এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৪

মানুষের জীবনে মুভি দারুণ প্রভাব ফেলে। মুভি আপনাকে হাসাবে, কাদাবে,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হলো- মানুষের জীবনে মুভি দারুণ প্রভাব ফেলে। মুভি আপনাকে হাসাবে, কাদাবে, 

আ ত্ম হ ত্যা থেকে ফিরিয়ে আনবে, নতুন করে স্বপ্ন দেখাবে..


✅ আত্মহত্যা করতে ইচ্ছে করছে? আপনার জন্য..

Its a wonderful life

Shawshank Redemption

Life is Beautiful


✅ জীবনসঙ্গী খুজতে চান? আপনি দেখুন..

Midnight in Paris

Mucise

Vivah


✅ মনকে আবিস্কার করতে চান? দেখুন

তিতলী

বাড়িওয়ালী

অপরিচিত

Raincoat


✅ জীবনে হারতে হারতে ক্লান্ত? দেখুন...

Revenant

Fall

Survival Family


✅ ভাংচুর প্রেমে পড়তে ইচ্ছে করছে? দেখুন-

Dilwale Dulhaniya Le jayenge 

Mohabbatein

Before Sunrise

The Notebook


✅ স্কুল/কলেজ/ভার্সিটি লাইফ মিস করছেন? দেখুন...

96

Three Idiots

Chichoree


✅ তুমুল প্রতিশোধপরায়ন মুভি দেখতে চান? দেখুন...

No Mercy

City of God

Orphan (সাইকো থ্রিলার)


✅ ব্যক্তিত্ব কাকে বলে জানতে চান? দেখুন...

অগ্নীশ্বর


✅ আপনি মেডিকেল প্রফেশনাল হলে দেখুন-

সাগরিকা

সপ্তপদী

অগ্নীশ্বর


✅ শিক্ষকতা ভাল লাগলে দেখুন...

Dead Poet Society

Madam Gita Rani

Tare Zamin par


✅ মুভির কল্পনায় হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে? দেখুন.. 

Apocalypto

Perfume


✅ আপনার বিদ্রোহ মন যুদ্ধ সংঘাত পছন্দ করে? দেখুন...

Braveheart

Troy


✅ টাইম ট্রাভেলে (ব্যাকওয়ার্ড) হারিয়ে যেতে চান? দেখুন...

Casablanca

Lagaan


✅ আপনি চেইন অব কমান্ড পছন্দ করেন? দেখুন...

Down*fall


✅ পোষাপ্রাণী পছন্দ করেন? আপনার জন্য..

Hachi

Charlie 777


✅  রাতে ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে, ভয়ের ফিল নিতে চান? দেখুন...

Woh Kaun Thi


✅ এনিমেশন ভাল লাগে? দেখুন...

Coco

Finding Nimo

Up


✅ মুসলিম কালচার মুভি দেখতে চাইলে...

Children of Heaven

The messege

Baren


✅ ২য় বি*শ্ব*যু*দ্ধ নিয়ে মুভি দেখতে চাইলে..

The Pianist 

Parl Harbour

Down*fall


✅ বাংলা ভাল সিনেমা নাই মনে হলে, দেখুন...

সীমানা পেরিয়ে

সূর্যকন্যা

মেঘের অনেক রঙ

আয়নাবাজি


আপাতত আর মনে পড়ছে না। এরপর মনে পড়লে..

আরও ক্যাটাগরি ও চলচ্চিত্রের নাম যুক্ত করবো।

মুভি লাভার হলে পোস্টটি শেয়ার করে রাখুন 🙂

রাত ৮টা ৩০মিনিটের সংবাদ তারিখ ১৬-১০-২০২৪

 রাত ৮টা ৩০মিনিটের সংবাদ

তারিখ ১৬-১০-২০২৪

আজকের সংবাদ শিরোনাম


৮টি জাতীয় দিবস বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ ৷


       


বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার উপর জোর দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ।


      


গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি শুরু হয়েছে আজ ।


      


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আগামীকাল শুরু হচ্ছে জুলাই-আগস্ট   গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার ।


      


সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন হাইকোর্ট।


      


উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় একটি জ্বালানি ট্যাঙ্কার বিস্ফোরণে কমপক্ষে একশো চার জন নিহত।


       


এবং আগামীকাল দুবাইয়ে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে  আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনাল।

বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৪

রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ। তারিখ: ১৫-১০-২০২৪ খ্রি:।

 রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ।

তারিখ: ১৫-১০-২০২৪ খ্রি:।

আজকের শিরোনাম:…


চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ --- পাসের হার ৭৭ দশমিক সাত-আট শতাংশ।


     


বাংলাদেশে আরও মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার --- বললেন, দেশে ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।


     


রাজধানীর ২০টি স্থানে ভর্তুকি মূল্যে ডিম, আলু, পেঁয়াজ ও সব্জি বিক্রি শুরু।


      


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার বিচার শুরু আগামী বৃহস্পতিবার।


     


ছাত্র আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রায় তিন মাস পর আজ চালু হলো মেট্রোরেলের মিরপুর-১০ স্টেশন।


      


বলিষ্ঠ ও সময়োপযোগী সংস্কার বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হবে --- বলেছে বিশ্বব্যাংক।


      


লেবাননে ইসরাইলি হামলায় গত তিন সপ্তাহে বাস্তুহারা হয়েছে চার লাখের বেশি শিশু।


      


এবং বরখাস্ত হলেন বাংলাদেশের প্রধান ক্রিকেট কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে --- অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হচ্ছেন ফিল সিমন্স।

বাংলা সাহিত্যে তখন একপ্রকার চাঁদের হাট। বনফুল,শিব মৈত্র,পরিমল গোস্বামীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সখ্য।,,, ধ্রুবতারার খোজে ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 বাংলা সাহিত্যে তখন একপ্রকার চাঁদের হাট। বনফুল,শিব মৈত্র,পরিমল গোস্বামীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সখ্য।

বাংলা সাহিত্যের ছোট গল্পের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী বনফুল মাঝে - মাঝেই অপরিচিত লোকের সাথে বন্ধুত্ব করার নেশায় মেতে উঠতেন । ঠিক তেমন অসহায়, অপরিচিত গরীব মানুষের চিকিৎসা করা, তাঁর ওষুধ,পথ্যের সব খরচ সব নিজের পকেট থেকেই দিতেন।যেমন কণ্ঠস্বর ,তেমন চেহারা ,ব্যক্তিত্ব সর্বত্র বনফুল সত্যিই ব্যতিক্রমী বিরল এক চরিত্র। যিনি মেসের বন্ধুর খাওয়ার জন্য বিনা দ্বিধায় অপরিচিত মানুষের বাড়ি থেকে ভাত চেয়ে আনতে পারেন। তাঁর কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসা ভদ্রলোক কে নিঃসঙ্কোচে বলে দিতে পারেন এখন বিয়ে করবেন না।আর বিয়ে করতে চাইলে কনের নাক ক ইঞ্চি বা চামড়া কেমন দেখবেন না,যদি দেখতেই হয় তাহলে ব্লাড স্পিউটাম ইউরিন রিপোর্ট দেখবেন।

©  ধ্রুবতারাদের খোঁজে 


ইংরেজি ক্যালেণ্ডারে ১৯২৮সাল, হ্যারিসন রোড দিয়ে হাঁটছেন  বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়। তখন প্রায় রাত এগারোটা,হঠাৎ বনফুলের মাথায় অদ্ভুত একটা বুদ্ধি খেলল। তাঁর পায়ে দামী জুতো,চট করে জুতো জোড়া খুলে একটা দোকানের দরজায় রেখে দিলেন।সঙ্গী বন্ধু পরিমল গোস্বামী কে বললেন দেখা যাক চুরি হয় কিনা। পরিমল বললেন চুরি তো হবেই,তবু বনফুল পরীক্ষা করবেন। বললেন সকাল বেলা এসে দেখবেন।

পরদিন সকালে ঘুম ভাঙল,খালি পায়ে দোকানে এসে বনফুল দেখলেন তাঁর দামী জুতো জোড়া সত্যিই চুরি হয়েছে।হয়ত সেদিন ওই পরীক্ষার কোনও প্রয়োজন ছিল না।


একবার তিন বন্ধুর খেয়াল চাপল কলকাতার বাইরে থেকে ঘুরে আসা যাক। তিন বন্ধু বনফুল,শিব মৈত্র,পরিমল গোস্বামী শিয়ালদহ এলে সব পয়সা এক জায়গায় করে বনফুলের হাতে তুলে দেওয়া হল। তিনি টিকিট কাউন্টারে গিয়ে বললেন 'দাদা তিন খানা রিটার্ন টিকিট দিন '। কোথাকার?বনফুল বললেন 'তিতোবিরক্ত হয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছি দাদা,যে কোন স্টেশনে দিন, আটকাবে না কিছু '।


কাউন্টার থেকে তিনটি কাঁচরাপাড়ার টিকিট পাওয়া গেল। ট্রেনে এক ভদ্রলোকের সাথে আলাপ জমে উঠেছে, তিনি কাঁচরাপাড়া যাবেন। বনফুল তাঁর সঙ্গে রীতিমত ভাব জমিয়ে দাদা বলতে লাগলেন, এরপর প্রস্তাব দিলেন তাঁর বাড়িতে গিয়ে বৌদির হাতে রান্না খেয়ে অন্যকথা। ভদ্রলোক বেশ বিপদে পড়লেন। তিনি যত অন্যপ্রসঙ্গে যেতে চান বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের তত তাঁর ও সহধর্মিণীর কথা বলতে থাকেন। কাঁচরাপাড়ায় নেমে তিন বন্ধু পথ চলতে আরম্ভ করলে ভদ্রলোক নানা ভাবে তাদের নিরুৎসাহ করতে থাকেন।

বললেন 'রাত্রি বেশি হলে ফেরবার আর গাড়ি পাবেন না, আপনাদের ভীষণ কষ্ট হবে,আপনারা সত্যি আসবেন না,আমার বাড়ি এখান থেকে চার মাইল 'ইত্যাদি। সত্যি বলতে নিছক মজা করতে তিন বন্ধু তাঁর সঙ্গে মাইল খানেক গিয়েছিলেন। এই হলেন বাংলা সাহিত্যের ছোট গল্পের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী মানুষ বনফুল। বোধহয় সেই কারণে তাঁর লেখায় এত বৈচিত্র্য,এত মিষ্টতা,এত চমকপ্রদ, পাঠককে ক্লান্ত হতে হয় না।।

সংকলনে ✍🏻 অরুণাভ সেন।।

© ধ্রুবতারাদের খোঁজে


#balaichandmukherjee 

#litterature 

#untoldstories 

#dhrubotaraderkhonje


পুস্তক ঋণ  ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার,স্মৃতি চিত্রণ,পরিমল গোস্বামী



সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৪

আমি বই পড়ছিলাম, আমার চার বছরের ছোট্ট মেয়েটা বারান্দায় খেলনা হাঁড়িপাতিলে রান্না করছে,,,,,, ফেইসবুক গল্প ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 আমি বই পড়ছিলাম, আমার চার বছরের ছোট্ট মেয়েটা বারান্দায় খেলনা হাঁড়িপাতিলে রান্না করছে। হঠাৎ দৌড়ে এসে জিজ্ঞেস করল, বাবা, চা খাবে?


চা খাবার বদ অভ্যেসটা আমার বেশ পুরনো! আমি ওর খেলনার বাটিতে চুমুক দিয়ে তৃপ্তি পাবার অভিনয় করে বললাম, খুব ভালো হয়েছে মা।

- আর এককাপ খাবে?

- না মা! আমি পড়াশোনা করছি।

- তাইলে নিডো খাও! শক্তি হবে!


আমি ওর দিকে তাকালাম। আমাকে নিয়ে এমন চিন্তিত চেহারায় আমার গর্ভধারিণী মায়ের পর আর কাউকে দেখেছি বলে মনে পড়ে না! হাত বাড়িয়ে বুকে টেনে নিলাম। ঘাড়ে মাথা দিয়ে ও চুপ করে শুয়ে আছে, ওর মাথার ঘ্রাণটা আমার চোখে পানি এনে দিচ্ছে! আহা মা! আহা বন্ধন! মাঝে মাঝেই আমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। সব কন্যার বাবাই হয়তো আমার মতো লুকিয়ে কাঁদে।


আমার বিয়ের সময় বিদায়বেলায় আমার শ্বশুর তার মেয়েকে বুকে জড়িয়ে কেঁদেছিলেন। আমার হাত চেপে ধরে বলেছিলেন, মেয়েটা আমার বড্ডো আদরের, ও কোনো ভুল করলে আমাকে বলবে বাবা, বকাঝকা করো না।

আমিও সুবোধ বালকের মতো মাথা নেড়ে বলেছিলাম, অবশ্যই বাবা!


আমি ওয়াদা রাখিনি। সংসার জীবনের পথ পরিক্রমায় আমি আরেকজনের কন্যাকে কাঁদিয়েছি, বকাঝকাও করেছি! আমি জানি আমার স্ত্রী এগুলো মনে রাখে না। সে এখন একমাত্র আমার সংসার নিয়েই চিন্তিত, এর বাইরে তার মাথায় কিছু কাজ করে না! তার বাবার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে সে তৈরি করেছে আলাদা এক বৃত্তের বলয়। সেই বৃত্তের কেন্দ্রে শুধুই আমার দুই সন্তান আর প্রচন্ড ব্যস্ত আমি। তার পৃথিবীটা আজ শুধুমাত্র আমাদেরকে ঘিরেই আবর্তিত হয়। ভাবলে অবাক লাগে, কী আত্মত্যাগটাই না একজন নারী করে তার সংসারের জন্য!


আমার ছোট্ট মেয়েটাও একদিন হয়তো আমাকে কাঁদিয়ে আরেক বৃত্তে চলে যাবে! আমাকেও হয়তো আরেক যুবকের হাত ধরে সেই একই কথার পুণরাবৃত্তিই করতে হবে! আমি চাই না আমার ব্যর্থতা আমার কন্যাসন্তানকে স্পর্শ করুক! আমি ক্ষমাপ্রার্থী আর অনুতপ্ত কথা রাখতে না পারার জন্য।


কন্যার পিতা হওয়া অনেক কষ্টের। কতটুকু কষ্টের সেটা কন্যাসন্তানের পিতা হবার পূর্বে অনুভূত হয় না। আমার চোখের কোণায় পানি গাঢ় হচ্ছে, আমার ছোট্ট মেয়েটা খুবই অস্থির হয়ে উঠেছে, ভ্রু কুঁচকে পড়ার চেষ্টা করছে এক অপরাধীর জবানবন্দি। ওর চোখেও জল! কি জানি! মেয়েরাই হয়তো বাবার অনুভূতি পড়তে পারে, সৃষ্টিকর্তা মেয়েদেরকে বাবার অনুভূতি পড়তে পারার এক অদ্ভুত শক্তি দিয়েই পৃথিবীতে পাঠান।


একজন বাবা তার সন্তানের কাছে কেমন, তা নির্ভর করে তিনি স্বামী হিসেবে তার স্ত্রীর সাথে কেমন আচরণ করছেন তার উপর। সন্তানেরা মায়ের চোখ দিয়েই বাবাকে দেখে। একজন স্ত্রী তার স্বামীকে শ্রদ্ধা করলে, ভালবাসলে, সন্তানেরাও বাবাকে ভালবাসতে শেখে, শ্রদ্ধা করে। একজন স্ত্রী তার স্বামীকে ঘৃণা করলে, সন্তানেরাও তাদের বাবাকে আজীবন ঘৃণার চোখে দেখে।


বাবাদের মূল্যায়ন তার নিজের কাজ দিয়ে হয় না। বরং, মা কিভাবে বাবাকে সন্তানদের সামনে উপস্থাপন করছেন তার আলোকেই নির্ধারিত হয়। সন্তানেরা মায়ের চোখ দিয়েই বুঝে নেয়, বাবা কি হিরো নাকি ভিলেন। তাই, একজন ভাল বাবা হওয়ার আগে, একজন ভাল স্বামী হওয়া খুব জরুরী।



বাড়ি ঘর জায়গা জমি সন্তানদের লিখে দিবেন না,,,,,,,

 " বাড়ি ঘর জায়গা জমি সন্তানদের লিখে দিবেন না । আপনার ঘরে আপনি বসবাস করবেন । দরকার হলে ছেলে মেয়েরা  বাড়ি ঘর তৈরি করে 'যৌবনাশ্রমে ' থাকবে "  :


পরিণত বয়সে এসে আমাদের অনেকেরই হয়তো কাজেও লাগতে পারে গল্পটি!!!


"যৌবনাশ্রম খুঁজে দেখো!"


আব্দুর রহমান সাহেব ক'মাস ধরেই কিছু আঁচ করছিলেন। উনি তিন বছর হয় রিটায়ার করেছেন। সরকারী উচ্চপদে ছিলেন। ভাল অঙ্কের পেনশন পান। স্ত্রী গত হয়েছেন বহুদিন আগে।


দুটি ছেলেকে বড় যত্নে মানুষ করেছেন। বাবা এবং মায়ের দুজনের স্নেহ দিয়ে ভালভাবে লেখাপড়া করে তারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারপর বড় ছেলের বিয়ে দিলেন। একটি নাতি হল। উনার মনে আর আনন্দ ধরে না ।


এরপর ছোট ছেলে নিজের পছন্দের মেয়ে খুঁজে বাবাকে জানালে তিনি সানন্দে সেই মেয়েকে ঘরে নিয়ে এলেন। রিটায়ারের আগেই বড় ছেলের বিয়ে হয়েছিল। তারপর ছোট বৌমা এল।


আব্দুর রহমান সাহেব এখন নাতিকে নিয়ে বেশ সময় কাটান। সংসারের অনেকটা ব্যয় ভার বহন করেন।


একদিন ইজি চেয়ারে বসে সকালে কাগজ পড়ছেন বড় বৌমার গলা পেলেন, আজ বাজার শর্ট আছে.রাতে রান্না হবে না। সে চাকরী করে। বলছে জা কে।


এ বাড়িতে ছেলেদের জন্মের আগে থেকে কাজের মেয়ে জয়নব আছে। সে তাঁর ছেলেদের থেকে বেশ কিছুটা বড়। জয়নব মাতৃহারা দুই ছেলেকে অপার স্নেহে আগলে রেখেছিল।


সে বলল--ভাইজানরা কেউ এনে দেবে।


বড় বৌ বলল--কেন বাবা তো বসে আছেন বাজারটা রোজ করলেই পারেন।


আব্দুর রহমান সাহেবের কানে কথাটা বাজল। বুঝলেন সংসারে তাঁর প্রয়োজন ফুরিয়েছে।


নিজের মনকে বললেন-- মন তুই তৈরী থাক।


এরপর থেকে বৌদের নানা আচরণে তাঁর প্রতি বিরূপতা প্রকাশ পেতে থাকল।


একদিন সকালে বড় ছেলে রাগত গলায় বৌকে বলছে--আমার শার্টটা লণ্ড্রী থেকে আনা হয়নি?


বড় বৌ বললো-- না যাবার সময় হয়নি।


বড় ছেলে -বাবা একটু আনতে পারল না? সারাদিন তো বসেই থাকে।


আব্দুর রহমান সাহেবের কানে গেলে ভাবলেন-- যুগধর্ম!


এরপর একদিন এক ছুটির দিনে সকালে ব্রেকফাস্ট টেবিলে এসে দেখলেন--সবাই আগে ভাগেই উপস্থিত।


জয়নব প্লেটে গরম লুচি, আলু ভাজি আর সন্দেশ পরিবেশন করছে।


বড় ছেলে বলল --বাবা একটা কথা ছিল।


আব্দুর রহমান সাহেব বুঝলেন এরা সকলে কিছু প্ল্যান করেছে। বললেন, বল।


বড় ছেলে বললো, জানো বাবা কাল অফিসের কাজে গাজীপুর গিয়েছিলাম। কাজের ফাঁকে সময় পেয়ে ওখানকার দর্শনীয় জায়গা গুলো দেখতে বেড়িয়েছিলাম। দেখলাম নদীর ধারে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে একটা সুন্দর বৃদ্ধাশ্রম চালু হয়েছে। দেখেই ভাবলাম তুমি ওখানে মনোরম পরিবেশে শেষ জীবনটা থাকতে পারো। আমরা যাব আসব। কিরে ভাই কি বলিস?


ছোট ছেলে বলল, বেশ ভালো হবে।


আব্দুর রহমান সাহেব হেসে বললেন--সব তো শুনলাম। কিন্তু বাবারা তোমরা যেমন আমার জন্য ভাবো, আমিও তোমাদের জন্য ভাবি। তাই আমারও একটা প্রস্তাব আছে তোমাদের জন্য। তোমরাই বরং যুতসই এবং মনোরম পরিবেশের একটা যৌবনাশ্রমের খোঁজ করে নিয়ে সেখানে গিয়ে থাকোনা কেন। বাড়ীটাতো আমারই, পেনশনও পাই ভাল। জয়নব মাকে নিয়ে আমরা বাপ বেটিতে বেশ ভালই থাকব। তোমরাও আসবে যাবে।


এই ভাবে তিনি এক ছক্কায় বাজীমাত করে দিলেন। জয়নবকে বললেন--জয়নব মা, লুচিগুলো ঠাণ্ডা হয়ে গেল। গরম গরম নিয়ে আয় তো।


ছেলেরা আর ছেলেদের বৌয়েরা রীতিমতো হতভম্ব হয়ে গেল, বাকরুদ্ধ হয়ে বসে রইলো.....!!


দিন কাল পালটাচ্ছে। তাই যোগ্য জবাব দেবার জন্য তৈরী থাকা উচিৎ ........


তা নাহলে ভবিষ্যতে বড় বিপদে পড়তে হতে পারে।

ভালো লাগলে শেয়ার দিবেন,হাজারো মানুষ সচেতন হবে।



রবিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৪

সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ ১৩-১৯-২০২৪

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ ১৩-১৯-২০২৪

আজকের সংবাদ শিরোনাম


ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দেশের অধিকার বঞ্চিত মানুষদের মুক্ত করেছে --- ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বললেন প্রধান উপদেষ্টা।

         

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আজ শেষ হচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব।

          

পতিত ফ্যাসিবাদ রাজপথে পরাজিত হয়ে এখন অনলাইনে শক্তি প্রদর্শন করছে উল্লেখ কোরে মিথ্যা তথ্য ও গুজবে বিশ্বাস না করার আহ্বান জানালেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।  

       

মা মাছ সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের জন্য ইলিশ আহরণে সরকারের নিষেধাজ্ঞা --- এ সময় ভিজিএফের চাল পাবেন সংশ্লিষ্ট জেলেরা।

      

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় দেশে এবছর সর্বোচ্চ নয়জনের মৃত্যু --- হাসপাতালে নতুন ভর্তি নয়শোর বেশি।

  

গাজার মধ্যাঞ্চলে সর্বশেষ ইসরাইলি বিমান হামলায় ২৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত।

    

এবং হায়দ্রাবাদে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়ে তিন-শূন্যতে ভারতের সিরিজ জয়।

শনিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৪

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের অবস্থান,,,,,

 📍 °কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত°

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের অবস্থান পটুয়াখালী (Patuakhali) জেলার কলাপাড়া থানার লতাচাপলি ইউনিয়নে। প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত (Kuakata Sea Beach) থেকে একই সাথে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখা যায়। এই বৈশিষ্ট কুয়াকাটাকে সকল সমুদ্র সৈকত থেকে অনন্য করেছে। পরিচ্ছন্ন বেলাভূমি, অনিন্দ্য সুন্দর সমুদ্র সৈকত, দিগন্তজোড়া সুনীল আকাশ এবং ম্যানগ্রুভ বন কুয়াকাটাকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটা সাগরকন্যা হিসেবে পরিচিত।


✡️ কুয়াকাটার দর্শনীয় স্থান~


কুয়াকাটায় শুধু সমুদ্র সৈকতই নয়, এখানে দেখার মতো আছে আরো অনেক দর্শনীয় স্থান। পূর্ব ও পশ্চিমের ঝাউবন, তিন নদীর মোহনা, লেবুর চর, গঙ্গামতির জঙ্গল, লাল কাকড়া দ্বীপও সবুজ অরণ্য উপভোগের সাথে সাথে পাবেন সুন্দরবনের একাংশ দেখার সুযোগ। কিংবা কুয়াকাটার ঐতিহাসিক কুয়া, বৌদ্ধমন্দির কিংবা দুর্গম চর বিজয় অভিযানের জন্যেও কুয়াকাটা বেড়াতে যেতে


পারেন।


✅ শুঁটকি পল্লী: 


জেলে পল্লীর অবস্থান কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম প্রান্তে। এখানে মূলত নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত শুঁটকি তৈরির মৌসুম চলে। সমুদ্র থেকে মাছ ধরে সৈকতের পাশেই শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হয়। চাইলে জেলেদের এই কর্মব্যস্ততা দেখে সময় কাটাতে পারেন। আর কম দামে কিনে নিতে পারেন বিভিন্ন ধরণের পছন্দের শুঁটকি।


✅ ক্রাব আইল্যান্ড: 


কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ধরে পূর্ব দিকে অনেকটা দূর পর্যন্ত এগিয়ে গেলে ক্রাব আইল্যান্ড বা কাঁকড়ার দ্বীপ খ্যাত জায়গা চোখে পড়ে। এখানে নির্জন সৈকতে ঘুরে বেড়ায় হাজার হাজার লাল কাঁকড়ার দল। ভ্রমণ মৌসুমের সময় অর্থাৎ অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত কুয়াকাট সমুদ্র সৈকত থেকে ক্রাব আইল্যান্ডে যাবার স্পিড বোটে পাওয়া যায়।


✅ গঙ্গামতির জঙ্গল: 


পূর্ব দিকে গঙ্গামতির খাল পর্যন্ত এসে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত শেষ হয়েছে। আর এই জায়গা থেকেই গঙ্গামতির জঙ্গল শুরু। বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ছাড়াও এই জঙ্গলে দেখা মিলে বিভিন্ন রকম পাখি, বন মোরগ-মুরগি, বানর ইত্যাদি পশুপাখির। অনেকের কাছে এই জঙ্গল গজমতির জঙ্গল হিসাবে পরিচিত।


✅ ফাতরার বন:


 সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম দিকে অবস্থিতনদীর অন্য পাড় থেকে ফাতরার বন শুরু। এ বনের রয়েছে সুন্দরবনের প্রায় সকল বৈশিষ্ট। এখানে বন মোরগ, বানর, বুনো শুকর ও নানান পাখি পাওয়া যায়। কুয়াকাটা থেকে ফাতরার বনে যেতে হলে আপনাকে ইঞ্জিন নৌকা ভাড়া করতে হবে।


✅ কুয়াকাটার কুয়া: 


কুয়াকাটা নামকরণের পেছনে যে ইতিহাস আছে সেই ইতিহাসের সাক্ষী কুয়াটি এখনও আছে। এই কুয়াটি দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে রাখাইনদের বাসস্থল কেরাণিপাড়ায়। এপাড়ায় প্রবেশ করতেই প্রাচীন এ কুয়া দেখতে পাবেন।


কথিত আছে ১৭৮৪ সালে মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে রাখাইনরা বঙ্গোপসাগরের তীরে রাঙ্গাবালি দ্বীপে এসে আশ্রয় নেয়। সাগরের লোনা জল ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় তারা এখানে মিষ্টি পানির জন্য কূপ খনন করে সে ঠেকে জায়গাটি ধীরে ধীরে কুয়াকাটা নামে পরিচিত হয়ে উঠে।


✅ সীমা বৌদ্ধ মন্দির: 


কুয়াকাটার প্রাচীন কুয়ার একটু সামনেই সীমা বৌদ্ধ মন্দিরের অবস্থান। কয়েক বছর আগে কাঠের তৈরি এই মন্দির ভেঙে দালান তৈরি করা হয়েছে। এই মন্দিরের মধ্যে রয়েছে প্রায় ৩৭ মন ওজনের অষ্টধাতুর তৈরি একটি প্রাচীন বৌদ্ধ মূর্তি।


✅ কেরানিপাড়া: 


সীমা বৌদ্ধ মন্দিরের রাস্তা ধরে একটু এগিয়ে গেলেই রাখাইনদের আবাসস্থল কেরানিপাড়া। রাখাইন নারীরা কাপড় বুণনে বেশ দক্ষ এবং তাদের তৈরি শীতের চাদর অনেক আকর্ষণীয়।

মেয়ের বাবাদের লজ্জা থাকতে নেই,,,,,, মেয়ে থাকলে পড়বেন আশাকরি,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 মেয়ের বাবাদের লজ্জা থাকতে নেই


দরজা খুলে নিজের জন্মদাতা পিতাকে হাসি মুখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মন খারাপ হয়ে গেলো! মলিন মুখে বললাম,

- বাবা, ভিতরে আসো!

বাবা ভিতরে এসে একটা বক্স বাড়িয়ে দিয়ে বললো

- “এই নে, তোর পছন্দের গুড়ের পায়েস এনেছি!”

কিছুটা অবাক হয়ে বললাম

- তুমি এই সামান্য পায়েস দেওয়ার জন্য ৬০ কিলোমিটার পথ জার্নি করে এসেছো? 

বাবা হেসে বললো,

- “তোর মা রান্না করেছে। তোকে না দিয়ে কিভাবে খাই মা? তাই নিয়ে চলে আসলাম!”


রুমের ভেতর থেকে ড্রয়িংরুমের দিকে আসতে আসতে আমার শ্বাশুড়ি বললো,

- “বউ মা, কে এসেছে?”

বাবা আমার শ্বাশুড়িকে দেখে বললো

- “কেমন আছেন বেয়ান সাব?” 


শ্বাশুড়ি বাবার কথার কোন উত্তর না দিয়ে আবার রুমের ভেতর চলে গেলো! বাবা আসলে আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন খুশি হওয়ার চেয়ে বিরক্তই হয় বেশি!

হুটহাট করে যদি মেয়ের বাড়ি চলে আসে তাহলে শ্বশুড়বাড়ির লোকজন বিরক্ত হবে এটাই স্বাভাবিক! অথচ আমার অবুঝ বাবা সেটা বুঝে না। কয়েকদিন যেতে না যেতেই কিছু না কিছু একটা নিয়ে বাসায় হাজির হবেই! 

বাবাকে বললাম,

- যাও বাবা, ভেতরের রুমে আপাতত বিশ্রাম নাও, তারপর দুপুরে খাওয়া-দাওয়া করে চলে যেও।

বাবা কিছুটা অবাক হয়ে বললো

- “মা, আজকেই কি চলে যেতে হবে? তোদের বাসায় একটা দিন থাকি?”

কোনরকম কান্না চেপে রেখে চোখ-মুখ শক্ত করে বললাম,

- না বাবা, তোমার থাকতে হবে না! দুপুরের খাওয়ার পরই চলে যাবে! 


কথাটা বলে আমি রান্নাঘরে এসে কাঁদতে লাগলাম। কতোটা অসহায় হলে একটা মেয়ে তার বাবাকে বাসায় একটা দিন রাখতে চায় না, সেটা কেউ বুঝবে না!

শ্বাশুড়ির রুমে এসে মাথা নিচু করে বললাম

- মা, ফ্রীজ থেকে খাসির মাংসটা বের করে রান্না করি? বাবা দুপুরে খেয়েই চলে যাবে।

শ্বাশুড়ি রাগী চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বললো

- “এতো মেহমানদারি করতে হবে না! তোমার বাপ তো প্রতি কয়েকদিন পর পরেই আসে! তার জন্য খাসির মাংস রান্না করতে হবে নাকি? যা আছে তা দিয়েই খাইয়ে বিদায় করো! লোকটার লাজ লজ্জা বলতে কিছুই নেই। কয়েকদিন যেতে না যেতেই মেয়ের বাড়ি এসে পড়ে ভালো-মন্দ খাওয়ার জন্য!”

শ্বাশুড়ির কাছে হাত জোর করে মিনতি করে বললাম,

- মা, আল্লাহর দোহাই লাগে, এভাবে বলবেন না! পাশের রুমে আমার বাবা আছে, শুনলে কষ্ট পাবে। কথাটা বলে আমি চলে আসলাম… 


শুধু যে আমার শ্বাশুড়ি বাবাকে অপমান করে তা না। আমার স্বামীও করে। একবার আমার স্বামী বাবাকে বাজারের ব্যাগ দিয়ে বলেছিল,

- “বাসায় তো বসেই আছেন। যান বাজারটা করে নিয়ে আসুন!”

মেয়ের জামাই শ্বশুরকে বলেছে বাজার করে নিয়ে আসুন! এটা যে কতোটা অপমানজনক আমার বাবা সেটা বুঝতে পারেনি! উনি ব্যাগ নিয়ে হাসিমুখে বাজার করতে চলে গিয়েছিল!


রুমে এসে দেখি বাবা খবরের কাগজ পড়ছে। আমাকে দেখে হাসিমুখে বললো,

- “দেখলি সাকিব আবার সেঞ্চুরি করেছে। ছেলেটার ভেতর দম আছে! দেখিস সামনে আরো ভালো কিছু করবে।”

আমি বাবার দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলাম, আমার বাবা তো এমন ছিল না। নিজের বিন্দু পরিমাণ অপমান সহ্য করতো না। সেই বাবা আমাকে বিয়ে দেওয়ার পর এমন হয়ে গেলো কেন! 


দুপুরে বাবাকে খাওয়ানোর সময় মাছের মাথাটা যখন বাবার প্লেটের দিকে বাড়িয়ে দিবো, তখন শ্বাশুড়ি এসে বললো

- “তুমি জানো না, মাছের মাথা ছাড়া আমার ছেলে খেতে পারে না। কোন হিসাবে নিজের বাবাকে মাছের মাথা দিচ্ছো?”

বাবা তখন শুধু তারকারীর ঝোল মেখে খেতে খেতে বললো

- “তুই এতো ভালো রান্না করিস কিভাবে? বাড়ি গেলে তোর মাকে একদিন শেখাবি। ২৫ বছর ধরে সংসার করছে, অথচ রান্নাটা ভালো করে শিখতে পারেনি!” 

আমি তখন কাঁদতে কাঁদতে বাবাকে বললাম

- আল্লাহ কি তোমাকে একটু লাজ লজ্জা দেয়নি। এতো অপমানের পরেও কয়দিন পর পর মেয়ের শ্বশুড়বাড়ি এসে হাজির হও। তুমি যদি আমার ভালো চাও, তাহলে এই বাড়িতে আর এসো না! 


বাবা সেদিন আমাকে আর কিছুই বলেনি। শুধু যাবার সময় আমার মাথায় হাত বুলিয়ে হাসিমুখে চলে গিয়েছিল… 


সেদিনের পর বাবা আর কখনো আমার শ্বশুরবাড়ি আসেনি। মাঝখানে আমার শ্বাশুড়ি অসুস্থ হলো, স্বামীর ব্যবসার অবস্থা খারাপ হলো, বাবাই সব টাকা দিয়েছে কিন্তু বাসায় আসেনি!

একদিন শ্বাশুড়ি আমাকে বললো,

- “বেয়ান মশাই তো আর আসে না!”

আমি হেসে বললাম

- “মেয়ের বাসায় এসে কি করবে? মেয়ে তো তাকে একবেলা মাছের মাথা দিয়ে খাওয়াতে পারতো না। তরকারির ঝোল দিয়েই ভাত খেতে হতো। তাই হয়তো আর আসে না!” 

স্বামী একবার বললো,

- “বাবাকে বলো একবার বাসায় আসতে!”

একথা শুনে স্বামীর চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম,

- “কেন! বাজার করার লোক আছে তো! শুধু শুধু আরেকজন লোক বাসায় আনার দরকার কি? শ্বাশুড়ি কিংবা স্বামী সেদিন কিছু বলতে পারেনি। শুধু মাথা নিচু করে ছিল…


২ বছর পর…

আমি মেয়ের মা হয়েছি। কিন্তু মেয়ের প্রতি আমার চেয়ে আমার স্বামীর দরদ বেশি! মেয়ে রাতে যতোক্ষণ সজাগ থাকে, ততোক্ষণ মেয়েকে কোলে নিয়ে হাঁটে!।মেয়ে ঘুমালে মেয়ের মুখের কাছে মুখ নিয়ে নিঃশ্বাসের শব্দ শুনে! মেয়ে যেদিন আধো আধো গলায় বাবা বলে ডেকেছিল, সেদিন আমার স্বামী খুশিতে বাচ্চাদের মতো কান্না করে দিয়েছিল!

 

একদিন মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরে আমাকে আমার স্বামী বললো,

- “আমার মেয়েকে আমি বিয়ে দিবো না! সারাজীবন আমার কাছে রাখবো। মেয়েকে ছাড়া আমি থাকতেই পারবো না”!


আমি তখন স্বামীর চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম

- “আমার বাবাও হয়তো ঠিক এভাবে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেছিল আমাকে বিয়ে দিবে না। আমাকে ছাড়া থাকতে পারবে না। কিন্তু মেয়ে মানুষ বলে কথা। বিয়ে তো দিতেই হবে। মেয়েকে বিয়ে দিলো। মেয়ের বাসায় এসে প্রতিবার অপমানিত হয়ে যেতো, তবুও আবার আসতো!”


কথাগুলো শুনে আমার স্বামী যখন নিরব হয়ে রইলো তাখন আমি চোখের জল ফেলতে ফেলতে বললাম,

 - তোমারা আমার বাবাকে যতোটা বেশরম ভেবেছিলে, বিশ্বাস করো আমার বাবা এমন বেশরম না! উনি সবই বুঝতো, তবুও না বুঝার অভিনয় করতো। একমাত্র মেয়ে ছিলাম তো, তাই মেয়েকে দেখার জন্য বাবার হৃদয়টা কাঁদতো। তাই কয়েকদিন পর পর এসে পড়তো।

 

রাতে কান্নাকাটি করে কখন ঘুমিয়েছি জানি না। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার স্বামী ল্যাগেজ গুছিয়ে তৈরি হয়ে বসে আছে! 

অবাক হয়ে বললাম,

- কোথাও যাবে নাকি?

স্বামী মেয়ের দিকে তাকিয়ে কান্না ভেজা চোখেও মুখে হাসি নিয়ে বললো,

- “মেয়ের বাবা যেহেতু হয়েছি, সেহেতু শ্বুশুরের কাছে গিয়ে নির্লজ্জ হবার ট্রেনিং নিতে হবে! কারণ একদিন আমাকেও হয়তো অনেক অপমান সহ্য করতে হবে, যেমনটা আমি আমার শ্বশুরকে করেছি। মেয়ের বাবাদের তো আবার লজ্জা থাকতে নেই!” 


আমি আমার স্বামীকে কিছু বলতে পারছিলাম না। শুধু দেখছিলাম আর ভাবছিলাম, মেয়ের বাবা হবার পর নিজের করা ভুলের জন্য কতোটা অনুতপ্ত হলে একটা ত্রিশোর্ধ মানুষ বাচ্চার মতো কান্নাকাটি করে! 

আজকের পর থেকে স্বামীর প্রতি আমার কোন অভিযোগ নেই…


সংগৃহীত

সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ: ১২-১০ - ২০২৪ খ্রি:।

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ: ১২-১০ - ২০২৪ খ্রি:।

আজকেরশিরোনাম:-… 


অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সংস্কার উদ্যোগসমূহের প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করলো জাতিসংঘ।

          

বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার আজ মহা নবমী উদযাপন করছে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়।

        

দেশে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে কাজ করছে স্থানীয় সরকার বিভাগের ১০টি টিম। 

   

নিত্য পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে অভিযান পরিচালনা করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। 

       

মিয়ানমারের নৌবাহিনীর হাতে বাংলাদেশি জেলে হত্যার কড়া প্রতিবাদ জানালো ঢাকা।

       

৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর দু’বার হামলা চালিয়েছে ইসরাইলী বাহিনী।

       

এবং আজ হায়দ্রাবাদে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট সিরিজের তৃতীয় এবং শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

কশাইদের প্রতারণার শিকার ভোক্তাগণ,,,,,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 আমাদের দেশে মাংসের দোকানগুলোতে গেলে দেখবেন কসাই মাংস কাটছে আর সেই মাংস থরথর করে নড়ছে। সাধারণ ক্রেতারা মনে করে, মাংস নড়ছে মানেই এটা একদম টাট...