এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৪

বিপদ-আপদ আল্লাহর সতর্ক সংকেতঃ

 বিপদ-আপদ আল্লাহর সতর্ক সংকেতঃ


একটি মামুলি ছোট্ট গৃহের যদি দু’জন গৃহকর্তা হয় তাহলে সে গৃহের ব্যবস্থাপনা চার দিনও ভালোভাবে চলতে পারে না। আর গভীর তাৎপর্যপূর্ণ কথাটি হচ্ছে, বিশ্ব-জাহানের সমগ্র ব্যবস্থা পৃথিবীর ভূগর্ভ স্তর থেকে নিয়ে দূরবর্তী গ্রহ নক্ষত্র পর্যন্ত সবকিছুই একটি বিশ্বজনীন নিয়মের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। এর অসংখ্য ও অগণিত জিনিসগুলোর মধ্যে যদি পারস্পরিক সামঞ্জস্য, ভারসাম্য, সমতা, সমঝোতা ও সহযোগিতা প্রতিষ্ঠিত না থাকতো তাহলে এ ব্যবস্থাটি এক মুহূর্তের জন্যও চলতে পারতো না। আর কোন প্রবল প্রতাপান্বিত আইন এ অসংখ্য বস্তু ও শক্তিকে পূর্ণ সমতা ও ভারসাম্য সহকারে পারস্পরিক সহযোগিতা করতে বাধ্য না করতে থাকা পর্যন্ত এসব কিছু সম্ভব নয়। এখন এটা কেমন করে ধারণা করা যেতে পারে যে, বহু স্বতন্ত্র স্বাধীন শাসকের রাজ্যে একই আইন এ ধরনের নিয়মানুবর্তিতা সহকারে চলতে পারে? নিয়ম ও শৃংখলা যে বজায় আছে এটাই নিয়ম পরিচালকের একক অস্তিত্বকে অপরিহার্য করে তোলে। আইন ও শৃংখলার ব্যাপকতা ও বিশ্বজনীনতা নিজেই একথার সাক্ষ্য দেয় যে, ক্ষমতা একই সার্বভৌম কর্তৃত্বে কেন্দ্রীভূত রয়েছে এবং এ সার্বভৌম কর্তৃত্ব বিভিন্ন শাসকদের মধ্যে বিভক্ত নয় 

আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেন—

وَ مَاۤ اَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَّسُوْلٍ اِلَّا نُوْحِیْۤ اِلَیْهِ اَنَّهٗ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنَا فَاعْبُدُوْنِ

আমি তোমার পূর্বে যে রসূলই পাঠিয়েছি তাঁর প্রতি এ অহী করেছি যে, আমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই কাজেই তোমরা আমারই বন্দেগী করো। 

(সূরা আল আম্বিয়া: ২৫)


দুঃখ-আনন্দ, দারিদ্র-ধনাঢ্যতা, জয়-পরাজয়, শক্তিমত্তা-দুর্বলতা, সুস্থতা-রুগ্নতা ইত্যাদি সকল অবস্থায় মানুষদেরকে পরীক্ষা করা হচ্ছে। দেখা হচ্ছে, ভালো অবস্থায় তাহারা অহংকারী, জালেম, আল্লাহ‌ বিস্মৃত ও প্রবৃত্তির দাস হয়ে যায় কিনা। খারাপ অবস্থায় হিম্মত ও সাহস কমে যাওয়ায় নিম্নমানের ও অবমাননাকর পদ্ধতি এবং অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে বসে কি না। কাজেই কোন বুদ্ধিমান ব্যক্তির এ রকমারি অবস্থা বুঝার ব্যাপারে ভুল করা উচিত নয়। সে যে অবস্থারই সম্মুখীন হোক, তাকে অবশ্যই পরীক্ষার এ দিকটি সামনে রাখতে হবে এবং সাফল্যের সাথে একে অতিক্রম করতে হবে। 


মহান আল্লাহ তাআলা কখনো কখনো তার প্রিয় বান্দাদের বিপদ ও মুসিবতের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন। যেন তাদের ঈমান ও ধৈর্যের গভীরতা যাচাই করা যায়। যারা সবর ও তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে এই পরীক্ষার মোকাবিলা করে, আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে সাহায্যের জন্য তার দরবারে প্রার্থনা করে, তারাই প্রকৃত অর্থে এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। বিপদের সময় আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীলতা ও ধৈর্যবান হওয়ার গুণাবলি, আত্মার শুদ্ধি, মুমিনের ঈমানকে বৃদ্ধি করে।

মুমিন সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর আস্থা রাখে। আল্লাহর সব সিদ্ধান্তই মুমিন তার জন্য কল্যাণকর বলে বিবেচনা করে। তাই মুমিনের উচিত বিপদে বিচলিত না হয়ে মহান আল্লাহর ওপর অগাধ বিশ্বাস রাখা। এতে মহান আল্লাহর রহমত পাওয়া যায়। পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে---

 اَلَّذِيْنَ اِذَآ اَصَابَتْهُمْ مُّصِيْبَةٌ ۗ قَالُوْٓا اِنَّا لِلّٰهِ وَاِنَّآ اِلَيْهِ رٰجِعُوْنَۗ

"যখন তারা বিপদে পতিত হয়, তখন বলে, নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তারই সান্নিধ্যে ফিরে যাব। এরাই তারা, যাদের প্রতি তাদের রবের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ ও রহমত বর্ষিত হয়, আর তারাই সৎপথে পরিচালিত"। (সুরা বাকারা ১৫৬~১৫৭)


বিপদে ধৈর্য না হারিয়ে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে ঠান্ডা মাথায় তা থেকে উত্তরণের পথ বের করতে হবে। পবিত্র কুরআনুল কারীমে মহান আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সফলকাম বলেছেন। ইরশাদ হয়েছে---

اِنِّيْ جَزَيْتُهُمُ الْيَوْمَ بِمَا صَبَرُوْٓاۙ اَنَّهُمْ هُمُ الْفَاۤىِٕزُوْنَ

"আজ আমি তাদেরকে তাদের ধৈর্যের কারণে এমন প্রতিদান দিয়েছি যে তারাই সফল"। (সুরা মুমিনুন: ১১১)


মানুষ বড়ই ধৈর্যহারা, তারা আল্লাহর আজাব কেয়ামত ও জাহান্নাম নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করে ,তারা বলে এরা আমাদের ভয় দেখায় আল্লাহকে অস্বীকার করলে আল্লাহর আযাব আপতিত হবে, কিয়ামতে তোমাদের শাস্তি দেয়া হবে এবং তোমাদেরকে জাহান্নামের ইন্ধনে পরিণত করা হবে। কিন্তু আমরা প্রতিদিন অস্বীকার করছি এবং হেসে কুঁদে বেড়াচ্ছি, কোন আযাব আসতে দেখা যাচ্ছে না এবং কোন কিয়ামতও হচ্ছে না। নির্বোধের দল, কল্যাণ চাওয়ার পরিবর্তে আযাব চাচ্ছো? তোমাদের কি এ ব্যাপারে কিছু জানা আছে যে, আল্লাহর আযাব যখন কোন জাতির ওপর নেমে আসে তখন তার দশাটা কি হয়?

আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেন—

بَلْ تَاْتِیْهِمْ بَغْتَةً فَتَبْهَتُهُمْ فَلَا یَسْتَطِیْعُوْنَ رَدَّهَا وَ لَا هُمْ یُنْظَرُوْنَ

সে আপদ তাদের ওপর আকস্মিকভাবে এসে পড়বে এবং তাদেরকে হঠাৎ এমনভাবে চেপে ধরবে যে, তারা তার প্রতিরোধও করতে পারবে না। এবং মুহূর্তকালের অবকাশও লাভ করতে সক্ষম হবে না।

(সূরা আম্বিয়া: ৪০)


তাদের সমস্ত জীবনোপকরণ আমার হাতে রয়েছে, আমি যে জিনিসটি চাই কমিয়ে দিতে পারি, যেটি চাই বন্ধ করে দিতে পারি, সেক্ষেত্রে তারা কি আমার মোকাবিলায় বিজয়ী হবার এবং আমার পাকড়াও থেকে নিষ্কৃতি লাভ করার ক্ষমতা রাখে? এ নিদর্শনাবলী কি তাদেরকে এ মর্মে নিশ্চিন্ততা দান করে যে, তাদের শক্তি চিরস্থায়ী, তাদের আয়েশ-আরাম কোনদিন নিশেষিত হবে না এবং তাদেরকে পাকড়াও করার কেউ নেই?


অকস্মাৎ কখনো দুর্ভিক্ষ, কখনো বন্যা, ভূমিকম্প, মহামারী, আবার কখনো প্রচণ্ড শীত বা প্রচণ্ড গরম এবং কখনো অন্য কিছু দেখা দেয়। এভাবে আকস্মিক বিপদ-আপদ মানুষের সমস্ত কীর্তি ও কর্মকাণ্ড ধ্বংস করে দিয়ে যায়। হাজার হাজার, লাখো লাখো লোক মারা যায়। জনবসতি ধ্বংস হয়ে যায়। সবুজ-শ্যামল শস্য ক্ষেতগুলো বিধ্বস্ত হয়। উৎপদান কমে যায়। ব্যবসায় বাণিজ্যে মন্দাভাব দেখা দেয়। মোট কথা মানুষের জীবন ধারণের উপায় উপকরণের কখনো এদিক থেকে আবার কখনো ওদিক থেকে ঘাটতি দেখা দেয়। নিজের সমুদয় শক্তি নিয়োজিত করেও মানুষ এ ক্ষতির পথ রোধ করতে পারে না।


নিজেদের বিদ্রোহাত্মক নীতির জন্য আখেরাতের বড় শাস্তির পূর্বে দুনিয়াতে ছোট শাস্তি দেওয়া হবে। কুফরী ও ফাসেকীর অপরাধে এ শাস্তি দেয়া হবে। এর মোকাবিলায় এর অর্থ হচ্ছে এ দুনিয়ায় মানুষ যেসব কষ্ট পায় সেগুলো। যেমন ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন রোগ, নিজের প্রিয়তম লোকদের মৃত্যু, ভয়াবহ দুর্ঘটনা, মারাত্মক ক্ষতি, ব্যর্থতা ইত্যাদি। সামাজিক জীবনে ঝড়-তুফান, ভূমিকম্প, বন্যা, মহামারী, দুর্ভিক্ষ, দাঙ্গা, যুদ্ধ এবং আরো বহু আপদ-বিপদ, যা লাখো লাখো কোটি কোটি মানুষকে প্রভাবিত করে। এসব বিপদ অবতীর্ণ হওয়ার প্রয়োজন ও কল্যাণকর দিক বর্ণনা করে বলা হয়েছে, এর ফলে বড় শাস্তি ভোগ করার আগেই যেন মানুষ সচেতন হয়ে যায় এবং এমন চিন্তা ও কর্মপদ্ধতি ত্যাগ করে যার পরিণামে তাদেরকে এ বড় শাস্তি ভোগ করতে হবে। অন্যকথায় এর অর্থ হবে, দুনিয়ায় আল্লাহ‌ মানুষকে একেবারেই পরমানন্দে রাখেননি। নিশ্চিন্তে ও আরামে জীবনের গাড়ি চলতে থাকলে মানুষ এ ভুল ধারণায় লিপ্ত হয়ে পড়বে যে, তার চেয়ে বড় আর কোন শক্তি নেই যে, তার কোন ক্ষতি করতে পারে। বরং আল্লাহ‌ এমন ব্যবস্থা করে রেখেছেন যার ফলে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তি, জাতি ও দেশের ওপর এমন সব বিপদ-আপদ পাঠাতে থাকেন, যা তাদেরকে একদিকে নিজেদের অসহায়তা এবং অন্যদিকে নিজেদের চেয়ে বড় ও উর্ধ্বে একটি মহাপরাক্রমশালী সর্বব্যাপী শাসন ব্যবস্থার অনুভূতি দান করে। এ বিপদ প্রত্যেকটি ব্যক্তি, দল ও জাতিকে একথা স্মরণ করিয়ে দেয় যে, তোমাদের ভাগ্য ওপরে অন্য একজন নিয়ন্ত্রণ করছেন। সবকিছু তোমাদের হাতে দিয়ে দেয়া হয়নি। আসল ক্ষমতা রয়েছে তার হাতে যিনি কর্তৃত্ব সহকারে এসব কিছু করে চলছেন। তার পক্ষ থেকে যখনই কোন বিপদ তোমাদের ওপর আসে, তার বিরূদ্ধে কোন প্রতিরোধ তোমরা গড়ে তুলতে পারো না এবং কোন জ্বিন, রূহ, দেব-দেবী, নবী বা অলীর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেও তার পথ রোধ করতে সক্ষম হও না। 


এদিক দিয়ে বিচার করলে এ বিপদ নিছক বিপদ নয় বরং আল্লাহর সতর্ক সংকেত। মানুষকে সত্য জানাবার এবং তার বিভ্রান্তি দূর করার জন্য একে পাঠানো হয়। এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে যদি মানুষ দুনিয়াতেই নিজের বিশ্বাস ও কর্ম শুধরে নেয় তাহলে আখেরাতে আল্লাহর বড় শাস্তির মুখোমুখি হবার তার কোন প্রয়োজনই দেখা দেবে না ইনশাআল্লাহ।

মান্না ও নদী জুটি অভিনীত চলচ্চিত্রের তালিকা :

 🌺মান্না ও নদী জুটি অভিনীত চলচ্চিত্রের তালিকা :


(১) বাপ বেটার লড়াই – (২০০৪)

(২) তেজী পুরুষ – (২০০৪)

(৩) একরোখা – (২০০৫)

(৪) আমি জেল থেকে বলছি – (২০০৫)

(৫) সন্ত্রাসী মুন্না – (২০০৫)

(৬) জোড়া খুন – (২০০৫)

(৭) ঠান্ডা মাথার খুনী – (২০০৬)

(৮) টোকাইয়ের হাতে অস্ত্র কেন – (২০০৬)

(৯) নেতা – (২০০৬)

(১০) বাংলার হিরো – (২০০৬)

(১১) মুসা ভাই – (২০০৭)

(১২) যমদূত – (২০০৭)

(১৩) মায়ের বদলা – (২০০৭)

(১৪) নষ্ট জীবন – (২০১১)

পুরুষালী ফেইসবুক গল্প পিউ ভট্টাচার্য

 রাত তখন সাড়ে বারোটা, ঘন ঘন হাতের ঘড়িটার দিকে দেখতে দেখতে খুব তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে হেঁটে আসছিলো পেশায় 'বার ডান্সার' শালিনী। এক্ষুণি বাড়ি গিয়ে মেসোকে খেতে দিতে হবে। পঙ্গু মেসো, বাপ মা মরা মেয়েটার ওই মেসোই একমাত্র পরিবার। আজ বড্ড রাত হয়ে গেছে, তাই বড় রাস্তার মোড়ে এসে সাত পাঁচ না ভেবে পাশের অন্ধকার একটা শর্টকাট গলি ধরলো ও ...


গলিটার ঠিক মুখেই তখন বসে স্মার্টফোন ঘাঁটছে কুশল।  রাত বারোটায় ইন্টারন্যাশনাল মেন'স ডে শুরু হয়েছে, তাই টপাক করে একটা পোস্টে লাভ রিয়্যাক্ট দিয়েই, "Mens are the symobol of responsibility"  কমেন্ট করে মুখটা তুলতেই চোখে পড়লো সামনে দিয়ে হেঁটে চলে যাওয়া মেয়েটার দিকে। আর দেখা মাত্রই সেইদিকেই চোখ আটকে গেলো ওর! ছিপছিপে চেহারা, শর্ট স্কার্ট, স্ট্রেট চুল, স্লিভলেস টপ, টকটকে লাল লিপস্টিক, উফফ্ !! 


দেরি করলোনা কুশল আর এক মুহুর্তও, ঝটপট উঠে দাঁড়িয়ে ফোনটা পকেটে ঢুকিয়েই হাঁটা দিলো মেয়েটার পিছনে পিছনে। একটু তফাৎ রেখে হাঁটতে হাঁটতে অন্ধকারে চোখ সয়ে আসতেই চোখ দিয়েই ভালো করে চেখে নিচ্ছিলো মেয়েটার সুডোল চেহারাটা, ঠোঁট কামড়ে কামড়ে দেখছিলো ওর তাড়াহুড়োয় এগিয়ে চলা চঞ্চল নিতম্বটা, লোমহীন মোলায়েম পা গুলো!


এইভাবে যেতে যেতে মেয়েটা যখন গিয়ে পৌঁছয় এই কালো নিকষ গলিটার একদম মাঝখানে, ঠিক তখনই মেয়েটার ব্যাগের মধ্যে থেকে হঠাৎ ওর ফোনটা বেজে ওঠে! আর সঙ্গে সঙ্গে ও দাঁড়িয়ে গিয়ে ব্যাগ থেকে ফোনটা বার করতে যায়...


ব্যাস্, এই সুযোগ! এই সুযোগটা আর হাতছাড়া করেনি কুশল! শালিনী ফোনটা বের করে কানে দিয়ে শুধু বলেছে "হ্যালো মেসো?", আর তক্ষুনি পিছন থেকে দৌড়ে এসে বাঘের মতো শালিনীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, ওকে গায়ের জোরে জাপটে ধরতেই, হঠাৎ কোত্থেকে একটা আধলা ইঁট এসে ভীষণ জোরে আঁছড়ে পড়লো কুশলের মাথায়! আর সঙ্গে সঙ্গে ভীষণ একটা গোঙানির শব্দ করে কুশল শালিনীকে ছেড়ে দিয়ে ধপাস করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েই জ্ঞান হারালো!


-----


এক মুহুর্ত সব চুপ! শালিনী এখন হাঁপাচ্ছে। বিস্ফারিত চোখে ও প্রথমে অবাক হয়ে মাটিতে পড়ে থাকা খয়েড়ি-সাদা চুলের ছেলেটাকে দেখে, তারপর মুখ তুলে তাকালো সামনের দিকে। দেখলো, একটু দূরে অন্ধকার পাঁচিলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে একটা ছেঁড়া জামা পরা, উসকো খুশকো চুলের বদ্ধ পাগল! সে তখনও দাঁত মুখ খিঁচিয়ে মাটিতে পড়ে থাকা কুশলকে দেখছে আর রাগে ফুঁসছে! নোংরা কালো হাতটা তখনো থরথর করে কাঁপছে পাগলটার। অন্ধকার বলেই বোধহয় কুশল দেখতে পায়নি, যে একজন দূর থেকে ওর এই অসভ্যতামিটা লক্ষ্য করছিলো ... 


হাত থেকে ফোনটা পড়ে গিয়েছে শালিনীর, চোখদুটো বিস্ফারিত নেই আর, স্তিমিত হয়ে এসেছে অল্প জলে। নিজের অজান্তেই কীভাবে যেন হাত দুটো জোর করে শালিনী নমস্কারের ভঙ্গিতে তুলে ধরেছে পাগলটার দিকে। ঠোঁট দুটো তিরতির করে কাঁপছে ওর! আর,


পাগলটার নোংরা লাল দাঁতে, তখন শান্তির হাসি, দায়িত্ব পালনের হাসি !


-- পিউ --

শাবানা যত নায়কের সঙ্গে সিনেমা করেছেন তাঁদের তালিকাঃ,,,,,,

 🌺বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী অভিনেত্রী শাবানা যত নায়কের সঙ্গে সিনেমা করেছেন তাঁদের তালিকাঃ


(১) রাজ্জাক

(২) আলমগীর

(৩) জ‌সিম

(৪) ওয়াসিম

(৫) ফারুক

(৬) সো‌হেল রানা

(৭) বুলবুল আহ‌মেদ

(৮) জাফর ইকবাল

(৯) ই‌লিয়াস কাঞ্চন

(১০) নাদিম

(১১) খসরু

(১২) প্রবীর মিত্র

(১৩) মিঠুন

(১৪) এ‌টিএম শামসুজ্জামান

(১৫) আনন্দ

(১৬) ফয়সাল

(১৭) রা‌জেশ খান্না

(১৮।) মেহফুজ

(১৯) জা‌ভেদ

(২০) উজ্জ্বল

(২১) রহমান

(২২) শওকত আকবর

(২৩) হাসান ইমাম

(২৪) আ‌জিম

(২৫) মান্নান

জানেন গুড় থেকে কিভাবে এলো গৌড় দেশ?

 জানেন গুড় থেকে কিভাবে এলো গৌড় দেশ?


খুবই পরিচিত একটি শব্দ হল গুড়, এককালে বাঙালি ঘরে অতিথি এলে গুড়-জল দিয়ে অভ‍্যর্থনা জানানো হতো। বাঙালি ঘরের শিশুরা দুধ-গুড় আর গুড়-মুড়ি খেয়ে বড়ো হতো। এখনকার মতো তখন প‍্যাকেটজাত শিশুখাদ্য ছিল না। আর এই প্রিয় গুড় থেকেই দেশটার নাম হয়ে গেল গৌড়দেশ, সংক্ষেপে “গৌড়।”

প্রাচীন বাংলার ( অন্য বানানে “বাঙলা” ) নাম ছিল গৌড়। পাঁচটি মৌলিক ভাগে বিভক্ত হয়ে পুরো দেশটি পরিচিত ছিল পঞ্চগৌড় নামে


১) পঞ্চগৌড়ের প্রথম ভাগ ছিল লাল মাটির দেশ “রাঢ়।” ভাগীরথীর পশ্চিম তীরের এলাকায় অবস্থিত আজকের বীরভূম, বর্ধমান, মেদিনীপুর, হুগলি, হাওড়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মুর্শিদাবাদ, দুমকা, সাহেবগঞ্জ, দেওঘর, গোড্ডা, ধানবাদ, পুরুলিয়া, সিংভূম, রাঁচির পূর্ব অংশ, গিরিডির দক্ষিণ-পূর্ব অংশ নিয়ে ছিল রাঢ়। সবচেয়ে বড়ো এই এলাকা


২) গৌড়ের দ্বিতীয় এলাকা ছিল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের ব-দ্বীপ এলাকা। এর নাম ছিল “সমতট, ” সাধারণভাবে বলা হতো “বাগড়ি।” পূর্ব মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, উত্তর ও দক্ষিণ দুই চব্বিশ পরগণা, কলকাতা এবং বর্তমান বাংলাদেশের খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, গোয়ালন্দ, গোপালগঞ্জ, পটুয়াখালী ছিল এই এলাকায়।

এই সমতটের রাজা ভগীরথ পদ্মা থেকে গঙ্গা, জলঙ্গী প্রভৃতি একশোটি খাল কেটে তাকে সমুদ্রের সঙ্গে জুড়েছিলেন। সেজন্য গঙ্গার আরেক নাম হয়ে যায়, শতমুখী। রামায়ণের সগর রাজা ছিলেন এই সমতটের রাজা। তাঁর “সগর” নাম থেকেই হয়েছে “সাগর।”


৩) তৃতীয় অংশ ছিল বরেন্দ্র। গঙ্গার উত্তরে আজকের মালদহ ও দিনাজপুর এলাকা।


৪) গঙ্গার উত্তর তীরে ছিল বিদেহ বা মিথিলা। রাজা মিথি এই দেশ জয় করে ত্রিহোত্রীয় যজ্ঞ করেছিলেন। তাই এর আরেক নাম তিরহুত অর্থাৎ তীরভূমি। পঞ্চগৌড়ের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে ছোট এলাকা।


৫) এর পরের অংশ “বঙ্গ।” গৌড়দেশের নদীমাতৃক এলাকা অর্থাৎ আজকের বাংলাদেশের ঢাকা অঞ্চল ছিল এই এলাকার অন্তর্ভুক্ত।

আর বঙ্গের কাছাকাছি এলাকা পরিচিত ছিল “বঙ্গাল” নামে। অনেকে মোগল যুগের লেখক আবুল ফজলের “আইন-ই-আকবরী” থেকে “বঙ্গাল” শব্দের ব‍্যাখ‍্যা করেন, “বঙ্গ” + “আল” = বঙ্গাল অর্থাৎ আল দিয়ে ঘেরা যে দেশ, তার নাম “বঙ্গাল” বলে থাকেন।


কিন্তু বৌদ্ধযুগ থেকেই “বঙ্গাল” শব্দটির ব‍্যবহার রয়েছে। চর্যাপদে দেখা যাচ্ছে, “ভুসুকু আজ তু বঙ্গালী ভইলী।” কাজেই মোগল আমলের বহু আগে থেকেই এই দেশের নাম “বঙ্গাল।” বঙ্গের কাছাকাছি যে অঞ্চল, তার নাম ছিল “বঙ্গাল।” সংস্কৃতে যা ছিল গৌড়দেশ, বাংলায় তা হয়ে যায় “বাঙলাদেশ।” ফিরে আসি গৌড়ের নামকরণ প্রসঙ্গে। এই দেশ ছিল আখের গুড়, তাল গুড়, খেজুর গুড়ে সমৃদ্ধ এলাকা। বৈদিক শব্দ “গুড়।” এই “গুড়” শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত “ষ্ণ” প্রত‍্যয় যোগে উৎপন্ন হয় “গৌড়” শব্দ। এখান থেকে তৈরি গুড় রপ্তানি হতো বিভিন্ন দেশে। এমনকি, যখন পোর্তুগীজরা এদেশে এসেছিলেন, তখন তাঁরা এদেশ থেকে মূলত গুড় ও চিনি রপ্তানি করতেন। এজন্য তাঁরা এদেশের সপ্তগ্রাম ও চট্টগ্রাম বন্দর দুটিকে ব‍্যবহার করতেন। এভাবেই গুড়ের দেশ হিসেবে ব‍্যাপক অর্থে পঞ্চ গৌড় মিলে গোটা উত্তর ভারতের নাম হয়ে যায় “গৌড়দেশ।” আর সাধারণভাবে “গৌড়দেশ” বলতে বোঝায় “বাঙলা।” বৌদ্ধযুগের পরে ব্রাহ্মণদের গাঞি-গোত্রাদি নির্ধারণের জন্য প্রয়াগে একটি বড়ো মেলা বসেছিল। অনেক আলোচনার পর শেষে ভারতের দশ শ্রেণির ব্রাহ্মণকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে পাঁচ শ্রেণির ছিল উত্তর ভারতের এবং এঁদের নাম দেওয়া হয়েছিল “পঞ্চগৌড়ী। জম্মু, কাশ্মীর, পাঞ্জাবের সারস্বত ব্রাহ্মণ এবং রাজস্থান, হরিয়াণার গৌড় ব্রাহ্মণ। এই ব্রাহ্মণরা গৌড়দেশ থেকে গিয়েছিলেন বলে এঁদের বলা হয়েছে গৌড় ব্রাহ্মণ। এঁরা মাছ-মাংস খেতেন না। আর বাঙলার ব্রাহ্মণরা মাছ-মাংস খেতেন বলে তাঁরা স্বীকৃতি পাননি।

অন্যদিকে, অন্য পাঁচ শ্রেণির ব্রাহ্মণ ছিলেন পঞ্চ দ্রাবিড়ী ব্রাহ্মণ। এঁদের মধ্যে ছিলেন উত্তর প্রদেশের কনৌজী ব্রাহ্মণ, গুজরাটের নাগর ব্রাহ্মণ এবং উত্তর বিহারের মৈথিলী ব্রাহ্মণ। যাই হোক, গুড় থেকেই যে গৌড় হয়েছে তা বোঝা গেল। গুড় বাংলায় একটি জনপ্রিয় খাদ‍্য। শীতকালে খেজুর গুড় শীতের নতুন বার্তা বয়ে আনে। তাই শীতকালে খেজুর গুড় থেকে তৈরি পাটালির সংস্কৃত নাম “নববার্তা, ” যা থেকে চলতি কথায় হয়েছে “নবাত।” অন্যদিকে, ফাল্গুনে তৈরি এখো গুড় অর্থাৎ আখের গুড়ের ব‍্যাপক ব‍্যবহার হয় বাঙালির দুর্গাপুজোর সময় বিভিন্ন ধরণের নাড়ু, আরশে তৈরিতে।

তাই গুড় বৈদিক যুগ থেকে এখনো সমান জনপ্রিয়। গুড় থেকে গৌড় নামটিও সার্থক।


সংগৃহীত।

সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ ০১-১২-২০২৪ খ্রি:।

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ ০১-১২-২০২৪ খ্রি:।


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন জানিয়ে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের সব অপচেষ্টা রুখে দিতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানালেন দেশের ৫০ জন বিশিষ্ট নাগরিক।


ঢাকা ও নতুন দিল্লির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ নিরসন করতে হবে ভারতকে - মন্তব্য পররাষ্ট্র উপদেষ্টার।


চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার ঘটনায় ৩১ জনের নামে মামলা।


দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টের পাঁয়তারা করছে একটি গোষ্ঠী - বললেন ধর্ম উপদেষ্টা -  ঐক্যবদ্ধ হয়ে অপচেষ্টা রুখে দেওয়ার আহ্বান।


কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে আজ থেকে শুরু হচ্ছে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল।


শুরু হলো মহান বিজয়ের মাস ডিসেম্বর।


ইউক্রেন সরকারের আওতাধীন ভূখণ্ড ন্যাটোর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হলে যুদ্ধের অবসান হতে পারে - বললেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।


কিংস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ গতকালের দুই উইকেটে ৬৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনে আবারো প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং শুরু করবে আজ।

এন্ড্রু কিশোর কুমার বাড়ৈ (মঞ্চনাম এন্ড্রু কিশোর হিসাবেই অধিক পরিচিত

 এন্ড্রু কিশোর কুমার বাড়ৈ

(মঞ্চনাম এন্ড্রু কিশোর হিসাবেই অধিক পরিচিত; ৪ নভেম্বর ১৯৫৫ - ৬ জুলাই ২০২০) 

তিনি বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের বহু চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন, যে'জন্য তিনি 'প্লেব্যাক সম্রাট' নামে পরিচিত। তার সবচেয়ে জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে "জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প", "হায়রে মানুষ রঙ্গীন ফানুস", "ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে", "আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি", "আমার বুকের মধ্যে খানে", "আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন", "ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা", "সবাই তো ভালোবাসা চায় ", "চাঁন্দের সাথে রাতের পিরিতি", "পদ্ম পাতার পানি নয়" ইত্যাদি।

কিশোর ছয় বছর বয়স থেকে সঙ্গীতের তালিম নেওয়া শুরু করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর তিনি রাজশাহী বেতারে নজরুল, রবীন্দ্র, লোকসঙ্গীত ও দেশাত্মবোধক গান শাখায় তালিকাভুক্ত হন। চলচ্চিত্রে তার প্রথম গান মেইল ট্রেন (১৯৭৭) চলচ্চিত্রের "অচিনপুরের রাজকুমারী নেই"। তিনি বড় ভাল লোক ছিল (১৯৮২) চলচ্চিত্রের "হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস" গানের জন্য শ্রেষ্ঠ পুরুষ কণ্ঠশিল্পী বিভাগে তার প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এরপর তিনি সারেন্ডার (১৯৮৭), ক্ষতিপূরণ (১৯৮৯), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৯১), কবুল (১৯৯৬), আজ গায়ে হলুদ (২০০০), সাজঘর (২০০৭) ও কি যাদু করিলা (২০০৮) চলচ্চিত্রের গানের জন্য আরও সাতবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া তিনি পাঁচবার বাচসাস পুরস্কার ও দুইবার মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার লাভ করেন। সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক (মরণোত্তর), ২০২৪ ভূষিত করে। এছাড়াও অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন এন্ড্রু কিশোর।

এন্ড্রু কিশোর ১৯৫৫ সালের ৪ঠা নভেম্বর রাজশাহী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ক্ষীতিশ চন্দ্র বাড়ৈ এবং মাতা মিনু বাড়ৈ রাজশাহীর একটি হাসপাতালে চাকরি করতেন। মায়ের কাছে পড়াশোনায় হাতেখড়ি হয়েছিল। তার শৈশব- কৈশোর ও যৌবনকাল কেটেছে রাজশাহী। তার মাতা ছিলেন সংগীত অনুরাগী, তার প্রিয় শিল্পী ছিলেন কিশোর কুমার। প্রিয় শিল্পীর নামানুসারে তার সন্তানের নাম রাখেন 'কিশোর'। মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতেই তিনি সংগীতাঙ্গনেই পা রাখেন। 

এন্ড্রু কিশোর আব্দুল আজিজ বাচ্চুর অধীনে প্রাথমিকভাবে সঙ্গীত পাঠ গ্রহণ শুরু করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর কিশোর নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, আধুনিক, লোক ও দেশাত্মবোধক গান শ্রেণিতে রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী ছিলেন। কিশোর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগে পড়াশোনা করেছেন।

এক  অস্থির জেনারেশন তৈরি করছি আমরা। বিলিভ অর নট এই জেনারেশনের স্পেসিফিক কোনো লক্ষ্য নাই

 এক অস্থির জেনারেশন তৈরি করছি আমরা। বিলিভ অর নট এই জেনারেশনের স্পেসিফিক কোনো লক্ষ্য নাই। এদের আদর্শিক কোনো এমবিশান নাই। পবিত্র কোনো মিশন নাই।


এরা বই পড়ে না, নিউজপেপার পড়ে না। আউটডোর খেলাধুলায়ও এদের অনীহা।


এরা রৌদ্রে হাঁটতে পছন্দ করে না। বৃষ্টিতে ভিজতে চায় না। কাঁদামাটি, ঘাস, লতাপাতায় এদের এলার্জি। এরা আধা কিলোমিটার গন্তব্যে যেতে আধা ঘন্টা রিক্সার জন্য অপেক্ষা করে।

এরা অস্থির। প্রচণ্ডরকম অস্থির এক জেনারেশন।


এরা অপরিচিত সিনিয়রদের সালাম দেবে না। পাশ কাটিয়ে হনহন করে চলে যাবে। অথবা গা ঘেষে পা পাড়া দিয়ে চলে যাবে। সরি বলার টেণ্ডেন্সি এদের মধ্যে নাই। এরা অনর্থক তর্ক জুড়ে দেবে। না পাবেন বিনয়ী ভঙ্গি, না পাবেন কৃতজ্ঞতাবোধ। এদের উদ্ধত আচরণ, সদম্ভ চলাফেরায় আপনি ভয়ে কুকড়ে যাবেন। সংযত হওয়ার উপদেশ দিতে চাইলেই বিপদ, নাজেহাল হওয়ার সম্ভাবনা অধিক।


আপনি পাব্লিক বাসে চড়ছেন, দেখবেন খালি সীটটায় জায়গা পেতে সবচেয়ে জুনিয়র ছেলেটা বেশি প্রতিযোগিতা করবে। আপনাকে ধাক্কাটাক্কা দিয়ে সটান বসে পড়বে। তার বয়সের দ্বিগুন এই আপনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া তেমন কিছু করার থাকে না।


বলছিলাম এই জেনারেশনের কথা। সবচেয়ে ভয়াবহ ফিতনার কথা যে মজলিসে এই জেনারেশন দাঁড়িয়ে থাকার কথা, সেই মজলিসে তারা নিজের জন্য চেয়ার খোঁজ করে। যেখানে চুপ থাকার কথা, সেখানে জ্ঞান দিতে চেষ্টা করে।


সারা রাত ধরে অনলাইনে থাকে, সারা সকাল ঘুমায়। এরা সূর্যোদয় দেখে না, সূর্যাস্ত দেখে না। সূর্যোদয়ে বিছানায় থাকে, সূর্যাস্তে মোবাইলে থাকে।


এরা ফার্স্টফুডে আসক্ত।

এরা আউটডোর খেলা অপছন্দ করে। এরা ইনডোরে স্বস্তি পায়। নিদৃষ্ট করে বললে মূলত অনলাইন গেম তাদের ফার্স্ট প্রায়োরিটি।


এরা ইতিহাস পড়ে না। সাহিত্য বুঝে না। এরা নজরুল চিনে না, রবীন্দ্রনাথ চিনে না, ফররুখ চিনে না। সাদী, রুমি, হাফিজ ত বহু অচেনা প্রসঙ্গ। এরা বই বুঝে না, বই পড়ে না, বই কিনে না৷


এরা নন-স্কিলড। এরা হাঁটতে পারে না, দৌড়াতে পারে না, গাছে চড়তে জানে না, সাতার কাটতে পারে না। সাগর পাড়ি দেওয়ার সেই দু:সাহসিকতা নাই, পাহাড় কেটে পথ তৈরি করার সেই অদম্য মনোবল নাই। এদের উচ্ছ্বাস নাই। আবেগ নাই। সৎ সাহস নাই। এদের একটাই স্কিল- স্মার্ট ফোন দ্রুত স্ক্রল করতে পারা৷


এদের না আছে মূল্যবোধ, না আছে শ্রদ্ধাবোধ, না আছে শৃঙ্খলাবোধ।

কখন চলতে হবে, কখন থামতে হবে, কখন বলতে হবে, কখন শুনতে হবে এরা জানে না।

বিয়ের আসরে ছেলের বাবা হাসিমুখে বললেন,,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 বিয়ের আসরে ছেলের বাবা হাসিমুখে বললেন,

"বেয়াই সাহেব, বিয়েতো হয়ে যাচ্ছে তো আমার ছেলের জন্য বলছিলাম যে পাঁচ লাখ টাকা আর একটা বাইকের ব্যবস্থা করলে সুবিধা হতো। 


আসলে চাইতাম না তবুও ওর অফিসে যাতায়াতের জন্য বাইকটা খুবই প্রয়োজন ছিল। আর আমারও কিছু ঋণ-টিন আছে ওগুলাও পরিশোধ করতাম। ছেলে তো আমার একটাই। আমার যা আছে সবই তো ওর আর ওর মানে আমার বউমার।"

মেয়ে পক্ষের সকলে এই কথা শুনে চুপ করে রইলো। কিছুক্ষণ বাদেই কাজি সাহেব আসলেন বিয়ে পড়ানোর খাতা পত্র নিয়ে। যখন কাবিনের কথা উঠলো তখন মেয়ের বাবা কাউকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে কাজি সাহেবকে বললেন,

"আপনি দশ লাখ টাকা কাবিন লিখেন।"

এই কথা শুনে ছেলের বাবা ফুঁসে উঠে বললেন,

"দশ লাখ টাকা কাবিন? মগের মুল্লুক নাকি? আমার ছেলের সামর্থ্যও তো দেখতে হবে নাকি?"

মেয়ের বাবা সামান্য হেসে বলেন,

"মেয়ে তো আপনাদের কাছেই থাকবে তো দশ লাখ কাবিন হোক আর এক কোটি হোক তাতে কি আসে যায়?"

ছেলের বাবা রাগমিশ্রিত কণ্ঠে বলেন,

"যত যাই বলেন আমি এতো টাকা কাবিন দিবো না।"

মেয়ের বাবা ভরা মজলিসে সামান্য অট্টহাসি দিয়ে বলেন,

"দশ লাখ টাকা কাবিন দিতে আপনার ভয় যে ছেলে বউয়ের যদি কোনোভাবে ডিভোর্স হয়ে যায় তাহলে আপনার দশ লাখ টাকা গচ্চা যাবে আর এদিকে আপনি ঠিকই আমার কাছে ছেলের জন্য বাইক আর পাঁচলাখ টাকা নগদ চাচ্ছেন। বিষয়টা কেমন হয়ে গেলো না?"

"কিসের সাথে কি মিলান? জামাইকে শ্বশুর বাড়ি থেকে এসব টুকটাক তো সবাই দেয়। এটাতো সমাজেরই নিয়ম।"

মেয়ের বাবা ঠান্ডা মাথায় বললেন,

"যৌতুক নেওয়া যদি সমাজের নিয়ম হয় তাহলে কাবিনও বেশি দেওয়া সমাজের নিয়ম। একচোখে সবকিছু দেখলে হয় নাকি বেয়াই সাহেব?"

ছেলের বাবা এবার রাগান্বিত স্বরে বলেন,

"আমার ছেলে বড় চাকরি করে। দরকার হলে আপনার এখানে ছেলেকে বিয়ে দিবোনা, মেয়ের অভাব আছে নাকি?"

"আমার মেয়েও কিন্তু উচ্চশিক্ষিত, তাকেও আমি নিজের টাকা পয়সা খরচ করে এতোদূর এনেছি আর আপনিও আপনার ছেলের জন্য কষ্ট করেছেন, তাহলে যৌতুক কেনো মেয়ের বাবাকেই দেওয়া লাগবে? আর এখানে বিয়ের আসর ছেড়ে চলে গেলে ক্ষতি কিন্তু আপনারই। থানায় কল দিয়ে যদি বলি যৌতুকের জন্য বিয়ে ভেঙ্গে দিচ্ছেন তাহলে জেলে যাবেন কিন্তু আপনারাই। তাই ভেবে চিন্তেই সিদ্ধান্ত নিয়েন।"

মেয়ের বাবার কথা শুনে ছেলে পক্ষের সবাই চুপ। নিরবতা ঠেলে মেয়ের বাবা পুনরায় বলে উঠলেন,

"যাইহোক আপনাদের সাথে আমারও আর আত্মীয়তা করার সখ নেই। এখনই এই অবস্থা আর বিয়ের পর আমার মেয়েকে যৌতুকের জন্য অত্যাচার করবেন না তার কি গ্যারান্টি? তার থেকে বরং আমার এই বিয়ের আয়োজনের যেই খরচটা হলো সেটা দিয়ে কেটে পরুন। নাহলে বিষয়টা থানা পর্যন্ত গেলে কত কি হয়ে যাবে ভাবতে পারছেন?"

ছেলের বাবাসহ ছেলে পক্ষের সকলের মাঝে পিনপতন নীরবতা।


মেয়ের বাবা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,

"যত যাই হোক আমি অন্ততঃ তোকে কোনো ছোটলোকের কাছে বিয়ে দিবো না। আমার রাজকন্যা আমৃত্যু যেনো রাজকন্যার মতোই থাকে সেই ব্যবস্থাই করবো।"

গল্পটি কেমন লাগলো জানাবেন। একটু কমেন্টে রেস্পন্স করবেন। আজকাল ফেসবুকের রিচ নেই বললেই চলে।

একটা কাক ভালোবেসেছিল এক ময়ূরকে,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 একটা কাক ভালোবেসেছিল এক ময়ূরকে। সে প্রায়ই ময়ূরের পিছে পিছে ঘুরে বেড়াত। ময়ূর এটা বুঝতে পারলেও না বোঝার ভান করে কাককে এড়িয়ে চলতো। এভাবে দীর্ঘদিন কেটে যায়। 


একদিন ময়ূর তার বাসার সামনে একটা হলুদ খাম দেখতে পেল। সেই খামের ভিতরে একটা ছোট্ট কালো রঙের ফুল। ময়ূর বুঝতে পারল কাকই খামের ভিতরে ফুল পাঠিয়েছে।

 

কয়েকদিন পর কাকের সাথে ময়ূরের দেখা হলো। ময়ূর বলল, "তোমার শরীর যেমন কালো রঙের, তেমনি তোমার রুচিও কালো। তাই তো এত ভালো ভালো রঙের ফুল থাকতে কালো ফুল পাঠিয়েছো!"

কাক ময়ূরের কথা শুনে দু:খ পেয়ে চলে গেল।

 

বেশ কিছুদিন ময়ূর আর কাকের দেখা পেল না। এভাবে সপ্তাহ গেল, মাস গেল, বছর পেরিয়ে গেল। কাকের সন্ধান আর ময়ূর পেল না। অবশ্য ময়ূর কাকের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টাও কখনো করে নি। 


কয়েক বছর পর হঠাৎ করে কাকের সাথে ময়ূরের দেখা হয়ে গেল। ময়ূর কাককে দেখে বলল, "আমার রূপ দেখে সবাই আমাকে ভালোবাসতে চায়। তুমিও তো ভালোবাসতে চেয়েছিলে। তবে আমাকে জয় করার চেষ্টা আর করলে না কেন?"


কাক জবাব দিল, "তোমার সাথে জীবনে একদিনই আমার কথা হয়েছিল। তুমি যতদিন আমার সাথে কথা বলো নি; ততদিন মনে হয়েছিল, সুন্দর রূপের আড়ালে একটা সুন্দর মনও লুকিয়ে আছে। কিন্তু যখন দেখলাম, ফুলের মতো জিনিসকেও তুমি রঙ দেখে বিচার করো; তখনই বুঝেছিলাম মরীচিকার পিছে ছুটে চলেছি। তাইতো নিজেকে সরিয়ে নিলাম।"


ময়ূর বলল, "এখন যদি তোমাকে পেতে চাই, তবে কি তুমি আমাকে ভালোবাসবে?"


কাক বলল, "চোখের নেশা কেটে গেছে। চোখের নেশা কেটে গেলে ময়ূরের সৌন্দর্যও আর চোখে ধরা পড়ে না। তখন ময়ূরকেও কাকের মতো লাবণ্যহীন মনে হয়। জীবনের আসল বাস্তবতা তখন চোখের সামনে দীপ্তিমান হয়ে ফুটে ওঠে। এই বাস্তবতা-ই সঠিক পথের দিশা দেয়। বাস্তবতাকে ভুলে আবেগে আবার গা ভাসালে দিশাহীন নাবিকের মতো অথই সাগরে ঘুরপাক খাব।"


কাক ও ময়ূর বিপরীত দিকে হাঁটা শুরু করল। ধীরে ধীরে দু'জনার দূরত্ব বাড়তে লাগল। এ দূরত্ব যত বাড়বে "জীবন" নামক সমুদ্র থেকে তারা তত বেশি মুক্তা সংগ্রহ করতে পারবে।

নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---

 নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস --- পরীর খাটটি বাংলাদেশের জাদুঘরে দেখে থাকলেও ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না। নাটোরের মহারানী ভব...