এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫

সূফী কবি কাজী নজরুল ইসলাম কারবালার আত্মত্যাগ নিয়ে লিখেছিলেন তাঁর বিখ্যাত মহররম কবিতা। 

 সূফী কবি কাজী নজরুল ইসলাম কারবালার আত্মত্যাগ নিয়ে লিখেছিলেন তাঁর বিখ্যাত মহররম কবিতা। 

যে কবিতায় চোখের অশ্রু ঝরে পড়ে। 

সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো।


কবিতাটি মনোযোগ দিয়ে পড়লে কারবালার সমস্ত নির্মম ইতিহাস চোখের সামনে ভেসে উঠে।


মহররম

কাজী নজরুল ইসলাম।

--------------------------------------------

নীল সিয়া আসমান লালে লাল দুনিয়া - আম্মা লাল তেরি খুন কিয়া খুনিয়া, কাঁদে কোন ক্রন্দসী কারবালা ফোরাতে? সে কাঁদনে আসু আনে সিমারের ও ছোরাতে।

রুদ্র মাতম ওঠে দুনিয়া দামেস্কে - জয়নালে পরালো এ খুনিয়ারা বেশ কে? হায় হায় হোসাইন ওঠে রোল ঝঞ্ঝায়, তলোয়ার কেঁপে ওঠে এজিদের পাঞ্জায়

উন্ মাদ দুল দুল ছুটে ফেরে মদিনায় আলীজাদা হোসেনের দেখা হেথা যদি পায়।


মা ফাতিমা আসমানে কাঁদি খুলি কেশপাশ বেটাদের লাশ নিয়ে বধূদের শ্বেতবাস রণে যায় কাসিম ঐ দু'ঘড়ির নওশা মেহেদির রঙটুকু মুছে গেল সহসা !

‘হায় হায়’ কাঁদে বায় পূরবী ও দখিনা-‘কঙ্কণ পঁইচি খুলে ফেল সকীনা!’

কাঁদে কে রে কোলে ক’রে কাসিমের কাটা-শির ?

খান্ খান্ হয়ে ক্ষরে বুক-ফাটা নীর ! কেঁদে গেছে থামি’ হেথা মৃত্যু ও রুদ্র,বিশ্বের ব্যথা যেন বালিকা এ ক্ষুদ্র !


গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদে কচি মেয়ে ফাতিমা,“আম্মা গো পানি দাও ফেটে গেল ছাতি মা!” নিয়ে তৃষা সাহারার,দুনিয়ার হাহাকার, কারবালা-প্রান্তরে কাঁদে বাছা আহা কার ! দুই হাত কাটা তবু শের-নর আব্বাস,

পানি আনে মুখে, হাঁকে দুশ মনও ‘সাব্বাস' !

দ্রিম দ্রিম বাজে ঘন দুন্দুভি দামামা, হাঁকে বীর “শির দেগা,নেহি দেগা আমামা !


 কলিজা কাবাব সম ভূনে মরু রোদ্দুর খাঁ খাঁ করে কারবালা নাই পানি খজ্জুর মার স্তনে দুধ নাই বাচ্চারা তড়পায় জিভ চুষে কচি জান থাকে কিরে ধড়টায়

দাও দাও জ্বলে শিরে কারবালা ভাস্কর কাঁদে বানু পানি দেও মরে যাদু আসগর পেলনাতো পানি শিশু পেয়ে গেল কাঁচা খুন ডাকে মাতা পানি দেব ফিরে আয় বাছা শোন - পুত্র হীনা আর বিধবার কাঁদনে ছিড়ে আনে মর্মের বত্রিশ বাধনে।


তাম্বুতে সজ্জায় কাঁদে একা জয়নাল দাদা তেরি ঘর কিয়া বরবাদ পয়মাল ‘হাইদরী-হাঁক-হাঁকি দুলদুল-আসওয়ার শম শের চমকায় দুষমনে ত্রাস বার।

খ’সে পড়ে হাত হ’তে শত্রুর তরবার, ভাসে চোখে কিয়ামতে আল্লার দরবার! নিঃশেষ দুষমন ; ও কে রণ-শ্রান্ত ফোরাতের নীরে নেমে মুছে আঁখি-প্রান্ত ?

কোথা বাবা আসগর? শোকে বুক-ঝাঁঝরা পানি দেখে হোসেনের ফেটে যায় পাঁজরা !

ওর কাছে সবচেয়ে মূল্যবান পুরস্কার সত্যজিৎ রায়ের ডায়েরিতে লেখা নিজের নাম, উনি এঁর সাথে কাজ করতে চেয়েছিলেন,

 শোনা যায়, ওঁর কাছে সবচেয়ে মূল্যবান পুরস্কার সত্যজিৎ রায়ের ডায়েরিতে লেখা নিজের নাম, উনি এঁর সাথে কাজ করতে চেয়েছিলেন, সত্যাসত্য পরের কথা, কিন্তু অসম্ভব ছিলো না! ব্যতিক্রমী, সব দিক থেকেই; খুব প্রিয়, সে "ক্রান্তিবীর", "প্রহার", "তিরঙ্গা" র দিন থেকেই(নামের সাথে সিনেমাগুলো সমার্থক হয়ে গেছে না?।  "পরিন্দা"র আন্না ঠাণ্ডা মাথায় এক ভাইকে আরেক ভাইয়ের "খবর" নিতে বলে, আবার আগুন দেখলে দিশাহারা হয়ে যায়! অনেক পথ পেরিয়ে "ওয়েলকাম", "ওয়েলকাম ব্যাক" এর স্থূল কমেডির উদয় শেট্টি( কন্ট্রোল উদয়, কন্ট্রোল, আর ভগওয়ান কা দিয়া সবকুছ হ্যায়..... সবার জানা, তাই তো?)... যাকগে, স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম "অন্ধা যুদ্ধ", "থোড়া সা রুমানী হো যায়ে", "তৃষাগ্নি", বা কিছুদিন আগেই "নটসম্রাট" দেখে, কিংবদন্তী ডঃ শ্রীরাম লাগুর স্থানে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করা সহজ ছিলোনা। যুবসমাজের অতৃপ্তি, অন্তহীন ঘষামাজার পরে ব্যর্থতার গ্লানি, "অঙ্কুশ"–এর চেয়ে তীব্র ছাপ কি ফেলেছিলো অন্যকিছু? 


 হাসিটাই তো অদ্ভুত, কতো যে মিমিক্রি শুনেছি!! মাথা চুলকে সংলাপ বলা, এটাই বা কি তাহলে? নাহহ্, তাহলে কি "খামোশি" করতে পারতেন নাকি? হতো নাকি "পাঠশালা", "গুলাম–এ–মুস্তাফা"? আর খলনায়ক? একদম আলাদা মানদণ্ড সৃষ্টি করেছেন; "অঙ্গার", "পরিন্দা", "অগ্নিসাক্ষী", "অপহরণ", বা "আজ কি আওয়াজ", তা ছবিগুলো দেখলেই বুঝবেন। 


 পাগলের মতো ভালো লাগে "দেউল", "রাজনীতি", বা সেই কবেকার "গিধ", বা "মাফিচা সাক্ষীদার", কারণ যে ছবিই করেন, ১০০% ঢেলে দেন! 


আবার "ট্যাক্সি নং ৯২১১", ওরে বাবা!! শুধুমাত্র এঁর জন্যই বারবার দেখা যায়, দেখিও!! ধারাবাহিক ভাবে ভালো, খাঁটি অভিনয় খুব বেশি দেখা যায়না তো.... তাই বোধহয় অবলীলায় জাঁকজমক ছেড়ে দেশ গাঁয়ের বাড়িতে চলে যেতে পারেন, চাষাবাদ নিয়ে ভাবতে আর যে কৃষকদের পরিবার, যাদের লোক চরমতম পরিস্থিতিতে পড়ে আত্মহত্যা করতে পরে ধ্বংসের মুখে পড়ে তাদের পাশে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াতে। বুলি দিয়ে না, কাজ করে। 


তথ্যসূত্র - অভীক গুইঁ

বন্টননামা দলিল কেন প্রয়োজন? বন্টননামা দলিল না করলে যে সকল জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে

 👉বন্টননামা দলিল কেন প্রয়োজন?

বন্টননামা দলিল না করলে যে সকল জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে👇

ওয়ারিশসূত্রে নামজারি খারিজের কারণ ও মঞ্জুর এর ক্ষেত্রে অদূর ভবিষ্যতে সৃষ্ট জটিলতা সম্পর্কেঃ


১. দাখিলা (খাজনা/এলডি ট্যাক্স): অধিকাংশ ওয়ারিশসূত্রে নামজারির আবেদনে রেকর্ডীয় মালিকের জমির পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে খাজনা/এলডি ট্যাক্স এর পরিমাণও বেশি থাকে এবং আবেদনকারী খাজনা/এলডি ট্যাক্স পরিশোধ ছাড়াই মিউটেশনের আবেদন করেন। অথচ ভূমির মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দখল, দাখিলা ও দলিল অত্যাবশ্যকীয়।


২. দখল: অধিকাংশ ওয়ারিশসূত্রে নামজারির আবেদনে রেকর্ডীয় মালিকের একাধিক খতিয়ানে ও দাগে জমি থাকে। কিন্তু ওয়ারিশসূত্রে আবেদনকারী সকল দাগে অংশ অনুসারে দখলে থাকেন না। বরং এক বা গুটিকয়েক দাগে দখল থাকে। সকল দাগে অংশ মোতাবেক দখল না থাকায় মালিকানা পরিবর্তনের শর্তানুসারে (দখল, দাখিলা ও দলিল) মিউটেশনের মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তন সম্ভব নয়। 


৩. মিউটেশন তামিল: ওয়ারিশসূত্রে (অনেক ক্ষেত্রে ওয়ারিশের সংখ্যা ২০ জন বা তার বেশি) নামজারির একাধিক আবেদন মঞ্জুর হলে সেক্ষেত্রে ২নং রেজিষ্টারে তামিল করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। 


৪. ওয়ারিশকে বঞ্চিত করা: অনেকক্ষেত্রে এক বা একাধিক ওয়ারিশকে অথবা বিশেষ করে সৎ ভাই-বোনদের বঞ্চিত করা হয় এবং ১৫০ ধারার মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

 

৫. খাজনা/এলডি ট্যাক্স আদায়ে জটিলতা: একজন ওয়ারিশ মিউটেশনের মাধ্যমে রেকর্ডীয় খতিয়ান থেকে বের হয়ে গেলে বাকি ওয়ারিশদের রেকর্ডীয় খতিয়ান সমুদয় খাজনা/এলডি ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয় নতুবা বাকি ওয়ারিশদের খাজনা/এলডি ট্যাক্স বকেয়া হিসেবে থেকে যায়। 


৬. হস্তান্তর পরবর্তী দখল: এক বা একাধিক ওয়ারিশ প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে জমি হস্তান্তর করলে নতুন প্রভাবশালী মালিক একাধিক দাগে ও খতিয়ানে জমি ক্রয় করলেও তুলনামূলক দামি ও সুবিধাজনক জমি দখল করেন। ফলে বাকি ওয়ারিশরা ন্যায্য অধিকারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ান। 


৭. পরবর্তী জরিপ: একাধিক দাগে ও খতিয়ানে অংশ অনুযায়ী জমি থাকলেও এক বা গুটিকয়েক  দাগে ভোগদখল থাকলে পরবর্তীতে জরিপের সময় জটিলতার সৃষ্টি হবে। একাধিক দাগে জমি থাকলে দখল অনুসারে এক দাগে রেকর্ড করার সুযোগ থাকবে না।

Motiur Rahman

নতুন দলিল লিখতে দলিল গ্রহিতার যে বিষয়ে খেয়াল রাখা দরকারঃ

 নতুন দলিল লিখতে দলিল গ্রহিতার যে বিষয়ে খেয়াল রাখা দরকারঃ


সম্পত্তির দলিল লেখার জন্য ‘দলিল লেখক' এর কাছে দায়িত্ব দিয়েই ক্রেতার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। কেননা পরবর্তীতে দলিলে ভুল পরিলক্ষিত হলে দলিল লেখক নয় এর মাশুল গুনতে হবে ক্রেতাকেই। তাই এতে ক্রেতার সচেতনতা আবশ্যক। সম্পত্তির দলিল লেখার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়ে ক্রেতার লক্ষ্য রাখা প্রয়োজনঃ


১। দলিল সম্পাদনকারী তথা জমি দাতা (বিক্রেতা) আইনের দৃষ্টিতে সাবালক ও সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন কি না, আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত কি না তা যাচাই করে নিতে হবে৷


২। দলিলের ধরন যেমন- (ক) সাফ কবলা (খ) বায়না পত্র (গ) দানপত্র (ঘ) হেবার ঘোষনাপত্র ইত্যাদি খেয়াল করতে হবে৷


৩। ক্রেতা যে জমিটি কিনতে যাচ্ছেন সেই প্রস্তাবিত জমির পরিমাণ, বিক্রয় মূল্য (বায়না দলিল হলে বায়নায় পরিশোধিত টাকা এবং বাকী টাকা) ইত্যাদি দেখে নিতে হবে।


৪। পক্ষ পরিচয় তথ্য যেমন- দলিল গ্রহীতা/প্রথম পক্ষ, দলিল দাতা/দ্বিতীয় পক্ষ, উভয় পক্ষের পূর্ণ নাম, ঠিকানা, পেশা, ধর্ম ইত্যাদি। দলিল গ্রহীতার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং দাতার ক্ষেত্রে আগত খতিয়ান (সর্বশেষ জরিপ/নামজারি খতিয়ান) এর সাথে মিল রেখে নাম ঠিকানা লেখা হয়েছে কি না দেখতে হবে।


৫। স্বত্ত্বের বর্ণনা যেমন- জমি দাতার মালিকানার ভিত্তি, দলিল মূলে হলে পূর্বের দলিলের নম্বর ও তারিখ, পর্চা/খতিয়ান নম্বর ইত্যাদি৷


৬। জমির বিক্রেতা যদি জমিটি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়ে থাকে তাহলে মূল মালিকের সাথে বিক্রেতা যোগসূত্র/সম্পর্ক সঠিক আছে কিনা তা জেনে নিতে হবে৷


৭। দলিলে প্রস্তাবিত জমির তফশিল যেমন- জেলার নাম, উপজেলার নাম, রেজিস্ট্রি অফিসের নাম, মৌজার নাম, জেএল নম্বর, দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর এবং জমির শ্রেণি আগত খতিয়ানের সাথে মিল আছে কি না দেখে নিতে হবে। জমির তফশিল লেখার সময় প্রত্যেক দাগে মোট জমির পরিমাণ কত এবং অত্র বিক্রয় দলিলে উক্ত দাগের মধ্যে কত একর বা শতাংশ জমি বিক্রয় করা হচ্ছে তা প্রতি ক্ষেত্রে লিখে নিতে হবে৷ তবে উল্লেখ্য যে, কোন অবস্থাতেই কয়েকটি দাগের জমি একত্রে যোগ করে একর/শতাংশ লেখা উচিত হবে না৷


৮। ক্রেতা যে জমিটি ক্রয় করতে চাচ্ছে সেই জমিটির চৌহদ্দি ঠিক আছে কি না অর্থাত্‍ উত্তর, দক্ষিণ পূর্ব, পশ্চিম পাশের জমির বর্ণনা সহ মালিকের নাম উল্লেখ করতে হবে৷


৯। জমি বিক্রেতা বা দলিল দাতা দলিলের ১ম পৃষ্ঠার উপরের ডান পাশ্বের নীচ থেকে উপরের দিকে তার নিজ নাম স্বাক্ষর করবেন অথবা নিরক্ষর হলে নিজ নামের উপরে টিপ সহি প্রদান করেছেন কি না তা দেখতে হবে৷ এছাড়াও জমি বিক্রেতা বা দাতা দলিলের শেষ পৃষ্ঠার নীচে স্বাক্ষর বা টিপ সহি করবেন৷ তবে দলিলের প্রতি পৃষ্ঠায় দাতার স্বাক্ষর বা টিপ সহি দিলে ভালো হয়৷


১০। জমির বিক্রেতা দলিলের শেষ পৃষ্ঠার নীচে যে জায়গায় তার নিজ নাম স্বাক্ষর বা টিপ সহি করেছেন ঠিক তার নীচে উক্ত দলিলটির লেখক তার নাম স্বাক্ষর করবেন। এরপর কমপক্ষে ২ জন সাক্ষী এবং অপর একজন জমির বিক্রেতাকে সনাক্ত করে সনাক্তকারী হিসাবে স্বাক্ষর করবেন।


১১। দলিলে যতদূর সম্ভব কাটাকাটি, ঘষামাঝা, অষ্পষ্টতা এড়াতে হবে তবুও যদি কোনরূপ ভুল ক্রটি ঘষামাঝা কাটাকাটি হয়েও যায় তাহলে সেক্ষেত্রে উক্ত কাটাকাটি বা ঘষামাঝা যুক্ত লাইন ও শব্দের ক্রম উল্লেখ করে দলিলের শেষাংশে কৈফিয়ত লিখে দলিল লেখককে তার নীচে স্বাক্ষর করতে হবে৷


এছাড়াও জমির ক্রেতাকে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে- বিভিন্ন জরিপের দাগ নম্বর ও খতিয়ান নম্বর যাতে দলিল লেখকের মাধ্যমে সঠিকভাবে লিখানো হয়৷ এজন্য জমির ক্রেতাকে জমি ক্রয় করার পূর্বেই তহসিল অফিস হতে জমির সঠিক দাগ নম্বর ও খতিয়ান নম্বর জেনে নিতে হবে৷ প্রয়োজনে খতিয়ানের সইমোহর নকল সংগ্রহ করতে হবে।


যেকোনো সময় প্রয়োজন হতে পারে তাই শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে রেখে দিন এবং অন্যকে দেখার সুযোগ করে দিন। 


ধন্যবাদ।


বলিউডের বাঙালি রাজা

 ॥ বলিউডের বাঙালি রাজা ॥


শক্তি সামন্ত, একজন প্রতিভাবান ও সৃষ্টিশীল পরিচালক, যিনি বলিউডের ইতিহাসে তার অনন্য ছাপ রেখে গেছেন। উত্তমকুমারের শান্ত, রোমান্টিক ইমেজকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে শক্তি সামন্তই তাকে ‘অমানুষ’ চরিত্রে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। শুধু উত্তমকুমারই নয়, শর্মিলা ঠাকুর, শাম্মী কাপুর, রাজেশ খান্নার মতো তারকারাও তার হাত ধরেই নিজেদের মাটি খুঁজে পেয়েছেন বলিউডে। নতুন গল্প, নতুন ভাবনা আর নতুন ধারা নিয়ে তিনি বলিউডে এক অভূতপূর্ব যুগের সূচনা করেছিলেন।


শক্তি সামন্তের অসাধারণ কর্মজীবনে ‘চায়না টাউন’, ‘হাওড়া ব্রিজ’, ‘কাশ্মির কি কলি’, ‘কাটি পাতাং’, ‘অ্যান ইভনিং ইন প্যারিস’, ‘আরাধনা’, ‘অমানুষ’, এবং ‘আনন্দ আশ্রম’-এর মতো অসংখ্য সিনেমা উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি ছবিই ব্যবসায়িক সফলতার পাশাপাশি দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। তিনি ছিলেন শক্তি ফিল্মস-এর প্রতিষ্ঠাতা, যার মাধ্যমে বহু বাঙালি অভিনেতা, সংগীতশিল্পী, এবং কলাকুশলী বলিউডে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছিলেন। শর্মিলা ঠাকুর যেমন তার প্রযোজনার সুবাদে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলেন, তেমনই বাপ্পী লাহিড়ির বলিউডে প্রতিষ্ঠার পেছনেও ছিল শক্তি সামন্তের বড় ভূমিকা।


১৯২৬ সালের আজকের দিনে, ১৩ জানুয়ারি বর্ধমানে জন্মগ্রহণ করেন শক্তি সামন্ত। স্কুলজীবন শেষ করে ১৯৪৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ছোট থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহী শক্তি মুম্বাই পাড়ি জমান অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। তবে, ১৯৪৮ সালে তিনি তার ক্যারিয়ার শুরু করেন সহকারি পরিচালক হিসেবে। রাজকাপুর অভিনীত সতীশ নিগম পরিচালিত ‘সুনহেরে দিন’ ছবির মাধ্যমে তার যাত্রা শুরু হয়। এরপর গণেশ মুখার্জি ও ফণি মজুমদারের মতো বিশিষ্ট পরিচালকদের সহকারী হিসেবে কাজ করে নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলি ভরেন।


১৯৫৪ সালে তার পরিচালিত প্রথম ছবি ‘বহু’ মুক্তি পায়, যা বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়। এরপর ‘ইন্সপেকটর’, ‘শেরু’, ‘ডিটেকটিভ’, এবং ‘হিল স্টেশন’-এর মতো আরও কয়েকটি সিনেমা নির্মাণ করে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেন। ১৯৫৭ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শক্তি ফিল্মস।


শক্তি ফিল্মস থেকে মুক্তি পাওয়া প্রথম সিনেমা ‘হাওড়া ব্রিজ’। মধুবালা ও অশোক কুমার অভিনীত এই সিনেমা দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছিল। ওপি নায়ারের সুরে আশা ভোঁশলের গাওয়া গানগুলো বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। গীতা দত্তের প্লেব্যাকে ‘মেরা নাম চিন চিন চু’ গানের সঙ্গে হেলেনের অসাধারণ নৃত্যশৈলী তাকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। রহস্য-রোমাঞ্চে ভরপুর এবং মধুবালার গ্ল্যামারাস উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করে।


শক্তি সামন্তের চলচ্চিত্রে সমাজ-বাস্তবতার ছোঁয়া এবং বাণিজ্যিক বিনোদনের মিশ্রণ তার পরিচালনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সুনীল দত্ত ও মধুবালাকে নিয়ে তিনি নির্মাণ করেছিলেন ‘জাগ উঠা ইনসান’, যেখানে সমাজ পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তুলে ধরা হয়। যদিও ছবিটি সমালোচকদের প্রশংসা পায়, তবুও বাণিজ্যিক সাফল্যে তেমন উল্লেখযোগ্য হতে পারেনি। এই অভিজ্ঞতার পর, শক্তি সামন্ত বাণিজ্যিক ধারার ছবিতে মনোনিবেশ করেন এবং ১৯৬২ সালে নির্মাণ করেন ‘চায়না টাউন’। শম্মি কাপুর অভিনীত এই ছবিটি হিন্দি চলচ্চিত্রে নতুন ট্রেন্ড শুরু করেছিল এবং শম্মি কাপুরকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছিল।


এরপর ১৯৬৪ সালে মুক্তি পায় ‘কাশ্মির কি কলি’, যেখানে শক্তি সামন্ত বলিউডকে উপহার দেন শর্মিলা ঠাকুরের মতো এক অনন্য প্রতিভাকে। শর্মিলা, যিনি সত্যজিৎ রায়ের ছবির মাধ্যমে ইতোমধ্যেই সমালোচকদের মন জয় করেছিলেন, এখানে নতুনভাবে আবির্ভূত হন এক গ্ল্যামারাস, বাণিজ্যিক সফলতার তারকা হিসেবে। ‘কাশ্মির কি কলি’র সাফল্যের পর শক্তি সামন্ত শর্মিলা ঠাকুরকে নিয়ে নির্মাণ করেন ‘সাওয়ান কি ঘাটা’, ‘অ্যান ইভনিং ইন প্যারিস’, এবং ‘আরাধনা’র মতো একের পর এক হিট ছবি।


১৯৬৭ সালের ‘অ্যান ইভনিং ইন প্যারিস’ ছবিতে বিকিনি পরিহিতা শর্মিলা ঠাকুরের উপস্থিতি সেই সময়ে এক দুঃসাহসিক পদক্ষেপ ছিল। ছবির আবেদনময়ী দৃশ্য এবং গল্প দর্শকদের দারুণভাবে আকর্ষণ করে। শর্মিলা যেমন তার নতুন ইমেজ নিয়ে জনপ্রিয় হন, তেমনি শম্মি কাপুরও গড়ে তোলেন তার আধুনিক নায়কসুলভ পরিচয়।


তবে শক্তি সামন্তের ক্যারিয়ারের এক অন্যতম উল্লেখযোগ্য ছবি হলো ১৯৬৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আরাধনা’। রাজেশ খান্না ও শর্মিলা ঠাকুর অভিনীত এই ছবিটি শুধু একটি রোমান্টিক গল্প নয়, এটি ছিল এক নতুন রোমান্টিক ধারার সূচনা। রাজেশ খান্না এখানে এমন একটি রোমান্টিক ইমেজ পান, যা তাকে বলিউডের প্রথম সুপারস্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেয়।


‘আরাধনা’র গানগুলো, বিশেষ করে ‘মেরে সপনে কি রাণী কাব আয়েগি তু’, আজও প্রেমের প্রতীক হয়ে আছে। ট্রেন ও জিপের সেই দৃশ্যের চিত্রায়ন শক্তি সামন্তের পরিচালনার মুন্সিয়ানার আরেকটি দৃষ্টান্ত। এই সিনেমাটি একইসঙ্গে বাংলা এবং হিন্দি ভাষায় নির্মিত হয়েছিল এবং এটি রোমান্টিক চলচ্চিত্রের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।


শক্তি সামন্তের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ছবি হলো ‘কাটি পাতাং’, যেখানে রাজেশ খান্না ও আশা পারেখের জুটি দর্শকদের মুগ্ধ করে। ছবির সংগীতও ছিল অসাধারণ, যা আজও দর্শকদের হৃদয়ে গেঁথে আছে। এই ছবি সুপারহিট হওয়ার পাশাপাশি রাজেশ খান্নার রোমান্টিক নায়ক ইমেজ আরও শক্তিশালী করে। শক্তি সামন্ত তার নির্মাণশৈলীতে একদিকে যেমন শাম্মি কাপুরকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেন ‘চায়না টাউন’, ‘অ্যান ইভনিং ইন প্যারিস’, এবং ‘কাশ্মির কি কলি’-এর মতো ছবিতে, তেমনি ‘আরাধনা’, ‘কাটি পাতাং’, ‘অমর প্রেম’, এবং ‘মেহেবুবা’র মতো ছবির মাধ্যমে প্রেমিক নায়ক হিসেবে রাজেশ খান্নাকে প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিটি ছবিই বাণিজ্যিকভাবে দারুণ সাফল্য পায়।


১৯৭৫ সালে উত্তম কুমারকে এক ভিন্ন রূপে উপস্থাপন করেন শক্তি সামন্ত তার সুপারহিট ছবি ‘অমানুষ’-এর মাধ্যমে। সুন্দরবনের পটভূমিতে নির্মিত এই ছবিতে উত্তম কুমার, শর্মিলা ঠাকুর, এবং উৎপল দত্তের অসাধারণ অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করে। উত্তম কুমার এই ছবিতে এক নতুন চরিত্রে অভিনয় করেন, যা তার ক্যারিয়ারে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। ‘অমানুষ’ ছবির বাংলা ও হিন্দি উভয় সংস্করণই তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষত, ছবির গান ‘কি আশায় বাঁধি খেলাঘর’ বাঙালি দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। উত্তম কুমারের এই নতুন ইমেজ দর্শকদের কাছে ভীষণ গ্রহণযোগ্যতা পায়, যা তার ক্যারিয়ারে এক অনন্য মাত্রা যোগ করে।


এরপর ১৯৭৭ সালে মুক্তি পায় শক্তি সামন্তের আরেকটি দ্বিভাষিক ছবি ‘আনন্দ আশ্রম’। উত্তম কুমার, শর্মিলা ঠাকুর ও উৎপল দত্ত অভিনীত এই ছবি সুপারহিট হয় এবং এর গানগুলো আজও প্রেমের চিরসবুজ গান হিসেবে জনপ্রিয়। যেমন, ‘আশা ছিল ভালোবাসা ছিল’, ‘পৃথিবী বদলে গেছে’, এবং ‘আমার স্বপ্ন তুমি’।


শক্তি সামন্ত তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অমিতাভ বচ্চনকেও নিয়ে সফল ছবি তৈরি করেন। তার পরিচালিত ‘দ্য গ্রেট গ্যাম্বলার’ এবং ‘বারসাত কি এক রাত’ (বাংলা সংস্করণে ‘অনুসন্ধান’) দারুণ ব্যবসা সফল হয়। ‘বারসাত কি এক রাত’-এ অমিতাভ বচ্চন, রাখি ও উৎপল দত্তের অসাধারণ অভিনয় দর্শকদের মন জয় করে।


এছাড়াও, ১৯৮৫ সালে তিনি নির্মাণ করেন ‘অন্যায় অবিচার’, যা বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনার ছবি ছিল। মিঠুন চক্রবর্তী ও রোজিনার মতো তারকারা অভিনীত এই ছবি কলকাতা ও বাংলাদেশে প্রচুর জনপ্রিয়তা লাভ করে। শক্তি সামন্ত বাংলা চলচ্চিত্রেও তার প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। তিনি ‘দেবদাস’, ‘অন্ধবিচার’-এর মতো ছবি নির্মাণ করেন, যা বাণিজ্যিক ও সমালোচকদের দৃষ্টিতে সাফল্য পায়।


শক্তি সামন্ত তার ছবি নির্মাণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও অর্জন করেন। ‘আরাধনা’, ‘অনুরাগ’, এবং ‘অমানুষ’-এর জন্য তিনি ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার জেতেন। এছাড়া, বার্লিন, মস্কো, তাশখন্দ, কায়রোসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তার ছবি প্রশংসিত হয়। তার পরিচালিত প্রতিটি ছবি আবেগ, বিনোদন ও রোমান্সের সংমিশ্রণে দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।


২০০৯ সালের ৯ এপ্রিল মুম্বাইতে এই কিংবদন্তি পরিচালক মৃত্যুবরণ করেন। তবে তার তৈরি অসংখ্য শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র আজও তাকে অমর করে রেখেছে। শক্তি সামন্ত ছিলেন এক বিরল প্রতিভা, যার অবদান ভারতীয় চলচ্চিত্রে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সুচিত্রা সেন আমন্ত্রিত হলেও অনুপস্থিত। দর্শকরা ঘোর অসন্তুষ্ট। তারা উত্তম - সুচিত্রা কে একসাথে দেখতে চান।

 সুচিত্রা সেন আমন্ত্রিত হলেও অনুপস্থিত। দর্শকরা ঘোর অসন্তুষ্ট। তারা উত্তম - সুচিত্রা কে একসাথে দেখতে চান।

 কিন্তু সেটা হল না,চরম বিশৃঙ্খলা। বর্ধমানের মহারানি ওই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতি হয়ে উত্তমকুমার ও চিত্র পরিচালক তপন সিংহ কে সংবর্ধনা জানিয়েছেন। কিন্তু যেহেতু সুচিত্রা সেন অনুপস্থিত দর্শকদের শান্ত করা যাচ্ছে না।ভয়ঙ্কর উত্তেজিত দর্শকদের সামনে অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তারা ঘোষণা করলেন এবার আপনাদের সামনে সরোদ শোনাবেন আলি আকবর খাঁ। অনেকের মত উত্তমকুমার, তপন সিংহ ঘোর আপত্তি জানালেন। এই পরিবেশে আলি আকবর খাঁ 'র সরোদ!  দর্শকদের তাণ্ডবে ভীত মহারানি। অবশ্য আলি আকবর রীতিমত আত্মবিশ্বাসী। তিনি সরোদের মুর্ছনায় অশান্ত দর্শকদের শান্ত করবেন। হেসে বললেন " ভাবছেন কেন? কিছু হবে না চলুন"।


পর্দা উঠল, উত্তমকুমার কে দেখে জনতা সিটি আর হাততালি দিচ্ছে। মহাপুরুষ মিশ্র তবলা বাজাবেন। আলি আকবর খাঁ শুরু করলেন আলাপ। মাত্র তিন মিনিটে অশান্ত জনতা শান্ত হয়ে গেল। অকস্মাৎ দ্রুত ত্রিতালে গত। দশ মিনিটের মধ্যে এত দ্রুত লয়ের কাজ দেখালেন ঘন ঘন হাততালিতে দর্শক উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছেন।

'ক্ষুধিত পাষাণ ' ছবি নিয়ে আলোচনার সময় চিত্র পরিচালক তপন সিংহ বলেছিলেন আচ্ছা বাগেশ্রী ও কানাড়ার উপর নির্ভর করে মিউজিক করলে কেমন হয়। আলি আকবর সব শুনে সরোদ নিয়ে বসে গেলেন। সবাইকে ঘর থেকে চলে যেতে বললেন। মুহুর্তের মধ্যে বাজালেন পাঁচ - ছয়টি বাগেশ্রীর মুখ। এরপর বিনীত ভাবে জানালেন চিত্র পরিচালক যা বলবেন তাঁর যা পছন্দ তিনি তার উপরে কাজ করবেন।  তপন সিংহ বলেছেন কার কাছে খাপ খুলতে গিয়েছেন। ওই ছবিতে কৌশিকী কানাড়ার উপরে চিরবিরহীর বেদনা - ভারাক্রান্ত থিম মিউজিক করা হয়। দেশ - বিদেশে আলি আকবর খাঁ প্রচণ্ড প্রশংসিত হয়েছিলেন। অথবা বাগেশ্রীর ' যে রাতে মোর দুয়ারগুলির' অনবদ্য, অসাধারণ বললে কিছু বলা হয় না। ভারতীয় মার্গসংগীতের চর্চায় আজ সরোদের যে স্থান, তা পুরোপুরি আলি আকবরের অবদান। পিতা তাঁর প্রথম শিক্ষাগুরু। যোধপুরের রাজদরবারে সংগীতশিল্পীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর মুম্বইয়ে গিয়ে তিনি সংগীত পরিচালনা করেছেন। সত্যজিৎ রায়ের দেবী, তপন সিংহের ' ক্ষুধিত পাষাণ ' ও ' ঝিন্দের বন্দী ' ছবিতে সুরারোপণ করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহায্যের জন্য নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ারে ১৯৭১ - এর  ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে পণ্ডিত রবিশঙ্কর, জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলানের সাথে অংশ নিয়েছিলেনউস্তাদ আলি আকবর খাঁ । তিনি সরোদ পরিবেশন করেছিলেন।


ধ্রুবতারাদের খোঁজে পেজ থেকে সংগৃহীত 


পুস্তক ঋণ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার, মনে পড়ে তপন সিংহ

বাংলা সাহিত্যে সবচেয়ে বেশী লিখেছেন কে? 

 বাংলা সাহিত্যে সবচেয়ে বেশী লিখেছেন কে? 

.

অনেকে বলবেন রবীন্দ্রনাথ। কিন্তু বাংলা সাহিত্যেই একজন সাহিত্যিক আছেন তিনি একাই লিখেছেন ২৫০'র বেশী উপন্যাস, 

 ১৫০০ র বেশী ছোট গল্প! (মতান্তরে ৪ হাজারের বেশী গল্প লিখেছিলেন।)  শিশু সাহিত্যের উপরেও ৬০টির বেশী বই।

.

তিনি হলেন আশাপূর্ণা দেবী। 

.

যে আশাপূর্ণা দেবী জীবনে স্কুলে পড়তে যাননি,  লেখালেখির জন্য সেই আশাপূর্ণা দেবীকেই চারটি বিশ্ববিদ্যালয়  সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রিতে ভূষিত করেছিলো।  পেয়েছিলেন ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার জ্ঞানপীঠ ও। 

.

মাত্র ১৫ বছরে বিয়ে হয়েছিলো তাঁর। ব্যক্তিজীবনে আশাপূর্ণা দেবী  ছিলেন নিতান্তই এক আটপৌরে মা ও গৃহবধূ। যিনি পাশ্চাত্য সাহিত্য ও দর্শন সম্পর্কে সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞা ছিলেন। বাংলা ছাড়া দ্বিতীয় কোনও ভাষায় তার জ্ঞান ছিল না। বঞ্চিত হয়েছিলেন প্রথাগত শিক্ষালাভেও। 


তাঁর পড়াশোনা যা শেখার সব তাঁর দাদাদের  কাছে বিভিন্ন পড়া শুনে আর পত্র-পত্রিকা পড়ে।

.

আশাপূর্ণারা ছিলেন দুই বোন। ছোটবেলায় তাঁরা দুই বোন মিলে জেদ ধরেছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের কাছে। চিঠি পাঠিয়ে লিখেছিলেন, “নিজের হাতে আমাদের নাম লিখে একটি উত্তর দেবেন।” অবশেষে অনেকদিন পর রবীন্দ্রনাথের চিঠি পৌঁছল আশাপূর্ণাদের বাড়িতে। তাতে লেখা, “আশাপূর্ণা-সম্পূর্ণা”।

.

বাইশ-তেইশ বছরের ছেলের মৃত্যুও তাঁকে সইতে হয়েছিলো! শোক তাঁকে বহু দিন বিপর্যস্ত করে রেখেছিল। কিন্তু তখন ও তাঁর কলম চলেছে। লিখে গেছেন তখনো‌।  লেখালেখির এক জিদ তাঁকে আজীবন তাড়িত করেছে। 


আত্মকথায় লিখেছিলেন, 'ইস্কুলে পড়লেই যে মেয়েরা বাচাল হয়ে উঠবে এই তথ্য আর কেউ না জানুক আমার ঠাকুমা ভালোভাবেই জানতেন,  এবং তাঁর মাতৃভক্ত পুত্রদের পক্ষে  ঐ জানার বিরুদ্ধে কিছু করার শক্তি ছিলোনা।'

.

অন্য জায়গায় তিনি লিখেছিলেষ, 'ছোটবেলা থেকেই আমার অনুভূতির ব্যাকুলতা আমাকে ভাবিয়েছে, যন্ত্রণা দিয়েছে, আমাকে লিখিয়ে ছেড়েছে…. আমি লিখেছি ঘরোয়া মেয়েদের নিয়ে…. চিরদিনই মনের ভিতরে একটা আপোষহীন বিদ্রোহ ছিল, তাকে যদি নারী মুক্তির পিপাসা বলতে হয়, তাহলে তাই। যদি কিছু বিদ্রোহিণী চরিত্র সৃষ্টি করে থাকি, সেটা করেছি প্রতিবাদ করার মাধ্যম হিসাবেই…।'

.

তাঁর গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও পর্যবেক্ষণশক্তি তাকে দান করে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখকের আসন। 

.

শুভ জন্মদিন কিংবদন্তি।  লেখালেখির জন্য আপনি এক অনুপ্রেরণা।

©️✍️

অভিশাপ " __ কবি কাজী নজরুল ইসলাম। [ দোলনচাঁপা কাব্যগ্রন্থ ]

 " অভিশাপ "

__ কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

[ দোলনচাঁপা কাব্যগ্রন্থ ]


" যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে,

অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে-

                      বুঝবে সেদিন বুঝবে!

                  ছবি আমার বুকে বেঁধে

                  পাগল হ’লে কেঁদে কেঁদে

                  ফিরবে মর” কানন গিরি,

                  সাগর আকাশ বাতাস চিরি’

                  যেদিন আমায় খুঁজবে-

                      বুঝবে সেদিন বুঝবে!


স্বপন ভেঙে নিশুত্‌ রাতে জাগবে হঠাৎ চমকে,

কাহার যেন চেনা-ছোঁওয়ায় উঠবে ও-বুকে ছমকে,-

                      জাগবে হঠাৎ চমকে!

                  ভাববে বুঝি আমিই এসে 

                  ব’সনু বুকের কোলটি ঘেঁষে,

                  ধরতে গিয়ে দেখবে যখন

                  শূন্য শয্যা! মিথ্যা স্বপন!

                  বেদ্‌নাতে চোখ বুঁজবে-

                      বুঝবে সেদিন বুজবে।

গাইতে ব’সে কন্ঠ ছিঁড়ে আস্‌বে যখন কান্না,

ব’লবে সবাই-“ সেই য পথিক তার শেখানো গান না?’’

                      আস্‌বে ভেঙে কান্না!

                  প’ড়বে মনে আমার সোহাগ,

                  কন্ঠে তোমার কাঁদবে বেহাগ!

                  প’ড়বে মনে অনেক ফাঁকি

                  অশ্র”-হারা কঠিন আঁখি

                  ঘন ঘন মুছবে-

                      বুঝ্‌বে সেদিন বুঝবে!


আবার যেদিন শিউলি ফুটে ভ’রবে তোমার অঙ্গন,

তুলতে সে ফুল গাঁথতে মালা কাঁপবে তোমার কঙ্কণ-

                      কাঁদবে কুটীর-অঙ্গন!

                  শিউলি ঢাকা মোর সমাধি

                  প’ড়বে মনে, উঠবে কাঁদি’!

                  বুকের মালা ক’রবে জ্বালা

                  চোখের জলে সেদিন বালা

                  মুখের হাসি ঘুচবে-

                      বুঝবে সেদিন বুঝবে!

আসবে আবার আশিন-হাওয়া, শিশির-ছেঁচা রাত্রি,

থাকবে সবাই – থাকবে না এই মরণ-পথের যাত্রী!

                      আসবে শিশির-রাত্রি!

                  থাকবে পাশে বন্ধু স্বজন,

                  থাকবে রাতে বাহুর বাঁধন,

                  বঁধুর বুকের পরশনে

                  আমার পরশ আনবে মনে-

                  বিষিয়ে ও-বুক উঠবে-

                      বুঝবে সেদিন বুঝবে!



যেখানে একবার পড়ে গেলে আর রেহাই নেই! 

 🤯😯 যেখানে একবার পড়ে গেলে আর রেহাই নেই! 


পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর এবং বড় প্রাকৃতিক কূপটির নাম শিয়াওজাই টিয়ানকাং। এটি চীনের কেন্দ্রস্থল পেনজি এলাকায় অবস্থিত। এই বিস্ময়কর ও লোমহর্ষক কূপটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং এর গভীরতা ৬৬২ মিটার!  প্রস্থ ৫৩৭ মিটার! ভাবা যায়?  তবে সবচেয়ে বেশি অবাক করার বিষয়টি হলো এর অভ্যন্তরে জীবনের উত্থাণ।


জিওলজিস্টদেরকে শত শত বছর ধরে হতবাক করেছে শিয়াওজাই টিয়ানকাংয়ের রহস্য কারণ এটি পানির প্রবাহ দ্বারা প্রভাবিত 🌊। মূলত এটি তৈরি হয়েছে একটি বিশালাকার গুহার উপরে, দীর্ঘদিন ধরে নরম পাথরের উপর পানির প্রবাহ হওয়ার কারণে, যার নিচে একটি ৮.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ নদী রয়েছে এবং যা একটি অসাধারণ জলপ্রপাতের দিকে প্রবাহিত হয়। এর বিশাল আকার এটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর গর্তের খেতাব এনে দিয়েছে!


এখানে পড়ে গেলে কী হবে? 

সোজা ভাষায় মৃত্যু। কারণ এর গভীরতাই শুধু ৬৭৩ মিটার, এত উঁচু থেকে পড়লে আপনার টার্মিনাল বেগ অনেক বেশি হয়ে যাবে। তাছাড়া গর্তটির ভিতরে সুষম বক্রতা নেই, বিভিন্ন পয়েন্টে রয়েছে উঁচু-নিচু পাথরের খাঁজ। উচ্চবেগে সেগুলোতে আঘাত লাগলে, মানুষের একটা হাড়ও অক্ষত থাকবে না। শেষ প্রান্তে হোলটির ব্যাস প্রায় ৫২৬ মিটার এবং এটি কর্দমাক্ত পাথুরে ঘন জঙ্গল ঘেরা একটি পরিবেশে উন্মুক্ত হয়েছে । বাই চান্স আপনি এই উচ্চ লাফটির দ্বারা সৃষ্ট বলকে সহ্য করে, কোনভাবে এই হোলটিকে অতিক্রম করলেন কিন্তু নিচের এই পরিবেশে কোন সেফটি ছাড়া টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব! 


টিয়ানকাং শুধুমাত্র পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের একটি দুর্দান্ত উদাহরণ নয়, বরং জীববৈচিত্র্যের একটি অনন্য কেন্দ্রীয় স্থান 🌳🌲। এখানে এমন অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী পাওয়া যায় যা পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখা যায় না। গর্তের বিচ্ছিন্ন পরিবেশ জীববৈচিত্র্যের বিকাশ ও অভিযোজনের একটি প্রাকৃতিক সমাবেশ তৈরি করেছে। এটি দেখায় যে কঠিন ও ভিন্ন পরিবেশেও জীব কীভাবে টিকে থাকতে পারে এবং বিবর্তিত হতে পারে, যা প্রাচীন জীবের উত্থানের সময়কার অভিযোজন ও বৈচিত্র্যের কথা মনে করিয়ে দেয়।


এটি প্রায় ১,৩০০ প্রজাতির গাছপালা এবং বন্য প্রাণীর আশ্রয়স্থল। এর ভূগর্ভস্থ বনে ঘোরাফেরা করা সবচেয়ে আকর্ষণীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কুয়াশা চিতাবাঘ  বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, স্থানীয় লোকেরা এটিকে প্রাচীনকাল থেকেই দেখে আসছে। এভাবে, এই গর্তটি হয়ে উঠেছে এক প্রকৃতির বিস্ময় এবং জীবনের সম্ভাবনার প্রতীক।


~ জাওয়াদ ওসমান, Scienspectra

ছেলেবেলায় আমি তো একটু দুষ্টু ছিলুম। সবাই বলত, ভীষণ দুষ্টু। একদণ্ড স্থির হয়ে বসতে জানে না। আমার মা বলতেন, ‘ওইটাকে নিয়েই হয়েছে আমার ভীষণ জ্বালা। সারাদিন আমার এতটুকু শান্তি নেই।’

 ছেলেবেলায় আমি তো একটু দুষ্টু ছিলুম। সবাই বলত, ভীষণ দুষ্টু। একদণ্ড স্থির হয়ে বসতে জানে না। আমার মা বলতেন, ‘ওইটাকে নিয়েই হয়েছে আমার ভীষণ জ্বালা। সারাদিন আমার এতটুকু শান্তি নেই।’

আমি লক্ষ্মী হওয়ার চেষ্টা যে করতুম না তা নয়। বইপত্র নিয়ে বসতুম। দু-এক পাতা হাতের লেখা করতে না করতেই মাথাটা কেমন হয়ে যেত। নীল আকাশে নিলুর ঘুড়ি লাট খাচ্ছে, পাশের মাঠে প্রতাপ আর গোপাল ডাংগুলি খেলছে। মাথার আর কী দোষ!

আমরা তখন খুব একটা পুরোনো বাড়িতে থাকতুম। বাড়িটার দুটো মহল ছিল বারমহল আর অন্দরমহল। অনেক ঘর। চওড়া, টানা-টানা বারান্দা। তিনতলার ছাতটা ছিল বিশাল বড়। ইচ্ছে করলে ফুটবল খেলা যেত। সেখানে পাশাপাশিদুটো ঘর ছিল। কেউ একটু নির্জনে থাকতে চাইলে থাকতে পারত। একটা ঘরে থাকত আমার দিদির যত খেলনা—বড় পুতুল, ছোট পুতুল। দিদির বন্ধুরা বিকেলে এসে খেলা করত। আমি মাঝে মাঝে এসে দুষ্টুমি করতুম। দিদি তখন তার বন্ধুদের বলত, ‘দ্যাখ, ভাই কী বানর ছেলে!’ দিদি আমাকে বানর বললে আমার খুব ভালো লাগত। আমি দুষ্টুমি করলে দিদিরও খুব ভালো লাগত মনে হয়। মাঝে মাঝে প্রবল লড়াই হত। তখন দিদি বলত, ‘দেখবি, যখন কোথাও চলে যাব তখন বুঝবি ঠেলা। কে তোকে গরমের ছুটিতে আচার তৈরি করে খাওয়ায় দেখব।’

রোজ রাত্তিরে বাড়িতে একটা কুরুক্ষেত্র কাণ্ড হবেই হবে। বাবা অফিস থেকে এসে আমাকে পড়াতে বসবেন। সারাদিনের লাফালাফিতে ঘুমে আমার চোখ দুলে আসবে। জানা জিনিসও ভুল করব। বাবা পরপর যোগ করতে দেবেন। একটাও ঠিক হবে না। ‘উইক’ বানানটা ভুল হবেই হবে। দুর্বলটা সপ্তাহ হবে, সপ্তাহটা দুর্বল। বাবা মাকে ডেকে বলবেন, ‘সারাটা দুপুর তুমি করো কী? ছেলেটাকে একটু দেখতে পারো না!’

মা তখন ফিরিস্তি দেবেন ছেলে এই করেছে, ওই করেছে। বাবা গম্ভীর মুখে উঠে গিয়ে লম্বা বারান্দায় পায়চারি করবেন আর আক্ষেপ করবেন, ‘নাঃ, হল না, কিছুই হল না। ফেলিওর, ফেলিওর।’ রাতে খেতে বসে বলবেন, ‘কালিয়া, পোলাও খেয়ে কী হবে, ছেলেটাই যার মানুষ হল না!’

এত কাণ্ডতেও আমার কিছু হবে না। ঘুমিয়ে পড়ব। একসময় দিদি এসে আস্তে আস্তে ডাকবে, ‘চল, খাবি চল। কাল থেকে একটু ভালো করে পড়বি। তোকে বকলে আমার খারাপ লাগে।’

কোনও-কোনওদিন দিদি আমাকে খাইয়ে দেয়।

এইভাবেই চলতে চলতে গরমের ছুটি পড়ে গেল। একদিন দুপুরবেলা সবাই ঘুমোচ্ছে। আমিও মায়ের পাশে শুয়েছিলুম। দিদি কয়েকদিনের জন্য মামার বাড়ি গেছে। শুয়ে থাকতে থাকতে উঠে পড়লুম। ঘুমিয়ে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। মা যে-ঘরে, তার পাশের ঘরে একটা টেনিস বল নিয়ে কেরামতি করছি। এখন থেকে প্র্যাকটিস না করলে, বড় হয়ে পেলের মতো খেলোয়াড় হব কী করে! বাবাই তো বলেছেন, ‘সাধনাতেই সিদ্ধি।’

প্রথমে সাবধানেই সবকিছু করছিলুম, হঠাৎ ভীষণ উত্তেজিত হয়ে মারলুম এক শট। বাবার বইয়ের আলমারির সব কাচ ভেঙে চুরমার! পাশের ঘর থেকে মা দৌড়ে এলেন। ধড়াধ্বাম। মারাটাই আমাকে উচিত ছিল; কিন্তু বাবা বলেছেন, ‘একদম গায়ে হাত তুলবে না। ভয় ভেঙে যাবে। অন্য শাস্তি দেবে।’

মা আমাকে টানতে টানতে ছাদের ঘরে নিয়ে গিয়ে বন্দি করে দিলেন, ‘থাকো এইখানে, বাবা এলে তোমার বিচার হবে। বড্ড বেড়েছ তুমি। নির্জলা উপবাস।’

চারপাশে খাঁ-খাঁ করছে রোদ। দুপুরের নীল আকাশে গোটাকতক চিল উড়ছে। জানলার ধারে বসে আছি মনখারাপ করে। বাবাকে আমি ভীষণ ভালোবাসি। আলমারির সব কাচ চুর হয়ে গেল। খুব অন্যায় হল। কবে যে আমি মানুষ হব! এইসব ভাবছি। ভীষণ গরম। একটুও হাওয়া নেই। গাছের একটা পাতাও নড়ছে না। শেষকালে মনে হয় ঘুমিয়ে পড়েছিলুম। গায়ে কেউ হাত রাখল। ধড়মড় করে উঠে বসলুম। সামনেই দাঁড়িয়ে আছেন বাবা। আকাশে তখনও শেষবেলার রোদ। ভয়ে কুঁকড়ে গেলুম। বাবার মুখের দিকে তাকালুম, হাসছেন। স্বপ্ন দেখছি না তো! দরজার দিকে তাকালুম। হাটখোলা। তখন আমি অবাক হয়ে জিগ্যেস করলুম, ‘বাবা! আজ আপনি এত তাড়াতাড়ি এলেন?’

কোনও উত্তর নেই। বাবা হাসছেন। কেবল হাসছেন।

আমি বললুম, ‘বাবা, আমি সব কাচ ভেঙে ফেলেছি। আমি খুব অন্যায় করেছি বাবা।’

বাবা তবু হাসছেন। মুখে এতটুকু রাগ নেই। আমি তখন প্রণাম করার জন্য বাবার পা স্পর্শ করতে গেলুম, দেখি কেউ কোথাও নেই। ঘর ফাঁকা। দরজাটা হাটখোলা। খুব জোর হাওয়া ছেড়েছে গ্রীষ্মের বিকেলের।

আমি ভয়ে কেমন যেন হয়ে গেলুম! স্বপ্ন দেখেছি। নিশ্চয় স্বপ্ন। সাহস একটু ফিরে পেতেই এক ছুটে নীচে। দেখি মা রান্নাঘরে ঘুগনি তৈরি করছেন। আমাকে দেখে অবাক, কী করে এলি, কে তোকে দরজা খুলে দিল?’

বাবা ঘুগনি খেতে ভালোবাসেন, মা সেই জন্যই করছেন। কাচ ভাঙা নিয়ে ভীষণ কাণ্ডটা হয়ে যাওয়ার পরেই ঘুগনি এসে অবস্থাটাকে সামাল দেবে।

মাকে আমি সব কথা বললুম।

‘তোর বাবা এসেছে? কোথায়?

‘দরজা তো বাবাই খুলে দিলেন।’

সদরের দরজা আমি খুলে না দিলে আসবে কী করে?

গোটা বাড়িটা সার্চ করা হল। বাবার পড়ার ঘর, শোওয়ার ঘর, ঠাকুরঘর, বাথরুম। আলনাটা দেখা হল। সেখানে বাবার অফিসের জামাকাপড় ছাড়া নেই। বাড়িতে ফিরে যা পরবেন, সেইগুলোই গুছোনো রয়েছে।

আমরা তখন পাশের বাড়িতে গিয়ে বাবার অফিসে ফোন করলুম। অফিসের বড়কর্তার সঙ্গে মা কথা বললেন। জানা গেল। বাবা অনেক আগেই সাইটে গেছেন। সাইট মানে উলুবেড়িয়ায়। সেখানে কোম্পানির নতুন ফ্যাকট্রি তৈরি হচ্ছে।

মা খুব অনুরোধ করলেন, ‘আপনি নিজে একটু খবর নিন। মনে হচ্ছে, একটা কিছু হয়েছে।’ ফোন নম্বরটা তাঁকে দেওয়া হল। টেলিফোনটাকে ঘিরে আমরা বসে আছি। বসেই আছি। ওদিকে মায়ের ঘুগনি পুড়ে ছাই। এক ঘণ্টা পরে ফোন বাজল।

কনস্ট্রাকশন সাইটে একটা লোহার বিম ক্রেন ছিঁড়ে বাবার মাথায় পড়ে গেছে। তখন বেলা ঠিক সাড়ে চারটে। আমি এমন বোকা ছিলুম, সেই খরবটা পেয়েই আমি নাকি মাকে বলেছিলুম, ‘জানো, আমি কাচ ভেঙেছি বলে বাবা একটুও রাগ করেননি। শুধু হাসছিলেন।’

তখন আমার বয়েস ছিল আট। আজ নব্বই। আমি আর কোনওদিন কিছু ভাঙিনি। না কাচ, না সম্পর্ক, না পরিবার, না জীবন। বাবার সেই হাসি-হাসি মুখের হাসি যাতে কখনও না মিলিয়ে যায়, সেই চেষ্টা আমি করেছি।

✍️ সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের লোটাকম্বল অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি । অবশ্যই সংগ্রহে রাখুন এই বই ।

আমাজন লিংক : https://amzn.to/3FsbTsy

অবশ্যই সংগ্রহে রাখুন সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটি দিন । বইটি ২০১৮ সালে সাহিত্য একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ।

আমাজন লিংক : https://amzn.to/3Q1bceQ

সাহিত্যিক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি "সঞ্জীবের সেরা ১০১" । অবশ্যই সংগ্রহে রাখুন এই বই ।

আমাজন লিংক : https://amzn.to/3Qvfixp

সাহিত্যিক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি "ভ্রমণ সমগ্র" । অবশ্যই সংগ্রহে রাখুন এই বই ।

আমাজন লিংক : https://amzn.to/407ClkQ

সাহিত্যিক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি "হারিয়ে যাওয়া লেখা" । অবশ্যই সংগ্রহে রাখুন এই বই ।

আমাজন লিংক : https://amzn.to/3FsX8pp


বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...