এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

রবিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৪

কুরআনে সাত সালাম,,,,,

 রাসুল (ﷺ) বলেন,

যে ব্যক্তি কুরআনের সাতটি হা-মীম পড়বে তার জন্য জাহান্নামের সাতটি দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। ৭টি হা-মীম কে বলা হয় সাত সালাম।


১। সালামুন কাওলাম মিন রব্বির রাহিম।

দয়াময় প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাদেরকে সালাম বলে সম্ভাষণ করা হবে। (সূরা আল-ইয়াসিন, আয়াত ৫৮)


২। সালামুন আলা নুহিন ফিল আলামিন।

সমগ্র বিশ্বের মধ্যে নূহের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। (সূরা আস-সাফফাত, আয়াত ৭৯)


৩। সালামুন আলা ইব্রাহিম।

ইবরাহীমের উপর শান্তি বর্ষিত! (সূরা আস-সাফফাত, আয়াত ১০৯)


৪। সালামুন আলা মুসা 

ওয়া হারুন।

মূসা হারূনের উপর শান্তি ও বর্ষিত। (সূরা আস-সাফফাত, আয়াত ১২০)


৫। সালামুন আলা ইল ইয়াসিন।

ইলিয়াসের উপর শান্তি বর্ষিত। (সূরা আস-সাফফাত, আয়াত ১৩০)


৬। সালামুন আলাইকুম তিবতুম ফাদখুলুহা খলিদিন।

তোমাদের উপর শান্তি (বর্ষিত হোক), চমৎকার কাজ করেছ তোমরা, কাজেই চিরকালের জন্য এতে প্রবেশ কর। (সূরা আয-যুমার, আয়াত ৭৩)


৭। সালামুন ইয়া হাত্তা মাতলাইল ফাজর।

এ রাতে বিরাজ করে শান্তি আর শান্তি- ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত। (সূরা আল-কদর, আয়াত ৫)

আমি যেন হই তোমার মাঝে ধন্য...॥ পর্ব - ১ সত্যিই তিনি ধন্য!

 ॥ আমি যেন হই তোমার মাঝে ধন্য...॥


পর্ব - ১


সত্যিই তিনি ধন্য!

না, আমাদের পেয়ে নয়, আমাদের মতো অগুনতি গুনমুগ্ধ শ্রোতাদের হৃদয়ের মাঝে। আর আমরা ধন্য তাঁকে পেয়ে আমাদের মাঝে। স্বর্ণযুগের কিন্নরকণ্ঠী প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ তাঁর জন্মতিথি। বেঁচে থাকলে আজ তিনি ৯০ বছরে পদার্পণ করতেন। তবে তিনি বেঁচে আছেন, চিরকাল থাকবেন সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয়ে।


তাঁর জীবনের গানগল্পে চিরশ্রী মজুমদারসসাগরা ভারতের গীতি-অধীশ্বরের এমন বিশাল সার্টিফিকেটের পরেও প্রতিমার দিকে প্রচারের সার্চলাইট ঘোরেনি! কিন্তু তাতে তাঁর প্রবাদ হয়ে ওঠা আটকাল কই?


এমন একটি বিপদসঙ্কুল প্রশ্নের উত্তর যে তিনি দেবেন, কেউ আশা করেননি। কিন্তু তিনি যে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। সঙ্গীতের মতোই তাঁর মনটাও আকাশসম বড়। তাই এক সাংবাদিক যখন তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, গায়িকাদের মধ্যে কার গলাটি তাঁর সবচেয়ে সুরেলা লাগে, তিনি এক ঝটকায় বলে দিলেন, ‘‘প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়।’’ সাংবাদিক এ বার বিস্মিত, ‘লতা মঙ্গেশকর, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের চেয়ে আপনি প্রতিমাদিকে এগিয়ে রাখছেন!’ সোনা বাঁধানো স্বরযন্ত্রে হাসি আলতো ঢেউ তুলল। ‘‘প্রতিমার গানের কলি লতা নিজের বিশেষ সংগ্রহে রেখেছে। ওরা বলে, প্রতিমা মানুষই নয়। ও তো পাখি!’’


সসাগরা ভারতের গীতি-অধীশ্বরের এমন বিশাল সার্টিফিকেটের পরেও প্রতিমার দিকে প্রচারের সার্চলাইট ঘোরেনি! কিন্তু তাতে তাঁর প্রবাদ হয়ে ওঠা আটকাল কই? সে সময়ের দিকপাল গায়ক-গায়িকারাই জানিয়েছেন, ‘আটপৌরে চেহারা, কপালে টিপ, তাম্বুল রাঙা ঠোঁট, সাদামাঠা শাড়ির এই বঙ্গবালার খোলস দেখে তাকে সাধারণ ভেবো না, সে অনন্যা।’ তাঁর গান গাওয়া দেখতে এক সময়ে রেকর্ডিং রুমে হুড়োহুড়ি পড়ে যেত। হয়তো সে দিন তিনি রেডিয়োয় ‘অনুরোধের আসর’ মাতিয়ে দিচ্ছেন ছন্দে ভরাট ‘কঙ্কাবতীর কাঁকন বাজে ইছামতীর কূলে’ গেয়ে। মেলোডির মহারথী শ্যামল মিত্রের সুরের সে গানে প্রতিমার ছন্দতালে সকলে তো মন্ত্রমুগ্ধ। শুনলে মনে হয় ইছামতীর পাড়ে কোনও বালিকা যেন নাচতে নাচতেই গানখানি শোনাচ্ছেন। শ্রোতারা সব মাথা নেড়ে, তালি বাজিয়ে গানগল্পে মশগুল। কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এমন সব কালজয়ী গান গাওয়ার সময়ে স্বয়ং প্রতিমা থাকতেন মূর্তিবৎ স্থির। তালের ওঠানামায় এতটুকু হাতের মুদ্রার ব্যবহার থাকত না, দুরূহ আবেগ ফোটাতে মুখের একটি রেখাও কাঁপত না। অদ্ভুত শান্ত-স্থিত ভাবেই নিখুঁত সুর বয়ন করে একেবারে সজীব করে তুলতেন সঙ্গীতকে। উদ্দেশ্য-বিধেয় পালটে, যেন ‘গুপি গাইন বাঘা বাইন’-এর সেই গানের ইন্দ্রজাল। প্রতিমার বেলায় সেই ছবির উলটপুরাণ। এখানে গানের মায়ায় মজে জগৎসার চোখ বুজে, মাথা দুলিয়ে তাল ঠুকে একশা। আর স্বয়ং গায়িকাই পাথর, স্থাণুবৎ। ও ভাবেই অবলীলায় সৃষ্টি করে চলেছেন তাঁর একান্ত নিজস্ব সাতরঙা গানের ভুবন। দেখেশুনে সকলের প্রশ্ন, এমন দক্ষতা তো সচরাচর দেখা যায় না! গানের মেজাজ ধরতে তাঁর কি প্রস্তুতি, আয়াস কিছুই লাগে না? গুপি-বাঘা তো জাদুক্ষমতা পেয়েছিল ভূতের রাজার বরে! প্রতিমা সেই মণিহার পেলেন কী করে? তারও জবাব দিয়ে গিয়েছেন হেমন্ত। ‘‘সে বাঁশরীকণ্ঠী। তাই সা থেকে সা তার চাইতে সুরে আর কেউ গাইতে পারে না!’’


গানের টানে তাঁর বাঁধা পড়া যে জন্মেরও বহু আগে! বাংলাদেশের বিক্রমপুর জেলার বাহেরক গ্রামের চট্টোপাধ্যায় পরিবারটি বরাবরই সঙ্গীতে অনুরক্ত। সেই পরিবারের ছেলে মণিভূষণ কলকাতার ‘কক্স অ্যান্ড কিং’-এ চাকরি করতেন, সপরিবার থাকতেন ভবানীপুরে। অসীম প্রতিভাধর মানুষ। বছর দুই ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলেছেন। অন্য দিকে গানের জন্য লোকে তাঁর নাম শুনলে মাথা আপনি নত করে। তিনি উস্তাদ বদল খানের শিষ্য অর্থাৎ পণ্ডিত ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়ের গুরুভাই। মণিভূষণ চট্টোপাধ্যায় গজল, ঠুমরি, দাদরায় ছিলেন ওস্তাদ। প্রতিমা যে বছর জন্মালেন, সেই ১৯৩৪-এই তাঁর গানের রেকর্ড বার হয়েছিল। অজয় ভট্টাচার্যের কথায় ও শচীন দেববর্মণের সুরে ‘যৌবনে হায় ফুলদলে পায়’, হিমাংশু দত্তের সুরে ‘স্বপনে কোন মায়াবী’। কিন্তু বিধি বাম! প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠার সেই দিনগুলিতেই হঠাৎ মারা গেলেন মণিভূষণ। তখন তাঁর বয়স সবে সাতাশ। স্ত্রী কমলা আঠেরো। শিশু প্রতিমা তো মাত্র এক!


অনটন নেমে এসেছিল পরিবারে। কিন্তু কমলা কিছুতে ভেসে যেতে দিলেন না সংসার ও গীতবিতানকে। তাঁরই চেষ্টায়, উৎসাহে মণিভূষণের অকালে ফেলে যাওয়া গান কণ্ঠে তুলে নিলেন একরত্তি প্রতিমা। রোজকার খরচ থেকে বিন্দু বিন্দু করে টাকা বাঁচিয়ে তিনি মেয়েকে একটি হারমোনিয়ামও কিনে দিলেন। গুণবতী কমলা প্রথম দিকে নিজেই মেয়েকে গান শেখাতেন। পরে তাকে নিয়ে গেলেন প্রকাশকালী ঘোষালের কাছে। খুকির কচি গলার দু’কলি শুনে দারুণ খুশি প্রকাশকালী। বললেন, ‘গান এর রক্তে!’ প্রকাশকালী নিজের সবটা উজাড় করে প্রতিমাকে সঙ্গীতের পাঠ দিয়েছিলেন। ছাত্রীভাগ্যে আত্মহারা হয়ে মেয়েটিকে নিয়ে গিয়েছিলেন নিজগুরু ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে। প্রতিমা কিছু দিন ভীষ্মদেবের সঙ্গও করেছেন। সেই শৈশবে ছুটিতে এক বার ঢাকায় আত্মীয়বাড়ি গিয়েছেন, আশপাশের লোকজন তাঁর গান শুনে তাজ্জব। এক গুণগ্রাহী ঢাকা রেডিয়োয় যোগাযোগ করিয়ে দিলেন। সেখানে শিশুবিভাগে গাইবার পরপরই ডাক এল কলকাতা বেতার থেকে। মাত্র এগারো বছর বয়সে ১৯৪৫-এ সেনোলা থেকে প্রথম রেকর্ড বেরিয়ে গেল ‘কুমারী প্রতিমা চ্যাটার্জী’ নামে। সুকৃতি সেনের কথা ও সুরে বেসিক গানের রেকর্ড। ‘প্রিয় খুলে রেখো বাতায়ন’, ‘মালাখানি দিয়ে আমারে ভোলাতে চাও’ গানগুলি বেশ জনপ্রিয় হল। জলসায় গান শুনেই বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এলেন সঙ্গীতপ্রেমিক অমিয় বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্ভ্রান্ত পরিবারের সুদর্শন যুবক। কমলাদেবীকে প্রতিশ্রুতি দিলেন, গানের জগতে প্রতিমাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে যথাসাধ্য করবেন। তেরো পেরোতে না পেরোতেই স্বামীঘর করতে নবপরিণীতা প্রতিমা চলে এলেন টালিগঞ্জের সাহানগরে। সেখানেই তাঁর সন্তানদের জন্ম। এক মেয়ে, তার পরে ছেলে।


সেই সময়ে দক্ষিণ কলকাতার মিলনচক্র ক্লাবে প্রতি মাসে ঘরোয়া অনুষ্ঠান হত। সেখানে গান শুনতে আসতেন নক্ষত্রেরা। ঊষারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, শৈলেন মুখোপাধ্যায়রা ছিলেন নিয়মিত মুখ। একদিন দর্শকাসনে বসে ছিলেন গায়ক-সুরকার ও শিল্পীস্রষ্টা সুধীরলাল চক্রবর্তী, যিনি শ্যামল মিত্র, উৎপলা সেন, নীতা সেন প্রমুখ অগণিত শিল্পীকে তালিম দিয়েছিলেন। প্রতিমার গায়কিতে তিনিও চমৎকৃত। সেই যোগাযোগের ফুল ফুটল আরও দু’বছর পার করে। ১৯৫১-য় ‘সুনন্দার বিয়ে’তে প্রথম বার সুরারোপ করলেন সুধীরলাল। তাঁর ডাকেই ‘উছল তটিনী আমি সুদূরের চাঁদ’ গানে নেপথ্যগায়িকা রূপে আত্মপ্রকাশ করলেন প্রতিমা। গান শুনে অন্য সুরকাররাও প্রতিমার খোঁজ করতে শুরু করলেন। তবে প্রতিমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল পিনাকী মুখোপাধ্যায়ের ‘ঢুলি’ ছবিটি। ১৯৫৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ঢুলি’ ছিল তখনকার দিনের মাল্টিস্টারার, মিউজ়িক্যালি হিট ছায়াছবি। ছবি বিশ্বাস, সুচিত্রা সেন, অনিল চট্টোপাধ্যায়, মালা সিনহার অভিনয়ে ঋদ্ধ এই ছবিটি ‘পথের পাঁচালী’রও আগে বাঙালি গ্রামের নিসর্গ ও জীবনযাত্রাকে নায়কের আসনে বসিয়েছিল। সেই ছবির টিকিট কাটতে যে দীর্ঘ লাইন পড়ত, তারই দর্শক মোহাবিষ্টের মতো সিনেমাশেষে বেরিয়ে আসতেন রাজেন সরকারের সুরে অনবদ্য গানগুলি গাইতে গাইতে। ‘ঢুলি’র রেকর্ড বিকিয়েছিল মুড়ি-মুড়কির মতো। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য, যূথিকা রায়ের মতো বাঘা শিল্পীর পাশে চমকে দিলেন প্রতিমা। ডুয়েট ‘চুপি চুপি এল কে’ গানে পাতিয়ালা ঘরানার ওস্তাদ গাইয়ে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সমানে পাল্লা দিলেন এই নবীনা। আর নিজের জাত চিনিয়ে দিলেন ‘নিঙাড়িয়া নীল শাড়ি শ্রীমতী চলে’ গানটিতে। মালা সিনহার লিপে এই গানে প্রতিমা তাঁর রাগের যে ছোট ছোট ঘূর্ণন তুলেছিলেন, তা শুনে ছিটকে গিয়েছিলেন হেমন্ত। তাঁর অস্ফুট জিজ্ঞাসারই প্রতিধ্বনি উঠেছিল সেই সময়ের তাবড় সঙ্গীতকুলে। এই শ্রীকণ্ঠী কে?


(পরবর্তী পর্ব কিছুক্ষণ পরেই পোস্ট করা হবে)

_______________________________________

তথ্য ও চিত্র সৌজন্যে: আনন্দবাজার অনলাইন।

সম্পাদনা ও চিত্র রঙিনীকরন: কিছু কথা ॥ কিছু সুর।


#PratimaBandopadhyay #hemantamukherjee #HemantaMukhopadhyay #kichukothakichusur

প্রথম মহিলা ভারতীয় অভিনেত্রী যিনি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পান

 ১. প্রথম মহিলা ভারতীয় অভিনেত্রী যিনি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পান

 • সুচিত্রা সেন ছিলেন প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী, যিনি একটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হন।

 • ১৯৬৩ সালে মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে তার অভিনীত “সাত পাকে বাঁধা” ছবির জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান।


২. সুচিত্রার আসল নাম ছিল ভিন্ন

 • সুচিত্রা সেনের আসল নাম ছিল রোমা দাশগুপ্ত।

 • তিনি বিয়ের পর তার নাম পরিবর্তন করে সুচিত্রা সেন রাখেন।


৩. উত্তম-সুচিত্রার “গোল্ডেন পেয়ার”

 • উত্তম কুমারের সঙ্গে সুচিত্রা সেনের জুটি আজও বাংলা চলচ্চিত্রের সেরা জুটি হিসেবে ধরা হয়।

 • তারা একসঙ্গে ৩০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন, যার মধ্যে অধিকাংশই সুপারহিট।


৪. সিনেমার জগতে প্রবেশ ছিল এক বিস্ময়

 • সুচিত্রা সেনের প্রথম সিনেমা “শেষ কোথা” (১৯৫২) কখনো মুক্তি পায়নি।

 • তবে তার পরের সিনেমা “সাত নম্বর কয়েদি” তাকে বাংলা সিনেমায় স্থায়ী জায়গা এনে দেয়।


৫. ব্যক্তিগত জীবন ছিল রহস্যে মোড়া

 • সুচিত্রা সেন সবসময় নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে গোপন রেখেছিলেন।

 • অভিনয় থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি একেবারে আড়ালে চলে যান এবং জনসমক্ষে আর আসেননি।

 • তার এই গোপনীয়তা তাকে আরও রহস্যময় করে তোলে।


৬. গুরুদেব রবীন্দ্রনাথের প্রতি শ্রদ্ধা

 • সুচিত্রা সেনের অভিনীত “সপ্তপদী” ছবিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা “এ ফুল মুকুল, এ ফুল শুকালো” গানটি তার অসাধারণ আবেগপূর্ণ অভিনয়ের জন্য অমর হয়ে আছে।

 • রবীন্দ্রনাথের গান ও সাহিত্যের প্রতি তার গভীর ভালবাসা ছিল।


৭. মহানায়িকার আত্মপ্রত্যয়

 • সুচিত্রা সেন কখনো সিনেমার সেটে দেরিতে আসতেন না এবং অত্যন্ত পেশাদার ছিলেন।

 • তার মধ্যে ছিল আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব, যা তার চরিত্রগুলোতে প্রকাশ পেত।


৮. যোগের প্রতি আসক্তি

 • অভিনয় থেকে অবসর নেওয়ার পর সুচিত্রা যোগ এবং ধ্যানের দিকে মনোনিবেশ করেন।

 • তিনি বিশ্বাস করতেন যে মানসিক শান্তির জন্য এটি অপরিহার্য।


৯. দিদি, মেয়ে এবং নাতনি—তিন প্রজন্ম অভিনেত্রী

 • সুচিত্রা সেনের মেয়ে মুনমুন সেন এবং নাতনি রাইমা সেন ও রিয়া সেন চলচ্চিত্র জগতে প্রতিষ্ঠিত।

 • এই তিন প্রজন্ম বাংলা এবং হিন্দি সিনেমাকে সমৃদ্ধ করেছে।


১০. সুচিত্রার অমর উক্তি

 • একটি সাক্ষাৎকারে সুচিত্রা বলেছিলেন: “মানুষকে আমি কিছু সুন্দর মুহূর্ত উপহার দিতে পেরেছি, তাই আমি কৃতজ্ঞ।"


(সংগৃহিত)।

চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক ‘হাতির বাংলো’,,,,,,

 চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক ‘হাতির বাংলো’


চারপাশে উঁচু পাহাড়, সবুজের সমারোহ ও পাখির কিচিরমিচির শব্দ, এমন প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার ইচ্ছে সবার মধ্যেই আছে। এর মধ্যে দিয়ে একটু সামনে এগিয়ে গেলেই দূর থেকে দেখে যে কারো মনে হতে পারে বিশাল একটি হাতি শুঁড় তুলে দাঁড়িয়ে আছে।


দূর থেকে জীবিত মনে হলেও, সামান্য কাছে যেতেই দেখা মিলবে হাতির আদলে নির্মিত ১৩১ বছরের পুরোনো একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। দেখতে অবিকল হাতির মতো মনে হলেও এটি মূলত ইট-পাথরে নির্মিত একটি প্রাচীন ভবন। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘হাতির বাংলো’ নামেও পরিচিত।


চট্টগ্রামের ফুসফুসখ্যাত সিআরবির পাহাড়ে দৃষ্টিনন্দন আদি এই বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রাচীন ইতিহাস। শতবর্ষ পুরোনো এই ইতিহাস হয়তো অনেকেরই অজানা। ইতিহাস ঘেটে জানা গেছে, ১৮৯৩ সালে চট্টগ্রাম থেকে ফেনী পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ কাজ শুরু হয় বৃটিশ প্রকৌশলী ব্রাউনজারের অধীনে।


ঊনিশ শতকের মাঝামাঝিতে রেলওয়ে কর্মকর্তাদের বসবাসের জন্যই বাংলোটি নিজেই নির্মাণ করেন প্রকৌশলী ব্রাউনজার। তবে কালের আবহমানে বাংলোটি আজ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রামের লালখান বাজার এলাকার লেডিস ক্লাবের ভেতর দিয়ে সামনে এগিয়ে হাতের ডানে সামান্য গেলেই চোখে পড়বে এই হাতির বাংলো।


বর্তমানে চট্টগ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ এই হাতির বাংলো পড়ে আছে অনেকটা জীর্ণশীর্ণ অবস্থায়। নেই কোনো রক্ষণাবেক্ষণ, ফলে হারাতে বসেছে বাংলোটির সৌন্দর্য। সরেজমিনে দেখা গেছে,বাংলোটির সামনে ও পেছনের অংশ মিলিয়ে মোট ১২টি গোলআকৃতির জানালা আছে।


এছাড়া হাতির শুঁড়ের আদলে নির্মিত বারান্দার দু’পাশেও আছে গোলাকার দুটো ছিদ্র, যা দেখতে অনেকটাই হাতির চোখের মতো। ডুপ্লেক্স এই ভবনের নীচতলায় ৪টি ও দোতলায় একটি শয়নকক্ষ আছে। বর্তমানে স্থাপনাটির সবক’টি দরজা-জানালাই ভেঙে পড়ার পাশাপাশি মরিচা ধরেছে।


কাঠ দিয়ে নির্মিত সব জানালাগুলোই পড়ে আছে জরাজীর্ণ অবস্থায়। এছাড়া ভবনের দেয়ালজুড়ে পড়েছে শ্যাওলা, খসে পড়তে শুরু করেছে পলেস্তারা। বাড়ির চারপাশজুড়ে জমে আছে বিভিন্ন ময়লা আর শুকনো পাতা। নান্দনিক এই বাংলোতে এখন একজন রেলওয়ে কর্মচারী ভেতরের একটি শয়নকক্ষে কোনো রকমে থাকেন।


বিকেল হলেই অনেক দর্শনার্থী হাতির বাংলো দেখতে ছুটে আসেন। দর্শনার্থীরা ছবি তোলার পাশাপাশি এখানে অনেক সময় বিভিন্ন শর্টফিল্মের শুটিংও হয়ে থাকে। ঊনিশ শতকের মাঝামাঝিতে ‘ফেরো’ সিমেন্ট দিয়ে নির্মিত এই বাংলোর ১৩২ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো বেশ মজবুত অবস্থায় আছে।


তবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দিনদিন হারাতে বসেছে এই ঐতিহ্যের সৌন্দর্য। হাতির গায়ের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে এই স্থাপনাতেও ধূসর রং করা হয়, তবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনের রং পুরোটাই এখন বিবর্ণ ধারণ করেছে।


বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে এই হাতির বাংলো, নেই কোনো পদক্ষেপ কিংবা যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ। নান্দনিক এই স্থাপত্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নিলে এটি দর্শনার্থীদের কাছে আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।


লেখক: শিক্ষার্থী, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম।

প্রজাপতি'র ডানায় লাস্যময়ী মৌসুমী"! 

 "প্রজাপতি'র ডানায় লাস্যময়ী মৌসুমী"! 


২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তুমুল  জনপ্রিয় সিনেমা "প্রজাপতি"। প্রিয়দর্শনী মৌসুমীর গ্ল্যামার, লুক, কস্টিউম সবকিছু মিলিয়ে অনিন্দ্য সুন্দর  লেগেছিল, যেন নতুন করে নব্বইয়ের ক্রেজ মৌসুমী,  তাঁর বিপরীতে ছিলেন নাট্য জগতের জনপ্রিয় দুই মুখ জাহিদ হাসান ও মোশারফ করিম। জাহিদ হাসান ও মোশারফ করিম বড় পর্দায় বেশ সফল এই মুভির জনপ্রিয়তাই বলে দেয়। তবে একটা মুভি যে শুধু একটু বিনোদন তাই নয়, সেখানে কিছু টুইস্ট থাকে, বার্তা থাকে যা থেকে সমাজের মানুষের বিবেক জাগ্রত হয়, হুশ ফেরে বা জীবনের নিবিড় গন্তব্য কর্মফলের জন্য কোথায় গিয়ে তল খুঁজে পায় তারই দৃষ্টান্ত আছে। এই ছবিতে সমাজ কিংবা পারিবারিক ক্ষয়িষ্ণু,  ভয়ংকর যে নেশা  তা সুন্দরভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক সুন্দর পরিচ্ছন্ন একটি গল্পের মাধ্যমে। জুয়া একটা পরিবারের কতটা নিচু মননে নিয়ে যায় তার স্বরুপ চিত্র আছে সিনেমার পরতে পরতে। রুচিশীল দর্শকদের কাছে ছবিটি বেশ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল এই সিনেমার প্রতিটি গান, যা ছিল তুমুল জনপ্রিয় এখনো সমান ভাবে মানুষের মুখে মুখে। তবে এই মুভিতে সবচেয়ে আকর্ষণীয় লেগেছিল মৌসুমীকে, শূন‍্য দশকের পর এই সিনেমায় সবচেয়ে বেশি গ্ল্যামারাস ছিলেন মৌসুমী এবং তার  ফিটনেস  ছিল চোখ ধাঁধানো। ন্যান্সি আর হাবিবের গাওয়া


🎵....লাজুক পাতার মত লজ্জাবতী,,,গানটিতে মৌসুমী কে দুর্দান্ত ও প্রাণবন্ত লেগেছিল সত্যি  যেন রূপের রানী। কুমার বিশ্বজিতের গাওয়া 


🎵.....ছোট ছোট আশা খুজে  পেল ভাষা,,, রোমান্টিক এই গানটি  শুনলে যে কোন প্রেমিক হৃদয় প্রেমে পড়তে বাধ্য।এই সিনেমায় দর্শক জরিপে মৌসুমী মেরিল প্রথম আলো অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছিলেন। মৌসুমীর ক্যারিয়ারকে তিন গ্রাফে খন্ডিত করলে যে তিনটি সিনেমায় মৌসুমীর জন্য নতুন করে দর্শক তৈরি করে তারই একটি "প্রজাপতি"২০১১ (কেয়ামত থেকে কেয়ামত" ১৯৯৩, খায়রুন সুন্দরী" ২০০৪)। 


উল্লেখ্য, এই সিনেমার কস্টিউমস ডিজাইনার মৌসুমী নিজেই ছিলেন, স্টার সিনেপ্লেক্সে একনাগাড়ে ৯০ দিন দুর্দান্ত চলার পর ক্লোজিং সেরিমনিতে দর্শক সারিতে বসে উপভোগ করেছিলেন দেশের সব বিখ্যাত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সেলিব্রেটি, ও মৌসুমীর সহকর্মীরা।

আফজল হোসেন, রিয়াজ, ফেরদৌস, সানি, শাবনূর, পপি, পূর্ণিমারা  দেখে মৌসুমীর নতুন অবতারের যারপরনাই আনন্দিত ও মুগ্ধ ছিলেন এবং তাদের উচ্ছ্বসিত কথা আজও প্রজ্জ্বলিত প্রজাপতি'র ডানায় নতুন মৌসুমী ভর করার জন্য। ❣️


© MD Kalam

তাহাজ্জুদ নামাজের চার  টি ফজিলত 

 তাহাজ্জুদ নামাজের চার  টি ফজিলত 


1. পাপ মুছে দেয়: হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত। নবী কারিম (সা.) বলেন, ‘তোমরা কিয়ামুল লাইলের প্রতি যত্নবান হও। কেননা তা তোমাদের পূর্ববর্তী নেককারদের অভ্যাস এবং রবের নৈকট্য লাভের বিশেষ মাধ্যম। আর তা পাপরাশী মোচনকারী এবং গুনাহ থেকে বাধা প্রদানকারী।’ (তিরমিজি: ৩৫৪৯)


2. দোয়া কবুল হয়: নবী (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা রাতের শেষ তৃতীয়াংশে কাছের আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন, কে আছো, দোয়া করবে এবং আমি তার দোয়া কবুল করব। কে আছো, আমার কাছে (তার প্রয়োজন) চাইবে এবং আমি তাকে দান করব। কে আছো, আমার কাছে ক্ষমা চাইবে এবং আমি তাকে ক্ষমা করব।’ (বুখারি: ১১৪৫)


৩. মর্যাদা বৃদ্ধি পায়: নবী (সা.) বলেন, ‘মুমিনের মর্যাদা কিয়ামুল লাইল তথা রাতে দাঁড়িয়ে তাহাজ্জুদ আদায় ও বিভিন্ন ইবাদত-বন্দেগির মধ্যে, আর তার সম্মান মানুষ থেকে অমুখাপেক্ষিতার মধ্যে।’ (তবরানি: ৪২৭৮)


৪. জান্নাত লাভ করা যায়: নবী (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই জান্নাতে রয়েছে এমন কিছু প্রাসাদ, যার বাইরে থেকে ভেতরাংশ দেখা যাবে, ভেতর থেকে বাইরের অংশ দেখা যাবে। এগুলো আল্লাহ তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন, যারা মানুষকে খাবার খাওয়ায়, কোমল ভাষায় কথা বলে, ধারাবাহিকভাবে রোজা রাখে, সালামের প্রসার ঘটায় এবং রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখন তারা নামাজে দাঁড়িয়ে যায়।’ (মুসনাদে আহমাদ: ২২৯০৫)

কারো কারো জন্য এমন লাগে কেন       ✍️তসলিমা নাসরিন,,, দিনগুলো ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 কারো কারো জন্য এমন লাগে কেন

      ✍️তসলিমা নাসরিন


জানি না কেন হঠাৎ কোনও কারণ নেই, কিছু নেই, কারও কারও জন্য খুব

অন্যরকম লাগে

অন্য রকম লাগে,

কোনও কারণ নেই,

 তারপরও বুকের মধ্যে চিনচিনে কষ্ট হতে থাকে,

কারুকে খুব দেখতে ইচ্ছে হয়, 

পেতে ইচ্ছে হয়, 

কারুর সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে

বসতে ইচ্ছে হয়,

সারাজীবন ধরে সারাজীবনের গল্প করতে ইচ্ছে হয়,

ইচ্ছে হওয়ার কোনও কারণ নেই,

 তারপরও ইচ্ছে হয়।


ইচ্ছের কোনও লাগাম থাকে না।

 ইচ্ছেগুলো এক সকাল থেকে আরেক সকাল পর্যন্ত

জ্বালাতে থাকে। প্রতিদিন।

ইচ্ছেগুলো পুরণ হয় না, 

তারপরও ইচ্ছেগুলো বেশরমের মত পড়ে থাকে,

আশায় আশায় থাকে।

কষ্ট হতে থাকে, 

কষ্ট হওয়ার কোনও কারণ নেই, 

তারপরও হতে থাকে,

সময়গুলো নষ্ট হতে থাকে।


কারও কারও জন্য জানি না জীবনের শেষ বয়সে এসেও সেই কিশোরীর মত

কেন অনুভব করি।

কিশোরী বয়সেও যেমন লুকিয়ে রাখতে হত ইচ্ছেগুলো, 

এখনও হয়।

কি জানি সে, যার জন্য অন্যরকমটি লাগে, যদি

ইচ্ছেগুলো দেখে হাসে!

সেই ভয়ে লুকিয়ে রাখি ইচ্ছে, 

সেই ভয়ে আড়াল করে রাখি কষ্ট।

হেঁটে যাই, যেন কিছুই হয়নি,

 যেন আর সবার মত সুখী মানুষ আমিও, হেঁটে যাই।

যাই, কত কোথাও যাই,

 কিন্তু তার কাছেই কেবল যাই না,

 যার জন্য লাগে।


কারও কারও জন্য এমন অদ্ভুত অসময়ে বুক ছিঁড়ে যেতে থাকে কেন!

জীবনের কত কাজ বাকি, কত তাড়া!

তারপরও সব কিছু সরিয়ে রেখে তাকে ভাবি, তাকে না পেয়ে কষ্ট আমাকে কেটে কেটে

টুকরো করবে জেনেও তাকে ভাবি। তাকে ভেবে কোনও লাভ নেই জেনেও ভাবি।

তাকে কোনওদিন পাবো না জেনেও তাকে পেতে চাই।

ফেইসবুক থেকে নেওয়া গল্প,,,,,,

 বেশ কয়েক বছর আগের ঘটনা‌। বাসে উঠে সীট না পেয়ে আমি দাঁড়িয়ে আছি। ভীড় আছে মোটামুটি; গাদাগাদি যে ভীড় টা হয় সেটা নেই। সীট না পেলেও ঠিক ঠাক দাঁড়িয়ে থাকা যাবে। আমি দাঁড়িয়ে আছি আর আমার সামনের সীটটায় বসে আছে দুজন মহিলা। একজনের বয়স পঞ্চান্নর কাছাকাছি, আর একজন কম বয়সি একটি মেয়ে, বয়স ওই ছাব্বিশ সাতাশ। সাজগোজ, পোশাক আশাক দেখে মনে হলো বেশ আধুনিক এবং ভালো ফ্যামিলিও বটে। কম বয়সি মেয়েটি, মধ্য বয়স্কা মহিলাটিকে মা বলে সম্বোধন করছে। মা সম্বোধন শুনেই বুঝলাম দুজনের মধ্যে সম্পর্কটা মা আর মেয়ের।


পাশাপাশি বসে দুজনে অনর্গল কথা বলে যাচ্ছে। কথা বার্তা শুনে যা মনে হলো কিছু দিনের মধ্যেই মেয়েটির বিয়ে, আর বিয়ের কেনা কাটা করেই ফিরছে দুজনে। ওদের কথা বার্তা গুলো শুনতে বেশ ভালোই লাগছিল। বিয়ের কেনাকাটা করার একটা আনন্দ তো আছেই। বিয়ের কেনাকাটার কথা বললেই নিজের বিয়ের কেনা কাটা করার কথা মনে পড়ে যায়। আমার বিয়ের বেনারসী কেনা হয়েছিল কলকাতার বেশ নামকরা দোকান থেকে। দুধে আলতা রঙের বেনারসীটা বার বার গায়ে ফেলে নিয়ে দেখে নিচ্ছিলাম কেমন লাগে। আমার সঙ্গে আমার মাও গিয়েছিল সেদিন। বেনারসীটা দেখে এতটাই পছন্দ হয়ে গিয়েছিল মায়ের, মা বলেছিল, এই লাল বেনারসীতে তোকে দারুণ মানাবে মুনাই। প্রতিটি মেয়ের কাছে বিয়ের বেনারসীটা খুব আবেগের। বিয়ের সাজে সেজে উঠতে বেনারসী শাড়িটাই নতুন করে রাঙিয়ে তোলে হয়তো। হঠাৎ করেই ওদের প্রতি আমার  যে ভালো লাগাটা কাজ করছিল সেটারই ছন্দ পতন ঘটলো ওদের একটি কথায়। কানে এলো বিয়ের বেনারসীটা নাকি লাল রঙের কেনে নি। মেয়েটির ইচ্ছে কালো রঙের কোনো বেনারসী, তাই কালো রঙের বেনারসীই কিনেছে। মনের ইচ্ছেটা পূরণ হয়েছে বলে মেয়েটিও বেশ খুশী, সঙ্গে মেয়েটির মাও।


কেন জানি না আমার খারাপ লাগতে শুরু করলো। বিয়ের মতো এমন একটা শুভ অনুষ্ঠান,কালো রঙটা ভীষণ অশুভ। বিয়েতে কালো রঙ চলে না। অথচ কালো বেনারসী পরে বিয়ে করবে, ভাবা যায়? ইচ্ছে হয়েছে বলেই কি কেনা যায়? মেয়েটির মায়েরও দেখলাম পূর্ণ সায় আছে, তাই তো কিনেছে। মেয়ের ইচ্ছে হতে পারে কিন্তু মা হয়ে এটা কি করে মেনে নিল সেটাই ভাবার। মায়ের আসকারা থাকে বলেই ছেলে মেয়েরা উচ্ছন্নে যায়। সে যাই হোক আমার এত না ভাবলেও চলে। মানুষ নিয়ম রীতি মানে না বলেই তো এত অধঃপতন। কালে কালে কত কি আর দেখব। ওদের মনে হয়েছে তাই ওরা কিনেছে। তাতে আমার কি? মা আর মেয়ে নানা কথা বার্তা বলে যাচ্ছে নিজেদের মধ্যে। আমার আর শুনতেই ভালো লাগছিল না, ওদের বকবকানিটা বিরক্তিকর হয়ে উঠলো আমার কাছে। পোশাকে আশাকে আধুনিক যতই হোক রীতি নীতি মানতে হয় বই কি! 


এদিকে বাসে ভীড়টা আরো একটু বেড়ে গেল। ভীড় বাস মানেই ঠেলাঠেলি একটু হবেই। আর সেটাই তখন হচ্ছে। আমাকে আরো এক ঘণ্টা যেতে হবে। সীট পাইনি যখন তখন দাঁড়িয়েই যেতে হবে,উপায় নেই। পরের বাসে গেলে হয়তো বসে যাওয়া যেত। কিন্তু আরো এক ঘণ্টা ওয়েট করতে হতো। এদিকে বাড়ি ফেরার তাড়া, তাই দাঁড়িয়ে চলে যাব ভেবেই বাসে উঠেছি। হঠাৎ মেয়েটির মা বলে উঠল, 


"-বাবলি সীটটা ছেড়ে দে। একজন অসুস্থ মহিলা উঠেছে। ওনার দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হবে। সীটটা পেলে বরং  ওনার সুবিধাই হবে।"


সামনের দিকে তাকিয়ে দেখি অন্য আর একজন মহিলা। ওনাকে দেখে অসুস্থই মনে হচ্ছিল। সীট ছেড়ে দেওয়ার কথাটা শুনতে পেয়েই ওই মহিলাকে দেখলাম এগিয়েই আসতে। বাসের মধ্যে অনেকেই আছেন। কেউ সীট ছাড়েন নি ওনাকে অসুস্থ দেখেও। সবাই যে যার মতো বসে আছেন অথচ মানবিকতা কারো মধ্যেই নেই সেটা বোঝা যায়। তা না'হলে সামনে যারা বসে আছেন তাদের মধ্যে যে কেউ সীট ছেড়ে দিতে পারতেন। মায়ের কথা শুনে বাবলি বলল, 


"-আমি দাঁড়িয়ে যেতে পারব। আমার অসুবিধা হবে না। এই যে আমার সীটটায় বসুন আপনি।" বলে মেয়েটি তার হাতের ব্যাগটা মায়ের কোলের ওপর রেখে আমার পাশে দাঁডাল।মেয়েটির সীটে ওই অসুস্থ ভদ্রমহিলাটি বসলেন।


এতক্ষণ ধরে মা ও মেয়ের মধ্যে যে এত কথা হচ্ছিল সেটার ছেদ পড়ে গেল। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ছেলেদেরকেই দেখি সীট ছেড়ে দিতে। আজ দেখলাম একটি মেয়েকে সেটা করতে। মা ও মেয়ের মধ্যে এই মানবিকতার কর্তব্য বোধ দেখে বেশ ভালো লাগলো। প্রকৃত শিক্ষাটা থাকে অন্তরে। তাই বাইরে থেকে কাউকে বিচার করাটাই ঠিক নয়। কালো বেনারসীর কথা শুনে যে খারাপ লাগাটা লাগছিল এমন কর্তব্য নিষ্ঠা দেখে মনটা সত্যিই ভরে গেল।


মিনিট পনেরো পার হতেই অসুস্থ মহিলাটি বাস থেকে নেমে যেতেই বাবলি পুনরায় আবার নিজ সীটে বসতে গিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, 


"-আপনি অনেক ক্ষণ দাঁড়িয়ে আছেন‌। আপনি একটু বসুন।"


"-না না আমার অসুবিধা হচ্ছে না। তুমি বোসো।"


বাবলির মা পাশ থেকে বলল,


"-ও দাঁড়িয়ে যেতে পারবে। ওর অভ্যেস আছে। আপনি অনেক ক্ষণ থেকেই দাঁড়িয়ে আছেন, আপনি বসুন।"


বাবলি এক প্রকার জোর করেই বসিয়ে দিল। সহযোগিতা ও সহানুভূতি যে মেয়েটির মধ্যে আছে সেটা দেখলেই বোঝা যায়।কিছু ভুল ধারণার জন্য আমরাও মানুষকে ভুল ভাবতে শুরু করি। পাশে বসতেই ভদ্রমহিলার সাথে কথাবার্তা শুরু হল। ভদ্রমহিলা নিজে থেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করলেন,


"-আপনি যাবেন কোথায়?" 


"-আরামবাগ যাব।" 


"-আমরাও তো আরামবাগ যাব। আরামবাগের কোথায় বাড়ি?"


"-প্রপার আরামবাগ নয়। আরামবাগ থেকে আরো পাঁচ কিলোমিটার ভিতরে। মেয়ের বিয়ের কেনা কাটা করতে গিয়েছিলেন বুঝি?"


"-হ্যাঁ।বিয়ের কেনাকাটা।"


"-একটা কথা জিজ্ঞেস করব যদি কিছু  মনে না করেন?"


"-নিশ্চয়ই। মনে আর কি করব,আপনি বলতে পারেন?"


"- মেয়ের বিয়ে দিচ্ছেন তা বিয়েতে কালো বেনারসী কেন?জানেন তো লাল রঙটা কিন্তু শুভ। লাল রঙের বেনারসী পরাটাই কিন্তু রীতি।"


"-না না আমরা ওসব মানি না। লাল রঙ যদি শুভ হতো তাহলে সব কিছুই শুভ থাকত ওর জীবনে।"


"-কথাটা বুঝলাম না ঠিক?" 


"-আসলে এটা ওর সেকেণ্ড ম্যারেজ। প্রথম বার বিয়েতে আমিই ওকে বলেছিলাম বিয়েতে লাল টকটকে বেনারসী পরতে। লাল রঙটাই নাকি শুভ। লাল রঙের বেনারসীতে ওকে সুন্দর মানিয়েও ছিল। কিন্তু কোথায় গেল সেই লাল রঙ?দেড় বছরের মাথায় হারিয়ে ফেললো প্রিয় মানুষটাকে। তাই আর শুভ অশুভ কিছু দেখি না। ওর ভালো থাকাটাতেই আমার ভালো থাকা।"


"-জিজ্ঞেস করে কষ্ট দিয়ে ফেললাম। কিছু মনে করবেন না‌।আপনার তাহলে এই একটি মাত্রই মেয়ে?"


"-বাবলি আমার মেয়ে নয়। আমার ছেলের বৌ। তবে বাবলি এখন নিজের মেয়ের থেকেও অনেক বেশি। বাবলি বিয়ের আগে থেকেই আমাদের বাড়ি আসতো। আমার ছেলের সাথে প্রেম করেই ওর বিয়ে‌। বিয়ের আগে থেকেই ও আমাকে মণি মা বলে ডাকে। এই বন্ধনটা বহু দিনের। আমার ছেলের মতো বাবলিও আমার আর এক সন্তান। নিয়তির কি পরিহাস দেখুন।ছোট্ট একটা দুর্ঘটনায় আমার ছেলে মারা গেল। তারপর থেকে আমিও একা হয়ে গেলাম‌। আর মেয়েটা জীবনের সব সাজ হারিয়ে ফেললো। আমি তো ছেলেকে হারিয়েই ফেলেছি। তাই মা হয়ে আমি সব কষ্ট মেনে নিয়েছি। কিন্তু ওই টুকু একটা মেয়ের এই বয়সে যে এমন অঘটন ঘটবে সেটা ভাবতেও পারিনি। সুস্থ লাইফে ফেরানোর জন্য আমি সব সময়েই চেষ্টা করে গেছি ওর পাশে থেকে। মনের জোরটাই বড়ো কথা।গ্রাজুয়েশনের পর আমিই ওকে মাস্টার্সটা কমপ্লিট করাই। এই বছর খানেক হলো ও একটা চাকরিও পেয়েছে। আমি তো ওর জন্যই ভালো আছি। মানে আমাকে ভালো থাকতে হয় আর কি।"


"-তাহলে ও  আপনার কাছেই থাকে?" 


"-হ্যাঁ আমার কাছেই থাকে। মাঝে মধ্যে মামার বাড়িতে যায়। মামা মামী ছাড়া আর তো নিজের কেউ নেই। মা তো সেই কোন ছোটো বেলায় মারা গেছেন। মা মারা যাওয়ার পর থেকে মামার বাড়িতেই  ও মানুষ হয়েছে। তবে মামা মামীও ভীষণ ভালো।আর আমাকে ছেড়ে কোথাও যেতে চায় না‌। এই সামনের ফাল্গুনে ওর বিয়ে। আমিই ওর বিয়েটা দিচ্ছি। ওর তো সারা জীবনটা পড়ে আছে। একজন জীবন সঙ্গীর খুব প্রয়োজন। তবে জীবন সঙ্গী হিসেবে যে ছেলেটি ওর জীবনে এসেছে, বড়ো ভালো মানুষ। সেও আমাকে মা বলেই ডাকে। আর বলছিলেন না কালো বেনারসী কেন বিয়েতে? রঙ দিয়ে কখনো শুভ অশুভ বিচার হয় না। যে রঙটা ওর পছন্দ সেই রঙের বেনারসীটাই ও পরুক। ওর ভালো থাকাতেই যে আমার সুখ।"


কথা বলতে বলতে কখন যে আরামবাগ পৌঁছে গিয়েছি তা আর খেয়াল নেই। বাস থেকে নামি। শুধু ভালো লাগা নয়,সব কিছু শুনে একটা ভালোবাসা তৈরিও হয়ে যায় সঙ্গে সঙ্গেই। কেন জানিনা কিছুক্ষণের পরিচয়টা অনেক বেশি দিনের পরিচিত বলেই মনে হচ্ছিল‌। ওনারা বাস থেকে নামেন। তারপর  ওই ভদ্র মহিলা ওনার মোবাইল নাম্বারটা আমাকে দিয়ে বললেন, 


"-কথা বলে খুব ভালো লাগলো। সময় করে ফোন করবেন‌।অনেক কথা হবে।


আজ দশ বছর কেটে গেছে। ভদ্র মহিলার সাথে এখনো যোগাযোগ আছে। যোগাযোগ বলব না, রীতি মতো আত্মীয়তার সম্পর্ক। আমি ওনাকে দিদি বলেই ডাকি। মানসিকতার দিক থেকে এতটা উচ্চ মনের ওনার সঙ্গে না মিশলে বুঝতেই পারতাম না। আর বাবলি আমাকে মাসিমণি বলে‌ ডাকে। বাবলির বিয়েতে আমরা সকলেই গিয়েছিলাম। বিয়েতে কালো বেনারসীই পরেছিল‌ ও। আর দশ বছরের বিবাহিত জীবন ভালোই কাটছে ওদের। এক কথায় সুখী জীবন বলা যেতে পারে। জীবনের কোনো রঙ হয় না বোধ হয়। যে রঙে রাঙাবে সেই রঙেই জীবন রঙীন, সে লালই হোক বা কালো।


(সমাপ্ত)

কলমে: সরজিৎ ঘোষ Sarajit Ghosh 

#সংগৃহীত

ঊষা মঙ্গেশকরঃ l ভুবনে শুকতারা,,,,,,,

 ঊষা মঙ্গেশকরঃ

l ভুবনে শুকতারা 

----------l-l------------------------------

ঊষা মঙ্গেশকর ভারতীয় সংগীতের সুরের ভুবনে জ্বলজ্বলে অন্যতম এক শুকতারা। বিভিন্ন গানের সুরের সম্মোহনী যাদুতে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন সারা ভারত জুড়ে। প্লেব্যাক গানে মাতিয়েছেন সিনেমাহলের দর্শক ও শ্রোতাদের। পেয়েছেন প্রচুর পুরস্কার। 


তিরিশের দশকের মধ্যভাগ। মুম্বইয়ের এক মধ্যবিত্ত মারাঠি পরিবারে বেড়ে উঠছিল পাঁচ ভাইবোন। পড়াশোনা, খেলা, খুনসুটি সবই আছে; সেইসঙ্গে রয়েছে আরও একটি জিনিস— গান। 


সেই সুরেই বাঁধা পড়েছে পাঁচ ভাইবোন। দেখতে দেখতে সঙ্গীতের বিশাল এক বড়ো জগত খুলে গেল তাঁদের সামনে। লতা, আশা, মীনা, ঊষা আর হৃদয়নাথ— মঙ্গেশকর। সবাই যার যার ক্ষেত্রে অনন্য প্রতিভার অধিকারী। 


 পরিবারের এই পাঁচ রত্ন যেন গোটা ভারতকেই সুরের যাদুতে  মাতিয়ে রাখলেন। প্রথম দুজন তো আজ জীবন্ত কিংবদন্তি; তবে দুই দিদির পাশে কখনোই একেবারে ফিকে নন বোন ঊষা মঙ্গেশকরও।


বাবা পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকরের কাছ থেকেই প্রাথমিক সঙ্গীতশিক্ষার শুরুয়াৎ। পরবর্তীকালে দেখেছেন বড়ো দিদিকে মহীরুহ হয়ে উঠতে। এসবের মধ্যে থেকেই নিজের রাস্তাটি খুঁজে বার করে নিয়েছিলেন ঊষাও। 


গানই ছিল তাঁর জীবন, তাঁর জীবনের ধ্যান জ্ঞান আর সাধনা। ১৯৫৪ সাল। ভি সান্তারামের পরিচালনায় মুক্তি পেল ‘সুবাহ কা তারা’। ঊষা তখন কুড়ি বছরের ফুটফুটে তরুণী। 


দিদি লতা মঙ্গেশকর ততদিনে পরিচিতি পেতে শুরু করেছেন। পঞ্চাশের দশক থেকেই নিজের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করবেন তিনি। আর এমন পটভূমিতে অভিষেক ঘটল তাঁর বোন, ঊষা মঙ্গেশকরেরও। 


ভি সান্তারামের সিনেমার হাত ধরেই বলিউডের মাটিতে পা রাখলেন ঊষা মঙ্গেশকরে। প্রথম প্লেব্যাক গানেই দর্শক ও বোদ্ধা মহলে প্রচুর প্রশংসিত ও সমাদৃত হলেন। আর পিছু তাকাতে হয়নি,  বাকি রাস্তা কেবল গান আর গান…। 


দিদিদের ছায়ায় ঢেকে যাওয়ার ভয় বা শঙ্কা কি ছিল না? হয়তো ভেতরে ভেতরে সামান্য হলেও ঝলক দিয়ে উঠত সেই চিন্তা। কিন্তু গানের দিকেই নিজের সমস্ত চিন্তা ঢেলে দিয়েছিলেন তিনি।


 ১৯৫৫ সালে মুক্তি পেল ‘আজাদ’, অভিনয়ে স্বয়ং দিলীপ কুমার। বক্স অফিসে সুপার ডুপার হিট। দর্শক— সবাইকে মাতিয়ে দিল এই সিনেমা। সেইসঙ্গে সাক্ষী থাকল ঊষা মঙ্গেশকরের গানেরও। 


দুটো গান গাইলেন এই ছবিতে- ‘আপলাম চাপলাম’ ও ‘বালিয়ে ও বালিয়ে’। দুটো গানে সঙ্গত দিয়েছিলেন দিদি লতাও। সেই গানও রীতিমতো সুপার হিট…। 


সত্তরের দশকে এসে নিজেকে পুরোপুরি মেলে ধরলেন ঊষা মঙ্গেশকর। ১৯৭৫ সাল। পরিচালক বিজয় শর্মার কাছ থেকে একটি হিন্দি সিনেমায় গান গাওয়ার প্রস্তাব এল। নায়ক-নায়িকাধর্মী নয়; বরং ভক্তিমূলক ছবি।


 নাম, ‘জয় সন্তোষী মা’। এই সিনেমার অধিকাংশ গানেই গলা মেলালেন  ঊষা মঙ্গেশকর।এবং দেখতে দেখতে  এই সিনেমার সবকটি গানই সুপারহিট!


 বাজেটের হিসেবে দেখলে খুব ঝাঁ-চকচকে ছবি কখনই বলা যাবে না একে। কিন্তু বক্স অফিসের হিসেব সেই কথা বলে না। সর্বকালের সবচেয়ে হিট সিনেমাগুলির মধ্যে ‘জয় সন্তোষী মা’-কে না রাখলে বোধহয় অন্যায় হবে। 


আর এই সিনেমাই প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিল ঊষা মঙ্গেশকরকে। আজও সন্তোষী দেবীর পুজো উপলক্ষে গোটা দেশজুড়ে যে গান চালানো হয়, সেখানে উপস্থিত হয় এই সিনেমার গানগুলিও।


আজও সন্তোষী দেবীর পুজোর অনুষ্ঠানে  উপস্থিত হন ঊষা মঙ্গেশকরও। ১৯৭৫-এ গাওয়া সেই সিনেমার গানগুলি আজও সমানভাবে জনপ্রিয় ভক্তদের মধ্যে… 


এই সিনেমার দৌলতেই প্রথমবার ফিল্মফেয়ারের জন্য মনোনয়নও পান ঊষা। ১৯৭৫-এর বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সেরা গায়িকার পুরস্কারও পান তিনি। 


এরপর কাজও বাড়তে থাকে, বাড়তে থাকে প্রচন্ড ব্যস্ততাও। হিন্দি, বাংলা, মারাঠি, নেপালি— বহু ভাষায় গান গেয়েছেন ঊষা। আজও গেয়ে যাচ্ছেন সমান তালে। ‘


 ঊষা মঙ্গেশকর ইনকার’, ‘নসিব’, ‘ডিস্কো ডান্সার’, ‘খুবসুরাত’ একের পর এক ছবির প্লেব্যাক গানে অংশ ছিলেন তিনি। তবে চাকাটি পূর্ণতা পেল গতবছর ২০২০ সালে।


 যখন মহারাষ্ট্র সরকার এই বছরের ‘লতা মঙ্গেশকর পুরস্কার’-এর জন্য মনোনীত হলেন ঊষা মঙ্গেশকর। নিজের দিদি, যাকে দেখে এগিয়ে গেছেন তিনি, তাঁরই নামাঙ্কিত এই পুরস্কার! ঊষা মঙ্গেশকর থামেননি। আজও সুরে, ছন্দে বেঁধে রেখেছেন নিজেকে।


ভারতীয় সংগীতের সুরের ভুবনে জ্বলজ্বলে অন্যতম এক শুকতারা ঊষা মঙ্গেশকরকে গভীর শ্রদ্ধা।

মানুষ‌কে অপমান না ক‌রেও সং‌শোধন করার অসাধারণ শিক্ষা। 

 মানুষ‌কে অপমান না ক‌রেও সং‌শোধন করার অসাধারণ শিক্ষা। 


হঠাৎ এক‌দিন রাস্তায় এক বৃ‌দ্ধের সা‌থে এক যুব‌কের দেখা। যুবক একটু আগ বা‌ড়ি‌য়ে গি‌য়ে স‌ম্বোধন ক‌রে  বৃদ্ধ‌কে জিজ্ঞাসা কর‌লেন, টিচার আমাকে চিন‌তে পে‌রে‌ছেন ? উত্ত‌রে বৃদ্ধ লোক‌ বল‌লেন না ! আমি তোমা‌কে চিন‌তে পা‌রি‌নি। অতপর বৃদ্ধ লোক জান‌তে চাই‌লেন তুমি কে?


তারপর যুবক‌ বল‌লো যে আমি একসময় আপনার ছাত্র ছিলাম। ও আচ্ছা! ব‌লে সেই বৃদ্ধ লোক‌ যুব‌কের কা‌ছে কুশলা‌দি জানার পর জিজ্ঞাসা কর‌লেন এখন  তু‌মি কি কর‌ছো? যুবক‌ অত‌্যন্ত বিন‌য়ের সা‌থে উত্ত‌রে বল‌লো আমি একজন শিক্ষক। বর্তমা‌নে শিক্ষকতা কর‌ছি। 


সা‌বেক ছা‌ত্রের মুখ থে‌কে এই কথা শু‌নে বৃদ্ধ শিক্ষ‌ক অত‌্যন্ত খু‌শি হ‌য়ে বললেন "আহ, কতই না ভালো, আমার মতো হ‌য়ে‌ছো তাহ‌লে?" 


হ্যাঁ ঠিক! আসলে আমি আপনার মত একজন শিক্ষক হতে পে‌রে‌ছি ব‌লে নি‌জে‌কে ধন‌্য ম‌নে কর‌ছি। তখন সেই যুবক এর পিছ‌নের কারণ বর্ণনা কর‌তে গি‌য়ে বল‌লো আপনি আমাকে আপনার মতো হতে অনুপ্রাণিত হ‌তে উদ্ধুদ্ধ করেছেন।


বৃদ্ধ শিক্ষক কিছুটা কৌতূহল দৃ‌ষ্টি নি‌য়ে যুবকের কা‌ছে  শিক্ষক হবার পিছ‌নের কারণ জান‌তে জান‌তে চাই‌লে, সেই যুবক‌ তার শিক্ষক হ‌য়ে উঠার গল্প বল‌তে গি‌য়ে 

বৃদ্ধ শিক্ষক‌কে ষ্মরণ ক‌রে দি‌লো স্কু‌লে ঘ‌টে যাওয়া সেই ঘটনা। সে দি‌নের  ঘটনা বর্ণনা কর‌তে গি‌য়ে যুবক‌ তখন বৃদ্ধ শিক্ষ‌ককে উ‌দ্দেশ‌্য ক‌রে বল‌লো; ম‌নে আছে টিচার,

 

একদিন আমার এক সহপা‌ঠি বন্ধু ‌যে আপনারও ছাত্র ছিল, সে একটি নতুন ঘড়ি নি‌য়ে ক্লা‌সে এসেছিল। তার ঘা‌ড়ি‌টি এতটাই সুন্দর ছিল যে  আমি লোভ সামলা‌তে পা‌রি‌নি।  সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ঘ‌ড়ি‌টি আমার  চাই। অতপর আমি তার প‌কেট থে‌কে ঘ‌ড়িট‌ি  চুরি করি।


কিছুক্ষণ পর আমার সেই বন্ধু তার ঘড়ির অনুপস্থিতি লক্ষ্য করে এবং অবিলম্বে আমাদের টিচার অর্থাৎ আপনার কাছে অভিযোগ করে। তার এই অ‌ভি‌যোগ শু‌নে  আপনি ক্লাসের উদ্দেশ্যে বলে‌ছি‌লেন, ‘আজ ক্লাস চলাকালীন সম‌য়ে এই ছাত্রের ঘড়িটি চুরি হয়েছে। যে চুরি করেছো, দয়া করে ঘা‌ড়ি‌টি ফিরিয়ে দাও।


হ‌্যাঁ আপনার বার্তা শু‌নেও  আমি ঘা‌ড়ি‌টি ফেরত দেইনি কারণ এ‌টি আমার কা‌ছে খুব লে‌াভনীয় ছিল। তারপর দরজা বন্ধ করে আপনি  সবাইকে বেঞ্চ ছে‌ড়ে উঠে দাঁড়ি‌য়ে ক্লাসরু‌মের ফ্লো‌রের ম‌ধ্যে একটি গোলাকার বৃত্ত তৈরি করতে বললেন। এবং সবাই‌কে চোখ বন্ধ কর‌তে নি‌র্দেশ দি‌লেন। এরপর ঘড়ি না পাওয়া পর্যন্ত আপনি এক এক করে আমাদের সবার পকেট খুঁজ‌তে লাগ‌লেন।


আমরা সবাই  আপনার নির্দেশ মতো দাঁ‌ড়ি‌য়ে রইলাম।

আপনি  এক এক ক‌রে পকেট চেক ক‌রে একটা সময় আপনি যখন আমার পকেটে হাত দি‌য়ে ঘ‌ড়ি‌টি খুঁ‌জে পে‌লেন তখন ভ‌য়ে  আমার সমস্ত শরীর কাঁপ‌তে ছিল। কিন্তুু সেই মুহূ‌র্তে ঘা‌ড়ি‌টি আমার প‌কে‌টে পাবার পরও আপনি কিছু ব‌লেন‌নি এবং শেষ ছাত্র পর্যন্ত সবার প‌কেট চেক কর‌ছি‌লেন। সব‌শে‌ষে আপ‌নি সবাই‌কে বললেন ঘ‌ড়ি পাওয়া গে‌ছে। এবার তোমরা সবাই চোখ খুল‌তে পা‌রো। ঘ‌ড়ি‌টি পাবার পর আমার সেই বন্ধু‌টি আপনার কা‌ছে জান‌তে চে‌য়ে‌ছিল ঘ‌ড়ি‌টি কার প‌কে‌টে পাওয়া গি‌য়ে‌ছিল? ‌কিন্তুু আপনি তা‌কে ব‌লে‌ছি‌লেন, ঘ‌ড়ি‌টি কার প‌কে‌টে পাওয়া গে‌ছে সে‌টি গুরুত্বপূর্ণ নয়। তোমার ঘ‌ড়ি পাওয়া গে‌ছে সে‌টি গুরুত্বপূর্ণ। 


সেই দি‌নের ঘটনা নি‌য়ে পরবর্তী‌তে আপনি আমার সা‌থে কো‌নো কথা ব‌লেন‌নি। এমন‌কি সে কাজের জন‌্য আপনি আমাকে  তিরস্কারও করেননি। নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার জন্য  আপ‌নি আমাকে স্কু‌লের কো‌নো কামরায় নিয়ে যাননি। সেই ঘটনা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে লজ্জাজনক দিন। অথচ  আপ‌নি অত‌্যন্ত বু‌দ্ধিমত্তার সা‌থে, কৌশল অবলম্বন ক‌রে  চু‌রি হওয়া ঘ‌ড়ি‌টি উদ্ধার কর‌লেন এবং আমার মর্যাদা চিরতরে রক্ষা করলেন। 


সে ঘটনার পর আমি অ‌নেক‌দিন অনু‌শোচনায় ভোগে‌ছি। ক্লা‌সে ঘ‌টে যাওয়া ঘটনার রেশ সে দিন চ‌লে গে‌লেও এর প্রভাব র‌য়ে যায় আমার ম‌নের ম‌ধ্যে। বি‌বে‌কের যু‌দ্ধে বার বার দং‌শিত হ‌য়ে‌ছি।  তারপর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম এই সব অ‌নৈ‌তিক কাজ আর কখ‌নো করব না। একজন ভা‌লো মানুষ হ‌বে‌া। একজন শিক্ষক হ‌বো। স‌ত্যিকার অ‌র্থে মানুষ গড়ার কা‌রিগর হ‌বো। আপনার কাছ থে‌কে  সে দিন আমি স্পষ্টভাবে বার্তা পেয়েছিলাম প্রকৃতপ‌ক্ষে কি ধর‌ণের একজন শিক্ষা‌বি‌দ হওয়া উ‌চিত। অপমান ছাড়াও  মানু‌ষকে সং‌শোধন করা যায় সে‌টি আপনার কাছ থে‌কে শি‌খে‌ছি। আপনার উদারতা এবং মহানুভবতা আজ আমা‌কে শিক্ষ‌কের মর্যাদায় আসীন ক‌রে‌ছে। 


সা‌বেক ছা‌ত্রের  কথাগু‌লো শু‌নে বৃদ্ধ শিক্ষক বল‌লেন হ‌্যাঁ সেই ঘটনা আমার ম‌নে আছে। চু‌রি হওয়া ঘ‌ড়ি আমি সবার পকেটে খুঁজেছিলাম। কিন্তুু  আমি তোমাকে মনে রাখিনি, কারণ সে সময় আমার চোখও  বন্ধ ছিল।

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...