এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

সোমবার, ১৮ মার্চ, ২০২৪

আজাইরা সাক্ষাৎ কার,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গকে আল আজাইরার এক হাম্বাদিক একবার প্রশ্ন করেছিল, ভাই, তুই এতো টাকা পয়সার মালিক হয়েও আম্রিকায় এতো এতো সুন্দরী মাইয়া থাকতে প্রিসিলা চ্যানের মতো খালাম্মা মার্কা এক চাইনিজ মাইয়্যা কেন বিয়ে করতে গেলি 🤔


মার্ক জাকারবার্গ: উত্তর তো তোর প্রশ্নের ভেতরেই আছে ভাই, তুই বললি না খালাম্মা মার্কা মাইয়া, ওর চেহারার সাথে আমার মার চেহারার খুব মিল, তাই দেখে বিয়ে করে ফেলছি, আবেগ কাজ করছে, বিবেক কাজ করে নাই 😊


হাম্বাদিক: দ্যাখ ভাই, ফাইজলামি করিস না, প্রিসিলা চ্যান মোটেও তোর মা,  মানে ক্যারেন আন্টির মতো না। সত্যি কথা বল ভাই, পিলিজ লাগে 🙏


মার্ক জাকারবার্গ: বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা কোন দেশে, চায়না তাই না? আমি মার্কিন পোলা, যদি মার্কিন মাইয়া বিয়া করতাম, তাহলে আমাদের দুইজনের একই দেশ থাকতো, আম্রিকা, কিন্তু চাইনিজ মাইয়া বিয়া করাতে আমার নিজের দেশ আম্রিকা, শশুর বাড়ি চায়না, তাহলে ভেবে দেখ, আমি কতো মানুষের আপন হয়ে গেলাম, আমার ব্যবসার স্কোপ কতো বেড়ে গেল, বিজনেস ভাই, সবই বিজনেস 😏


হাম্বাদিক: এগ্লা পুরান কথা, এতো প্যাচাইশ না, আসল কারণটা বল ভাই 😉


মার্ক জাকারবার্গ: তুই ভাই লোক ভালো না, খালি প্যাটের কথা বাইর করার চেষ্টা করিস, আচ্ছা, তাহলে আসল কারণ শোন, আম্রিকার বিবাহ বিচ্ছেদ আইন জানিস না তুই? এই দেশে বউ ছাড়তে গেলে, নিজের সম্পত্তির অর্ধেক দিয়ে দিতে হয়, বিল গেটস কাক্কুকে দিয়েই শুরু করি, তার বউ, মেলিন্ডা চাচিরে কতো ভালো মনে করতাম, বাসায় গেলেই আমারে হুইস্কি খাওয়াইতো, সে কীনা ২৭ বছর সংসার করার পর ৭৮ বিলিয়ন ডলার বাগানোর সুযোগ পেয়ে কাক্কুরে খেয়ে ছেড়ে দিলো!


আরেক ধনকুবের জেফ বেজোস কাক্কুর বউ ম্যাকেঞ্জি স্কট, ২৫ বছর সংসার করার পর বিবাহ বিচ্ছেদের সময় কাক্কুর কাছ থেকে ৩৬০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিলো, ইলন মাস্ক, তার দুই বউ জাস্টিন মাস্ক ও তালুলাহ রিলেকে তালাক দিতে গিয়েও মোটা অংকের টাকা হারাইছে, জাস্টিনকে তো এখনো প্রতি মাসে মাসোহারা দিয়ে যাইতে হইতেছে, মার্কিন আইন পুরুষ বান্ধব না, কষ্ট কইরা বেডা ছেলেরা আয় করবে আর তালাক দেয়ার সময় বউ ফাও অর্ধেক টাকা নিয়ে চলে গিয়ে আরেক বেডারে ধরবে, এরকম ঘটনা দুইটা না, বহু আছে, আমার আর প্রিসিলার যদি কখনো ছাড়াছাড়িও হয় তাহলে ও চাইনিজ হওয়াতে আম্রিকার আইনের প্যাচে ফেলে আমাকে ভাঙ্গিয়ে টাকা পয়সা নিয়ে যেতে পারবে না, কতো চালাক আমি তাই না, নাইলে কী আর এতো কম বয়সে এতো উন্নতি করতে পারি 😉😎


© হাসান ইমতি


বুড়িগঙ্গায় 'কালে খাঁ জমজম' ডুবে যাওয়ার পর লোকমুখে কুসংস্কার বেরিয়েছিল যে, 'বিবি মরিয়মে'র জন্য বুড়িগঙ্গা থেকে প্রায়ই গর্জন ভেসে আসতো। তারা বিশ্বাস করতেন, এ গর্জনের অর্থ হলো, কালে খাঁ তার সঙ্গিনী মরিয়মকে ডাকছে।,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 বুড়িগঙ্গায় 'কালে খাঁ জমজম' ডুবে যাওয়ার পর লোকমুখে কুসংস্কার বেরিয়েছিল যে, 'বিবি মরিয়মে'র জন্য বুড়িগঙ্গা থেকে প্রায়ই গর্জন ভেসে আসতো। তারা বিশ্বাস করতেন, এ গর্জনের অর্থ হলো, কালে খাঁ তার সঙ্গিনী মরিয়মকে ডাকছে।


হারিয়ে যাওয়া বিখ্যাত কালে খাঁ জমজম কামান

একসময় ঢাকার পর্যটকদের আকর্ষণ লালবাগ দূর্গ বা বড় কাটরা নয়, ছিল মোগল যুগের একটি কামান। ১৭৭৬ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একজন কনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে এসেছিলেন রবার্ট লিন্ডস। তিনি লিখেছিলেন, 'ঢাকায় গর্ব করার মতো তেমন কিছু নেই। লালবাগ দূর্গ, বড় কাটরা, তাঁতিবাজার আর টঙ্গীর পুল কিছুই তাকে আকৃষ্ট করেনি। শুধু একটি জিনিসই করেছে। তা হলো, ঢাকার একটি কামান।'


মুনতাসীর মামুনের রচনাবলি ২য় খন্ড বইয়ের 'ঢাকার হারিয়ে যাওয়া কামান' শিরোনামের একটি অধ্যায়ে পাওয়া যায় এই বর্ণনা।


কোথা থেকে এলো এই কামান


এত বিশাল ও ওজনে ভারি জিনিস জলপথে হাজার মাইল দূর থেকে আনা প্রায় অসম্ভব।


১৭ শতকের গোড়ার দিকে মোগল বাদশাহ সম্রাট জাহাঙ্গীর ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপন করলে, এখানে গড়ে ওঠে নানা প্রশাসনিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। সে সঙ্গে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে থাকে জলদস্যুদের উপদ্রবও। বিভিন্ন বই-পুস্তকে সেসময়কার জলদস্যুদের কথা উঠে এসেছে।


ঢাকার চারপাশ ঘিরে কয়েকটি নদী থাকায়, জলদস্যুরা সে পথ দিয়েই আসতো। বিশেষত মগ, পর্তুগিজ ও আরাকানি জলদস্যুদের উপদ্রব বেড়ে গিয়েছিল অনেক। তাই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করতে ঢাকায় বেশ কিছু কামান তৈরি করা হয়। এর মধ্যে দুটি কামান  ছিল সুবিখ্যাত। মোগল নির্মাণশৈলীতে, বিশালত্বে ও সৌন্দর্যে এগুলো ছিল বিশ্বমানের কামান।


কামান দুটির একটির নাম কালে খাঁ জমজম ও অপরটির নাম বিবি মরিয়ম। ধারণা করা হয়, কালে খাঁ নামক কোনো বীর এবং তার স্ত্রীর নামে এই নামকরণ করা হয়েছিল। তবে কেউ কেউ দাবি করেছে, মীর জুমলাই এই কামানদুটির নাম রেখেছেন।


ব্রিটিশ রাজকর্মচারী ও পর্যটকেরা কালে খাঁ-কে দেখেই সবচেয়ে বেশি অবাক হতেন এবং এর বৃত্তান্ত লিখে রেখে যান। বিখ্যাত ভূগোলবিদ জেমস রেনেল তার স্মৃতিকথায় ঢাকার ঐ কামানের কথাই বিস্তারিতভাবে লিখে গেছেন। পরিমাপের দিক থেকে কালে খাঁ জমজমকে তিনি তুলনামূলক বেশি জমকালো এবং বিশাল হিসেবে আখ্যায়িত করে গেছেন।


নদী থেকে শোনা যেত গর্জন!


মীর জুমলা আসাম যুদ্ধে এই দুটি কামান ব্যবহার করেছিলেন। সম্রাট আওরঙ্গজেব ১৬৬০ সালে মীর জুমলাকে বাংলার সুবেদার নিয়োগ করেন। মীর জুমলা ১৬৬১ সালে আসাম অভিযানের সময় ৬৭৫টি ভারী কামান ব্যবহার করেন। তার মধ্যে বিবি মরিয়ম ছিল সর্ববৃহৎ। যুদ্ধশেষে বিজয়ী হয়ে তিনি বিবি মরিয়মকে বড় কাটরার দক্ষিণে সোয়ারীঘাটে স্থাপন করেন। মীর জুমলার সময় বড় কাটরা ছিল ঢাকার বৈশিষ্ট্যময় একমাত্র জাঁকালো অট্টালিকা!


সৈয়দ মোহাম্মদ তাইফুর তার 'গ্লিম্পস অব ঢাকা' বইয়ে বলেন, সুবাদার মীর জুমলা কামানটিকে আসাম অভিযানের সময় ব্যবহার করেছিলেন এবং তারপর তা আবার ফিরিয়ে এনেছিলেন ঢাকায়। হতে পারে, আসাম অভিযানের পর তিনি এটিকে কাটরার সামনে স্থাপন করেছিলেন যুদ্ধ জয়ের স্বারক বা দ্রষ্টব্য হিসেবে।

তখন থেকে কামানটি 'মীর জুমলার কামান' নামে পরিচিত লাভ করে। বুড়িগঙ্গার মোগরাই চরে রাখা হয় কালে খাঁ জমজমকে। পরবর্তীতে নদীভাঙ্গনে বুড়িগঙ্গায় বিসর্জিত হয় কালে খাঁ জমজম।


রবার্ট লিন্ডস ১৭৮০ সালের নদীভাঙ্গনে কালে খাঁ জমজমের ক্ষতির জন্য কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করে গেছেন। কিন্তু স্থানীয়দের কাছে তা এতটাই পূজনীয় ও আধ্যাত্মিক ছিল যে তারা মনে করতেন, স্বর্গ থেকে এটি এসেছিল, আবার স্বর্গেই তা ফিরে গেছে!


এমনকি তাদের এই কুসংস্কারের তীব্রতা বোঝা যায় নিচের ঘটনাটি পড়লে। মুনতাসীর মামুন লিখেছেন, বুড়িগঙ্গায় কালে খাঁ জমজম ডুবে যাওয়ার পর লোকমুখে কুসংস্কার বেরিয়েছিল যে, নদী থেকে বিবি মরিয়মের (পরবর্তীতে মীর জুমলা নামকরণ) জন্য বুড়িগঙ্গা থেকে প্রায়ই গর্জন ভেসে আসতো। তারা বিশ্বাস করতেন, এ গর্জনের অর্থ হলো, 'কালে খাঁ' তার সঙ্গিনী 'মরিয়ম'কে ডাকছে। এবং তারা হলফ করে বলতেন, যে ঐ গুরুগম্ভীর আওয়াজ তারা শুনেছেন!


১ম ছবি বিবি মরিয়ম কামান৷(গুলিস্তানের কামান)

২য় ছবি হারিয়ে যাওয়া বিখ্যাত কালে খাঁ জমজম কামান৷ 


পোস্ট সংগ্রহ : নেট থেকে৷




নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন জিবরাঈল (আ.)-কে বললেন, আপনি যতোবার আমার নিকট এসেছেন,  ততোবারই আপনার কপালে শোক ও  দুশ্চিন্তার ছাপ ছিলো? এর কারণ কি,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন জিবরাঈল (আ.)-কে বললেন,

আপনি যতোবার আমার নিকট এসেছেন, 

ততোবারই আপনার কপালে শোক ও 

দুশ্চিন্তার ছাপ ছিলো? এর কারণ কি?


জিবরাঈল (আ.) নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি 

ওয়া সাল্লাম-এর প্রশ্নের জবাবে বললেন, 

"জাহান্নাম সৃষ্টির পর থেকে 

আমার ঠোঁটে, চোখে ও মুখে কখনো হাসি ফুটেনি।"


জাহান্নাম কেমন হবে?


১. জাহান্নামের গভীরতা এমন যে,

এর মুখ থেকে একটি পাথর ফেলে দিলে 

জাহান্নামের তলদেশে পৌঁছাতে ৭০ বছর সময় লাগে। বিচারের দিন জাহান্নামকে ৭০ হাজার শিকল দ্বারা টেনে আনা হবে, যার প্রত্যেক শিকল ৭০ হাজার ফেরেশতা বহন করবেন।


২. জাহান্নামে চাঁদ এবং সূর্যকে নিক্ষেপ করা হবে আর জাহান্নামে তা অবলীলায় হারিয়ে যাবে।


৩. জাহান্নামবাসীদের শরীরের চামড়া 

১২৬ ফুট পুরো করে দেওয়া হবে, যাতে করে আযাব অত্যন্ত ভয়াবহ কঠিন হয়। তাদের শরীরে আরও থাকবে তিল, যার এক একটি উহুদ পাহাড়ের সমান।


৪. প্রতিদিন জাহান্নামের আযাব পূর্বের দিন থেকে আরও তীব্র আর ভয়াবহ কঠিন করা হবে।


৫. জাহান্নামের খাদ্য হবে কাঁটাযুক্ত গাছ। আর পানীয় হবে ফুটন্ত পানি, পুঁজ ও রক্তের মিশ্রণ এবং উত্তপ্ত তেল। এরপরও জাহান্নামবাসীর পিপাসা এতো বেশি হবে যে, তারা এই পানীয় পান করতে থাকবে।


৬. জাহান্নামের এই ভয়াবহ কঠিন কল্পনাতীত আযাব অনন্তকাল ধরে চলতে থাকবে।

জাহান্নামবাসীরা এক পর্যায়ে জাহান্নামের দেয়াল টপকিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে, তাদেরকে লোহার হাঁতুড়ি দিয়ে আঘাত করে, পুনরায় জাহান্নামে ফেলে দেওয়া হবে।


এই জন্যই বলছি, আমার ভাইবোনরা আসুন, আমরা দীনের পথে চলি, ইসলাম মেনে চলি, আমাদের কখন, কি হবে আমরা কিন্তু কেউ জানি না?কেউ আমার সাথে যাবে না, আমার হিসাব আমাকেই দিতে হবে! দুনিয়াটা একটা ধোঁকা ও লালসাময়।


তাই আসুন, আমরা পবিত্র কুরআন- হাদিসের  আদেশ-নিষেধ ও শরিয়াহ মোতাবেক চলে, ভয়াবহ কঠিন জাহান্নাম থেকে বাঁচি, আমাদের পরিবারকে বাঁচাই ও সারাবিশ্বের মুসলমানদেরকে বাঁচাই।


হে আল্লাহ! আপনি আমাকে, আমাদের পরিবারকে ও সারাবিশ্বের সকল মুসলমানকে, ভয়াবহ কঠিন জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুণ। আমিন।



আল-বিরুনি: ভুলে যাওয়া প্রতিভা যিনি পৃথিবীকে পরিমাপ করেছিলেন,,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 আল-বিরুনি: ভুলে যাওয়া প্রতিভা যিনি পৃথিবীকে পরিমাপ করেছিলেন

আল-বিরুনি (প্রায় 1,000 বছর আগে) আজকের স্বীকৃত মানের তুলনায় 99.7% নির্ভুলতার সাথে পৃথিবীর🌍 পরিধি পরিমাপ📏📐 করেছিলেন।

আল-বিরুনি ছিলেন একজন পারস্য পলিম্যাথ যিনি ৯৭৩ থেকে ১০৪৮ সাল পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞান, গণিত, ভূগোল, পদার্থবিজ্ঞান এবং ইতিহাস সহ অনেক ক্ষেত্রের পণ্ডিত ছিলেন।

১০৩০ সালে আল-বিরুনি পৃথিবীর পরিধি পরিমাপের জন্য ত্রিকোণমিতি ব্যবহার করেন। তার অনুমান ছিল 6339.6 কিলোমিটার, যা 6378.1 কিলোমিটারের আধুনিক স্বীকৃত মূল্যের 0.3% এর মধ্যে।

আল-বিরুনির পদ্ধতিটি এই নীতির উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল যে পৃথিবীর বক্রতার কারণে দিগন্তটি সমুদ্রপৃষ্ঠের চেয়ে পাহাড়ের চূড়া থেকে নীচে প্রদর্শিত হয়। তিনি দিগন্ত এবং একটি প্লাম্ব লাইনের মধ্যবর্তী কোণটি দুটি ভিন্ন স্থানে পরিমাপ করেছিলেন এবং এই তথ্যটি পৃথিবীর ব্যাসার্ধ গণনা করতে ব্যবহার করেছিলেন।

আল-বিরুনির পৃথিবীর পরিধি পরিমাপ ছিল তার সময়ের অন্যতম সঠিক পরিমাপ। সপ্তদশ শতাব্দীর আগ পর্যন্ত এটি অতিক্রম করা যায়নি, যখন ফরাসি গণিতবিদ এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানী জিন পিকার্ড পৃথিবীর পরিধি পরিমাপের জন্য আরও সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলেন।



গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন ও দীর্ঘতম সড়ক পথ। অন্তত ২৫০০ বছর ধরে  এটি

 আপনি জানেন কি? 


গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন ও দীর্ঘতম সড়ক পথ। অন্তত ২৫০০ বছর ধরে  এটি মধ্য এশিয়াকে ভারতীয় উপমহাদেশের সাথে সংযুক্ত করেছে। এটি বাংলাদেশের মায়ানমার সীমান্তে টেকনাফ হতে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও ঢাকা, কলকাতা, কানপুর, দিল্লি, ভারতের অমৃতসর হয়ে পশ্চিমে পাকিস্তানের লাহোর, গুজরাট, রাওয়ালপিন্ডি এবং পেশোয়ার কাবুল, আফগানিস্তান পর্যন্ত পৌছায়। এর প্রাক্তন নামের মধ্যে ছিল উত্তরপথ, শাহ রাহে আজ়ম, সড়কে আজ়ম, বাদশাহি সড়ক। সুর ​​সাম্রাজ্যের মধ্যযুগীয় শাসক শের শাহ সুরি ১৬ শতকে চন্দ্রগুপ্তের রয়্যাল রোড মেরামত করছিলেন। সোনারগাঁও এবং রোহতাসের পুরানো রুটটি আবার নতুন করে তৈরি করা হয় এবং একটি সরাই তৈরি করা হয়। জাহাঙ্গীর তার শাসনামলে ফরমান জারি করেন যে সমস্ত সরাই পোড়া ইট ও পাথর দিয়ে তৈরি করা হবে। লাহোর এবং আগ্রার মধ্যবর্তী এলাকায় গাছ লাগানো হয় এবং সেতু নির্মাণ করা হয়। রুটটিকে সুরি দ্বারা "সদক-ই-আজম" এবং মুঘলদের দ্বারা "বাদশাহী সড়ক" হিসাবে উল্লেখ করা হত।


১৮৩০-এর দশকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক উদ্দেশ্যে ধাতব রাস্তা নির্মাণের একটি কার্যক্রম শুরু করে। কলকাতা থেকে দিল্লি হয়ে আফগানিস্তানের কাবুল পর্যন্ত রাস্তাটি পুনর্নির্মিত হয়েছিল


গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডের একটি অংশ চান্দিনা পালকি সিনেমা রোড  চান্দিনা বাজার হয়ে কাঠের পুল গিয়ে ঢাকা-চট্রগ্রাম হাইওয়ে সংযুক্ত হয়ে কুমিল্লা শহর দিয়ে চট্টগ্রাম, টেকনাফ হয়ে মিয়ানমারে মিলিত হয়েছে।।




বিদ্যুৎ ১০ ডব্লিউপি,,,,,


 বিদ্যুৎ ১০ ডব্লিউপি


উপাদানঃ বিদ্যুৎ ১০ ডব্লিউপি-এর প্রতি কেজিতে ১০০ গ্রাম ল্যামডা-সাইহ্যালোথ্রিন আছে। 

পরিচিতিঃ বিদ্যুৎ ১০ ডব্লিউপি স্পর্শক ও পাকস্থলী ক্রিয়াসম্পন্ন পাইরিথ্রয়েড জাতীয় কীটনাশক। এটি সহজে ব্যবহারযোগ্য ও কারিগরীভাবে উন্নত যা ঘরের ভিতরে এবং বাইরের ড্রেন, নালা ও গর্তে বসবাসকারী ক্ষতিকর বিভিন্ন কীটপতঙ্গ দমনে কার্যকর।



কার্যকারিতাঃ 

বিদ্যুৎ ১০ ডব্লিউপি স্পর্শক ও পাকস্থলী ক্রিয়াসম্পন্ন হওয়ায় স্প্রে করে ক্ষতিকর পোকার গায়ে লাগলে সাথে সাথে এবং পরবর্তিতে পোকার পেটে গেলে পোকা মারা যায়।

বিদ্যুৎ ১০ ডব্লিউপি সকল প্রকার মশা ধ্বংসে কার্যকর। ফলে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, চিকনগুনিয়া প্রভৃতি রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

বিদ্যুৎ ১০ ডব্লিউপি সফলভাবে মাছি দমন করে, ফলে মাছি বাহিত রোগজীবাণুসমূহ হতে মুক্ত থাকা যায়।

বিদ্যুৎ ১০ ডব্লিউপি ঘরের তেলাপোকা, ছারপোকা ও পিঁপড়ার উপদ্রব দমনেও সমানভাবে কার্যকরী।


ব্যবহারবিধিঃ ৮ লিটার পানিতে ৬২.৫ গ্রাম

বিদ্যুৎ ১০ ডব্লিউপি ছিটিয়ে ব্যবহার না করে অবশ্যই স্প্রে করতে হবে।

বিদ্যুৎ ১০ ডব্লিউপি কীটনাশকটি অনুমোদিত মাত্রায় পানি নিয়ে কাঠি বা অন্য কিছু দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে বাড়ির ভেতরের দেয়াল, আসবাবপত্রের পেছনে ও মেঝেতে স্প্রে করতে হবে।


সকাল ০৭ টার সংবাদ  তারিখ : ১৮-০৩-২০২৪ ।  

 সকাল ০৭ টার সংবাদ 

তারিখ : ১৮-০৩-২০২৪ ।

 

আজকের শিরোনাম:


বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন - জাতির পিতার জন্মবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুর প্রতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন।


 শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি শেখ হাসিনার আহ্বান।


জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি’র শুভেচ্ছাদূত হিসেবে পাঁচ দিনের সফরে আজ ঢাকা আসছেন সুইডেনের ক্রাউন প্রিন্সেস ভিক্টোরিয়া। 


কুমিল্লায় বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন। 


রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভ্লাদিমির পুতিনের রেকর্ড ব্যবধানে নিরুঙ্কুশ বিজয়।


আজ চট্টগ্রামে সিরিজ নির্ধারণী শেষ ওডিআই-তে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও শ্রীলংকা।

পঞ্চানন মণ্ডল ।। বিজ্ঞানকথা ।।,,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 সে এক সময় ছিল যখন মানুষের  হাতে হাতে দামী ক্যামেরা লাগানো স্মার্টফোন ছিল না বা হাতে ডিজিটাল DSLR ছিল না।সত্তর,আশি বা নব্বইয়ের দশকে ভারতবর্ষে পরিবারের সবাই মিলে দল বেঁধে স্টুডিওতে ছবি তুলতে যাচ্ছে এ দৃশ্য  হামেশাই চোখে পড়ত। যাদের অর্থ প্রতিপত্তি ছিল তারা ক্যামেরাম্যানকে বাড়িতে ডেকে ফ্যামিলি ফটো তুলত। এখন ডিজিটাল ক্যামেরা, স্মার্টফোন  সহজলভ্য হয়ে যাওয়ায় সে দৃশ্য আর চোখে পড়ে না।উল্টে পুজো পার্বনে উৎসবে অনুষ্ঠানে স্মার্টফোন আর ক্যামেরার মুহুর্মুহু ফ্লাসের আলো চোখে লাগে।  যার খুশি যখন খুশি  ইচ্ছে হলেই ক্লিক ক্লিকে সেই মূহুর্ত ক্যামেরা বন্দি। 


কিন্তু যদি আমরা ফ্ল্যাসব্যাকে একশ বছরের বেশি পিছিয়ে যাই ,তখন বিশ্বের চিত্রটা সম্পূর্ণ বিপরীত। তখন সবেমাত্র আবিষ্কার হয়েছে ছবি তোলার ফিল্ম। আর নিজের বা পরিবারের জীবনের অমূল্য মূহুর্ত বা স্মৃতি  বন্দি করতে হতো যথেষ্ট মূল্য দিয়ে।ক্যামেরায় ছবি তোলা ছিল এক আভিজাত্যের ব্যাপার। অনেকের কাছে তা স্বপ্ন। 


সেটা ১৮৮৮ সাল। এক  মার্কিন উদ্ভাবক জর্জ ইস্টম্যান যখন প্রথম বহনযোগ্য রোল ফিল্ম দেওয়া  ‘কোডাক’ ক্যামেরা বাজারে আনলেন, তখন তার দাম ছিল ২৫ ডলার। এতে প্রায় ১০০ ছবি তোলার মতো ফিল্ম থাকত।তার বিজ্ঞাপন ছিল  You press the button, we do the rest" ।১৮৮৯ সালে তিনি এই ক্যামেরার জন্য film stock নিয়ে এলেন আর ১৮৯৬ সালে আন্তর্জাতিক ভাবে এই film stock সরবরাহের ব্যবসা শুরু করলেন। ইস্টম্যানের এই কোডাক ক্যামেরা খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। তবে বহনযোগ্য হলেও বেশ বড় ট্রাইপডের ওপর বসাতে হত ক্যামেরাটিকে। আর ফিল্ম শেষ হলে ছবি বানাতে ক্যামেরাসমেত পুরো সেটটিকেই পাঠাতে হত কোডাকের ল্যাবরেটরিতে। ফলে ছবি তোলাটা যেমন পরিণত হয়েছিল ধনীদের শখে, তেমনি সাধারণ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এটি ছিল অনুপযুক্ত।তাই ইস্টম্যান এই ক্যামেরার উন্নতিতে মনোনিবেশ করলেন। 


১৯০০ সালে ক্যামেরা শিল্পে যুগান্তকারী এক বিপ্লব ঘটিয়ে ফেললেন জর্জ ইস্টম্যান। ছোটখাটো আকারের  সত্যিকারের বহনযোগ্য এক ক্যামেরাই তৈরি করে ফেললেন তিনি। এর নাম দেওয়া হল ‘ব্রাউনি’। কার্ডবোর্ড দিয়ে তৈরি সেই ক্যামেরাটিই প্রথম সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের ছবি তোলার স্বপ্নকে সত্যি করেছিল । ফিল্মসহ ক্যামেরাটির দাম ছিল মাত্র এক ডলার! আর ফিল্ম থেকে ছবি বানাতে খরচ হত আরও দুই ডলার।


রয়্যাল ফটোগ্রাফিক সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ড. মাইকেল পিচার্ডের মতে এই ক্যামেরাটিই বিশ্বব্যাপী সকল মানুষের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে সহায়তা করেছিল। ‘এর দাম ছিল মাত্র এক 8ডলার। অর্থাৎ নিজের জীবনের স্মরণীয় মুহূর্তগুলোকে অক্ষয় করে রাখতে খরচ ছিল তুলনামূলক অনেক কম। ক্যামেরাটি চালাতে কোন বিশেষ প্রশিক্ষণেরও প্রয়োজন হত না। একটি শিশুও এটি চালাতে পারত। এই স্বল্পমূল্য ও সহজ ব্যবহার পদ্ধতির  কারণেই ব্রাউনি ক্যামেরা মানুষের মাঝে বেশি জনপ্রিয় হয়েছিল’।


কালের বিবর্তনে আজ দুষ্প্রাপ্য হয়ে গেছে ব্রাউনি ক্যামেরা । যদিও বিশ্বের কোথাও কোথাও এখনও ব্যবহার হয় এই ক্যামেরা ।আর এই ক্যামেরার এন্টিক মূল্যো নেহাত কম নয়।  

মানুষের জীবনের নানা মুহুর্ত ও স্মৃতি বন্দি করার যাদুকরের আজ প্রয়াণ দিবস। ১৯৩২ সালের ১৪ মার্চ তাঁর মৃত্যু হয়

জর্জ ইস্টমানের জন্ম ১৮৫৪ সালের ১২  জুলাই নিউইয়র্কে। 

আজ ১৪ মার্চ দিনটি পৃথিবী বিখ্যাত কয়েকজন  প্রতিভাবান বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকের সাথে সম্পর্কিত।তাদের মধ্যে অবশ্যই উল্লেখ করতে হয় আজ আলবার্ট আইনস্টাইন এর জন্মদিন,  স্টিভেন হকিং ও জর্জ ইস্টম্যান এর মৃত্যুদিন।  

এদের সবাইকে অসীম শ্রদ্ধা জানাই।

✍পঞ্চানন মণ্ডল ।। বিজ্ঞানকথা ।।


মুর্শিদাবাদ – নবাবী আমলের বাংলার রাজধানী’ – রানা চক্রবর্তী,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ‘মুর্শিদাবাদ – নবাবী আমলের বাংলার রাজধানী’

– রানা চক্রবর্তী

একদা অবিভক্ত বঙ্গের অর্থাৎ বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার রাজধানী ছিল মুর্শিদাবাদ – খৃষ্টীয় অষ্টাদশ শতকের গুরুত্বপূর্ণ এক ঐতিহাসিক পীঠস্থান। যেখানে পাশাপাশি দেখা গিয়েছিল – জ্বলন্ত দেশপ্রেম ও ঘৃণ্য বিশ্বাসঘাতকতা। নবাব আলীবর্দী, সিরাজদ্দৌলা, মীরজাফর, মীরকাশেমের স্মৃতি বিজড়িত সেই মুর্শিদাবাদ – যে বাংলার ইতিহাসের বহু উত্থান পতনের নীরব সাক্ষী। নবাবী আমলের রাজধানী মুর্শিদাবাদের আড়ম্বর ও জাঁকজমকের কথা ইতিহাসে লেখা আছে। আয়তনে, জনসংখ্যায় আর ঐশ্বর্য্যে সেই মুর্শিদাবাদ ছিল লণ্ডনের চেয়েও বড়। পলাশীর যুদ্ধের পরে স্বয়ং ‘লর্ড ক্লাইভ’ লিখেছিলেন –

“The city of Murshidabad is as extensive, populous and rich as the city of London with this difference that there are individuals in the first possessing infinitely greater property than in the last city.”

খৃষ্টীয় আঠারো শতকের বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদের এলাকা ছিল ভাগীরথীর পশ্চিম তীরে খোসবাগ থেকে বড়নগর, আর পূর্ব তীরে অবস্থিত মতিঝিল থেকে মহিমাপুর পর্যন্ত। এই বিশাল নগরী জুড়ে ছিল অসংখ্য প্রাসাদ, অট্টালিকা ও রমণীয় উদ্যান। কুলুরীতে মুর্শিদকুলীর প্রাসাদ, চকবাজারে বিশাল দরবারগৃহ – ‘চেহেল সেতুন’, আলীবর্দীর প্রাসাদ, সিরাজের মনসুরগঞ্জ প্যালেস (হীরাঝিল প্যালেস), ঘসেটি বেগমের মতিঝিল প্রাসাদ – যেটার নাম ছিল ‘সিংহদালান’, মহিমাপুরে জগৎ শেঠের ইন্দ্রপুরী তুল্য প্রাসাদ ছাড়াও ছিল আমির-ওমরাহদের সুরম্য অট্টালিকা। হীরাঝিলের এক মাইল উত্তরে ভাগীরথীর পশ্চিম তীরেই ছিল মোরাদাবাদ প্যালেস, যেখানে ব্যবসায়ী ইংরেজরা এসে উঠতেন। রেনেলের মানচিত্রেও মোরাদাবাদ প্যালেসের উল্লেখ পাওয়া যায়, সেখানেই লর্ড ক্লাইভ, ওয়ারেন হেস্টিংস, ভ্যান্সিষ্টার্ট প্রমুখরা এসে উঠেছিলেন। এছাড়াও ছিল লালবাগ প্যালেস, যেখানে ১৭০৭ সাল থেকে ১৭১২ সাল পর্যন্ত, বাদশাহ হওয়ার আগে এসে বাস করেছিলেন ফারুকশিয়ার। বড়নগরে ছিল রাণী ভবানীর প্রাসাদ, হীরাঝিলের দক্ষিণ দিকে ছিল রায়দুর্লভের প্রাসাদোপম অট্টালিকা, ডাহাপাড়া আর ভট্টবাটিতে ছিল বঙ্গাধিকারীদের রাজবাড়ী। পিলখানায় ছিল নবাব নাজিমদের হাতিশালা। হুমায়ুন মঞ্জিলে ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কোর্ট হাউস বা বিচারালয়। এছাড়াও ছিল রোশনীবাগ, ফর্হবাগ। কিন্তু সেসব প্রাচীন বনেদি গৌরবের কোন চিহ্নই আজ অবশিষ্ট নেই। বর্তমানের মুর্শিদাবাদ যেন খৃষ্টীয় অষ্টাদশ শতকের ইতিহাসের ‘ফসিল’। পুরানো অনেক স্মৃতিচিহ্নই আজ ভাগীরথীর গর্ভে হারিয়ে গিয়েছে। সামান্য যা কিছু অবশিষ্ট আছে, সেগুলোও বর্তমানে অযত্নে আর অবহেলায় জাদুঘরের নিষ্ঠুর হৃদয়হীন ব্যাঙ্গে পরিণত হয়েছে। মুর্শিদাবাদের বর্তমানের অবিন্যস্ত দরিদ্ররূপ ইতিহাসের বাতাবরণে তো বটেই এমনকি আজকের দর্শকদের চোখেও করুণার উদ্রেক করে।

মুর্শিদাবাদের নামকরণ নিয়ে ঐতিহাসিক ও গবেষকদের মধ্যে বিস্তর মতভেদ রয়েছে। কারও মতে খৃষ্টীয় অষ্টাদশ শতকের আগে এই শহরের নাম ছিল মুখসুদাবাদ, আবার কারও মতে নাম ছিল মুখসুসাবাদ। প্রবাদ আছে – বাদশাহ হোসেন শাহের সময় মুখসুদন দাস নামে এক নানকপন্থী সন্ন্যাসী বাদশাহের রোগ নিরাময় করে এই স্থানটি লাখেরোজ-স্বরূপ পেয়েছিলেন। পরে তাঁর নামানুসারেই এই স্থানের নাম হয় মুখসুদাবাদ। আবার কেউ কেউ বলেন - মুখসুদ খাঁ-এর নাম থেকেই মুখসুদাবাদ। রিয়াজ-উস-সালাতীনের মতে – মুখসুস খাঁ নামে কোন প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ীর নামানুসারে মুখসুদাবাদ নামটির উৎপত্তি। ওদিকে আইন-ই-আকবরীতে লেখা আছে যে, মুখসুদাবাদের প্রতিষ্ঠাতা হলেন বাংলার শাসনকর্তা সায়েদ খাঁর ভাই মুখসুস খাঁ। এখন রিয়াজ-উস-সালাতীন এবং আইন-ই-আকবরীতে উল্লেখিত মুখসুস খাঁ একই ব্যক্তি কিনা সেটা সঠিকভাবে জানা যায় না। যদিও পুরোনো দলিলপত্রে মুখসুদাবাদ ও মুখসুসাবাদ – এই দুটি নামই পাওয়া যায়। পঞ্চদশ অথবা ষষ্ঠদশ শতকে রচিত ভবিষ্যৎপুরাণ-এ এই শহরকে মোরাসুদাবাদ বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, এই শহরের প্রতিষ্ঠাতা একজন যবন (মুসলমান)। সায়র-উল-মুতক্ষীরণ গ্রন্থের অনুবাদক রেমণ্ড সাহেবের মতে, প্রথমে এই জায়গার নাম ছিল কোলারিয়া (Colaria), পরে নাম হয় ম্যাকসুদাবাদ (Macsoodabad), এবং তারও পরে নাম হয় মুরসুদাবাদ (Moorsoodabad)। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, মুর্শিদাবাদ শহরের পূর্বদিকে কূলূরী নামে একটি মৌজা আছে এবং অতীতে সেই জায়গাতেই মুর্শিদকুলি খাঁ বাস করতেন। ১৬৬৬ সালে এই শহর পরিদর্শন করে ফরাসী পর্যটক তাভের্নিয়ে (Travernier) নিজের লেখনীতে এই শহরের নাম 'Madasoubazarki' বলে উল্লেখ করেছিলেন। ঐতিহাসিক টিফেনথেলারের মতে সম্রাট আকবর এই শহর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, এই শহরের পূর্বদিকে আকবরপুর নামের একটা মৌজা ও গ্রাম রয়েছে। প্রথমে এই জায়গার নাম কি ছিল, তা নিয়ে বিস্তর মতভেদ থাকলেও, ঐতিহাসিক ও গবেষকরা একটি বিষয়ে একমত - মুর্শিদকুলি খাঁ তাঁর দেওয়ানী দপ্তর ঢাকা থেকে পুরানো মুখসুদাবাদ বা মুখসুসাবাদ-এ স্থানান্তরিত করবার পরে নবাবের নামানুসারে এই জায়গার নাম হয় মুর্শিদাবাদ। সেটা ছিল ১৭০৪ সাল। ১৭০৪ সালে তৈরি মুদ্রায় সর্বশেষ মুখসুসাবাদ নামটি দেখা যায় এবং ১৭০৫ সালে স্থানীয় টাঁকশালে তৈরি মুদ্রায় সর্বপ্রথম মুর্শিদাবাদ নামটি পাওয়া যায় (Notes on Gour and other historical places, Monomohan Chakravarty)।

দেওয়ানীর সদর দপ্তর তথা রাজধানী রূপে মুর্শিদাবাদকে নির্বাচিত করবার পিছনে ছিল মুর্শিদকুলি খাঁর দূরদৃষ্টি, তীক্ষ্ণবুদ্ধি ও বিচক্ষণতা ছিল। এই প্রসঙ্গে উইলিয়াম হান্টার লিখেছিলেন –

“It seems probable that Murshid Kuli Khan was induced to take his step by political considerations ... the bank of Bhagirathi afforded a more central position for the management of the three provinces of Bengal, Bihar and Orissa. The new city also was situated on the line of trade …”

রিয়াজ-উস-সালাতীনের মতে –

“An excellent site where news of all four quarters of the Subah could be easily procurable and which like the pupil of the eye was situated in the centre of the important places of the Subah.”

সপ্তদশ শতকের প্রথমদিকে মুর্শিদাবাদ মূলতঃ রেশম শিল্পের জন্যই বিখ্যাত ছিল। এই শতকের দ্বিতীয়ার্ধে এই শহর মুঘল কর্মচারীদের আবাসস্থল রূপে প্রসিদ্ধি লাভ করে। সপ্তদশ শতকে কাশিমবাজারে ছিল ফরাসীদের কারখানা। ১৬৬৫ সালে সম্রাট ঔরঙ্গজেবের ফরমান বলে একদল অর্ম্মেনিয়ান সৈদাবাদে বসবাস শুরু করেন। কালিকাপুরে ডাচরাও তাঁদের নিজস্ব কারখানা তৈরি করে। তাঁদের সবারই এক উদ্দেশ্য ছিল – রেশমের ব্যবসা। বার্নার লিখেছিলেন যে, ডাচদের কারখানায় আটশোজন দেশীয় শ্রমিক কাজ করত, সেই তুলনায় ইংরেজ বা অন্যান্যদের কারখানায় দেশীয় শ্রমিকের সংখ্যা ছিল নগন্য। নবাবী আমলে বাংলার রেশম খুবই উন্নত ছিল। রেশমের উৎকৃষ্ট ও সূক্ষ্ম কাপড়ের কদরও ছিল বেশি। বঙ্গদেশে সেইসময় বিভিন্ন ধরনের মসলিন কাপড় তৈরি হত, শ্রেষ্ঠ মসলিনের নাম ছিল – আভরণ। তখনকার দিনে একখানি অভরণের দাম ছিল চারশো টাকার মত (তখনকার মুদ্রার হিসেবে)। ওজন ছিল মাত্র পাঁচ ভরি। প্রধানতঃ নবাব-বাদশাহরা সেই কাপড় ব্যবহার করতেন। শোনা যায় যে, সম্রাট ঔরঙ্গজেবের এক কন্যা মসলিন কাপড় পড়ে সম্রাটের সামনে এসে দাঁড়ালে সূক্ষ্ম কাপড়ের আড়ালে তাঁর রোমাবলী দেখে সম্রাট ক্রুদ্ধ হয়ে কন্যাকে ‘বেশরম’ বলে অভিহিত করলে, কন্যা তাঁর পিতাকে জানিয়েছিলেন যে সাতখানা কাপড় দিয়ে তাঁর শরীর ঢাকা রয়েছে।

সেই সময়ে মুর্শিদাবাদের রেশম শিল্পের বিদেশে কত কদর ছিল তার প্রমাণ পাওয়া যায় তাভর্নিয়ে প্রদত্ত বিবরণে। তাঁর বক্তব্য অনুসারে, কাশিমবাজার থেকে বছরে বাইশ হাজার গাঁট (এক গাঁট = একশো পাউন্ড) রেশমের কাপড় বিদেশে রপ্তানি করা হত। রেশম, তুলো আর হাতির দাঁতের তৈরি বিভিন্ন জিনিষের জন্য সেকালের মুর্শিদাবাদ সমগ্র এশিয়া ও ইউরোপে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল। সপ্তদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে, কাশিমবাজার কুঠির অধ্যক্ষ ছিলেন জন কেন। তাঁর সহকারী ছিলেন জোব চার্নক। ১৬৮০ সালে জোব চার্নক কাশিমবাজার কুঠির প্রধান অধ্যক্ষ পদে উন্নীত হয়েছিলেন।

মুর্শিদাবাদে ছিল সরকারি টাঁকশাল। নবাবী আমলে প্রথম টাকশাল তৈরি হয়েছিল ১৭০৫ সালে, কেল্লা নিজামতের কাছে। পরে ১৭১৭ সালে মহিমাপুরে নতুন করে টাঁকশাল তৈরি হয় – জগৎ শেঠের পুরোনো বাড়ির সামনে। সপ্তদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধেও মুখসুদাবাদে যে টাঁকশাল ছিল তার প্রমাণ পাওয়া যায়। ১৯১৪ সালের মুর্শিদাবাদ ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ারে লেখা হয়েছিল –

“A rupee of Aurangzeb preserved in the Lahore museum shows that Mukhsudabad was a mint town as early as 1679 AD.” (District Gazetteer Murshidabad, edited by L.S.S.O’Malley, 1914)

১৭৬০ সালে মীরকাশেম মসনদে বসার পরেই কলকাতা টাকশালের উন্নতি ঘটে। প্রধানতঃ, এই সময় থেকেই মুর্শিদাবাদের টাকশালের গুরুত্ব কমে যায়। ১৭৭৭ সালে তৎকালীন গভর্নর জেনারেলের অনুরোধে নবাব মোবারকদ্দৌল্লার আদেশে মুর্শিদাবাদের টাঁকশাল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৭৮৫ সালে মাত্র কিছু দিনের জন্য সেটাকে পুনরায় জীবিত করা হয়। ১৭৯৬ সালে সরকারি আদেশানুসারে সমস্ত প্রাদেশিক টাঁকশাল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৭৯৯ সালে মুর্শিদাবাদ থেকে টাঁকশালের যাবতীয় যন্ত্রাংশ কলকাতায় পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং বাড়িটি প্রকাশ্য নীলামে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

১৮০২ সালের আদমশুমারি অনুসারে মুর্শিদাবাদের জনসংখ্যা ছিল প্রায় দেড়লক্ষ। পাঁচজন বেহারা সমেত একটি পালকির একদিনের ভাড়া ছিল এক টাকা। কলকাতা থেকে আড়াই তোলা ওজনের একটি চিঠি মুর্শিদাবাদে পাঠাতে খরচা হত দু’-আনা। ১৭২৯ সালে মুর্শিদাবাদে একমণ দশ সের অতিমিহি বাঁশফুল চাল পাওয়া যেত এক টাকায়। তিন মণ গমের দাম ছিল এক টাকা। এক টাকায় সাড়ে দশ সের গাওয়া ঘি পাওয়া যেত। ১৭৭৬ সালে প্রতি ষোল সের সর্বোৎকৃষ্ট মিহি চালের দাম মুর্শিদাবাদে ছিল এক টাকা। ১৮২২ সালে মুর্শিদাবাদে তিন টাকায় এক মণ ভালো চাল পাওয়া যেত। ঐ একই সময়ে এক মণ গাওয়া ঘিয়ের দাম ছিল সাতাশ টাকা। আর এই একই সময়ে একটা প্রমাণ আকৃতির ইলিশ মাছের দাম ছিল এক পয়সা।

প্রচণ্ড বর্গী হাঙ্গামার পরেও মুর্শিদাবাদের জৌলুষ ছিল অম্লান, সম্পদ ছিল অফুরন্ত। এরপরে ইংরেজদের প্রভুত্ব বিস্তারের পর থেকেই মুর্শিদাবাদের গৌরব খর্ব হতে শুরু করে। একটি একটি করে সরকারি দপ্তর কলকাতায় স্থানান্তরিত হতে শুরু হয়। ১৭৯৩ সালে শেষটুকু সমাধা করে দেন লর্ড কর্ণওয়ালিস। ঐ সালেই ফৌজদারি সদর দপ্তর মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরেই শুরু হয়, কলকাতার উন্নতি আর মুর্শিদাবাদের অবনতি। এরপরে কলকাতা উঠেছে, মুর্শিদাবাদ ডুবেছে। কলকাতা গড়েছে, মুর্শিদাবাদ ভেঙেছে। ভাগ্যলক্ষ্মী এসেছিল, একসময়ে চলেও গিয়েছে। মুর্শিদাবাদ ধরে রাখতে পারেনি।

বর্তমানের মুর্শিদাবাদে অবশিষ্ট আছে অতীতের কয়েকটি মলিন স্মৃতি আর ইতিহাসের ধ্বংসস্তূপ। অথচ কত প্রাচীন ঐ গৌড় – এখনও সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে তার কঙ্কাল। কিন্তু ক্ষয়ে গিয়েছে মুর্শিদাবাদ। তার প্রাচীন গৌরব আর জৌলুষ সবই আজ মহাকালের গর্ভে। অতীত গৌরব আজ যেন শুধুই রূপকথা। নবাব নাজিমদের জৌলুষ আর বিলাসিতার কথা আজ যেন শুধুই গল্প। নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে মুর্শিদকুলীর প্রাসাদ আর – ‘চেহেল সেতুন’। মুছে গিয়েছে ফার্হবাগ আর রোশনীবাগের সৌন্দর্য্য। সিরাজের সাধের হীরাঝিল প্রাসাদ আজ ভাগীরথীর গর্ভে বিলীন। মোরাদবাগ আর লালবাগ প্যালেসের অস্তিত্ব আজ সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত। ঘসেটি আর নওয়াজেসের মোতিঝিল প্রাসাদ তলিয়ে গিয়েছে মহাকালের গর্ভে। তাপদগ্ধ ক্লান্ত দুপুরে জগৎ শেঠের পুরানো ভিটায় এখন ঘুঘু ডাকে।

আজও মুর্শিদাবাদের কোন কোন পুরনো ভিটে বা জমির নীচে পাওয়া যায় পুরনো আমলের বাদশাহী মোহর বা প্রাচীন কোন দেবদেবীর মূর্তি। অনুসন্ধিৎসুর জানতে চেষ্টা করেন সেই জায়গার ইতিহাস। শুরু হয় প্রত্নতাত্ত্বিক তর্ক-বিতর্ক। আজকের মুর্শিদাবাদ অন্ধকারাচ্ছন্ন, মৃতপ্রায়, সম্ভবতঃ অভিশপ্তও। তবুও আজ পর্যটক আর অনুসন্ধিৎসুদের কাছে মুর্শিদাবাদের আকর্ষণ কম নয়। বর্তমানের পর্যটকরা অনেক উৎসাহ আর কৌতুহল নিয়ে মুর্শিদাবাদে এসে জানতে চান মুর্শিদাবাদের ইতিহাস। বর্তমানের আয়নায় দেখতে চেষ্টা করেন অতীতকে। ইতিহাসের ধ্বংসস্তূপের দিকে তাকিয়ে শুনতে পান অতীতের দীর্ঘশ্বাস, শুনতে পান ইতিহাসের বোবাকান্না। তাই আজও আছে মুর্শিদাবাদ, আর আছে তার ইতিহাস।


আগামী ৩ মাসের জন্য  গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য তৈরীর ফর্মুলেশন খুঁজছিলেন  খাদ্য তালিকা বা ফিড ফর্মুলেশন 

 আগামী ৩ মাসের জন্য 

গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য তৈরীর ফর্মুলেশন খুঁজছিলেন  খাদ্য তালিকা বা ফিড ফর্মুলেশন করার খুবই  চ্যালেঞ্জের। প্রিয়   খামারি ভাই আপনি নিশ্চয়ই আমার সাথে একমত হবেন যে সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়া গরু মোটাতাজাকরণ খামারে লাভ বা প্রফিট করা সম্ভব নয়।

কারন একটি খামারে সবচেয়ে বেশি টাকা যে খাতে ব্যয় হয় তাহলো খাদ্য ব্যবস্থাপনা।

তার উপর ইদানীংকালের গরু বাজারদর যেমন কম আর গো-খাদ্যের বাজার দর তেমনি বেশি। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের cost-effective ফিডিং পলিসি অবলম্বন না করলে নিশ্চিত লক্ষন লোকসান।


আর তাই আপনার গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য তালিকা সকল উপকরনের পুষ্টিগুণ ও দাম সম্পর্কে যেমন সঠিক ধারণা থাকা দরকার তেমনি আধুনিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সাথে পরিচিত হওয়া দরকার।

তবে আপনি cost-effective ফিড অর্থাৎ সবচেয়ে কম খরচে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মানের গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য করতে পারবেন। 


➡️গরু মোটাতাজাকরণে খাদ্য তালিকা।

ভুট্টা সয়াবিন মিলচাগমের ভুসি  চাউল এর খুদখৈল মটর খেসারি ইত্যাদি আমাদের দেশের প্রধান দানাদার খাদ্যের উপাদান।

পরিমাণ মতো বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট ভিটামিন ও মিনারেল মিশিয়ে সুসম দানাদার খাদ্য তৈরি করা হয়।

গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য তৈরিতে খাদ্যের গুনাগুন মানের দিকে বেশি নজর দিতে হবে।


খাদ্যে প্রোটিন ফ্যাট কার্বাইড ইত্যাদি পরিমাণ চাহিদা অনুযায়ী খাদ্যের মধ্যে সর্ব হচ্ছে কিনা দেখতে হবে। গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য মোটাতাজাকরণে গরুকে নিয়মিত খাওয়ার মাধ্যমে আশানুরূপ উৎপাদন পাওয়া সম্ভব হয়। 


➡️গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য তালিকা বা ফর্মুলেশন।

কম খরচ এবং সবখানে পাওয়া যায় এমন ১০০ কেজি গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য তৈরীর ফর্মুলেশন দেওয়া হল।


ভুট্টা ভাঙ্গা      ৩৫ কেজি

গম ভাঙ্গা       ১৫ কেজি

ধান ভাঙ্গা       ২৫ কেজি

সয়াবিন খৈল  ২০ কেজি

শুটকির গুড়া    ৩

DCP/MCP      ২  কেজি


সাথে পরিমাণ মতো লবণ, এমাইনো এসিড, ফ্যাট, ভিটামিন মিনারেল প্রিমিক্স,  

সোডিয়াম বাই কার্বনেট বা খাবার সোডা দিয়ে দিবেন।

আপনাদের প্রয়োজনের জন্য কিছু সাপ্লিমেন্ট নাম এবং পরিমাণ দিয়ে দিলাম। 

১/এমসিপি পাউডার ১.৫ কেজি

২/ক্যাটল প্রিমিক্স ২৫০ গ্রাম

৩/লাইমস্টোন ১.৫ কেজি

৪/ফ্যাট ২৫০ গ্রাম

৫/সিআর ৫০ গ্রাম

৬/রুমেইন টনিক ১০০ গ্রাম

৭/লাইসিন ৫০০ গ্রাম

৮/টক্সিন বাইন্ডার ২০০ গ্রাম

৯/মেথিওনিন ৩০০ গ্রাম

১০/এনজাইম ২৫০ গ্রাম

১১/কলিন ২০০ গ্রাম

১২/ফিশ প্রোটিন  ৩ কেজি

এগুলো প্রতি ১০০ কেজি খাদ্যে ব্যবহার করতে পারেন। 

এই টেবিল অনুযায়ী যদি আমরা গরুকে খাবার গ্রহণ করাই তবে অতি সহজে আমরা লাভবান হতে পারব । 


➡️গরু মোটাতাজাকরণে খাদ্য সরবরাহ পদ্ধতি

গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প  গাবাদিপশুসহ পরিমানমতো সুষম মোটাতাজা খাদ্য সরবরাহ সবচেয়ে গুরুত্ব।

খাবারের তালিকায় শর্করা আমিষ চর্বি ভিটামিন মিনারেল এর পরিমাণ সাধারণত খাদ্যের চেয়ে বেশি থাকতে হবে।

সাথে প্রচুর পরিমাণ টিউবয়েলে টাটকা পানি সরবরাহ করা প্রয়োজন।


গরু মোটাতাজাকরণ দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি খরকে প্রক্রিয়াজাত করে UMS বানিয়ে খাওয়াতে হবে।


প্রতিদিন একই সময়ে একই ধরনের  খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। খাদ্য ও খাদ্য প্রদানের সময় কোনটা পরিবর্তন করা যাবেনা।

খাদ্য ধুলোবালিমুক্ত হতে হবে, খাদ্য সহজপাচ্য হতে হবে।


➡️মোটাতাজাকরণ গরুর আঁশযুক্ত খাদ্য

মোটাতাজাকরণ গরু কে তার চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত খাদ্য অবশ্যই দিতে হবে। কিছু কিছু খামারি মনে করে খর বিচালী বা ঘাস কম খাইয়ে দানাদার খাবার বেশি খাইয়ে গরুকে দ্রুত মোটাতাজা করন করা সম্ভব।

কিন্তু আসলে তা সঠিক নয়, কখনো কখনো প্রচুর ঔষধ পত্র প্রয়োগ করে হয়তো সম্ভব কিন্তু এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি পড়ে।


গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য এ পর্যন্ত ফাইবার বা আঁশ এর অভাব থাকলে নিম্নে সমস্যাগুলো সৃষ্টি হতে পারে।


🔸পেটে এসিডিটি তৈরি হয়

🔸হজম ক্ষমতা কমে যায়

🔸খাদ্যের অরুচি দেখা দেয়


➡️কম খরচে গরু মোটাতাজাকরণ।

গরু মোটাতাজাকরণের শুরুর দিকে ১০০ বডি ওয়েট এর জন্য ১.৫ কেজি দানাদার খাদ্য দিতে হবে।

গরু যখন অনেকটা মোটাতাজা হয়ে যাবে তখন ১০০ কেজির জন্য এক কেজি দানাদার খাদ্য দিতে হবে।

গরুর পেটে গ্যাস সৃষ্টি হয় এমন খাদ্য যেমন ভাত বা খুদের যাও বেশি পরিমাণে খাওয়ানো উচিত নয় এর ফলে গরুর পেট ফুলে যেতে পারে।

যার ফলে গরু অসস্তি বোধ করবে কিছু খেতে চাইবে না এবং তার স্বাস্থ্য কমে যাবে ।


১০০ কেজি জন্য প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ কেজি কাঁচা ঘাস খাওয়াতে হবে।

কাঁচা ঘাস না থাকলে বিকল্প হিসেবে UMS ব্যবহার করতে দেখতে হবে।

শুধু UMS খাওয়ানোর ফলে প্রতিদিন একটি গরু ৮০০ গ্রাম পর্যন্ত ওজন বাড়ে। 

সাথে গরুকে প্রতিদিন গোসল করাতে হবে এতে গরুর শরীর সতেজ থাকবে।


➡️গরু মোটাতাজাকরণে দানাদার খাদ্যের ভূমিকা।

গরু মোটাতাজাকরণ দানাদার খাদ্যের ভূমিকা অনেক গুরুত্ব।

কারন একটা গরুকে যদি আমরা মোটাতাজা করতে চাই তবে দানাদার খাদ্য অবশ্যই তাকে খাওয়াতে হবে।

তবেই সে মোটাতাজা হয়ে গড়ে উঠবে। মোটাতাজাকরণে অনেক লাভবান হওয়া যায় কম খরচে তৈরি দানাদার খাদ্য খাওয়ানোর ফলে।

শুধুমাত্র ভুসি অথবা একটি খাদ্য দিয়ে প্রয়োজনীয় সব উপাদান পাওয়া সম্ভব নয়।

তাই মোটাতাজাকরণের ক্ষেত্রে আমাদের কম খরচে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য মিক্সিং এর মাধ্যমে একটি সুষম খাদ্য তৈরি করতে হবে তাহলে আমরা লাভবান হতে পারবো।

গরুকে মোটাতাজা করনের জন্য দানাদার খাদ্যের অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে।


পোস্টটা শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে রেখে দিন যাতে প্রয়োজন এর সময় খুঁজে পেতে সহজ হয়। আসুন 

সবাই মিলে ইনভাইট করি গ্রুপের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করি বেশি বেশি পোস্ট করতে উৎসাহ যোগায় ধন্যবাদ।

পোস্টটা শেয়ার করে রেখে দিন ১০০% কাজে আসবে ইনশাল্লাহ। 

এছাড়া মেডিসিন গুলো খুঁজে না পেলে যোগাযোগ করতে পারেন 01872558444(WhatsApp)


নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা: মহিলা প্রজননতন্ত্রের রহস্য উদঘাটন

 নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা: মহিলা প্রজননতন্ত্রের রহস্য উদঘাটন 🌺 আমাদের শরীরের প্রতিটি অংশই অবিশ্বাস্যভাবে সুনির্দিষ্ট এবং জটিল, বিশেষ করে যখন ...