রাঙ্গণে চাঁদের আলোয় বিস্তর আমোদ করেছিল আত্মহারা শান্তিনিকেতন আশ্রম।


পিয়ার্সন দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কাফ্রিদের ঢাল-তরোয়াল-মুখোশ এনেছিলেন। সে সব তিনি বের করে দেন আনন্দ-নৃত্যের জন্য। পিয়ার্সন ও ছেলেদের নাচের মাঝেই কালি-ঝুলি মেখে সং সেজে হাজির হলেন সুধাকান্ত। কোমরে তাঁর জড়ানো কুয়োর লম্বা দড়ি!


লেজ নিয়ে কী লম্ফ-ঝম্প!


কবি অবিচল থাকলেও, সে দিন এমনই উল্লসিত হয়ে ওঠেন আশ্রম সদস্য ও তাঁর আপনজনেরা। কবির বড়দাদা, ঋষিপ্রতিম দ্বিজেন্দ্রনাথও খবর পেয়ে তাঁর নিচুবাংলার ঘর থেকে দৌড়ে গিয়েছেন কবিকে বুকে জড়িয়ে ধরতে! আদর করে বলেছেন, ‘রবি, তুই নোবেল প্রাইজ পেয়েছিস!’ 


বোলপুরের ডাকঘর উপচে পড়ছে অভিনন্দন বার্তায়। অজস্র চিঠি-টেলিগ্রাম!


খুব কাছের কয়েকজনকে কবি নিজেই উত্তর লিখলেন। বন্ধু রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীকে লিখলেন, ‘‘সম্মানের ভূতে আমাকে পাইয়াছে, আমি মনে মনে ওঝা ডাকিতেছি - আপনাদের আনন্দে আমি সম্পূর্ণ যোগ দিতে পারিতেছি না। আপনি হয়ত ভাবিবেন এটা আমার অত্যুক্তি হইল কিন্তু অন্তর্যামী জানেন আমার জীবন কিরূপ ভারাতুর হইয়া উঠিয়াছে। ‘কোলাহল ত বারণ হল/ এবার কথা কানে কানে’ এই কবিতাটি দিয়া আমি গীতাঞ্জলির ইংরেজি তর্জ্জমা শুরু করিয়াছিলাম। কারণটা যে কতদূর সফল হইল তাহা দেখিতেই পাইতেছেন।’’ লিখলেন রোটেনস্টাইনকেও!


বাকিদের পাঠানো হল, রবীন্দ্র-হস্তাক্ষরে লেখা চিঠির বয়ান।


২৩ নভেম্বর কবিকে সংবর্ধনা জানাতে বিশেষ ট্রেন এল বোলপুরে!


সে ট্রেনের খবর জানিয়ে কাগজে বিজ্ঞপ্তি বের হয়। জানানো হয়, শান্তিনিকেতন যাওয়ার ভাড়া ৩ টাকা চার আনা! কে নেই বিজ্ঞপ্তির স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে ব্রজেন শীল, প্রফুল্লচন্দ্র রায়, নীলরতন সরকার। সু-সজ্জিত রেলগাড়ি ছাড়তে ৫৫ মিনিট দেরি হয়।


কারণ সভাপতি জগদীশচন্দ্র বসু স্টেশনে পৌঁছতে পারেননি!


দুপুরে ট্রেন যখন বোলপুরে এল, কবির নামে জয়ধ্বনি উঠল বোলপুরের ভুবনডাঙার আকাশ জুড়ে।


আম্রকুঞ্জে সংবর্ধনা সভায় কবি এলেন গরদের ধুতি পাঞ্জাবিতে, তাঁকে মালা পরিয়ে দিলেন সভাপতি জগদীশচন্দ্র। কবি বসলেন মাটির বেদীতে, পদ্মপাতায়। রেশমের কাপড়ে কবি সত্যেন্দ্র দত্তের খসড়া করা অভিনন্দনপত্রটি পড়লেন হীরেন্দ্রনাথ দত্ত। একটি লজ্জাবতী লতার গাছ উপহার দিলেন জগদীশচন্দ্র!


সকলের অভিনন্দন শেষে এ বার কবির পালা।


কবি গাইবেন মাস তিনেক আগে লেখা গীতিমাল্যের একটি গান, ‘এ মণিহার আমায় নাহি সাজে।’


কিন্তু হঠাৎ খুব রেগে গিয়ে গানের দলকে থামিয়ে দিলেন তিনি!


আম্রকুঞ্জের সভায় ছিলেন সীতাদেবী। তিনি লিখছেন, ‘‘বোধ হয় আর কিছু বলবার সংকল্প প্রথমত তাঁহার ছিল না। কিন্তু তাঁহাকে প্রিয়তমের মত ভালোবাসিয়াছে এমন বাঙালীরও যেমন অভাব নাই, এবং ছিলও না, তেমনি চিরকাল তাঁহাকে বিদ্বেষ করিয়াছে এবং লোকচক্ষে হীন করিতে চেষ্টা করিয়াছে, এমন বাঙালীরও অভাব তখন ছিল না।’’ সভার সামনের সারিতে বসেছিলেন তেমন কয়েকজন।  


কবি তাঁদের দেখেই ধৈর্য হারান!


উঠে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বললেন, ‘‘...আজ আপনারা আদর করে সম্মানের যে সুরাপাত্র আমার সম্মুখে ধরেছেন তা আমি ওষ্ঠের কাছে পর্যন্ত ঠেকাব, কিন্তু এ মদিরা আমি অন্তরে গ্রহণ করতে পারব না। এর মত্ততা থেকে আমার চিত্তকে আমি দূরে রাখতে চাই।’’


বহুচর্চিত সে সভার স্মৃতিপাঠে কেউ কেউ এমনও লিখেছেন, কবি সে দিন বক্তৃতায় সংবর্ধনাকারীদের তুলনা করেছিলেন সেই সব গ্রাম্য বালকদের সঙ্গে, যারা কুকুরের লেজে টিন বেঁধে রাস্তায় রাস্তায় তাড়া করে বেড়ায়! কেবল লোকের মুখের কথা নয়, নিজেও লেখেন এমন কথা মর্মদাহে!


তাঁর অভিভাষণে সভায় মৃদু গুঞ্জন ওঠে। অনুগামীরা কেউ কেউ না খেয়েই ট্রেন ধরতে ফেরেন বোলপুর স্টেশনে।


কবি তাঁদের জন্য মণ্ডা-মিঠাই-কমলালেবু পাঠিয়ে দেন ট্রেন ছাড়ার আগে!


গহন বেদনা আর অভিমানে কয়েক দিন পরে পিলুতে লেখেন, ‘লুকিয়ে আসে আঁধার রাত’।


আপন কথায় খাম্বাজে গাঁথেন, ‘আমার সকল কাঁটা ধন্য করে!’


এই আমাদের রবিঠাকুর!


(সংগৃহীত)



দুর্লভ ডেলেশিয়া,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 # ***দুর্লভ ডেলেশিয়া***



বেশ কয়েক বছর প্রথম দেখার সময় মনে হয়েছিল রঙ্গন ফুলের কোনো প্রজাতি। পরে ভুল ভাঙে। খ্যাতিমান প্রকৃতিবিদ অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মার ‘ফুলগুলি যেন কথা’ গ্রন্থে গাছটির পরিচিতি দিয়েছেন রনডেলেশিয়া নামে। কোনো বাংলা নাম নেই।


বৈজ্ঞানিক নাম Rondeletia odorata রমনা পার্কে অশোককুঞ্জের উত্তর পাশ লাগোয়া কয়েকটি রঙ্গনের পাশেই ছিল গাছটি। প্রায় বছরজুড়ে ফোটা এবং মনকাড়া রঙের জন্য যেকোনো উদ্যানের জন্যই উপযোগী। কিন্তু সঠিক পরিচর্যার অভাবে সেদিন পার্কে গাছটিকে হতশ্রী দেখাচ্ছিল। চারদিক থেকে ছেঁকে ধরেছিল আগাছা ও বুনোলতা।


সব মিলিয়ে মনে হয়েছিল গাছটি বিপন্ন। কয়েক বছর পর সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো। হারিয়ে গেল দুষ্প্রাপ্য এই গাছটি। শুনেছি, রমনা পার্ক কর্তৃপক্ষ গাছটির মৃত্যুর বিষয়ে কিছুই জানত না।


এমনকি সেখানে যে এমন একটি দুর্লভ গাছ ছিল তা-ও জানা ছিল না তাদের। এমনও হতে পারে, জানা থাকলেও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি!


বংশবৃদ্ধির ক্ষেত্রে কিছুটা স্পর্শকাতর বলেই রনডেলেশিয়ার তেমন বিস্তার ঘটেনি। জানা মতে মিরপুর জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান ও নিউ বেইলি রোডের ডাক বিভাগের আবাসিক ভবনগুলোর একটিতে রনডেলেশিয়াগাছ আছে। তা ছাড়া কারো ব্যক্তিগত বাগানেও থাকতে পারে।


রনডেলেশিয়ার বিভিন্ন প্রজাতি দুই আমেরিকা মহাদেশের নিরক্ষীয় অঞ্চলে পাওয়া যায়।


Rondeletia odorata-র আদি নিবাস কিউবা। এটি পানামার সুগন্ধি গোলাপ নামেও পরিচিত। এরা চিরসবুজ গুল্ম। জার্মান প্রকৃতিবিদ ও অভিযাত্রী আলেক্সান্ডার ফন হামবল্ড এবং ফরাসি অভিযাত্রী ও উদ্ভিদবিদ এমে জাক আলেক্সাঁদ্রে বোঁপ্লঁ প্রথম মেক্সিকো থেকে এই গাছটি সংগ্রহ করেন। তাঁদের যৌথ অভিযাত্রার বিবরণ সংবলিত


Nova genera et Species Plantarum গ্রন্থের চতুর্থ সংস্করণে এই গাছটির উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম সংযুক্ত করা হয়। বইটি ঊনবিংশ শতকের প্রথম দিকে প্রকাশিত হয়। রনডেলেশিয়া নামটি ফরাসি প্রকৃতিবিদ গিয়োম রঁদেলেত থেকে এসেছে।


রনডেলেশিয়াগাছ গড়নের দিক থেকে লম্বাটে স্বভাবের। সাধারণত এক থেকে দেড় মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। পাতা বিপরীত, ডিম্বাকৃতি, উপবৃত্তাকার বা উপবৃত্তাকার-আয়তাকার, চার থেকে ছয় সেমি লম্বা, উপরের পিঠ রোমশ। মঞ্জরি-ঢাকনা সংকীর্ণভাবে ত্রিভুজাকার থেকে ডিম্বাকৃতি বা উপবৃত্তাকার। ফুলগুলো শাখা-প্রান্তে ছোট ছোট থোকায় ফোটে। সাত থেকে আট মাস পর্যন্ত ফুল ধরে, যা দেখতে অনেকটা রঙ্গনের মতো। রঙ উজ্জ্বল কমলা-লাল। পাপড়ির আগা ভোঁতা, প্রায় গোলাকার। ফলপড গোলাকার থেকে অবনমিত গোলাকার। বংশবৃদ্ধি হয় দাবাকলমে।


Source: BDNEWS24


সকাল ০৭ টার সংবাদ  তারিখ : ১১-০৩-২০২৪ ।,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 সকাল ০৭ টার সংবাদ 

তারিখ : ১১-০৩-২০২৪ ।


আজকের শিরোনাম:


একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে রূপান্তরিত করছে সরকার-প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বললেন প্রধানমন্ত্রী।


প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইহসানুল করিম হেলালের ইন্তেকাল - রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক।


দেশের বাস্তবতা বুঝতে ব্যর্থ হওয়ায় রাজনীতি থেকে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিএনপি - সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের।


পবিত্র রমজান মাসের তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বৈঠকে বসছে আজ।


রমজান মাসে সাশ্রয়ী মূল্যে চলবে দুধ, ডিম, মাছ, মাংস বিপণন কার্যক্রম - ভেজাল বিরোধী অভিযান জোরদার করছে বিএসটিআই।


রমজানে স্কুল খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত স্থগিত করলেন হাইকোর্ট।


ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ শুরু আজ।


কাঠমাণ্ডুতে, ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবলের শিরোপা জিতে নিলো বাংলাদেশের মেয়েরা।

ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

গুড় থেকে কিভাবে এলো গৌড় দেশ,,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 গুড় থেকে কিভাবে এলো গৌড় দেশ?


খুবই পরিচিত একটি শব্দ— গুড়। এককালে বাঙালি ঘরে অতিথি এলে গুড়-জল দিয়ে অভ‍্যর্থনা জানানো হতো। বাঙালি ঘরের শিশুরা দুধ-গুড় আর গুড়-মুড়ি খেয়ে বড়ো হতো। এখনকার মতো তখন প‍্যাকেটজাত শিশুখাদ্য ছিল না। আর এই প্রিয় গুড় থেকেই দেশটার নাম হয়ে গেল গৌড়দেশ, সংক্ষেপে “গৌড়।”

প্রাচীন বাংলার ( অন্য বানানে “বাঙলা” ) নাম ছিল গৌড়। পাঁচটি মৌলিক ভাগে বিভক্ত হয়ে পুরো দেশটি পরিচিত ছিল পঞ্চগৌড় নামে।

১) পঞ্চগৌড়ের প্রথম ভাগ ছিল লাল মাটির দেশ “রাঢ়।” ভাগীরথীর পশ্চিম তীরের এলাকায় অবস্থিত আজকের বীরভূম, বর্ধমান, মেদিনীপুর, হুগলি, হাওড়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মুর্শিদাবাদ, দুমকা, সাহেবগঞ্জ, দেওঘর, গোড্ডা, ধানবাদ, পুরুলিয়া, সিংভূম, রাঁচির পূর্ব অংশ, গিরিডির দক্ষিণ-পূর্ব অংশ নিয়ে ছিল রাঢ়। সবচেয়ে বড়ো এই এলাকা।

২) গৌড়ের দ্বিতীয় এলাকা ছিল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের ব-দ্বীপ এলাকা। এর নাম ছিল “সমতট, ” সাধারণভাবে বলা হতো “বাগড়ি।” পূর্ব মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, উত্তর ও দক্ষিণ দুই চব্বিশ পরগণা, কলকাতা এবং বর্তমান বাংলাদেশের খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, গোয়ালন্দ, গোপালগঞ্জ, পটুয়াখালী ছিল এই এলাকায়।

এই সমতটের রাজা ভগীরথ পদ্মা থেকে গঙ্গা, জলঙ্গী প্রভৃতি একশোটি খাল কেটে তাকে সমুদ্রের সঙ্গে জুড়েছিলেন। সেজন্য গঙ্গার আরেক নাম হয়ে যায়, শতমুখী। রামায়ণের সগর রাজা ছিলেন এই সমতটের রাজা। তাঁর “সগর” নাম থেকেই হয়েছে “সাগর।”

৩) তৃতীয় অংশ ছিল বরেন্দ্র। গঙ্গার উত্তরে আজকের মালদহ ও দিনাজপুর এলাকা।

৪) গঙ্গার উত্তর তীরে ছিল বিদেহ বা মিথিলা। রাজা মিথি এই দেশ জয় করে ত্রিহোত্রীয় যজ্ঞ করেছিলেন। তাই এর আরেক নাম তিরহুত অর্থাৎ তীরভূমি। পঞ্চগৌড়ের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে ছোট এলাকা।

৫) এর পরের অংশ “বঙ্গ।” গৌড়দেশের নদীমাতৃক এলাকা অর্থাৎ আজকের বাংলাদেশের ঢাকা অঞ্চল ছিল এই এলাকার অন্তর্ভুক্ত।

আর বঙ্গের কাছাকাছি এলাকা পরিচিত ছিল “বঙ্গাল” নামে। অনেকে মোগল যুগের লেখক আবুল ফজলের “আইন-ই-আকবরী” থেকে “বঙ্গাল” শব্দের ব‍্যাখ‍্যা করেন, “বঙ্গ” + “আল” = বঙ্গাল অর্থাৎ আল দিয়ে ঘেরা যে দেশ, তার নাম “বঙ্গাল” বলে থাকেন।


কিন্তু বৌদ্ধযুগ থেকেই “বঙ্গাল” শব্দটির ব‍্যবহার রয়েছে। চর্যাপদে দেখা যাচ্ছে, “ভুসুকু আজ তু বঙ্গালী ভইলী।” কাজেই মোগল আমলের বহু আগে থেকেই এই দেশের নাম “বঙ্গাল।” বঙ্গের কাছাকাছি যে অঞ্চল, তার নাম ছিল “বঙ্গাল।” সংস্কৃতে যা ছিল গৌড়দেশ, বাংলায় তা হয়ে যায় “বাঙলাদেশ।” ফিরে আসি গৌড়ের নামকরণ প্রসঙ্গে। এই দেশ ছিল আখের গুড়, তাল গুড়, খেজুর গুড়ে সমৃদ্ধ এলাকা। বৈদিক শব্দ “গুড়।” এই “গুড়” শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত “ষ্ণ” প্রত‍্যয় যোগে উৎপন্ন হয় “গৌড়” শব্দ। এখান থেকে তৈরি গুড় রপ্তানি হতো বিভিন্ন দেশে। এমনকি, যখন পোর্তুগীজরা এদেশে এসেছিলেন, তখন তাঁরা এদেশ থেকে মূলত গুড় ও চিনি রপ্তানি করতেন। এজন্য তাঁরা এদেশের সপ্তগ্রাম ও চট্টগ্রাম বন্দর দুটিকে ব‍্যবহার করতেন। এভাবেই গুড়ের দেশ হিসেবে ব‍্যাপক অর্থে পঞ্চ গৌড় মিলে গোটা উত্তর ভারতের নাম হয়ে যায় “গৌড়দেশ।” আর সাধারণভাবে “গৌড়দেশ” বলতে বোঝায় “বাঙলা।” বৌদ্ধযুগের পরে ব্রাহ্মণদের গাঞি-গোত্রাদি নির্ধারণের জন্য প্রয়াগে একটি বড়ো মেলা বসেছিল। অনেক আলোচনার পর শেষে ভারতের দশ শ্রেণির ব্রাহ্মণকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে পাঁচ শ্রেণির ছিল উত্তর ভারতের এবং এঁদের নাম দেওয়া হয়েছিল “পঞ্চগৌড়ী। জম্মু, কাশ্মীর, পাঞ্জাবের সারস্বত ব্রাহ্মণ এবং রাজস্থান, হরিয়াণার গৌড় ব্রাহ্মণ। এই ব্রাহ্মণরা গৌড়দেশ থেকে গিয়েছিলেন বলে এঁদের বলা হয়েছে গৌড় ব্রাহ্মণ। এঁরা মাছ-মাংস খেতেন না। আর বাঙলার ব্রাহ্মণরা মাছ-মাংস খেতেন বলে তাঁরা স্বীকৃতি পাননি।

অন্যদিকে, অন্য পাঁচ শ্রেণির ব্রাহ্মণ ছিলেন পঞ্চ দ্রাবিড়ী ব্রাহ্মণ। এঁদের মধ্যে ছিলেন উত্তর প্রদেশের কনৌজী ব্রাহ্মণ, গুজরাটের নাগর ব্রাহ্মণ এবং উত্তর বিহারের মৈথিলী ব্রাহ্মণ। যাই হোক, গুড় থেকেই যে গৌড় হয়েছে তা বোঝা গেল। গুড় বাংলায় একটি জনপ্রিয় খাদ‍্য। শীতকালে খেজুর গুড় শীতের নতুন বার্তা বয়ে আনে। তাই শীতকালে খেজুর গুড় থেকে তৈরি পাটালির সংস্কৃত নাম “নববার্তা, ” যা থেকে চলতি কথায় হয়েছে “নবাত।” অন্যদিকে, ফাল্গুনে তৈরি এখো গুড় অর্থাৎ আখের গুড়ের ব‍্যাপক ব‍্যবহার হয় বাঙালির দুর্গাপুজোর সময় বিভিন্ন ধরণের নাড়ু, আরশে তৈরিতে।

তাই গুড় বৈদিক যুগ থেকে এখনো সমান জনপ্রিয়। গুড় থেকে গৌড় নামটিও সার্থক।


সংগৃহীত



নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---

 নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস --- পরীর খাটটি বাংলাদেশের জাদুঘরে দেখে থাকলেও ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না। নাটোরের মহারানী ভব...