এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

সোমবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৪

সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ  ১৮-০৪-২০২৪

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ  ১৮-০৪-২০২৪


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল দেশের প্রথম সরকারের শপথ অনুষ্ঠান উপলক্ষে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত - দিবসটি স্মরণে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক অর্পণ।


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


প্রাণীসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনী-২০২৪ শুরু হচ্ছে আজ -  উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।


দেশের বিজয় ও স্বাধীনতাকে সুসংহত করতে বিএনপিসহ স্বাধীনতা বিরোধীদের  প্রতিহত করতে হবে - মন্তব্য আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের।


তৃতীয় ধাপে ২৯শে মে অনুষ্ঠেয় ১১২টি উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।


ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত।


আহমেদাবাদে আইপিএল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে গুজরাট টাইটান্সকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে দিল্লি ক্যাপিটাল্স।

রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪

কমপক্ষে এক লাখ কোটি গাছ লাগালে বাতাসে কমবে বিষ। আমাদের বায়ুমণ্ডল হয়ে উঠবে ১০০ বছর আগের মতো

 কমপক্ষে এক লাখ কোটি গাছ লাগালে বাতাসে কমবে বিষ। আমাদের বায়ুমণ্ডল হয়ে উঠবে ১০০ বছর আগের মতো। সুইজারল্যান্ডের জুরিখে সুইস ফেডারেল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (ইটিএইচ জুরিখ) হালের একটি গবেষণা এ তথ্য জানিয়েছে। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘সায়েন্স’-এ।


গবেষণায় বলা হয়েছে, শুধুমাত্র গাছ লাগালেই জীবন বাঁচবে। তা না হলে যে হারে জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে, তাতে ফুলে-ফেঁপে ওঠা সমুদ্রের জলেই তলিয়ে যেতে হবে আমাদের। কারণ উষ্ণায়নের জেরে বরফ গলছে অস্বাভাবিক দ্রুত হারে। আর বিশ্বজোড়া শিল্পায়নের দৌলতে বাতাস ভয়ঙ্করভাবে বিষিয়ে উঠছে কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইডসহ নানা ধরনের গ্রিন হাউস গ্যাসে। যা তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে পৃথিবীর।


এক লাখ কোটি গাছ লাগাতে জমির অভাব হবে না বলে জানানো হয়েছে গবেষণায়। গবেষণা হিসাব কষে দেখানো হয়েছে, যদি আমার আপনার সদিচ্ছা আর আন্তরিকতা থাকে দ্রুত এক লাখ কোটি গাছ বসিয়ে ফেলার তাহলে অন্তত জায়গার অভাবে সেসব গাছের বেড়ে উঠতে ও বেঁচে থাকতে কোনো অসুবিধা হবে না।


পৃথিবীর স্থলভাগের যতটা নিয়েছে শহর আর গ্রাম, চাষাবাদের জন্য সেই জমিতে যতটা ভাগ বসানো হয়েছে, তাকে হিসাবের বাইরে রেখেও গবেষকরা দেখিয়েছেন, গাছ বসানোর জন্য ৩৫ লাখ বর্গমাইল বা ৯০ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকা পড়ে রয়েছে পৃথিবীতে। জায়গাটা মোটেই কম নয় কিন্তু।


গবেষণা এও জানিয়েছে, প্রচুর পরিমাণে গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমনের ফলে বায়ুমণ্ডলে যে পরিমাণে কার্বন জমা হয়েছে, এক লাখ কোটি গাছ খুব তড়িঘড়ি বসিয়ে ফেলা সম্ভব হলে তার ২৫ শতাংশই বায়ুমণ্ডল থেকে সরে যাবে। বায়ুমণ্ডল হয়ে যাবে ১০০ বছর আগেকার মতো।


"

শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৪

স্ত্রীকে ভালোবাসা সহজ নয়। উদাহরণ দিলে বিষয়টা বুঝতে পারবেন।

 স্ত্রীকে ভালোবাসা সহজ নয়। উদাহরণ দিলে বিষয়টা বুঝতে পারবেন।


  বিয়ের পর মোবাইলের ওয়ালপেপারে স্ত্রীর ছবি রেখেছিলাম। বন্ধুদের সাথে আড্ডায় এক বন্ধু সেটা দেখলো। 

  তারপর সে হাসতে হাসতে অন্য বন্ধুদের বললো,"রিফাতের মোবাইল দেখ। বউয়ের ছবি দিয়ে রেখেছে। ব্যাটা বউ পা'গ'ল।"

  সঙ্গে সঙ্গে সবার মধ্যে হাসির ধুম পড়ে গেলো।

  

  এমন বি'ব্র'ত হয়ে পড়লাম যে, বলার মতো নয়। 

  বি'ব্র'ত অবস্থা থেকে বাঁচার জন্য ওদের বললাম,"তোরা যা ভাবছিস তা না। আসলে অন্য একটা ছবি সিলেক্ট করতে গিয়ে ভু'লে এই ছবিটা পোস্ট হয়ে গেছে। আমি নিজেও খেয়াল করি নি। এই দেখ ছবিটা এখনই ডি'লি'ট করে দিচ্ছি।"


  তারপর ওদের দেখিয়ে স্ত্রীর ছবিটা বদলে বন্ধুদের নিয়ে তোলা একটা ছবি মোবাইলের ওয়ালপেপারে দিলাম। 


  আরেকটা ঘটনা বলি।

  স্ত্রীর পরি'শ্রম যেনো কম হয় এজন্য মাছ মুরগী কিনলে বাজার থেকে কু'টি'য়ে আনতাম। স্ত্রীকে রান্নায় সাহায্য করতাম। ছাদে শুকাতে দেয়া কাপড় নিয়ে আসতাম।


  মা এসব দেখতেন। এবং মা'র চোখ দেখে বুঝতে পারতাম তিনি এসব পছন্দ করছেন না। তবে তিনি কিছু বলতেন না। কিন্তু যেদিন স্ত্রীর কাপড় ধুলাম সেদিন তিনি আর চু'প থাকতে পারলেন না।


  কা'টা কা'টা উচ্চারণে বললেন,"বিয়ে করতে না করতেই বউ পা'গ'ল হয়ে গেছিস! বউয়ের ক'ষ্ট স'হ্য হচ্ছে না, তাই না? ঘরের এসব কাজ আমরা সারা জীবন করি নি?"


  এমন নয় যে, আমি শুধু স্ত্রীকে ঘরের কাজে সাহায্য করি, মাকেও সাহায্য করি। কিন্তু স্ত্রীকে সাহায্য করাটা তিনি কেনো যেনো নিতে পারতেন না। 


  আমি 'বউ পা'গ'ল', মায়ের কাছ থেকে এই কথাটা গেলো খালাদের কাছে। আর খালাদের কাছ থেকে পুরো আত্মীয় মহলে র'টে গেলো।


  তারপর থেকে আমার আড়ালে এবং সামনে, ঘরে কিংবা বাইরে, হয় রেগে নয়তো কটাক্ষ করে, আত্মীয়দের মধ্যে কেউ না কেউ বলতো,"রিফাত বউয়ের আঁচল ধরে ঘোরে। ও বউ পা'গ'ল হয়েছে। পুরুষ হতে পারে নি।"

  

  যখন তারা এসব বলতো, তখন ল'জ্জা'য় অপ'মানে শে'ষ হয়ে যেতাম। এই ল'জ্জা এবং অপ'মান থেকে মু'ক্তি পাওয়ার জন্য এবং নিজেকে পুরুষ প্রমাণ করার জন্য স্ত্রীকে সাহায্য করা ব'ন্ধ করে দিলাম। 


  আরেকটা ঘটনা বলি। 

  বিয়ের শুরুর দিকে প্রতিদিন অফিসের লাঞ্চের সময় স্ত্রীকে ফোন করতাম। সে খেয়েছে কিনা জানতে চাইতাম। সেও আমাকে ফোন দিতো। ফোনের এই কথপোকথন কলিগদের এড়িয়ে করতাম। তবু কী করে যেনো এক কলিগ ব্যাপারটা বুঝতে পারলো। আর তারপরই পুরো অফিসে ছড়িয়ে পড়লো, রিফাত সাহেব বউ পা'গ'ল। 


  এরপর থেকে আমাকে দেখলে অফিসের সবাই ঠোঁট টি'পে হাসতো। কী যে জ্বা'লা'ময়ী সে হাসি! সেই হাসির য'ন্ত্র'ণা থেকে র'ক্ষা পাওয়ার জন্য অফিস থেকে স্ত্রীকে ফোন করা ব'ন্ধ করে দিলাম। আর সে ফোন করলে সবাইকে শুনিয়ে রূঢ় ভাষায় বলতাম,"প্রয়োজন ছাড়া ফোন দেবে না। অফিস কাজ করার জায়গা। ডেটিং করার জায়গা না।"


  তাই বলছিলাম, স্ত্রীকে ভালোবাসা সহজ নয়। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝলাম, আমি পৃথিবীর সব কিছু ভালোবাসতে পারবো। মা, বাবা, ভাই, বোন, সন্তান, বন্ধু, আত্মীয়, পশু পাখি, এমন কি জড় পদার্থকেও। এবং এসবের জন্য কেউ আমাকে ব্য'ঙ্গ করবে না, আমার ওপর ক্ষি'প্ত'ও হবে না। কিন্তু স্ত্রীকে ভালোবাসতে গেলেই সঙ্গে সঙ্গে হয়ে যাবে স'র্ব'না'শ! শা'স্তি হিসেবে জুটবে 'বউ পা'গ'ল' উপাধি। আর একজন পুরুষের জীবনে এই উপাধির চেয়ে ভ'য়া'ব'হ আর কিছু নেই। 


  যাই হোক, গল্পে ফিরে আসি।


  এদিকে সবার কাছে নিজেকে পুরুষ প্রমাণ করতে গিয়ে স্ত্রীকে অ'ব'হে'লা করতে করতে ওর জীবনটাকে দু'র্বি'ষ'হ করে তুললাম। ওর জীবন থেকে হাসি হারিয়ে গেলো।


  একদিন মাঝ রাতে ঘুম ভে'ঙে দেখলাম, স্ত্রী পাশ ফিরে শুয়ে ফুঁ'পিয়ে ফুঁ'পিয়ে কাঁ'দ'ছে। 

  জানতে চাইলাম,"কী হয়েছে?" 

  সে অদ্ভুত বি'ষ'ণ্ণ গলায় বললো,"আমার কী হয়েছে, আমি কেমন আছি, এসব কখনো জানতে চেয়ো না। মনে রেখো, দেয়ালেরও কান আছে। শে'ষে সবাই জেনে যাবে, তুমি বউ পাগল।"


  ওর কথা শুনে এতো খা'রা'প লাগলো বলার মতো নয়। বু'ক চি'রে একটা গভীর দীর্ঘ'শ্বাস পড়লো। সেদিন রাতে আর ঘুম এলো না। 


  পরদিন ভোরে আমার নি'র্ঘুম স্ত্রী শোয়া থেকে উঠলে ওকে বললাম,"এতোকাল পুরুষ হতে গিয়ে আসলে কা'পুরুষের মতো আচরণ করেছি। এবার সত্যিকারের পুরুষ হবো। কারণ এবার পৃথিবীর সবচেয়ে ক'ঠি'ন কাজটা করবো।"

  স্ত্রী বললো,"কী সেটা?"

  ওর ম'লি'ন দু গালে আলতো হাত রেখে বললাম,"বউ পা'গ'ল হবো।"


"একজন যুবকের কথা"


H O TM রাকিব স্যারের মেসেজ ২০/০৪/২০২৪

 সারাদেশে তীব্র তাপদাহ চলছে۔সবাই সাবধানে চলাফেরা করুন۔۔ প্রচুর পরিমানে পানি পান করুন, প্রয়োজনে স্যালাইন পানি পান করুন۔ 5/10 মিনিট রেস্ট নিয়ে কাজ করুন۔ রাস্তায় চলাফেরার সময় ছাতা ব্যবহার করতে পারেন۔শরীরে পানি ধরে রাখে এমন খাবার যেমন: লেবুর শরবত, শসা, তরমুজ, কলা, ডাবের পানি ইত্যাদি খেতে হবে۔খাবারে মাংস এড়িয়ে সবজি বেশি বেশি খাবেন۔


চা পাতা, ডিমের খোসা, কলার খোসায় তৈরি করুন জৈব সার।

 চা পাতা, ডিমের খোসা, কলার খোসায় তৈরি করুন জৈব সার।


চা পাতা:


চা পাতায় নাইট্রোজেন, ফসফরাস এবং পটাশিয়াম আছে। তাই, ব্যবহার করা চা পাতা ফেলে না দিয়ে; রোদে শুকিয়ে টবে প্রয়োগ করতে পারেন।


ডিমের খোসা:


অল্প কয় দিন রোদে শুকিয়ে ডিমের খোসা পিষে গুড়ো করে গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করতে হবে।


কলার খোসা:


প্রচুর পরিমাণে পটাশ এবং সামান্য পরিমাণ জিংক,ম্যাংগানিজ,আয়রন/লৌহ থাকে কলার খোসায়।


এটি রোদে শুকিয়ে পিষে গুড়ো বা খোসা ৩ দিন পানিতে ভিজিয়ে পানি ছেকেও প্রয়োগ করতে পারেন।

কালার খোসা গাছে ফুল আসার আগে বেশি ও ফুল ফোটার পরে সামান্য প্রয়োগ করতে হবে।


চা পাতা, ডিমের খোসা ও কলার খোসা ১ঃ১ঃ১ অনুপাতে একসাথে মিশিয়ে প্রয়োগ করা যায়। তাহলে গাছের জন্য অপরিহার্য তিনটি উপাদান নাইট্রোজেন, ফসফরাস এবং পটাশিয়ামের অভাব পূরণ হবে। নিয়মিত জৈব সার ব্যবহার করুন টবের মাটি ভালো রাখুন।



নম্বর প্লেটের বিন্যাস: গাড়ির নম্বর প্লেট দুটি অংশে বিভক্ত

 নম্বর প্লেটের বিন্যাস:

গাড়ির নম্বর প্লেট দুটি অংশে বিভক্ত:

প্রথম অংশ:

এটিতে একটি বা দুটি বর্ণ থাকে যা গাড়ির ধরন নির্দেশ করে।


কিছু উদাহরণ:

ক - ৮০০ সিসি প্রাইভেটকার

খ - ১০০০-১৩০০ সিসি প্রাইভেটকার

গ - ১৫০০-১৮০০ সিসি প্রাইভেটকার

চ - মাইক্রোবাস

ছ - ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাস / লেগুনা।

জ - বাস (মিনি)

হ - ৮০-১২৫ সিসি মোটরবাইক

ল - ১৩৫-২০০ সিসি মোটরবাইক

ঘ – জীপগাড়ি

ন – পিকআপ (ছোট)

থ – সি এন জি (ভাড়ায় চালিত

প - taxi cab

ড - ট্রাক ( মাঝারি)

ম - pickup (delivery)

ট – ট্রাক (বড়)

ঝ - Bus (coaster)

ঠ – ডাবল কেবিন পিকআপ

ই – ট্রাক (ভটভটি)


দ্বিতীয় অংশ:

এটিতে একটি সংখ্যা এবং একটি বর্ণ থাকে যা গাড়ির নির্দিষ্ট সনাক্তকরণ নম্বর।


নম্বর প্লেটের রঙ:


সাদা: ব্যক্তিগত যানবাহন

হলুদ: বিদেশী কূটনৈতিকদের যানবাহন 

কালো: সরকারি যানবাহন


লাল:

রাষ্ট্রপতি,

প্রধানমন্ত্রী,

স্পীকার,

বিচারপতি এবং

অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের গাড়ি


Text Copied

গল্প বন্ধন জয়ন্ত কুমার জয় ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 " মা আমার পি"রিয়ড চলছে "

কথাটা শ্বাশুড়ি মাকে বলে লজ্জায় কুঁকড়ে গেলাম।ভ্রু কুঁচকে মা বললো 

" তাতে কি হইছে?তাই বলে এই ঠান্ডায় সকালে স্নান করতে হবে? "

" স্নান না করে তো রান্নাঘরে যেতে পারবো না।আপনার ছেলে অফিসে যাবে আটটায় "

মা বললো " পরোটা,আলু ভাজা করে দিচ্ছি সেটা খেয়ে যাবে "

পরোক্ষনেই বললো " মা এক কাজ করো,আলু এখানে এনে দিচ্ছি কে'টে দাও,আমি ময়দা মেখে পরোটা বানাচ্ছি "

" তুমি তো কো"মড়ের ব্যথা নিয়ে দাঁড়াতেই পারো না।এসব করবে কিভাবে? "

" ধূর বোকা মেয়ে,দু একদিন করলে কিছু হয়না।মেয়ে অসুস্থ হলে মা সাহায্য করবে না তো কে করবে? "

শ্রদ্ধায়,ভালোবাসায় আমার চোখে জল চলে এলো।রান্নাঘরের দরজায় বসে আলু কে'টে দিচ্ছি এমন সময় স্বামী ঘুমঘুম চোখে টলমলিয়ে ঘর থেকে বেড় হলো।অবাক হয়ে বললাম 

" তুমি আজ হঠাৎ এতো সকালে উঠছো! "

স্বামী ঘুম জড়িত স্বরে বললো " তোমার তো পি"রিয়ড চলছে,তাই ভাবলাম রান্নাটা আমিই করে নিই,তোমায় একটু রেস্ট দিই।তো উঠে দেখি মহারানী আমার আগেই উঠে গেছে " 

স্বামীর মুখে এমন কথা শুনে লজ্জায় ম"রে যেতে ইচ্ছে করলো।কেননা রান্নাঘর থেকে মা এসব শুনে মুচকি মুচকি হাসছিলো।স্বামীকে ইশারায় বোঝালাম রান্নাঘরে মা আছে।ইশারা বুঝে স্বামীর চোখমুখ কদমের মতো গোলগোল হয়ে গেলো।

রান্নাঘর থেকে শ্বাশুড়ি মা বললো " এভাবেই  ভালো,খারাপ সবরকম পরিস্থিতিতে একে অপরের পাশে থাকবি "

কথাটা শুনে স্বামী লজ্জায় রুমে চলে গেলো।মা ফিসফিস করে বললো 

" শোনো মা,এটা হলে শরীর অশুদ্ধি থাকে না।ধর্মে লেখা আছে,নারী মায়ের জাত।মায়ের জাত কখনো অশুদ্ধি থাকে না। "

গল্প-বন্ধন

জয়ন্ত_কুমার_জয়

ছিন্ন মুকুল – সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

 ছিন্ন মুকুল

– সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

সবচেয়ে যে ছোট্ট পিঁড়িখানি

সেইখানি আর কেউ রাখে না পেতে,

ছোট থালায় হয় নাকো ভাত বাড়া,

জল ভরে না ছোট্ট গেলাসেতে;

বাড়ির মধ্যে সবচেয়ে যে ছোট

খাবার বেলায় কেউ ডাকে না তাকে,

সবচেয়ে যে শেষে এসেছিল

তারি খাওয়া ঘুচেছে সব আগে।


সবচেয়ে যে অল্পে ছিল খুশি

খুশি ছিল ঘেঁষাঘেঁষির ঘরে,

সেই গেছে হায়, হাওয়ার সঙ্গে মিশে

দিয়ে গেছে জায়গা খালি করে।

ছেড়ে গেছে পুতুল, পুঁতির মালা,

ছেড়ে গেছে মায়ের কোলের দাবি;

ভয়-তরাসে ছিলো যে সবচেয়ে

সেই খুলেছে আঁধার ঘরের চাবি।


হারিয়ে গেছে- হারিয়ে গেছে, ওরে!

হারিয়ে গেছে বোল্-বলা সেই বাঁশি,

হারিয়ে গেছে কচি সে মুখখানি,

দুধে-ধোওয়া কচি দাঁতের হাসি।

আঁচল খুলে হঠাৎ স্রোতের জলে

ভেসে গেছে শিউলি ফুলের রাশি,

ঢুকেছে হায় শ্মশান ঘরের মাঝে

ঘর ছেড়ে তাই হৃদয় শ্মশান-বাসী।


সবচেয়ে যে ছোট কাপড়গুলি,

সেগুলি কেউ দেয় না মেলে ছাদে;

যে শয্যাটি সবার চেয়ে ছোট

আজকে সেটি শূন্যে পড়ে কাঁদে,

সব-চেয়ে যে শেষে এসেছিলো

সে গিয়েছে সবার আগে সরে,

ছোট্ট যে জন ছিলো রে সব চেয়ে

সে দিয়েছে সকল শূন্য করে।

,,,,,,,,,,,,

নটী আর নটীর পোলাদের বাংলা শাসনের ইতিবৃত্ত

 নটী আর নটীর পোলাদের বাংলা শাসনের ইতিবৃত্ত

এবং 

হিন্দি গান "মুন্নী বদনাম হুয়ি, ডার্লিং তেরে লিয়ে…" 


এড. সলীমুল্লাহ খান 

জজকোর্ট, কুমিল্লা।


মীরজফরই প্রথম ব্যক্তি যিনি মুন্নী বাঈ নামের বাঈজীকে নর্তকিকে অর্থাৎ একজন নটীকে বিয়ে করে বেগমের মর্যাদা প্রদান করেছিলেন। রাজা সম্রাট নবাবরা বহু দাসী মানে ঘরের পরিচারিকা কে বিয়ে করেছেন যা ইতিহাসে পাওয়া যায় কিন্তু রং মহলের নর্তকি বা কোন নটিকে বিয়ে করার ঘটনা তেমন একটা পাওয়া যায়না যেমন শাহজাদা সেলিমের নর্তকি আনারকলির সাথে প্রেম যেখানে ব্যর্থ, ইতিহাসের খল নায়ক হিসাবে বিখ‍্যাত মীরজাফরের প্রেম সেখানে সফল। তার এই প্রেম কাহিনী নিয়ে অমর প্রেমের গল্প, কবিতা, উপন্যাস রচিত হতে পারতো। 


প্রেমিক প্রবরদের কাছে সে হতে পারতো আদর্শ কিন্তু তা হয়নি, কারণ যেভাবে সফল হয়েছে সেভাবে সফল হওয়া লোকদের মানুষ মুখে কিছু না বললেও মনে মনে ঘৃণাই করে। পরে মীরজাফর রব্বু বাঈ নামে আরেকজন নটীকে বিবাহ করেছিলেন।


মীরজাফরের মৃত্যুর পর থেকে ভারতবর্ষ স্বাধীন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এই দুই নটীর গর্ভজাত সন্তান এবং তাদের উত্তরাধিকাররা বাংলা বিহার উড়িষ্যার নবাব ছিল। 


কিন্তু তাদের নিয়ে ঐতিহাসিকদের কাছে না তেমন তথ্য পাওয়া যায়, না জনগণের মুখে কোন কথা শোনা যায়। 


কারণ, নটীর পোলাদের নিয়ে মাথা ঘামিয়ে ঐতিহাসিকগণ বা জনগণ সময় নষ্ট করতে চায়নি। ইতিহাস মহা নায়কদের পক্ষে হালালজাদা শাহজাদাদের পক্ষে হারামজাদাদের পক্ষে যায়না এটা ইতিহাসের একটা স্বভাবজাত গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। সিরাজের বিয়োগান্ত পতনের উপখ‍্যান মানুষের মুখে মুখে কিন্তু নবাবের আসনে শত শত বছর বসে থাকলেও নটীর পোলা নটীর পোলাই থাকে। এদেরকে জনগণ মনে রাখেনি।


২০১০ সালের জনপ্রিয় হিন্দি গান "মুন্নী বদনাম হুয়ি, ডার্লিং তেরে লিয়ে…", ১৯৯২ সালের পাকিস্তানি সিনেমার,"লাড়কা বদনাম হুয়া, হাসিনা তেরে লিয়ে…" গানের নকল। সঙ্গীত প্রিয় জনতা মুন্নীর বদনাম যতটুকু জানে লাড়কার বদনামের কথা ততটা জানে না। তেমনি জানেনা বা মনে রাখেনি শত শত বছর ধরে এই বিশাল এলাকার মসনদে আসীন ডামি শাসনকর্তাদের। 


*স্বাধীনতা যখন থাকেনা গনতন্ত্র যখন থাকেনা তখন "নটী আর নটীর পোলারা ক্ষমতার মসনদে থাকে এরপর যখন গনতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় গনতন্ত্রের সূর্য যখন আবার উদিত হয় তখন অণিবার্যভাবে নটী আর নটীর পোলাদের কবরের পাশ দিয়ে জনগণ থুথু দিয়ে তাদের কবর গুলোকে ঘৃণার সাগরে ভাসিয়ে দেয়। এটাই ইতিহাস আর ইতিহাসের অমোঘ শিক্ষা হলো আমরা কেউই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়ইনা।।


***বিঃদ্রঃ এটা আমার কোন মৌলিক লেখা নয়। ইতিহাসের বিশেষ একটি অংশ বিশেষ আমি সংগ্রহ করে একেবারে সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থাপনা করেছি। ইতিহাসের বর্নণা মাত্র। এটা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উদ্দেশ‍্য। কেউই পারসোনালি নিলে এটাও বোকামী হবে কেননা আপনি যদি গনতান্ত্রিক হন তাহলে এই ইতিহাস তো আপনার পক্ষে। ধন‍্যবাদ।


তথ্যসূত্র

সম্পাদনা

 Aftab, Tahera (১৯ অক্টোবর ২০১৮)। "Inscribing South Asian Muslim Women: An Annotated Bibliography & Research Guide"। BRILL – Google Books-এর মাধ্যমে।

 শাহরিয়ার জেড. আর ইকবাল (২০১২)। "মুন্নী বেগম"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন 9843205901। ওএল 30677644M। ওসিএলসি 883871743।

 Khan, Abdul Majed (৩ ডিসেম্বর ২০০৭)। "The Transition in Bengal, 1756-75: A Study of Saiyid Muhammad Reza Khan"। Cambridge University Press – Google Books-এর মাধ্যমে।

 Banerjee, A. C. (১৯ অক্টোবর ১৯৮৩)। "English Law in India"। Abhinav Publications – Google Books-এর মাধ্যমে।

 McLane, John R. (২৫ জুলাই ২০০২)। "Land and Local Kingship in Eighteenth-Century Bengal"। Cambridge University Press – Google Books-এর মাধ্যমে।

 "The Tombs of Murshidabad"। ৮ মার্চ ২০০৮।

ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৪

সিনেমা বা টিভি ফ্রেমের অ্যাসপেক্ট রেশিও বা আকৃতির অনুপাত কেন গুরুত্বপূর্ণ


 সিনেমা বা টিভি ফ্রেমের অ্যাসপেক্ট রেশিও বা আকৃতির অনুপাত কেন গুরুত্বপূর্ণ


বর্তমানে আধুনিক বিশ্বের অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ হল সিনেমা। কিন্তু একটা সিনেমা বানাতে কত প্রচেষ্টার দরকার হয় আর কত কিছুর দিকে খেয়াল রাখতে হয়, তা নিয়ে সাধারণ দর্শকদের খুব বেশি ধারণা নেই। 


সিনেমা বানানোর সময় রঙের ব্যবহার বা কালার গ্রেডিং কীভাবে করা হবে, প্রতিটি দৃশ্যের ফ্রেমিং কেমন হবে কিংবা ‘অ্যাসপেক্ট রেশিও’ কোনটা হবে, এ ধরনের অনেক বিষয় নির্মাতাদের মাথায় রাখতে হয়। মোটকথা, দর্শকদের সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা কেমন হবে তা নির্ধারণ করে দেয় এসব কিছু।


বিশেষ করে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক বিষয় হল অ্যাসপেক্ট রেশিও। নির্দিষ্ট একটি সিনেমা কীভাবে ফ্রেমে বন্দি করা হবে, সেটা নির্ভর করে এর অ্যাসপেক্ট রেশিও’র ওপর। এমনকি, সময়ের সাথে সাথে অ্যাসপেক্ট রেশিও পাল্টে যাওয়ার ফলে দৈনন্দিন জীবনে আমাদের ভিডিও ক্লিপ দেখার অভিজ্ঞতাও পাল্টে গেছে।


টিভি সেটও একটা সময় বর্গাকার বাক্সের আকারে তৈরি করা হত। অথচ সময়ের সাথে সাথে তা পাল্টে গেছে। এখন বেশিরভাগ টেলিভিশনই আয়তকার। এর সঙ্গেও অ্যাসপেক্ট রেশিও’র সম্পর্ক আছে।

.


# অ্যাসপেক্ট রেশিও বা আকৃতির অনুপাত আসলে কী?


প্রতিটা ভিডিও, কিংবা প্রতিটা সিনেমাই অনেকগুলি স্থিরচিত্র বা ছবি পরপর সাজিয়ে তৈরি করা হয়। এসব স্থিরচিত্রকে বলা হয় ফ্রেম। প্রতি সেকেন্ডে স্ক্রিনে যতগুলি ফ্রেম দেখা যায়, তাকে ‘ফ্রেম পার সেকেন্ড’ বা ‘এফপিএস’ (FPS) বলা হয়। একটি সিনেমায় ‘এফপিএস’কে অনেক সময় ‘ফ্রেম রেট’ও বলা হয়।


এখানে প্রতিটা ফ্রেম দৈর্ঘ্যে আর প্রস্থে কতখানি লম্বা আর চওড়া, সেটাই মূলত অ্যাসপেক্ট রেশিও বা আকৃতির অনুপাত। সহজে বললে, অ্যাসপেক্ট রেশিও হল পর্দার মাপ অনুসারে সিনেমার ফ্রেমের আয়তন বা অনুপাত। 


তাই যেকোনো স্ক্রিন বা পর্দায় একটি চলচ্চিত্রের সম্পূর্ণ ফ্রেমটা দেখতে হলে পর্দার আয়তনও তেমন থাকতে হবে। অর্থাৎ, যেই অ্যাসপেক্ট রেশিও’তে সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে, সেটা পর্দায় দেখার জন্য পর্দার আয়তনের সঙ্গে অ্যাসপেক্ট রেশিও’র সামঞ্জস্য থাকতে হয়।


বিষয়টা আরো ভালভাবে বোঝার জন্য প্রথমে চিন্তা করুন একটি সিনেমা আপনি মুভি থিয়েটারে গিয়ে কীভাবে দেখবেন, সে ব্যাপারে। এরপরে ভাবুন, একই সিনেমা আপনার টেলিভিশন, স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটের মত ডিভাইসে দেখতে কেমন মনে হবে? মোটকথা, সিনেমাটা আপনি যেখানেই দেখুন না কেন, সেটার ফ্রেমের আকার-আকৃতি ঠিক একই রকম থাকবে। এ কারণেই অ্যাসপেক্ট রেশিও এত গুরুত্বপূর্ণ।


অর্থাৎ, স্ক্রিন বা পর্দার আকার যেমনই হোক না কেন, অ্যাসপেক্ট রেশিও ঠিক থাকলে দর্শকরা সিনেমার প্রতিটা ফ্রেমই ঠিকঠাক দেখতে পান। এতে তাদের সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতায় প্রভাব পড়ে না। 


বর্তমানে নির্মিত প্রায় সবগুলি স্মার্টফোন বা টেলিভিশনের আকৃতির মধ্যে সামঞ্জস্য আছে। সবগুলিই আয়তকার। এর কারণ হল, মিডিয়ার দুনিয়ায় এখন সিংহভাগ ভিডিও ক্লিপ যেই অ্যাসপেক্ট রেশিও অনুসারে নির্মাণ করা হয়, তার অনুপাত হল ১৬:৯। ফ্রেমের আকৃতির এই অনুপাত বা অ্যাসপেক্ট রেশিও খুব সহজেই আয়তকার স্ক্রিন বা পর্দার পুরোটা জুড়ে দেখা যায়।


প্রশ্ন জাগতে পারে, ঠিক ১৬:৯ অ্যাসপেক্ট রেশিও কেন এখন এত বেশি দেখা যায়? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে অতীতে অন্যান্য যেসব অ্যাসপেক্ট রেশিও’র অনুপাত প্রচলিত ছিল, সেসব সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে।

.


# সময়ের সাথে সাথে অ্যাসপেক্ট রেশিও’তে আসা পরিবর্তন


১৮৯১ সালে নতুন এক ধরনের ভিডিও ক্যামেরা উদ্ভাবনের জন্য প্যাটেন্ট জমা দেন আমেরিকান উদ্ভাবক থমাস আলভা এডিসন। তার বক্তব্য অনুসারে, ‘কিনেটোগ্রাফ’ নামের সেই ক্যামেরা যন্ত্রটি “চোখের জন্য সেটাই করবে, ফোনোগ্রাফ যন্ত্র যেটা কানের জন্য করেছিল।”


তবে যন্ত্রটি তৈরি করার আগে এডিসন আর তার সহকর্মীদের ঠিক করতে হয়েছিল সেটা দিয়ে ধারণ করা চিত্র বা ফ্রেমের আকৃতি বা আকার কেমন হবে।


আমেরিকান ফটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠান ‘কোডাক’ সে সময়ে বাজারে থাকা তাদের বক্স ক্যামেরায় ব্যবহারের জন্য ৭০ মিলিমিটার এর রোল ফিল্ম বিক্রি করত। 


এদিকে এডিসনের কোম্পানিতে প্রকৌশলী হিসেবে তখন কাজ করতেন উইলিয়াম ডিকসন। তিনি কোডাকের রোল ফিল্ম নিয়ে সেটা কেটে অর্ধেক করে ব্যবহার করেছিলেন তাদের কিনেটোগ্রাফ যন্ত্রের জন্য। তখন থেকেই ৩৫ মিলিমিটার ফিল্মের জন্ম। আজও সিনেমা শিল্পে ৩৫ মিলিমিটার ফিল্ম দিয়ে ভিডিও ধারণ করার প্রচলন রয়ে গেছে।


বলা হয়ে থাকে ইতিহাসের প্রথম চলচ্চিত্রের নাম হল ‘রাউন্ডহে গার্ডেন সিন’। চলচ্চিত্রটি ১:১ অ্যাসপেক্ট রেশিও’তে শ্যুট করা হয় এবং দর্শকদের দেখানো হয়। ৪.৩৩ সেকেন্ডের এই চলচ্চিত্রে মোট ৫২টি ফ্রেম বা চিত্র সংযুক্ত ছিল। এবং তাতে প্রতি সেকেন্ডে ১২টি ফ্রেম প্রদর্শন করা হয়েছিল। 


১:১ অনুপাতের অ্যাসপেক্ট রেশিও’তে নির্মিত এই সিনেমা বর্গাকার বাক্স আকৃতির পুরোনো টেলিভিশন সেটে কিন্তু খুব সুন্দরভাবে ফিট হবে। ‘ক্যাথোড রে টিউব’ বা ‘সিআরটি’ (CRT) টিভি নামের সেসব টেলিভিশন অন্তত বিংশ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত খুবই জনপ্রিয় ছিল।


অন্যদিকে ইতিহাসের প্রথম বর্ণনামূলক চলচ্চিত্র ছিল ১ মিনিটের একটি ডকুমেন্টারি। শ্রমিকরা ‘লুমিয়ের কারখানা’ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, এমন একটা দৃশ্য বন্দি করা হয়েছিল সেই ডকুমেন্টারিতে। যুগান্তকারী এই চলচ্চিত্রের অ্যাসপেক্ট রেশিও ছিল ১.৩৩:১। পরবর্তীতে একই মাপের অ্যাসপেক্ট রেশিও ৪:৩ হিসেবে পরিচিতি পায়।


৪:৩ অ্যাসপেক্ট রেশিও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সিনেমা শিল্পের মানদণ্ড হয়ে ওঠে। কারণ তা এডিসন উদ্ভাবিত ৩৫ মিলিমিটার ফিল্মের ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে ধারণ করা হত। 


একই সময়ে ‘অ্যাকাডেমি অফ মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান—এখন যারা অস্কার আয়োজন করে থাকে, তারা—অ্যাসপেক্ট রেশিও’র নতুন একটি মানদণ্ড নির্ধারণ করে। ‘অ্যাকাডেমি রেশিও’ নামে পরিচিত এই অ্যাসপেক্ট রেশিও’র মাপ ছিল ১.৩৭৫:১।


১৯৫০ এবং ৬০ এর দশকে ভিডিওগ্রাফিতে বড় ধরনের দুটি প্রযুক্তির উদ্ভাবন হয়। ‘প্যানাভিশন’ এবং ‘সিনেমাস্কোপ’ নামের সে দুটি ভিডিও ধারণের প্রযুক্তি আজও সিনেমা নির্মাতাদের কাছে জনপ্রিয়। এই ফরম্যাটে ২.৩৫:১ অ্যাসপেক্ট রেশিও ব্যবহার করা হয়। 


সাম্প্রতিক সময়ে “অ্যাভেঞ্জারস এন্ডগেম” এবং “১৯১৭” (1917) নামের দুটি সিনেমা এই ফরম্যাটে নির্মিত চলচ্চিত্রের উদাহরণ। যুক্তরাষ্ট্রে আরেকটি জনপ্রিয় অ্যাসপেক্ট রেশিও’র মাপ হল ১.৮৫:১।


এভাবে চলচ্চিত্র নির্মাতারা নতুনভাবে সিনেমা তৈরির চেষ্টা করতে থাকেন। ফলে তাদের কাজের মধ্য দিয়ে আরো নতুন নতুন ফরম্যাট এবং অ্যাসপেক্ট রেশিও আবিষ্কৃত হতে থাকে। কিন্তু এর ফলে একটা বড় সমস্যা দেখা দেয়। সেটা হল, এত সব হরেক রকম ফরম্যাট বা অ্যাসপেক্ট রেশিও কীভাবে একটা বর্গাকার টিভির স্ক্রিনে দেখানো যাবে?

.


# নিখুঁত সমাধান - ১৬:৯


বিভিন্ন ধরনের মাল্টিমিডিয়া ডিভাইসে ভিডিও ক্লিপ দেখার জন্য ১৬:৯ অ্যাসপেক্ট রেশিও কেন এত প্রচলিত? এর মূল কারণ হল, ৪:৩ এবং ২.৩৫:১ এর গড় করলে ১৬:৯ এর কাছাকাছি একটা মান পাওয়া যায়। 


অর্থাৎ, ১৬:৯ এর মধ্যে অনেক ধরনের অ্যাসপেক্ট রেশিওতে নির্মিত ভিডিও ক্লিপ দেখা সম্ভব হয়।


যেকোনো অনুপাতের পর্দা বা স্ক্রিনে কোনো ধরনের বিকৃতি ছাড়া সব ধরনের চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা সম্ভব নয়। কিন্তু অ্যাসপেক্ট রেশিও ১৬:৯ রাখা হলে মোটামুটি সব ধরনের ভিডিও একই স্ক্রিনে দেখা সম্ভব। 


দুটি পদ্ধতির মাধ্যমে ১৬:৯ অ্যাসপেক্ট রেশিওতে নির্মিত স্ক্রিনে সব মাপের ভিডিও দেখা যায়। সেগুলি হল:


১. পিলারবক্সিং: কোনো ভিডিও চলাকালীন ফ্রেমের বাম এবং ডানদিকে কালো রঙের দুটি বার থাকলে বুঝতে হবে এই ভিডিওতে পিলারবক্সিং আছে। চওড়ার হিসাবে স্ক্রিনের তুলনায় কোনো ভিডিওর ফ্রেমের প্রস্থ কম হলে পিলারবক্সিং পদ্ধতি কাজে লাগানো হয়।


২. লেটারবক্সিং: ২.৩৫:১ অ্যাসপেক্ট রেশিও’র মত বিভিন্ন ধরনের ওয়াইডস্ক্রিন ফরম্যাটের ভিডিও দেখতে হলে লেটারবক্সিং পদ্ধতি কাজে লাগানো হয়। এতে করে ১৬:৯ অ্যাসপেক্ট রেশিওতে নির্মিত স্ক্রিনে সিনেমার সম্পূর্ণ ফ্রেম দেখার জন্যে স্ক্রিনের ওপরে এবং নিচে কালো রঙের বার দেখা যায়।


আপনি ‘নেটফ্লিক্স’ ব্যবহার করে থাকলে হয়ত লক্ষ্য করেছেন যে, সেখানে ‘ফিট-টু-স্ক্রিন’ কিংবা ‘অরিজিনাল’ এর মত ভিডিও দেখার বিভিন্ন ধরনের বিকল্প অপশন থাকে। বিভিন্ন ধরনের মিডিয়া প্লেয়ার অ্যাপ্লিকেশনেও এ ধরনের অপশন দেখা যায়।


আধুনিক সব ডিভাইসের আয়তকার স্ক্রিনে অনেক ভিডিও কিংবা সিনেমার ফ্রেমের পুরোটা দেখতে হলে পিলারবক্সিং বা লেটারবক্সিং পদ্ধতি কাজে লাগাতে হয়। এতে স্ক্রিনের দুপাশে কালো রঙের বার দেখা যায়। কালো রঙের বারগুলি দেখতে না চাইলে আপনি ‘ফিট-টু-স্ক্রিন’ অপশন কাজে লাগাতে পারেন। কিন্তু এভাবে অ্যাসপেক্ট রেশিও উপেক্ষা করা হলে সিনেমার পুরো ফ্রেমটা স্ক্রিনে দেখা যাবে না।


যাহোক, ওপরে বর্ণিত এসব সুবিধার কারণে ১৬:৯ অ্যাসপেক্ট রেশিও এখন মিডিয়া ও গণমাধ্যম শিল্পের মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে। সিনেমা, ভিডিওগেম বা টিভি-শো’র মত সব ধরনের হাই-ডেফিনিশন কন্টেন্ট এখন ১৬:৯ অ্যাসপেক্ট রেশিওতে ধারণ করা হয়। এমনকি, পুরনো দিনের সব মিডিয়া কন্টেন্ট আধুনিক ডিভাইসে দেখার উপযোগী করে রিমাস্টার করার জন্যও ১৬:৯ অ্যাসপেক্ট রেশিও নির্ধারণ করা হয়।


সবশেষে বলা যায়, অ্যাসপেক্ট রেশিও এমন একটি ধারণা, যে ব্যাপারে সাধারণ দর্শকরা খুব একটা মাথা ঘামান না। এতে করে আমরা বুঝতে পারি না যে, বর্তমানে সিনেমা বা টিভি-শো’র মত যত ধরনের ভিডিও দেখি, তা নির্মাণের ওপর এর প্রভাব কত বেশি।


লেখক এবং অধ্যাপক পল ডিউরো তার ‘রেটোরিক অফ দ্যা ফ্রেম’ বইয়ে যেমনটা লিখেছেন: কোনো সিনেমায় থাকা ফ্রেম অদৃশ্য বলে মনে হওয়ার মানে এই না যে, সেটা আসলেই অদৃশ্য। যত যাই হোক, আমরা আমাদের চারপাশে যা দেখি, সবই একেকটা ফ্রেম, যদি আমাদের তা দেখার চোখ থাকে।


#ফ্রেম #সিনেমা #টিভি

রাত ৮টা ৩০ মিনিটের সংবাদ তারিখ ১৪-০৫-২০২৬

 রাত ৮টা ৩০ মিনিটের সংবাদ তারিখ ১৪-০৫-২০২৬ আজকের সংবাদ শিরোনাম আগামী বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জানুয়ারিতে, এইচএসসি জুনে --- জানালেন শিক...