এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৫

ঘটনা প্রায় 4000 বছর আগের । বিষয় মিশরের পিরামিড 

 [ঘটনা প্রায় 4000 বছর আগের । বিষয় মিশরের পিরামিড


]


আমি যা লিখেছি তা পড়তে আপনার সময় লাগবে কয়েক মিনিট ।‌ অথচ গত কয়েকদিন অনেকগুলো ঘন্টা আমাকে ব্যয় করতে হয়েছে এতটুকু লেখার জন্য । আমার ছোট মেয়েটার অনেক দিনের কান্না এই লেখার সাথে জড়িত, তাকে অনেকবার আমার সঙ্গ না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে । 


পিরামিড নিয়ে অনেক আগে পড়েছিলাম,  কিছু লেখা হয়নি তখন । রকমারি এর সোহাগ ভাইয়ের সাক্ষাৎকারে তার নাস্তিক থেকে আস্তিক হয়ে ওঠার পেছনে যে কারণগুলো ছিল তার একটা ছিল পিরামিড, যা তার মাঝে চিন্তার খোরাক জুগিয়ে ছিল ‌। আমার লেখার উদ্দেশ্যে তাই, যদি আরো কারো চিন্তার খোরাক হয় ।


একটা পিরামিডে ব্যবহার হয়েছে প্রায় 23 লাখ লাইম স্টোন ব্লকস । একেকটা ব্লকের ওজন ৫০ থেকে ৭০ টন ।‌ অর্থাৎ ১০ থেকে ১৪ টা পাঁচ টনী ট্রাক লাগবে এক একটা স্টোন বহন করতে । আর এ স্টোনগুলা আনা হয়েছে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে তোরা নামক স্থান থেকে । অর্থাৎ ৫০/৭০ টনের এক একটা লাইম স্টোন ১৫০ কিলোমিটার দূর থেকে আনা হয়েছে, আর এরকম স্টোন ২৩ লাখ, তাও আবার একটা পিরামিডের জন্য ।


এত গেল টেনে আনার কথা, এবার এগুলো উপরে উঠানো নিয়ে বলি । একটা পিরামিড প্রায় 480 ফিট উচূ । এর থেকে নিচুও আছে ।

আমরা দাবি করি মানব সভ্যতায় আমরাই সবচেয়ে প্রযুক্তিতে এগিয়ে আছি । আমাদের অত্যাধুনিক ক্রেণগুলো, সর্বোচ্চ 20 টন ওঠাতে পারে । তাহলে 4000 বছর আগের আমাদের থেকে পিছিয়ে পড়ারা কি দিয়ে ৭০ টনের একটা ব্লক উঠালো, তাও আবার 480 ফিট উপরে ? আর শুধু কি উঠিয়েছে ? গাণিতিক আর জ্যামিতিক নিয়ম মেনে একেবারে নিখুঁতভাবে একটার পর একটা বসিয়েছে ।


আর এই পাথরগুলো লাইমস্টোন বলা হলেও এগুলো তা থেকে আলাদা কিছু । এবং এরকম পাথর পৃথিবীতে আর কোথাও নেই । এবং এগুলো ভীষণ শক্ত । কতটা শক্ত ধারণা করতে পারেন ? একটা ধারণা দেই, দ্বাদশ শতকে সুলতান আল আজিজ পিরামিড ধ্বংস করতে আসেন । ১০০০ সৈনিক ৮ মাস চেষ্টার পর মাত্র দুটো পাথর পিরামিড থেকে খসাতে পেরেছিল । পিরামিডের গায়ে খসে যাওয়া দুটো পাথরের ওই গর্ত এখনো বিদ্যমান । সুলতানা আর সাহস না করে রাজপ্রাসাদে আরামের জন্য চলে গেলেন ।


এবার আসেন ওরিয়েন্ট কোরিলেশন থিউরিতে । মিশরীয়রা  তিন তারকাকে দেবতা মানতো । এই তিনটা তারার নাম হল Almitak, Alnilam, Mintaka । তারা যে দেবতার পুজো করতো তার নাম ছিল ওয়াইরিশ । সে ছিল মৃত্যু আর জন্মের দেবতা । তাদের ধারণা ছিল তাদের এই দেবতা এই তিন তারকায় বসবাস করত । বড় তিনটার পিরামিড নিয়ে আমরা কথা বলছি। যেগুলো রাতে এ তিনটা তারার সাথে এদের মাথা নিখুঁতভাবে এলাইন করা । যেন উপর থেকে কেউ আকাশের তারার সাথে সমন্বয় করে নিখুঁতভাবে অ্যালাইন করে মাটিতে তিনটি পিরামিড বসিয়েছে । যেটা এরিয়েল ভিউ ছাড়া অসম্ভব ‌। আর তা কিভাবে সম্ভব এরোপ্লেন উড়োজাহাজ আর স্যাটেলাইট তো এ যুগের গল্প । শুধু পিরামিডের মাথা নয়, পিরামিডের ভিতরে যে তিনটি চেম্বার (কিংস চেম্বার, কুইন্স চেম্বার, বেজ চেম্বার ) আছে, ওই চেম্বার থেকে সুরঙ্গ গুলো বাহিরের দিকে আসার যে পথ, সে পথ এই তিনটি তারকার সাথে এলাইন করা । 


এতে এত বেশি সুরঙ্গ আর অ্যাঙ্গেল আছে যে সবগুলো সুরঙ্গ এখনো  বের করা সম্ভব হয়নি । আবার সুরঙ্গের ভেতরে আছে গ্রানাইটের চত্বর । অধিকাংশের মত এটা মমি রাখার স্থান । যদিও কোন পিরামিডের ভিতরেই কোন মমি পাওয়া যায়নি । যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা হলো এগুলো হয়তো বিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্র ছিল । আর গ্রানাইটের এত বড় স্কয়ার বার  কিভাবে এত চিকন সুরঙ্গ দিয়ে সেখানে পৌঁছানো হলো । আর এই গ্রানাইট এত নিখুঁতভাবে কিভাবে কাটা সম্ভব হল আজ থেকে চার হাজার বছর আগে, আমাদের এই  অত্যাধুনিক যুগের লেজার কাটার ছিল না তখন । অথচ গ্রানাইট পৃথিবীতে ডায়মন্ডের পরে সবচাইতে শক্ত পদার্থ ।


আর সুরঙ্গের ভেতরের সুরঙ্গ খুঁজতে গিয়ে আরেক মজার কাহিনী , রিমোট কন্ট্রোল ক্যামেরা আর অত্যাধুনিক গ্রিল দিয়ে সুরঙ্গ ভেতরে প্রবেশ করতে গিয়ে একটা সময় ক্যামেরা কোন কারণ ছাড়াই অফ হয়ে যায় । মিশরীয় গভর্নমেন্ট এরপর এই প্রজেক্ট বন্ধ ঘোষণা করে । পিরামিডের রহস্যময় সব সুরঙ্গ আবিষ্কার এখনো অধরাই রয়ে আছে ।


জেনে অবাক হবেন পিরামিড গুলো যেখানে গড়ে উঠেছে এ স্থানগুলো পৃথিবীর একেবারে মধ্যভাগে অবস্থিত ।

কম্পাস আবিষ্কার হয়নি তখনও, তখনও মানুষ জানতো না পৃথিবীর গোল, কেউ কেউ বলতো পৃথিবী চ্যাপ্টা । মানুষ পথ চলতো তারকা ধরে ।‌ কিভাবে একেবারে হিসাব করে পৃথিবীর মাঝখানে পিরামিড বসলো , তাও আবার নর্থপোলকে তাক করে । আর এত ভারী পিরামিড বসানোর জন্য প্রয়োজন ছিল খুব শক্ত ভুমির এবং পৃথিবীর ওই জায়গাটাই সবচেয়ে শক্ত ।

এবং ওই জায়গাটা একেবারেই সমতল । আপনি পানি ঢাললে সর্বত্র পানি সমান ভাবে ছড়িয়ে পড়বে । আর সমতল না হলে অত ভারী পিরামিড এত বছর ধরে এত ঝড় ঝাপটা ভূমিকম্পে এত বছর ধরে বসে থাকবে কেন । 


সমালোচকরা বলবে এগুলো এমনি এমনি হয়েছে । আচ্ছা এ প্রশ্নের জবাব কিভাবে দিবেন ? আমরা জানি একুশে জুন পৃথিবীতে দিন সবচেয়ে বড় আর রাত সবচেয়ে ছোট । এই দিন বিকেল বেলা সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে সূর্যের অবস্থান হয় দুই পিরামিডের মাঝামাঝি, সেখানে অবস্থিত তাদের স্ফিংস দেবতা, ঠিক মাথার উপরে । আর স্ফিংসতো আরেক আশ্চর্য ব্যাপার, এত বড় একটা মূর্তি একটা পাথরে তৈরি, যা পৃথিবীর আশ্চর্যতম মূর্তিগুলোর একটি ।


পিরামিড তৈরি হয়েছে অধুনা আবিষ্কৃত বল এবং সকেট থিওরি ধরে । তার মানে হল তাপের সাথে বস্তু যেমন বেড়ে যায় এটা তা না ,পিরামিড তাপ বিস্তার প্রতিরোধ করে, গরমে তা বাড়ে না । আর পিরামিডে রয়েছে শক প্রুফ টেকনোলজি । আজকের অত্যাধুনিক যুগের ভূমিকম্পেও ভাঙবে না এরকম অত্যাধুনিক বাড়ির মত । আমরা কিন্তু ঘটনা বলছি ৪০০০ বছর আগের । আমাদের মত তারা অত্যাধুনিক ছিল না ! যারা অত্যাধুনিক ছিল আমাদের চেয়ে অনেক অনেক গুণ বেশি । হিসাব তাই বলে ।


পিরামিড গড়ে উঠেছিল 20 বছরে 20000 শ্রমিকের পরিশ্রমে । 481 ফুট মানে ৪৮ তলা বিল্ডিং এর সমান । আর ওজন ৬০ লক্ষ টন, যা প্রায় বারোটা বুর্জ খলিফার সমান । এর প্রত্যেকটা কর্নার ৫১.৫° অ্যাঙ্গেল ধরে করা । আর ৫০ থেকে ৭০ টন এক একটা পাথর আনা হয়েছে দেড়শ কিলোমিটার দূর থেকে । ব্যবহার করা হয়েছে দড়ি, কাট, নৌকা আর শ্রম বল ।  তাহলে যদি ২০ বছরে ২০ হাজার শ্রমিক একটা পিরামিড তৈরি করে তাহলে অত দূর থেকে অত ভারী ওজনের একটা পাথর এনে, মাটি থেকে ৪২১ ফিট উঠাতে এবং জায়গামতো নিখুঁতভাবে বসাতে তারা সময় নিয়েছে দেড় মিনিট ‌। নূন্যতম বুদ্ধিসম্পন্ন নিরক্ষর মানুষও বলবে এটা তো অসম্ভব । তাহলে কি বলবেন মানবজাতির ইতিহাসে আমরাই সেরা ? নাকি আমাদের চেয়েও সেরা কেউ ছিল ।


কেউ কেউ বলে তাদের সাথে যোগাযোগ ছিল এলিয়েনদের । সে ধারণাকেও মিথ্যে করে দেয় পিরামিডের ভেতরে সুরঙ্গ আর চেম্বারে পড়ে থাকা মানুষের কঙ্কাল । ধারণা করা হয় এগুলো সেই শ্রমিকদের কঙ্কাল যারা পিরামিড তৈরি করতে গিয়ে মারা যায় । এবং কংকালে আঘাতের চিহ্ন আছে অর্থাৎ পিরামিড তৈরি করতে গিয়ে তারা ব্যাথা দিয়েছিল এবং তার চিকিৎসা করা হয়েছিল । গবেষণায় তাই উঠে এসেছে ।


মিশরে একটা অদ্ভুত টেম্পল আছে যার নাম ডেন্ডারা লাইট । এখানে রয়েছে অত্যাশ্চর্য আর অদ্ভুত সব কিছু । একটাও উদাহরণ দেই, সেখানে দেয়ালে আঁকা রয়েছে বৈদ্যুতিক বাল্বের চিত্র । আজ থেকে চার হাজার বছর আগের আমাদের থেকে পিছিয়ে পড়া অশিক্ষিতরা বিদ্যুতের ব্যবহার জানতো !!!


পিরামিড নিয়ে লেখা শেষ হবে না । আর একটা মজার তথ্য দিয়ে শেষ করছি । পিরামিডের ভেতরটা পুরোটাই এসি, কোন প্রকার এয়ারকন্ডিশন মেশিন ছাড়াই । পিরামিডের দাঁড়িয়ে আছে, উত্তপ্ত মরুভূমির উপরে । এমন ভাবে তৈরি করা, ওখানে বাতাসের এমনভাবে আনাগোনা যে তার ভিতরে সব সময় তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রী থাকে । যা সব চাইতে আরামদায়ক তাপমাত্রা ।


.


আমাদের চেয়েও সেরা জাতি পৃথিবীতে এসেছিল , সেটা বলেছেন আমাদের রব পবিত্র কোরআনে ।


যার সমতুল্য কোন দেশে সৃষ্টি করা হয়নি ‌। (সূরা ফজর : ০৮)

.


এ পিরামিড তাদের গল্প, যাদের কথা পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বারবার বলেছেন :  ফেরাউন এবং মুসা আঃ ।


পিরামিড অক্ষত হয়ে আজব আর আশ্চর্য  বিষয় নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আজো । আর  ফেরাউনও শায়িত আছে সেখানে, খুবই যত্নের সাথে সুরক্ষা নিয়ে ।


ফেরাউন রয়ে যাবে দৃষ্টান্ত হয়ে এমনটাই বলেছেন আমাদের রব,


‘আজ আমি তোমার দেহকে (বিনষ্ট হওয়া থেকে) বাঁচিয়ে দিলাম, যাতে তুমি পরবর্তীকালের মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত হতে পারো। আর নিশ্চয়ই অনেক মানুষ আমার নিদর্শনসমূহের ব্যাপারে উদাসীন ’ । (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ৯২)

-সংগ্রহীত


#history #sorotan #science #old

সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ ২২-০১-২০২৫ খ্রি:

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ ২২-০১-২০২৫ খ্রি:।


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে জার্মানি।


আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক আড়াই হাজারের বেশি মামলা দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রত্যাহার করা হবে - জানালেন আইন উপদেষ্টা।


ওএমএস-এর আওতায় চাল বিক্রির সময় আর বাড়ানো হবে না - বললেন অর্থ উপদেষ্টা।


ন্যূনতম সংস্কার সম্পন্ন করেই নির্বাচনের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান বিএনপি মহাসচিবের।


গাজায় যুদ্ধ বিরতির পর এবার পশ্চিম তীরে ইসরাইলী হামলা - কমপক্ষে ১০ ফিলিস্তিনী নিহত।


সেন্ট কিটসে দ্বিতীয় একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ নারী দলকে ৬০ রানের ব্যবধানে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৫

সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ ২১-০১-২০২৫ খ্রি:।

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ ২১-০১-২০২৫ খ্রি:।


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ গ্রহণ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প - প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন।


বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মেলনে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। 


সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন প্রদানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত।


শুরু হলো ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম- গণঅভ্যুত্থানের চেতনা অনুসারে মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে চায় কমিশন - বললেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।


সীমান্তে বিজিবির টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের অনুমতি - র‌্যাব, পুলিশ ও আনসারের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত - জানালেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।


চট্টগ্রামে বিপিএল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে চিটাগং কিংস ও ঢাকা ক্যাপিটালসের নিজ নিজ খেলায় জয়লাভ।

সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ ২০-০১-২০২৫ খ্রি:।

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ ২০-০১-২০২৫ খ্রি:।


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের সম্মেলনে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ড- এর উদ্দেশ্যে আজ ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা।


বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং তাদের সংস্কার উদ্যোগের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে অস্ট্রেলিয়া। 


সীমান্ত সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত আছে – বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে – বললেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।


অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকার লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে - জানালেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।


শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী পালিত।


যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ আজ।


মালয়েশিয়ায় অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আজ অস্ট্রেলিয়ার মোকাবেলা করবে বাংলাদেশ।

সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৫

চিনি আর সাদা ময়দাকে বলা হয় 'সাদা বিষ'।

 চিনি আর সাদা ময়দাকে বলা হয় 'সাদা বিষ'। বাসায় ময়দা বাদ দিয়েছি বহুদিন, ২০১৯ থেকেই বাসায় লাল আটা আনা হয়। লাল আটা দিয়ে কাপকেক বানিয়েও দেখেছি, স্বাদ একই। আর কোকো পাউডার দিলে তো কথাই নাই, চেহারাও দারুণ হয়ে যায়। বুঝাই যায় না, লাল আটা দিয়ে বানানো। 


এবার চিনি। রঙ চায়ে চিনি খাই না ২০০৩ থেকে, কালেভদ্রে দুধচা খেলেও তাতে সামান্য দিই। তো, বাচ্চারা শিখেছে আলহামদুলিল্লাহ দেখে দেখে। রঙ চায়ে চিনি খায়ই না। ওদের বাবা দেখেও শিখেন নাই, আস্তে আস্তে কমাতে থাকলাম। শুরুতে এক চা চামচ খেতেন, তিন চার বছর ধরে এমন মাত্রায় কমানো হল যে নিজেই না করলেন, চিনি দিলেই নাকি বরং খারাপ লাগে। কিন্তু চিনি মহাশয় তো রান্নাঘরে থাকেনই, কীভাবে কীভাবে খরচও হয়। মূল খরচ হত সকালের সেমাই বানাতে। সকালের হুড়াহুড়ির সময়ে রুটি খাওয়া ঝামেলার, বাচ্চারা সেমাইয়ে মুড়ি দিয়ে খেয়ে স্কুলে যেতো। আর ওদের বাবা রুটি দিয়ে সেমাই খেতেন। উনিই ২০২০এ বললেন, শুধু দুধটাই খাই, সেমাই টেমাই বাদ। শুরুতে বাচ্চাদের একটু চিনি দিতাম এক মগ দুধে, আস্তে আস্তে কমাতে কমাতে সেটা শূণ্য করে ফেলা গেছে। ব্যাস। 


কিন্তু মেহমান আসলে কী করব? একটা মিষ্টি কিছু ত করতেই হয়। নিজেরা মিষ্টি নাস্তা খাই না, বানাই না, কাপকেক কালেভদ্রে। পাশেই ছিলো তখন খিলগাঁও বাজার, খাঁটি খেজুর গুড় পাওয়া যায়। আস্তে আস্তে গুড়ের ব্যবহার করতে থাকলাম। পায়েশ এবং আচার, এই দুই চিনির মূল কাস্টোমারকে গুড় দিয়ে বেশি মজা করা যায়। পরিমাণেও লাগে অল্প। আস্তে আস্তে মাসে এক কেজি চিনি হলে চলছিলো। 


২০২৩ শুরু হল নতুন বাসায় এসে। আগের রান্নাঘরে প্যানট্রি তো বটেই, আস্ত ফ্রিজই ছিলো। এখানে এসে প্যানট্রিকেও রান্নাঘরের বাইরে জায়গা দিতে হচ্ছিলো। এ সুযোগে চিনির বয়ম এক ধাক্কায় রান্নাঘর থেকেই আউট করে দিলাম। ফলাফল। ২০২৪ এ আমাদের চারজনের বাসায় চিনি (আখের চিনি, লাল চিনি বলে যেটাকে) লেগেছে মাত্র এক কেজি, সাথে গুড় চার কেজি। গুড়ের অর্ধেকটা গেছে আচার বানাতে। খাওয়া হয়, দেওয়াও হয়, আচার একটু বেশিই করি। ২৪এর শুরুতে খোলা চিনির প্যাকেট এতোদিন ছিলো। আজকে আর এক প্যাকেট খুললাম, দেখি ২৫ যায় কি না। 


সালগুলো দিলাম ইচ্ছে করেই। এম্নিতে আমি সংখ্যা দিয়ে স্মরণ রাখি বেশি। এক স্টাডি সার্কেলে এক প্রফেসর একবার বলেছিলেন, ইউ আর গুড উইথ নাম্বারস!যা হোক, সময়কাল লিখার কারণ হল, সময় নিয়ে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনলে সে পরিবর্তন টেকসই হয় বেশি। ক্রেভিং, শো অফ, সেলিব্রেশন, ইত্যাদির মোহ কাটিয়ে উঠতে গেলে মাথাকে একটু সময় দিয়ে বুঝানোই ভালো। 


আর দুইটা অভ্যাস বদলানো নিয়ে লিখবো ইনশা আল্লাহ। রান্নার তেলের ব্যবহার, আর হাড়িপাতিল। 

#নীলজোসনার_রান্নাঘর (বহুদিন পর এই হ্যাশট্যাগে লিখে যারপরনাই ভালো লাগছে। আলহামদুলিল্লাহ!)

ইপসম সল্ট (ম্যাগনেসিয়াম সালফেট)

 ইপসম সল্ট (ম্যাগনেসিয়াম সালফেট)


এপসম সল্ট হচ্ছে একটি রাসায়নিক যৌগ যেখানে ম্যাগনেসিয়াম, সালফার ও অক্সিজেন রয়েছে। ইপসম সল্ট বা ম্যাগনেশিয়াম সালফেট গাছের জন্য বেশ উপকারী একটি জিনিস। এর ব্যবহার জানা থাকলে গাছের অনেক সমস্যার সহজেই সমাধান করা যায়।


ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে গাছে কিছু লক্ষণ দেখা যায়। যার মাধ্যমে বুঝতে হবে গাছে ম্যাগনেসিয়ামের অভাব হয়েছে। আসুন জেনে নিই লক্ষণ গুলো:

* পুরোনো গাছ ঝিমিয়ে পড়লে

*  টবে বসানো নতুন চারা ঝিমিয়ে পড়লে

* গাছের পাতার রং ফ্যাকাশে বা হলুদ হয়ে গেলে

*  গাছের পাতা কুঁকড়ে গেলে

* গাছের বৃদ্ধি কমে গেলে

* গাছ দুর্বল হয়ে গেলে

*  গাছের ফুল, ফল কম হলে বা ছোট হলে

এইসব লক্ষণ দেখা দিলে বুঝতে হবে গাছে ম্যাগনেসিয়াম সালফেটের অভাব হয়েছে।


ব্যবহার: ৩ ভাবে এপসম সল্ট গাছে ব্যবহার করা যায়। 


১. স্প্রে এর মাধ্যমে পাতায় ব্যবহার

২. পানিতে মিশিয়ে টবের মাটিতে ব্যবহার

৩. রিপটিং এর সময় সরাসরি মাটিতে ব্যবহার।


১. স্প্রে এর মাধ্যমে পাতায় ব্যবহারের নিয়ম 


এক লিটার পানিতে ১ টেবিল চামচ এপসম সল্ট নিয়ে ভালো ভাবে মিশিয়ে পাতায় ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে।

* মাসে ১ বার। গাছের যতই সমস্যা থাকুক না কেন ১ বারের বেশি স্প্রে করা যাবে না।

* ভোর বেলা অথবা সন্ধ্যার সময় এই স্প্রে করতে হবে।

কখনোই রোদ্রের মাঝে স্প্রে করা যাবে না।


এপসম সল্ট স্প্রে করার ৩ দিন আগে ও ৩ দিন পরে অন্য কোনো সার বা কীটনাশক বা অন্য কোনো কিছু গাছে স্প্রে করা যাবে না।


২. টবের মাটিতে ব্যবহারের নিয়ম 


এক লিটার পানিতে ২ টেবিল চামুচ এপসম সল্ট নিয়ে ভালো ভাবে মিশিয়ে টবের মাটিতে দিতে হবে।


* অথবা সরাসরি টবের মাটিতেও দেয়া যাবে। সেক্ষেত্রে টবের ওপরের মাটি আগে নিড়ানি (টবের ওপরের মাটি খুঁচিয়ে নেয়া) দিয়ে নিতে হবে। তারপর ১০ ইঞ্চি / ১২ ইঞ্চি টবের জন্য ১ চামচ এবং এর ছোট টবে হাফ চা চামুচ এপসম সল্ট দিতে হবে। এরপর মাটির সাথে মিশিয়ে ভালোভাবে পানি দিয়ে দিতে হবে।

* মাসে ১ বার ব্যবহার করতে হবে।


৩. রিপটিং এর সময় সরাসরি মাটিতে ব্যবহারের নিয়ম 


রিপটিং শক অর্থাৎ টবে নতুন কোনো চারা বসালে বা পুরোনো কোনো গাছ বড় টবে রিপটিং করার সময় অনেক সময় গাছ ঝিমিয়ে পরে। এটা রিপটিং শকের কারণে হয়ে থাকে।


 ব্যবহারের নিয়ম : প্রতি টবের মাটির সাথে ১/২ চামচ এপসম সল্ট ব্যবহার করতে হবে।


* সব ধরনের গাছে যেমন ইন্ডোর প্ল্যান্ট,আউটডোর প্ল্যান্ট, ফুল গাছ , ফল গাছ , সবজি গাছে দেয়া যাবে।


সতর্কতা:


যে সবজি গুলো সরাসরি বা রান্না করে খাওয়া হয় যেমন বিভিন্ন ধরণের শাক, শশা, ধনিয়া পাতা ইত্যাদি তে এপসম সল্ট স্প্রে না করে মাটিতে দেয়া ভালো।


উপকারিতা :


* গাছের সালোক সংশ্লেষণে ইপসম সল্ট বেশ ভালো কাজ করে।


* এটির প্রয়োগে ফলের মিষ্টতা বাড়ে। সেইসঙ্গে ফল, ফুল ঝরে পড়াও কমায়।


* অনেক সময় টবের মাটি থেকে গাছ নাইট্রোজেন ও ফসফরাস নিতে পারে না। ইপসম সল্ট এ ক্ষেত্রে ভালো মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।


* টবে আগাছা হতে দেয় না।


*  কিছু পোকার আক্রমণের হাত থেকে গাছকে রক্ষা করে, এটি গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।


*গাছের পাতার রং সুন্দর এবং উজ্জ্বল (চকচকে) হয়।


*গাছকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।


*  ফুলের রং গাড়ো এবং উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।


* ফুল ও ফলের আকার বড় হতে সাহায্য করে।


* শিম জাতীয় গাছের পচন রোধ করে ইপসম সল্ট।

মুগ ডাল চাষের প্রাথমিক তথ্য 

 মুগ ডাল চাষের প্রাথমিক তথ্য 

===================

মুগ ডাল (Vigna radiata) চাষের জন্য সঠিক পদ্ধতি, রোগ-পোকা দমন, সার প্রয়োগের পদ্ধতি ও সঠিক মাত্রা জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে মুগ ডাল চাষের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো:


### মুগ ডাল চাষের উপযুক্ত পরিবেশ:

1. **আবহাওয়া**: মুগ ডাল গরম, আর্দ্র ও পর্যাপ্ত সূর্যালোকপ্রাপ্ত অঞ্চলে ভালো জন্মায়। ২৫-৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সর্বোত্তম।

2. **মাটির ধরন**: মুগ ডাল উর্বর, দোঁআশ, দো-লোহিত মাটি, স্বাভাবিক pH ৬-৭ এর মাটিতে ভালো জন্মায়।

3. **বৃষ্টি**: মুগ ডাল বিশেষভাবে গ্রীষ্মকালের ফসল, কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টি বা জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না।


### মুগ ডাল চাষের পদ্ধতি:

1. **বীজ বপন**: সাধারণত ১০-১৫ সেন্টিমিটার গভীরে এবং ২০-২৫ সেন্টিমিটার দূরত্বে বীজ বপন করা হয়।

2. **বীজের পরিমাণ**: একর প্রতি ১২-১৫ কেজি বীজ প্রয়োজন।

3. **সেচ**: ফসলের সঠিক বৃদ্ধি জন্য মাঝেমধ্যে সেচের ব্যবস্থা রাখতে হয়, তবে অতিরিক্ত পানি জমা না দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।


### সার প্রয়োগ:

1. **জৈব সার**: একর প্রতি ৮-১০ টন কম্পোস্ট বা সার্বিক গোবর সারের প্রয়োগ করলে মাটির গুণগত মান বাড়ে।

2. **রাসায়নিক সার**:

   - **নাইট্রোজেন (N)**: একর প্রতি ২০-২৫ কেজি।

   - **ফসফরাস (P)**: একর প্রতি ২০ কেজি।

   - **পটাশিয়াম (K)**: একর প্রতি ১৫ কেজি।

   - **জিঙ্ক সালফেট**: একর প্রতি ৫ কেজি (যদি মাটিতে জিঙ্কের অভাব থাকে)।


### রোগ ও পোকা দমন:

1. **রোগসমূহ**:

   - **ফিউজেরিয়াম উইল্ট**: গাছের পাতা হলুদ হয়ে যায় এবং পাতা শুকিয়ে যেতে থাকে। আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলে দিন এবং ফসলের ক্ষেত পরিষ্কার রাখুন।

   - **ব্ল্যাক রট**: গাছের শিকড়ে মোল্ড সৃষ্টি হয়। সঠিক সেচ ও আগাছা দমন করতে হবে।

   - **এফিড (Aphid)**: এটি মুগ ডালের পাতা ও ডালে আক্রমণ করে। সাধারণত পোকার আক্রমণ কমাতে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়।

   

2. **পোকা দমন**:

   - **লুপো (Loopers)**: প্রাকৃতিক উপায়ে কীটনাশক ব্যবহার বা হালকা পানি স্প্রে করুন।

   - **কাবেরি (Cabbage caterpillar)**: ফসলের ক্ষতি রোধে জীবাণু ওষুধ প্রয়োগ করতে পারেন।


3. **কীটনাশক**: আক্রান্ত হওয়ার পর, মুগ ডালে নিম্নলিখিত কীটনাশক প্রয়োগ করা যেতে পারে:

   - **গেমেক্স** (পিপারাজিন ৫%) অথবা **টামারন** (ইমিডাক্লোরিড ১৭%)।

   - **থাইডোসাইট**: যদি রোগ বা পোকা বেশি হয়ে থাকে।


### পোকা ও রোগ প্রতিরোধ:

1. ভালো মানের বীজ ব্যবহার করুন।

2. ক্ষেতের আশপাশে আগাছা দমন করুন।

3. সঠিক সেচ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন যাতে অতিরিক্ত পানি জমে না থাকে।

4. ফসলের ক্ষেত পরিষ্কার রাখুন।

5. প্রাকৃতিক কীটনাশক বা জীবাণু ওষুধ ব্যবহার করুন।


### কাটিং:

মুগ ডাল সাধারণত ৭০-৯০ দিন পর সংগ্রহ করা হয়। পাতা ও শাখা হলুদ হয়ে গেলে মুগ ডাল কাটতে হয়।


### ফলন:

যদি উপযুক্ত পরিবেশ ও সঠিক যত্ন নেওয়া হয়, তাহলে একর প্রতি ৮০-১০০ কেজি ফলন পাওয়া যেতে পারে।

সকল সবজির জন্য ম্যাজিক সার।

 সকল সবজির জন্য ম্যাজিক সার।



# কলার খোসা:


পদ্ধতি ১: কলার খোসা ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। এটি রোদে শুকিয়ে পিষে গুড়ো করে গাছের গোড়ার চারপাশে মাটিতে পুঁতে দিন। কলার খোসা পটাসিয়াম এর দারুন একটি জৈব উৎস।


পদ্ধতি ২: কাটা কলার খোসা পানির পাত্রে ৩-৪ দিন ভিজিয়ে রেখে খেসা ছেঁকে পানি গাছে ব্যবহার করুন।


কালার খোসার সার গাছে ফুল আসার আগে বেশি ও ফুল ফোটার পরে সামান্য প্রয়োগ করতে হবে।


# চা পাতা:


চা পাতায় নাইট্রোজেন, ফসফরাস এবং পটাশিয়াম আছে। তাই, ব্যবহার করা চা পাতা ফেলে না দিয়ে রোদে শুকিয়ে টবে প্রয়োগ করতে পারেন।


# ডিমের খোসা:


অল্প কয় দিন রোদে শুকিয়ে ডিমের খোসা পিষে গুড়ো করে গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করতে হবে।


সার সংমিশ্রণ:


সর্বোত্তম ফলাফলের জন্য চা পাতা, কলার খোসা এবং ডিমের খোসা সারের সম্মিলিত ব্যবহার নাইট্রোজেন, পটাসিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের সুষম পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে। এই সমন্বয় গাছের স্থিতিস্থাপকতা এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ায়।


এক সাথে প্রয়োগের ক্ষেত্রে চা পাতা, ডিমের খোসা ও কলার খোসা ২:১:২ অনুপাতে একসাথে মিশিয়ে নিতে হবে।তাহলে গাছের জন্য অপরিহার্য তিনটি উপাদান নাইট্রোজেন, ফসফরাস এবং পটাশিয়ামের অভাব পূরণ হবে। নিয়মিত জৈব সার ব্যবহার করুন টবের মাটি ভালো রাখুন।

পেঁপের গাছের লিঙ্গ নির্ধারণ করার উপায়।

 পেঁপের গাছের লিঙ্গ নির্ধারণ করার উপায়।




পেঁপে গাছের লিঙ্গ নির্ধারণ করা কার্যকর চাষ ও ফল উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিভাবে পুরুষ ও মহিলা পেঁপে গাছ সনাক্ত করা যায়:


পুরুষ পেঁপে গাছের বৈশিষ্ট্য:


১. *নুতন্ত্রের স্তক*: পুরুষ গাছের ছোট পাতার সাথে দীর্ঘ, পাতলা স্তক (১০-২০ সেমি) থাকে।

২। *ছোট, পাতলা ফুল*: পুরুষ ফুল ছোট (প্রায় ১-২ সেমি ব্যাস) এবং সংকীর্ণ পাপড়ি থাকে।

৩। *কোন ডিম্বাশয় নেই*: পুরুষ ফুলের একটি ডিম্বাশয় (ফল-প্রবণ গঠন) নেই।

৪. * সাধারণত বেশি ফুল*: পুরুষ গাছগুলো বেশি ফুল উৎপন্ন করে, কিন্তু তারা ফলতে পরিণত হয় না।


স্ত্রী পেঁপে গাছের বৈশিষ্ট্য:


১. *ছোট খোপা*: মহিলা গাছের ছোট, মোটা খোপা থাকে (৫-১০ সেমি) বড় পাতার সাথে।

২। *বড়, ঘন ফুল*: মহিলা ফুল বড় (প্রায় ২-৫ সেমি ব্যাস) বড় পাপড়ি সহ।

৩। *ওভেরি উপস্থিত*: মহিলা ফুলের বেস এ একটি বিশিষ্ট ডিম্বাশয় (ফল-প্রদানকারী গঠন) আছে।

৪. * অল্প ফুল*: মহিলা গাছপালা কম ফুল উৎপন্ন করে, কিন্তু তারা ফল পরিণত হয়।


হারমাফ্রোডাইট পেঁপে গাছের বৈশিষ্ট্য:


১. * পুরুষ ও মহিলা বৈশিষ্ট্য সমন্বয়*: হারমাফ্রোডাইট উদ্ভিদের পুরুষ ও মহিলা উভয় প্রজনন অঙ্গ আছে।

২। *ছোট খোপা*: মহিলা উদ্ভিদের অনুরূপ।

৩। *বড় ফুল*: মহিলা উদ্ভিদের অনুরূপ।

৪. *Ovary উপস্থিত*: হার্মাফ্রোডাইট উদ্ভিদের পুরুষ এবং মহিলা উভয় প্রজনন অঙ্গ আছে।


যৌন সনাক্তকরণের সময়:


১. *বীজ*: চারার পর্যায় (১-২ মাস) যৌন সনাক্তকরণ কঠিন।

২। *ফুলের পর্যায়*: রোপণের প্রায় ৩-৬ মাস পরে যৌন বৈশিষ্ট্যগুলির জন্য ফুলগুলি পর্যবেক্ষণ করুন।

৩। * ফলপ্রসূ পর্যায়*: ফলের বিকাশ (৬-১২ মাস) পর্যবেক্ষণ করে সেক্স নিশ্চিত করুন।


পেঁপে চাষের টিপস:


১. * একাধিক চারাগাছ রোপণ করুন*: মহিলা বা হারমাফ্রোডাইট গাছ পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করুন।

২। *পুরুষ গাছ সরিয়ে ফেলুন*: একবার সনাক্ত হলে, পুরুষ গাছগুলি সরিয়ে ফেলুন মহিলা বা হার্ম্যাফ্রোডাইট গাছপালা থেকে সরাসরি সম্পদসমূহ।

৩। *হাত-পরাগ*: পুরুষ থেকে মহিলা ফুলে পরাগ স্থানান্তর করে পরাগ সহায়তা করুন।

ভালো ফল পেতে আমের মুকুলে স্প্রে করার নিয়ম ও বিশেষ যত্ন ( জৈবসহ): 

 ভালো ফল পেতে আমের মুকুলে স্প্রে করার নিয়ম ও বিশেষ যত্ন ( জৈবসহ): 



আজকে আপনাদের জানাব-

১. কয়বার স্প্রে করতে হবে

২. ফল ঝরা রোধে করণীয় 

৩. জৈব পদ্ধতিতে হপার পোকা ও ফল ছিদ্র কারী মাছি পোকা দমন 

৪. কখন সেচ দিবেন


চলুন জেনে নেই- 


✅প্রথমবার স্প্রেঃ ( জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে মুকুল আসার ১৫-২০ দিন আগে)


 ✔️সাইপারমেথ্রিন অথবা ল্যামডা সাইহ্যালোথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক ১ মিলি / লিটার পানিতে 


 অথবা


✔ইমিডাক্লোপ্রিড গ্রুপের একটি কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। 


✔ একদিন পর সালফার অথবা ম্যানকোজেব গ্রুপের  ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন। 


>>তবে  মুকুল আসার আগে স্প্রে করা জরুরি নয়।  ঘন কুয়াশা অবস্থায় আগাম ব্যবস্থা হিসেবে এটি করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। 


⏹️মুকুল আসার পরে-


✅২য়বার স্প্রেঃ (মুকুল ৪-৬ ইঞ্চি হওয়ার পর কিন্তু ফুল ফোটার আগে)


✔️হপার পোকা দমনে ইমিডাক্লোরোপ্রিড গ্রুপের কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ০.৫  গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। #ekc


✔️একদিন পর অ্যানথ্রাকনোজ রোগ দমনে ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন ইন্ডোফিল / ডায়থেন এম ৪৬/নেমিস্পোর /এগ্রিজেব ৮০ ডাব্লিউ পি যে কোন একটি  প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।  


🔰 #জৈব_পদ্ধতিঃ গাছে হপার পোকা দমনে মুকুল আসার পর পর #আঠালো হলুদ ও নীল ফাদ লাগিয়ে দিতে পারেন। 


➡️ভালো ফলন পেতে 

২য়বার স্প্রে করার ২-৩ দিন পরে সলুবর বোরন লিটারে ১.৫ গ্রাম হারে এবং চিলেটেড জিংক লিটারে ০.২৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন। 


⛔সতর্কতাঃ ফুল ফোটার পর কোন স্প্রে করা যাবে না। স্প্রে করার সময় গাছের পাতা, মুকুল, ও ডালপালা ভালোভাবে ভিজিয়ে দিতে হবে।


✅তৃতীয়বার স্প্রেঃ(ফল মটরদানা আকৃতির হলে)


√√উপরের ২য়বার স্প্রে করার নিয়মে ইমিডাক্লোপ্রিড, ম্যানকোজেব অথবা কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক স্প্রে করবেন। 


🍋 #ফল_ঝরা রোধে 


√√প্রতি লিটার পানিতে ২০ গ্রাম ইউরিয়া মিশিয়ে ফল মটরদানা অবস্থায় একবার এবং মার্বেল আকৃতির হলে দ্বিতীয়বার বার স্প্রে করতে হবে।


🔰জৈব পদ্ধতিতে #মাছি_পোকা দমনেঃ


ফল ছিদ্রকারী পোকা দমনে ফল মার্বেল অবস্থা থেকে ম্যাজিক ফাদ #জোনাট্র্যাক  অথবা ফেরোমন ফাদ ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া ফল ব্যাগিং করে দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়।


🔍🔍(ম্যাজিক ফাঁদ, জোনাট্র্যাক, ব্যাগ কিংবা হলুদ ও নীল কার্ড- e-Krishi clinic shop এ পাবেন) 


💧💧#সেচ_প্রদান 

√√ফলন্ত গাছে মুকুল আসার ৩ মাস আগে থেকে সেচ প্রদান বন্ধ রাখতে হবে।

√√আমের মুকুল ফোটার শেষ পর্যায়ে কমপক্ষে একবার ও ফল মটর দানা হলে একবার সেচ দিতে হবে। 

>তবে মুকুল অবস্থায় সেচ দেওয়া নিয়ে মতভেদ আছে। ফুল ফোটার আগে সেচ দেওয়া যাবে না। 


>>কলম করা গাছের বয়স ৪ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মুকুল ভেঙ্গে দেওয়া ভালো। । এতে আম গাছের বৃদ্ধি ভালো হয় ও দীর্ঘ দিন ফল দেয়। তবে গাছের বৃদ্ধি খুব ভালো হলে ৩ বছরের পর থেকে মুকুল রাখতে কেউ কেউ পরামর্শ দেন।


>>গাছের গোড়া আগাছা মুক্ত ও পরিস্কার রাখতে হবে। মনে রাখবেন এসব আগাছায় পোকা বাসা বাঁধে। 


©মো. মমিন সরকার, সহ-প্রতিষ্ঠাতা, ই-কৃষি ক্লিনিক 


>>এছাড়া ফসলের চিকিৎসা ও কৃষি পরামর্শ পেতে ই-কৃষি ক্লিনিক পেইজে মেসেজ করুন। নিয়মিত আপডেট পেতে পেইজ ফলো করুন। 


#ekrishiclinic #মাছিপোকা #জোনাট্র্যাক #জৈব #বালাইনাশক #zonatrac #নিরাপদ #আমের #মুকুল #পরিচর্যা #হপার #পোকা #ফল #modernfarming #স্প্রে #কৌশল #নিয়ম #Mango #cultivation #ফলঝরা #ঝরা #ঝরে #আম

নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা: মহিলা প্রজননতন্ত্রের রহস্য উদঘাটন

 নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা: মহিলা প্রজননতন্ত্রের রহস্য উদঘাটন 🌺 আমাদের শরীরের প্রতিটি অংশই অবিশ্বাস্যভাবে সুনির্দিষ্ট এবং জটিল, বিশেষ করে যখন ...