এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বুধবার, ১৩ মার্চ, ২০২৪

সাহিত্যের স্বরূপ...      কবিতা ব্যাপারটা কী, এই নিয়ে দু-চার কথা বলবার জন্যে ফর্মাশ এসেছে।,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 সাহিত্যের স্বরূপ...


     কবিতা ব্যাপারটা কী, এই নিয়ে দু-চার কথা বলবার জন্যে ফর্মাশ এসেছে।


     সাহিত্যের স্বরূপ সম্বন্ধে বিচার পূর্বেই কোথাও কোথাও করেছি। সেটা অন্তরের উপলব্ধি থেকে; বাইরের অভিজ্ঞতা বা বিশ্লেষণ থেকে নয়। কবিতা জিনিসটা ভিতরের একটা তাগিদ, কিসের তাগিদ সেই কথাটাই নিজেকে প্রশ্ন করেছি। যা উত্তর পেয়েছি সেটাকে সহজ করে বলা সহজ নয়। ওস্তাদমহলে এই বিষয়টা নিয়ে যে-সব বাঁধা বচন জমা হয়ে উঠেছে, কথা উঠলেই সেইগুলোই এগিয়ে আসতে চায়; নিজের উপলব্ধ অভিমতকে পথ দিতে গেলে ওইগুলোকে ঠেকিয়ে রাখা দরকার।


     গোড়াতেই গোলমাল ঠেকায় "সুন্দর" কথাটা নিয়ে। সুন্দরের বোধকেই বোধগম্য করা কাব্যের উদ্দেশ্য এ কথা কোনো উপাচার্য আওড়াবামাত্র অভ্যস্ত নির্বিচারে বলতে ঝোঁক হয়, তা তো বটেই। প্রমাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে ধোঁকা লাগায়, ভাবতে বসি সুন্দর কাকে বলে। কনে দেখবার বেলায় বরের অভিভাবক যে আদর্শ নিয়ে কনেকে দাঁড় করিয়ে দেখে, হাঁটিয়ে দেখে, চুল খুলিয়ে দেখে, কথা কইয়ে দেখে, সে আদর্শ কাব্য-যাচাইয়ের কাজে লাগাতে গেলে পদে পদেই বাধা পাওয়া যায়। দেখতে পাই, ফল্‌স্টাফের সঙ্গে কন্দর্পের তুলনা হয় না, অথচ সাহিত্যের চিত্রভাণ্ডার থেকে কন্দর্পকে বাদ দিলে লোকসান নেই, লোকসান আছে ফল্‌স্টাফকে বাদ দিলে। দেখা গেল, সীতার চরিত্র রামায়ণে মহিমান্বিত বটে, কিন্তু স্বয়ং বীর হনুমান - তার যত বড়ো লাঙ্গুল তত বড়োই সে মর্যাদা পেয়েছে। এইরকম সংশয়ের সময়ে কবির বাণী মনে পড়ে, Truth is beauty, অর্থাৎ সত্যই সৌন্দর্য। কিন্তু সত্যে তখনই সৌন্দর্যের রস পাই,অন্তরের মধ্যে যখন পাই তার নিবিড় উপলব্ধি-- জ্ঞানে নয়, স্বীকৃতিতে। তাকেই বলি বাস্তব। সর্বগুণাধার যুধিষ্ঠিরের চেয় হঠকারী ভীম বাস্তব, রামচন্দ্র যিনি শাস্ত্রের বিধি মেনে ঠাণ্ডা হয়ে থাকেন তাঁর চেয়ে লক্ষ্ণণ বাস্তব - যিনি অন্যায় সহ্য করতে না পেরে অগ্নিশর্মা হয়ে তার অশাস্ত্রীয় প্রতিকার করতে উদ্যত। আমাদের কালো-কোলো আধবুড়ো নীলমণি চাকরটা, যে মানুষ এক বুঝতে আর বোঝে, এক করতে আর করে, বকলে ঈষৎ হেসে বলে, "ভুল হয়ে গেছে", সে বেনারসি-জোর প'রে বরবেশে দৃশ্যটা কি রকম হয় সে কথা তুচ্ছ, কিন্তু সে অনেক বেশি বাস্তব অনেক নামজাদার চেয়ে এই প্রসঙ্গে তাঁদের নাম উল্লেখ করতে কুণ্ঠা হচ্ছে। অর্থাৎ, যদি কবিতা লেখা যায় তবে এ'কে তার নায়ক বা উপনায়ক করলে ঢের বেশি উপাদেয় হবে কোনো বাগ্মীপ্রবর গণনায়ককে করার চেয়ে। খুব বেশি চেনা হলেই সে বাস্তব হয় তা নয়, কিন্তু যাকে চিনি অল্প তবু যাকে অপরিহার্যরূপে হাঁ বলেই মানি সেই আমার পক্ষে বাস্তব। ঠিক কী গুণে যে, তা বিশ্লেষণ করে বলা কঠিন। বলা যেতে পারে, তারা জৈব, তারা organic; তাদের আত্মসাৎ করতে রুচি বা ইচ্ছার বাধা থাকতে পারে, অন্য বাধা নেই। যেমন ভোজ্য পদার্থ, তাদের কোনোটা তিতো, কোনোটা মিষ্টি, কোনোটা কটু; ব্যবহারে তাদের সম্বন্ধে আদরণীয়তার তারতম্য থাকলেও তাদের সকলেরই মধ্যে একটা সাম্য আছে - তারা জৈবিক, দেহতন্তুর নির্মাণে তারা কাজে লাগবার উপযোগী। শরীরের পক্ষে তারা হাঁ-এর দলে, স্বীকৃতির দলে, না-এর দলে নয়।


     সংসারে আমাদের সকলেরই চার দিকে এই হাঁ-ধর্মীর মণ্ডলী আছে - এই বাস্তবদের আবেষ্টন; তাদের সকলকে নিজের সঙ্গে জড়িয়ে নিয়ে আমাদের সত্তা আপনাকে বিচিত্র করেছে, বিস্তীর্ণ হয়েছে; তারা কেবল মানুষ নয়, তারা কুকুর বেড়াল ঘোড়া টিয়েপাখি কাকাতুয়া, তারা আসশেওড়ার-বেড়া-দেওয়া পানাপুকুর, তারা গোঁসাইপাড়ার পোড়ো বাগানে ভাঙাপাঁচিল-ঘেরা পালতে-মাদার, গোয়ালঘরের আঙিনায় খড়ের গাদার গন্ধ, পাড়ার মধ্য দিয়ে হাটে যাওয়ার গলি রাস্তা, কামারশালার হাতুড়ি-পেটার আওয়াজ, বহুপুরোনো ভেঙেপড়া ইঁটের পাঁজা যার উপরে অশথগাছ গজিয়ে উঠেছে, রাস্তার ধারের আমড়াতলায় পাড়ার প্রৌঢ়দের তাসপাশার আড্ডা, আরও কত কী - যা কোনো ইতিহাসে স্থান পায় না, কোনো ভূচিত্রের কোণে আঁচড় কাটে না। এদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে পৃথিবীর চারি দিক থেকে নানা ভাষায় সাহিত্যলোকের বাস্তবের দল। ভাষার বেড়া পেরিয়ে তাদের মধ্যে যাদের সঙ্গে পরিচয় হয় খুশি হয়ে বলি "বাঃ বেশ হল", অর্থাৎ মিলছে প্রাণের সঙ্গে, মনের সঙ্গে। তাদের মধ্যে রাজাবাদশা আছে, দীনদুঃখীও আছে, সুপুরুষ আছে, সুন্দরী আছে, কানা খোঁড়া কুঁজো কুৎসিতও আছে; এইসঙ্গে আছে অদ্ভুত সৃষ্টিছাড়া, কোনো কালে বিধাতার হাত পড়ে নি যাদের উপরে, প্রাণীতত্ত্বের সঙ্গে শরীরতত্ত্বের সঙ্গে যাদের অস্তিত্বের অমিল, প্রচলিত রীতিপদ্ধতির সঙ্গে যাদের অমানান বিস্তর। আর আছে যারা ঐতিহাসিকতার ভড়ং ক'রে আসরে নামে, কারও-বা মোগলাই পাগড়ি, কারও-বা যোধপুরী পায়জামা, কিন্তু যাদের বারো-আনা জাল ইতিহাস, প্রমাণপত্র চাইলে যারা নির্লজ্জভাবে বলে বসে "কেয়ার করি নে প্রমাণ - পছন্দ হয় কি না দেখে নাও"। এ ছাড়া আছে ভাবাবেগের বাস্তবতা - দুঃখ-সুখ বিচ্ছেদ-মিলন লজ্জা-ভয় বীরত্ব-কাপুরুষতা। এরা তৈরি করে সাহিত্যের বায়ুমণ্ডল - এইখানে রৌদ্রবৃষ্টি, এইখানে আলো-অন্ধকার, এইখানে কুয়াশার বিড়ম্বনা, মরীচিকার চিত্রকলা। বাইরে থেকে মানুষের এই আপন-ক'রে-নেওয়া সংগ্রহ, ভিতর থেকে মানুষের এই আপনার-সঙ্গে-মেলানো সৃষ্টি, এই তার বাস্তবমণ্ডলী - বিশ্বলোকের মাঝখানে এই তার অন্তরঙ্গ মানবলোক - এর মধ্যে সুন্দর অসুন্দর, ভালো মন্দ, সংগত অসংগত, সুরওয়ালা এবং বেসুরো, সবই আছে; যখনই নিজের মধ্যেই তারা এমন সাক্ষ্য নিয়ে আসে যে তাদের স্বীকার করতে বাধ্য হই, তখনই খুশি হয়ে উঠি। বিজ্ঞান ইতিহাস তাদের অসত্য বলে বলুক, মানুষ আপন মনের একান্ত অনুভূতি থেকে তাদের বলে নিশ্চিত সত্য। এই সত্যের বোধ দেয় আনন্দ, সেই আনন্দেই তার শেষ মূল্য। তবে কেমন করে বলব, সুন্দরবোধকে বোধগম্য করাই কাব্যের উদ্দেশ্য।


     বিষয়ের বাস্তবতা-উপলব্ধি ছাড়া কাব্যের আর-একটা দিক আছে, সে তার শিল্পকলা। যা যুক্তিগম্য তাকে প্রমাণ করতে হয়, যা আনন্দময় তাকে প্রকাশ করতে চাই। যা প্রমাণযোগ্য তাকে প্রমাণ করা সহজ, যা আনন্দময় তাকে প্রকাশ করা সহজ নয়। "খুশি হয়েছি" এই কথাটা বোঝাতে লাগে সুর, লাগে ভাবভঙ্গি। এই কথাকে সাজাতে হয় সুন্দর ক'রে, মা যেমন করে ছেলেকে সাজায়, প্রিয় যেমন সাজায় প্রিয়াকে, বাসের ঘর যেমন সাজাতে হয় বাগান দিয়ে, বাসরঘর যেমন সজ্জিত হয় ফুলের মালায়। কথার শিল্প তার ছন্দে, ধ্বনির সংগীতে, বাণীর বিন্যাসে ও বাছাই-কাজে। এই খুশির বাহন অকিঞ্চিৎকর হলে চলে না, যা অত্যন্ত অনুভব করি সেটা যে অবহেলার জিনিস নয় এই কথা প্রকাশ করতে হয় কারুকাজে।


     অনেক সময় এই শিল্পকলা শিল্পিতকে ডিঙিয়ে আপনার স্বাতন্ত্র্যকেই মুখ্য করে তোলে। কেননা, তার মধ্যেও আছে সৃষ্টির প্রেরণা। লীলায়িত অলংকৃত ভাষার মধ্যে অর্থকে ছাড়িয়েও একটা বিশিষ্ট রূপ প্রকাশ পায় - সে তার ধ্বনিপ্রধান গীতধর্মে। বিশুদ্ধ সঁগীতের স্বরাজ তার আপন ক্ষেত্রেই, ভাষার সঙ্গে শরিকিয়ানা করবার তার জরুরি নেই। কিন্তু ছন্দে, শব্দবিন্যাসের ও ধ্বনিঝংকারের তির্যক ভঙ্গিতে, যে সংগীতরস প্রকাশ পায় অর্থের কাছে অগত্যা তার জবাবদিহি আছে। কিন্তু ছন্দের নেশা, ধ্বনি-প্রসাধনের নেশা, অনেক কবির মধ্যে মৌতাতি উগ্রতা পেয়ে বসে; গদ্‌গদ আবিলতা নামে ভাষায় - স্ত্রৈণ স্বামীর মতো তাদের কাব্য কাপুরুষতার দৌর্বল্যে অশ্রদ্ধেয় হয়ে ওঠে।

 

     শেষ কথা হচ্ছে : Truth is beauty। কাব্যে এই ট্রুথ রূপের ট্রুথ, তথ্যের নয়। কাব্যের রূপ যদি ট্রুথ-রূপে অত্যন্ত প্রতীতিযোগ্য না হয় তা হলে তথ্যের আদালতে সে অনিন্দনীয় প্রমাণিত হলেও কাব্যের দরবারে সে নিন্দিত হবে। মন ভোলাবার আসরে তার অলংকারপুঞ্জ যদি-বা অত্যন্ত গুঞ্জরিত হয়, অর্থাৎ সে যদি মুখর ভাষায় সুন্দরের গোলামি করে, তবু তাতে তার অবাস্তবতা আরও বেশি করেই ঘোষণা করে। আর এতেই যারা বাহবা দিয়ে ওঠে, রূঢ় শোনালেও বলতে হবে, তাদের মনের ছেলেমানুষি ঘোচে নি।


     শেষকালে একটা কথা বলা দরকার বোধ করছি। ভাবগতিকে বোধ হয়, আজকাল অনেকের কাছেই বাস্তবের সংজ্ঞা হচ্ছে "যা-তা"। কিন্তু আসল কথা, বাস্তবই হচ্ছে মানুষের জ্ঞাত বা অজ্ঞাত-সারে নিজের বাছাই-করা জিনিস। নির্বিশেষে বিজ্ঞানে সমান মূল্য পায় যা-তা। সেই বিশ্বব্যাপী যা-তা বাছাই হয়ে যা আমাদের আপন স্বাক্ষর নিয়ে আমাদের চারপাশে এসে ঘিরে দাঁড়ায় তারাই আমাদের বাস্তব। আর যে-সব অসংখ্য জিনিস নানা মূল্য নিয়ে হাটে যায় ছড়াছড়ি, বাস্তবের মূল্য-বর্জিত হয়ে তারা আমাদের কাছে ছায়া।


     পাড়ায় মদের দোকান আছে, সেটাকে ছন্দে বা অছন্দে কাব্যরচনায় ভুক্ত করলেই কোনো কোনো মহলে সস্তা হাততালি পাওয়ার আশা আছে। সেই মহলের বাসিন্দারা বলেন, বহুকাল ইন্দ্রলোকে সুরাপান নিয়েই কবিরা মাতামাতি করেছেন, ছন্দোবন্ধে শুঁড়ির দোকানের আমেজমাত্র দেন নি - অথচ শুঁড়ির দোকানে হয়তো তাঁদের আনাগোনা যথেষ্ট ছিল। এ নিয়ে অপক্ষপাতে আমি বিচার করতে পারি - কেননা, আমার পক্ষে শুঁড়ির দোকানে মদের আড্ডা যত দূরে ইন্দ্রলোকের সুধাপান-সভা তার চেয়ে কাছে নয়, অর্থাৎ প্রত্যক্ষ পরিচয়ের হিসাবে। আমার বলবার কথা এই যে, লেখনীর জাদুতে, কল্পনার পরশমণিস্পর্শে, মদের আড্ডাও বাস্তব হয়ে উঠতে পারে, সুধাপানসভাও। কিন্তু সেটা হওয়া চাই। অথচ দিনক্ষণ এমন হয়েছে যে, ভাঙা ছন্দে মদের দোকানে মাতালের আড্ডার অবতারণা করলেই আধুনিকের মার্কা মিলিয়ে যাচনদার বলবে, "হাঁ, কবি বটে', বলবে "একেই তো বলে রিয়ালিজ্‌ম্‌"। - আমি বলছি, বলে না। রিয়ালিজ্‌মের দোহাই দিয়ে এরকম সস্তা কবিত্ব অত্যন্ত বেশি চলিত হয়েছে। আর্ট্‌ এত সস্তা নয়। ধোবার বাড়ির ময়লা কাপড়ের ফর্দ নিয়ে কবিতা লেখা নিশ্চয়ই সম্ভব, বাস্তবের ভাষায় এর মধ্যে বস্তা-ভরা আদিরস করুণরস এবং বীভৎসরসের অবতারণা করা চলে। যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দুইবেলা বকাবকি চুলোচুলি, তাদের কাপড়দুটো এক ঘাটে একসঙ্গে আছাড় খেয়ে খেয়ে নির্মল হয়ে উঠছে, অবশেষে সওয়ার হয়ে চলেছে একই গাধার পিঠে, এ বিষয়টা নব্য চতুষ্পদীতে দিব্য মানানসই হতে পারে। কিন্তু বিষয়-বাছাই নিয়ে তার রিয়ালিজ্‌ম্‌ নয়, রিয়ালিজ্‌ম্‌ ফুটবে রচনার জাদুতে। সেটাতেও বাছাইয়ের কাজ যথেষ্ট থাকা চাই, না যদি থাকে তবে অমনতরো অকিঞ্চিৎকর আবর্জনা আর কিছুই হতে পারে না। এ নিয়ে বকাবকি না করে সম্পাদকের প্রতি আমার অনুরোধ এই যে, প্রমাণ করুন, রিয়ালিস্টিক কবিতা কবিতা বটে, কিন্তু রিয়ালিস্টিক ব'লে নয়, কবিতা বলেই। পূর্বোক্ত বিষয়টা যদি পছন্দ না হয় তো আর-একটা বিষয় মনে করিয়ে দিচ্ছি - বহু দিনের বহুপদাহত ঢেঁকির আত্মকথা। প্রাচীন যুগে অশোক গাছে সুন্দরীর পদস্পর্শ-ব্যাপারের চেয়েও হয়তো একে বেশি মর্যাদা দিতে পারবেন, বিশেষত যদি চরণপাত বেছে বেছে অসুন্দরীদের হয়। আর যদি শুকিয়ে-পড়া খেজুর গাছের উপর কিছু লিখতে চান তা হলে বলতে পারবেন, ওই গাছ আপন রসের বয়সে কত ভিন্ন ভিন্ন জীবনে কত ভিন্ন ভিন্ন রকমের নেশার সঞ্চার করেছে - তার মধ্যে হাসিও ছিল, কান্নাও ছিল, ভীষণতাও ছিল। সেই নেশা যে শ্রেণীর লোকের তার মধ্যে রাজাবাদশা নেই, এমন-কি এম।এ। পরীক্ষার্থী অন্যমনস্ক তরুণ যুবকও নেই যার হাতে কব্জী-ঘড়ি, চোখে চশমা এবং অঙ্গুলিকর্ষণে চুলগুলো পিছনের দিকে তোলা। বলতে বলতে আর-একটা কাব্যবিষয় মনে পড়ল। একটুকু-তলানি-ওয়ালা লেবেল-উঠে-যাওয়া চুলের তেলের নিশ্ছিপি একটা শিশি, চলেছে সে তার হারা জগতের অন্বেষণে, সঙ্গে সাথি আছে একটা দাঁতভাঙা চিরুনি আর শেষ ক্ষয় ক্ষয়ে-যাওয়া সাবানের পাৎলা টুকরো। কাব্যটির নাম দেওয়া যেতে পারে "আধুনিক রূপকথা"। তার ভাঙা ছন্দে এই দীর্ঘনিশ্বাস জেগে উঠবে যে, কোথাও পাওয়া গেল না সেই খোয়ানো জগৎ। এই সুযোগে সেদিনকার দেউলে অতীতের  এই তিনটি উদ্‌বৃত্ত সামগ্রী বিশ্ববিধি ও বিধাতাকে বেশ একটু বিদ্রূপ করে নিতে পারে; বলতে পারে, "শৌখিন মরীচিকার ছদ্মবেশ প'রে বাবুয়ানার অভিনয় করত ওই মহাকালের নাট্যমঞ্চের সঙ - আজ নেপথ্যে উঁকি মারলে তাকে আর চেনাই যায় না; এমন ফাঁকির জগতে সত্য যদি কাউকে বলা যায় তবে তার প্রতীক বাজার-দরের বাইরেকার আমরা ক'টিই, এই তলানি-তেলের শিশি, এই দাঁতভাঙা চিরুনি আর ক্ষয়ে-যাওয়া পাৎলা সাবানের টুকরো; আমরা রীয়ল, আমরা ঝাঁটানি-মালের ঝুড়ি থেকে আধুনিকতার রসদ জোগাই। আমাদের কথা ফুরোয় যেই, দেখা যায়, নটে গাছটি মুড়িয়েছে।" কালের গোয়ালঘরের দরজা খোলা, তার গোরুতে দুধ দেয় না, কিন্তু নটে গাছটি মুড়িয়ে যায়। তাই আজ মানুষের সব আশাভরসা-ভালোবাসার মুড়োনো নটে গাছটার এত দাম বেড়ে গেছে কবিত্বের হাটে। গোরুটাও হাড়-বেরকরা, শিঙভাঙা, কাকের-ঠোকর-খাওয়া-ক্ষতপৃষ্ঠ, গাড়োয়ানের মোচড় খেয়ে খেয়ে গ্রন্থিশিথিল-ল্যাজ-ওয়ালা হওয়া চাই। লেখকের অনবধানে এ যদি সুস্থ সুন্দর হয় তা হলে মিডভিক্‌টোরীয়-যুগবর্তী অপবাদে লাঞ্ছিত হয়ে আধুনিক সাহিত্যক্ষেত্রে তাড়া খেয়ে মরতে যাবে সমালোচকের কশাইখানায়।


ফেইসবুক থেকে নেওয়া 


সকাল ০৭ টার সংবাদ  তারিখ : ১৩-০৩-২০২৪ ।ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 সকাল ০৭ টার সংবাদ 

তারিখ : ১৩-০৩-২০২৪ ।


আজকের শিরোনাম:


চলতি অর্থবছরের জন্য দুই লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকার বেশি সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদন - সর্বোচ্চ বরাদ্দ সড়ক পরিবহন, যোগাযোগ, জ্বালানি ও বিদ্যুত খাতে। 


রমজান মাসে রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে জনগণের ধর্মীয় মূল্যবোধের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে বিএনপি - মন্তব্য আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের।


মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর নতুন ১৭৭ জন সদস্যকে ফেরত পাঠাতে দেশটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ঢাকা - জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।


রমজানে স্কুল খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টে বহাল - রোজার প্রথম ১০ দিন প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১৫ দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় খোলা থাকবে। 


ভ্রাম্যমাণ গাড়ির মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে ডিম, দুধ ও মাছ-মাংস বিক্রি শুরু করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।


বিশ্বব্যাপী চার বছরের যুদ্ধে যত শিশু নিহত হয় তার চেয়ে গাজায় বেশি শিশু মারা যায় গত চার মাসে  - জানালেন UNRWA প্রধান ।


আজ চট্টগ্রামে তিন ম্যাচ একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সিরিজের প্রথমটিতে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

রমজান মাসের আমল সমূহ,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ⭕ রমাদান মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব ১০ থেকে ৭০০ গুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। তাই রমাদান মাসের প্রতিটি মূহর্তকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন, অধিক পরিমানে নেক আমল করুন, আমলের পাল্লাকে ভারী করুন এবং জান্নাতটাকে আরো উত্তমরূপে সুসজ্জিত করুন ইন শা আল্লাহ।


১) দৈনিক কিছু সময় নিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করুন, হোক তা সামান্য সময়ের জন্য, তবুও নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করা অব্যাহত রাখুন।


২) সর্বদা “সুবহা-নাল্ল-হ, আলহামদুলিল্লাহ, লা- ইলাহা ইল্লাল্ল-হ, আল্ল-হু আকবর” তাসবীহ পাঠ করুন।


৩) সামর্থ্য অনুযায়ী বেশি বেশি করে দান-সদকা করার চেষ্টা করুন, কেননা রাসূল স. অন্য মাসের তুলনায় রমাদান মাসে খুব বেশি পরিমানে দান-সদকা করতেন।


৪) আমাদের আমলনামা সওয়াবের পরিবর্তে গুনাহ দ্বারা ভরপুর, তাই রমাদান মাসের প্রতিটি মূহুর্তকেই কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন, সর্বদা অন্তর থেকে অনুতপ্ত হয়ে তওবা এস্তেগফার করুন,


«اَسْتَغْفِرُوا اللهَ اللَّذِى لَا اِلَهَ اِلَّا هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ وَ اَتُوْبُ اِلَيْهِ»


উচ্চারণঃ- “আসতাগফিরুল্ল-হাল্লাযি লা- ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহ”।


৫) অতঃপর সর্বদা বেশি বেশি করে দোয়া করুন, জান্নাত লাভের জন্য এবং জাহা-ন্নাম থেকে মুক্তি লাভের জন্য,


«اَللهُمَّ انَّ نَسْئَلُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ»


উচ্চারণঃ- “আল্ল-হুম্মা ইন্না নাস আলুকাল জান্নাতা ওয়া না'ঊজুবিকা মিনান নার”


অর্থঃ- “হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট জান্নাত চাই এবং জাহা-ন্নামের আ-গু-ন থেকে মুক্তি চাই”।


🔲 মহান আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের সবাইকে এই ফজিলত পূর্ণ আমলগুলো করার তৌফিক দান করুন, আমিন 💝✅


ফেইসবুক থেকে নেওয়া 


রোজা ভঙ্গের কারন সমূহ (১ম পর্ব)

 যেসব কারণে রোজা ভেঙ্গে যায় (১ম পর্ব)


১.রোযা অবস্থায় পানাহার ও যৌনাচার থেকে বিরত থাকা জরুরি, সুতরাং যদি কোন ব্যক্তি দিনের বেলায় ইচ্ছা করে উপরোল্লিখিত তিনটি কাজের যে কোন একটি কাজ করে তাহলে তার রোযা ভেঙ্গে যাবে। এবং তার উপর কাযা ও কাফ্ফারা উভয়টি ওয়াজিব হবে।


২.সুবহে সাদিক না হওয়ার পূর্ণ ধারণার উপর কেউ সেহরী  খেল অথচ তখন সুবহে সাদিক হয়ে গেছে ( সেহরী  খাওয়ার সময় শেষ হয়ে গেছে) অথবা সূর্য অস্তমিত হওয়ার পূর্ণ ধারণায় ইফতার করল অথচ বাস্তবে তখনও সূর্য অস্ত যায়নি, এমতাবস্থায় তাকে ঐ রোযাটির কাযা করতে হবে। তবে কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে না। পক্ষান্তরে সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার প্রবল ধারণা থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ সেহরী খেয়ে নেয় আর বাস্তবেও সুবহে সাদিক হয়ে থাকে, তাহলে তার কাযা ওয়াজিব হবে, আর যদি সূর্য অস্ত না যাওয়ার প্রবল ধারণা সত্ত্বেও ইফতার করে নেয় আর বাস্তব দেখা যায় সূর্য অস্ত যায়নি তাহলে তার কাযা কাফ্ফারা উভয়টি ওয়াজিব হবে।


৩.সুবহে সাদিক হয়নি এই সংবাদ পেয়ে কোন ব্যক্তি খানা খেল, কিন্তু পরবর্তীতে তার খবর ভুল বলে প্রমাণিত হলে তার ঐ রোযার কাযা করতে হবে, কাফ্ফারা দিতে হবে না।


৪.সূর্য অস্ত চলে গেছে, ইফতারির সময় হয়েছে-দুই ব্যক্তির এই খবরের ভিত্তিতে রোযাদার ইফতার করল। কিন্তু অপর দুই ব্যক্তি বলল: না, এখনও ইফতারির সময় হয়নি। পরবর্তীতে দেখা গেল আসলেই ইফতারির সময় হয়নি-সূর্য অস্ত যায়নি। তাহলে ঐ রোযাদারকে রোযার কাযা করতে হবে, তবে কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে না।


৫.যদি কেউ রোযা রাখার কথা ভুলে গিয়ে পানাহার করে, তাহলে তার রোযা ভাঙ্গবে না। তার রোযা বহাল থাকবে। তবে কেউ স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পরও যদি খায় তাহলে রোযা ভেঙ্গে যাবে এবং কাযা ওয়াজিব হবে, তবে কাফ্ফারা ওয়াজিব হবেনা।


(ফাতাওয়ায়ে শামী ৩য় খন্ড- ৩৬৫ পৃষ্ঠা)



মঙ্গলবার, ১২ মার্চ, ২০২৪

ছিলেনা তুমি,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 মেয়েরা সম্ভবত তরল পদার্থ।

এদের কোনো আকার নেই বললেই চলে।

যে কোনো পাত্রেই এরা নিজ আকার হুট করেই ধারণ করে ফ্যালে।

সেটা তার জন্য হোক যোগ্যই বা অযোগ্য!


এই ধরুন, বড্ড অগোছালো এক টা মেয়ে,

 বড্ড জেদি, রাগী, খুব অভিমানী, যে কিনা আহ্লাদে কখনো চুলটাও বাঁধতে শেখেনি।

কথায় কথায় মুখ গুমরে বসে থাকে।

এমনকি নিজের ওড়না টাও ঠিক মতো গুছিয়ে  রাখতে পারতো না,

 অথচ দেখুন, 

সেই অগছালো মেয়েটিই কিভাবে দুহাত দিয়ে,

 পুরো এক টা সংসার গুছিয়ে রাখছে!


আচ্ছা মেয়েরা কি সত্যিই তরল! 

না হলে, জানালার গ্রিল ধরে যে মেয়েটি,  

অনবরত চোখের পানি ফেলতো। 

যার একটি ফোনকলের অপেক্ষাই সে সারাটা রাত না ঘুমিয়ে পাড় করে দিত।  

অথচ  আজ,

আজ সে মেয়েটিই অন্য কারো বুকে মাথা রেখে কি  নিশ্চিন্তেই না ঘুমোচ্ছে!


যে মেয়েটির গলার আওয়াজে, 

পুরো পাড়ার বখাটে চুপসে থাকতো।

এমনি প্রচণ্ড শীতেও যে মেয়েটি কখনো কাঁপেনি,

ওমা কি অবাক কান্ড,

আজ সেই মেয়েটিই নাকি স্বামী আর  সংসার এর ভয়ে প্রতি মুহুর্তে  কাঁপে!


তরল ছাড়া আবার কি এরা! 

কি নামে ডাকে এদের?


মেঘের ডাক শুনলেই,

যেই মেয়েটি অবাধ্যের মতো বৃষ্টিতে ভিজতে দৌড়ে ছাদে চলে যেতো। 

মায়ের হাজার বারণ স্বত্তেও জানালা খুলে, 

দু হাত জলে ভিজিয়ে রাখতো।

আচ্ছা এই মেয়েটিই কি সেই মেয়ে যে কিনা এখন অর্ধ পোড়া মুখ নিয়ে, 

ভুরু কুঁচকে খটাস করে জানলাটা আটকে দেয়!


শুনেছিলাম মেয়েটির বড় ইচ্ছে ছিল

পড়ালেখা শেষ করে বড় অফিসার হবে, 

তবে বড় অফিসার না হলেও, 

মেয়েটি আজ বড় রাঁধুনি হয়েছে বটে। 

নিয়ম করে তিন বেলা রাঁধে, 

কাপড়চোপড় কাঁচে আরও কত কি।

শুনেছি  আজকাল  শ্বশুর বাড়িতে নাকি সে ভালোই সেবা দিয়ে যাচ্ছে!


একবার মেয়েটি কাকে যেন জড়িয়ে ধরে বলেছিল, 

তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচবোনা, 

বিশ্বাস করো তোমাকে ছাড়া আমি মরে যাবো! 

তুৃমি একটা কিছু করো তোমার দোহাই।

আজ সেই মেয়েটিই অন্য কারো বুকে, 

অন্য কোনো সুখে!


এই মেয়ে গুলোই যেন কেমন,  

কেমন বেঈমান,

কেমন স্বার্থপর, 

কেমন লোভী। 

আচ্ছা এরা তরল ছাড়া আবার কি!


কখনো বা পরিবারের জন্য, 

আবার কখনো খুব কাছের একজন মানুষের খুশির জন্য, 

নিজের সব চাওয়া পাওয়া গুলোকে এক মুহুর্তেই দুমড়ে মুচড়ে দেয় এরা।


এদের তরল ছাড়া আবার কিছু বলা যায়!

সুখ টা কে কি কখনো এরা ছুঁয়ে দেখতে পারে! 

নাকি ছোঁয়ার আগেই সবটা ধুসর রঙে তা পাল্টে যায়!

এদের সুখ কি শুধুই কল্পনার জগত পর্যন্ত?

অনেক গুলো স্বপ্ন এক সাথে দেখে, 

আবার হাওয়াই ভাসিয়ে দেয়।


কেবল অন্যের সু্খের জন্য নিজেকে গুছিয়ে তোলা মানেই কি, তুমি মেয়ে, তুমি নারী, তুমি তরল??

   


__  মেয়ে_মানেই_কি_মানিয়ে_নেওয়া

ছিলে না তুমি

chilenatumi




আপনার বাগানের গাছের পাতা কুকড়ে যায়?,,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌱🌱 আপনার বাগানের গাছের পাতা কুকড়ে যায়??🍃🍃


অনেকেই মরিচ,টমেটো, শিম, বরবটি পেপে বা অন্যান্য গাছের পাতা কোকড়ানো এর

জন্য কাংখিত ফলন পান না তাদের জন্য কার্যকরী কীটনাশক। ১০০% পরীক্ষিত।


মূলত মাছি পোকা ও মাকড়ের আক্রমণ হলে এমন হয়।


👉👉 যেভাবে দমন করবেনঃ-


আক্রমণ রোধে রিপকর্ড বা ইমিডাক্লোপিড গ্রুপের কীটনাশক ইমিটাফ

এবামেক্টিন গ্রুপের কীটনাশক ভারটিমেক ব্যবহার করলে ভাল ফলাফল পাওয়া যায় ।


✅ ব্যবহারবিধিঃ ১ লিটার পানিতে ইমিটাফ. ০.৫ মিলি ও ভারটিমেক ১ মিলি মিশিয়ে স্প্রে করে দিবেন পাতার উপর,নিচ সব গাছে বিকালে ।


👉 ৭ দিন পর আরেকবার স্প্রে করে দিবেন।

এর পর প্রতি ১৫ দিন পর পর নিয়মিত স্প্রে করে দিবেন। তাইলে আর কোকড়াবে না।


✅ তবে খেয়াল রাখতে হবে যে যদি গাছের গোড়ায় পানি থাকে অথবা গোঁড়া যদি ভিজা থাকে তাহলে অবশ্যই গাছের গোড়া খোঁচা অথবা আলগা করে দিয়ে মাটির রোদে শুকায় নিতে হবে। টপের ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি অবলম্বন করলে আশা করি ভালো ফলন পাবেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে এই অবস্থায় গাছে বেশি নাইট্রোজেন ব্যবহার করা যাবে না তাহলে গাছের ফুল এবং ফল দুইটাই ঝরে যাবে।



কীভাবে বুঝবেন শরীরে টক্সিন আছে!,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 😲 কীভাবে বুঝবেন শরীরে টক্সিন আছে! 🦠


🫵 আসুন জেনে নিই:


১) কোষ্ঠকাঠিন্য

২) ওজন বেড়ে যাওয়া

৩) একটুতেই ক্লান্ত লাগা

৪) চর্ম রোগ

৫) মাথা ব্যথা

৬) মুড সুইং

৭) পেশিতে ব্যথা

৮) শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া

৯) প্রচুর ঘামা

১০) অনিদ্রা

১১) নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ

১২) হজমে সমস্যা

.

🦠 নীরব ঘাতক টক্সিন 🦠

.

টক্সিন হচ্ছে এক ধরণের জৈব বিষ যা দীর্ঘ সময় নিয়ে শরীরে প্রবেশ করে অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অর্গানগুলোকে আক্রান্ত করে ফেলে। শরীর থেকে টক্সিন বের হতে না পারলে তা আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষকে আক্রমণ করে বসে যা পরবর্তীতে বিভিন্ন জটিল রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

.

🧑‍ ⚕️ শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য এইসব টক্সিন শরীর থেকে দূর করা খুবই প্রয়োজন। অর্থাৎ, শরীরকে ডিটক্স (Detox) করা প্রয়োজন। তাই সহজ উপায়ে শরীর থেকে টক্সিন বের করার জন্য আমরা আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি ডিটক্স ফুট প্যাড। ডিটক্স ফুট প্যাড, ডিটক্সিফিকেশন ফুট প্যাচ নামেও পরিচিত, যা সাধারণত পায়ের তলায় ব্যবহার করা হয়।

.

✨ আমাদের ডিটক্স ফুট প্যাচ গুলো আমরা সরাসরি চায়না থেকে আমদানি করে থাকি। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমাদের ডিটক্স ফুট প্যাচ গুলো উৎপাদন করা হয়ে থাকে বিধায় বাজারের অন্যান্য ডিটক্স ফুট প্যাচ থেকে আমাদের ডিটক্স ফুট প্যাচ গুলো স্বাস্থ্যকর ও মানসম্মত। আমাদের ডিটক্স ফুট প্যাচ গুলো আঠা দিয়ে সংযুক্ত থাকায় আপনি ঝামেলাহীনভাবে খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন।

.

🌮 🍕 🍺 🏭 প্রতিদিনই খাদ্য, পানীয় ও দূষণ নানা উপায়ে আমাদের শরীরে প্রবেশ করছে টক্সিন। এটি শরীরের পক্ষে খুবই ক্ষতিকারক। ☠️

.

🦠 টক্সিনের মাত্রা বেড়ে গেলে স্বাস্থ্যহানি হতে পারে। 🛌 💊 🩺

.

🛍️ বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুনঃ 👇


https://etcshopbd.com/


"Detox Foot Patch ব্যবহার করে শরীর থেকে Toxin দূর করুন, শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকুন।"


ফেইসবুক থেকে নেওয়া গল্প

 ছোট খাটো একটা চাকরি করি। গত মাসে বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি, প্রায় ৬ লক্ষ টাকা খরচ করে। আজ ইফতারি দিয়েছি জামাইয়ের বাড়িতে, প্রায় ১৫,০০০৳ টাকা খরচ করে। একটু আগে মেয়ের ফোন।


- বাবা, কেমন আছেন?


- হ্যাঁ, মা ভালো। তুই ভালো আছিস ত?


- আছি বাবা ভালো।


- এইভাবে বলছিস কেনো? তোর শ্বশুররা খুশি হয়েছে তো?


- ওরা কিছু বলেনি। ফুফু (জামাইয়ের ফুফু) বলেছে ইফতারি একটু কম হয়েছে।


- (তখন আমার চোখের পানি টলটল করছিল) আচ্ছা মা বলিস, পরের বার থেকে আরো বাড়িয়ে দিবো।


- বাবা শুনো। তুমি আমাদের বাড়িতে ঈদে কাপড় দিবে না?


- হ্যাঁ মা, দিবো। কেনো?


- তুমি কাপড় দিওনা। খালা (জামাইয়ের খালা) বলেছে, কাপড় দিলে সবার পছন্দ হবে না। কাপড় না দিয়ে টাকা দিয়ে দিতে। ৩০,০০০৳ টাকা দিলে, সবার নাকি হয়ে যাবে।


- আচ্ছা মা। তুই চিন্তা করিস না। আমি এখনও বেঁচে আছি।


(আমার বুঝতে দেরী হলো না, এতক্ষণে মেয়ের চোখের অনেক জল গড়িয়ে পড়েছে।)


- আচ্ছা বাবা, এখন রাখি।


- আচ্ছা মা, ভালো থাকিস।


রাতে ছোট ছেলে নামাজ থেকে আসলো।


- বাবা, তুমি আছো?


- হ্যাঁ, আছি। কিছু বলবি?


হ্যাঁ, ঈদের পর ২য় সপ্তাহে সেমিস্টার ফাইনাল। বেতন, ফর্ম ফিলাপ ও অন্যান্য সহ ২৫ হাজার টাকা লাগবে। আমার টিউশনির কিছু টাকা আছে। আপনি ২০ হাজার দিলে হবে।


- আচ্ছা দেখি। খেয়ে ঘুমিয়ে পর।


না বাবা, লেট হলে এক্সাম দিতে পারবো না।


নতুন জামাই! বাড়িতে মৌসুমী ফলমূল দিতে হবে। তাতে ১০-১৫ হাজার টাকা দরকার। ঈদের পরে আবার কোরবানি, মেয়ের বাড়িতে গরু দিতে হবে। গরুর যে দাম, কমপক্ষে ৫০,০০০৳ টাকা তো লাগবে। আবার নিজের জন্য ও একটা লাগবে।


এইখানে শেষ নয়, আরো রয়েছে মেয়ের বাড়িতে দেওয়ার বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন আয়োজন।


এই সব চিন্তা করতে করতে না খেয়ে শুয়ে পড়েছি। নাবিলার মা অনেক কিছু জিজ্ঞেস করেছিলো, কিছু না বলে শুয়ে পড়েছি। 


মাথায় একটা বিষয় কাজ করছে। টাকা! টাকা! আর মেয়ের সুখ।


এইভাবে রাত ১২ টা। হঠাৎ করেই বুকের ব্যথাটা বেড়ে গেছে। ধীরে ধীরে আমি দুর্বল হয়ে যাচ্ছি। আমার হাত-পা গুলো অকেজো হয়ে আসছে। আমার সারা জীবনের অনেক স্বপ্ন অসমাপ্ত রয়ে গেছে। সেই চিন্তা গুলো এখনো আমার পিছু ছাড়ছে না। 


পরদিন সকাল বেলা। সবাই কান্নাকাটি করছে। আমার ছোট মেয়ে আর আমার প্রিয় স্ত্রী সব চেয়ে বেশি কাঁদছে। শুনলাম বড় মেয়ে ইতি এরই মধ্যে এসে গেছে। সবার দিকে চেয়ে থাকলাম। অনেক কিছু বলতে চাচ্ছি। কিন্তু কিছুই বলতে পারতেছিনা। ঠিক ২ মিনিট পর আর কিছু জানি না।


এইভাবে হারিয়ে যাচ্ছে অনেক বাবা। আর বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শত শত ছেলে-মেয়ে। হয়তো অনেকে এখন ও জানে না, তাদের বাবার মৃত্যুর রহস্য।


এইভাবে প্রতিনিয়ত আমরা হারাচ্ছি আমাদের প্রিয় বাবাদের।


আমাদের এই কু-প্রচলন কি পরিবর্তন হবে না? হচ্ছে না কেনো? কেন হচ্ছে না?


শহরে কিছুটা পরিবর্তন হলেও গ্রামে ৯০% লোক এই কু-প্রচলন থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি। 


চলুন আমরা জেগে উঠি। ধ্বংস করি এই অপসংস্কৃতি।


- লিখা সংগৃহীত আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝার তৌফিক দান করুন আমিন



পঞ্চদশ শতকের পর্তুগীজ দুর্গ সাহেবগঞ্জ পর্তুগীজ সেনাপতি এন্টেনিও ডি সিলভা মেনজিস ১৫৪০-৪৬-এর মধ্যে এ দুর্গটি নির্মাণ করেন,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 পঞ্চদশ শতকের পর্তুগীজ দুর্গ সাহেবগঞ্জ পর্তুগীজ সেনাপতি এন্টেনিও ডি সিলভা মেনজিস ১৫৪০-৪৬-এর মধ্যে এ দুর্গটি নির্মাণ করেন। পর্তুগীজরা এ অঞ্চলে জলদস্যুতা করতো। শের শাহের আমলে পাঠান সেনাপতি খিজির খানের সাথে এখানে পর্তুগীজদের যুদ্ধ হয়েছিলো। খিজির খান জলদস্যুদের বিতাড়িত করেছিলেন। তাদেরই (পর্তুগীজ) বংশধরদের বংশধর এখনও এখানে বসবাস করছে।


চাঁদপুর জেলা সদর থেকে ডাকাতিয়া নদী পার হয়ে চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক ধরে ষোল কি. মি. দক্ষিণ-পূর্ব দিকে গেলেই ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদর। উপজেলার সর্ব দক্ষিণের ইউনিয়ন ১৬ নং রূপসা। এই রূপসা ইউনিয়নের একটি ঐতিহ্যবাহী জনপদের নাম সাহেবগঞ্জ। অন্যসব গ্রামের চেয়ে এই গ্রামের স্বকীয়তার পেছনে লুকিয়ে আছে এক ঐতিহাসিক বিশিষ্টতা। এখানে রয়েছে ধ্বংসপ্রাপ্ত এক পর্তুগীজ দুর্গ। এই দুর্গটি পাঁচ শতাধিক বছর পূর্বে স্থাপন করেছিলেন পর্তুগীজ এক দুর্ধর্ষ সেনানায়ক এন্টেনিও ডি সিলভা (মেনজিস)। ১৫৪০ থেকে ১৫৪৬ সালের মধ্যে সিলভা এটি নির্মাণ করেন। তখন সুবে বাংলা পাঠান সম্রাট শের শাহের শাসনাধীনে ছিলো। জনশ্রুতি আছে, পর্তুগীজদের দমনকালে শের শাহের সেনাপতি খিজির সম্রাটের আসল নাম অর্থাৎ ফরিদ এই নামানুসারেই এক নয়াবসতি স্থাপন করেন। এর নাম ফরিদগঞ্জ। তখন ফরিদগঞ্জের অবস্থান ছিলো সমুদ্র তীরবর্তী। পর্তুগীজ সেনা তথা লুটেরাদের তাড়া করতে করতে নৌ-বহর নিয়ে খিজির খান এখানে আসেন। খিজির খান চলে যাওয়ার পর বাংলার অপর পাঠান শাসক, মাহমুদ শাহের সেনাপতি হামজা খানের সহায়তায় পর্তুগীজরা সমুদ্রোপকূলীয় এলাকায় বাণিজ্য কুঠির আড়ালে কিছু সংখ্যক দুর্গ স্থাপন করে। সাহেবগঞ্জ তেমনি একটি দুর্গ। এই দুর্গটি স্থাপনের প্রায় তিনশ’ বছর পরে কিছুদিন নীলকুঠি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, তাই স্থানীয় জনগণ এটিকে সাহেবগঞ্জ নীলকুঠি হিসেবেই জানে। ইতিহাসের একটি অধ্যায় ঢাকা পড়ে যায় নীলকুঠির আবরণে। ঢাকা পড়ে যায় পর্তুগীজদের নির্মম অত্যাচার আর অসহায় বঙ্গবাসীর অনেক করুণ ইতিহাস।

পরবর্তী সময়ে কোনো পর্যটক বা ইতিহাসবিদ ভেবে দেখলেন না, নীলকুঠি এতো বৃহৎ আকারের হয় না। নীল কুঠিতে হাতীশালা থাকে না, থাকে না সুউচ্চ পর্যবেক্ষণ মিনার অথবা সৈনিকদের জন্যে গার্ড শেড বা সেনাচৌকি, থাকে না কোনো সুড়ঙ্গ পথ। সাহেবগঞ্জ দুর্গটি বিস্তৃত প্রায় দু’শ’ একর। এখানে আজ অবধি বিদ্যমান ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ পথ, একটি পঁয়তাল্লিশ ফুট উঁচু পর্যবেক্ষণ মিনার, পাহারাদারদের ব্যবহৃত চৌকি, বিভিন্ন পর্যায়ের সৈনিকদের আবাসের ভগ্নাংশ। ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ দুর্গ এলাকার ভেতরে অনেক বাড়িঘর উঠেছে। স্থানীয় জনসাধারণ এবং প্রত্নসম্পদ লুণ্ঠনকারী তস্কররা ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে এই প্রত্নসম্পদের বিভিন্ন স্থাপনার ইট।

দুর্গে রয়েছে একটি পর্যবেক্ষণ মিনার বা টাওয়ার। এই মিনারটি দুর্গের একমাত্র অক্ষত স্থাপনা। এটির অবস্থান দুর্গের দক্ষিণে এবং দুর্গের বর্ধিত অংশে একটি অনুচ্চ মাটির ঢিবির ওপর। এর বর্তমান উচ্চতা ১৫.৬০ মি. এবং পাদদেশের পরিধি ১০.০৩ মি.। চারটি ধাপে ঊর্ধ্বগামী এ মিনারের প্রতিটি অংশেই এর পরিধি হ্রাস পেয়েছে। এর ছাদ একটি গম্বুজ দিয়ে ঢাকা। প্রতিটি ধাপের পশ্চিম ও পূর্বদিকে খিলান দরজা রয়েছে। মিনারের ভেতরের অংশে চুনা-সুড়কির প্রলেপ রয়েছে। মিনারটির ভেতর অংশে এক সময় একটি শিলালিপি ছিলো। এখন এর অস্তিত্ব না থাকলেও নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া শিলালিপিটির অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব। মিনারটি সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তিনটি বক্তব্য প্রচলিত আছে, প্রথমত, এটি একটি চেরাগদানী>বাতিঘর ছিলো, দ্বিতীয়ত, পর্তুগীজ সেনারা দূরবর্তী জলসীমার স্বপক্ষীয় নৌ-যান অথবা শত্রু নৌ-যান দূরবীনের সাহায্যে পর্যবেক্ষণ করতো, তৃতীয় মত, এটি দুর্গের স্বাভাবিক স্থাপনার একটি অংশ, শত্রুসেনার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করাই এর উদ্দেশ্য ছিলো। এটি সুড়ঙ্গ পথে দুর্গের অন্য অংশের সাথে সম্পৃক্ত ছিলো। Collected






বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার----ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার----


১৯৪৭ সাল | দেশ স্বাধীন হল | প্রযুক্তিবিদ্যার অধ্যয়নে তখন পুরুষদের একচ্ছত্র আধিপত্য | পশ্চিমবাংলার বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ তখন প্রযুক্তিবিদ্যার অধ্যয়নের অন্যতম পীঠস্থান | ১৯৪৭ সালেই পশ্চিমবাংলার তৎকালীন নিকুঞ্জ বিহারী মাইতি বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের দরজা খুলে দিলেন মহিলাদের জন্যে | প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন দুইজন ছাত্রী | ভর্তি হলেন দুজনেই | কিন্তু একজন দ্বিতীয় বর্ষেই কলেজ ছাড়লেন | রইলেন একজন ছাত্রী | ১৯৫১ সালে তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করলেন | তিনিই ছিলেন বাংলার প্রথম ইঞ্জিনিয়ার | গোটা ব্যাচে তিনিই ছিলেন একমাত্র ছাত্রী | বাকি সকলেই ছিলেন ছাত্র |


তিনি ইলা মজুমদার | জন্ম ১৯৩০ সালের ২৪শে জুলাই বর্তমান বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার মাদারীপুর গ্রামে | পিতা যতীন্দ্র কুমার মজুমদার ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট | মা ছিলেন গৃহবধূ | যতীন্দ্রবাবু ছোট থেকেই মেয়েকে মুক্ত পরিবেশে বড় করে তোলেন | ১২ বছর বয়সেই ইলা সাইকেল চালাতে পারত | মাত্র ১৬ বছর বয়সে শিখেছিলেন জিপ চালানো | খুলনায় তিনি নবম শ্রেণী অবধি পড়াশোনা করেন | এরপর ১৯৪৫ সালে ইলাদের পুরো পরিবার কলকাতায় চলে আসে | সেই বছর ইলা স্কুলে ভর্তি হতে পারেনি | ভর্তি হন পরের বছর | দ্বিতীয় বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন | এরপর তিনি ভর্তি হন আশুতোষ কলেজে | সেখান থেকে প্রথম বিভাগে আইএসসি তে উত্তীর্ণ হন |


এরই মধ্যে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ইলা ভর্তি হন বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে | প্রচন্ড শারীরিক পরিশ্রম দরকার বলে অধ্যক্ষ তাকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে নিষেধ করেন | শেষে ইলা ভর্তি হন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে | প্রসঙ্গত উল্লেখ্য তিনি ডাক্তারি পড়ার সুযোগও পেয়েছিলেন কিন্তু যাননি | তিনিই ছিলেন ওই কলেজের প্রথম মহিলা ছাত্রী তথা বাংলার প্রথম ইঞ্জিনিয়ার | প্রথম প্রথম মানিয়ে নিতে অসুবিধা হলেও ধীরে ধীরে ছাত্রদের সাথে বন্ধুত্ব হয়ে যায় তার | তখন ছাত্রীদের জন্যে আলাদা হোস্টেল ছিল না তাই ইলা মজুমদার থাকতেন লাইব্রেরির বাম প্রান্তের একটি ঘরে | সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান পুলিন বিহারী ঘোষ এই সময় তার পাশে দাঁড়ান | কলেজে তিনিই ছিলেন ইলার অভিভাবক |


১৯৫১ সালে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক হলেন ইলা। তারপর ট্রেনিং করতে যান গ্লাসগো | ট্রেনিং শেষে ভারতে ফিরে এসে দেরাদুনের অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিতে কাজে যোগ দেন | তিনি ভারতের প্রথম মহিলা যিনি ভারী যন্ত্রাংশ তৈরীর কারখানায় কাজ করেছেন। সেই সময় ইলা থাকতেন স্টাফ কোয়ার্টারে | ওখানে ছয় মাস চাকরি করার পর দিল্লি পলিটেকনিক কলেজে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন | এরপর কলকাতার ইনস্টিটিউট অফ জুট টেকনোলজিতে লেকচারার ছিলেন তিনি। কলকাতার প্রথম মহিলা পলিটেকনিক কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। ইলা মজুমদার ছিলেন ওই কলেজের প্রথম প্রিন্সিপাল | তার কর্মকান্ডে মুগ্ধ হয়ে ১৯৮৫ তে জাতিসংঘের তরফ থেকে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা শহরে একটি মহিলা পলিটেকনিক কলেজ খোলার। সেই সময় পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে ছাড়তে রাজি ছিলেন না। পরে অবশ্য তিনি সাফল্যের সঙ্গেই কাজটি সম্পন্ন করেন।


ইলা মজুমদার ছিলেন ব্যতিক্রমী এক মহিলা। পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোয় এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম | গড়ে তুলেছেন ইতিহাস । শ্রদ্ধা জানাই 🙏


সংগৃহীত


নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---

 নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস --- পরীর খাটটি বাংলাদেশের জাদুঘরে দেখে থাকলেও ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না। নাটোরের মহারানী ভব...